Loading...

Loading...
বইসমূহ
৭৭৪ হাদিসসমূহ
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ কিছু সংখ্যক ইয়াহুদী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়েকজন সাহাবীর নিকটে প্রশ্ন করল, জাহান্নামের দারোগার সংখ্যা কত তা কি তোমাদের নবী জানেন? তারা বললেনঃ আমরা তা তার নিকটে জিজ্ঞেস না করে বলতে পারি না। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে বললঃ হে মুহাম্মাদ। আজ আপনার সঙ্গীরা হেরে গেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কেন তারা হেরে গেছে? সে বলল, ইয়াহুদীরা তাদের নিকটে প্রশ্ন করেছিল, তোমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি জানেন জাহান্নামের দারোগার সংখ্যা কত? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা কি জবাব দিয়েছে? সে বললঃ তারা বলেছে, আমরা আমাদের নবীকে জিজ্ঞেস না করে বলতে পারি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সেই জাতি কি হেরে যায়, যাদের কাছে এমন ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয় যা তারা জানে না, তারপর তারা বলে, এ ব্যাপারে আমাদের নবীর নিকটে জিজ্ঞেস না করে আমরা বলতে পারি না? বরং ইয়াহুদীরা তো তাদের নবীর কাছে অযাচিত আবদার ধরেছিল, “আমাদেরকে প্রকাশ্যে আল্লাহ্ তা'আলাকে দেখান"। আল্লাহ তা'আলার শক্রদেরকে আমার নিকট নিয়ে এসো। আমি আল্লাহর এই শক্ৰদেরকে জান্নাতের মাটি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করব। আর তা হল ময়দা। তারপর ইয়াহুদীরা এসে বলল, হে আবূল কাসিম! জাহান্নামের দারোগার সংখ্যা কত? তিনি বললেনঃ এত এতজন (এক হাতের আঙ্গুলের ইশারায়) দশজন এবং (অপর হাতের ইশারায়) নয়জন। তারা বলল, হ্যাঁ আপনি ঠিকই বলেছেন। এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে প্রশ্ন করলেনঃ জান্নাতের মাটি কিসের? রাবী বলেন, তারা কিছু সময় চুপ থাকার পর বলল, হে আবূল কাসিম! তা হল রুটি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ময়দার রুটি। যঈফ, যঈফা (৩৩৪৮), মুসলিম (৮/১৯১)। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু সাঈদকে বললেনঃ জান্নাতের মাটি কেমন? তিনি বললেনঃ সাদা ময়দা মিসকের মত সুগন্ধি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সত্য বলেছে। আবূ ঈসা বলেনঃ আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র এই সনদে মুজালিদের রিওয়ায়াত হিসেবে জেনেছি।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن مجالد، عن الشعبي، عن جابر بن عبد الله، قال قال ناس من اليهود لاناس من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم هل يعلم نبيكم كم عدد خزنة جهنم قالوا لا ندري حتى نسال نبينا . فجاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا محمد غلب اصحابك اليوم . قال " وبم غلبوا " . قال سالهم يهود هل يعلم نبيكم كم عدد خزنة جهنم قال " فما قالوا " . قال قالوا لا ندري حتى نسال نبينا . قال " افغلب قوم سيلوا عما لا يعلمون فقالوا لا نعلم حتى نسال نبينا لكنهم قد سالوا نبيهم فقالوا ارنا الله جهرة على باعداء الله اني سايلهم عن تربة الجنة وهي الدرمك " . فلما جاءوا قالوا يا ابا القاسم كم عدد خزنة جهنم قال " هكذا وهكذا " . في مرة عشرة وفي مرة تسع . قالوا نعم . قال لهم النبي صلى الله عليه وسلم " ما تربة الجنة " . قال فسكتوا هنيهة ثم قالوا خبزة يا ابا القاسم . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الخبز من الدرمك " . قال هذا حديث غريب انما نعرفه من هذا الوجه من حديث مجالد
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তিনিই সেই সত্তা যাকে ভয় করা উচিত। আর তিনিই বান্দার পাপ মার্জনা করার অধিকারী" (সূরাঃ আল-মুদাচ্ছির— ৫৬)। এই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ আমিই কেবল মাত্র (বান্দার জন্য) ভয়ের যোগ্য। সুতরাং যে ব্যক্তি আমাকে ভয় করে, আমার সাথে কাউকে অংশীদার স্থির করে না, তাকে মাফ করার যথার্থ অধিকারী আমিই। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৪২৯৯) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। হাদীস শাস্ত্রবিদগণের দৃষ্টিতে সুহাইল তেমন মজবুত রাবী নন। সাবিত হতে এ হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি একাকী।
حدثنا الحسن بن الصباح البزار، حدثنا زيد بن حباب، اخبرنا سهيل بن عبد الله القطعي، وهو اخو حزم بن ابي حزم القطعي عن ثابت، عن انس بن مالك، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه قال في هذه الاية ( هو اهل التقوى واهل المغفرة ) قال قال الله عز وجل انا اهل ان اتقى فمن اتقاني فلم يجعل معي الها فانا اهل ان اغفر له قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب وسهيل ليس بالقوي في الحديث وقد تفرد بهذا الحديث عن ثابت
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর কুরআন অবতীর্ণ হত তখন তিনি তা মুখস্থ করে নেয়ার জন্য (ফেরেশতার সঙ্গে সঙ্গে) জিহবা নাড়াতেন। এ অবস্থায় আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “তাড়াতাড়ি ওয়াহী মুখস্থ করার জন্য তুমি তোমার জিহবা সঞ্চালন করো না....."— (সূরা কিয়ামাহু ১৬-২১)। অধঃস্তন বর্ণনাকারী মূসা তার ঠোঁট দু’টো নেড়ে দেখাতেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। সুফইয়ানও তার ঠোঁট দু'টো নাড়তেন। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান বলেছেন, সুফইয়ান আস-সাওরী (রহঃ) মূসা ইবনু আবী আয়িশাহর খুব সুনাম করতেন।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن موسى بن ابي عايشة، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا انزل عليه القران يحرك به لسانه يريد ان يحفظه فانزل الله : ( لا تحرك به لسانك لتعجل به ) قال فكان يحرك به شفتيه وحرك سفيان شفتيه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . قال علي قال يحيى بن سعيد اثنى سفيان الثوري على موسى بن ابي عايشة خيرا
। সুওয়াইর (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি ইবনু উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন সাধারণ মর্যাদাসম্পন্ন জান্নাতীর উদ্যানসমূহ, বিবিগণ, চাকরগণ এবং খাট-পালংকসমূহ কেউ দেখতে চাইলে তা তার জন্য হাজার বছরের রাস্তা। তাদের মধ্যে আল্লাহ তা'আলার নিকট সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় তার চেহারা দেখতে সৌভাগ্য লাভ করবেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত পাঠ করেনঃ “কিছু মুখমণ্ডল সেদিন উজ্জ্বল হবে এবং তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে" (সূরাঃ আল-কিয়ামাহ- ২২-২৩)। যঈফ, যঈফা (১৯৮৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। একাধিক বর্ণনাকারী ইসরাঈলের সূত্রে হাদীসটি একইভাবে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবদুল মালিক ইবনু আবজার (রাহঃ) সুওয়াইর হতে তিনি (মুজাহিদ) ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে এটিকে তার কথা হিসেবে (মাওকুফ হিসেবে) বর্ণনা করেছেন, মারফু হিসেবে নয়। আল-আশজাঈ (রাহঃ) সুফিয়ান হতে তিনি সুওয়াইর হতে তিনি মুজাহিদ হতে তিনি ইবনু উমর (রাঃ) সূত্রে তার কথারূপে বর্ণনা করেছেন এবং মারফুরূপে বর্ণনা করেননি। আবূ ঈসা বলেন, আমাদের জানামতে এ হাদীসের সনদে সুফিয়ান ব্যতীত অন্য কেউ মুজাহিদের উল্লেখ করেননি। সুওয়াইর-এর ডাক নাম আবূ জাহম। আবূ ফাখি তার নাম সাঈদ ইবনু ইলাকা।
حدثنا عبد بن حميد، اخبرني شبابة، عن اسراييل، عن ثوير، قال سمعت ابن عمر، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان ادنى اهل الجنة منزلة لمن ينظر الى جنانه وازواجه وخدمه وسرره مسيرة الف سنة واكرمهم على الله من ينظر الى وجهه غدوة وعشية " . ثم قرا رسول الله صلى الله عليه وسلم : (وجوه يوميذ ناضرة * الى ربها ناظرة ) . قال ابو عيسى هذا حديث غريب قد رواه غير واحد عن اسراييل مثل هذا مرفوعا . وروى عبد الملك بن ابجر عن ثوير عن ابن عمر قوله ولم يرفعه . وروى الاشجعي، عن سفيان، عن ثوير، عن مجاهد، عن ابن عمر، قوله ولم يرفعه ولا نعلم احدا ذكر فيه عن مجاهد غير الثوري . حدثنا بذلك ابو كريب حدثنا عبيد الله الاشجعي عن سفيان . ثوير يكنى ابا جهم وابو فاختة اسمه سعيد بن علاقة
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, “আবাসা ওয়া তাওয়াল্লা" সূরাটি অন্ধ সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনু উম্মু মাকতুম (রাযিঃ) প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে তিনি বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে দ্বীনের সঠিক পথ বলে দিন। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাজলিসে মুশরিকদের এক নেতৃস্থানীয় লোক হাযির ছিল। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এড়িয়ে চলেন এবং উক্ত নেতার প্রতি মনোযোগ দেন। ইবনু উম্মু মাকতুম (রাযিঃ) বলেন, আপনি কি মনে করেন- আমি যা বলছি তা মন্দ? তিনি বলতে থাকেনঃ না। এ প্রসঙ্গে সূরাটি অবতীর্ণ হয়। হাদীসটির সানাদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস কিছু বর্ণনাকারী হিশাম ইবনু উরওয়াহ হতে, তার বাবার সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি বলেন, “আবাসাহ ওয়া তাওয়াল্লা" সূরাটি ইবনু উম্মু মাকতুম (রাযিঃ) প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি এ সনদে আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি।
حدثنا سعيد بن يحيى بن سعيد الاموي، حدثني ابي قال، هذا ما عرضنا على هشام بن عروة عن ابيه، عن عايشة، قالت انزل : ( عبس وتولى ) في ابن ام مكتوم الاعمى اتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فجعل يقول يا رسول الله ارشدني وعند رسول الله صلى الله عليه وسلم رجل من عظماء المشركين فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يعرض عنه ويقبل على الاخر ويقول اترى بما اقول باسا فيقال لا . ففي هذا انزل . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . وروى بعضهم هذا الحديث عن هشام بن عروة عن ابيه قال انزل : ( عبس وتولى ) في ابن ام مكتوم . ولم يذكر فيه عن عايشة
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন নগ্নপদে, নগ্ন শরীরে ও খাতনাহীন অবস্থায় উঠানো হবে। এক মহিলা আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তবে কি আমাদের একে অন্যের গুপ্তস্থান দেখতে পাবে! তিনি বললেন, হে অমুক! “সেদিন তাদের সবার এরূপ গুরুতর পরিণতি হবে যা তাকে সম্পূর্ণরূপে ব্যতিব্যস্ত রাখবে”— (সূরা আবাসা ৩৭)। হাসান সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি একাধিক সনদে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। এটি সাঈদ ইবনু জুবাইরও বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا محمد بن الفضل، حدثنا ثابت بن يزيد، عن هلال بن خباب، عن عكرمة، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " تحشرون حفاة عراة غرلا " . فقالت امراة ايبصر او يرى بعضنا عورة بعض قال " يا فلانة: (لكل امري منهم يوميذ شان يغنيه ) " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح قد روي من غير وجه عن ابن عباس رواه سعيد بن جبير ايضا . وفيه عن عايشة رضى الله عنها
। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দৃশ্যাবলী যে লোক চাক্ষুষভাবে প্রত্যক্ষ করতে উৎসাহী সে যেন “ইযাশ-শামসু কুব্বিরাত”, “ইযাস্ সামাউন ফাত্বারাত” ও “ইযাস্ সামাউন শাককাত" এ তিনটি সূরা পাঠ করে। সহীহঃ সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ১০৮১)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। হিশাম ইবনু ইউসুফ প্রমুখ বর্ণনাকারীগণ হাদীসটি উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যক্ষভাবে কিয়ামত দিবস অবলোকন করতে পছন্দ করে সে যেন “ইযাশ শামসু কুববিরাত" পাঠ করে। এ বর্ণনায় “ইযাস্ সামাউন ফাতারাত" এবং “ইযাস্ সামাউন শাকক্বাত” উল্লেখ করেননি।
حدثنا عباس بن عبد العظيم العنبري، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا عبد الله بن بحير، عن عبد الرحمن، وهو ابن يزيد الصنعاني قال سمعت ابن عمر، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من سره ان ينظر الى يوم القيامة كانه راى عين فليقرا ( اذا الشمس كورت ) و (اذا السماء انفطرت ) و (اذا السماء انشقت ) " . هذا حديث حسن غريب . وروى هشام بن يوسف وغيره هذا الحديث بهذا الاسناد وقال من سره ان ينظر الى يوم القيامة كانه راى عين فليقرا (اذا الشمس كورت ) ولم يذكر و (اذا السماء انفطرت ) و (اذا السماء انشقت)
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যখন একটি গুনাহ করে তখন তার অন্তরের মধ্যে একটি কালো চিহ্ন পড়ে। অতঃপর যখন সে গুনাহর কাজ পরিহার করে, ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তওবা করে তার অন্তর তখন পরিষ্কার ও দাগমুক্ত হয়ে যায়। সে আবার পাপ করলে তার অন্তরে দাগ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তার পুরো অন্তর এভাবে কালো দাগে ঢেকে যায়। এটাই সেই মরিচা আল্লাহ তা'আলা যার বর্ণনা করেছেনঃ “কখনো নয়, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের মনে জং (মরিচা) ধরিয়েছে”— (সূরা মুত্বাফফিফীন ১৪)। হাসানঃ আত-তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৬৮)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن ابن عجلان، عن القعقاع بن حكيم، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ان العبد اذا اخطا خطيية نكتت في قلبه نكتة سوداء فاذا هو نزع واستغفر وتاب سقل قلبه وان عاد زيد فيها حتى تعلو قلبه وهو الران الذي ذكر الله : ( كلا بل ران على قلوبهم ما كانوا يكسبون ) " . قال هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, হাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমাদের মতে এটি মারফু হাদীস (মহানবীর বাণী)। “সকল মানুষ যে দিন রাববুল আলামীনের সামনে দণ্ডায়মান হবে”— (সূরা মুত্ত্বাফফিফীন ৬) আয়াতের বর্ণনা সম্পর্কে তিনি বলেনঃ লোকেরা (কিয়ামতের মায়দানে) সেদিন কানের লতিকা পর্যন্ত ঘামে ডুবন্ত অবস্থায় দণ্ডায়মান থাকবে। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, এটি ২৪২২ নং হাদীসের পুনরুল্লেখ।
حدثنا يحيى بن درست، - بصري - حدثنا حماد بن زيد، عن ايوب، عن نافع، عن ابن عمر، قال حماد هو عندنا مرفوع : (يوم يقوم الناس لرب العالمين ) قال يقومون في الرشح الى انصاف اذانهم
। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, “সকল মানুষ যেদিন বিশ্বপ্রভুর সম্মুখে দণ্ডায়মান থাকবে”— (সূরা মুত্ত্বাফফিফীন ৬) আয়াত প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মানুষ তার কানের লতিকা পর্যন্ত ঘামে দণ্ডায়মান থাকবে। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদিস। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরাহיי (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا هناد، حدثنا عيسى بن يونس، عن ابن عون، عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم : ( يوم يقوم الناس لرب العالمين ) قال " يقوم احدهم في الرشح الى انصاف اذنيه " . قال هذا حديث حسن صحيح . وفيه عن ابي هريرة
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের দিন নিখুঁতভাবে যার হিসাব নেয়া হবে সে তো বিলীন হয়ে যাবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা'আলা তো বলেছেনঃ “যাকে তার ‘আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, তার হিসাব-নিকাশ অতি সহজেই হবে”— (সূরা আল-ইনশিকাক ৭-৮)। তিনি বললেনঃ সে তো নামমাত্র হাযির করা। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, ২৪২৬ নং হাদীস পূর্বেও বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। সুয়াইদ ইবনু নাসর 'আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক হতে, তিনি উসমান ইবনুল আসওয়াদ হতে, উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু আবান প্রমুখ-‘আবদুল মুলাইকাহ হতে, তিনি আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا عبيد الله بن موسى، عن عثمان بن الاسود، عن ابن ابي مليكة، عن عايشة، قالت سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول " من نوقش الحساب هلك " . قلت يا رسول الله ان الله يقول : (فاما من اوتي كتابه بيمينه ) الى قوله : ( خبيرا ) قال " ذلك العرض " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . حدثنا سويد بن نصر، اخبرنا عبد الله بن المبارك، عن عثمان بن الاسود، بهذا الاسناد نحوه . حدثنا محمد بن ابان، وغير، واحد، قالوا حدثنا عبد الوهاب الثقفي، عن ايوب، عن ابن ابي مليكة، عن عايشة، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার হিসাব নেয়া হবে সে তো আযাবপ্রাপ্ত হবে। হাসান সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু কাতাদাহ্ হতে আনাস (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে হাদীসটি অবগত হয়েছি।
حدثنا محمد بن عبيد الهمداني، حدثنا علي بن ابي بكر، عن همام، عن قتادة، عن انس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من حوسب عذب " . قال وهذا حديث غريب لا نعرفه من حديث قتادة عن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم الا من هذا الوجه
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল ইয়াউমুল মাওউদ”— (সূরা বুরুজ ২) অর্থ- কিয়ামতের দিন; “আল-ইয়াউমুল মাশহুদ”— (সূরা হুদ ১০৩) অর্থঃ আরাফাতে (উপস্থিতির) দিন এবং “আশ-শাহিদ" (সূরা বুরুজ ৩) অর্থঃ জুমুআর দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ যে সমস্ত দিনে সূর্য উদিত হয় ও অস্ত যায় তার মাঝে জুমুআর দিনের তুলনায় বেশি ভাল কোন দিন নেই। এ দিনের মধ্যে এমন একটি সময় আছে, ঠিক সে সময় কোন মুমিন বান্দা আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা করলে তার প্রার্থনা তিনি কবুল করেন এবং যে বস্তু (অনিষ্ট) হতে সে আশ্রয় প্রার্থনা করে তা হতে তিনি তাকে আশ্রয় দান করেন। হাসানঃ মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ১৩৬২), সহীহ হাদীস সিরিজ (হাঃ ১৫০২)। আলী ইবনু হুজর-কুররান ইবনু তাম্মাম আল আসাদী হতে, তিনি মুসা ইবনু উবাইদাহর সনদে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। মূসা ইবনু উবাইদাহ আর-রাবায়ীর উপনাম আবূ আবদুল আযীয। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান প্রমুখ তার স্মরণশক্তির দুর্বলতার সমালোচনা করেছেন। অবশ্য শু’বাহ, সুফইয়ান আস-সাওরী প্রমুখ ইমামগণ মূসা ইবনু উবাইদাহ হতে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস কেবল মূসা ইবনু উবাইদাহর সনদেই আমরা অবগত হয়েছি। হাদীসশাস্ত্রে মূসা ইবনু উবাইদাকে দুর্বল আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ প্রমুখ তাকে তার স্মৃতিশক্তির দিক হতে কমজোড় বলেছেন।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا روح بن عبادة، وعبيد الله بن موسى، عن موسى بن عبيدة، عن ايوب بن خالد، عن عبد الله بن رافع، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اليوم الموعود يوم القيامة واليوم المشهود يوم عرفة والشاهد يوم الجمعة وما طلعت الشمس ولا غربت على يوم افضل منه فيه ساعة لا يوافقها عبد مومن يدعو الله بخير الا استجاب الله له ولا يستعيذ من شر الا اعاذه الله منه " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث موسى بن عبيدة . وموسى بن عبيدة يضعف في الحديث ضعفه يحيى بن سعيد وغيره من قبل حفظه . حدثنا علي بن حجر، حدثنا قران بن تمام الاسدي، عن موسى بن عبيدة، بهذا الاسناد نحوه . وموسى بن عبيدة الربذي يكنى ابا عبد العزيز وقد تكلم فيه يحيى وغيره من قبل حفظه . وقد روى شعبة والثوري وغير واحد من الايمة عنه
। সুহাইব ইবনু সিনান আর-রুমী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের নামায আদায় করার পর নিঃশব্দে কিছু তিলাওয়াত করতেন। কারো মতে 'হামস্' অর্থ ‘ঠোট নাড়ানো। যেন তিনি কথা বলছেন। তাই তাকে প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আসরের নামায আদায় করার পর আপনি ঠোট নেড়ে থাকেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলার একজন নবী তার উম্মাতের (সংখ্যাধিক্যের) জন্য অধিক খুশী হন। তাই তিনি মনে মনে বলেন, কারা তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে! সে সময় আল্লাহ তা'আলা তার নিকট ওয়াহী পাঠানঃ তাদেরকে তুমি দুটি বিষয়ের যে কোন একটি গ্রহণের এখতিয়ার দাওঃ হয় তাদের উপর আমি প্রতিশোধ নিব কিংবা শক্রবাহিনীকে তাদের উপর আধিপত্য দান করব। তারা প্রতিশোধ নেয়াকে এখতিয়ার করল। অতঃপর তাদের উপর আল্লাহ তা'আলা মৃত্যু চাপিয়ে দিলেন, ফলে এক দিনেই তাদের সত্তর হাজার লোক মারা গেল। সহীহঃ তাখরীজ আল-কালিমুত তাইয়্যিব (হাঃ ১২৫/৮৩)। বর্ণনাকারী বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ঘটনা উদ্ধৃত করতেন সে সময় এর সঙ্গে তিনি আরো একটি ঘটনা বলতেন। তিনি বলেন জনৈক বাদশার এক যাদুকর ছিল। বাদশাকে সে ভবিষ্যদ্বাণী শুনাত। যাদুকরটি লোকদেরকে বলল, আমাকে তোমরা একটি বুদ্ধিমান, সাবধানী ও ধিশক্তি সম্পন্ন বালক এনে দাও। আমি তাকে আমার জ্ঞান শিখিয়ে দিব। কারণ আমার মনে হচ্ছে যে, আমি মারা গেলে আমার এ বিদ্যা হতে তোমরা বঞ্চিত হবে। তোমাদের মাঝে এই জ্ঞান সম্পন্ন আর কেউ থাকবে না। তিনি বলেনঃ লোকেরা (যাদুকরের) কথামত একটি বুদ্ধিমান ছেলে খুঁজে বের করে এবং তাকে সেই যাদুকরের নিকট প্রত্যহ যাতায়াতের ও তার সাহচর্য লাভের আদেশ দেয়। ছেলেটি সেই যাদুকরের নিকট যাতায়াত করতে থাকে। ছেলেটির যাওয়া-আসার পথে একটি গীর্জায় এক পাদ্রী (রাহেব) অবস্থানরত ছিল। বর্ণনাকারী মা'মার বলেন, আমার বিশ্বাস সে সময় গীর্জার পাদ্রীগণ তাওহীদের বিশ্বাসী মুসলিম ছিলেন। সে এ পাদ্রীর কাছ দিয়ে যাতায়াতকালে তার নিকট (দীন প্রসঙ্গে) প্রশ্ন করত। অবশেষে সে বলল, আমি আল্লাহ তা’আলার ইবাদত করি। তারপর পাদ্রীর নিকট ছেলেটি অবস্থান করতে শুরু করে এবং যাদুকরের নিকট বিলম্বে উপস্থিত হয়। যাদুকর ছেলের অভিভাবককে বলে পাঠায় যে আমার আশঙ্কা হয় সে আমার নিকট আসবে না। বালক পাদ্রীকে এ বিষয়টি অবহিত করলে তিনি তাকে বলেন, তুমি কোথায় ছিলে যাদুকর তোমাকে এ প্রশ্ন করলে তুমি বলবে, আমি বাড়ীতে ছিলাম। আর তোমাকে অভিভাবকরা প্রশ্ন করলে তুমি বলবে, আমি যাদুকরের নিকট ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এভাবে বেশ কিছু দিন বালকটির কেটে গেল। একদিন সে এক বিরাট সংখ্যক লোকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। তাদের পথে একটি হিংস্র জন্তু বাধা হয়ে দাড়ায়। কেউ কেউ বললেন, ঐ জন্তুটি ছিল বাঘ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বালকটি একটি পাথর তুলে নিয়ে বলে, হে আল্লাহ! পাদ্রী যা বলে তা যদি সত্য হয় তাহলে আমি আপনার নিকট চাই যে, এ জন্তুটিকে আমি হত্যা করি। এ কথা বলে সে পাথরটি ছুড়ে মারল এবং জন্তুটি হত্যা করল। লোকেরা বলল, জন্তুটি কে হত্যা করেছে? লোকেরা বলল, এ বালকটি। লোকেরা বিমর্ষ হয়ে বলল, এমন জ্ঞান সে আয়ত্ত করেছে যা আর কারো নিকটে নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এক অন্ধ লোক এ ঘটনা শুনতে পেয়ে তাকে বলল, যদি তুমি আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে পার তবে তোমাকে আমি এই এই পরিমাণ সম্পদ দিব। বালকটি তাকে বলল, তোমার নিকট আমি তা চাই না। তবে যদি তোমার দৃষ্টিশক্তি তুমি ফিরিয়ে পাও তাহলে যিনি তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিবে তার উপর কি তুমি ঈমান আনবে? অন্ধ বলল, হ্যাঁ। তারপর আল্লাহ তা'আলার নিকট ছেলেটি দু'আ করল এবং আল্লাহ তা'আলা তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। অন্ধ ব্যক্তিও ঈমান আনল। বিষয়টি বাদশার কানে গিয়ে পৌছলে সে তাদের ডেকে পাঠায়। তার নিকট তাদেরকে হাযির করা হলে সে বলল, তোমাদের প্রত্যেককে আমি এক এক নতুন পন্থায় হত্যা করব যে পন্থায় তার সঙ্গীকে হত্যা করব না। সে পাদ্রী ও অন্ধ লোকটিকে হত্যার হুকুম দিল এবং সে অনুযায়ী এদের একজনের মাথার উপর করাত চালিয়ে হত্যা করা হয় এবং অন্যজনকে আরেকভাবে হত্যা করা হয়। তারপর বালকটি প্রসঙ্গে বাদশা বলল, একে ঐ পর্বতে নিয়ে যাও এবং তার চূড়া হতে তাকে ফেলে দাও। অতঃপর তারা তাকে নিয়ে সেই পর্বতে গেল। যখন তারা পাহাড়ের সেই নির্দিষ্ট জায়গা হতে তাকে ফেলে দিতে প্রস্তুত হল তখন একে একে তারা সকলে পড়ে মারা গেল এবং বালকটি ব্যতীত কেউই বাকি থাকল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে ফিরে এলে বাদশা তাকে নিয়ে নদীতে ডুবিয়ে মারার জন্য লোকদেরকে হুকুম দিল। তারপর তাকে নদীতে নিয়ে যাওয়া হল। আল্লাহ তা'আলা বালকটির সাথী সকলকে ডুবিয়ে হত্যা করলেন এবং তাকে বাঁচিয়ে রাখলেন। পরবর্তীতে ছেলেটিই বাদশাকে বলল, আমাকে তুমি হত্যা করতে পারবে না। তবে আমাকে তুমি শূলে চড়িয়ে “এ বালকের প্রতিপালকের নামে” বলে তীর নিক্ষেপ করলেই কেবল আমাকে হত্যা করতে পারবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তার কথামত বাদশা হুকুম দিল এবং অতঃপর তাকে শূলে চড়িয়ে “এই বালকের প্রতিপালকের নামে" বলে তীর নিক্ষেপ করল, ছেলেটি তার হাত তার কান ও মাথার মাঝের জায়গায় স্থাপন করল এবং মারা গেল। লোকেরা বলল, এমন জ্ঞান বালকটি লাভ করেছে যা আর কেউই লাভ করতে পারেনি। কাজেই এই বালকের প্রতিপালকের উপর আমরাও ঈমান আনলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বাদশাকে বলা হল, আপনি তো তিন ব্যক্তির বিরোধিতায় ভয় পেয়ে গেলেন। এখন সারা দুনিয়াই তো আপনার বিরোধী হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে সময় বাদশা একটি সুদীর্ঘ গর্ত খুঁড়ে তাতে কাঠ দিয়ে আগুন ধরায়, তারপর লোকদেরকে একসঙ্গে বলে, “যে তার ধর্ম হতে ফিরে আসবে তাকে ছেড়ে দিব এবং যে ধর্ম হতে না ফিরবে তাকে আমি এ আগুনে নিক্ষেপ করব"। ঈমানদার লোকদেরকে সে আগুনের গর্তে নিপতিত করতে লাগল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ প্রেক্ষিতেই আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, “গর্তের অধিপতিরা ধ্বংস হয়েছে, যে গর্তে আগুন প্রজ্জ্বলিত ছিল। যখন ওরা ঐ গর্তের পাশে বসা ছিল, আর ওরা ঈমানদারদের সঙ্গে যা করছিল তা প্রত্যক্ষ করছিল। তারা তাদেরকে যুলম করেছিল কেবল এ কারণে যে, তারা মহাশক্তিমান ও প্রশংসিত আল্লাহ তা'আলার প্রতি ঈমান এনেছিল"- (সূরা বুরুজ ৪-৮)। বর্ণনাকারী বলেন, বালকটিকে দাফন করা হয়েছিল। রাবী বলেন, উল্লেখিত আছে যে, ঐ বালকের লাশ উমর (রাযিঃ)-এর খিলাফতকালে তোলা হয়েছিল। মারা যাওয়ার সময় তার হাত যেভাবে তার কান ও মাথার মধ্যবর্তী জায়গায় রাখা ছিল সেভাবেই তাকে পাওয়া যায়। সহীহঃ মুসলিম (৮/২২৯-২৩১) আয়াতের উল্লেখ ব্যতীত। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব।
। জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য আমি প্রেরিত হয়েছি যতক্ষণ না তারা “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ" (আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই) বলে। এ কথা তারা মনে-প্রাণে স্বীকার করে নিলে তাদের জান-মাল আমার হতে নিরাপদ করে নিল। কিন্তু ইসলামের বিধান (অপরাধের জন্য) প্রযোজ্য থাকবে। আর তাদের চূড়ান্ত হিসাব আল্লাহ তা'আলার উপর অর্পিত। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত পাঠ করেন (অনুবাদ) “আপনি তো একজন উপদেশদাতা মাত্র। আপনি তাদের কর্ম নিয়ন্ত্রক নন”— (সূরা গাশিয়াহ ২১-২২)। সহীহ মুতাওয়াতিরঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ৭১)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا سفيان، عن ابي الزبير، عن جابر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " امرت ان اقاتل الناس حتى يقولوا لا اله الا الله فاذا قالوها عصموا مني دماءهم واموالهم الا بحقها وحسابهم على الله " . ثم قرا : ( انما انت مذكر * لست عليهم بمسيطر ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোড় ও বেজোড়" (সূরাঃ আল-ফাজর-৩) প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসিত হয়ে বলেনঃ তা নামায, যার (রাকাআত সংখ্যা) কিছু জোড় এবং কিছু বেজোড়। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু কাতাদার রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস জেনেছি। খালিদ ইবনু কাইসও কাতাদা হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
حدثنا ابو حفص، عمرو بن علي حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، وابو داود قالا حدثنا همام، عن قتادة، عن عمران بن عصام، عن رجل، من اهل البصرة عن عمران بن حصين، ان النبي صلى الله عليه وسلم سيل عن الشفع والوتر فقال " هي الصلاة بعضها شفع وبعضها وتر " . قال هذا حديث غريب لا نعرفه الا من حديث قتادة . وقد رواه خالد بن قيس الحداني عن قتادة ايضا
। আবদুল্লাহ ইবনু যাম'আহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদিন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (সামূদ জাতির প্রতি প্রেরিত) উষ্ট্রী ও তার হত্যাকারী প্রসঙ্গে কথোকথন করতে শুনেছি। তিনি পাঠ করেনঃ “এদের মাঝে যে সবচেয়ে হতভাগ্য সে যখন তৎপর হল”— (সূরা আশ-শামস্ ১২)। তারপর তিনি বলেনঃ উষ্ট্রীকে খুন করতে সেই জাতির সর্বাধিক শক্তিশালী, নিষ্ঠুর, বিদ্রোহী ও দুর্ভাগা লোক উঠেছিল, সে আবূ যাম'আহর মত প্রভাবশালী ও শক্তিধর ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি মহিলাদের প্রসঙ্গেও তাকে আলোচনা করতে শুনলাম। তিনি বলেনঃ এমন লোকও তোমাদের মাঝে আছে যে তার সহধর্মিনীকে দাসীর ন্যায় চাবুক মারে কিন্তু আবার ঐ দিন শেষে রাতের বেলা তার সঙ্গে মিলিত হয়। এটা কতই না মন্দ ও জঘন্য বিষয়। অতঃপর বায়ু নিঃসরণ করে হাসি দেয়া প্রসঙ্গে উপদেশ প্রদান পূর্বক তিনি বলেনঃ নিজেই যে কাজ করে সে কাজে তোমাদের কারো কি হাসা উচিত? সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ১৯৮৩), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا هارون بن اسحاق الهمداني، حدثنا عبدة، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عبد الله بن زمعة، قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يوما يذكر الناقة والذي عقرها فقال " : (اذ انبعث اشقاها ) انبعث لها رجل عارم عزيز منيع في رهطه مثل ابي زمعة " . ثم سمعته يذكر النساء فقال " الام يعمد احدكم فيجلد امراته جلد العبد ولعله ان يضاجعها من اخر يومه " . قال ثم وعظهم في ضحكهم من الضرطة فقال " الام يضحك احدكم مما يفعل " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, বাকীতে একটি জানাযায় আমরা হাযির ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও এসে বসলেন এবং তার সঙ্গে আমরাও বসলাম। তার সঙ্গে একটি কাঠ ছিল যা দিয়ে তিনি যামীন খুঁড়ছিলেন। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মাথা তুলে বলেনঃ কোন সৃষ্টিই এরূপ নেই যার বাসস্থান লিখিত হয়নি। লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তবে আমাদের সেই লেখার উপর আমরা কি নির্ভর করব না? যে আমাদের মাঝে ভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত সে তো সৌভাগ্যসুলভ কাজই করবে, আর যে হতভাগ্যদের দলভুক্ত সে তো দুর্ভাগ্যের কর্মই করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বরং তোমরা আমল করতে থাক। কারণ যাকে যে আমলের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে সেটাই তার জন্য সহজসুলভ করে দেয়া হয়েছে। যে লোক ভাগ্যবানদের দলভুক্ত তার জন্য সৌভাগ্যসুলভ আমলই সহজতর করা হয়েছে এবং যে লোক হতভাগ্যদের দলভুক্ত তার জন্য দুর্ভাগ্যজনক কাজই সহজতর করা হয়েছে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেনঃ “সুতরাং কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা ভাল তা সঠিক মনে করে গ্রহণ করলে তার জন্য আমি সুগম করে দিব সহজ পথ। আর কেউ কৃপণতা করলে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, আর যা ভাল তা অস্বীকার করলে আমি তার জন্য সুগম করে দিব কঠোর পথ”- (সূরা লাইল ৫-১০)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম, ২১৩৬ নং হাদীস পূর্বে সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا زايدة بن قدامة، عن منصور بن المعتمر، عن سعد بن عبيدة، عن ابي عبد الرحمن السلمي، عن علي، رضى الله عنه قال كنا في جنازة في البقيع فاتى النبي صلى الله عليه وسلم فجلس وجلسنا معه ومعه عود ينكت به في الارض فرفع راسه الى السماء فقال " ما من نفس منفوسة الا قد كتب مدخلها " . فقال القوم يا رسول الله افلا نتكل على كتابنا فمن كان من اهل السعادة فانه يعمل للسعادة ومن كان من اهل الشقاء فانه يعمل للشقاء قال " بل اعملوا فكل ميسر اما من كان من اهل السعادة فانه ييسر لعمل السعادة واما من كان من اهل الشقاء فانه ييسر لعمل الشقاء " . ثم قرا : (فاما من اعطى واتقى * وصدق بالحسنى * فسنيسره لليسرى * واما من بخل واستغنى * وكذب بالحسنى * فسنيسره للعسرى ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। জুনদাব আল-বাজালী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আমি এক গুহার মাঝে ছিলাম। সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আঙ্গুল হতে রক্তক্ষরণ হলে তিনি বলেনঃ তুই একটি আঙ্গুল মাত্র। তোর মাঝ হতে রক্ত বের হল। যা তোর উপর দিয়ে ঘটল তা আল্লাহ তা'আলার রাস্তাই। বর্ণনাকারী বলেন, জিবরীল (আঃ) কিছু দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট না এলে মুশরিকরা বলল, মুহাম্মাদ পরিত্যক্ত হয়েছে। সে সময় আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “তোমার প্রভু তোমাকে ত্যাগও করেননি বা তোমার প্রতি নাখোশও হননি"- (সূরা আয-যুহা ৩)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস শুবাহ ও সাওরী (রাহঃ) আল-আসওয়াদ ইবনু কুইস হতে রিওয়ায়াত করেছেন।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن الاسود بن قيس، عن جندب البجلي، قال كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم في غار فدميت اصبعه فقال النبي صلى الله عليه وسلم " هل انت الا اصبع دميت وفي سبيل الله ما لقيت " . قال وابطا عليه جبريل عليه السلام فقال المشركون قد ودع محمد فانزل الله تعالى : ( ما ودعك ربك وما قلى ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وقد رواه شعبة والثوري عن الاسود بن قيس
। মালিক ইবনু সাসা'আহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ একদিন বাইতুল্লাহর নিকট আমি ঘুম ঘুম ভাব অবস্থায় অবস্থানরত ছিলাম। এমন সময় আমি এক বক্তাকে বলতে শুনলামঃ তিনজনের মধ্যে একজন। তারপর একখানা সোনার পেয়ালা আমার নিকট আনা হল যার মাঝে যমযমের পানি ছিল। তারপর আমার বক্ষদেশ তারা এই এই পর্যন্ত উম্মুক্ত বা বিদীর্ণ করে। কাতাদাহ (রাহঃ) বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ)-কে বললাম, কোন পর্যন্ত তিনি বললেনঃ (তিনি বলেছেন) আমার পেটের নিম্নদেশ পর্যন্ত। অতঃপর আমার অন্তঃকরণ বের করে যমযমের পানি দ্বারা ধুয়ে আবার স্ব-স্থানে স্থাপন করা হয়। এরপর তা ঈমান ও হিকমত দ্বারা পরিপূর্ণ করা হয়। হাদীসে সুদীর্ঘ ঘটনা বিদ্যমান। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن جعفر، وابن ابي عدي، عن سعيد بن ابي عروبة، عن قتادة، عن انس بن مالك، عن مالك بن صعصعة، رجل من قومه ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " بينما انا عند البيت بين النايم واليقظان اذ سمعت قايلا يقول احد بين الثلاثة فاتيت بطست من ذهب فيها ماء زمزم فشرح صدري الى كذا وكذا " . قال قتادة قلت يعني قلت لانس بن مالك ما يعني قال " الى اسفل بطني فاستخرج قلبي فغسل قلبي بماء زمزم ثم اعيد مكانه ثم حشي ايمانا وحكمة " . وفي الحديث قصة طويلة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد رواه هشام الدستوايي وهمام عن قتادة . وفيه عن ابي ذر
حدثنا محمود بن غيلان، وعبد بن حميد، - المعنى واحد قالا حدثنا عبد الرزاق، عن معمر، عن ثابت البناني، عن عبد الرحمن بن ابي ليلى، عن صهيب، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا صلى العصر همس - والهمس في قول بعضهم تحرك شفتيه كانه يتكلم فقيل له انك يا رسول الله اذا صليت العصر همست قال . " ان نبيا من الانبياء كان اعجب بامته فقال من يقول لهولاء فاوحى الله اليه ان خيرهم بين ان انتقم منهم وبين ان اسلط عليهم عدوهم فاختار النقمة فسلط عليهم الموت فمات منهم في يوم سبعون الفا " . قال وكان اذا حدث بهذا الحديث حدث بهذا الحديث الاخر . قال " كان ملك من الملوك وكان لذلك الملك كاهن يكهن له فقال الكاهن انظروا لي غلاما فهما او قال فطنا لقنا فاعلمه علمي هذا فاني اخاف ان اموت فينقطع منكم هذا العلم ولا يكون فيكم من يعلمه . قال فنظروا له على ما وصف فامره ان يحضر ذلك الكاهن وان يختلف اليه فجعل يختلف اليه وكان على طريق الغلام راهب في صومعة " . قال معمر احسب ان اصحاب الصوامع كانوا يوميذ مسلمين قال " فجعل الغلام يسال ذلك الراهب كلما مر به فلم يزل به حتى اخبره فقال انما اعبد الله " . قال " فجعل الغلام يمكث عند الراهب ويبطي على الكاهن فارسل الكاهن الى اهل الغلام انه لا يكاد يحضرني فاخبر الغلام الراهب بذلك فقال له الراهب اذا قال لك الكاهن اين كنت فقل عند اهلي . واذا قال لك اهلك اين كنت فاخبرهم انك كنت عند الكاهن " . قال " فبينما الغلام على ذلك اذ مر بجماعة من الناس كثير قد حبستهم دابة " . فقال بعضهم ان تلك الدابة كانت اسدا قال " فاخذ الغلام حجرا قال اللهم ان كان ما يقول الراهب حقا فاسالك ان اقتلها . قال ثم رمى فقتل الدابة . فقال الناس من قتلها قالوا الغلام ففزع الناس وقالوا لقد علم هذا الغلام علما لم يعلمه احد . قال فسمع به اعمى فقال له ان انت رددت بصري فلك كذا وكذا . قال له لا اريد منك هذا ولكن ارايت ان رجع اليك بصرك اتومن بالذي رده عليك قال نعم . قال فدعا الله فرد عليه بصره فامن الاعمى فبلغ الملك امرهم فبعث اليهم فاتي بهم فقال لاقتلن كل واحد منكم قتلة لا اقتل بها صاحبه فامر بالراهب والرجل الذي كان اعمى فوضع المنشار على مفرق احدهما فقتله وقتل الاخر بقتلة اخرى . ثم امر بالغلام فقال انطلقوا به الى جبل كذا وكذا فالقوه من راسه فانطلقوا به الى ذلك الجبل فلما انتهوا به الى ذلك المكان الذي ارادوا ان يلقوه منه جعلوا يتهافتون من ذلك الجبل ويتردون حتى لم يبق منهم الا الغلام " . قال " ثم رجع فامر به الملك ان ينطلقوا به الى البحر فيلقونه فيه فانطلق به الى البحر فغرق الله الذين كانوا معه وانجاه فقال الغلام للملك انك لا تقتلني حتى تصلبني وترميني وتقول اذا رميتني بسم الله رب هذا الغلام . قال فامر به فصلب ثم رماه فقال بسم الله رب هذا الغلام . قال فوضع الغلام يده على صدغه حين رمي ثم مات . فقال اناس لقد علم هذا الغلام علما ما علمه احد فانا نومن برب هذا الغلام . قال فقيل للملك اجزعت ان خالفك ثلاثة فهذا العالم كلهم قد خالفوك . قال فخد اخدودا ثم القى فيها الحطب والنار ثم جمع الناس فقال من رجع عن دينه تركناه ومن لم يرجع القيناه في هذه النار فجعل يلقيهم في تلك الاخدود . قال يقول الله تعالى : (قتل اصحاب الاخدود * النار ذات الوقود ) حتى بلغ : (العزيز الحميد ) " . قال " فاما الغلام فانه دفن " . قال فيذكر انه اخرج في زمن عمر بن الخطاب واصبعه على صدغه كما وضعها حين قتل . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب