হাদিসসমূহ
#479
সহীহ মুসলিম - Faith
আবূ রাবী আল 'আতাকী, সাঈদ ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... মা'বাদ ইবনু হিলাল আল আনাযী (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমরা আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) এর নিকট (আলোচনার উদ্দেশে) যাত্রা করি এবং সুপারিশকারী হিসেবে সাবিতের সাহায্য নিলাম। (বর্ণনাকারী বলেন) আমরা যখন আনাসের নিকট গিয়ে পৌছি, তখন তিনি সালাতু যুহা (চাশত) আদায় করছিলেন। সাবিত (রাযিঃ) আমাদের জন্য অনুমতি চাইলেন। তারপর আমরা আনাস (রাযিঃ) এর মাজলিসে প্রবেশ করলাম। আনাস (রাযিঃ) সাবিতকে চৌকিতে তার পাশে বসালেন। তারপর সাবিত (রাযিঃ) আনাস (রাযিঃ) কে বললেন, হে আবূ হামযাহ! আপনার এ বাসরার ভাইয়েরা আপনার নিকট থেকে শাফা’আত বিষয়ক হাদীস জানতে চাচ্ছে। তখন আনাস (রাযিঃ) বললেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিনে মানুষ বিপর্যস্ত অবস্থায় এদিকে সেদিকে ছুটাছুটি করতে থাকবে। অবশেষে সবাই আদম (আঃ) এর নিকট এসে বলবে, আপনার সন্তানদের জন্য সুপারিশ করুন। তিনি বলবেন, আমি এর উপযুক্ত নই, বরং তোমরা ইবরাহীমের নিকট যাও। কেননা তিনি আল্লাহর বন্ধু। সবাই ইবরাহীম (আঃ) এর নিকট আসলে তিনি বলবেন, আমি এর যোগ্য নই, তবে তোমরা মূসার নিকট যাও। কেননা, তিনি আল্লাহর সাথে কথোপকথনকারী। তখন সকলে তার নিকট আসবে। তিনি বলবেন, আমি তো এর উপযুক্ত নই, তবে তোমরা ঈসা (আঃ)-এর নিকট যাও। তিনি আল্লাহ প্রদত্ত রূহ ও তার কালিমাহ। এরপর তারা ঈসা (আঃ)-এর নিকট আসবে। তিনি বলবেন, আমি এর যোগ্য নই, তবে তোমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যাও। এরপর তারা আমার নিকট আসবে। আমি বলব, আমিই এর জন্য যোগ্য আমি যাচ্ছি। অনন্তর আমি আমার পরওয়ারদিগারের অনুমতি প্রার্থনা করব। আমাকে অনুমতি দেয়া হবে। আমি তার সম্মুখে দাঁড়াব এবং এমন প্রশংসাসূচক বাক্যে তার প্রশংসা করতে থাকব যা এখন আমি তা করতে সক্ষম নই; অবশ্য তখনই আল্লাহ আমাকে তা শিখিয়ে দিবেন। এরপর আমি সাজদায় লুটিয়ে পড়ব। আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। বলুন, আপনার কথা শুনা হবে; প্রার্থনা করুন, কবুল করা হবে; শাফা’আত করুন, আপনার শাফা’আত গ্রহণ করা হবে। তখন আমি বলব, হে পরওয়ারদিগার, উম্মাতী, উম্মাতী, ("আমার উম্মত, আমার উম্মত")। এরপর (আমাকে) বলা হবে, চলুন, যার অন্তরে গম বা যব পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট পাবেন তাকে জাহান্নাম থেকে উদ্ধার করে আনুন। আমি যাব (এবং তদানুসারে উদ্ধার করব)। পুনরায় আমার পরওয়ারদিগারের দরবারে ফিরে যাব এবং পূর্বারূপ প্রশংসাসূচক বাক্যে তার প্রশংসা করব। এরপর আমি সাজদায় লুটিয়ে পড়ব। আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা তুলুন, বলুন, আপনার কথা শুনা হবে; প্রার্থনা করুন, কবুল করা হবে; সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গৃহীত হবে। তখন আমি বলব, হে পরওয়ারদিগার উম্মাতী, উম্মাতী ("আমার উম্মত, আমার উম্মত")। বলা হবেঃ যান, যে ব্যক্তির অন্তরে একটি সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান অবশিষ্ট থাকবে তাকেও জাহান্নাম থেকে মুক্ত করুন। এরপর আমি যাব এবং তাদের উদ্ধার করে আনবো। পুনরায় আমি পরওয়ারদিগারের দরবারের ফিরে যাব এবং পূর্বানুরূপ প্রশংসাসূচক বাক্যে তার প্রশংসা করব। এরপর আমি সাজদায় লুটিয়ে পরব। আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা তুলুন, বলুন, আপনার কথা শুনা হবে; প্রার্থনা করুন, কবুল করা হবে; শাফা’আত করুন, শাফা’আত গৃহীত হবে। আমি বলবঃ হে পরওয়ারদিগার! উম্মাতী, উম্মাতী, ("আমার উম্মত, আমার উম্মত")। আমাকে বলা হবে, যান, যে ব্যক্তির অন্তরে সরিষার দানার চেয়েও আরো কম পরিমাণ ঈমান পাবেন তাকেও জাহান্নাম থেকে মুক্ত করুন। এরপর আমি যাব এবং তাদের উদ্ধার করে আনব। বর্ণনাকারী বলেন, আনাস (রাযিঃ) এ পর্যন্ত আমাদেরকে বলেছেন। এরপর আমরা সেখান থেকে বের হয়ে পথ চলতে শুরু করলাম। এভাবে আমরা যখন "জাব্বান" এলাকায় পৌছলাম, তখন নিজেরা বললাম, আমরা যদি হাসান বাসরীর সাথে সাক্ষাৎ করতাম এবং তাকে সালাম পেশ করতাম তবে কতই না ভাল হত। সে সময় তিনি আবূ খলীফার ঘরে (হাজ্জাজ বিন ইউসুফের ভয়ে) আত্মগোপন করেছিলেন। আমরা তার বাড়িতে গেলাম এবং তাকে সালাম পেশ করলাম। আমরা তাকে বললাম, আবূ সাঈদ। আমরা আপনার ভাই আবূ হামযার দরবার থেকে আসছি। আজ তিনি আমাদেরকে শাফা’আত সম্পর্কে এমন একটি হাদীস শুনিয়েছেন, যা আর কখনো শুনিনি। তিনি বললেন, আচ্ছা শোনাও তো? তখন আমরা তাকে হাদীসটি শুনালাম। তারপর তিনি বললেন, আরও বলো। আমরা বললাম, এর চেয়ে বেশি কিছু তো আনাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেননি। তখন তিনি বললেন, অথচ আনাস (রাযিঃ) আমাদের নিকট আজ থেকে বিশ বছর পূর্বে যখন তিনি সুস্থ সবল ছিলেন তখন এ হাদীসটি শুনিয়েছেন। কিন্তু আজ তিনি তোমাদের নিকট কিছু ছেড়ে দিয়েছেন। জানি না, তিনি তা ভুলে গেছেন, না তোমরা এর উপর ভরসা করে আমলের ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করবে আশংকায় তিনি তা বর্ণনা করাটা পছন্দ করেননি। আমরা বললাম, আমাদের তা বর্ণনা করুন। তিনি ঈষৎ হেসে উত্তর করলেন "মানুষকে তাড়াহুড়া করার প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে"- (সূরাহ আল আম্বিয়াহ ২১ঃ ৩৭)। তোমাদেরকে তা বর্ণনা করব বলেই তো এর উল্লেখ করলাম। তারপর তিনি হাদীসটির অবশিষ্ট অংশ এরূপ বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এরপর আমি পুনরায় আমার পরওয়ারদিগারের কাছে ফিরে আসব এবং চতুর্থবারও উক্তরূপ প্রশংসাসূচক বাক্যে তার প্রশংসা করব। এরপর আমি সাজদায় লুটিয়ে পরব। আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! আপনার মাথা তুলুন, আপনি বলুন, আপনার কথা শুনা হবে; প্রার্থনা করুন তা কবুল করা হবে; সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গৃহীত হবে। আমি বলব, হে পরওয়ারদিগার! আমাকে সেসব মানুষের জন্য অনুমতি দিন যারা "আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই” এ কথা স্বীকার করে। আল্লাহ বলবেন, না; এটা আপনার দায়িত্বে নয়। বরং আমার ইজ্জত, প্রতিপত্তি, মহত্ত্ব ও পরাক্রমশীলতার কসম! আমি নিজেই অবশ্য ওদের জাহান্নাম হতে মুক্তি দিব যারা এ কথার স্বীকৃতি দিয়েছে যে, "আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই।" হাদীসটি শেষ করে বর্ণনাকারী বলেন, আমি এ কথার সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হাসান আমাদেরকে হাদীসটি আনাস (রাযিঃ) থেকে শুনেছেন বলে বর্ণনা করেছেন। অবশ্য আমার বিশ্বাস তিনি এ কথা বলেছেন যে, বিশ বছর পূর্বে যখন তিনি পূর্ণ সুস্থ সবল ছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৭৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
حدثنا ابو الربيع العتكي، حدثنا حماد بن زيد، حدثنا معبد بن هلال العنزي، ح وحدثناه سعيد بن منصور، - واللفظ له - حدثنا حماد بن زيد، حدثنا معبد بن هلال العنزي، قال انطلقنا الى انس بن مالك وتشفعنا بثابت فانتهينا اليه وهو يصلي الضحى فاستاذن لنا ثابت فدخلنا عليه واجلس ثابتا معه على سريره فقال له يا ابا حمزة ان اخوانك من اهل البصرة يسالونك ان تحدثهم حديث الشفاعة . قال حدثنا محمد صلى الله عليه وسلم قال " اذا كان يوم القيامة ماج الناس بعضهم الى بعض فياتون ادم فيقولون له اشفع لذريتك . فيقول لست لها ولكن عليكم بابراهيم - عليه السلام - فانه خليل الله . فياتون ابراهيم فيقول لست لها ولكن عليكم بموسى - عليه السلام - فانه كليم الله . فيوتى موسى فيقول لست لها ولكن عليكم بعيسى - عليه السلام - فانه روح الله وكلمته . فيوتى عيسى فيقول لست لها ولكن عليكم بمحمد صلى الله عليه وسلم فاوتى فاقول انا لها . فانطلق فاستاذن على ربي فيوذن لي فاقوم بين يديه فاحمده بمحامد لا اقدر عليه الان يلهمنيه الله ثم اخر له ساجدا فيقال لي يا محمد ارفع راسك وقل يسمع لك وسل تعطه واشفع تشفع فاقول رب امتي امتي . فيقال انطلق فمن كان في قلبه مثقال حبة من برة او شعيرة من ايمان فاخرجه منها . فانطلق فافعل ثم ارجع الى ربي فاحمده بتلك المحامد ثم اخر له ساجدا فيقال لي يا محمد ارفع راسك وقل يسمع لك وسل تعطه واشفع تشفع . فاقول امتي امتي . فيقال لي انطلق فمن كان في قلبه مثقال حبة من خردل من ايمان فاخرجه منها . فانطلق فافعل ثم اعود الى ربي فاحمده بتلك المحامد ثم اخر له ساجدا فيقال لي يا محمد ارفع راسك وقل يسمع لك وسل تعطه واشفع تشفع فاقول يا رب امتي امتي . فيقال لي انطلق فمن كان في قلبه ادنى ادنى ادنى من مثقال حبة من خردل من ايمان فاخرجه من النار فانطلق فافعل " . هذا حديث انس الذي انبانا به فخرجنا من عنده فلما كنا بظهر الجبان قلنا لو ملنا الى الحسن فسلمنا عليه وهو مستخف في دار ابي خليفة - قال - فدخلنا عليه فسلمنا عليه فقلنا يا ابا سعيد جينا من عند اخيك ابي حمزة فلم نسمع مثل حديث حدثناه في الشفاعة قال هيه . فحدثناه الحديث . فقال هيه . قلنا ما زادنا . قال قد حدثنا به منذ عشرين سنة وهو يوميذ جميع ولقد ترك شييا ما ادري انسي الشيخ او كره ان يحدثكم فتتكلوا . قلنا له حدثنا . فضحك وقال خلق الانسان من عجل ما ذكرت لكم هذا الا وانا اريد ان احدثكموه " ثم ارجع الى ربي في الرابعة فاحمده بتلك المحامد ثم اخر له ساجدا فيقال لي يا محمد ارفع راسك وقل يسمع لك وسل تعط واشفع تشفع . فاقول يا رب ايذن لي فيمن قال لا اله الا الله . قال ليس ذاك لك - او قال ليس ذاك اليك - ولكن وعزتي وكبريايي وعظمتي وجبريايي لاخرجن من قال لا اله الا الله " . قال فاشهد على الحسن انه حدثنا به انه سمع انس بن مالك اراه قال قبل عشرين سنة وهو يوميذ جميع
Metadata
- Edition
- সহীহ মুসলিম
- Book
- Faith
- Hadith Index
- #479
- Book Index
- 385
Grades
- -
