Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৭২ হাদিসসমূহ
ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইসলামে সর্বপ্রথম লি”আন করার নিয়ম হিলাল ইবন উমাইয়া (রাঃ) হতে আরম্ভ হয়। কেননা, তিনি তার স্ত্রীকে শরীক ইবন সমহার সাথে ব্যভিচারের অপবাদ দেন এবং রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে এ সংবাদ দেন। তিনি তাকে বলেন, চারজন সাক্ষী আনো, তা না হলে তোমার উপর শাস্তি প্রয়োগ করা হবে এবং তা তোমার পিঠে পড়বে, তিনি তাকে কয়েকবার এ কথা বললেনঃ তখন হিলাল বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল্লাহর শপথ, আল্লাহ জানেন আমি সত্যবাদী এবং আল্লাহ্ তা'আলা আপনার উপর আদেশ অবতীর্ণ করবেন। যাতে আমার পিঠ শান্তি হতে নিষ্কৃতি পাবে। এভাবে কথা চলছিল, এমন সময় লি”আনের আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি যিানার অপবাদ আরোপ করে, অথবা নিজেরা ব্যতীত কোন সাক্ষী নেই। তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী এবং পঞ্চমবারে সে বলবে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার উপর আল্লাহর লা'নত হোক। আর স্ত্রীর উপর হতে শাস্তি এভাবে রহিত হবে যে, যদি সে আল্লাহর নামে শপথ করে চারবার। এভাবে সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামীই মিথ্যা বলছে এবং পঞ্চমবারে বলে, তার উপর আল্লাহর গযব, যদি তার স্বামী সত্যবাদী হয়। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিলালকে ডাকলেন, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী, আর পঞ্চমবারে বলেঃ যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার উপর আল্লাহর লা'নত। এরপর স্ত্রী লোককে ডাকা হলো, সেও আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলে, ঐ ব্যক্তি মিথ্যাবাদী। বর্ণনাকারী বলেন, যখন চারবার অথবা পাঁচবার সাক্ষ্য দেওয়া হলো, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা এই মহিলাকে বিরত রাখ, কেননা, এই সাক্ষ্য ঐ রমণীর জন্য ধ্বংসের কারণ হবে, অর্থাৎ আল্লাহর গযব বৃথা যাবে না। বর্ণনাকারী বলেনঃ তখন ঐ রমণী বিব্রত রইলো, আমাদের ধারণা হলো, সে বুঝতে পেরেছে এবং সে এখন স্বীকার করবে। কিন্তু সে বললোঃ আমি আমার সম্প্রদায়কে সর্বদার জন্য কলংকিত করবো না। এই কথা বলে সে কসম পূর্ণ করলো। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই মহিলার প্রতি লক্ষ্য রোখ, যদি সে ফর্সা, কোঁকড়ান চুল বিকৃত গড়নের সস্তান প্রসব করে, তবে সে হবে হিলাল ইবন উমাইয়ার সন্তান। আর যদি সে বাদামী রংয়ের এলোমেলো চুল বিশিষ্ট মধ্যম গড়নের এবং পাতলা পা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে, তবে সে সন্তান হবে শরীক ইবন সাহমার সন্তান। রাবী বলেনঃ সে বাদামী রংয়ের সন্তান প্রসব করলো, যে কোঁকড়ান চুল, মধ্যম গড়ন পাতলা পা বিশিষ্ট ছিল, সেই সন্তান প্রসবের পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি আল্লাহর কিতাবের আদেশ না হতো, তা হলে তোমরা আমাকে দেখতে, আমি তার কি অবস্থা করতাম।
اخبرنا عمران بن يزيد، قال حدثنا مخلد بن حسين الازدي، قال حدثنا هشام بن حسان، عن محمد بن سيرين، عن انس بن مالك، قال ان اول لعان كان في الاسلام ان هلال بن امية قذف شريك ابن السحماء بامراته فاتى النبي صلى الله عليه وسلم فاخبره بذلك فقال له النبي صلى الله عليه وسلم " اربعة شهداء والا فحد في ظهرك " . يردد ذلك عليه مرارا فقال له هلال والله يا رسول الله ان الله عز وجل ليعلم اني صادق ولينزلن الله عز وجل عليك ما يبري ظهري من الجلد . فبينما هم كذلك اذ نزلت عليه اية اللعان { والذين يرمون ازواجهم } الى اخر الاية فدعا هلالا فشهد اربع شهادات بالله انه لمن الصادقين والخامسة ان لعنة الله عليه ان كان من الكاذبين ثم دعيت المراة فشهدت اربع شهادات بالله انه لمن الكاذبين فلما ان كان في الرابعة او الخامسة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " وقفوها فانها موجبة " . فتلكات حتى ما شككنا انها ستعترف ثم قالت لا افضح قومي ساير اليوم . فمضت على اليمين فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انظروها فان جاءت به ابيض سبطا قضيء العينين فهو لهلال بن امية وان جاءت به ادم جعدا ربعا حمش الساقين فهو لشريك ابن السحماء " . فجاءت به ادم جعدا ربعا حمش الساقين فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لولا ما سبق فيها من كتاب الله لكان لي ولها شان " . قال الشيخ والقضيء طويل شعر العينين ليس بمفتوح العين ولا جاحظهما والله سبحانه وتعالى اعلم
ঈসা ইবন হাম্মদ (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট লি'আনের উল্লেখ তুলে আসিম ইবন আলী (রাঃ) সে সম্পর্কে কিছু বললেন এবং পরে প্রস্থান করলেন। এরপর তার নিকট তার গোত্রের এক ব্যক্তি এসে অভিযোগ উত্থাপন করলেন, সে তার স্ত্রীর সাথে এক ব্যক্তিকে পেয়েছে। আসিম ইবন আদী (রাঃ) একথা শুনে বললেন, আমার বলার জন্যই আমার উপর এই মুসীবত এসেছে। এরপর আসিম ইবন আদী (রাঃ) তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে নিয়ে গেলেন এবং ঐ ব্যক্তির স্ত্রীর সাথে যে ঘটনা ঘটেছে, তা বর্ণনা করলেন। আর ঐ ব্যক্তি ছিল গৌর বর্ণের, হাল্কা পাতলা গড়ন এবং সরু চুল বিশিষ্ট। আর যে ব্যক্তির সাথে তার স্ত্রীকে পেয়েছিল, তার গায়ের রং ছিল বাদামী, পায়ের গোছা এবং শরীর ছিল মাংসল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ(اللَّهُمَّ بَيِّنْ) অর্থাৎ হে আল্লাহ্! আপনি এই মাসআলার বিধান প্রকাশ করে দিন। বর্ণনাকারী বলেন, যখন ঐ স্ত্রীলোকটি বাচ্চা প্রসব করলো, তখন দেখা গেল সে ঐ ব্যক্তির মতই হয়েছে, যার কথা তার স্বামী বলেছিল। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে লি’আন করার আদেশ দেন। যে মজলিসে ইবন আব্বাস (রাঃ) এই হাদীস বর্ণনা করলেন, সেই মজলিসে এক ব্যক্তি বললেনঃ এই মহিলা কি সেই মহিলা, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি আমি কাউকে সাক্ষ্য প্রমাণ ব্যতীত রজম করতাম, তা হলে এ মহিলাকে রজম করতাম? ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ না, এই মহিলা মুসলিমদের মধ্যে ইসলামে যার ব্যাভিচার প্রকাশ পেয়েছিল, কিন্তু প্রমাণ বা স্বীকারোক্তি ছিল না।
اخبرنا عيسى بن حماد، قال انبانا الليث، عن يحيى بن سعيد، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن القاسم بن محمد، عن ابن عباس، انه قال ذكر التلاعن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال عاصم بن عدي في ذلك قولا ثم انصرف فاتاه رجل من قومه يشكو اليه انه وجد مع امراته رجلا قال عاصم ما ابتليت بهذا الا بقولي فذهب به الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبره بالذي وجد عليه امراته وكان ذلك الرجل مصفرا قليل اللحم سبط الشعر وكان الذي ادعى عليه انه وجده عند اهله ادم خدلا كثير اللحم . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اللهم بين " . فوضعت شبيها بالرجل الذي ذكر زوجها انه وجده عندها فلاعن رسول الله صلى الله عليه وسلم بينهما . فقال رجل لابن عباس في المجلس اهي التي قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لو رجمت احدا بغير بينة رجمت هذه " . قال ابن عباس لا تلك امراة كانت تظهر في الاسلام الشر
ইয়াহইয়া ইবন মুহাম্মদ ইবন সাকান (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে লি'আনের আলোচনা হলে আসিম ইবন আদী (রাঃ) সে সম্পর্কে কিছু বললেন এবং প্রস্থান করলেন। তার গোত্রের এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ হলে সে বললোঃ সে তার স্ত্রীর সাথে এক ব্যক্তিকে পেয়েছে। তিনি তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে গেলেন, এবং যার সাথে তার স্ত্রীকে পেয়েছিলেন, তার কথা বললো। আর সেই ব্যক্তি ছিল গৌর বর্ণের, হাল্কা-পাতলা গড়নের সরু চুল বিশিষ্ট। আর সে যার সাথে তার স্ত্রীকে পেয়েছিল, তার গায়ের রং বাদামী এবং পায়ের গোছা ছিল মাংসল, মোটা লোক আর তার ছিল কোঁকড়ান ছােট চুল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্! আপনি প্রকাশ করে দিন। রাবী বলেন, ঐ স্ত্রীলোকটি ঐ লোকের মত বাচ্চা প্রসব করলো, যার কথা তার স্বামী বলেছিল। তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়ের মধ্যে লি'আন করান। ইবন আব্বাস (রাঃ) যে মজলিসে এই হাদীস বর্ণনা করলেন, সেই মজলিসের এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলোঃ এই মহিলা কি সেই মহিলা, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যদি আমি কাউকে প্রমাণ ব্যতীত রজম করতাম, তা হলে এই মহিলাকে রজম করতাম? ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ না, সেই মহিলা হচ্ছে যার মন্দ কাজ (যিানা) মুসলিমদের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু প্রমাণ বা স্বীকারোক্তি ছিল না।
اخبرنا يحيى بن محمد بن السكن، قال حدثنا محمد بن جهضم، عن اسماعيل بن جعفر، عن يحيى، قال سمعت عبد الرحمن بن القاسم، يحدث عن ابيه، عن عبد الله بن عباس، انه قال ذكر التلاعن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال عاصم بن عدي في ذلك قولا ثم انصرف فلقيه رجل من قومه فذكر انه وجد مع امراته رجلا فذهب به الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبره بالذي وجد عليه امراته وكان ذلك الرجل مصفرا قليل اللحم سبط الشعر وكان الذي ادعى عليه انه وجد عند اهله ادم خدلا كثير اللحم جعدا قططا . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اللهم بين " . فوضعت شبيها بالذي ذكر زوجها انه وجده عندها فلاعن رسول الله صلى الله عليه وسلم بينهما فقال رجل لابن عباس في المجلس اهي التي قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لو رجمت احدا بغير بينة رجمت هذه " . قال ابن عباس لا تلك امراة كانت تظهر الشر في الاسلام
আলী ইবন মায়মুন (রহঃ) ... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দুই ব্যক্তিকে লি’আন করার আদেশ দেন, তখন এক ব্যক্তিকে আদেশ করেন যে, যখন সে পঞ্চমবার সাক্ষ্য দিতে থাকবে, তখন তার মুখের উপর হাত রাখবে। কেননা, এই পঞ্চমবারের সাক্ষ্য আল্লাহ তা’আলার শাস্তিকে অবধারিত করে।
اخبرنا علي بن ميمون، قال حدثنا سفيان، عن عاصم بن كليب، عن ابيه، عن ابن عباس، ان النبي صلى الله عليه وسلم امر رجلا حين امر المتلاعنين ان يتلاعنا ان يضع يده عند الخامسة على فيه وقال " انها موجبة
আমর ইবন আলী ও মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... সাঈদ ইবন যুবায়র (রহঃ) বলেন, ইবন যুবায়র (রাঃ)-এর শাসনামলে এক ব্যক্তি আমার কাছে লি”আনকারীদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলোঃ লি'আনের পরে ঐ দুইজনের মধ্যে কি পৃথক করে দেয়া হবে? ইবন যুবায়র (রাঃ) বলেনঃ আমি কি উত্তর দেব কিছুই বলতে পারলাম না। এরপর আমি উঠে ইবন উমর (রাঃ)-এর ঘরে গেলাম এবং আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ হে আবু আবদুর রহমান! লি'আন করার পর কি স্বামী-স্ত্রী উভয়কে পৃথক করে দেয়া হবে? ইবন উমর (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি বললেনঃ সর্বপ্রথম এ কথাটি জিজ্ঞাসা করেছেন অমুকের পুত্র অমুক। ইবন উমর (রাঃ) তার নাম উল্লেখ করেন নি। আর সে বলেছিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আমাদের কোন ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে তার স্ত্রীর সাথে অশ্লীল কাজ করতে দেখে, যদি সে বলে, তবে তো তা বড় মুসীবতের কথা। আর যদি না বলে, তবে এমন মন্দ কাজের উপর চুপ রইলো, তিনি তাকে কোন উত্তর দিলেন না। এরপর সে ব্যক্তি আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ যে কথা আমি আপনার নিকট জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আমি নিজেই সেই মুসীবতে পড়েছি। তারপর আল্লাহ্ তা'আলা সূরা নূরের এ আয়াত নাযিল করেনঃ (وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ) হতে (غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنْ الصَّادِقِينَ) অর্থাৎ, আর যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী ... পঞ্চমবারে সে বলেঃ তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার উপর নেমে আসবে আল্লাহর গযব। (সূরা নূরঃ ৬–৯) পর্যন্ত। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে প্রথমে নসীহত করেন এবং বলেন, পরীকালের শান্তি অপেক্ষা ইহকালের শাস্তি অতি সহজ। সেই ব্যক্তি তাঁর নসীহত শ্ৰবণ করে বলতে লাগলোঃ আল্লাহ্ তা'আলার কসম! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, আমি মিথ্যা বলছি না। এরপর তিনি স্ত্রীলোকটিকে নসীহত করলেন এবং তাকে স্মরণ কবিয়ে দিলেন। সেই স্ত্রীলোকটিও বলতে লাগলোঃ আল্লাহ্ তা'আলার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, এ ব্যক্তি মিথ্যাবাদী। পুরুষ লোকটি সাক্ষ্য প্রদান আরম্ভ করলো। সে আল্লাহর নাম নিয়ে চারবার সাক্ষ্য প্ৰদান করলো, পঞ্চমবারে সে বললোঃ যদি সে মিথ্যা কথা বলে থাকে, তবে তার উপর আল্লাহর অভিসম্পাত। তারপর স্ত্রীলোকটিও আল্লাহর নামে চারবার সাক্ষ্য দিল, নিশ্চয় সে মিথ্যাবাদী। পঞ্চমবারে সে বললোঃ যদি পুরুষ লোকটি সত্যবাদী হয়, তবে তার নিজের উপর আল্লাহর গযব পড়বে। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে পৃথক করে দেন।
اخبرنا عمرو بن علي، ومحمد بن المثنى، قالا حدثنا يحيى بن سعيد، قال حدثنا عبد الملك بن ابي سليمان، قال سمعت سعيد بن جبير، يقول سيلت عن المتلاعنين، في امارة ابن الزبير ايفرق بينهما فما دريت ما اقول فقمت من مقامي الى منزل ابن عمر فقلت يا ابا عبد الرحمن المتلاعنين ايفرق بينهما قال نعم . سبحان الله ان اول من سال عن ذلك فلان بن فلان فقال يا رسول الله ارايت - ولم يقل عمرو ارايت - الرجل منا يرى على امراته فاحشة ان تكلم فامر عظيم - وقال عمرو اتى امرا عظيما - وان سكت سكت على مثل ذلك . فلم يجبه فلما كان بعد ذلك اتاه فقال ان الامر الذي سالتك ابتليت به فانزل الله عز وجل هولاء الايات في سورة النور { والذين يرمون ازواجهم } حتى بلغ { والخامسة ان غضب الله عليها ان كان من الصادقين } فبدا بالرجل فوعظه وذكره واخبره ان عذاب الدنيا اهون من عذاب الاخرة فقال والذي بعثك بالحق ما كذبت . ثم ثنى بالمراة فوعظها وذكرها فقالت والذي بعثك بالحق انه لكاذب فبدا بالرجل فشهد اربع شهادات بالله انه لمن الصادقين والخامسة ان لعنة الله عليه ان كان من الكاذبين ثم ثنى بالمراة فشهدت اربع شهادات بالله انه لمن الكاذبين والخامسة ان غضب الله عليها ان كان من الصادقين ففرق بينهما
আমর ইবন আলী ও মুহাম্মদ ইবন মুছান্না (রহঃ) ... সাঈদ ইবন যুবায়র (রহঃ) বলেন, মুসআব (রাঃ) লি'আনকারীদের পৃথক করে দেননি। সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমি ইবন উমরের নিকট তা বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী আজলানের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পৃথক করে দিয়েছিলেন।
اخبرنا عمرو بن علي، ومحمد بن المثنى، - واللفظ له - قالا حدثنا معاذ بن هشام، حدثني ابي، عن قتادة، عن عزرة، عن سعيد بن جبير، قال لم يفرق المصعب بين المتلاعنين . قال سعيد فذكرت ذلك لابن عمر فقال فرق رسول الله صلى الله عليه وسلم بين اخوى بني العجلان
যিয়াদ ইবন আইউব (রহঃ) ... সাঈদ ইবন যুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলামঃ যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়, তাহলে কি হবে? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী আজলানের স্বামী-স্ত্রী থেকে পৃথক করে দেন এবং বলেন, আল্লাহ্ তা'আলার জানা আছে, তোমাদের মধ্যে কোন একজন মিথ্যাবাদী, যদি তোমাদের মধ্যে কোন একজন তাওবা করে, তবে ভাল, তিনি উভয়কে একথা তিনবার বলেন। কিন্তু উভয়ে তা করতে অস্বীকার করলে তিনি তাদেরকে পৃথক করে দেন। তিনি বলেনঃ লি'আনকারী পুরুষ ব্যক্তিটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলোঃ ঐ স্ত্রী লোকটির নিকট আমার মাল আছে, আমি তা পাব কি না? তিনি বললেনঃ যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে তুমি ঐ স্ত্রীকে নিজের কাজে ব্যবহার করেছ, কাজেই ঐ মাল তুমি পাবে না। আর যদি তুমি মিথ্যা বলে থাকে, তাহলে ঐ মাল নেয়া এবং ফেরৎ পাওয়া মুশকিল।
اخبرنا زياد بن ايوب، قال حدثنا ابن علية، عن ايوب، عن سعيد بن جبير، قال قلت لابن عمر رجل قذف امراته . قال فرق رسول الله صلى الله عليه وسلم بين اخوى بني العجلان وقال " الله يعلم ان احدكما كاذب فهل منكما تايب " . قال لهما ثلاثا فابيا ففرق بينهما . قال ايوب وقال عمرو بن دينار ان في هذا الحديث شييا لا اراك تحدث به قال قال الرجل مالي قال " لا مال لك ان كنت صادقا فقد دخلت بها وان كنت كاذبا فهي ابعد منك
মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... সাঈদ ইবন জুবাইর (রহঃ) বলেন, আমি ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট লি'আনকারীদের বিষয় জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি'আনকারী পুরুষ এবং স্ত্রীকে বলেন, তোমাদের ব্যাপার আল্লাহর দায়িত্বে। তোমাদের একজন নিশ্চয় মিথ্যাবাদী, তোমার তার উপর কোন কর্তৃত্ব নেই। পুরুষ লোকটি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তার কাছে আমার মাল রয়েছে। তিনি বললেনঃ তার কাছে এখন তুমি কিছুই পাবে না, অর্থাৎ যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে তুমি তো তার লজ্জাস্থান ব্যবহার করেছ, এর বিনিময়ে তোমার মাল নিয়েছ, আর যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তবে ঐ মাল চাওয়ার তুমি উপযুক্ত নও এবং তোমার মর্যাদার পরিপন্থী।
اخبرنا محمد بن منصور، قال حدثنا سفيان، عن عمرو، قال سمعت سعيد بن جبير، يقول سالت ابن عمر عن المتلاعنين، فقال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم للمتلاعنين " حسابكما على الله احدكما كاذب ولا سبيل لك عليها " . قال يا رسول الله مالي قال " لا مال لك ان كنت صدقت عليها فهو بما استحللت من فرجها وان كنت كذبت عليها فذاك ابعد لك
কুতায়বা (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষ এবং স্ত্রীলোকটির মধ্যে লি’আন করার আদেশ দেন এবং তাদের পৃথক করে দেন, আর সন্তানকে তার মায়ের হাতে ন্যাস্ত করেন।
اخبرنا قتيبة، قال حدثنا مالك، عن نافع، عن ابن عمر، قال لاعن رسول الله صلى الله عليه وسلم بين رجل وامراته وفرق بينهما والحق الولد بالام
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা বলেনঃ কাযারা গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ আমার স্ত্রী এক কালো সন্তান প্রসব করেছে। তিনি তার নিকট জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার কি উট আছে? সে বললঃ হ্যাঁ আছে। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেনঃ কোন রংয়ের উট আছে? সে বললোঃ লাল রংয়ের। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ মিশ্রিত (কালো বর্ণের সাথে অন্য বর্ণ মিশ্ৰিত) রংয়ের কোন উট আছে? সে বললোঃ হ্যাঁ, মিশ্রিত রংয়েরও আছে। তিনি বললেনঃ এই মিশ্রিত রংয়ের উট কি করে জন্মালো? সে বললোঃ তা হয়তো কোন পূর্ব রঙের কারণে হয়েছে। এরপর তিনি বললেনঃ এই সন্তানও হয়তো কোন ঊর্ধ্বতন পুরুষের কারণে কালো হয়ে থাকবে।
اخبرنا اسحاق بن ابراهيم، قال انبانا سفيان، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة، ان رجلا، من بني فزارة اتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ان امراتي ولدت غلاما اسود . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هل لك من ابل " . قال نعم . قال " فما الوانها " . قال حمر . قال " فهل فيها من اورق " . قال ان فيها لورقا . قال " فانى ترى اتى ذلك " . قال عسى ان يكون نزعه عرق . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " وهذا عسى ان يكون نزعه عرق
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু হুৱায়রা (রাঃ) বলেন, কাযারা গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ আমার স্ত্রী এক কালো সন্তান প্রসব করেছে এবং ঐ বাচ্চার রং কালো। তিনি ঐ কাযারী ব্যক্তির নিকট জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার কি উট আছে? সে বললোঃ আছে। তিনি বললেনঃ সেগুলোর রং কি? সে ব্যক্তি বললোঃ সেগুলো লাল রংয়ের। তিনি বললেনঃ দেখ সেগুলোর মধ্যে কালো বর্ণের সাথে অন্য বর্ণ মিশ্রিত রংয়ের উট আছে কি? সে বললোঃ হ্যাঁ, আছে। তিনি বলেনঃ মিশ্ৰিত উট কোথা হতে আসলো? সে বললোঃ তা হয়তো কোন পূর্ব রঙের কারণে হয়ে থাকবে। তিনি বললেনঃ এতেও হয়তো কোন ঊর্ধ্বতন পুরুষের কারণে হয়ে থাকবে। এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে সন্তান অস্বীকার করার অবকাশ দিলেন না।
اخبرنا محمد بن عبد الله بن بزيع، قال حدثنا يزيد بن زريع، قال حدثنا معمر، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة، قال جاء رجل من بني فزارة الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال ان امراتي ولدت غلاما اسود . وهو يريد الانتفاء منه . فقال " هل لك من ابل " . قال نعم . قال " ما الوانها " . قال حمر . قال " هل فيها من اورق " . قال فيها ذود ورق . قال " فما ذاك ترى " . قال لعله ان يكون نزعها عرق . قال " فلعل هذا ان يكون نزعه عرق " . قال فلم يرخص له في الانتفاء منه
আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুগীরা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে উপবিষ্ট ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ আমার একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে, যার গায়ের রং কালো। তিনি বললেনঃ তার এই কালো রং কোথা হতে আসলো? সে বললঃ জানি না কোথা হতে এসেছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার নিকট উট আছে কি? সে বললোঃ হ্যাঁ, তিনি বললেনঃ সেগুলোর রং কি? সে বললোঃ লাল বর্ণের। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ এগুলোর মধ্যে কালো উট কালো বর্ণের সাথে অন্য বর্ণ মিশ্রিত আছে কি? সে বললঃ মিশ্রিত রং এর উটও এগুলোর মধ্যে আছে। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ ঐ লাল বর্ণের মিশ্ৰিত উট কোথা হতে আসলো? সে বললোঃ বলতে পারি না কোথা হতে এসেছে, হয়তো কোন ঊর্ধ্বতন পুরুষের কারণে হয়ে থাকবে। বর্ণনাকারী বলেনঃ এইজন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন, যে সন্তান তার স্ত্রীর গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছে তাকে অস্বীকার করা উচিত নয়। কিন্তু ঐ সময় অস্বীকার করতে পারবে, যখন সে বলে যে, আমি তাকে অশ্লীল কাজে লিপ্ত দেখেছি, আর আমার এই কথাও জানা আছে যে, সে ব্যাভিচারিণী।
اخبرنا احمد بن محمد بن المغيرة، قال حدثنا ابو حيوة، - حمصي - قال حدثنا شعيب بن ابي حمزة، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة، قال بينما نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم قام رجل فقال يا رسول الله اني ولد لي غلام اسود . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " فانى كان ذلك " . قال ما ادري قال " فهل لك من ابل " . قال نعم . قال " فما الوانها " . قال حمر . قال " فهل فيها جمل اورق " . قال فيها ابل ورق . قال " فانى كان ذلك " . قال ما ادري يا رسول الله الا ان يكون نزعه عرق . قال " وهذا لعله نزعه عرق " . فمن اجله قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا لا يجوز لرجل ان ينتفي من ولد ولد على فراشه الا ان يزعم انه راى فاحشة
মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লি'আনের আয়াত নাযিল হওয়ার পর বলতে শুনেছেনঃ যে মহিলা এক গোত্রের পুরুষের বীর্য অন্য গোত্রের সাথে মিশ্রিত করে আল্লাহর নিকট এমন মহিলার কোন মূল্য নেই। আর আল্লাহ্ তা'আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। আর যে পুরুষ তার সন্তানকে নিজের ঔরষজাত সন্তান বলে জানার পরেও অস্বীকার করে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে তার রহমত থেকে বঞ্চিত করবেন এবং তাকে কিয়ামতের দিন সকল লোকের সামনে অসম্মান করবেন, যখন পূর্বের এবং পরের সকল লোক একত্রিত হবে।
اخبرنا محمد بن عبد الله بن عبد الحكم، قال شعيب قال حدثنا الليث، عن ابن الهاد، عن عبد الله بن يونس، عن سعيد بن ابي سعيد المقبري، عن ابي هريرة، انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول حين نزلت اية الملاعنة " ايما امراة ادخلت على قوم رجلا ليس منهم فليست من الله في شىء ولا يدخلها الله جنته وايما رجل جحد ولده وهو ينظر اليه احتجب الله عز وجل منه وفضحه على رءوس الاولين والاخرين يوم القيامة
কুতায়াবা (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সন্তান গৃহস্বামীরই থাকবে, আর ব্যভিচারীর জন্য কিছুই থাকবে না, অর্থাৎ সে সন্তানের মালিক হবে না। অন্য ব্যাখ্যানুসারে তার হবে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যু।
اخبرنا قتيبة، قال حدثنا سفيان، عن الزهري، عن سعيد، وابي، سلمة عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " الولد للفراش وللعاهر الحجر
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সন্তান গৃহস্বামীরই হবে, আর ব্যভিচারী সন্তানের মালিক হবে না।
اخبرنا اسحاق بن ابراهيم، عن عبد الرزاق، قال حدثنا معمر، عن الزهري، عن سعيد، وابي، سلمة عن ابي هريرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " الولد للفراش وللعاهر الحجر
কুতায়বা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা'দ ইবন আবু ওয়াক্কাস এবং আবদুল্লাহ ইবন যাম'আ (রাঃ)-এর মধ্যে একটি সন্তান নিয়ে ঝগড়া হয়। সা'দ (রাঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এই বাচ্চা আমার ভাই উৎবা ইবন আবু ওয়াক্কাসের। আমাকে আমার ভাই ওসীয়ত করেছিলেন যে, যাম'আর বাঁদীর ছেলে আমার ঔরষের। তার শরীরের গঠনের প্রতি লক্ষ্য করুন। আবাদ ইবন যাম'আ (রাঃ) বলেনঃ এ আমার ভাই, আমার পিতার দাসীর গর্ভজাত সন্তান। তিনি দেখলেন, তার শরীরের গড়ন উৎবার সাথে মিল রয়েছে। তিনি বললেনঃ হে আবদ ইবন যাম'আ! এই ছেলে তোমার। কেননা সন্তান গৃহস্বামীর আর ব্যভিচারীর জন্য কিছুই নেই। আর তিনি স্বীয় স্ত্রী সওদা (রাঃ)-কে বললেনঃ যাম'আর কন্যা সওদা, এর থেকে পর্দা কর। এরপর তিনি সওদাকে কখনও দেখেন নি।
اخبرنا قتيبة، قال حدثنا الليث، عن ابن شهاب، عن عروة، عن عايشة، قالت اختصم سعد بن ابي وقاص وعبد بن زمعة في غلام فقال سعد هذا يا رسول الله ابن اخي عتبة بن ابي وقاص عهد الى انه ابنه انظر الى شبهه . وقال عبد بن زمعة اخي ولد على فراش ابي من وليدته . فنظر رسول الله صلى الله عليه وسلم الى شبهه فراى شبها بينا بعتبة فقال " هو لك يا عبد الولد للفراش وللعاهر الحجر واحتجبي منه يا سودة بنت زمعة " . فلم ير سودة قط
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যাম'আ (রাঃ)-এর একজন বাঁদী ছিল যার সাথে তিনি সহবাস করতেন, আর যাম'আর এজন্য সন্দেহ ছিল যে, এই বাঁদীর সাথে অন্য কেহ যিনা করেছে। এরপর সে একটি বাচ্চা প্রসব করলো, ঐ ব্যক্তির মত, যার সাথে তিনি তার ব্যভিচার করার সন্দেহ করতেন। ইতিমধ্যে যাম'আ ইন্তিকাল করলেন, তখন ঐ বাদী অন্তঃস্বত্ব ছিল। এ কথা সওদা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বৰ্ণনা করলে, তিনি বলেনঃ বাচ্চা বিছানার মালিকেরই থাকে। আর হে সওদা, তুমি তার সাথে পর্দা কর। কেননা সে তোমার ভাই নয়।
اخبرنا اسحاق بن ابراهيم، قال انبانا جرير، عن منصور، عن مجاهد، عن يوسف بن الزبير، - مولى لهم - عن عبد الله بن الزبير، قال كانت لزمعة جارية يطوها هو وكان يظن باخر يقع عليها فجاءت بولد شبه الذي كان يظن به فمات زمعة وهي حبلى فذكرت ذلك سودة لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الولد للفراش واحتجبي منه يا سودة فليس لك باخ
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সন্তান বিছানার মালিকেরই হবে। আর ব্যাভিচারকারী সন্তানের মালিক হবে না। আবু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ আমার মতে ইনি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) নন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।
اخبرنا اسحاق بن ابراهيم، قال حدثنا جرير، عن مغيرة، عن ابي وايل، عن عبد الله، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " الولد للفراش وللعاهر الحجر " . قال ابو عبد الرحمن ولا احسب هذا عن عبد الله بن مسعود والله تعالى اعلم
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বৰ্ণিত। তিনি বলেনঃ সা'দ ইবন আবু ওয়াক্কাস এবং আবদ ইবন যাম'আ (রাঃ)-এর মধ্যে সন্তান নিয়ে বিবাদ ছিল। সা'দ বলেনঃ যখন আমি মক্কায় আগমন করলাম, তখন আমার ভাই উৎবা আমাকে ওসীয়ত করলেন যে, যাম'আর বাঁদীর সন্তানকে দেখবে; কেননা সে আমার সন্তান। আর আবদ ইবন যাম'আ বর্ণনা করেন, সে আমার পিতার বাদীর সন্তান, সে আমার পিতার আধিপত্যে এবং ফিরাশে প্রসব করেছে। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লক্ষ্য করে দেখলেন, উতবা (রাঃ) এর সাথে তার পরিষ্কার সাদৃশ্য রয়েছে।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সন্তান তাঁরই জন্য, যার জন্য বিছানা। তিনি আরও বললেনঃ হে সওদা! তুমি তার থেকে পর্দা করবে।
اخبرنا اسحاق بن ابراهيم، قال حدثنا سفيان، عن الزهري، عن عروة، عن عايشة، قالت اختصم سعد بن ابي وقاص وعبد بن زمعة في ابن زمعة قال سعد اوصاني اخي عتبة اذا قدمت مكة فانظر ابن وليدة زمعة فهو ابني . فقال عبد بن زمعة هو ابن امة ابي ولد على فراش ابي . فراى رسول الله صلى الله عليه وسلم شبها بينا بعتبة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الولد للفراش واحتجبي منه يا سودة
আবু আসিম খুশাইশ ইবন আসরাম (রহঃ) ... যায়দ ইবন আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইয়ামান দেশে আলী (রাঃ)-এর নিকট তিনজন লোক আসলো, যারা সকলে এক মহিলার সাথে একই তুহরে সহবাস করেছিল। তিনি তাদের দুইজনকে পৃথক করে বললেন, তোমরা উভয়ে কি এই সন্তানকে তৃতীয় ব্যক্তির সন্তান বলে স্বীকার কর? তারা বললোঃ না। পরে তিনি অন্য দুইজনকে বললেনঃ তোমরা দুইজন কি এই সন্তানকে তৃতীয় ব্যক্তির সন্তান বলে স্বীকার কর? তারাও বললোঃ না। এরপর তিনি উক্ত তিন ব্যক্তির নামে লটারী করলেন। লটারীতে যার নাম আসলো, তাকে তিনি সন্তান দিয়ে দিলেন। আর তার উপর দিয়াতের অর্থাৎ মূল্যের দুই-তৃতীয়াংশ সাব্যস্ত করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ ঘটনা আমরা বর্ণনা করলে তিনি হাসলেন, যাতে তাঁর দাঁত মুবারক দেখা গিয়েছিল।
اخبرنا ابو عاصم، خشيش بن اصرم قال انبانا عبد الرزاق، قال انبانا الثوري، عن صالح الهمداني، عن الشعبي، عن عبد خير، عن زيد بن ارقم، قال اتي علي رضى الله عنه بثلاثة وهو باليمن وقعوا على امراة في طهر واحد فسال اثنين اتقران لهذا بالولد قالا لا . ثم سال اثنين اتقران لهذا بالولد قالا لا . فاقرع بينهم فالحق الولد بالذي صارت عليه القرعة وجعل عليه ثلثى الدية فذكر ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فضحك حتى بدت نواجذه