Loading...

Loading...
বইসমূহ
২১৩ হাদিসসমূহ
। বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতে ঘোড়া আছে কি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা (যদি) তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান এবং তুমি তাতে লাল পদ্মরাগ মনির ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হতে চাও আর তুমি জান্নাতের যেদিকে যেতে ইচ্ছা কর, সেদিকেই উড়িয়ে নিয়ে যাবে। তিনি (রাবী) বলেন, আরেক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতে উটও আছে কি? তিনি তার সার্থীকে যে উত্তর দিয়েছিলেন তাকেও এরকম উত্তর না দিয়ে বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা যদি তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান, তাহলে তোমার মন যা চাবে এবং চোখে যা ভালো লাগবে সবই পাবে। সুওয়াইদ-আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক হতে তিনি সুফিয়ান হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে উক্ত মর্মে উপরের হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি মাসউদী বর্ণিত হাদীসের চাইতে অনেক বেশী সহীহ। যঈফ, মিশকাত (৫৬৪২), যঈফা
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، قال اخبرنا عاصم بن علي، حدثنا المسعودي، عن علقمة بن مرثد، عن سليمان بن بريدة، عن ابيه، ان رجلا، سال النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله هل في الجنة من خيل قال " ان الله ادخلك الجنة فلا تشاء ان تحمل فيها على فرس من ياقوتة حمراء يطير بك في الجنة حيث شيت الا فعلت " . قال وساله رجل فقال يا رسول الله هل في الجنة من ابل قال فلم يقل له مثل ما قال لصاحبه قال " ان يدخلك الله الجنة يكن لك فيها ما اشتهت نفسك ولذت عينك " . حدثنا سويد بن نصر، اخبرنا عبد الله بن المبارك، عن سفيان، عن علقمة بن مرثد، عن عبد الرحمن بن سابط، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه بمعناه وهذا اصح من حديث المسعودي
। আবূ আইয়ুব (রাযি) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জনৈক বেদুঈন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এসে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো ঘোড়া পছন্দ করি। বেহেশতে ঘোড়া আছে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাকে যদি বেহেশতে প্রবেশ করানো হয় তাহলে মণি-মুক্তার একটি ঘোড়া তোমাকে দেয়া হবে। এর দু’টি ডানা থাকবে এবং তোমাকে এর পিঠে সওয়ার করানো হবে। তারপর তুমি যেদিকে যেতে চাও, সেটি তোমাকে নিয়ে সেদিকে উড়ে যাবে। আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসের সনদ তেমন শক্তিশালী নয়। আমরা কেবল উপরোক্ত সূত্রেই এটিকে আবূ আইয়ূব (রাযি.)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে জানতে পেরেছি। আবূ সাওরা হলেন আবূ আইয়ূব (রাযি.)-এর ভ্রাতুষ্পপুত্র। তিনি হাদীসশাস্ত্রে দুর্বল। ইয়াহইয়া ইবনু মুঈন তাকে অত্যন্ত দুর্বল রাবী বলে আখ্যায়িত করেছেন। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে বলতে শুনেছি, এই আবূ সাওরা মুনকার রাবী এবং আবূ আইয়ূব (রাযি.) হতে বহু মুনকার রিওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন যার সমর্থনযোগ্য কোন রিওয়ায়াত বিদ্যমান নেই। (য’ঈফ; মিশকাত— হাঃ নং- ৫৬৪৩; য’ঈফাহ)
حدثنا محمد بن اسماعيل بن سمرة الاحمسي، حدثنا ابو معاوية، عن واصل، هو ابن السايب عن ابي سورة، عن ابي ايوب، قال اتى النبي صلى الله عليه وسلم اعرابي فقال يا رسول الله اني احب الخيل افي الجنة خيل قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان ادخلت الجنة اتيت بفرس من ياقوتة له جناحان فحملت عليه ثم طار بك حيث شيت " . قال ابو عيسى هذا حديث ليس اسناده بالقوي ولا نعرفه من حديث ابي ايوب الا من هذا الوجه . وابو سورة هو ابن اخي ابي ايوب يضعف في الحديث ضعفه يحيى بن معين جدا قال وسمعت محمد بن اسماعيل يقول ابو سورة هذا منكر الحديث يروي مناكير عن ابي ايوب لا يتابع عليها
। মু'আয ইবনু জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের সময় তাদের শরীরে লোম থাকবে না, দাঁড়ি-গোফও থাকবে না এবং চোখে সুরমা লাগানো থাকবে। তারা হবে ত্রিশ অথবা তেত্রিশ বছরের যুবক। হাসানঃ দেখুন হাদীস নং (২৫৩৯)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান গারীব। উক্ত হাদীসটি কাতাদার কোন কোন শিষ্য তার সূত্রে মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন, মুসনাদরূপে বর্ণনা করেননি।
حدثنا ابو هريرة، محمد بن فراس البصري حدثنا ابو داود، حدثنا عمران ابو العوام، عن قتادة، عن شهر بن حوشب، عن عبد الرحمن بن غنم، عن معاذ بن جبل، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " يدخل اهل الجنة الجنة جردا مردا مكحلين ابناء ثلاثين او ثلاث وثلاثين سنة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب وبعض اصحاب قتادة رووا هذا عن قتادة مرسلا ولم يسندوه
। বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতীদের একশত বিশটি কাতার হবে, তার মধ্যে এই উম্মাতের হবে আশিটি কাতার এবং অন্যান্য সকল উন্মাতের হবে চল্লিশটি। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪২৮৯)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান। এই হাদীসটি আলকামা ইবনু মারসাদ হতে, তিনি সুলাইমান ইবনু বুরাইদাহ হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত আছে। বর্ণনাকারীগণের মধ্যে কেউ বলেছেন, সুলাইমান ইবনু বুরাইদাহ হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত। আবূ সিনান-মুহারিব ইবনু দিসার সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি হাসান। আবূ সিনানের নাম যিরার ইবনু মুররাহ এবং আবূ সিনান আশ-শাইবানীর নাম সাঈদ ইবনু সিনান, তিনি বাসরাবাসী। আবূ সিনান আশ-শামীর নাম ঈসা ইবনু সিনান আল-কাসমালী।
حدثنا حسين بن يزيد الطحان الكوفي، حدثنا محمد بن فضيل، عن ضرار بن مرة، عن محارب بن دثار، عن ابن بريدة، عن ابيه، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اهل الجنة عشرون وماية صف ثمانون منها من هذه الامة واربعون من ساير الامم " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وقد روي هذا الحديث عن علقمة بن مرثد عن سليمان بن بريدة عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا ومنهم من قال عن سليمان بن بريدة عن ابيه وحديث ابي سنان عن محارب بن دثار حسن . وابو سنان اسمه ضرار بن مرة وابو سنان الشيباني اسمه سعيد بن سنان وهو بصري وابو سنان الشامي اسمه عيسى بن سنان هو القسملي
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একটি তাঁবুতে প্রায় চল্লিশজন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা কি এই কথায় সন্তুষ্ট যে, তোমরা জান্নাতীদের সংখ্যার এক-চতুর্থাংশ হবে? সমবেত সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ। তিনি আবার বললেনঃ তোমরা কি এক-তৃতীয়াংশ সংখ্যক হতে খুশি আছো? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি আবার বললেনঃ তোমরা কি অর্ধেক সংখ্যক হলে খুশি আছো? মুসলিম ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। তোমরা তো মুশরিকদের তুলনায় কালো ষাড়ের চামড়ায় সাদা লোমসদৃশ অথবা লাল ষাড়ের চামড়ায় কালো লোমসদৃশ। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪২৮৩), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমরান ইবনু হুসাইন ও আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، انبانا شعبة، عن ابي اسحاق، قال سمعت عمرو بن ميمون، يحدث عن عبد الله بن مسعود، قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في قبة نحوا من اربعين فقال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم " اترضون ان تكونوا ربع اهل الجنة " . قالوا نعم . قال " اترضون ان تكونوا ثلث اهل الجنة " . قالوا نعم . قال " اترضون ان تكونوا شطر اهل الجنة ان الجنة لا يدخلها الا نفس مسلمة ما انتم في الشرك الا كالشعرة البيضاء في جلد الثور الاسود او كالشعرة السوداء في جلد الثور الاحمر " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وفي الباب عن عمران بن حصين وابي سعيد الخدري
। সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উন্মাতগণ যে দরজা দিয়ে জান্নাতে যাবে, তার প্রস্থ হবে অত্যন্ত দ্রুতগামী অশ্বারোহীর তিন দিনের পথ। তা সত্ত্বেও এতো ভীড় হবে যে, তাদের কাঁধ ঢলে পড়ার উপক্রম হবে। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৫৬৪৫) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। তিনি আরও বলেন আমি মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে এই হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি অজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেনঃ খালিদ ইবনু আবূ বাকার সালিম ইবনু আব্দুল্লাহর সূত্রে অনেক মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন।
حدثنا الفضل بن الصباح البغدادي، حدثنا معن بن عيسى القزاز، عن خالد بن ابي بكر، عن سالم بن عبد الله، عن ابيه، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " باب امتي الذي يدخلون منه الجنة عرضه مسيرة الراكب الجواد ثلاثا ثم انهم ليضغطون عليه حتى تكاد مناكبهم تزول " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب . قال سالت محمدا عن هذا الحديث فلم يعرفه وقال لخالد بن ابي بكر مناكير عن سالم بن عبد الله
। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রাহ.) হতে বর্ণিত আছে, একদা তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযি.)-এর সাথে দেখা করলে তিনি বললেন, আমি আল্লাহ তা'আলার নিকটে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাকে ও তোমাকে জান্নাতের বাজারে একত্র করেন। সাঈদ (রাহ.) প্রশ্ন করেন, জান্নাতে কি বাজারও আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জানিয়েছেন যে, জান্নাতীরা জান্নাতে গিয়ে নিজ নিজ আমলের পরিমাণ ও মর্যাদা অনুযায়ী সেখানে জায়গা (মর্যাদা) পাবে। তারপর দুনিয়ার সময় অনুসারে জুমুআর দিন তাদেরকে (তাদের রবের দর্শনের) অনুমতি দেয়া হবে এবং তারা তাদের রবকে দেখতে আসবে। তাদের জন্য তার আরশ প্রকাশিত হবে। জান্নাতের কোন এক বাগানে তাদের সামনে তার প্রভুর প্রকাশ ঘটবে। তাদের জন্য নূর, মণিমুক্তা, পদ্মরাগ মণি, যমরূদ ও সোনা-রূপা ইত্যাদির মিম্বারসমূহ রাখা হবে। তাদের মধ্যকার সবচাইতে নিম্নস্তরের জান্নাতীও মিশক ও কপূরের স্তুপের উপর আসন গ্রহণ করবে। তবে সেখানে কেউ হীন-নীচ হবে না। মিম্বারে আসীন ব্যক্তিগণকে তারা তাদের চাইতে শ্রেষ্ঠ বা উৎকৃষ্ট ভাববে না। আবূ হুরাইরাহ (রাযি.) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আমাদের রবকে দেখতে পাব? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। সূর্য বা পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে তোমাদের কি কোন সন্দেহ হয়? আমরা বললাম, না। তিনি বললেনঃ ঠিক সে রকম তোমাদের রবের দেখাতেও কোন সন্দেহ থাকবে না। আর সে মাজলিসের প্রত্যেক লোক আল্লাহ তা'আলার সাথে কথা বলবে। এমনকি তিনি একে একে তাদের নাম ধরে ডেকে বলবেনঃ হে অমুকের পুত্র অমুক অমুক দিন তুমি এমন কথা বলেছিলে, মনে আছে কি? এভাবে তিনি তাকে দুনিয়ার কিছু নাফারমানী ও বিদ্রোহের কথা মনে করিয়ে দিবেন। লোকটি তখন বলবে, হে আমার রব! আপনি কি আমাকে মাফ করেননি? তিনি বলবেনঃ হ্যাঁ, আমার ক্ষমার বদৌলতেই তুমি এ জায়গাতে পৌছেছ। এই অবস্থায় হঠাৎ তাদের উপর এক খণ্ড মেঘ এসে তাদেরকে ছেয়ে ফেলবে এবং তা হতে তাদের উপর সুগন্ধ (বৃষ্টি) বর্ষিত হবে, যেরূপ সুগন্ধ তারা ইতিপূর্বে কখনো কিছুতে পায়নি। আমাদের রব বলবেনঃ উঠো। আমি তোমাদের সম্মানে যে মেহমানদারি প্রস্তুত করেছি সেদিকে অগ্রসর হও এবং যা কিছু পছন্দ হয় তা গ্রহণ কর। তখন আমরা একটি বাজারে এসে হাযির হব, যা ফিরিশতারা ঘিরে রাখবে। সেখানে এরূপ পণ্যসামগ্রী থাকবে, যা না কোন চোখ দেখেছে, না কোন কান শুনেছে এবং না কখনো অন্তরের কল্পনায় ভেসেছে। আমরা সেখানে যা চাইব, তাই তুলে দেয়া হবে। তবে বেচা-কেনা হবে না। আর সে বাজারেই জান্নাতীরা একে অপরের সাথে দেখা করবে। উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন জান্নাতী সামনে এগিয়ে তার চাইতে অল্প মর্যাদাবান জান্নাতীর সাথে দেখা করবে। তবে সেখানে তাদের মধ্যে উচু-নীচু বলতে কিছু থাকবে না। তিনি তার পোশাক দেখে অস্থির হয়ে যাবেন। এ কথা শেষ হতে না হতেই তিনি মনে করতে থাকবেন যে, তার গায়ে আগের চাইতে উত্তম পোশাক দেখা যাচ্ছে। আর এরূপ এজন্যই হবে যে, সেখানে কারো দুঃখ-কষ্ট বা দুশ্চিন্তা স্পর্শ করবে না। তারপর আমরা নিজেদের স্থানে ফিরে আসব এবং নিজ নিজ স্ত্রীদের দেখা পাব। তারা তখন বলবে, মারহাবা, স্বাগতম! কি ব্যাপার! যে রূপ-সৌন্দর্য নিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলে, তার চাইতে উত্তম সৌন্দর্য নিয়ে ফিরে এসেছ। আমরা বলব, আজ আমরা আমাদের আল্লাহ তা'আলার সাথে মাজলিসে বসেছিলাম। কাজেই এ পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে। আর এটাই ছিল স্বাভাবিক। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৪৩৩৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এই হাদীস জেনেছি। সুয়াইদ ইবনু আমর আওযাঈর সূত্রে এই হাদীসের অংশ বিশেষ বর্ণনা করেছেন।
। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতে যে বাজার আছে, তাতে নারী-পুরুষের প্রতিকৃতি ছাড়া আর কিছুর ক্রয়-বিক্রয় হবে না। যখন কেউ কোন প্রতিকৃতির আকাঙ্ক্ষা করবে, সঙ্গে সঙ্গে তা পেয়ে যাবে। যঈফ, মিশকাত (৫৬৪৬), যঈফা (১৯৮২) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا احمد بن منيع، وهناد، قالا حدثنا ابو معاوية، حدثنا عبد الرحمن بن اسحاق، عن النعمان بن سعد، عن علي، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان في الجنة لسوقا ما فيها شراء ولا بيع الا الصور من الرجال والنساء فاذا اشتهى الرجل صورة دخل فيها " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب
। জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক পূর্ণিমার রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি চাঁদের দিকে দৃষ্টিপাত করে বললেন; তোমাদেরকে খুব শীঘ্রই তোমাদের প্রভুর সামনে উপস্থিত করা হবে। তখন তোমরা অবাধে তার সাক্ষাৎ লাভ করবে, যেমনভাবে এই চাঁদকে দেখতে পাচ্ছে। তাকে দেখার মধ্যে কোন রকম সংশয় থাকবে না। তোমরা দুনিয়ার কাজে পরাভূত না হয়ে সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বের নামায অর্থাৎ- ফজর ও আসরের নামায আদায় কর। তারপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেনঃ “সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পরে তোমার প্রভুর সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর”— (সূরা কাফ ৩৯)। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৭৭), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا هناد، حدثنا وكيع، عن اسماعيل بن ابي خالد، عن قيس بن ابي حازم، عن جرير بن عبد الله البجلي، قال كنا جلوسا عند النبي صلى الله عليه وسلم فنظر الى القمر ليلة البدر فقال " انكم ستعرضون على ربكم فترونه كما ترون هذا القمر لا تضامون في رويته فان استطعتم ان لا تغلبوا على صلاة قبل طلوع الشمس وصلاة قبل غروبها فافعلوا " . ثم قرا: (سبح بحمد ربك قبل طلوع الشمس وقبل الغروب ) قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। সুহাইব (রাযিঃ) হতে আল্লাহ তা'আলার বাণী “যারা মঙ্গলজনক কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে মঙ্গল এবং আরো অধিক”— (সূরা ইউনুস ২৬) প্রসঙ্গে বর্ণিত। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের পর একজন আহবানকারী (ফেরেশতা) ডেকে তারা (জান্নাতীরা) বলবে, তিনি কি আমাদের চেহারা উজ্জ্বল করে এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাননি? ফেরেশতারা বলবেন, হ্যাঁ। তারপর পর্দা খুলে যাবে (এবং আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাৎ সংঘটিত হবে)। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তিনি মানুষকে তার সাক্ষাতের চেয়ে বেশি পছন্দনীয় ও আকাক্তিক্ষত কোন জিনিসই প্রদান করেননি। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৮৭), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) মুসনাদ ও মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সুলাইমান ইবনুল মুগীরা এই হাদীসটি সাবিত আল বুনানীর বরাতে আব্দুর রহমান ইবনু আবু লাইলার বক্তব্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا حماد بن سلمة، عن ثابت البناني، عن عبد الرحمن بن ابي ليلى، عن صهيب، عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله: (للذين احسنوا الحسنى وزيادة ) قال " اذا دخل اهل الجنة الجنة نادى مناد ان لكم عند الله موعدا . قالوا الم يبيض وجوهنا وينجنا من النار ويدخلنا الجنة قالوا بلى . قال فيكشف الحجاب قال فوالله ما اعطاهم شييا احب اليهم من النظر اليه " . قال ابو عيسى هذا حديث انما اسنده حماد بن سلمة ورفعه . وروى سليمان بن المغيرة وحماد بن زيد هذا الحديث عن ثابت البناني عن عبد الرحمن بن ابي ليلى قوله
ইবনু উমর (রাযি.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন সাধারণ মর্যাদাসম্পন্ন জান্নাতীর বাগান, স্ত্রী, আমোদ-প্রমোদের সামগ্ৰী, খাদিম এবং খাট-পালং ও আসন সমূহ কেউ দেখতে চাইলে তা তার জন্য হাজার বছরের পথ। তাদের মধ্যে আল্লাহ তা'আলার নিকটে সবচাইতে মর্যাদাবান ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় তার চেহারা দর্শন করবে। তারপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ “কতক মুখমণ্ডল সেদিন উজ্জ্বল হবে এবং তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে"- (সূরা আল-কিয়ামাহঃ ২২-২৩)। (য'ঈফ; য’ঈফাহ-হাঃ নং- ১৯৮৫) আবূ ঈসা বলেনঃ বিভিন্নভাবে এ হাদীসটি ইসরাঈল হতে তিনি সুওয়াইর-ইবনু উমর (রাযি.) হতে এ সূত্রে মারফু' হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। 'আবদুল মালিক ইবনু আবজার-সুওয়াইর হতে ইবনু উমর (রাযি.)-এর সূত্রে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উবাইদুল্লাহ আল-আশজাঈ (রহঃ) সুফিয়ান হতে তিনি সুওয়াইর হতে তিনি মুজাহিদ হতে তিনি ইবনু উমার (রাযি.) সূত্রে তার বক্তব্য হিসেবে রিওয়ায়াত করেছেন, মারফুরূপে বর্ণনা করেননি।
حدثنا عبد بن حميد، اخبرني شبابة، عن اسراييل، عن ثوير، قال سمعت ابن عمر، يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان ادنى اهل الجنة منزلة لمن ينظر الى جنانه وازواجه ونعيمه وخدمه وسرره مسيرة الف سنة واكرمهم على الله من ينظر الى وجهه غدوة وعشية " . ثم قرا رسول الله صلى الله عليه وسلم: (وجوه يوميذ ناضرة * الى ربها ناظرة ) . قال ابو عيسى وقد روي هذا الحديث من غير وجه عن اسراييل عن ثوير عن ابن عمر مرفوع . ورواه عبد الملك بن ابجر عن ثوير عن ابن عمر موقوف . وروى عبيد الله الاشجعي، عن سفيان، عن ثوير، عن مجاهد، عن ابن عمر، قوله ولم يرفعه حدثنا بذلك ابو كريب، محمد بن العلاء حدثنا عبيد الله الاشجعي، عن سفيان، عن ثوير، عن مجاهد، عن ابن عمر، نحوه ولم يرفعه
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদেরকে প্রশ্ন করেনঃ পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে তোমরা কি কোন প্রকার ভীড় অনুভব কর? সূর্য দেখার মধ্যে কি তোমরা কোন রকম ভীড় অনুভব কর? তারা বললেন, না। তিনি বললেনঃ তোমরা যেমনিভাবে পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে পাও, ঠিক তেমনিভাবে তোমাদের প্রভুকেও দেখতে পাবে। আর এতে কোন ভীড় অনুভব করবে না। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৭৮), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। ইয়াহইয়া ইবনু ঈসা আর-রামলী (রহঃ) প্রমুখ আমাশ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, এই সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীস (রহঃ) আমাশ হতে, তিনি আবূ সালিহ হতে, তিনি আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীস-আমাশের সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি সুরক্ষিত নয়। আবূ সালিহ-আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি অনেক বেশি সহীহ। সুহাইল ইবনু আবূ সালিহ (রহঃ) তার বাবা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে একই রকম বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসটি আবূ সাঈদ (রাযিঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে ভিন্নভাবে বর্ণিত আছে। এই সূত্রটিও সহীহ।
حدثنا محمد بن طريف الكوفي، حدثنا جابر بن نوح الحماني، عن الاعمش، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " تضامون في روية القمر ليلة البدر وتضامون في روية الشمس " . قالوا لا . قال " فانكم سترون ربكم كما ترون القمر ليلة البدر لا تضامون في رويته " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب . وهكذا روى يحيى بن عيسى الرملي وغير واحد عن الاعمش عن ابي صالح عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم . وروى عبد الله بن ادريس عن الاعمش عن ابي صالح عن ابي سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم . وحديث ابن ادريس عن الاعمش غير محفوظ وحديث ابي صالح عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم اصح وهكذا رواه سهيل بن ابي صالح عن ابيه عن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم . وقد روي عن ابي سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير هذا الوجه مثل هذا الحديث وهو حديث صحيح
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা জান্নাতবাসীদেরকে ডেকে বলবেন, হে জান্নাতবাসীগণ! তারা বলবে, “লাব্বাইকা রব্বানা ওয়া সাদাইকা” (হে প্ৰভু! আমরা উপস্থিত)। তিনি বলবেন, তোমরা কি খুশি হয়েছো? তারা বলবে, আমরা কেন খুশি হবো না? আপনি তো আমাদেরকে ঐ সমস্ত জিনিস প্রদান করেছেন যা আপনার আর কোন সৃষ্টিকেই দেননি। তিনি বলবেন, আমি তোমাদেরকে এর চেয়েও উত্তম জিনিস প্রদান করবো। তারা বলবে, এর চেয়েও উত্তম জিনিস আর কি আছে? তিনি বলবেন, আমি তোমাদের উপর আমার চির সন্তুষ্টি বর্ষণ করছি, এরপর আর কখনো তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট হবো না। সহীহঃ বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا سويد بن نصر، اخبرنا عبد الله بن المبارك، اخبرنا مالك بن انس، عن زيد بن اسلم، عن عطاء بن يسار، عن ابي سعيد الخدري، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان الله يقول لاهل الجنة يا اهل الجنة . فيقولون لبيك ربنا وسعديك . فيقول هل رضيتم فيقولون ما لنا لا نرضى وقد اعطيتنا ما لم تعط احدا من خلقك . فيقول انا اعطيكم افضل من ذلك . قالوا واى شيء افضل من ذلك قال احل عليكم رضواني فلا اسخط عليكم ابدا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতবাসীরা নিজেদের অট্টালিকা (প্রাসাদ) থেকে সম্মান অনুযায়ী পরস্পরকে দেখতে পাবে, যেভাবে তোমরা পূর্বকাশে উদয়াচলে ও পশ্চিমাকাশে অস্তাচলে নক্ষত্রসমূহ দেখতে পাও। তারা প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারা কি নবীগণ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন! সেসব ব্যক্তিও উচ্চ সম্মানের আসনে থাকবে যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং রাসূলদেরকে সত্য বলে স্বীকার করেছে। সহীহঃ রাওযুন নায়ীর (২/৩৬০-৩৬১), তা’লীকুর রাগীব (৪/২৫১), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا سويد بن نصر، اخبرنا عبد الله بن المبارك، اخبرنا فليح بن سليمان، عن هلال بن علي، عن عطاء بن يسار، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ان اهل الجنة ليتراءون في الغرفة كما تتراءون الكوكب الشرقي او الكوكب الغربي الغارب في الافق او الطالع في تفاضل الدرجات " . فقالوا يا رسول الله اوليك النبيون . قال " بلى والذي نفسي بيده واقوام امنوا بالله ورسوله وصدقوا المرسلين " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তা'আলা সমস্ত মানুষকে একটি ময়দানে একত্রিত করবেন, তারপর রাব্বুল আলামীন তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করে বলবেনঃ পৃথিবীতে যে যার অনুসরণ করতো, এখন কেন সে তার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে না? অতএব, ক্রুশ পূজারীদের জন্য ক্রুশ, মূর্তি পূজারীদের জন্য মূর্তি, অগ্নি উপাসকদের জন্য আগুন উপস্থাপন করা হবে এবং সকলেই নিজ নিজ পূজনীয় মা’বুদদের সাথে চলবে। আর মুসলিমগণ তাদের জায়গাতেই থেকেই যাবে। রাব্বুল আলামীন তাদের সামনে প্রকাশিত হয়ে হয়ে বলবেনঃ তোমরা কেন ঐসব মানুষদের অনুসরণ করছে না? তারা বলবে, নাউযুবিল্লাহ মিনকা, নাউযুবিল্লাহ মিনকা (আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)। আল্লাহ তা'আলাই আমাদের প্রভু। আর এটা আমাদের জায়গা। আমরা আমাদের প্রভুর সাক্ষাৎ পাবার পূর্বমুহুর্ত পর্যন্ত এ স্থান ছেড়ে যাবো না। তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিবেন এবং তাদেরকে নিজ জায়গায় অটল রাখবেন। তারপর আল্লাহ তা'আলা অদৃশ্য হয়ে যাবেন। তিনি পুনরায় তাদের সামনে প্রকাশিত হয়ে বলবেন, তোমরা কেন ঐ সব মানুষের অনুসরণ করছে না? তারা বলবে, নাউযুবিল্লাহ মিনকা, নাউযুবিল্লাহ মিনকা, আল্লাহ আমাদের রব এবং এটা আমাদের অবস্থানস্থল। আমরা আমাদের রবের দেখা পাওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত এ জায়গা ছেড়ে যাবো না। তিনি তাদেরকে আদেশ দিবেন এবং স্বস্থানে দৃঢ় রাখবেন। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমরা কি আমাদের প্রভুর দেখা পাবো? তিনি বললেনঃ তোমাদের কি পূর্ণিমার রাতের চাঁদ দেখতে অন্যদেরকে কষ্ট দিতে হয়? তারা বললেন, না, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি,বললেনঃ অনুরূপভাবে সে সময় তোমরা তাকে দেখার জন্য তোমাদের কাউকেও যন্ত্রণা দিতে হবে না। তারপর আল্লাহ তা'আলা আড়ালে চলে যাবেন। তিনি পুনরায় তাদের সামনে প্রকাশিত হয়ে নিজের পরিচিতি উপস্থাপন করে বলবেন? আমিই তোমাদের প্রভু। তোমরা আমার অনুসরণ কর। মুসলিমগণ উঠে দাড়াবে। চলার পথে পুলসিরাত স্থাপন করা হবে। তারা তা খুব সহজেই দ্রুতগামী ঘোড়া ও উটের মতো অতিক্রম করবে এবং এর উপরে তাদের ধ্বনি হবেঃ সাল্লিম সাল্লিম’ (হে আল্লাহ আমাদেরকে শান্তিতে রাখো)। জাহান্নামীরা অতিক্রম না করতে পেরে এখানেই থেকে যাবে। তাদের মধ্য হতে একটি দলকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে এবং জাহান্নামকে প্রশ্ন করা হবে, তোর পেট ভরেছে কি? সে বলবে, আরো আছে কি? আবার আরেকটি দলকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে এবং প্রশ্ন করা হবে, তোর পেট ভরেছে কি? সে বলবে, আরো আছে কি? এভাবে সমস্ত জাহান্নামীকে যখন জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তখন দয়ালু প্ৰভু আল্লাহ তা'আলা তার পা এর উপর রাখবেন এবং এর এক অংশ আরেক অংশের সাথে সংকুচিত হয়ে যাবে। তিনি বলবেন, যথেষ্ট হয়েছে তো। জাহান্নাম বলবে, হ্যাঁ, যথেষ্ট হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। এরপর আল্লাহ তা'আলা যখন জান্নাতীদেরকে জান্নাতে এবং জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, তখন মৃত্যু'-কে গলায় কাপড় বেঁধে টেনে আনা হবে এবং জান্নাতী ও জাহান্নামীদের মাঝখানের প্রাচীরে রাখা হবে। তারপর ডেকে বলা হবে, হে জান্নাতীগণ! তারা ভয়ে ভয়ে আত্মপ্রকাশ করবে। তারপর বলা হবে, হে জাহান্নামীগণ! তারাও সুসংবাদ মনে করে শাফাআত লাভের আশায় আত্মপ্রকাশ করবে। তারপর জান্নাতী ও জাহান্নামীদেরকে প্রশ্ন করা হবে, তোমরা কি একে চিনো? জান্নাতী ও জাহান্নামীরা বলবে, হ্যাঁ আমরা একে চিনে ফেলেছি। এটা মৃত্যু যা আমাদের উপর নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। তারপর মৃত্যুকে চিৎ করে শোয়ানো হবে এবং জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যকার প্রাচীরের উপর যবেহ করা হবে। তারপর বলা হবে, হে জান্নাতীগণ! তোমরা চিরকাল জান্নাতে থাকবে। এরপর আর মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামীগণ! তোমরা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে, এরপর আর মৃত্যু নেই। সহীহঃ তাখরীজ তাহাভীয়া (৫৭৬), হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমে সংক্ষিপ্তভাবে আছে। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাৎ লাভ বিষয়ক এরকম অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। মানুষ আল্লাহ তা'আলার সাক্ষাৎ লাভ করবে এবং (তার) পা বা একই রকম বিষয়েরও উল্লেখ আছে। সুফইয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস, ইবনু মুবারাক, সুফইয়ান ইবনু উআইনা ও ওয়াকী (রহঃ) প্রমুখ ইমামগণ এই জাতীয় বিষয় বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, তা বর্ণনা করা যাবে এবং আমরা এগুলোতে বিশ্বাস করি। কিন্তু এগুলো কেমন হবে তা প্রশ্ন করা যাবে না। মুহাদ্দীসগণও এই মতামত গ্রহণ করেছেন যে, যেভাবে এই জাতীয় হাদীস বর্ণিত হয়ে এসেছে, ঠিক সেভাবেই বর্ণনা করা যাবে এবং এই বিষয়ের উপর বিশ্বাসও রাখতে হবে। কিন্তু এর ব্যাখ্যা করা যাবে না এবং সংশয় পোষণও করা যাবে না, তার হাত-পা এগুলো কেমন তাও বলা যাবে না। আলিমগণ এই অভিমতই অবলম্বন করেছেন। আর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে “তিনি তাদের সামনে তার পরিচিতি উপস্থাপন করবেন"-এর তাৎপর্য এই যে, তিনি তাদের সামনে নিজের নূরের তাজাল্লী প্রকাশ করবেন।
। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে মৃত্যুকে উপস্থিত করা হবে সাদা-কালো বর্ণের ভেড়ার আকারে এবং জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে দাঁড় করিয়ে যবেহ করা হবে। আর তারা (জান্নাতী ও জাহান্নামীরা) তা দেখতে থাকবে। কেউ যদি আনন্দ-উল্লাসের কারণে মৃত্যুবরণ করতো, তাহলে জান্নাতবাসীরা (এতে আশ্চর্য হয়ে) মারা যেতো। আর কেউ যদি চিন্তা ও দুঃখের কারণে মৃত্যুবরণ করতো তাহলে জাহান্নামীরা (দুঃখ ও ক্ষোভে) মারা যেতো। “কেউ যদি মৃত্যুবরণ করতো" এই অংশ ব্যতীত হাদীসটি সহীহ, যঈফাহ (২৬৬৯), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا ابي، عن فضيل بن مرزوق، عن عطية، عن ابي سعيد، يرفعه قال " اذا كان يوم القيامة اتي بالموت كالكبش الاملح فيوقف بين الجنة والنار فيذبح وهم ينظرون فلو ان احدا مات فرحا لمات اهل الجنة ولو ان احدا مات حزنا لمات اهل النار " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن
। আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাত দুঃখ-কষ্ট ও শ্রমসাধ্য বিষয় দ্বারা ঘেরা এবং জাহান্নাম কু-প্রবৃত্তি ও লোভ-লালসা দ্বারা ঘেরা। সহীহঃ মুসলিম (৮/১৪২-১৪৩)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব।
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا عمرو بن عاصم، اخبرنا حماد بن سلمة، عن حميد، وثابت، عن انس، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " حفت الجنة بالمكاره وحفت النار بالشهوات " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب صحيح من هذا الوجه
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা জান্নাত-জাহান্নাম সৃষ্টি করার পর জিবরীল (আঃ)-কে জান্নাতের দিকে পাঠিয়ে দিয়ে বলেনঃ জান্নাত এবং আমি এর মধ্যে জান্নাতীদের জন্য যেসব দ্রব্যাদি সৃষ্টি করে রেখেছি, তুমি সেগুলো দেখে এসো। তিনি বলেনঃ তারপর তিনি জান্নাতে গিয়ে আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টিকৃত সমস্ত দ্রব্যাদি দেখলেন এবং তার নিকট ফিরে এসে বললেন, আপনার সম্মানের শপথ! যে কেউ জান্নাতের সুখ-স্বাচ্ছন্দ প্রসঙ্গে শুনবে, সে-ই তাতে প্রবেশের চেষ্টা করবে। তারপর তিনি আদেশ করলেন। ফলে কষ্ট-মুসীবাতের বস্তু দ্বারা জান্নাতকে ঘেরাও করা হলো। তিনি জিবরীল (আঃ)-কে পুনরায় বললেনঃ তুমি আবার জান্নাতে প্রবেশ কর এবং জান্নাতীদের জন্য আমার তৈরিকৃত সামগ্ৰী দেখে এসো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর তিনি সেখানে ফিরে গিয়ে দেখতে পেলেন যে, তা কষ্ট ও মুসীবাতের বস্তু দ্বারা ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। তিনি আল্লাহ তা'আলার নিকট ফিরে এসে বললেন, আপনার সম্মানের শপথ! আমার ভয় হচ্ছে যে, এতে কোন ব্যক্তিই যেতে পারবে না। এবার আল্লাহ তা’আলা তাকে বললেনঃ আমি জাহান্নাম এবং জাহান্নামীদের জন্য যে আযাব তৈরী করে রেখেছি তুমি গিয়ে তা দেখে এসো। তিনি সেখানে গিয়ে দেখতে পেলেন যে, এর একাংশ অন্য অংশের উপর চড়াও হচ্ছে (একটি অন্যটিকে গ্রাস করছে)। তিনি তা দেখার পর আল্লাহ তা'আলার সামনে ফিরে এসে বললেন, আপনার সম্মানের শপথ! যে ব্যক্তি এর বর্ণনা শুনবে সে এতে প্রবেশ করবে না। তারপর তার নির্দেশে জাহান্নামকে লোভ-লালসা দ্বারা ঘিরে ফেলা হলো। এবার জিবরীল (আঃ)-কে তিনি বললেনঃ তুমি আবার সেখানে যাও (এবং তা দেখে এসো)। তিনি সেখানে আবারো গেলেন এবং ফিরে এসে বললেন, আপনার সম্মানের কসম! আমার তো ধারণা হচ্ছে যে, কেউই এই থেকে মুক্তি পাবে না, সকলেই এতে প্রবেশ করবে। হাসান সহীহঃ তাখরীজুত তানকীল (২/১৭৭)। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابو كريب، حدثنا عبدة بن سليمان، عن محمد بن عمرو، حدثنا ابو سلمة، عن ابي هريرة، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لما خلق الله الجنة والنار ارسل جبريل الى الجنة فقال انظر اليها والى ما اعددت لاهلها فيها قال فجاءها ونظر اليها والى ما اعد الله لاهلها فيها قال فرجع اليه قال فوعزتك لا يسمع بها احد الا دخلها . فامر بها فحفت بالمكاره فقال ارجع اليها فانظر الى ما اعددت لاهلها فيها قال فرجع اليها فاذا هي قد حفت بالمكاره فرجع اليه فقال وعزتك لقد خفت ان لا يدخلها احد . قال اذهب الى النار فانظر اليها والى ما اعددت لاهلها فيها . فاذا هي يركب بعضها بعضا فرجع اليه فقال وعزتك لا يسمع بها احد فيدخلها . فامر بها فحفت بالشهوات فقال ارجع اليها . فرجع اليها فقال وعزتك لقد خشيت ان لا ينجو منها احد الا دخلها " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যে তর্ক-বির্তক হলো। জান্নাত বললো, গারীব-মিসকীন ও দুর্বল ব্যক্তি আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। জাহান্নাম বললো, যতো স্বৈরাচারী যালিম ও অহংকারীরা আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামকে বলেনঃ তুই আমার আযাব, আমি তোর দ্বারা যার থেকে ইচ্ছা প্রতিশোধ গ্রহণ করবো। তিনি জান্নাতকে বলেনঃ তুমি আমার রহমত, আমি তোমার দ্বারা যাকে ইচ্ছা উপকৃত করবো। হাসান সহীহঃ যিলালুল জান্নাত (৫২৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابو كريب، حدثنا عبدة بن سليمان، عن محمد بن عمرو، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " احتجت الجنة والنار فقالت الجنة يدخلني الضعفاء والمساكين . وقالت النار يدخلني الجبارون والمتكبرون . فقال للنار انت عذابي انتقم بك ممن شيت . وقال للجنة انت رحمتي ارحم بك من شيت " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযি.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অতি সাধারণ মর্যাদা সম্পন্ন একজন জান্নাতীরও আশি হাজার খাদিম ও বাহাত্তর জন হুর থাকবে। আর তার জন্য মণিমুক্তা, যমরূদ ও ইয়াকুতের তাবু নির্মাণ করা হবে। সেটা এত বড় হবে যে, তা সিরিয়ার অন্তর্গত 'জাবিয়া’ হতে ইয়ামানের সানআ' পর্যন্ত সমান জায়গা জুড়ে বিস্তৃত হবে। যঈফ মিশকাত (৫৬৪৮) যঈফ জামি’ সাগীর (২৬৬) আর এ সনদেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ যে জান্নাতী মারা গেছে চাই সে কম বয়সী হোক বা বেশী বয়সী, সে ত্রিশ বছরের যুবক হয়ে জান্নাতে যাবে, এর বেশী বয়স আর হবে না। ঠিক জাহান্নামীদের বয়স ও অনুরূপ হবে। একই সনদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সাধারণ জান্নাতীদের মাথায় তাজ (মুকুট) পরানো হবে। আর এ তাজের সবচাইতে নিম্নমানের মুক্তা এমন হবে যে, এটা পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত সবকিছু আলোকিত করবে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র রিশদীন ইবনু সাদের রিওয়ায়াত হিসাবে এ হাদীস জেনেছি।
حدثنا سويد، اخبرنا عبد الله، اخبرنا رشدين بن سعد، حدثني عمرو بن الحارث، عن دراج، عن ابي الهيثم، عن ابي سعيد الخدري، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ادنى اهل الجنة الذي له ثمانون الف خادم واثنتان وسبعون زوجة وتنصب له قبة من لولو وزبرجد وياقوت كما بين الجابية الى صنعاء " . وبهذا الاسناد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من مات من اهل الجنة من صغير او كبير يردون بني ثلاثين في الجنة لا يزيدون عليها ابدا وكذلك اهل النار " . وبهذا الاسناد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " ان عليهم التيجان ان ادنى لولوة منها لتضيء ما بين المشرق والمغرب " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من حديث رشدين بن سعد
حدثنا محمد بن اسماعيل، حدثنا هشام بن عمار، حدثنا عبد الحميد بن حبيب بن ابي العشرين، حدثنا الاوزاعي، حدثنا حسان بن عطية، عن سعيد بن المسيب، انه لقي ابا هريرة فقال ابو هريرة اسال الله ان يجمع، بيني وبينك في سوق الجنة . فقال سعيد افيها سوق قال نعم اخبرني رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان اهل الجنة اذا دخلوها نزلوا فيها بفضل اعمالهم ثم يوذن في مقدار يوم الجمعة من ايام الدنيا فيزورون ربهم ويبرز لهم عرشه ويتبدى لهم في روضة من رياض الجنة فتوضع لهم منابر من نور ومنابر من لولو ومنابر من ياقوت ومنابر من زبرجد ومنابر من ذهب ومنابر من فضة ويجلس ادناهم وما فيهم من دني على كثبان المسك والكافور وما يرون ان اصحاب الكراسي بافضل منهم مجلسا " . قال ابو هريرة قلت يا رسول الله وهل نرى ربنا قال " نعم قال هل تتمارون في روية الشمس والقمر ليلة البدر " . قلنا لا . قال " كذلك لا تتمارون في روية ربكم ولا يبقى في ذلك المجلس رجل الا حاضره الله محاضرة حتى يقول للرجل منهم يا فلان ابن فلان اتذكر يوم قلت كذا وكذا فيذكره ببعض غدراته في الدنيا فيقول يا رب افلم تغفر لي فيقول بلى فبسعة مغفرتي بلغت منزلتك هذه . فبينما هم على ذلك غشيتهم سحابة من فوقهم فامطرت عليهم طيبا لم يجدوا مثل ريحه شييا قط ويقول ربنا تبارك وتعالى قوموا الى ما اعددت لكم من الكرامة فخذوا ما اشتهيتم . قال فناتي سوقا قد حفت به الملايكة فيه ما لم تنظر العيون الى مثله ولم تسمع الاذان ولم يخطر على القلوب فيحمل لنا ما اشتهينا ليس يباع فيها ولا يشترى وفي ذلك السوق يلقى اهل الجنة بعضهم بعضا قال فيقبل الرجل ذو المنزلة المرتفعة فيلقى من هو دونه وما فيهم دني فيروعه ما يرى عليه من اللباس فما ينقضي اخر حديثه حتى يتخيل اليه ما هو احسن منه وذلك انه لا ينبغي لاحد ان يحزن فيها ثم ننصرف الى منازلنا فتتلقانا ازواجنا فيقلن مرحبا واهلا لقد جيت وان بك من الجمال افضل مما فارقتنا عليه . فنقول انا جالسنا اليوم ربنا الجبار ويحقنا ان ننقلب بمثل ما انقلبنا " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه وقد روى سويد بن عمرو عن الاوزاعي شييا من هذا الحديث
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " يجمع الله الناس يوم القيامة في صعيد واحد ثم يطلع عليهم رب العالمين فيقول الا يتبع كل انسان ما كانوا يعبدونه . فيمثل لصاحب الصليب صليبه ولصاحب التصاوير تصاويره ولصاحب النار ناره فيتبعون ما كانوا يعبدون ويبقى المسلمون فيطلع عليهم رب العالمين فيقول الا تتبعون الناس فيقولون نعوذ بالله منك نعوذ بالله منك الله ربنا هذا مكاننا حتى نرى ربنا . وهو يامرهم ويثبتهم ثم يتوارى ثم يطلع فيقول الا تتبعون الناس فيقولون نعوذ بالله منك نعوذ بالله منك الله ربنا وهذا مكاننا حتى نرى ربنا . وهو يامرهم ويثبتهم " . قالوا وهل نراه يا رسول الله قال " وهل تضارون في روية القمر ليلة البدر " . قالوا لا يا رسول الله . قال " فانكم لا تضارون في رويته تلك الساعة ثم يتوارى ثم يطلع فيعرفهم نفسه ثم يقول انا ربكم فاتبعوني . فيقوم المسلمون ويوضع الصراط فيمرون عليه مثل جياد الخيل والركاب وقولهم عليه سلم سلم . ويبقى اهل النار فيطرح منهم فيها فوج ثم يقال هل امتلات فتقول هل من مزيد . ثم يطرح فيها فوج فيقال هل امتلات . فتقول هل من مزيد . حتى اذا اوعبوا فيها وضع الرحمن قدمه فيها وازوي بعضها الى بعض ثم قال قط قالت قط قط فاذا ادخل الله اهل الجنة الجنة واهل النار النار قال اتي بالموت ملببا فيوقف على السور الذي بين اهل الجنة واهل النار ثم يقال يا اهل الجنة . فيطلعون خايفين ثم يقال يا اهل النار . فيطلعون مستبشرين يرجون الشفاعة فيقال لاهل الجنة واهل النار هل تعرفون هذا فيقولون هولاء وهولاء قد عرفناه هو الموت الذي وكل بنا . فيضجع فيذبح ذبحا على السور الذي بين الجنة والنار ثم يقال يا اهل الجنة خلود لا موت ويا اهل النار خلود لا موت " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . - وقد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم روايات كثيرة مثل هذا ما يذكر فيه امر الروية ان الناس يرون ربهم وذكر القدم وما اشبه هذه الاشياء والمذهب في هذا عند اهل العلم من الايمة مثل سفيان الثوري ومالك بن انس وابن المبارك وابن عيينة ووكيع وغيرهم انهم رووا هذه الاشياء ثم قالوا تروى هذه الاحاديث ونومن بها ولا يقال كيف وهذا الذي اختاره اهل الحديث ان تروى هذه الاشياء كما جاءت ويومن بها ولا تفسر ولا تتوهم ولا يقال كيف وهذا امر اهل العلم الذي اختاروه وذهبوا اليه . ومعنى قوله في الحديث " فيعرفهم نفسه " . يعني يتجلى لهم