Loading...

Loading...
বইসমূহ
১১২ হাদিসসমূহ
। মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মহা হত্যাকাণ্ড, কনস্টান্টিনোপল বিজয় এবং দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে সাত মাসের মধ্যে। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৪০৯২) আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে সা'ব ইবনু জাসসামা, আবদুল্লাহ ইবনু বুসর, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ ও আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান গারীব। শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই আমরা এ হাদীস জেনেছি।
حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن، اخبرنا الحكم بن المبارك، حدثنا الوليد بن مسلم، عن ابي بكر بن ابي مريم، عن الوليد بن سفيان، عن يزيد بن قطيب السكوني، عن ابي بحرية، صاحب معاذ عن معاذ بن جبل، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الملحمة العظمى وفتح القسطنطينية وخروج الدجال في سبعة اشهر " . قال ابو عيسى وفي الباب عن الصعب بن جثامة وعبد الله بن بسر وعبد الله بن مسعود وابي سعيد الخدري . وهذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন কনস্টান্টিনোপল বিজয় সংঘটিত হবে কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে। সনদ সহীহ, মাওকুফ। মাহমূদ বলেন, এ হাদীসটি গারীব। কনস্টান্টিনোপল রোম সাম্রাজ্যের (বর্তমান তুরস্কের) একটি প্রসিদ্ধ শহর। দাজ্জালের আবির্ভাবকালে এটা বিজিত হবে। এটা অবশ্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবীদের যামানায় (আমীর মুআবিয়ার রাজত্বকালে) বিজিত হয়েছে।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، عن شعبة، عن يحيى بن سعيد، عن انس بن مالك، قال فتح القسطنطينية مع قيام الساعة . قال هذا حديث غريب . والقسطنطينية هي مدينة الروم تفتح عند خروج الدجال والقسطنطينية قد فتحت في زمان بعض اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم
। আন-নাওয়াস ইবনু সামআন আল-কিলাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সকালে দাজ্জাল প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি এর ভয়াবহতা ও নিকৃষ্টতা তুলে ধরেন। এমনকি আমাদের ধারণা সৃষ্টি হলো যে, সে হয়তো খেজুর বাগানের ওপাশেই বিদ্যমান। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে চলে গেলাম, তারপর আবার আমরা তার নিকট ফিরে এলাম। তিনি আমাদের মধ্যে দাজ্জালের ভীতির চিহ্ন দেখে প্রশ্ন করেনঃ তোমাদের কি হয়েছে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আপনি সকালে দাজ্জাল প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং এর ভয়াবহতা ও নিকৃষ্টতা এমন ভাষায় উত্থাপন করেছেন যে, আমাদের ধারণা হচ্ছিল যে, হয়তো সে খেজুর বাগানের পাশেই উপস্থিত আছে। তিনি বললেনঃ তোমাদের ক্ষেত্রে দাজ্জাল ছাড়াও আমার আরো কিছুর আশংকা রয়েছে। যদি সে আমার জীবদ্দশাতেই তোমাদের মাঝে আসে তাহলে আমিই তোমাদের পক্ষে তার প্রতিপক্ষ হবো। আর সে যদি আমার অবর্তমানে আবির্ভূত হয়, তাহলে তোমরাই তার প্রতিপক্ষ হবে। আর আল্লাহ্ তা'আলাই প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আমার পরিবর্তে সহায় হবেন। সে (দাজ্জাল) হবে কুঞ্চিত (কোকড়া) চুলবিশিষ্ট, স্থির দৃষ্টিসম্পন্ন যুবক, সে হবে আবদুল উযযা ইবনু কাতানের অনুরূপ। তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তার দেখা পায় তাহলে যেন সে সূরা কাহফ-এর প্রাথমিক আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে। তিনি বললেনঃ সে সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যবর্তী কোন এলাকা হতে আত্মপ্রকাশ করবে। তারপর সে ডানে-বামে ফিতনা ফ্যাসাদ ও বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়াবে। হে আল্লাহর বান্দাহগণ! তোমরা দৃঢ়তার সাথে অবস্থান করবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। সে কত দিন দুনিয়াতে থাকবে? তিনি বললেনঃ চল্লিশ দিন। এর একদিন হবে একবছরের সমান, একদিন হবে একমাসের সমান এবং একদিন হবে একসপ্তাহের সমান, আর অবশিষ্ট দিনগুলো হবে তোমাদের বর্তমান দিনের মতো। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আপনার কি ধারণা, যে দিনটি একবছরের সমান হবে, তাতে একদিনের নামায আদায় করলেই আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেনঃ না, বরং তোমরা সেদিনের সঠিক অনুমান করে নেবে (এবং সে অনুযায়ী নামায আদায় করবে)। আমরা আবার প্রশ্ন করলাম, দুনিয়াতে তার চলার গতি কত দ্রুত হবে? তিনি বললেনঃ তার চলার গতি হবে বায়ুচালিত মেঘের অনুরূপ; তারপর সে কোন জাতির নিকট গিয়ে তাদেরকে নিজের দলের দিকে আহবান জানাবে, কিন্তু তারা তাকে মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করবে এবং তার দাবি প্রত্যাখ্যান করবে। সে তখন তাদের নিকট হতে ফিরে আসবে এবং তাদের ধন-সম্পদও তার পিছনে পিছনে চলে আসবে। তারা পরদিন সকালে নিজেদেরকে নিঃস্ব অবস্থায় পাবে। তারপর সে অন্য জাতির নিকট গিয়ে আহবান করবে। তারা তার আহবানে সাড়া দিবে এবং তাকে সত্য বলে মেনে নিবে। সে তখন আকাশকে বৃষ্টি বর্ষনের জন্য আদেশ করবে এবং সে অনুযায়ী আকাশ বৃষ্টি বর্ষন করবে। তারপর সে যামীনকে ফসল উৎপাদনের জন্য নির্দেশ দিবে এবং সে মুতাবিক যামীন ফসল উৎপাদন করবে। তারপর বিকেলে তাদের পশুপালগুলো পূর্বের চেয়ে উচু কুঁজবিশিষ্ট, মাংসবহুল নিতম্ববিশিষ্ট ও দুগ্ধপুষ্ট স্তনবিশিষ্ট হবে। তারপর সে নির্জন পতিত ভূমিতে গিয়ে বলবে, তোর ভিতরের খনিজভাণ্ডার বের করে দে। তারপর সে সেখান হতে ফিরে আসবে এবং সেখানকার ধনভাণ্ডার তার অনুসরণ করবে যেভাবে মৌমাছিরা রাণী মৌমাছির অনুসরণ করে। তারপর সে পূর্ণযৌবন এক তরুণ যুবককে তার দিকে আহবান করবে। সে তলোয়ারের আঘাতে তাকে দুই টুকরা করে ফেলবে। তারপর সে তাকে ডাক দিবে, অমনি সে হাস্যোজ্জ্বল চেহারা নিয়ে সামনে এসে দাড়াবে। হলুদ রংয়ের দুটি কাপড় পরিহিত অবস্থায় দুজন ফিরিশতার ডানায় ভর করে ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) অবতরণ করবেন। তিনি তার মাথা নীচু করলে ফোটায় ফোটায় এবং উচু করলেও মনিমুক্তার ন্যায় (ঘাম) পড়তে থাকবে। তার নিঃশ্বাস যে ব্যক্তিকেই স্পর্শ করবে সে মারা যাবে; আর তার শ্বাসবায়ু দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত পৌছবে। তারপর তিনি দাজ্জালকে খোঁজ করবেন এবং তাকে 'লুদ্দ’-এর নগরদ্বারপ্রান্তে পেয়ে হত্যা করবেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা মতো এভাবে তিনি অতিবাহিত করবেন। তারপর আল্লাহ তা'আলা তার নিকট ওয়াহী প্রেরণ করবেনঃ “আমার বান্দাহদেরকে তুর পাহাড়ে সরিয়ে নাও। কেননা, আমি এমন একদল বান্দাহ অবতীর্ণ করছি যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষমতা কারো নেই”। তিনি বলেন, তারপর আল্লাহ ইয়াজুজ-মাজুজের দল পাঠাবেন। আল্লাহ তা'আলার বাণী অনুযায়ী তাদের অবস্থা হলো, “তারা প্রত্যেক উচ্চভূমি হতে ছুটে আসবে” (সূরাঃ আম্বিয়া-৯৬)। তিনি বলেন, তাদের প্রথম দলটি (সিরিয়ার) তাবারিয়া উপসাগর অতিক্রমকালে এর সমস্ত পানি পান করে শেষ করে ফেলবে। এদের শেষ দলটি এ স্থান দিয়ে অতিক্রমকালে বলবে, নিশ্চয়ই এই জলাশয়ে কোন সময় পানি ছিল। তারপর বাইতুল মাকদিসের পাহাড়ে পৌছার পর তাদের অভিযান সমাপ্ত হবে। তারা পরস্পর বলবে, আমরা তো দুনিয়ায় বসবাসকারীদের ধ্বংস করেছি, এবার চল আকাশে বসবাসকারীদের ধ্বংস করি। তারা এই বলে আকাশের দিকে তাদের তীর নিক্ষেপ করবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের তীরসমূহ রক্তে রঞ্জিত করে ফিরত দিবেন। তারপর ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) ও তার সাথীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেন। তারা (খাদ্যাভাবে) এমন এক কঠিন পরিস্থিতিতে পতিত হবেন যে, তখন তাদের জন্য একটা গরুর মাথা তোমাদের এ যুগের একশত দীনারের চাইতে বেশি উত্তম মনে হবে। তিনি বলেন, তারপর ঈসা (আঃ) ও তার সাথীরা আল্লাহ্ তা'আলার দিকে রুজু হয়ে দু’আ করবেন। আল্লাহ তা'আলা তখন তাদের (ইয়াজুজ-মাজুজ বাহিনীর) ঘাড়ে মহামারীরূপে নাগাফ নামক কীটের উৎপত্তি করবেন। তারপর তারা এমনভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে যেন একটি প্রাণের মৃত্যু হয়েছে তখন ঈসা (আঃ) তার সাথীদের নিয়ে (পাহাড় হতে) নেমে আসবেন। সেখানে তিনি এমন এক বিঘত পরিমাণ জায়গাও পাবেন না, যেখানে সেগুলোর পচা দুৰ্গন্ধময় রক্ত-মাংস ছড়িয়ে না থাকবে। তারপর তিনি সাথীদের নিয়ে আল্লাহ তা'আলার নিকট দু’আ করবেন। আল্লাহ তা'আলা তখন উটের ঘাড়ের ন্যায় লম্বা ঘাড়বিশিষ্ট এক প্রকার পাখি প্রেরণ করবেন। সেই পাখি ওদের লাশগুলো তুলে নিয়ে গভীর গর্তে নিক্ষেপ করবে। এদের পরিত্যক্ত তীর, ধনুক ও তূণীরগুলো মুসলিমগণ সাতবছর পর্যন্ত জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করবে। তারপর আল্লাহ তা'আলা এমন বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যা সমস্ত ঘর-বাড়ী, স্থলভাগ ও কঠিন মাটির স্তরে গিয়ে পৌছবে এবং সমস্ত পৃথিবী ধুয়েমুছে আয়নার মতো ঝকঝকে হয়ে উঠবে। তারপর যামীনকে বলা হবে, তোর ফল ও ফসলসমূহ বের করে দে এবং বারকাত ও কল্যাণ ফিরিয়ে দে। তখন এরূপ পরিস্থিতি হবে যে, একদল লোকের জন্য একটি ডালিম পর্যাপ্ত হবে এবং একদল লোক এর খোসার ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারবে। দুধেও এরূপ বারকাত হবে যে, বিরাট একটি দলের জন্য একটি উটনীর দুধ, একটি গোত্রের জন্য একটি গাভীর দুধ এবং একটি ছোট দলের জন্য একটি ছাগলের দুধই যথেষ্ট হবে। এমতাবস্থায় কিছুদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর হঠাৎ আল্লাহ তা'আলা এমন এক বাতাস প্রেরণ করবেন যা সকল ঈমানদারের আত্মা ছিনিয়ে নেবে এবং অবশিষ্ট থাকবে শুধুমাত্র দুশ্চরিত্রের লোক যারা গাধার মতো প্রকাশ্যে নারী সম্ভোগে লিপ্ত হবে। তারপর তাদের উপর কিয়ামত সংঘটিত হবে। সহীহ, সহীহাহ (৪৮১), তাখরাজ ফাযায়েলুশশাম (২৫), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযীদ ইবনু জাবিরের সূত্রেই জেনেছি।
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, দাজ্জালের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ জেনে রাখ, তোমাদের প্রভু অন্ধ নন। জেনে রাখ, দাজ্জালের ডান চোখ অন্ধ। তার ডান চোখটি মনে হবে যেন ফুলে উঠা একটি আঙ্গুর। সহীহ, বুখারী (৩৪৯৩), মুসলিম (১/১০৭) প্রশ্নের উল্লেখ ব্যতীত। আবূ ঈসা বলেন, সাদ, হুযাইফা, আবূ হুরাইরা, আসমা, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ, আবূ বাকরা, আইশ, আনাস, ইবনু আব্বাস ও ফালাতান ইবনু আসিম (রাঃ) হতে এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব।
حدثنا محمد بن عبد الاعلى الصنعاني، حدثنا المعتمر بن سليمان، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم انه سيل عن الدجال فقال " الا ان ربكم ليس باعور الا وانه اعور عينه اليمنى كانها عنبة طافية " . قال وفي الباب عن سعد وحذيفة وابي هريرة واسماء وجابر بن عبد الله وابي بكرة وعايشة وانس وابن عباس والفلتان بن عاصم . قال ابو عيسى هذا حديث صحيح غريب من حديث عبيد الله بن عمر
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দাজ্জাল মাদীনায় উপস্থিত হয়ে দেখতে পাবে যে, ফিরিশতাগণ তা পাহারা দিচ্ছেন। অতএব, আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছায় মহামারী ও দাজ্জাল মাদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না। সহীহ, সহীহাহ (২৪৫৮), বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা, ফাতিমা বিনতু কাইস, উসামা ইবনু যাইদ সামুরা, ইবনু জুনদাব ও মিহজান (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি সহীহ।
حدثنا عبدة بن عبد الله الخزاعي البصري، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا شعبة، عن قتادة، عن انس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ياتي الدجال المدينة فيجد الملايكة يحرسونها فلا يدخلها الطاعون ولا الدجال ان شاء الله " . قال وفي الباب عن ابي هريرة وفاطمة بنت قيس واسامة بن زيد وسمرة بن جندب ومحجن . قال ابو عيسى هذا حديث صحيح
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমান হলো ঈয়ামানে, কুফর হলো প্রাচ্যে, বকরীওয়ালাদের মধ্যে আছে শান্তি এবং উচ্চঃস্বরে চিৎকারকারী ঘোড়াওয়ালা ও উটওয়ালাদের মধ্যে আছে গৰ্ব-অহংকার ও প্রদর্শনেচ্ছা। দাজ্জাল মাসীহ আত্মপ্রকাশ করে যখন উহুদের পিছনে উপস্থিত হবে, ফিরিশতারা তখন তার মুখমণ্ডল (চলার গতি)-কে সিরিয়ার দিকে ঘুরিয়ে দিবেন। আর সে ঐ স্থানেই ধ্বংস হবে। সহীহ, সহীহাহ (১৭৭০), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " الايمان يمان والكفر من قبل المشرق والسكينة لاهل الغنم والفخر والرياء في الفدادين اهل الخيل واهل الوبر ياتي المسيح اذا جاء دبر احد صرفت الملايكة وجهه قبل الشام وهنالك يهلك " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আমর ইবনু আওফ বংশের আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযীদ আল-আনসারী (রহঃ) বলেন, আমি আমার চাচা মুজাম্মি ইবনু জারিয়া আল-আনসারী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ ঈসা (আঃ) 'লুদ্দ’-এর দ্বারপ্রান্তে দাজ্জালকে হত্যা করবেন। সহীহ, কিচ্ছাতুল মাসীহি দাজ্জালি ওয়া কাতলুহু। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে ইমরান ইবনু হুসাইন, নাফী ইবনু উতবা, আবূ বারযা, হুযাইফা ইবনু উসাইদ, আবূ হুরাইরা, কাইসান, উসমান ইবনু আবীল আস, জাবীর, আবু উমামা, ইবনু মাসউদ, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর, সামুরা ইবনু জুনদাব, নাওয়াস ইবনু সামআন, আমর ইবনু আওফ ও হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) হতে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদিসটি হাসান সহীহ।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن ابن شهاب، انه سمع عبيد الله بن عبد الله بن ثعلبة الانصاري، يحدث عن عبد الرحمن بن يزيد الانصاري، من بني عمرو بن عوف يقول سمعت عمي، مجمع بن جارية الانصاري يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " يقتل ابن مريم الدجال بباب لد " . قال وفي الباب عن عمران بن حصين ونافع بن عتبة وابي برزة وحذيفة بن اسيد وابي هريرة وكيسان وعثمان بن ابي العاصي وجابر وابي امامة وابن مسعود وعبد الله بن عمرو وسمرة بن جندب والنواس بن سمعان وعمرو بن عوف وحذيفة بن اليمان . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন কোন নবী প্রেরিত হননি, যিনি তার সম্প্রদায়কে কানা মিথ্যাবাদীর (দাজ্জালের) ব্যাপারে সতর্ক করেননি। জেনে রাখ, সে অবশ্যই কানা হবে। আর তোমাদের প্রভু তো অন্ধ নন। ঐ মিথ্যাবাদীর দুচোখের মধ্যবর্তী স্থানে ‘কাফ, ফা রা’ শব্দটি লিখিত থাকবে। সহীহ, তাখরীজু শারহিল আকীদাতিত তাহাবীয়া (৭৬২), “কিচ্ছাতুল মাসীহিদাজ্জাল” বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن جعفر، حدثنا شعبة، عن قتادة، قال سمعت انسا، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما من نبي الا وقد انذر امته الاعور الكذاب الا انه اعور وان ربكم ليس باعور مكتوب بين عينيه ك ف ر " . هذا حديث حسن صحيح
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কোন একদিন ইবনু সাইদ হাজ্জ কিংবা উমরাহ উপলক্ষ্যে আমার সঙ্গী হলো। সবাই চলে গেল কিন্তু আমি ও সে পিছনে পড়ে গেলাম। আমি তার সাথে একা হয়ে গেলে তার ব্যাপারে জনগণ যা বলাবলি করত তা মনে উদয় হলে আমি ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়লাম। আমি এক জায়গায় বিশ্রামের জন্য অবতরণ করে তাকে বললাম, তোমার ঐ গাছের নিকট তোমার মালামাল রেখে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর সে একপাল বকরী দেখে একটি পেয়ালা নিয়ে সেদিকে গেল এবং কিছু দুধ দোহন করে আমার নিকট নিয়ে এল। সে আমাকে বলল, হে আবূ সাঈদ দুধ পান করুন। তার ব্যাপারে লোকজন বিভিন্ন কথা বলাবলি করার দরুন আমি তার হাতের কিছু পান করা অপছন্দ করলাম। অতএব, আমি তাকে বললাম, আজকের দিনটি প্রচণ্ড গরমের, আমি এরকম দিনে দুধপান করতে পছন্দ করি না। তখন সে আমাকে বলল, হে আবূ সাঈদ! আমাকে ও আমার ব্যাপারে মানুষেরা যে নানা কথা বলে সেজন্য আমার ইচ্ছা হয় একটি গাছে দড়ি বেঁধে ফাসিতে আত্মহত্যা করি। আপনি কি মনে করেন, আমার বিষয় কারো নিকট অজানা থাকলেও আপনাদের নিকট তো তা মোটেই অস্পষ্ট নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস সম্বন্ধে তো আপনারা অধিক অবহিত। হে আনসার সম্প্রদায়! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, সে (দাজ্জাল) হবে কাফির? অথচ আমি মুসলিম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, সে হবে নিঃসন্তান? অথচ আমি আমার সন্তান মাদীনায় রেখে এসেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, মক্কা-মদীনায় প্রবেশ করাটা তার জন্য বৈধ (সম্ভব) নয়? আমি কি মাদীনাবাসী নই? আমি সেখান হতেই তো আপনার সাথে মক্কায় এসেছি। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! সে একটার পর একটা অনবরতভাবে যুক্তি দেখাতে লাগল। অবশেষে আমি মনে মনে বললাম, তার উপর হয়তো মিথ্যারোপ করা হয়েছে। সে আবার বলল, হে আবূ সাঈদ, আল্লাহর শপথ! আমি আপনাকে সঠিক সংবাদ দিব। আল্লাহর শপথ! আমি নিঃসন্দেহে তাকে (দাজ্জালকে) চিনি, তার বাবাকেও চিনি এবং সে এখন কোন এলাকায় আছে তাও জানি। তখন আমি বললাম, তোর পুরো দিনটাই বিফলে যাক। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا عبد الاعلى بن عبد الاعلى، عن الجريري، عن ابي نضرة، عن ابي سعيد، قال صحبني ابن صايد اما حجاجا واما معتمرين فانطلق الناس وتركت انا وهو فلما خلصت به اقشعررت منه واستوحشت منه مما يقول الناس فيه فلما نزلت قلت له ضع متاعك حيث تلك الشجرة . قال فابصر غنما فاخذ القدح فانطلق فاستحلب ثم اتاني بلبن فقال لي يا ابا سعيد اشرب . فكرهت ان اشرب من يده شييا لما يقول الناس فيه فقلت له هذا اليوم يوم صايف واني اكره فيه اللبن . قال لي يا ابا سعيد هممت ان اخذ حبلا فاوثقه الى شجرة ثم اختنق لما يقول الناس لي وفي ارايت من خفي عليه حديثي فلن يخفى عليكم الستم اعلم الناس بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم يا معشر الانصار الم يقل رسول الله صلى الله عليه وسلم انه كافر وانا مسلم الم يقل رسول الله صلى الله عليه وسلم انه عقيم لا يولد له وقد خلفت ولدي بالمدينة الم يقل رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يدخل او لا تحل له مكة والمدينة الست من اهل المدينة وهو ذا انطلق معك الى مكة . فوالله ما زال يجيء بهذا حتى قلت فلعله مكذوب عليه ثم قال يا ابا سعيد والله لاخبرنك خبرا حقا والله اني لاعرفه واعرف والده واعرف اين هو الساعة من الارض . فقلت تبا لك ساير اليوم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কোন একদিন মাদীনার একটি গলিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু সাইদের সাক্ষাৎ পেয়ে তিনি তাকে আটক করলেন। সে ছিল একজন ইয়াহুদী বালক। তার চুল ছিল বেণীবদ্ধ। আবূ বাকর ও উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসূল? সে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমিও আল্লাহর রাসূল? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি ঈমান এনেছি আল্লাহ্ তা'আলার উপর, তার ফিরিশতাগণের উপর, তার গ্রন্থসমূহে ও তার রাসূলদের উপর এবং পরকালের উপর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রশ্ন করেনঃ তুমি কী দেখতে পাও? সে বলল, আমি পানির উপর একটি সিংহাসন দেখতে পাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি সমুদ্রে শাইতানের আসন দেখতে পাও। তিনি আরো প্রশ্ন করেনঃ তুমি আর কি দেখ? সে বলল, আমি একজন সত্যবাদী ও দুজন মিথ্যাবাদী অথবা দুজন সত্যবাদী ও একজন মিথ্যাবাদী দেখতে পাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা শুনে বললেন, বিষয়টা তার কাছে তালগোল পাকিয়ে গেছে। তোমরা দুজনেই একে ত্যাগ কর। সহীহ, সহীহাহ, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, উমার, হুসাইন ইবনু আলী, ইবনু উমার, আবূ যার, ইবনু মাসউদ, জাবির ও হাফসা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদিসটি হাসান।
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا عبد الاعلى، عن الجريري، عن ابي نضرة، عن ابي سعيد، قال لقي رسول الله صلى الله عليه وسلم ابن صايد في بعض طرق المدينة فاحتبسه وهو غلام يهودي وله ذوابة ومعه ابو بكر وعمر فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " اتشهد اني رسول الله " . فقال اتشهد انت اني رسول الله فقال النبي صلى الله عليه وسلم " امنت بالله وملايكته وكتبه ورسله واليوم الاخر " . قال له النبي صلى الله عليه وسلم " ما ترى " . قال ارى عرشا فوق الماء . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ترى عرش ابليس فوق البحر . قال " فما ترى " . قال ارى صادقا وكاذبين او صادقين وكاذبا . قال النبي صلى الله عليه وسلم " لبس عليه " . فدعاه قال وفي الباب عن عمر وحسين بن علي وابن عمر وابي ذر وابن مسعود وجابر وحفصة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن
। আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকরা (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দাজ্জালের পিতা-মাতার ত্রিশ বছর পর্যন্ত কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করবে না। তারপর একটি কানা ছেলে জন্ম নেবে। সে হবে খুবই ক্ষতিকর এবং অত্যন্ত অনুপকারী। তার দুই চোখ ঘুমালেও তার অন্তর ঘুমাবে না। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকটে তার পিতা-মাতার বিবরণ দিলেন। তিনি বললেনঃ তার পিতার দৈহিক আকৃতি হবে লম্বাটে, হালকা-পাতলা গড়নের এবং তার নাকটা হবে পাখীর ঠোটের মত লম্বা। আর তার মা হবে স্থূলকায়, মোটা ও লম্বা হস্তবিশিষ্টা। আবূ বাকরা (রাঃ) বলেন, তারপর এক সময় আমরা শুনতে পেলাম যে, মাদীনার ইয়াহুদী পরিবারে একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। তখন আমি ও যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ) সেখানে গেলাম। আমরা তার পিতা-মাতার নিকট উপস্থিত হলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণিত বিবরণ তাদের মাঝে দেখতে পেলাম। আমরা প্রশ্ন করলাম, আপনাদের কোন সন্তান আছে কি? তারা বলল, আমাদের ত্রিশ বছরের দাম্পত্য জীবনে কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করেনি। অবশেষে আমাদের একটি কানা পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে, কিন্তু সে অধিক ক্ষতিকর এবং কম উপকারী। তার দু'চোখ ঘুমায় কিন্তু তার অন্তর ঘুমায় না। রাবী বলেন, আমরা তাদের নিকট হতে বের হয়ে এসে দেখলাম সে রোদে চাঁদর মুড়ি দিয়ে পড়ে আছে এবং বিড়বিড় করছে। সে তার চাঁদর হতে মাথা বের করে প্রশ্ন করল, তোমরা কি বলেছ? আমরা বললাম, তুমি কি আমাদের কথা শুনতে পেরেছ? সে বলল, হ্যাঁ। কেননা আমার দু'চোখ ঘুমিয়ে থাকলেও আমার অন্তর ঘুমায় না। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৫৫০৩) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। শুধুমাত্র হাম্মাদ ইবনু সালমার সূত্রেই আমরা এ হাদীস জেনেছি।
حدثنا عبد الله بن معاوية الجمحي، حدثنا حماد بن سلمة، عن علي بن زيد، عن عبد الرحمن بن ابي بكرة، عن ابيه، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يمكث ابو الدجال وامه ثلاثين عاما لا يولد لهما ولد ثم يولد لهما غلام اعور اضر شيء واقله منفعة تنام عيناه ولا ينام قلبه " . ثم نعت لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ابويه فقال " ابوه طوال ضرب اللحم كان انفه منقار وامه امراة فرضاخية طويلة اليدين " . فقال ابو بكرة فسمعنا بمولود في اليهود بالمدينة فذهبت انا والزبير بن العوام حتى دخلنا على ابويه فاذا نعت رسول الله صلى الله عليه وسلم فيهما فقلنا هل لكما ولد فقالا مكثنا ثلاثين عاما لا يولد لنا ولد ثم ولد لنا غلام اعور اضر شيء واقله منفعة تنام عيناه ولا ينام قلبه . قال فخرجنا من عندهما فاذا هو منجدل في الشمس في قطيفة له وله همهمة فكشف عن راسه فقال ما قلتما قلنا وهل سمعت ما قلنا قال نعم تنام عيناى ولا ينام قلبي . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث حماد بن سلمة
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কোন একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল সাহাবী নিয়ে ইবনু সাইয়্যাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-ও ছিলেন। সে তখন মাগালা’ গোত্রের দুর্গের পাশে বালকদের সাথে খেলা করছিল। সেও তখন কিশোর ছিল। সে সাড়া পাওয়ার আগেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিয়ে তার পিঠে হাত চাপড় দিয়ে প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসূল? ইবনু সাইয়্যাদ তার দিকে দৃষ্টিপাত করে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নিরক্ষরদের রাসূল! বর্ণনাকারী বলেন, এরপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আমিও আল্লাহর রাসূল? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তো আল্লাহ ও তার রাসূলদের প্রতি ঈমান এনেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আবার প্রশ্ন করলেনঃ তোমার নিকট কী আসে? ইবনু সাইয়্যাদ বলল, আমার নিকট সত্যবাদীও আসে মিথ্যাবাদীও আসে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার বিষয়টা তালগোল পাকিয়ে গেছে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি একটি বিষয় তোমার জন্য ঠিক করে রেখেছি। বলতো তা কি? এই বলে তিনি মনে মনে পাঠ করলেনঃ “আকাশ সেদিন স্পষ্ট ধোয়ায় ছেয়ে যাবে" (সূরাঃ আদ-দুখান— ১০)। উত্তরে ইবনু সাইয়্যাদ বলল, সেটা তো “আদ-দুখ” (ধোঁয়া)। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দূর হও! তুই কখনো তোর ভাগ্যকে অতিক্রম করতে পারবি না। উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে সম্মতি দিন, একে মেরে ফেলি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে যদি সত্যিই (দাজ্জাল) হয়ে থাকে তাহলে তার উপর তুমি জয়লাভ করতে পারবে না। আর সে তা না হয়ে থাকলে তবে তাকে মেরে ফেলায় তোমার কোন কল্যাণ নেই। আবদুর রাযযাক বলেন, শব্দটিতে দাজ্জাল বুঝান হয়েছে। সহীহ, সহীহ আদাবুল মুফরাদ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا عبد بن حميد، اخبرنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن سالم، عن ابن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم مر بابن صياد في نفر من اصحابه فيهم عمر بن الخطاب وهو يلعب مع الغلمان عند اطم بني مغالة وهو غلام فلم يشعر حتى ضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم ظهره بيده ثم قال " اتشهد اني رسول الله " . فنظر اليه ابن صياد فقال اشهد انك رسول الاميين . ثم قال ابن صياد للنبي صلى الله عليه وسلم اتشهد انت اني رسول الله فقال النبي صلى الله عليه وسلم " امنت بالله وبرسله " . ثم قال النبي صلى الله عليه وسلم " ما ياتيك " . قال ابن صياد ياتيني صادق وكاذب . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " خلط عليك الامر " . ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اني خبات لك خبييا " . وخبا له : (يوم تاتي السماء بدخان مبين ) فقال ابن صياد هو الدخ . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اخسا فلن تعدو قدرك " . قال عمر يا رسول الله ايذن لي فاضرب عنقه . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان يك حقا فلن تسلط عليه وان لا يكنه فلا خير لك في قتله " . قال عبد الرزاق يعني الدجال . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুনিয়াতে এখন যে সকল ব্যক্তি জীবিত আছে, শতবছর পর এদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। সহীহ, রাওযুন নামীর (১১০০), সহীহ আদাবুল মুফরাদ (৭৫৫), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু উমার, আবূ সাঈদ ও বুরাইদা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান।
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ابي سفيان، عن جابر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما على الارض نفس منفوسة - يعني اليوم تاتي عليها ماية سنة " . قال وفي الباب عن ابن عمر وابي سعيد وبريدة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن
। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, কোন একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জীবনের শেষ পর্যায়ে আমাদের নিয়ে এশার নামায আদায় করেন। তিনি সালাম ফিরিয়ে খুতবাহ দিতে দাড়িয়ে বললেনঃ তোমরা কি আজকের এই রাতের প্রতি লক্ষ্য করছ? এখন যে সকল ব্যক্তি বেঁচে আছে শতবছর পর তারা আর দুনিয়ার বুকে বেঁচে থাকবে না। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য “শতবছরের” বিষয়ে লোকেরা আলাপ-আলোচনায় লিপ্ত হয়ে ভুল করে বসে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীঃ “শতবছর পর কেউ দুনিয়াতে বেঁচে থাকবে না"-এর তাৎপর্য হলোঃ বর্তমানের এই শতাব্দীটি তখন সমাপ্ত হয়ে যাবে। সহীহ, (রাওয), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।
حدثنا عبد بن حميد، اخبرنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن سالم بن عبد الله، وابي، بكر بن سليمان وهو ابن ابي حثمة ان عبد الله بن عمر، قال صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة صلاة العشاء في اخر حياته فلما سلم قال " ارايتكم ليلتكم هذه على راس ماية سنة منها لا يبقى ممن هو على ظهر الارض احد " . قال ابن عمر فوهل الناس في مقالة رسول الله صلى الله عليه وسلم تلك فيما يتحدثونه من هذه الاحاديث عن ماية سنة وانما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا يبقى ممن هو اليوم على ظهر الارض احد " . يريد بذلك ان ينخرم ذلك القرن . قال ابو عيسى هذا حديث صحيح
। উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাতাসকে তোমরা গালি দিও না। অপছন্দনীয় কোন কিছু দেখতে পেলে তোমরা এই দুআ পড়বে, “হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট আকাঙ্ক্ষা করি এ বাতাসের কল্যাণ, এর মধ্যে যে কল্যাণ নিহিত আছে তা এবং সে যে বিষয়ে আদেশ প্রাপ্ত হয়েছে তার কল্যাণ। আমরা এ বাতাসের অকল্যাণ হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, এর মধ্যে নিহিত ক্ষতি হতে এবং সে যে বিষয়ে আদেশ প্রাপ্ত হয়েছে তার অকল্যাণ হতে"। সহীহ, মিশকাত (১৫১৮), সহীহাহ (২৭৫৬), রাওযুন নায়ীর (১১০৭), কালিমুত তাইয়্যিব (১৫৪)। আনাস, ইবনু আব্বাস ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا اسحاق بن ابراهيم بن حبيب بن الشهيد البصري، حدثنا محمد بن فضيل، حدثنا الاعمش، عن حبيب بن ابي ثابت، عن ذر، عن سعيد بن عبد الرحمن بن ابزى، عن ابيه، عن ابى بن كعب، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا تسبوا الريح فاذا رايتم ما تكرهون فقولوا اللهم انا نسالك من خير هذه الريح وخير ما فيها وخير ما امرت به ونعوذ بك من شر هذه الريح وشر ما فيها وشر ما امرت به " . قال وفي الباب عن عايشة وابي هريرة وعثمان بن ابي العاصي وانس وابن عباس وجابر . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। ফাতিমা বিনতু কাইস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সময় মিম্বারে উঠে হাসতে হাসতে বললেনঃ আমাকে ‘তামীম আদ-দারী একটি খবর শুনিয়েছে। আমি তাতে সন্তুষ্ট হয়েছি এবং আমি তোমাদেরকেও তা শুনাতে পছন্দ করি। কোন একদিন ফিলিস্তনের কয়েকজন লোক নৌযানে চড়ে সমুদ্র বিহারে যাত্রা করেছিল। হঠাৎ সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গে তারা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং এক অচেনা দ্বীপে এসে পড়ে। তারা সে জায়গাতে এক বিচিত্র ধরনের প্রাণীর সন্ধান পায়, যার চুলগুলো ছিল চারদিকে ছড়ানো। তারা প্রশ্ন করল, তুমি কে? সে উত্তর দিল, আমি জাসসাসা (অনুসন্ধানকারী)। তারা বলল, তুমি আমাদেরকে কিছু অনুসন্ধান দাও। সে বলল, আমি তোমাদেরকে কিছু বলবও না এবং তোমাদের নিকট কিছু জানতেও চাইব না, বরং তোমরা এ জনপদের শেষ সীমানায় যাও। সে স্থানে এমন একজন লোক আছে যে তোমাদেরকে কিছু বলবে এবং তোমাদের নিকট কিছু জানার ইচ্ছা করবে। তারপর আমরা গ্রামের শেষ সীমানায় পৌছে দেখতে পেলাম, একটি লোক শিকলে বাধা আছে। সে আমাদের বলল, তোমরা (সিরিয়ার) যুগার’ নামক স্থানের ঝর্ণার খবর বল। আমরা বললাম, তা পানিপূর্ণ এবং এখনো সবেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সে বলল, বুহাইরা (তাবারিয়া উপসাগর)-এর কি সংবাদ, তা আমাকে বল। আমরা বললাম, তাও পানিপূর্ণ এবং তা হতে সবেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সে আবার বলল, জর্দান ও ফিলিস্তনের মধ্যবর্তী জায়গায় অবস্থিত বাইসান’ নামক খেজুর বাগানের খবর বল। তাতে কি ফল উৎপন্ন হয়? আমরা বললাম, হ্যাঁ। সে আবার প্রশ্ন করল, নবী প্রসঙ্গে বল, তিনি কি প্রেরিত হয়েছেন? আমরা বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, তার নিকট জনগণ ভিড়ছে কেমন? আমরা বললাম, খুবই দ্রুত। বর্ণনাকারী বলেন, একথা শুনে সে এমন এক লাফ দিল যে, শৃঙ্খল প্রায় ছিন্ন করে ফেলেছিল। আমরা তাকে প্রশ্ন করলাম, তুমি কে? সে বলল, আমি দাজ্জাল। সে তাইবা ব্যতীত সমস্ত শহরেই প্রবেশ করবে। তাইবা হলো মাদীনা মুনাওয়ারা। সহীহ, “কিচ্ছাতু নুযুলে ঈসা আলাইহিস সালাম” মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং কাতাদা-শাবীর সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াত হিসাবে গরীব। এ হাদীসটি ফাতিমা বিনতু কাইস (রাঃ) হতে শাবীর সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا معاذ بن هشام، حدثنا ابي، عن قتادة، عن الشعبي، عن فاطمة بنت قيس، ان نبي الله صلى الله عليه وسلم صعد المنبر فضحك فقال " ان تميما الداري حدثني بحديث ففرحت فاحببت ان احدثكم حدثني ان ناسا من اهل فلسطين ركبوا سفينة في البحر فجالت بهم حتى قذفتهم في جزيرة من جزاير البحر فاذا هم بدابة لباسة ناشرة شعرها فقالوا ما انت قالت انا الجساسة . قالوا فاخبرينا . قالت لا اخبركم ولا استخبركم ولكن ايتوا اقصى القرية فان ثم من يخبركم ويستخبركم . فاتينا اقصى القرية فاذا رجل موثق بسلسلة فقال اخبروني عن عين زغر . قلنا ملاى تدفق . قال اخبروني عن البحيرة قلنا ملاى تدفق . قال اخبروني عن نخل بيسان الذي بين الاردن وفلسطين هل اطعم قلنا نعم . قال اخبروني عن النبي هل بعث قلنا نعم . قال اخبروني كيف الناس اليه قلنا سراع . قال فنز نزوة حتى كاد . قلنا فما انت قال انه الدجال وانه يدخل الامصار كلها الا طيبة . وطيبة المدينة " . قال ابو عيسى وهذا حديث صحيح غريب من حديث قتادة عن الشعبي وقد رواه غير واحد عن الشعبي عن فاطمة بنت قيس
। হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মু'মিন ব্যক্তির জন্য নিজেকে অপমানিত করাটা শোভনীয় নয়। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, সে নিজেকে কিভাবে অপমানিত করে? তিনি বললেনঃ এমন কঠিন বিষয়ে লিপ্ত হওয়া যার সামর্থ্য তার নেই। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪০১৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عمرو بن عاصم، حدثنا حماد بن سلمة، عن علي بن زيد، عن الحسن، عن جندب، عن حذيفة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا ينبغي للمومن ان يذل نفسه " . قالوا وكيف يذل نفسه . قال " يتعرض من البلاء لما لا يطيق " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে নির্যাতন হোক কিংবা নির্যাতিতই হোক না কেন। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। নির্যাতিতকে তো সাহায্য করবই কিন্তু অত্যাচারীকে কেমন করে সাহায্য করতে পারি? তিনি বললেনঃ তাকে অত্যাচার করা হতে বিরত রাখাই তার জন্য তোমার সাহায্য। সহীহ, ইরওয়া (২৪৪৯), রাওযুন নায়ীর (৩২), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن حاتم المكتب، حدثنا محمد بن عبد الله الانصاري، حدثنا حميد الطويل، عن انس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " انصر اخاك ظالما او مظلوما " . قلنا يا رسول الله نصرته مظلوما فكيف انصره ظالما قال " تكفه عن الظلم فذاك نصرك اياه " . قال وفي الباب عن عايشة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গ্রামে বসবাসকারী ব্যক্তি হয় কঠোর প্রকৃতির। শিকারের পিছনে লেগে থাকা ব্যক্তি হয় অসচেতন। আর রাজ-দরবারে গমনকারী ব্যক্তি বিপদে জড়িয়ে যায়। সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৭০১), সহীহ আবূ দাউদ (২৫৪৭)। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র সুফিয়ান সাওরীর সূত্রেই জেনেছি।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا سفيان، عن ابي موسى، عن وهب بن منبه، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من سكن البادية جفا ومن اتبع الصيد غفل ومن اتى ابواب السلاطين افتتن " . قال وفي الباب عن ابي هريرة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب من حديث ابن عباس لا نعرفه الا من حديث الثوري
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা অবশ্যই সাহায্যপ্রাপ্ত হবে, বিপদগ্ৰস্তও হবে এবং তোমাদের মাধ্যমে অনেক জায়গা বিজিতও হবে। তোমাদের মধ্যে কেউ যদি সেই যুগ পায় তাহলে সে যেন আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করে এবং সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎ কাজে বাধা প্রদান করে। আর যে লোক ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করে সে যেন জাহান্নামেই তার থাকার জায়গা তৈরী করে নেয়। সহীহ, সহীহাহ (১৩৮৩), দেখুন হাদীস নং (২৮০৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، انبانا شعبة، عن سماك بن حرب، قال سمعت عبد الرحمن بن عبد الله بن مسعود، يحدث عن ابيه، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " انكم منصورون ومصيبون ومفتوح لكم فمن ادرك ذلك منكم فليتق الله وليامر بالمعروف ولينه عن المنكر ومن كذب على متعمدا فليتبوا مقعده من النار " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا الوليد بن مسلم، وعبد الله بن عبد الرحمن بن يزيد بن جابر، دخل حديث احدهما في حديث الاخر عن عبد الرحمن بن يزيد بن جابر عن يحيى بن جابر الطايي عن عبد الرحمن بن جبير عن ابيه جبير بن نفير عن النواس بن سمعان الكلابي قال ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الدجال ذات غداة فخفض فيه ورفع حتى ظنناه في طايفة النخل . قال فانصرفنا من عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم رجعنا اليه فعرف ذلك فينا فقال " ما شانكم " . قال قلنا يا رسول الله ذكرت الدجال الغداة فخفضت فيه ورفعت حتى ظنناه في طايفة النخل . قال " غير الدجال اخوف لي عليكم ان يخرج وانا فيكم فانا حجيجه دونكم وان يخرج ولست فيكم فامرو حجيج نفسه والله خليفتي على كل مسلم انه شاب قطط عينه قايمة شبيه بعبد العزى بن قطن فمن راه منكم فليقرا فواتح سورة اصحاب الكهف قال يخرج ما بين الشام والعراق فعاث يمينا وشمالا يا عباد الله اثبتوا " . قال قلنا يا رسول الله وما لبثه في الارض قال " اربعين يوما يوم كسنة ويوم كشهر ويوم كجمعة وساير ايامه كايامكم " . قال قلنا يا رسول الله ارايت اليوم الذي كالسنة اتكفينا فيه صلاة يوم قال " لا ولكن اقدروا له " . قال قلنا يا رسول الله فما سرعته في الارض قال " كالغيث استدبرته الريح فياتي القوم فيدعوهم فيكذبونه ويردون عليه قوله فينصرف عنهم فتتبعه اموالهم فيصبحون ليس بايديهم شيء ثم ياتي القوم فيدعوهم فيستجيبون له ويصدقونه فيامر السماء ان تمطر فتمطر ويامر الارض ان تنبت فتنبت فتروح عليهم سارحتهم كاطول ما كانت ذرى وامده خواصر وادره ضروعا قال ثم ياتي الخربة فيقول لها اخرجي كنوزك فينصرف منها فتتبعه كيعاسيب النحل ثم يدعو رجلا شابا ممتليا شبابا فيضربه بالسيف فيقطعه جزلتين ثم يدعوه فيقبل يتهلل وجهه يضحك فبينما هو كذلك اذ هبط عيسى ابن مريم عليه السلام بشرقي دمشق عند المنارة البيضاء بين مهرودتين واضعا يديه على اجنحة ملكين اذا طاطا راسه قطر واذا رفعه تحدر منه جمان كاللولو قال ولا يجد ريح نفسه يعني احد الا مات وريح نفسه منتهى بصره قال فيطلبه حتى يدركه بباب لد فيقتله قال فيلبث كذلك ما شاء الله . قال ثم يوحي الله اليه ان حرز عبادي الى الطور فاني قد انزلت عبادا لي لا يدان لاحد بقتالهم . قال ويبعث الله ياجوج وماجوج وهم كما قال الله: ( من كل حدب ينسلون ) . قال فيمر اولهم ببحيرة الطبرية فيشرب ما فيها ثم يمر بها اخرهم فيقول لقد كان بهذه مرة ماء ثم يسيرون حتى ينتهوا الى جبل بيت المقدس فيقولون لقد قتلنا من في الارض هلم فلنقتل من في السماء . فيرمون بنشابهم الى السماء فيرد الله عليهم نشابهم محمرا دما ويحاصر عيسى ابن مريم واصحابه حتى يكون راس الثور يوميذ خيرا لاحدهم من ماية دينار لاحدكم اليوم . قال فيرغب عيسى ابن مريم الى الله واصحابه قال فيرسل الله اليهم النغف في رقابهم فيصبحون فرسى موتى كموت نفس واحدة قال ويهبط عيسى واصحابه فلا يجد موضع شبر الا وقد ملاته زهمتهم ونتنهم ودماوهم قال فيرغب�� عيسى الى الله واصحابه قال فيرسل الله عليهم طيرا كاعناق البخت قال فتحملهم فتطرحهم بالمهبل ويستوقد المسلمون من قسيهم ونشابهم وجعابهم سبع سنين قال ويرسل الله عليهم مطرا لا يكن منه بيت وبر ولا مدر قال فيغسل الارض فيتركها كالزلفة قال ثم يقال للارض اخرجي ثمرتك وردي بركتك . فيوميذ تاكل العصابة من الرمانة ويستظلون بقحفها ويبارك في الرسل حتى ان الفيام من الناس ليكتفون باللقحة من الابل وان القبيلة ليكتفون باللقحة من البقر وان الفخذ ليكتفون باللقحة من الغنم فبينما هم كذلك اذ بعث الله ريحا فقبضت روح كل مومن ويبقى ساير الناس يتهارجون كما تتهارج الحمر فعليهم تقوم الساعة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب لا نعرفه الا من حديث عبد الرحمن بن يزيد بن جابر