Loading...

Loading...
বইসমূহ
৭৭৪ হাদিসসমূহ
। নুমান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার বাণী “তোমাদের প্রভু বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব”— (সূরা মু'মিন ৬০) প্রসঙ্গে বলেছেনঃ দু'আও একটি ইবাদাত। তারপর তিনি পাঠ করলেনঃ "তোমাদের প্রভু বলেন, তোমারা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। যারা অহংকারবশে আমার ইবাদাতে বিমুখ, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে” (সূরা মু'মিন ৬০)। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৮২৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ذر، عن يسيع الكندي، عن النعمان بن بشير، عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله : (وقال ربكم ادعوني استجب لكم ) قال " الدعاء هو العبادة " . وقرا :( وقال ربكم ادعوني استجب لكم ) الى قوله ( داخرين ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘হাত্তা ইয়াতাবাইয়্যানা লাকুমুল খাইতুল-আবইয়াযু মিনাল-খাইতিল আসওয়াদি মিনাল-ফাজরি”— (সূরা বাকারাহ ১৮৭) আয়াত অবতীর্ণ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ এখানে খাইতুল আবইয়াযি মিনাল খাইতিল আসওয়াদি বলতে “রাতের অন্ধকার ও দিনের আলো” বুঝানো হয়েছে। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (২০৩৪), বুখারী (৪৫১০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আহমাদ ইবনু মানী'-হুশাইম হতে, তিনি মুজালিদ হতে, তিনি শা'বী হতে, তিনি আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا هشيم، اخبرنا حصين، عن الشعبي، اخبرنا عدي بن حاتم، قال لما نزلت : ( حتى يتبين لكم الخيط الابيض من الخيط الاسود من الفجر ) قال لي النبي صلى الله عليه وسلم " انما ذاك بياض النهار من سواد الليل " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . حدثنا احمد بن منيع، حدثنا هشيم، حدثنا مجالد، عن الشعبي، عن عدي بن حاتم، عن النبي صلى الله عليه وسلم مثل ذلك
। 'আদী ইবনু হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রোযা বিষয়ে (সাহরীর সময়সীমা প্রসঙ্গে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ কালো সুতা হতে সাদা সুতা যে পর্যন্ত না স্পষ্ট প্রতিভাত হয়"- (সূরা আল-বাকারাহ ১৮৭)। আদী (রাযিঃ) বলেন, আমি সাদা ও কালো দুটি রশি নিলাম, (শেষ রাতে) আমি উভয়টি দেখতে লাগলাম (এবং সাদা-কালোর পার্থক্য নিরূপণের চেষ্টা করলাম)। (এ ঘটনা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কিছু বলেন। কি বলেছিলেন তা বর্ণনাকারী সুফইয়ান মনে রাখতে পারেননি। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এর অর্থ হল রাত ও দিন। সহীহঃ প্রাগুক্ত, বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن مجالد، عن الشعبي، عن عدي بن حاتم، قال سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الصوم فقال : ( حتى يتبين لكم الخيط الابيض من الخيط الاسود ) قال فاخذت عقالين احدهما ابيض والاخر اسود فجعلت انظر اليهما فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم شييا لم يحفظه سفيان قال " انما هو الليل والنهار " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আসলাম আবূ ইমরান আত-তুজীবী (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রোম সাম্রাজ্যের কোন এক শহরে অবস্থানরত ছিলাম। তখন আমাদেরকে মুকাবিলা করার উদ্দেশ্যে রোমের এক বিশাল বাহিনী যাত্রা শুরু করল। মুসলিমদের পক্ষ হতেও একই রকম বা আরো বিশাল একটি বাহিনী যাত্রা শুরু করল। তখন মিসরবাসীর শাসক ছিলেন উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) এবং বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন ফাযালাহ ইবনু উবাইদ (রাযিঃ)। একজন মুসলিম সেনা রোমীয়দের উপর প্রচণ্ড আক্রমণ করেন। এমনকি বুহ্য ভেদ করে তিনি তাদের ভেতরে ঢুকে পড়েন। তখন মুসলিমগণ সশব্দে চিৎকার করেন এবং বলেন, সুবহানাল্লাহ! লোকটি নিজেকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করেছে। তখন আবূ আইয়ুব আল-আনসারী (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে জনমণ্ডলী! তোমরা এ আয়াতের এরূপ ব্যাখ্যা করছ? অথচ এ আয়াতটি আমাদের তথা আনসারদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা যখন ইসলামকে বিজয় দান করলেন এবং ইসলামের বিপুল সংখ্যক সাহায্যকারী হয়ে গেল, তখন আমাদের মধ্যে কেউ কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে না শুনিয়ে চুপে চুপে বলল, আমাদের মাল-সম্পদ তো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ তা'আলা ইসলামকে এখন শক্তিশালী করেছেন। তার সাহায্যকারীর সংখ্যাও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন যদি আমরা আমাদের মাল-সম্পদ রক্ষাণাবেক্ষণের জন্য অবস্থান করতে এবং বিনষ্ট হয়ে যাওয়া সম্পদের পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করতাম (তাহলে ভাল হতো)। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা'আলা আমাদের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর প্রতি নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “তোমরা আল্লাহ তা'আলার পথে ব্যয় কর এবং নিজেদের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না” (সূরা আল-বাক্কারাহ ১৯৫)। কাজেই মাল-সম্পদের তত্ত্বাবধান ও তার পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করা এবং জিহাদ ত্যাগ করাই হচ্ছে ধ্বংস। অতএব আবূ আইয়ুব আল-আনসারী (রাযিঃ) বাড়িঘর ছেড়ে সব সময় আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় জিহাদে ব্যাপৃত থাকতেন। অবশেষে তিনি রোমে (তৎকালীন এশিয়া মাইনর, বর্তমানে তুরস্ক) ইন্তিকাল করেন এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। সহীহঃ সহীহাহ (১৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا الضحاك بن مخلد ابو عاصم النبيل، عن حيوة بن شريح، عن يزيد بن ابي حبيب، عن اسلم ابي عمران التجيبي، قال كنا بمدينة الروم فاخرجوا الينا صفا عظيما من الروم فخرج اليهم من المسلمين مثلهم او اكثر وعلى اهل مصر عقبة بن عامر وعلى الجماعة فضالة بن عبيد فحمل رجل من المسلمين على صف الروم حتى دخل فيهم فصاح الناس وقالوا سبحان الله يلقي بيديه الى التهلكة فقام ابو ايوب الانصاري فقال يا ايها الناس انكم تتاولون هذه الاية هذا التاويل وانما نزلت هذه الاية فينا معشر الانصار لما اعز الله الاسلام وكثر ناصروه فقال بعضنا لبعض سرا دون رسول الله صلى الله عليه وسلم ان اموالنا قد ضاعت وان الله قد اعز الاسلام وكثر ناصروه فلو اقمنا في اموالنا فاصلحنا ما ضاع منها . فانزل الله على نبيه صلى الله عليه وسلم يرد علينا ما قلنا: (وانفقوا في سبيل الله ولا تلقوا بايديكم الى التهلكة ) فكانت التهلكة الاقامة على الاموال واصلاحها وتركنا الغزو فما زال ابو ايوب شاخصا في سبيل الله حتى دفن بارض الروم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب
। কাব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ নিবদ্ধ তার শপথ আমার সম্পর্কেই নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাতে আমার প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছেঃ “তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয়, বা মাথায় ক্লেশ থাকে, তবে রোযা অথবা দান-খাইরাত অথবা কুরবানীর দ্বারা তার ফিদিয়া দিবে” (সূরাঃ আল-বাকারাহ ১৯৬)। কাব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে হুদাইবিয়াতে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। মুশরিকরা আমাদেরকে (হাজ্জ বা উমরার উদ্দেশে মক্কায় যেতে) বাধা দিল। আমার মাথায় বাবরী চুল ছিল। উকুন আমার মুখমণ্ডলে পতিত হচ্ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেনঃ তোমার মাথার কীটগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তোমার মাথার চুল মুণ্ডন করে ফেল। এ প্রসঙ্গেই এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, এক্ষেত্রে তিনটি রোযা রাখতে হবে অথবা খাদ্য দান করতে হবে ছয়জন মিসকীনকে অথবা এক বা একাধিক ছাগল যবেহ করতে হবে। সহীহঃ বুখারী (৪৫১৭), মুসলিম, অনুরূপ হাদীস পূর্বে (৯৫৩) নং উল্লেখ হয়েছে। ‘আলী ইবনু হুজর-হুশাইম হতে, তিনি আশ'আস ইবনু সাওওয়ার হতে, তিনি শা'বী হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাকিল হতে, তিনি কাব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। 'আবদুর রাহমান ইবনুল আসবাহানী (রাহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফালের সূত্রে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا هشيم، اخبرنا مغيرة، عن مجاهد، قال قال كعب بن عجرة والذي نفسي بيده لفي انزلت هذه الاية واياى عنى بها : (فمن كان منكم مريضا او به اذى من راسه ففدية من صيام او صدقة او نسك ) قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم بالحديبية ونحن محرمون وقد حصرنا المشركون وكانت لي وفرة فجعلت الهوام تساقط على وجهي فمر بي النبي صلى الله عليه وسلم فقال " كان هوام راسك توذيك " . قال قلت نعم . قال " فاحلق " . ونزلت هذه الاية . قال مجاهد الصيام ثلاثة ايام والطعام ستة مساكين والنسك شاة فصاعدا . حدثنا علي بن حجر، حدثنا هشيم، عن ابي بشر، عن مجاهد، عن عبد الرحمن بن ابي ليلى، عن كعب بن عجرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم بنحو ذلك . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . حدثنا علي بن حجر، حدثنا هشيم، عن اشعث بن سوار، عن الشعبي، عن عبد الله بن معقل، عن كعب بن عجرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم بنحو ذلك . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وقد رواه عبد الرحمن بن الاصبهاني عن عبد الله بن معقل ايضا
। কাব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন। আমি তখন ডেকচির নিচে আগুন জ্বালাচ্ছিলাম। তখন আমার কপালের উপর অথবা বলেছেন আমার চোখের ভ্রুর উপর দিয়ে উকুন ঝরে পড়ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কীটগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার মাথা কামিয়ে ফেল এবং তার পরিবর্তে একটি পশু যবেহ কর অথবা তিন দিন রোযা রাখ অথবা ছয়জন মিস্কীনকে আহার করাও। বর্ণনাকারী আইয়ুব বলেন, তিনি কোন বিষয়টি প্রথমে বলেছেন তা আমি অবগত নই। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا اسماعيل بن ابراهيم، عن ايوب، عن مجاهد، عن عبد الرحمن بن ابي ليلى، عن كعب بن عجرة، قال اتى على رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا اوقد تحت قدر والقمل تتناثر على جبهتي او قال حاجبي فقال " اتوذيك هوام راسك " . قال قلت نعم . قال " فاحلق راسك وانسك نسيكة او صم ثلاثة ايام او اطعم ستة مساكين " . قال ايوب لا ادري بايتهن بدا . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবদুর রাহমান ইবনু ইয়ামার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃহাজ্জ হচ্ছে আরাফাতে অবস্থান,হাজ্জ হচ্ছে আরাফাতে অবস্থান, হাজ্জ হচ্ছে আরাফাতে অবস্থান। মিনার জন্য নির্ধারিত আছে তিন দিন। “কোন ব্যক্তি যদি দুই দিন থেকে তাড়াতাড়ি চলে আসে তবে তার কোন গুনাহ হবে না। আর যদি কোন ব্যক্তি বিলম্ব করে, তারও কোন গুনাহ হবে না”— (সূরা আল-বাকারাহ ২০৩)। ফজর উদয়ের পূর্বেই যে ব্যক্তি আরাফাতে পৌছে যায়, সে হাজ্জ পেয়ে গেল। সহীহঃ (৮৮৯) নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। ইবনু আবী উমার বলেন, সুফইয়ান ইবনু উয়াইনা বলেছেনঃ সুফিয়ান সাওরীর বর্ণিত হাদীসগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে উৎকৃষ্ট। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এটি শুবাহ (রাহঃ) বুকাইর ইবনু আতা হতে বর্ণনা করেছেন। বুকাইর ইবনু আতার সূত্র ব্যতীত এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن سفيان الثوري، عن بكير بن عطاء، عن عبد الرحمن بن يعمر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الحج عرفات الحج عرفات الحج عرفات ايام منى ثلاث : (فمن تعجل في يومين فلا اثم عليه ومن تاخر فلا اثم عليه ) ومن ادرك عرفة قبل ان يطلع الفجر فقد ادرك الحج " . قال ابن ابي عمر قال سفيان بن عيينة وهذا اجود حديث رواه الثوري . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . ورواه شعبة عن بكير بن عطاء ولا نعرفه الا من حديث بكير بن عطاء
। আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ভীষণ কলহপ্রিয় লোক আল্লাহ তা'আলার নিকট সবচাইতে ঘৃণ্য। সহীহঃ বুখারী (৪৫২৩), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن ابن جريج، عن ابن ابي مليكة، عن عايشة، قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ابغض الرجال الى الله الالد الخصم " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়াহুদীদের এই নিয়ম ছিল যে, তাদের কোন নারীর মাসিক ঋতুস্রাব হলে তারা তার সাথে একত্রে পানাহারও করত না এবং একই ঘরে একত্রে বসবাসও করত না। এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হলে আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ লোকেরা আপনাকে হায়িয প্রসঙ্গে প্রশ্ন করে। বলুন, তা অশুচি"- (সূরা আল-বাকারাহ ২২২)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে যথারীতি একত্রে পানাহারের ও ঘরে একসাথে বসবাসের নির্দেশ দেন, শুধু সহবাস প্রসঙ্গ ব্যতীত। এতে ইয়াহুদীরা বলল, এ লোকটি আমাদের কোন একটি বিষয়েরও বিরোধিতা না করে ছাড়ছে না। বর্ণনাকারী বলেন, আব্বাদ ইবনু বিশর ও উসাইদ ইবনু হুযাইর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ -এর নিকট আসেন এবং বিষয়টি তাকে জানান। তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি ঋতুস্রাব চলাকালে স্ত্রী-সহবাস করব না? এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা রক্তিম বর্ণ হয়ে গেল। আমরা অনুমান করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়ের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তারা দুজনে উঠে রাওনা করলেন। তাদের সামনে দিয়েই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য দুধ হাদিয়া এলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ডেকে পাঠান এবং তাদেরকে দুধ পান করান। এতে তারা বুঝতে পারল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হননি। সহীহঃ আদাবুয যিফাফ (৪৪), সহীহ আবূ দাউদ (২৫০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আলা - আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি হাম্মাদ ইবনু সালামা হতে, তিনি সাবিত হতে, তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন।
حدثنا عبد بن حميد، حدثني سليمان بن حرب، حدثنا حماد بن سلمة، عن ثابت، عن انس، قال كانت اليهود اذا حاضت امراة منهم لم يواكلوها ولم يشاربوها ولم يجامعوها في البيوت فسيل النبي صلى الله عليه وسلم عن ذلك فانزل الله تعالى : (يسالونك عن المحيض قل هو اذى ) فامرهم رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يواكلوهن ويشاربوهن وان يكونوا معهن في البيوت وان يفعلوا كل شيء ما خلا النكاح فقالت اليهود ما يريد ان يدع شييا من امرنا الا خالفنا فيه . قال فجاء عباد بن بشر واسيد بن حضير الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبراه بذلك وقالا يا رسول الله افلا ننكحهن في المحيض فتمعر وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى ظننا انه قد غضب عليهما فقاما فاستقبلتهما هدية من لبن فارسل رسول الله صلى الله عليه وسلم في اثارهما فسقاهما فعلمنا انه لم يغضب عليهما . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। ইবনুল মুনকাদির (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি জাবির (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ ইয়াহুদীরা বলত, কোন ব্যক্তি স্ত্রীর পেছন দিক হতে তার জননেন্দ্রিয়ে সহবাস করলে সন্তান হয় টেরা চোখবিশিষ্ট। এ প্রসঙ্গেই এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র। কাজেই তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা যেতে পার"- (সূরা আল-বাকারাহ ২২৩)। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৯২৫), বুখারী (৪৫২৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن عبد الاعلى، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، عن حماد بن سلمة، عن ثابت، عن انس، نحوه بمعناه . حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن ابن المنكدر، سمع جابرا، يقول كانت اليهود تقول من اتى امراته في قبلها من دبرها كان الولد احول فنزلت : (نساوكم حرث لكم فاتوا حرثكم انى شيتم ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। উম্মু সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র স্বরূপ। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা যেতে পার”— (সূরা বাকারাহ ২২৩), এ আয়াত প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অর্থাৎ একই রাস্তায় (জননেন্দ্রিয়ে) সহবাস করবে। সহীহঃ আদাবুয যিফাফ (২৭-২৮)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু খুসাইম হচ্ছেন 'আবদুল্লাহ ইবনু উসমান ইবনু খুসাইম। ইবনু সাবিত হচ্ছেন আবদুর রাহমান ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু সাবিত আল-জুমাহী আল-মাক্কী। আর হাফসা (রাযিঃ) হচ্ছেন, ‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বকর আস-সিদ্দীক-এর কন্যা।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا سفيان، عن ابن خثيم، عن ابن سابط، عن حفصة بنت عبد الرحمن، عن ام سلمة، عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله : (نساوكم حرث لكم فاتوا حرثكم انى شيتم ) يعني صماما واحدا . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وابن خثيم هو عبد الله بن عثمان وابن سابط هو عبد الرحمن بن عبد الله بن سابط الجمحي المكي وحفصة هي بنت عبد الرحمن بن ابي بكر الصديق ويروى في سمام واحد
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ কিসে তোমাকে ধ্বংস করল? উমার (রাযিঃ) বললেনঃ রাতে আমার বাহনটি উল্টা করে ব্যবহার করেছি (পেছনের দিক হতে সহবাস করেছি)। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন জাওয়াব দিলেন না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হলঃ “তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র। অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা যেতে পার”— (সূরা আল-বাক্কারাহ ২২৩)। সামনের দিক হতেও বা পেছনের দিক হতেও (জননেন্দ্রিয়ে) সঙ্গত হতে পার, তবে মলদ্বারে অথবা হায়িয অবস্থায় (সহবাস হতে) বিরত থাক। হাসানঃ আদাবুয যিফাফ (২৮-২৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। ইয়াকুব ইবনু আবদুল্লাহ আল-আশ'আরী হচ্ছেন ইয়াকুব আল-কুম্মী।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا الحسن بن موسى، حدثنا يعقوب بن عبد الله الاشعري، عن جعفر بن ابي المغيرة، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، قال جاء عمر الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله هلكت قال " وما اهلكك " . قال حولت رحلي الليلة . قال فلم يرد عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم شييا قال فانزل الله على رسول الله صلى الله عليه وسلم هذه الاية : (نساوكم حرث لكم فاتوا حرثكم انى شيتم ) اقبل وادبر واتق الدبر والحيضة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب ويعقوب بن عبد الله الاشعري هو يعقوب القمي
। মা'কিল ইবনু ইয়াসার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় তার বোনকে এক মুসলিমের নিকট বিবাহ দেন। এ মহিলা তার নিকট যত দিন জীবন অতিবাহিত করার করলো। তারপর তার স্বামী তাকে এক তালাক দেয়। ইদ্দাত শেষ হয়ে যাওয়ার পূর্বে সে তাকে আবার স্ত্রীত্বে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেনি। এমতাবস্থায় ইদ্দাত শেষ হয়ে যাওয়ার পর লোকটি তার স্ত্রীর প্রতি এবং স্ত্রী স্বামীর প্রতি আকৃষ্ট হল। তাই সেও এক প্রস্তাবকের মাধ্যমে তাকে পুনর্বিবাহের প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু তার ভাই (মাকিল) বলেন, হে ইতর প্রাণী! আমি তোমার সাথে আমার বোনের বিবাহ দিয়ে তোমাকে সম্মানিত করেছিলাম, কিন্তু তুমি তাকে তালাক দিয়েছ। আল্লাহর কসম! সে আর কখনো তোমার নিকট ফিরে যাবে না। এই তোমার সাথে শেষ কথা। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহ তা'আলা জানতেন ঐ নারীর প্রতি লোকটির আকর্ষণ এবং লোকটির প্রতি নারীর আকর্ষণের কথা। তখন বারকাতময় আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “তোমরা যখন স্ত্রীদের তালাক দাও এবং তারা তাদের ইদ্দাত কাল পূর্ণ করে, তখন তারা চাইলে তোমরা তাদের বাধা দিও না। তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাকে এর দ্বারা উপদেশ দেয়া হচ্ছে। এটা তোমাদের জন্য শুদ্ধতম ও পবিত্রতম। আল্লাহ তা'আলা জানেন, তোমরা জান না”— (সূরা আল-বাকরাহ ২৩২)। বর্ণনাকারী বলেন, মাকিল (রাযিঃ) এ আয়াত শোনার পর বললেন, আমার প্রভুর আদেশ সর্বোপরি শিরোধার্য। আমি শুনলাম এবং আনুগত্যের শির অবনত করলাম। তিনি ঐ লোককে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, (চলো) তোমার সাথে তাকে বিবাহ দিয়ে দিচ্ছি এবং তোমার খাতির সম্মান বহাল করছি। সহীহঃ ইরওয়াহ (১৮৪৩), সহীহ আবূ দাউদ (১৮২০), বুখারী (৪৫২৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। হাসান (রহঃ) হতে এটি অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। হাসান (রহঃ) সূত্রে হাদীসটি গারীব। এ হাদীস হতে জানা গেল যে, ওয়ালী অর্থাৎ অভিবাবক ব্যতীত বিবাহ বৈধ হয় না। কারণ মাকিল ইবনু ইয়াসার (রাযিঃ)-এর বোন প্রাপ্তবয়স্কা তালাকপ্রাপ্তা ছিলেন। ওয়ালী ব্যতীত নিজের বিবাহ করার এখতিয়ার থাকলে তিনি নিজেই বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হয়ে যেতে পারতেন এবং তার ওয়ালী মাকিল ইবনু ইয়াসার (রাযিঃ)-এর প্রয়োজন বোধ করতেন না। আল্লাহ তা'আলাও এ আয়াতে ওয়ালী অর্থাৎ অভিভাবকদেরই সম্বোধন করেছেন। যেমন তিনি বলেছেনঃ “তারা যদি বিধিমত পরস্পর সম্মত হয় তাবে স্ত্রীগণ নিজেদের স্বামীদের বিবাহ করতে চাইলে তোমরা তাদের বাধা দিও না”। এ আয়াত দ্বারা প্রমানিত হয় যে, বিবাহের ব্যাপারটি নারীদের সম্মতি সাপেক্ষে ওয়ালীর উপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا هشام بن القاسم، عن المبارك بن فضالة، عن الحسن، عن معقل بن يسار، انه زوج اخته رجلا من المسلمين على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فكانت عنده ما كانت ثم طلقها تطليقة لم يراجعها حتى انقضت العدة فهويها وهويته ثم خطبها مع الخطاب فقال له يا لكع اكرمتك بها وزوجتكها فطلقتها والله لا ترجع اليك ابدا اخر ما عليك قال فعلم الله حاجته اليها وحاجتها الى بعلها فانزل الله ( واذا طلقتم النساء فبلغن اجلهن ) الى قوله :( وانتم لا تعلمون ) فلما سمعها معقل قال سمعا لربي وطاعة ثم دعاه فقال ازوجك واكرمك . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد روي من غير وجه عن الحسن . وفي هذا الحديث دلالة على انه لا يجوز النكاح بغير ولي لان اخت معقل بن يسار كانت ثيبا فلو كان الامر اليها دون وليها لزوجت نفسها ولم تحتج الى وليها معقل بن يسار وانما خاطب الله في الاية الاولياء فقال : (ولا تعضلوهن ان ينكحن ازواجهن ) ففي هذه الاية دلالة على ان الامر الى الاولياء في التزويج مع رضاهن
। আয়িশাহ্ (রাযিঃ)-এর মুক্তদাস আবূ ইউনুস (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়িশাহ্ (রাযিঃ) আমাকে তার জন্য কুরআনের একটি কপি লিখে দেয়ার আদেশ দিয়ে বলেনঃ “তোমরা নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত মধ্যবর্তী নামাযের প্রতি" (সূরা বাকারাহ ২৩৮) আয়াতে পৌছে আমাকে জানাবে। আবূ ইউনুস (রহঃ) বলেন, আমি উক্ত আয়াতে পৌছে আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে জানালাম। তিনি আমাকে এভাবে লেখার আদেশ দিলেনঃ “তোমরা নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত মধ্যবর্তী নামাযের তথা আসর নামাযের প্রতি এবং আল্লাহ তা'আলার উদ্দেশে বিনীতভাবে দাড়াবে।” আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শুনেছি। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (৪৩৭), মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে হাফসাহ (রাযিঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا قتيبة، عن مالك بن انس، ح قال وحدثنا الانصاري، حدثنا معن، حدثنا مالك، عن زيد بن اسلم، عن القعقاع بن حكيم، عن ابي يونس، مولى عايشة قال امرتني عايشة رضى الله عنها ان اكتب لها مصحفا فقالت اذا بلغت هذه الاية فاذني : (حافظوا على الصلوات والصلاة الوسطى ) فلما بلغتها اذنتها فاملت على حافظوا على الصلوات والصلاة الوسطى وصلاة العصر وقوموا لله قانتين وقالت سمعتها من رسول الله صلى الله عليه وسلم . وفي الباب عن حفصة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। সামুরাহ ইবনু জুনদাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তী নামায) হল ‘আসরের নামায। সহীহঃ মিশকাত (৬৩৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا حميد بن مسعدة، حدثنا يزيد بن زريع، عن سعيد، عن قتادة، حدثنا الحسن، عن سمرة بن جندب، ان نبي الله صلى الله عليه وسلم قال " صلاة الوسطى صلاة العصر " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহযাব যুদ্ধের দিন (এই) দুআ করেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি এদের (কাফিরদের) কবরসমূহ ও ঘরসমূহকে আগুন দিয়ে ভর্তি করে দাও, যেমন তারা আমাদেরকে মধ্যবর্তী নামায হতে বিরত রেখেছে, এমনকি সূর্য ডুবে গেছে। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (৪৩৬), বুখারী (৪৫৩৩), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আলী (রাযিঃ) হতে এটি অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। আবূ হাসসান আল-আ'রাজের নাম মুসলিম।
حدثنا هناد، حدثنا عبدة، عن سعيد بن ابي عروبة، عن قتادة، عن ابي حسان الاعرج، عن عبيدة السلماني، ان عليا، حدثه ان النبي صلى الله عليه وسلم قال يوم الاحزاب " اللهم املا قبورهم وبيوتهم نارا كما شغلونا عن صلاة الوسطى حتى غابت الشمس " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وقد روي من غير وجه عن علي وابو حسان الاعرج اسمه مسلم
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তী নামায) হল আসরের নামায। সহীহঃ মিশকাত (৬৩৪)। যাইদ ইবনু সাবিত, আবূ হাশিম ইবনু উতবাহ ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو النضر، وابو داود الطيالسي عن محمد بن طلحة بن مصرف، عن زبيد، عن مرة، عن عبد الله بن مسعود، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " صلاة الوسطى صلاة العصر " . وفي الباب عن زيد بن ثابت وابي هاشم بن عتبة وابي هريرة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। যাইদ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় আমরা নামাযের মধ্যে কথাবার্তা বলতাম। এ প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়ঃ “তোমরা আল্লাহ তা'আলার উদ্দেশ্যে অনুগত সেবকের মত দাড়াও"- (সূরা আল-বাকরাহ ২৩৮)। এতদ্বারা আমাদেরকে (নামাযে) চুপ থাকার নির্দেশ দেয়া হল। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (৮৭৫)। আহমাদ ইবনু মানী-হুশাইম হতে, তিনি ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ (রাহঃ) হতে এই সূত্রেও একই রকম বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে আরও আছেঃ ওয়া নুহীনা আনিল কালাম" (আমাদেরকে কথা বলতে নিষেধ করে দেয়া হয়)। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (৮৭৫), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ আমর আশ-শাইবানীর নাম সাদ ইবনু ইয়াস।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا مروان بن معاوية، ويزيد بن هارون، ومحمد بن عبيد، عن اسماعيل بن ابي خالد، عن الحارث بن شبيل، عن ابي عمرو الشيباني، عن زيد بن ارقم، قال كنا نتكلم على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم في الصلاة فنزلت : (وقوموا لله قانتين ) فامرنا بالسكوت . حدثنا احمد بن منيع، حدثنا هشيم، حدثنا اسماعيل بن ابي خالد، نحوه وزاد فيه ونهينا عن الكلام، . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وابو عمرو الشيباني اسمه سعد بن اياس
। আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “তোমরা নিকৃষ্ট বস্তু দান করার ইচ্ছা করবে না”— (সূরা আল-বাকারাহ ২৬৭) আয়াতটি আমাদের আনসারদের প্রসঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ছিলাম খেজুর বাগানের মালিক। লোকেরা তাদের খেজুর বাগান হতে বেশী বা স্বল্প পরিমাণ অনুসারে খেজুর নিয়ে আসতো। কেউ বা এক-দুই ছড়া খেজুর এনে মসজিদে ঝুলিয়ে রাখতো। সুফফাবাসী সাহাবীগণের খাদ্য সংস্থানের বিশেষ কোন নির্দিষ্ট উৎস ছিল না। তাদের কারো ক্ষুধা পেলে তিনি উক্ত খেজুরের ছড়ার নিকট এসে তাতে লাঠি দ্বার আঘাত করতেন। ফলে কাচা-পাকা খেজুর ঝরে পড়ত এবং তিনি তা খেতেন। কিন্তু কিছু সংখ্যক লোকের কল্যাণকর কাজের প্রতি খুব একট আগ্রহ ছিল না। তাদের কেউ নিকৃষ্ট ও পচা খেজুরের ছড়াও নিয়ে আসতো, আবার কেউ ভেঙ্গে পড়া ছড়াও নিয়ে আসতো এবং তা (মসজিদে) বুলিয়ে রাখতো। কল্যাণময় আল্লাহ তা’আলা এ প্রসঙ্গে আয়াত অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) “হে ঈমানদারগণ! তোমরা যা উপার্জন কর এবং আমি যা জমিন হতে তোমাদের জন্য উৎপাদন করি, তন্মধ্যে যা উৎকৃষ্ট তা ব্যয় কর এবং তা হতে নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করার সংকল্প করো না, অথচ তোমরা তা গ্রহণ করবে না, যদি না তোমরা চক্ষু বন্ধ করে থাক” (সূরা আল-বাকারাহ ২৬৭)। তিনি বলেন, অর্থাৎ দাতা যেরূপ দান করেছে, অনুরূপই যদি তাকে উপহারস্বরূপ দেয়া হয়, তাহলে সে কখনো তা গ্রহণ করবে না, চক্ষুর লজ্জায় পড়া বা দৃষ্টি এড়িয়ে রাখা ব্যতীত। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর হতে আমাদের কেউ কিছু আনলে তার নিকট যা আছে তার মধ্যকার সর্বোৎকৃষ্টগুলো নিয়ে আসতো। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৮২২)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ। আবূ মালিক হচ্ছেন আবূ মালিক আল-গিফারী। তার নাম গাযওয়ান বলেও কথিত আছে। সাওরী (রহঃ) সুদীর সূত্রে উক্ত হাদীসের অংশবিশেষ রিওয়ায়াত করেছেন।
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا عبيد الله بن موسى، عن اسراييل، عن السدي، عن ابي مالك، عن البراء: (ولا تيمموا الخبيث منه تنفقون ) قال نزلت فينا معشر الانصار كنا اصحاب نخل فكان الرجل ياتي من نخله على قدر كثرته وقلته وكان الرجل ياتي بالقنو والقنوين فيعلقه في المسجد وكان اهل الصفة ليس لهم طعام فكان احدهم اذا جاع اتى القنو فضربه بعصاه فيسقط من البسر والتمر فياكل وكان ناس ممن لا يرغب في الخير ياتي الرجل بالقنو فيه الشيص والحشف وبالقنو قد انكسر فيعلقه فانزل الله تعالى : (يا ايها الذين امنوا انفقوا من طيبات ما كسبتم ومما اخرجنا لكم من الارض ولا تيمموا الخبيث منه تنفقون ولستم باخذيه الا ان تغمضوا فيه ) قالوا لو ان احدكم اهدي اليه مثل ما اعطى لم ياخذه الا على اغماض وحياء قال فكنا بعد ذلك ياتي احدنا بصالح ما عنده . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب صحيح وابو مالك هو الغفاري ويقال اسمه غزوان وقد روى سفيان عن السدي شييا من هذا
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম সন্তানের প্রতি শাইতানের এক স্পর্শ রয়েছে এবং ফেরেশতারও এক স্পর্শ রয়েছে। শাইতানের স্পর্শ হচ্ছে মন্দ কাজের প্ররোচনাদান ও সত্যকে অস্বীকার করার। ফেরেশতার স্পর্শ হচ্ছে কল্যাণের কাজে উৎসাহিত করা এবং সত্যকে স্বীকার করা। কাজেই যে ব্যক্তি নিজের মধ্যে এরূপ নেকীর স্পর্শ অনুভব করে সে যেন জ্ঞাত হয় যে, এটা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে এবং এজন্য সে যেন আল্লাহ তা'আলার প্রতি শুকরিয়া আদায় করে। আর কেউ নিজের মধ্যে এর বিপরীত স্পর্শ উপলব্ধি করলে সে যেন তখন শইতান হতে আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় চায়। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ (অনুবাদ) “শাইতান তোমাদেরকে দারিদ্র্যের ভয় দেখায় এবং অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয়। আর আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে তার ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আল্লাহ তা'আলা প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ"- (সূরা বাকারাহ ২৬৮)। সহীহঃ মিশকাত তাহকীকু সানী (৭৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এটি হচ্ছে আবূল আহওয়াসের রিওয়ায়াত। আমরা আবূল আহওয়াসের সূত্র ব্যতীত এটিকে অন্য কোন সূত্রে মারফু' হিসেবে জানতে পরিনি।
حدثنا هناد، حدثنا ابو الاحوص، عن عطاء بن السايب، عن مرة الهمداني، عن عبد الله بن مسعود، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان للشيطان لمة بابن ادم وللملك لمة فاما لمة الشيطان فايعاد بالشر وتكذيب بالحق واما لمة الملك فايعاد بالخير وتصديق بالحق فمن وجد ذلك فليعلم انه من الله فليحمد الله ومن وجد الاخرى فليتعوذ بالله من الشيطان الرجيم ثم قرا : (الشيطان يعدكم الفقر ويامركم بالفحشاء ) " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب وهو حديث ابي الاحوص لا نعلمه مرفوعا الا من حديث ابي الاحوص