হাদিসসমূহ
#5358
সহীহ বুখারী - Supporting the Family
মালিক ইবনু আওস ইবনু হাদাসান হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হলাম; এমন সময় তাঁর দারোয়ান ইয়ারফা এসে বলল, ‘উসমান, ‘আবদুর রহমান, যুবায়র ও সা’দ ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চাইছেন। আপনার অনুমতি আছে কি? তিনি তাঁদের অনুমতি দিলেন। মালিক (রহ.) বলেনঃ তারা প্রবেশ করলেন এবং সালাম দিয়ে বসলেন। এর কিছুক্ষণ পর ইয়ারফা এসে বললঃ ‘আলীও ‘আব্বাস (রাঃ) অনুমতি চাইছেন; আপনার অনুমতি আছে কি? তিনি হাঁ বলে এদের উভয়কেও অনুমতি দিলেন। তাঁরা প্রবেশ করে সালাম দিয়ে বসলেন। তারপর ‘আব্বাস বললেনঃ হে আমীরুল মু’মিনীন! আমার ও ‘আলীর মধ্যে ফয়সালা করে দিন। উপস্থিত ‘উসমান ও তাঁর সঙ্গীরাও বললেনঃ হে আমীরুল মু’মিনীন! এদের দু’জনের মধ্যে মীমাংসা করে দিন এবং একজন থেকে অপরজনকে শান্তি দিন। ‘উমার বললেনঃ থাম! আমি তোমাদেরকে সেই আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, যার আদেশে আসমান ও যমীন ঠিক আছে। তোমরা কি জান যে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেনঃ আমাদের কেউ ওয়ারিশ হয় না। আমরা যা রেখে যাই তা সদাকাহ। এ কথা দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকে (এবং অন্যান্য নবীগণকে) বুঝাতে চেয়েছেন। সে দলের লোকেরা বললেনঃ নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বলেছেন। তারপর ‘উমার (রাঃ) ‘আলীও ‘আব্বাস (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেনঃ আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তোমরা দু’জন কি জান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেছেন। তাঁরা বললেনঃ অবশ্যই তা বলেছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, এ ব্যাপারে আমার বক্তব্য হলোঃ এ মালে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে একটি বিশেষ অধিকার দিয়েছেন, যা তিনি ব্যতীত আর কাউকে দেননি। আল্লাহ বলেছেনঃ ‘‘আল্লাহ তাঁর রাসূলকে ইয়াহূদীদের কাছ থেকে যে ফায় বিনা যুদ্ধে লাভ করা সম্পদ) দিয়েছেন তার জন্য তোমরা ঘোড়াও দৌড়াওনি, আর উটেও চড়নি, বরং আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে যার উপর ইচ্ছে আধিপত্য দান করেন; আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান’’ পর্যন্ত- সূরাহ হাশর ৫৯/৬)। এগুলো একমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নির্ধারিত ছিল। আল্লাহর কসম! তিনি তোমাদের বাদ দিয়ে একাকী ভোগ করেননি এবং কাউকে তোমাদের উপর প্রাধান্য দেননি। এ থেকে তিনি তোমাদের দিয়েছেন এবং কিছু তোমাদের মধ্যে বিতরণ করেছেন। শেষ পর্যন্ত এ মালটুকু অবশিষ্ট থেকে যায়। এ মাল থেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারের সারা বছরের খরচ দিতেন। আর যা উদ্বৃত্ত থাকত, তা আল্লাহর রাস্তায় ব্যবহার্য মালের সঙ্গে ব্যয় করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনভর এরূপই করেছেন। আল্লাহর কসম দিয়ে তোমাদের জিজ্ঞেস করছি, তোমরা কি এ বিষয় জান? তারা বললেনঃ হাঁ। এরপর তিনি ‘আলীও ‘আব্বাস (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেনঃ আমি আল্লাহর কসম দিয়ে তোমাদের জিজ্ঞেস করছি, তোমরা কি এ বিষয় জান? তাঁরা উভয়ে বললেনঃ হাঁ। এরপর আল্লাহ তাঁর নবীকে ওফাত দিলেন। তখন আবূ বাকর বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্থলাভিষিক্ত। আবূ বাকর এ মাল নিজ কব্জায় রাখলেন এবং এ মাল খরচের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসৃত নীতিই অবলম্বন করলেন। ‘আলী ও আব্বাসের দিকে ফিরে ‘উমার (রাঃ) বললেনঃ তোমরা তখন মনে করতে আবূ বাকর এমন, এমন। অথচ আল্লাহ জানেন এ ব্যাপারে তিনি সত্যের কল্যাণকামী, সঠিক নীতির অনুসারী। আল্লাহ আবূ বাকরকে ওফাত দিলেন। আমি বললামঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাঃ)-এর স্থলাভিষিক্ত, এরপর আমি দু’বছর এ মাল নিজ কব্জায় রাখি। আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকরের অনুসৃত নীতির-ই অনুসরণ করতে থাকি। তারপর তোমরা দু’জন আসলে; তখন তোমরা উভয়ে, একমত ছিলে এবং তোমাদের বিষয়ে সমন্বয় ছিল। তুমি আসলে ভ্রাতুষ্পুত্রের সম্পত্তিতে তোমার অংশ চাইতে। আর এ আসলো শ্বশুরের সম্পত্তিতে স্ত্রীর অংশ চাইতে। আমি বলেছিলামঃ তোমরা যদি চাও, তবে আমি এ শর্তে তোমাদেরকে তা দিয়ে দিতে পারি, তোমরা আল্লাহর সাথে ওয়াদা ও অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকবে যে, এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাকর এবং এর কর্তৃত্ব হাতে পাওয়ার পর আমিও যে নীতির অনুসরণ করে এসেছি, সে নীতিরই তোমরা অনুসরণ করবে। অন্যথায় এ ব্যাপারে আমার সঙ্গে কোন কথা বলবে না। তখন তোমরা বলেছিলেঃ এ শর্ত সাপেক্ষেই আমাদের কাছে দিয়ে দিন। তাই আমি এ শর্তেই তোমাদের তা দিয়েছিলাম। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের সকলকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আমি কি এ শর্তে এটি তাদের কাছে দেইনি? তাঁরা বললেনঃ হাঁ। তারপর তিনি ‘আলীও ‘আব্বাস (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেনঃ আল্লাহর কসম দিয়ে তোমাদের জিজ্ঞেস করছি, আমি কি এ শর্তেই এটি তোমাদের কাছে দেইনি? তারা বললেনঃ হাঁ। তিনি বললেনঃ তবে এখন কি তোমরা আমার কাছে এ ব্যতীত অন্য কোন ফয়সালা চাইছ? সেই সত্তার কসম! যাঁর আদেশে আসমান-যমীন টিকে আছে, আমি ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত এ ব্যতীত অন্য কোন ফয়সালা দিতে প্রস্তুত নই। তোমরা যদি উল্লেখিত শর্ত পালন করতে অক্ষম হও, তাহলে তা আমার জিম্মায় ফিরিয়ে দাও তোমাদের পক্ষ থেকে আমিই এর পরিচালনা করব। [২৯০৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا سعيد بن عفير، قال حدثني الليث، قال حدثني عقيل، عن ابن شهاب، قال اخبرني مالك بن اوس بن الحدثان، وكان، محمد بن جبير بن مطعم ذكر لي ذكرا من حديثه، فانطلقت حتى دخلت على مالك بن اوس فسالته فقال مالك انطلقت حتى ادخل على عمر، اذ اتاه حاجبه يرفا فقال هل لك في عثمان وعبد الرحمن والزبير وسعد يستاذنون قال نعم. فاذن لهم قال فدخلوا وسلموا فجلسوا، ثم لبث يرفا قليلا فقال لعمر هل لك في علي وعباس قال نعم. فاذن لهما، فلما دخلا سلما وجلسا، فقال عباس يا امير المومنين اقض بيني وبين هذا. فقال الرهط عثمان واصحابه يا امير المومنين اقض بينهما، وارح احدهما من الاخر. فقال عمر اتيدوا انشدكم بالله الذي به تقوم السماء والارض، هل تعلمون ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا نورث ما تركنا صدقة ". يريد رسول الله صلى الله عليه وسلم نفسه. قال الرهط قد قال ذلك. فاقبل عمر على علي وعباس فقال انشدكما بالله هل تعلمان ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ذلك قالا قد قال ذلك. قال عمر فاني احدثكم عن هذا الامر، ان الله كان خص رسوله صلى الله عليه وسلم في هذا المال بشىء لم يعطه احدا غيره، قال الله {ما افاء الله على رسوله منهم فما اوجفتم عليه من خيل} الى قوله {قدير}. فكانت هذه خالصة لرسول الله صلى الله عليه وسلم والله ما احتازها دونكم ولا استاثر بها عليكم، لقد اعطاكموها وبثها فيكم، حتى بقي منها هذا المال، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم ينفق على اهله نفقة سنتهم من هذا المال، ثم ياخذ ما بقي، فيجعله مجعل مال الله، فعمل بذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم حياته، انشدكم بالله، هل تعلمون ذلك قالوا نعم. قال لعلي وعباس انشدكما بالله هل تعلمان ذلك قالا نعم. ثم توفى الله نبيه صلى الله عليه وسلم فقال ابو بكر انا ولي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقبضها ابو بكر يعمل فيها بما عمل به فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم وانتما حينيذ واقبل على علي وعباس تزعمان ان ابا بكر كذا وكذا، والله يعلم انه فيها صادق بار راشد تابع للحق، ثم توفى الله ابا بكر فقلت انا ولي رسول الله صلى الله عليه وسلم وابي بكر، فقبضتها سنتين اعمل فيها بما عمل رسول الله صلى الله عليه وسلم وابو بكر، ثم جيتماني وكلمتكما واحدة وامركما جميع، جيتني تسالني نصيبك من ابن اخيك، واتى هذا يسالني نصيب امراته من ابيها، فقلت ان شيتما دفعته اليكما على ان عليكما عهد الله وميثاقه لتعملان فيها بما عمل به رسول الله صلى الله عليه وسلم وبما عمل به فيها ابو بكر، وبما عملت به فيها، منذ وليتها، والا فلا تكلماني فيها فقلتما ادفعها الينا بذلك. فدفعتها اليكما بذلك، انشدكم بالله هل دفعتها اليهما بذلك فقال الرهط نعم. قال فاقبل على علي وعباس فقال انشدكما بالله هل دفعتها اليكما بذلك قالا نعم. قال افتلتمسان مني قضاء غير ذلك، فوالذي باذنه تقوم السماء والارض لا اقضي فيها قضاء غير ذلك، حتى تقوم الساعة، فان عجزتما عنها فادفعاها فانا اكفيكماها
Metadata
- Edition
- সহীহ বুখারী
- Book
- Supporting the Family
- Hadith Index
- #5358
- Book Index
- 8
Grades
- -
