Loading...

Loading...
বইসমূহ
৭৭৪ হাদিসসমূহ
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, “অন্যায়ভাবে কোন বস্তু আত্মসাৎ করা কোন নবীর কাজ হতে পারে না”— (সূরা আ-লি ইমরান ১৬১) আয়াত বাদর যুদ্ধকালে হারিয়ে যাওয়া একটি লাল চাদর প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে। কেউ কেউ বলল যে, হয়ত তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গেই বারকাতময় আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করেনঃ “খিয়ানাত (আত্মসাৎ) করা কোন নবীর কাজ হতে পারে না। আর যে ব্যক্তি খিয়ানাত করবে, কিয়ামতের দিন সে তার খিয়ানাতসহ হাযির হবে। তারপর প্রত্যেক ব্যক্তিই তার কৃতকর্মের পুরাপুরি প্রতিফল লাভ করবে। কারো প্রতি যুলুম করা হবে না”— (সূরা আ-লি ইমরান ১৬১)। সহীহঃ সহীহাহ (২৭৮৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবদুস সালাম ইবনু হারব (রহঃ) খুসাইফির সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ খুসাইফ হতে, তিনি মিকসাম হতে এই সূত্রে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন, কিন্তু তাতে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর উল্লেখ করেননি।
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد الواحد بن زياد، عن خصيف، حدثنا مقسم، قال قال ابن عباس نزلت هذه الاية : ( وما كان لنبي ان يغل ) في قطيفة حمراء افتقدت يوم بدر . فقال بعض الناس لعل رسول الله صلى الله عليه وسلم اخذها فانزل الله كان لنبي ان يغل ) الى اخر الاية . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب وقد روى عبد السلام بن حرب عن خصيف نحو هذا وروى بعضهم هذا الحديث عن خصيف عن مقسم ولم يذكر فيه عن ابن عباس
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে সাক্ষাৎ করে আমাকে বললেনঃ হে জাবির! কি ব্যাপার, আমি তোমাকে ভগ্নহৃদয় দেখছি কেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার আব্বা (উহুদের যুদ্ধে) শহীদ হয়েছেন এবং অসহায় পরিবার-পরিজন ও কর্জ রেখে গেছেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা কিভাবে তোমার আব্বার সাথে মিলিত হয়েছেন আমি কি তোমাকে সেই সুসংবাদ দিব না? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা কখনো কারো সাথে তার পর্দার অন্তরাল ব্যতীত (সরাসরি) কথা বলেননি কিন্তু তিনি তোমার বাবাকে জীবন দান করে তার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন। তাকে তিনি বললেনঃ তুমি আমার নিকট (যা ইচ্ছা) চাও, আমি তোমাকে তা দান করব। সে বলল, হে প্ৰভু! আপনি আমাকে জীবনদান করুন, যাতে আমি আবার আপনার রাহে নিহত হতে পারি। বারাকাতময় আল্লাহ তা'আলা বললেনঃ আমার পক্ষ থেকে আগে হতেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে আছে যে, তারা আবার (দুনিয়ায়) ফিরে যাবে না। এ প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “যারা আল্লাহ তা'আলার পথে নিহত হয়েছে, তোমরা তাদেরকে মৃত মনে করো না, বরং তারা জীবিত এবং তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তারা রিযিকপ্রাপ্ত”– (সূরা আ-লি ইমরান ১৬৯)। হাসানঃ ইবনু মা-জাহ (১৯০, ২৮০০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উপরোক্ত সনদসূত্রে হাসান গারীব। 'আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আকীল (রাহঃ) জাবির (রাযিঃ)-এর সূত্রে এ হাদীসের অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন। এটিকে আমরা মূসা ইবনু ইবরাহীমের সূত্রে জেনেছি। আলী ইবনু আবদুল্লাহ আল-মাদীনীসহ অপরাপর হাদীসবিদগণ মূসা ইবনু ইবরাহীমের সূত্রে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন।
حدثنا يحيى بن حبيب بن عربي، حدثنا موسى بن ابراهيم بن كثير الانصاري، قال سمعت طلحة بن خراش، قال سمعت جابر بن عبد الله، يقول لقيني رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لي " يا جابر ما لي اراك منكسرا " . قلت يا رسول الله استشهد ابي قتل يوم احد وترك عيالا ودينا . قال " افلا ابشرك بما لقي الله به اباك " . قال قلت بلى يا رسول الله . قال " ما كلم الله احدا قط الا من وراء حجاب واحيا اباك فكلمه كفاحا فقال يا عبدي تمن على اعطك . قال يا رب تحييني فاقتل فيك ثانية . قال الرب عز وجل انه قد سبق مني انهم اليها لا يرجعون " . قال وانزلت هذه الاية : (ولا تحسبن الذين قتلوا في سبيل الله امواتا ) الاية . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه ولا نعرفه الا من حديث موسى بن ابراهيم ورواه علي بن عبد الله بن المديني وغير واحد من كبار اهل الحديث هكذا عن موسى بن ابراهيم . وقد روى عبد الله بن محمد بن عقيل عن جابر شييا من هذا
। 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নিম্নোক্ত আয়াত বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলঃ (অনুবাদ) “যারা আল্লাহ তা'আলার পথে নিহত হয়েছে তোমরা তাদেরকে মৃত মনে করে না, বরং তারা জীবিত এবং তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে রিযিকপ্রাপ্ত”– (সূরা আ-লি ইমরান ১৬৯)। তিনি বললেন, আমরাও অবশ্য এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেছিলাম। আমাদেরকে অবহিত করা হয় যে, জান্নাতের মধ্যে তাদের রূহগুলো সবুজ পাখির আকারে যথা ইচ্ছা ঘুরে বেড়ায়, আরশের সাথে ঝুলানো ঝাড়বাতিসমূহে (বসে) আরাম করে। একবার তোমার প্রভু তাদের প্রতি উকি দিয়ে প্রশ্ন করেনঃ তোমরা আরো কিছু চাও কি? তাহলে আমি তোমাদের আরো বাড়িয়ে দিব। তারা বলল, হে আমাদের প্রভু! আমরা এর চাইতে বেশি আর কি চাইব। আমরা জান্নাতের মধ্যে যেখানে ইচ্ছা ঘুরে বেড়াচ্ছি। আল্লাহ তা'আলা আবার উকি দিয়ে বলেনঃ তোমাদের আরো কিছু চাওয়ার আছে কি, তাহলে আমি আরো বাড়িয়ে দিব। যখন তারা দেখলো যে, কিছু চাওয়া ব্যতীত তাদের রেহাই নেই তখন তারা বলল, আপনি আমাদের দেহে প্রাণ সঞ্চার করে দিন যাতে আমরা আবার দুনিয়ায় ফিরে যেতে পারি এবং আবার আপনার পথে পুনরায় শহীদ হতে পারি। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২৮০১), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن الاعمش، عن عبد الله بن مرة، عن مسروق، عن عبد الله بن مسعود، انه سيل عن قوله : (ولا تحسبن الذين قتلوا في سبيل الله امواتا بل احياء عند ربهم يرزقون ) فقال اما انا قد سالنا عن ذلك فاخبرنا ان ارواحهم في طير خضر تسرح في الجنة حيث شاءت وتاوي الى قناديل معلقة بالعرش فاطلع اليهم ربك اطلاعة فقال هل تستزيدون شييا فازيدكم قالوا ربنا وما نستزيد ونحن في الجنة نسرح حيث شينا ثم اطلع اليهم الثانية فقال هل تستزيدون شييا فازيدكم فلما راوا انهم لم يتركوا قالوا تعيد ارواحنا في اجسادنا حتى نرجع الى الدنيا فنقتل في سبيلك مرة اخرى . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن عطاء بن السايب، عن ابي عبيدة، عن ابن مسعود، مثله وزاد فيه وتقري نبينا السلام وتخبره عنا انا قد رضينا ورضي عنا . قال ابو عيسى هذا حديث حسن
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে লোক তার সম্পদের যাকাত প্রদান করে না, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার (মালকে তার) ঘাড়ে বিষধর অজগর সাপরূপে স্থাপন করবেন। তারপর তিনি এই কথার সত্যতা প্রমাণে আল্লাহ তা'আলার কিতাবের এ আয়াত আমাদেরকে শুনান (অনুবাদ) “তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা নিজ অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন মনে না করে যে, এটা তাদের পক্ষে কল্যাণকর। না, এটা তাদের পক্ষে অকল্যাণকর। যাতে তারা কৃপণতা করে কিয়ামতের দিন তাই তাদের গলার বেড়ি হবে। আসমান ও যমীনের স্বত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্য। তোমরা যা কর আল্লাহ তা'আলা তা বিশেষভাবে অবহিত”– (সূরা আ-লি ইমরান ১৮০)। বর্ণনাকার কখনো বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমর্থনে এ আয়াতাংশ পাঠ করেন (অনুবাদ) “যাতে তারা কৃপণতা করে কিয়ামতের দিন তা তাদের গলায় বেড়ী হবে।” তিনি আরো বলেনঃ যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথের মধ্যেমে তার মুসলিম ভাইয়ের মাল আত্মসাৎ করে, সে আল্লাহ তা'আলার সাথে এরূপ অবস্থায় মিলিত হবে যে, আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি অসন্তুষ্ট। এর সত্যতার সমর্থনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার কিতাবের এ আয়াত পাঠ করেন (অনুবাদ) “যারা আল্লাহ তা'আলার সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথসমূহকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, পরকালে তাদের জন্য কোন অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা না তাদের সাথে কথা বলবেন, না তাদের প্রতি তাকাবেন, আর না তাদেরকে পবিত্র করবেন। তাদের জন্য রয়েছে উৎপীড়ক শাস্তি”— (সূরা আ-লি ইমরান ৭৭)। সহীহঃ মুশকিলাতুল ফাকর (৬০), তা’লীকুর রাগীব (১/৬৮) হাদীসের ২য় অংশ বুখারী (৭৪৪৫), মুসলিম (১/৮৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। “শুজা'আন আকরাআ” অর্থ সাপ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن جامع، وهو ابن ابي راشد وعبد الملك بن اعين عن ابي وايل، عن عبد الله بن مسعود، يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم قال " ما من رجل لا يودي زكاة ماله الا جعل الله يوم القيامة في عنقه شجاعا " . ثم قرا علينا مصداقه من كتاب الله عز وجل : (ولا تحسبن الذين يبخلون بما اتاهم الله من فضله ) الاية . وقال مرة قرا رسول الله صلى الله عليه وسلم مصداقه : (سيطوقون ما بخلوا به يوم القيامة ) " ومن اقتطع مال اخيه المسلم بيمين لقي الله وهو عليه غضبان " . ثم قرا رسول الله صلى الله عليه وسلم مصداقه من كتاب الله : (ان الذين يشترون بعهد الله ) الاية . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . ومعنى قوله شجاعا اقرع يعني حية
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একটি চাবুক রাখার সমপরিমাণ জান্নাতের জায়গা সমগ্র পৃথিবী ও তার মধ্যকার সব কিছুর চাইতে উত্তম। তোমরা চাইলে এ আয়াত পাঠ করতে পারো (অনুবাদ) “(কিয়ামতের দিন) যাকে আগুন হতে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে দাখিল করানো হবে সেই সফলকাম। বস্তুত পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়”— (সূরা আ-লি ইমরান ১৮৫)। হাসানঃ সহীহাহ (১৯৮৭), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا يزيد بن هارون، وسعيد بن عامر، عن محمد بن عمرو، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان موضع سوط في الجنة لخير من الدنيا وما فيها اقرءوا ان شيتم : (فمن زحزح عن النار وادخل الجنة فقد فاز وما الحياة الدنيا الا متاع الغرور ) " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। হুমাইদ ইবনু আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মারওয়ান ইবনুল হাকাম তার দ্বাররক্ষীকে বললেন, হে আবূ রাফি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ)-এর নিকট যাও এবং তাকে বল, যে লোক তার প্রাপ্তীর জন্য খুশী হয় এবং কোন কাজ না করেও তার জন্য প্রশংসা কুড়াতে চায় সে শাস্তিযোগ্য হলে তো আমরা সকলেই শাস্তিযোগ্য হব। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, এ আয়াতের সাথে তোমাদের কি সম্পর্ক, এ আয়াত তো কিতাবধারীদের প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তিলাওয়াত করেনঃ (অনুবাদ), “যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল আল্লাহ তা'আলা তাদের নিকট হতে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেনঃ তোমরা তা মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না। এরপরও তারা তা অগ্রাহ্য করে এবং তুচ্ছ মূল্যে তা বিক্রয় করে। সুতরাং তারা যা ক্রয় করে তা কত নিকৃষ্ট"- (সূরা আ-লি ইমরান ১৮৭)। তিনি আরো তিলাওয়াত করেনঃ (অনুবাদ) “তুমি কখনো এরূপ ধারণা করো না যে, যেসব লোক স্বয়ং যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং স্বয়ং যা করেনি এমন কাজের জন্য প্রশংসিত হতে ভালোবাসে তারা শাস্তি হতে মুক্তি পাবে, বরং তাদের জন্য রয়েছে মর্মস্তুদ শাস্তি"- (সূরা আ-লি 'ইমরান ১৮৮)। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের (আহলে কিতাব) নিকট কোন বিষয়ে জানতে চাইলে তারা তা গোপন করে তার বিপরীত তথ্য তাকে অবহিত করে চলে যায়। তারা তাকে এ ধারণা দেয় যে, তিনি যে বিষয়ে তাদের নিকট জানতে চেয়েছেন তারা তাই তাকে জানিয়েছেন। বিনিময়ে তারা তার নিকট হতে প্রশংসা কামনা করে এবং তাদের কিতাব হতে তথ্য প্রদানের বিষয়টি ও তাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জানতে চাওয়ার বিষয়টিতে সত্য গোপন করে তারা আনন্দ বোধ করে। সহীহঃ বুখারী (৪৫৬৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ।
حدثنا الحسن بن محمد الزعفراني، حدثنا الحجاج بن محمد، قال قال ابن جريج اخبرني ابن ابي مليكة، ان حميد بن عبد الرحمن بن عوف، اخبره ان مروان بن الحكم قال اذهب يا رافع لبوابه الى ابن عباس فقل له لين كان كل امري فرح بما اوتي واحب ان يحمد بما لم يفعل معذبا لنعذبن اجمعون . قال ابن عباس ما لكم ولهذه الاية انما انزلت هذه في اهل الكتاب ثم تلا ابن عباس : ( واذ اخذ الله ميثاق الذين اوتوا الكتاب لتبيننه للناس ولا تكتمونه ) وتلا : (لا تحسبن الذين يفرحون بما اتوا ويحبون ان يحمدوا بما لم يفعلوا ) قال ابن عباس سالهم النبي صلى الله عليه وسلم عن شيء فكتموه واخبروه بغيره فخرجوا وقد اروه ان قد اخبروه بما قد سالهم عنه واستحمدوا بذلك اليه وفرحوا بما اوتوا من كتمانهم وما سالهم عنه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب
। মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রাহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি অসুস্থ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে আসেন। আমি অজ্ঞান অবস্থায় ছিলাম। আমার চেতনা ফিরে পাওয়ার পর আমি বললাম, আমি আমার ধন-সম্পদ প্রসঙ্গে কিভাবে সিদ্ধান্ত করব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বিষয়ে নীরব থাকলেন। তারপর আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “আল্লাহ তা'আলা তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেনঃ এক পুরুষের (পুত্রের) অংশ দুজন মহিলার (কন্যার) সমান”— (সূরা আন-নিসা ১১)। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (২৭২৮), বুখারী (৪৫৭৭), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির হতে একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। আল-ফাযল ইবনুল মুনকাদির হতে, তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আল-ফাযল ইবনুস সাব্বাহর হাদীসে এ হাদীসের চেয়ে আরো বেশী বর্ণনা আছে।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا يحيى بن ادم، حدثنا ابن عيينة، عن محمد بن المنكدر، قال سمعت جابر بن عبد الله، يقول مرضت فاتاني رسول الله صلى الله عليه وسلم يعودني وقد اغمي على فلما افقت قلت كيف اقضي في مالي فسكت عني حتى نزلت : ( يوصيكم الله في اولادكم للذكر مثل حظ الانثيين ) قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد روى غير واحد عن محمد بن المنكدر . حدثنا الفضل بن الصباح البغدادي، حدثنا سفيان، عن ابن المنكدر، عن جابر بن عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه وفي حديث الفضل بن الصباح كلام اكثر من هذا
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কয়েকজন মহিলা আওতাস যুদ্ধের দিন আমাদের হস্তগত হয়, যাদের স্বামীরা মুশরিকদের মধ্যে বর্তমান ছিল। তাই ঐ সব মহিলাকে আমাদের কিছু সংখ্যক লোক অপছন্দ করল। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “এবং নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীগণ ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ"- (সূরা আন-নিসা ২৪)। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (১৮৭১), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
حدثنا عبد بن حميد، اخبرنا حبان بن هلال، حدثنا همام بن يحيى، حدثنا قتادة، عن ابي الخليل، عن ابي علقمة الهاشمي، عن ابي سعيد الخدري، قال لما كان يوم اوطاس اصبنا نساء لهن ازواج في المشركين فكرههن رجال منهم فانزل الله : (والمحصنات من النساء الا ما ملكت ايمانكم ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আওতাস যুদ্ধের দিন কয়েকজন বন্দী মহিলা আমাদের হাতে আসে যাদের স্বামীরা তাদের সম্প্রদায়ে বর্তমান ছিল। সাহাবীগণ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অবহিত করেন। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “এবং নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীগণ ব্যতীত সকল সধবা নারী তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ"- (সূরা আন-নিসা ২৪)। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। সুফইয়ান সাওরী (রহঃ) এভাবে উসমান আল-বাত্তী হতে, তিনি আবূল খালীল হতে, তিনি আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের মত বর্ণনা করেছেন। অবশ্য এ হাদীসে আবূ আলকামার উল্লেখ নেই। কাতাদাহ্ (রহঃ)-এর সূত্রে হাম্মাম ব্যতীত অপর কেউ এ হাদীসের সনদে আবূ আলকামার উল্লেখ করেছেন বলে আমার জানা নেই। আবূল খালীলের নাম সালিহ ইবনু আবূ মারইয়াম।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا هشيم، اخبرنا عثمان البتي، عن ابي الخليل، عن ابي سعيد الخدري، قال اصبنا سبايا يوم اوطاس لهن ازواج في قومهن فذكروا ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فنزلت : (والمحصنات من النساء الا ما ملكت ايمانكم ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وهكذا روى الثوري عن عثمان البتي عن ابي الخليل عن ابي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه وليس في هذا الحديث عن ابي علقمة ولا اعلم ان احدا ذكر ابا علقمة في هذا الحديث الا ما ذكر همام عن قتادة وابو الخليل اسمه صالح بن ابي مريم
। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবীরা গুনাহ প্রসঙ্গে বলেনঃ তা হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার সাথে শারীক করা, বাবা-মার অবাধ্য হওয়া, নরহত্যা করা ও মিথ্যা বলা। সহীহঃ গাইয়াতুল মারাম (২৭৭), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। রাওহ ইবনু উবাদাহ (রহঃ) শুবাহ (রাহঃ) হতে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি সনদে (বর্ণনাকারীর নাম উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ বাকর-এর পরিবর্তে) আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বাকর বলেছেন, তা সঠিক নয়।
حدثنا محمد بن عبد الاعلى الصنعاني، حدثنا خالد بن الحارث، عن شعبة، حدثنا عبيد الله بن ابي بكر بن انس، عن انس، عن النبي صلى الله عليه وسلم في الكباير قال " الشرك بالله وعقوق الوالدين وقتل النفس وقول الزور " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب صحيح . ورواه روح بن عبادة عن شعبة وقال عن عبد الله بن ابي بكر ولا يصح
। আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকরাহ (রাহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি কি সবচাইতে মারাত্মক কাবীরা গুনাহগুলো প্রসঙ্গে তোমাদেরকে অবহিত করবো না? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলার সাথে অংশীদার স্থাপন, বাবা-মার অবাধ্য হওয়া। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন, এবার উঠে সোজা হয়ে বসে বললেন; মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া, অথবা বলেছেনঃ মিথ্যা কথা বলা। আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটি বারবার বলে যাচ্ছিলেন। এমনকি আমরা বললাম, আহা! তিনি যদি চুপ হতেন। সহীহঃ প্রাগুক্ত, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
حدثنا حميد بن مسعدة، - بصري - حدثنا بشر بن المفضل، حدثنا الجريري، عن عبد الرحمن بن ابي بكرة، عن ابيه، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الا احدثكم باكبر الكباير " . قالوا بلى يا رسول الله . قال " الاشراك بالله وعقوق الوالدين " . قال وجلس وكان متكيا قال " وشهادة الزور او قول الزور " . قال فما زال رسول الله صلى الله عليه وسلم يقولها حتى قلنا ليته سكت . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب صحيح
। আবদুল্লাহ ইবনু উনাইস আল-জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মারাত্মক মারাত্মক কাবীরা গুনাহ হল—আল্লাহ তা'আলার সাথে অংশীদার স্থাপন করা, বাবা-মার নাফারমানী করা এবং মিথ্যা শপথ করা। কেউ আল্লাহ তা'আলার নামে অপরিবর্তনীয় ও অবশ্যম্ভাবীরূপে প্রযুক্ত হওয়ার মত শপথ করলে এবং তাতে মশার পাখা বরাবর নগণ্য মিথ্যাও যোগ করলে তা তার অন্তরে কিয়ামত পর্যন্ত একটি কলংকময় দাগ হয়ে বিরাজিত থাকবে। হাসানঃ মিশকাত তাহকীক সানী (৩৭৭৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবূ উমামা আল-আনসারী (রাযিঃ) হলেন সালাবার ছেলে। তার নাম আমাদের জানা নেই। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বেশ কিছু হাদীস বর্ণনা করেছেন।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا يونس بن محمد، حدثنا الليث بن سعد، عن هشام بن سعد، عن محمد بن زيد بن مهاجر بن قنفذ التيمي، عن ابي امامة الانصاري، عن عبد الله بن انيس الجهني، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان من اكبر الكباير الشرك بالله وعقوق الوالدين واليمين الغموس وما حلف حالف بالله يمين صبر فادخل فيها مثل جناح بعوضة الا جعلت نكتة في قلبه الى يوم القيامة " . قال ابو عيسى وابو امامة الانصاري هو ابن ثعلبة ولا نعرف اسمه وقد روى عن النبي صلى الله عليه وسلم احاديث . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب
। 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে রয়েছে আল্লাহ তা'আলার সাথে অংশীদার স্থাপন করা, বাবা-মায়ের অবাধ্যা হওয়া, অথবা বলেছেনঃ মিথ্যা শপথ করা। বর্ণনাকারী শুবাহর সন্দেহ যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষোক্ত দুটি কথার কোনটি বলেছেন। সহীহঃ বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن فراس، عن الشعبي، عن عبد الله بن عمرو، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الكباير الاشراك بالله وعقوق الوالدين او قال اليمين الغموس " . شك شعبة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ণিত, উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, পুরুষরা জিহাদ করে কিন্তু মহিলারা জিহাদ করে না। মীরাসের (উত্তরাধিকার) ক্ষেত্রেও মহিলারা (পুরুষের তুলনায়) অর্ধেক পায়। এ প্রসঙ্গেই কল্যাণময় আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) “আল্লাহ তা'আলা যদ্বারা তোমাদের কাউকে অপর কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তোমরা তার লোভ করো না। যা পুরুষ অর্জন করেছে তা তার প্রাপ্য অংশ আর নারী যা অর্জন করেছে তা তার প্রাপ্য অংশ। তোমরা আল্লাহ তা'আলার নিকট তার অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। আল্লাহ তা'আলা নিশ্চয়ই সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ”— (সূরা আন্-নিসা ৩২)। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, একই প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত আয়াতও অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) আত্মসমর্পণকারী পুরুষ ও আত্মসমর্পণকারী নারী, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সতবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, লজ্জাস্থান হিফাযাতকারী পুরুষ ও লজ্জাস্থান হিফাযাতকারী নারী, আল্লাহ তা'আলাকে বেশী স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহ তা'আলাকে বেশী স্মরণকারী নারী এদের জন্য আল্লাহ তা'আলা রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান"- (সূরা আল-আহযাব ৩৫)। উম্মু সালামাহ (রাযিঃ)-ই ছিলেন মাদীনায় হিজরতকারিনী প্রথম মহিলা। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি মুরসাল। কেউ কেউ ইবনু আবূ নাজীহ কর্তৃক মুজাহিদ (রহঃ) সূত্রে এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, উম্মু সালামা (রাযিঃ) এই কথা বলেছেন।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن ابن ابي نجيح، عن مجاهد، عن ام سلمة، انها قالت يغزو الرجال ولا يغزو النساء وانما لنا نصف الميراث . فانزل الله : (ولا تتمنوا ما فضل الله به بعضكم على بعض ) . قال مجاهد فانزل فيها : ( ان المسلمين والمسلمات ) وكانت ام سلمة اول ظعينة قدمت المدينة مهاجرة . قال ابو عيسى هذا حديث مرسل . ورواه بعضهم عن ابن ابي نجيح عن مجاهد مرسل ان ام سلمة قالت كذا وكذا
। উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা'আলা স্ত্রীলোকদের হিজরাত প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন বলে আমি শুনিনি। তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) “আমি তোমাদের মধ্যে কর্মে নিষ্ঠ কোন নর বা নারীর কাজকে বিফল করি না। তোমরা একে অপরের অংশ। অতএব যারা হিজরাত করেছে, নিজেদের আবাস হতে উৎখাৎ হয়েছে, আমার পথে নির্যাতিত হয়েছে.....”— (সূরা আ-লি ইমরান ১৯৫)। পূর্বের হাদীসের সহায়তায় সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، عن رجل، من ولد ام سلمة عن ام سلمة، قالت يا رسول الله لا اسمع الله ذكر النساء في الهجرة . فانزل الله تعالى : ( اني لا اضيع عمل عامل منكم من ذكر او انثى بعضكم من بعض)
। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে হুকুম দিলেন তাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শুনানোর জন্য। তখন তিনি মিম্বরে বসা ছিলেন। আমি তাকে সূরা আন-নিসা হতে তিলাওয়াত করে শুনলাম। আমি যখন এ আয়াত পর্যন্ত পৌছলাম (অনুবাদ) “আমি যখন প্রত্যেক উম্মাত হতে একজন করে সাক্ষী হাযির করব এবং তোমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব, তখন কি অবস্থা হবে?" (সূরা আন-নিসা ৪১), তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার হাত দিয়ে চাপ দেন। আমি তার প্রতি তাকিয়ে দেখলাম, তার দু'চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, আবূল আহওয়াস (রাহঃ) আমাশ হতে, তিনি ইবরাহীম হতে, তিনি আলকামাহ হতে, তিনি আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে এরূপই বর্ণনা করেছেন। মূলত তা হবেঃ ইবরাহীম-উবাইদাহ হতে, তিনি আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে।
حدثنا هناد، حدثنا ابو الاحوص، عن الاعمش، عن ابراهيم، عن علقمة، قال قال عبد الله امرني رسول الله صلى الله عليه وسلم ان اقرا عليه وهو على المنبر . فقرات عليه من سورة النساء حتى اذا بلغت: ( فكيف اذا جينا من كل امة بشهيد وجينا بك على هولاء شهيدا ) غمزني رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده فنظرت اليه وعيناه تدمعان . قال ابو عيسى هكذا روى ابو الاحوص عن الاعمش عن ابراهيم عن علقمة عن عبد الله وانما هو ابراهيم عن عبيدة عن عبد الله
। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকে কুরআন হতে তিলাওয়াত করে শুনাও। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উপরই তো কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, আর আমি আপনাকে তা তিলাওয়াত করে শুনাব। তিনি বললেনঃ অন্যের তিলাওয়াত শুনতে আমি পছন্দ করি। অতএব আমি সূরা আন-নিসা তিলাওয়াত করতে শুরু করলাম। আমি পাঠ করতে করতে যখন (অনুবাদ) “এবং আমি তোমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব", তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে তাকিয়ে দেখলাম তার দুই চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। সহীহঃ বুখারী (৪৫৮২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ রিওয়ায়াতটি আবূল আহওয়াসের হাদীসের তুলনায় অনেক বেশি সহীহ। সুওয়াইদ ইবনু নাসর-ইবনুল মুবারাক হতে, তিনি সুফইয়ান হতে, তিনি আমাশ (রাহঃ) হতে মু'আবিয়াহ ইবনু হিশামের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا معاوية بن هشام، حدثنا سفيان الثوري، عن الاعمش، عن ابراهيم، عن عبيدة، عن عبد الله، قال قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم " اقرا على " . فقلت يا رسول الله اقرا عليك وعليك انزل قال " اني احب ان اسمعه من غيري " . فقرات سورة النساء حتى اذا بلغت : (جينا بك على هولاء شهيدا ) قال فرايت عينى النبي صلى الله عليه وسلم تهملان . قال ابو عيسى هذا اصح من حديث ابي الاحوص
। আলী ইবনু আবী তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ) আমাদের জন্য খাবারের আয়োজন করলেন এবং আমাদেরকে দাওয়াত করে শরাব পান করান। আমাদেরকে এই শরাবের নেশায় ধরে। ইতোমধ্যে নামাযের ওয়াক্ত হয়ে যায়। লোকজন আমাকেই ইমামতি করতে এগিয়ে দেয়। আমি পাঠ করলামঃ “কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরূন। লা আ'বূদু মা তা’বুদূন। ওয়া নাহনু নাবুদু মা তাবুদুন।" অর্থাৎ “ওয়ালা নাবুদু” (তোমরা যাদের ইবাদাত কর আমরা তাদের ইবাদাত করি না)-এর স্থলে আমি “ওয়া নাহনু নাবুদু মা তাবুদূন” (তোমরা যাদের ইবাদাত কর, আমরাও তাদের ইবাদাত করি) পড়ে ফেললাম। তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাযের নিকটেও যেয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা যা বল তা বুঝতে পার" (সূরা আন-নিসা ৪৩)। সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ।
حدثنا سويد بن نصر، اخبرنا ابن المبارك، عن سفيان، عن الاعمش، نحو حديث معاوية بن هشام . حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبد الرحمن بن سعد، عن ابي جعفر الرازي، عن عطاء بن السايب، عن ابي عبد الرحمن السلمي، عن علي بن ابي طالب، قال صنع لنا عبد الرحمن بن عوف طعاما فدعانا وسقانا من الخمر فاخذت الخمر منا وحضرت الصلاة فقدموني فقرات : ( قل يا ايها الكافرون ) لا اعبد ما تعبدون ونحن نعبد ما تعبدون . قال فانزل الله تعالى : ( يا ايها الذين امنوا لا تقربوا الصلاة وانتم سكارى حتى تعلموا ما تقولون ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب