Loading...

Loading...
বইসমূহ
৭৭৪ হাদিসসমূহ
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মুমিনের দূরদৃষ্টি সম্পর্কে সজাগ থাক। কারণ সে আল্লাহ্ তা'আলার নূরের সাহায্যে দেখে। তারপর তিনি পাঠ করেনঃ “নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের জন্য" (সূরাঃ আল-হিজর— ৭৫)। যঈফ, যঈফা (১৮২১) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। কোন কোন তাফসীরকার আয়াতে উদ্ধৃত “মুতাওয়াসসিমীন" শব্দের অর্থ করেছেন “মুতাফাররিসীন" (দূরদৃষ্টি বা অন্তর দৃষ্টি সম্পন্ন লোক)।
حدثنا محمد بن اسماعيل، حدثنا احمد بن ابي الطيب، حدثنا مصعب بن سلام، عن عمرو بن قيس، عن عطية، عن ابي سعيد الخدري، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اتقوا فراسة المومن فانه ينظر بنور الله " . ثم قرا : ( ان في ذلك لايات للمتوسمين ) . قال ابو عيسى هذا حديث غريب انما نعرفه من هذا الوجه وقد روي عن بعض اهل العلم في تفسير هذه الاية : ( ان في ذلك لايات للمتوسمين ) قال للمتفرسين
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যুহরের (ফরযের) পূর্বে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর যে চার রাকাআত নামায (আদায় করা হয়, সাওয়াবের দিক হতে) তা শেষ রাতের চার রাকাআত নামাযের মত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এমন কোন জিনিস নেই যা ঐ সময় আল্লাহ্ তা'আলার গুণগান করে না। তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেনঃ “এর ছায়া ডানে ও বায়ে ঢলে পড়ে আল্লাহ তা'আলার প্রতি বিনীতভাবে সিজদাবনত হয়...." (সূরাঃ আন-নাহল- ৪৮-৫০) ..... আয়াতের শেষ পর্যন্ত। যঈফ, সহীহা (১৪৩১) নং হাদীসের অধীনে আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আলী ইবনু আসিমের সূত্র ব্যতীত এটি প্রসঙ্গে আমরা কিছু জানি না।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا علي بن عاصم، عن يحيى البكاء، حدثني عبد الله بن عمر، قال سمعت عمر بن الخطاب، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اربع قبل الظهر بعد الزوال تحسب بمثلهن في صلاة السحر " . قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " وليس من شيء الا وهو يسبح الله تلك الساعة " . ثم قرا : ( يتفيا ظلاله عن اليمين والشمايل سجدا لله ) الاية كلها . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من حديث علي بن عاصم
। উবাই ইবনু কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধে চৌষট্টিজন আনসার ও ছয়জন মুহাজির শাহাদাত বরণ করেন। তাদের মধ্যে হামযাহ (রাযিঃ)-ও ছিলেন। কাফিররা তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্তন করে লাশ বিকৃত করেছিল। আনসারগণ বলেন, আমরা যদি এসব কাফিরকে কোন দিন কাবু করতে পারি তাহলে তাদের উপর এর দ্বিগুণ বদলা নেব। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর যখন মক্কা বিজয়ের দিন আসলো তখন আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেন (অনুবাদ) “যদি তোমরা শাস্তি দাওই তবে ঠিক ততখানি শাস্তি দিবে যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর তবে ধৈর্যশীলদের জন্য তাইতো উত্তম"- (সূরা আন-নাহল ১২৬)। তখন এক ব্যক্তি বলল, আজকের পর হতে কুরাইশদের নাম থাকবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ চার ব্যক্তি ব্যতীত অন্য লোকদের হত্যা করা হতে তোমরা বিরত থাক। সনদ হাসান সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসেবে গারীব।
حدثنا ابو عمار الحسين بن حريث، حدثنا الفضل بن موسى، عن عيسى بن عبيد، عن الربيع بن انس، عن ابي العالية، قال حدثني ابى بن كعب، قال لما كان يوم احد اصيب من الانصار اربعة وستون رجلا ومن المهاجرين ستة فيهم حمزة فمثلوا بهم فقالت الانصار لين اصبنا منهم يوما مثل هذا لنربين عليهم قال فلما كان يوم فتح مكة فانزل الله ( وان عاقبتم فعاقبوا بمثل ما عوقبتم به ولين صبرتم لهو خير للصابرين ) فقال رجل لا قريش بعد اليوم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كفوا عن القوم الا اربعة " . قال هذا حديث حسن غريب من حديث ابى بن كعب
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে রাতে আমাকে (উর্ধ্বজগতে) ভ্রমণ করানো হয় সে রাতে আমি মূসা (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করি। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূসা ("আঃ)-এর দৈহিক গঠনাকৃতির বর্ণনা দেন। (তিনি বলেনঃ) তিনি এমন এক ব্যক্তি যার দেহ মধ্যমাকৃতির, তার চুল মধ্যম গোছের, খুব কোকড়ানোও নয়, আবার একেবারে সোজাও নয়। মনে হয় তিনি শানুআহ বংশের লোক। তিনি আরো বলেনঃ ঈসা (আঃ)-এর সাথেও আমি সাক্ষাৎ করলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তার চেহারারও বর্ণনা দিলেন তিনি। তার দেহের গড়ন মধ্যম, শরীরের রং লাল এবং মনে হয় তিনি এইমাত্র গোসলখানা হতে বের হয়েছেন। ইবরাহীম (আঃ)-কেও আমি দেখেছি। তার বংশধরের মধ্যে আমিই তার দৈহিক আকৃতিতে সর্বাধিক সদৃশ। আমার সামনে দুটি পানপত্র পেশ করা হয়ঃ একটি দুধের এবং অন্যটি মদের। আমাকে বলা হল, আপনি এ দু'টির মধ্যে যেটা পান করতে চান সেটা নিন। আমি দুধের পাত্রটি নিয়ে তা পান করলাম। তারপর আমাকে বলা হল, আপনাকে ফিতরাতের (ইসলামের) পথ দেখানো হয়েছে বা আপনি ফিতরাতকে পেয়ে গেছেন। আপনি যদি মদের পাত্র নিতেন তবে আপনার উন্মাত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত। সহীহঃ বুখারী (৪৭০৯), মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، اخبرني سعيد بن المسيب، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " حين اسري بي لقيت موسى . قال فنعته فاذا رجل حسبته قال مضطرب رجل الراس كانه من رجال شنوءة قال ولقيت عيسى . قال فنعته قال ربعة احمر كانما خرج من ديماس يعني الحمام ورايت ابراهيم . قال وانا اشبه ولده به قال واتيت باناءين احدهما لبن والاخر خمر فقيل لي خذ ايهما شيت . فاخذت اللبن فشربته فقيل لي هديت الفطرة او اصبت الفطرة اما انك لو اخذت الخمر غوت امتك " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, যে রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (মিরাজে) ভ্রমণ করানো হয় সে রাতে তার সামনে জিনপোষ আটা ও লাগাম বাধা একটি বোরাক আনা হয়। বোরাক তার পিঠে সাওয়ার হওয়াটা তার জন্য অসম্ভব করে তুললে জিবরীল (আঃ) তাকে বললেন, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কেন এ রকম আচরণ করছ? অথচ আল্লাহ তা'আলার সমীপে তার চেয়ে বেশি সম্মানিত কেউ তোমার পিঠে সওয়ার হয়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এতে বোরাক ঘৰ্মাক্ত হয়ে যায়। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এটিকে আমরা শুধুমাত্র 'আবদুর রাজ্জাকের বর্ণিত হাদীস হিসেবেই জানি।
حدثنا اسحاق بن منصور، اخبرنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن قتادة، عن انس، ان النبي صلى الله عليه وسلم اتي بالبراق ليلة اسري به ملجما مسرجا فاستصعب عليه فقال له جبريل ابمحمد تفعل هذا فما ركبك احد اكرم على الله منه قال " فارفض عرقا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب ولا نعرفه الا من حديث عبد الرزاق
। আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমরা যখন বাইতুল মাকদিসে পৌঁছলাম, তখন জিবরীল (আঃ) তার আঙ্গুল দিয়ে পাথর ফাটান এবং তার সাথে বোরাক বাঁধেন। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا يعقوب بن ابراهيم الدورقي، حدثنا ابو تميلة، عن الزبير بن جنادة، عن ابن بريدة، عن ابيه، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لما انتهينا الى بيت المقدس قال جبريل باصبعه فخرق به الحجر وشد به البراق " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরাইশরা যখন আমাকে মিথ্যা মনে করল (এবং বলল, আপনার মিরাজে যাওয়ার দাবি সত্য হলে বাইতুল মাকদিসের একটি বর্ণনা দিন)। আমি হাজারে (হাতীমে) দাঁড়ালাম এবং আল্লাহ তা'আলা আমার সামনে বাইতুল মাকদিসের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরলেন। আমি তাদের সামনে এর নিদর্শনসমূহের বর্ণনা দিলাম। মনে হল আমি যেন বাইতুল মাকদিসকেই দেখছি। সহীহঃ তাখরাজু ফিকহিস সীরাহ (১৪৫), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মালিক ইবনু সা'সাহ, আবূ সাঈদ ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن عقيل، عن الزهري، عن ابي سلمة، عن جابر بن عبد الله، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لما كذبتني قريش قمت في الحجر فجلا الله لي بيت المقدس فطفقت اخبرهم عن اياته وانا انظر اليه " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وفي الباب عن مالك بن صعصعة وابي سعيد وابن عباس وابي ذر وابن مسعود
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “তোমাকে আমরা চাক্ষুষভাবে যা দেখালাম তা এই লোকদের জন্য একটি পরীক্ষার বস্তু বানিয়ে রেখেছি”— (সূরা বনী ইসরাঈল ৬০)। আয়াতে উল্লেখিত “রুইয়া” প্রসঙ্গে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, এটা ছিল চাক্ষুস দর্শন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাতের বেলা (মিরাজের সময়) বাইতুল মাকদিসে নিয়ে গিয়ে তা (যাবতীয় নিদর্শন) দেখানো হয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন, "কুরআনে উল্লেখিত অভিশপ্ত গাছটি"- (সূরা বনী ইসরাঈল ৬০) হল যাক্কুম গাছ। সহীহঃ বুখারী (৪৭১০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، عن عكرمة، عن ابن عباس، في قوله: ( وما جعلنا الرويا التي اريناك الا فتنة للناس ) قال هي رويا عين اريها النبي صلى الله عليه وسلم ليلة اسري به الى بيت المقدس . قال : (والشجرة الملعونة في القران ) هي شجرة الزقوم . قال هذا حديث حسن صحيح
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “আর ফজরে কুরআন পাঠের স্থায়ী নীতি অবলম্বন কর। কেননা ফজরের কুরআন পাঠে উপস্থিত থাকা হয়"- (সূরা বনী ইসরাঈল ৭৮)। এ আয়াত প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ সময় রাতের ফেরেশতারা এবং দিনের ফেরেশতারা উপস্থিত হয়। সনদ সহীহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি আলী ইবনু মুসহির আমাশ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে তিনি আবূ হুরাইরাহ ও আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এটি ‘আলী ইবনু হুজুর আলী ইবনু মুসহির হতে, তিনি আমাশ হতে ...... . অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
حدثنا عبيد بن اسباط بن محمد، - قرشي كوفي حدثنا ابي، عن الاعمش، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله : ( وقران الفجر ان قران الفجر كان مشهودا ) قال " تشهده ملايكة الليل وملايكة النهار " . قال هذا حديث حسن صحيح . وروى علي بن مسهر، عن الاعمش، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، وابي، سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه . حدثنا بذلك، علي بن حجر حدثنا علي بن مسهر، عن الاعمش، فذكر نحوه
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “সেদিন আমরা সব মানুষকে তাদের নেতাসহ আহবান করব।” (সূরা বনী ইসরাঈল- ৭১), এ আয়াত প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (মুসলিম নেতাদের) একজনকে ডাকা হবে। তার কিতাব (আমলনামা বা কার্যবিবরণী) তার ডান হাতে দেয়া হবে। তার দেহ ষাট গজ লম্বা করা হবে। তার মুখমণ্ডল সাদা (আকর্ষণীয়) করা হবে। তার মাথায় মনিমুক্তার টুপি পরানো হবে এবং তা ঝিলকাতে থাকবে। সে তার সঙ্গীদের কাছে আসবে। তারা দূর হতেই তাকে দেখতে পাবে। তারা বলবে, "হে আল্লাহ! আমাদেরকেও এরূপ দান কর এবং এর মাধ্যমে বারকাত দান কর।” ইতিমধ্যে সে তাদের নিকটে পৌছে যাবে এবং তাদেরকে বলবে, তোমাদের জন্য সুসংবাদ। তোমাদের প্রত্যেকের জন্য এরূপ পুরস্কার আছে। অপর দিকে কাফিরদের নেতার শরীরের রং কালো হবে। তার দেহ আদম আলাইহিস সালাম-এর মতই ষাট গজ লম্বা করা হবে। তাকেও একটি টুপি পরানো হবে। তার সঙ্গীরা দূর হতে তাকে দেখে বলবে, “আমরা এর অনিষ্ট থেকে আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! তাকে আমাদের নিকট ফিরিয়ে দিও না। এমতাবস্থায় সে তাদের নিকট এসে যাবে, আর তারা বলতে থাকবে, তুমি তাকে লাঞ্ছিত কর।” তারপর সে বলবে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে অপমান করুন। কেননা তোমাদের প্রত্যেককে এভাবেই লাঞ্ছিত করা হবে। সনদ দুর্বল আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। সুদ্দীর নাম ইসমাঈল ইবনু আবদুর রহমান।
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا عبيد الله بن موسى، عن اسراييل، عن السدي، عن ابيه، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم في قول الله : ( يوم ندعو كل اناس بامامهم ) قال " يدعى احدهم فيعطى كتابه بيمينه ويمد له في جسمه ستون ذراعا ويبيض وجهه ويجعل على راسه تاج من لولو يتلالا فينطلق الى اصحابه فيرونه من بعيد فيقولون اللهم ايتنا بهذا وبارك لنا في هذا حتى ياتيهم فيقول ابشروا لكل رجل منكم مثل هذا . قال واما الكافر فيسود وجهه ويمد له في جسمه ستون ذراعا على صورة ادم فيلبس تاجا فيراه اصحابه فيقولون نعوذ بالله من شر هذا اللهم لا تاتنا بهذا . قال فياتيهم فيقولون اللهم اخزه . فيقول ابعدكم الله فان لكل رجل منكم مثل هذا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . والسدي اسمه اسماعيل بن عبد الرحمن
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আল্লাহ তা'আলার বাণী (অনুবাদ) “আশা করা যায় যে, তোমার প্রতিপালক তোমাকে মাকামে মাহমুদে পৌছে দিবেন”— (সূরা বনী ইসরাঈল ৭৯) প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হল। তিনি বললেনঃ এটা শাফা’আত। সহীহঃ সহীহাহ (২৬৩৯, ২৩৭০), আয যিলা-ল (৭৮৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। দাউদ আয-যাআফির হলেন দাউদ আল-আওদী, ইবনু ইয়াযীদ ইবনু আবদুল্লাহ। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীসের চাচা।
حدثنا ابو كريب، حدثنا وكيع، عن داود بن يزيد الزعافري، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في قوله : ( عسى ان يبعثك ربك مقاما محمودا ) سيل عنها قال " هي الشفاعة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وداود الزعافري هو داود الاودي ابن يزيد بن عبد الرحمن وهو عم عبد الله بن ادريس
। ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় প্রবেশ করলেন। তখন কা'বার চারপাশে তিন শত ষাটটি মূর্তি স্থাপিত ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাতের লাঠি বা কাঠ দিয়ে মূর্তিগুলোর গায়ে আঘাত করে সেগুলোকে ভূপাতিত করছিলেন আর বলছিলেনঃ সত্য সমাগত, মিথ্যা অপসৃত। আর বাতিলের বিলুপ্তি অবশ্যম্ভাবী"- (সূরা বনী ইসরাঈল ৮১)। "সত্য সমাগত এবং অসত্য কিছুই সৃজন করতে পারে না এবং তা পুনরাবৃত্তিও করতে পারে না”— (সূরা সাবা ৪৯)। সহীহঃ বুখারী (৪৭২০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনু উমর (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان، عن ابن ابي نجيح، عن مجاهد، عن ابي معمر، عن ابن مسعود، قال دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم مكة عام الفتح وحول الكعبة ثلاثماية وستون نصبا فجعل النبي صلى الله عليه وسلم يطعنها بمخصرة في يده وربما قال بعود ويقول : (جاء الحق وزهق الباطل ان الباطل كان زهوقا ) : (جاء الحق وما يبدي الباطل وما يعيد ) . قال هذا حديث حسن صحيح وفيه عن ابن عمر
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় অবস্থান করছিলেন। তারপর তাকে (মাদীনায়) হিজরাতের হুকুম দেয়া হয়। তখন তার উপর এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “আর বলুনঃ হে আমার রব! আমাকে দাখিল করাও কল্যাণের সাথে এবং আমাকে বের করাও কল্যাণের সাথে এবং তোমার পক্ষ হতে আমাকে দান কর সাহায্যকারী শক্তি" (সূরাঃ বাণী ইসরাঈল- ৮০) সনদ দুর্বল। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا جرير، عن قابوس بن ابي ظبيان، عن ابيه، عن ابن عباس، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم بمكة ثم امر بالهجرة فنزلت عليه : ( قل رب ادخلني مدخل صدق واخرجني مخرج صدق واجعل لي من لدنك سلطانا نصيرا ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরাইশরা ইয়াহুদীদের বলল, তোমরা আমাদেরকে এমন কিছু শিখিয়ে দাও যে প্রসঙ্গে আমরা এই ব্যক্তিকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) প্রশ্ন করতে পারি। ইয়াহুদীরা বলল, তোমরা রূহ প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন কর। বর্ণনাকারী বলেনঃ তারা রূহ (বা প্রাণ) বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করল। তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “লোকেরা রূহ প্রসঙ্গে তোমার নিকট প্রশ্ন করে। বল, রূহ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত। জ্ঞানের খুব সামান্যই তোমাদেরকে প্রদান করা হয়েছে"- (সূরা বনী ইসরাঈল ৮৫)। ইয়াহুদীরা বলল, “আমাদের বিরাট বা প্রচুর জ্ঞান দান করা হয়েছে। আমাদেরকে তাওরাত কিতাব দেয়া হয়েছে। আর যাদেরকে তাওরাত গ্রন্থ দেয়া হয়েছে তাদেরকে প্রভূত কল্যাণ দেয়া হয়েছে। এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “বল, আমার প্রতিপালকের কথাগুলো লেখার জন্য সমুদ্রের সমস্ত পানি যদি কালি হয়ে যায় তবুও তা আমার প্রভুর কথাগুলো লিখে শেষ করার পূর্বেই নিঃশেষ হয়ে যবে। আমরা যদি আবার একই রকম কালি নিয়ে আসি তুবও তা যথেষ্ট হবে না"- (সূরা কাহফ ১০৯)। সহীহঃ আত্তা’লীকাত আল-হাসসান (৯৯) আবূ ঈসা বলেন, উল্লেখিত সনদসূত্রে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
حدثنا قتيبة، حدثنا يحيى بن زكريا بن ابي زايدة، عن داود بن ابي هند، عن عكرمة، عن ابن عباس، قال قالت قريش ليهود اعطونا شييا نسال عنه هذا الرجل فقال سلوه عن الروح قال فسالوه عن الروح فانزل الله : (و يسالونك عن الروح قل الروح من امر ربي وما اوتيتم من العلم الا قليلا ) قالوا اوتينا علما كثيرا التوراة ومن اوتي التوراة فقد اوتي خيرا كثيرا فانزلت: ( قل لو كان البحر مدادا لكلمات ربي لنفد البحر ) الى اخر الاية . قال هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মাদীনায় একটি কৃষি খামারে যাচ্ছিলাম। তিনি খেজুর গাছের ডালে ভর দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে তিনি একদল ইয়াহুদীদেরকে অতিক্রম করলেন। তাদের কিছু লোক বলল, তোমরা যদি তাকে প্রশ্ন করতে? তাদের অপর কতক বলল, তাকে কোন প্রশ্ন করো না। অন্যথায় তিনি এমন কিছু শুনিয়ে দিবেন যা তোমাদের মনোপূত হবে না। তারা বলল, হে আবূল কাসিম! আমাদেরকে রূহ (প্রাণ) প্রসঙ্গে বলুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ দাঁড়ালেন। তিনি তার মাথা আসমানের দিকে উঠালেন। আমি বুঝে ফেললাম যে, তার উপর ওয়াহী অবতীর্ণ হচ্ছে। ওয়াহী অবতরণ শেষে তিনি বললেনঃ “রূহ আমার প্রতিপালকের হুকুম মাত্র। তোমাদেরকে জ্ঞানের খুব অল্পই প্রদান করা হয়েছে"। সহীহঃ বুখারী (৪৭২১), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا علي بن خشرم، اخبرنا عيسى بن يونس، عن الاعمش، عن ابراهيم، عن علقمة، عن عبد الله، قال كنت امشي مع النبي صلى الله عليه وسلم في حرث بالمدينة وهو يتوكا على عسيب فمر بنفر من اليهود فقال بعضهم لو سالتموه فقال بعضهم لا تسالوه فانه يسمعكم ما تكرهون . فقالوا له يا ابا القاسم حدثنا عن الروح . فقام النبي صلى الله عليه وسلم ساعة ورفع راسه الى السماء فعرفت انه يوحى اليه حتى صعد الوحى ثم قال : (الروح من امر ربي وما اوتيتم من العلم الا قليلا ) . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন লোকদেরকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করে উঠানো হবে। একদল লোক পায়ে হেঁটে, দ্বিতীয় দল সাওয়ারী অবস্থায় এবং তৃতীয় দল অধঃমুখে (এবং পা উপরে তুলে) হাযির হবে। প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! এরা মুখমণ্ডলে ভর করে চলবে কিভাবে? তিনি বললেনঃ যে মহান সত্তা তাদেরকে পায়ের সাহায্যে হাটিয়ে ছিলেন, তিনি তাদেরকে মুখমণ্ডলে ভর করে হাটাতেও সক্ষম। এরা নিজেদের মুখের দ্বারা প্রতিটি উচু-নীচু ও কাটা উপেক্ষা করে রাস্তা পার হবে। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৫৫৪৬), তা’লীকুর রাগীব (৪/১৯৪) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। উহাইব (রাহঃ) ইবনু তাউসের সূত্রে, তিনি তার পিতা হতে আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا الحسن بن موسى، وسليمان بن حرب، قالا حدثنا حماد بن سلمة، عن علي بن زيد، عن اوس بن خالد، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يحشر الناس يوم القيامة ثلاثة اصناف صنفا مشاة وصنفا ركبانا وصنفا على وجوههم " . قيل يا رسول الله وكيف يمشون على وجوههم قال " ان الذي امشاهم على اقدامهم قادر على ان يمشيهم على وجوههم اما انهم يتقون بوجوههم كل حدب وشوك " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وقد روى وهيب عن ابن طاوس عن ابيه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم شييا من هذا
বাহয ইবনু হাকীম (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত, তিনি (দাদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে তোমাদেরকে পদব্রজে ও সওয়ারী অবস্থায় সমবেত করা হবে এবং কতককে মুখের উপর (উপুড় করে) হেঁচড়িয়ে হাযির করা হবে। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا بهز بن حكيم، عن ابيه، عن جده، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انكم محشورون رجالا وركبانا ويجرون على وجوهكم " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن
সাফওয়ান ইবনু আসসাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ কোন এক সময় দুই ইয়াহদীর একজন অপরজনকে বলল, চল আমরা এই নবীর কাছে গিয়ে তাকে কিছু প্রশ্ন করি। অপরজন বললঃ তাকে নবী বল না। কেননা সে যদি এটা শুনে ফেলে যে, তুমি (ইয়াহুদীরাও) তাকে নবী বলছ, তার চার চোখ হয়ে যাবে। তারা উভয়ে তার নিকটে এসে তাকে আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণী প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেঃ “আমরা মূসাকে নয়টি নিদর্শন দান করেছিলাম" (সূরাঃ বাণী ইসরাঈল১০১)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সেই নয়টি নিদর্শন (নির্দেশ) হচ্ছেঃ (১) তোমরা আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কোন কিছু অংশীদার করো না, (২) যেনা-ব্যভিচার করো না, (৩) যাকে হত্যা করা আল্লাহ তা'আলা নিষিদ্ধ করেছেন ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া তার জীবন সংহার করো না, (৪) চুরি করো না, (৫) যাদুটোনা করো না, (৬) কোন নিরপরাধ লোককে সরকারের কাছে অপরাধী বানিয়ে খুন করতে নিয়ে যেও না, (৭) সুদ খেও না, (৮) কোন সতী- সাধ্বী মহিলার বিরুদ্ধে যেনার মিথ্যা অপবাদ দিও না এবং (৯) যুদ্ধক্ষেত্র হতে পালিয়ে যেও না।হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! বিশেষ করে তোমরা শনিবারের বাধ্যবাধকতা অতিক্রম করো না। তারপর ইয়াহুদী শ্রোতা দু'জন তার পা দুটিতে ও হাত দুটিতে চুমা দিয়ে বললঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিঃসন্দেহে আপনি নবী। তিনি বললেনঃ তাহলে তোমাদের দু’জনকে ইসলাম গ্রহণে কিসে বাধা দিচ্ছে? তারা উভয়ে বললঃ দাউদ আলাইহিস সালাম আল্লাহ তা'আলার নিকটে দু'আ করেছিলেন তিনি যেন বরাবর তার বংশধরদের মধ্য হতেই নবী পাঠান। অনন্তর আমাদের আশংকা হচ্ছে, আমরা যদি ইসলাম কুবুল করি তাহলে ইয়াহুদীরা আমাদেরকে মেরে ফেলবে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩৭০৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، ويزيد بن هارون، وابو الوليد، واللفظ، لفظ يزيد والمعنى واحد عن شعبة، عن عمرو بن مرة، عن عبد الله بن سلمة، عن صفوان بن عسال المرادي، ان يهوديين، قال احدهما لصاحبه اذهب بنا الى هذا النبي نساله فقال لا تقل له نبي فانه ان سمعنا نقول نبي كانت له اربعة اعين فاتيا النبي صلى الله عليه وسلم فسالاه عن قول الله عز وجل : ( ولقد اتينا موسى تسع ايات بينات ) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا تشركوا بالله شييا ولا تزنوا ولا تقتلوا النفس التي حرم الله الا بالحق ولا تسرقوا ولا تسحروا ولا تمشوا ببريء الى سلطان فيقتله ولا تاكلوا الربا ولا تقذفوا محصنة ولا تفروا من الزحف شك شعبة وعليكم اليهود خاصة ان لا تعدوا في السبت " . فقبلا يديه ورجليه وقالا نشهد انك نبي . قال " فما يمنعكما ان تسلما " . قالا ان داود دعا الله ان لا يزال في ذريته نبي وانا نخاف ان اسلمنا ان تقتلنا اليهود . قال هذا حديث حسن صحيح
ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “তোমার নামাযে স্বর (কিরআত) উচ্চ করো না এবং অতিশয় ক্ষীণও করো না”— (সূরা বনী ইসরাঈল ১১০) মক্কায় অবতীর্ণ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চ স্বরে কুরআন তিলাওয়াত করলে মুশরিকরা কুরআনকে গালি দিত এবং এর অবতীর্ণকারী (আল্লাহ তা'আলা) ও এর বাহককেও (জিবরীলকে) গালি দিত। তারপর আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “তোমার নামাযের কিরআত উচ্চস্বরে পাঠ করো না” অর্থাৎ আপনি উচ্চ স্বরে কুরআন পাঠ করবেন না, অন্যথায় কুরআন, এর অবতরণকারী ও এর বাহককে গালি দেয়া হবে। “এবং তা ক্ষীণস্বরেও পড়বে না", তাহলে আপনার সাথীরা শুনতে পাবে না, (বরং মধ্যম আওয়াজে তা পাঠ করুন) যাতে তারা আপনার নিকট হতে কুরআন শিখতে পারে। সহীহঃ বুখারী (৪৭২২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا سليمان بن داود، عن شعبة، عن ابي بشر، عن سعيد بن جبير، ولم يذكر عن ابن عباس، وهشيم، عن ابي بشر، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس : (ولا تجهر بصلاتك ) قال نزلت بمكة كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا رفع صوته بالقران سبه المشركون ومن انزله ومن جاء به فانزل الله : (ولا تجهر بصلاتك ) فيسبوا القران ومن انزله ومن جاء به : (ولا تخافت بها ) عن اصحابك بان تسمعهم حتى ياخذوا عنك القران . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ “তোমার নামাযের কিরআত না উচ্চস্বরে পড়বে, আর না নিম্ন স্বরে, এ দুইয়ের মধ্যবর্তী মাত্রার আওয়াজ অবলম্বন কর”— (সূরা বনী ইসরাঈল ১১০) অবতীর্ণ হওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় আত্মগোপন করে ছিলেন। তিনি তার সাহাবীদের নিয়ে নামায আদায়ের সময় উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করতেন। মুশরিকরা তা শুনতে পেয়ে কুরআনকে, এর অবতরণকারীকে এবং এর বাহককে গালি দিত। অতএব আল্লাহ তা'আলা তার নবীকে বললেনঃ “তোমার নামাযে উচ্চস্বরে কিরআত পাঠ করো না”, কারণ মুশরিকরা তা শুনে কুরআনকে গালি দেয়। “আবার এত নীচু স্বরেও পড়বে না”, যাতে তোমার সাহাবীদের শুনতে অসুবিধা হয়, বরং “এই দুইয়ের মধ্যবর্তী মাত্রার আওয়াজ অবলম্বন কর”। সহীহঃ বুখারী (৪৭২২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا هشيم، حدثنا ابو بشر، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس، في قوله : (ولا تجهر بصلاتك ولا تخافت بها وابتغ بين ذلك سبيلا ) قال نزلت ورسول الله صلى الله عليه وسلم مختف بمكة وكان اذا صلى باصحابه رفع صوته بالقران فكان المشركون اذا سمعوه شتموا القران ومن انزله ومن جاء به فقال الله لنبيه : (ولا تجهر بصلاتك ) اى بقراءتك فيسمع المشركون فيسبوا القران : (ولا تخافت بها ) عن اصحابك : ( وابتغ بين ذلك سبيلا ) . هذا حديث حسن صحيح