Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫২ হাদিসসমূহ
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন কিয়ামত দিবসে হাযির হয়ে বলবে, হে আমার প্রভু! একে (কুরআনের বাহককে) অলংকার পরিয়ে দিন। তারপর তাকে সম্মান ও মর্যাদার মুকুট পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার প্রভু! তাকে আরো পোশাক দিন। সুতরাং তাকে মর্যাদার পোশাক পরানো হবে। সে আবার বলবে, হে আমার প্রভু! তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। কাজেই তিনি তার উপর সন্তুষ্ট হবেন। তারপর তাকে বলা হবে, তুমি এক এক আয়াত পাঠ করতে থাক এবং উপরের দিকে উঠতে থাক। এমনিভাবে প্রতি আয়াতের বিনিময়ে তার একটি করে সাওয়াব (মর্যাদা) বাড়ানো হবে। হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (২/২০৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শু'বাহ হতে, তিনি আসিম ইবনু বাহদালা হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের সমর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি এ সূত্রে মারফুরূপে বর্ণনা করেননি। আবূ ঈসা বলেন, ‘আবদুস সামাদ হতে শুবাহ (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসের তুলনায় এটিই আমাদের মতে অনেক বেশী সহীহ। বুনদার আবদুর রাহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি সুফইয়ান হতে, তিনি আসিমের সূত্রে উপরে বর্ণিত হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন।
حدثنا نصر بن علي الجهضمي، قال حدثنا عبد الصمد بن عبد الوارث، قال اخبرنا شعبة، عن عاصم، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " يجيء القران يوم القيامة فيقول يا رب حله فيلبس تاج الكرامة ثم يقول يا رب زده فيلبس حلة الكرامة ثم يقول يا رب ارض عنه فيرضى عنه فيقال له اقرا وارق ويزاد بكل اية حسنة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . حدثنا محمد بن بشار، قال حدثنا محمد بن جعفر، قال حدثنا شعبة، عن عاصم بن بهدلة، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، نحوه ولم يرفعه . قال ابو عيسى وهذا اصح عندنا من حديث عبد الصمد عن شعبة
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের সকল সাওয়াব আমার সামনে উপস্থাপন করা হয়, এমনকি মাসজিদ হতে জঞ্জাল দূর করার সাওয়াবও। আমার উম্মাতের গুনাহসমূহও আমার সামনে উপস্থাপন করা হয়। কাউকে কুরআনের কোন সূরা বা আয়াত প্রদান করার পর তা বিস্মৃত হওয়ার চাইতে বড় গুনাহ আমি আর দেখিনি। যঈফ, মিশকাত (৭২০), রওযুননায়ীর (৭২), যঈফ, আবূ দাউদ (৭১) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলের নিকট এ হাদীস উল্লেখ করলে তিনি তার অজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং হাদীসটিকে গারীব সংজ্ঞায়িত করেন। মুহাম্মাদ আরো বলেনঃ মুত্তালিব ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হানতাব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের কারো নিকট হতে সোজাসুজি কিছু শুনেছেন বলে আমার জানা নেই। তার নিম্নোক্ত কথাটি ভিন্নঃ “যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষণে হাজির ছিলেন তিনি আমাকে বলেছেন" (এ কথা তার কোন সাহাবীর সাক্ষাত লাভ প্রমাণ করে, এ ছাড়া আর কোন দলিল পাওয়া যায় না)। আমি আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমানকে বলতে শুনেছি, মুত্তালিব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন সাহাবীর নিকট সোজাসুজি কিছু শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আবদুল্লাহ (রহঃ) আরও বলেনঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর নিকট মুত্তালিবের সরাসরি শোনার বিষয়টি আলী ইবনুল মাদীনী প্রত্যাখ্যান করেছেন।
حدثنا عبد الوهاب بن الحكم الوراق البغدادي، قال حدثنا عبد المجيد بن عبد العزيز، عن ابن جريج، عن المطلب بن عبد الله بن حنطب، عن انس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " عرضت على اجور امتي حتى القذاة يخرجها الرجل من المسجد وعرضت على ذنوب امتي فلم ار ذنبا اعظم من سورة من القران او اية اوتيها رجل ثم نسيها " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه . قال وذاكرت به محمد بن اسماعيل فلم يعرفه واستغربه . قال محمد ولا اعرف للمطلب بن عبد الله بن حنطب سماعا من احد من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم الا قوله حدثني من شهد خطبة النبي صلى الله عليه وسلم . قال وسمعت عبد الله بن عبد الرحمن يقول لا نعرف للمطلب سماعا من احد من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم . قال عبد الله وانكر علي بن المديني ان يكون المطلب سمع من انس
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা তিনি জনৈক কুরআন তিলাওয়াতকারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকটি তখন কুরআন পাঠ করতে করতে (মানুষের নিকট) ভিক্ষা করছিল। তিনি “ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন” পাঠ করে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ কুরআন তিলাওয়াতকারী ব্যক্তি যেন এর দ্বারা শুধু আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা করে। কেননা অচিরেই এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা কুরআন পাঠের মাধ্যমে মানুষের নিকট ভিক্ষা করবে। হাসানঃ সহীহাহ (২৫৭)। মাহমুদ (রাহঃ) বলেন, এই খাইসামা আল-বাসর যার নিকট হতে জাবির আল-জুকী হাদীস বর্ণনা করেছেন ইনি খাইসামা ইবনু আবদুর রাহমান নন। এই খাইসামা হলেন বাসরার শাইখ এবং তার উপনাম আবূ নাসর। তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে কিছু হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। জাবির আল-জুকী এই খাইসামা হতেও হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এটির সানাদ তেমন শক্তিশালী নয়।
حدثنا محمود بن غيلان، قال حدثنا ابو احمد، قال حدثنا سفيان، عن الاعمش، عن خيثمة، عن الحسن، عن عمران بن حصين، انه مر على قارىء يقرا ثم سال فاسترجع ثم قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " من قرا القران فليسال الله به فانه سيجيء اقوام يقرءون القران يسالون به الناس " . وقال محمود هذا خيثمة البصري الذي روى عنه جابر الجعفي وليس هو خيثمة بن عبد الرحمن وخيثمة هذا شيخ بصري يكنى ابا نصر قد روى عن انس بن مالك احاديث وقد روى جابر الجعفي عن خيثمة هذا ايضا احاديث . قال ابو عيسى هذا حديث حسن ليس اسناده بذاك
। সুহাইব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআনের হারামসমূহকে হালাল মনে করে সে কুরআনের প্রতি ঈমান আনেনি। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (২২০৩) আবূ ঈসা বলেনঃ উক্ত হাদীসের সনদ তেমন মজবুত নয়। ওয়াকীর রিওয়ায়াতের বিরোধিতা করা হয়েছে। মুহাম্মাদ বলেনঃ আবূ ফারওয়া ইয়াযীদ ইবনু সিনান আর-রাহাবীর হাদীস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। তবে তার পুত্র মুহাম্মাদ তার সূত্রে যে রিওয়ায়াত করেছেন সেগুলোর বক্তব্য আলাদা। কারণ তিনি তার আব্বার বরাতে অনেক মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু সিনান তার আব্বার সূত্রে এ হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন এবং তার সনদে মুজাহিদ-সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব-সুহাইব (রাহঃ) অতিরিক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়ামীদের রিওয়ায়াতের সমর্থক কোন রিওয়ায়াত নেই। ইনি একজন দুর্বল রাবী। আর আবূল মুবারাক একজন অপরিচিত ব্যক্তি।
حدثنا محمد بن اسماعيل الواسطي، قال حدثنا وكيع، قال حدثنا ابو فروة، يزيد بن سنان عن ابي المبارك، عن صهيب، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما امن بالقران من استحل محارمه " . قال ابو عيسى هذا حديث ليس اسناده بالقوي وقد خولف وكيع في روايته . وقال محمد ابو فروة يزيد بن سنان الرهاوي ليس بحديثه باس الا رواية ابنه محمد عنه فانه يروي عنه مناكير . قال ابو عيسى وقد روى محمد بن يزيد بن سنان عن ابيه هذا الحديث فزاد في هذا الاسناد عن مجاهد عن سعيد بن المسيب عن صهيب ولا يتابع محمد بن يزيد على روايته وهو ضعيف وابو المبارك رجل مجهول
। উকবাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ প্রকাশ্যে কুরআন পাঠকারী প্রকাশ্যে দান-খাইরাতকারীর সমতুল্য এবং গোপনে কুরআন পাঠকারী গোপনে দান-খাইরাতকারীর সমতুল্য। সহীহঃ মিশকাত তাহকীকু সানী (২২০২), সহীহ আবূ দাউদ (১২০৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসের অর্থ হল গোপনে কুরআন পাঠকারীই প্রকাশ্যে পাঠকারীর চাইতে উত্তম। কেননা আলিমদের মতে প্রকাশ্যে (ঐচ্ছিক) দান-খাইরাতের তুলনায় গোপনে দান করা উত্তম। বিশেষজ্ঞ আলিমগণের মতে, হাদীসের তাৎপর্য এই যে, পাঠক যেন অহংকার হতে বেঁচে থাকে। আর যে আমল গোপনে করা হয়, তাতে অহংকারের ততটা আশংকা থাকে না যতটা থাকে প্রকাশ্যে ‘আমল করার মধ্যে।
حدثنا الحسن بن عرفة، قال حدثنا اسماعيل بن عياش، عن بحير بن سعد، عن خالد بن معدان، عن كثير بن مرة الحضرمي، عن عقبة بن عامر، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " الجاهر بالقران كالجاهر بالصدقة والمسر بالقران كالمسر بالصدقة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . ومعنى هذا الحديث ان الذي يسر بقراءة القران افضل من الذي يجهر بقراءة القران لان صدقة السر افضل عند اهل العلم من صدقة العلانية وانما معنى هذا عند اهل العلم لكى يامن الرجل من العجب لان الذي يسر العمل لا يخاف عليه العجب ما يخاف عليه من علانيته
। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, সূরা বনী ইসরাঈল ও সূরা আয-যুমার তিলাওয়াত না করা পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমাতেন না। সহীহঃ সহীহাহ (৬৪১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবূ লুবাবা একজন বাসরার শাইখ। হাম্মাদ ইবনু যাইদ তার সূত্রে একাধিক হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তার নাম মারওয়ান বলে কথিত। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল উক্ত কথাটি তার কিতাবুত তারীখ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا صالح بن عبد الله، قال حدثنا حماد بن زيد، عن ابي لبابة، قال قالت عايشة كان النبي صلى الله عليه وسلم لا ينام حتى يقرا بني اسراييل والزمر . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب . وابو لبابة شيخ بصري قد روى عنه حماد بن زيد غير حديث ويقال اسمه مروان . اخبرني بذلك محمد بن اسماعيل في كتاب التاريخ
। ইরবায ইবনু সারিয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর পূর্বে মুসাব্বিহাত সূরাসমূহ পাঠ করতেন এবং বলতেনঃ এ আয়াতসমূহের মধ্যে এমন একটি আয়াত আছে, যা হাজার আয়াতের চাইতেও উত্তম। সানাদ দুর্বলঃ তা’লীকুর রাগীব (১/২১০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا علي بن حجر، قال اخبرنا بقية بن الوليد، عن بحير بن سعد، عن خالد بن معدان، عن عبد الله بن ابي بلال، عن عرباض بن سارية، انه حدثه ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يقرا المسبحات قبل ان يرقد ويقول " ان فيهن اية خير من الف اية " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب
। মাকিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি সকালে উপস্থিত হয়ে তিনবার "আউযু বিল্লাহিস সামীঈল আলীমি মিনাশ শাইতানির রাজীম" তারপর সুরা আল হাশরের শেষের তিন আয়াত পাঠ করবে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য সত্তর হাজার ফিরিশতা নিয়োজিত করবেন। তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য দু'আ করতে থাকবেন। সে ঐ দিন ইন্তেকাল করলে তার শহীদী মৃত্যু হবে। যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এরূপ পাঠ করবে, সেও একই রকম গৌরবের অধিকারী হবে। যঈফ, তা’লীকুর রাগীব (২/২২৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সুত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
حدثنا محمود بن غيلان، قال حدثنا ابو احمد الزبيري، قال حدثنا خالد بن طهمان ابو العلاء الخفاف، قال حدثني نافع بن ابي نافع، عن معقل بن يسار، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من قال حين يصبح ثلاث مرات اعوذ بالله السميع العليم من الشيطان الرجيم وقرا ثلاث ايات من اخر سورة الحشر وكل الله به سبعين الف ملك يصلون عليه حتى يمسي وان مات في ذلك اليوم مات شهيدا ومن قالها حين يمسي كان بتلك المنزلة " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه
ইয়ালা ইবনু মামলাক (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মু সালামা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (রাতের) কিরাআত ও নামায কেমন ছিল? তিনি বললেনঃ তার নামাযের কথা শুনে তোমাদের কি ফায়দা? তিনি যতক্ষণ নামায আদায় করতেন ঠিক ততক্ষণ ঘুমাতেন, আবার উঠে যতক্ষণ ঘুমিয়েছেন ততক্ষণ নামায আদায় করতেন, আবার এ নামাযের সমপরিমাণ সময় ঘুমাতেন। এভাবে তার সকাল হত। তারপর তিনি তার কিরা'আতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ তার পাঠ ছিল অত্যন্ত সহজবোধ্য তিনি প্রতিটি অক্ষর পৃথক করে পরিষ্কারভাবে উচ্চারণ করতেন। যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (২৬০), মিশকাত, তাহকীক ছানী (১২১০) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আমরা শুধুমাত্র লাইস ইবনু সাদের রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস জেনেছি, যা তিনি ইবনু আবূ মুলাইকা হতে তিনি ইয়ালা ইবনু মামলাক হতে তিনি উম্মু সালামা (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনু জুরাইজ উপরোক্ত হাদীসটি ইবনু আবী মুলাইকার সূত্রে উম্মু সালামার বরাতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি শব্দ আলাদা আলাদা করে উচ্চারণ করে কুরআন পাঠ করতেন। লাইস এর রিওয়ায়াতটিই অনেক বেশি সহীহ।
حدثنا قتيبة، قال حدثنا الليث، عن عبد الله بن عبيد الله بن ابي مليكة، عن يعلى بن مملك، انه سال ام سلمة زوج النبي صلى الله عليه وسلم عن قراءة النبي صلى الله عليه وسلم وصلاته فقالت ما لكم وصلاته كان يصلي ثم ينام قدر ما صلى ثم يصلي قدر ما نام ثم ينام قدر ما صلى حتى يصبح ثم نعتت قراءته فاذا هي تنعت قراءة مفسرة حرفا حرفا . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب لا نعرفه الا من حديث ليث بن سعد عن ابن ابي مليكة عن يعلى بن مملك عن ام سلمة . وقد روى ابن جريج هذا الحديث عن ابن ابي مليكة عن ام سلمة ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يقطع قراءته . وحديث ليث اصح
। আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাইস (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিতরের নামায বিষয়ে আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করলাম যে, তিনি কি রাতের প্রথম ভাগে বিতর আদায় করতেন না শেষ ভাগে? তিনি বললেন, তিনি দুই সময়েই তা আদায় করতেন। তিনি কখনো তা রাতের প্রথম ভাগে আদায় করে নিতেন আবার কখনো শেষ রাতে আদায় করতেন। আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি এ ব্যাপারে ব্যাপক সুবিধাজনক ব্যবস্থা রেখেছেন। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তার কিরআত পাঠ কেমন ছিল? তিনি কি তা চুপি চুপি পড়তেন না সশব্দে পড়তেন? তিনি বললেন, উভয়ভাবেই পড়তেন। কখনো তিনি তা চুপি চুপি পড়তেন, আবার কখনো সশব্দে পড়তেন। আমি বললাম, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার যিনি এ ব্যাপারে প্রশস্ততর ব্যবস্থা রেখেছেন। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তিনি জানাবাতের (স্ত্রীসহবাস জনিত গোসল) ব্যাপারে কি করতেন? তিনি কি ঘুমিয়ে যাওয়ার পূর্বেই গোসল সারতেন না গোসলের পূর্বেই ঘুমিয়ে যেতেন। তিনি বললেন, তিনি দু'টোই করতেন। তিনি কখনো গোসলের পর ঘুমাতেন আবার কখনো ওযু করে ঘুমিয়ে যেতেন (জাগ্রত হওয়ার পর গোসল করতেন)। আমি বললাম, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার যিনি এ ব্যাপারেও প্রশস্ততর ব্যবস্থা রেখেছেন। সহীহঃ সহীহ আবূ দাউদ (২২২, ১২৯১), মুসলিম, বুখারী শুধু বিতর সংক্রান্ত বিষয় আরো পূর্ণভাবে বর্ণিত হয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উপরোক্ত সূত্রে হাসান গারীব।
حدثنا قتيبة، قال حدثنا الليث، عن معاوية بن صالح، عن عبد الله بن ابي قيس، هو رجل بصري قال سالت عايشة عن وتر رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف كان يوتر من اول الليل او من اخره فقالت كل ذلك قد كان يصنع ربما اوتر من اول الليل وربما اوتر من اخره . فقلت الحمد لله الذي جعل في الامر سعة فقلت كيف كانت قراءته اكان يسر بالقراءة ام يجهر قالت كل ذلك كان يفعل قد كان ربما اسر وربما جهر قال فقلت الحمد لله الذي جعل في الامر سعة قال قلت فكيف كان يصنع في الجنابة اكان يغتسل قبل ان ينام ام ينام قبل ان يغتسل قالت كل ذلك قد كان يفعل فربما اغتسل فنام وربما توضا فنام قلت الحمد لله الذي جعل في الامر سعة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب من هذا الوجه
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজ্জের মৌসুমে নিজেকে বিভিন্ন গোত্রের সামনে পেশ করে বলতেনঃ এমন কোন লোক নেই কি যে আমাকে তার সম্প্রদায়ের নিকট নিয়ে যেতে পারে? কেননা কুরাইশগণ আমাকে আমার প্রভুর বাণী প্রচার করতে বাধা দিচ্ছে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (২০১)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব সহীহ।
حدثنا محمد بن اسماعيل، قال حدثنا محمد بن كثير، قال اخبرنا اسراييل، قال حدثنا عثمان بن المغيرة، عن سالم بن ابي الجعد، عن جابر، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يعرض نفسه بالموقف فقال " الا رجل يحملني الى قومه فان قريشا قد منعوني ان ابلغ كلام ربي " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب صحيح
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান রাব্বুল ইজ্জাত বলেন, কুরআন (চর্চার ব্যস্ততা) ও আমার যিকির যাকে আমার নিকটে কিছু আবেদন করা হতে নিবৃত্ত রেখেছে আমি তাকে আমার কাছে যারা চায় তাদের চাইতে অনেক উত্তম বখশিশ দিব। সব কালামের উপর আল্লাহ্ তা'আলার কালামের গৌরব এত বেশি যত বেশি আল্লাহ তা'আলার সম্মান তার সকল সৃষ্টির উপর। যঈফ, মিশকাত (২১৩৬), যঈফা (১৩৩৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا محمد بن اسماعيل، قال حدثنا شهاب بن عباد العبدي، قال حدثنا محمد بن الحسن بن ابي يزيد الهمداني، عن عمرو بن قيس، عن عطية، عن ابي سعيد، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يقول الرب عز وجل من شغله القران عن ذكري و مسالتي اعطيته افضل ما اعطي السايلين وفضل كلام الله على ساير الكلام كفضل الله على خلقه " . هذا حديث حسن غريب