Loading...

Loading...
বইসমূহ
১১২ হাদিসসমূহ
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন এক ফিতনার সৃষ্টি হবে, যা পুরো আরবকে গ্রাস করবে। এতে নিহত ব্যক্তিরা হবে জাহান্নামী। তখন জিহবা হবে তরবারির চাইতেও মারাত্মক। যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩৯৬৭) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে বলতে শুনেছি, এ হাদীস ব্যতীত যিয়াদ ইবনু সীমীন কোশের বর্ণিত আরো হাদীস আছে বলে আমাদের জানা নেই। হাম্মাদ ইবনু সালামা (রাহঃ) লাইস হতে মারফুরূপে এবং হাম্মাদ ইবনু যাইদ (রাহঃ) লাইস হতে মাওকুফ হিসেবে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
حدثنا عبد الله بن معاوية الجمحي، حدثنا حماد بن سلمة، عن ليث، عن طاوس، عن زياد بن سيمين، كوش عن عبد الله بن عمرو، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " تكون فتنة تستنظف العرب قتلاها في النار اللسان فيها اشد من السيف " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب . سمعت محمد بن اسماعيل يقول لا يعرف لزياد بن سيمين كوش غير هذا الحديث رواه حماد بن سلمة عن ليث فرفعه ورواه حماد بن زيد عن ليث فوقفه
। হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিন বলেন, কোন একদিন আমাদের সামনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি হাদীস বর্ণনা করেন। আমি এ দুটির মধ্যে একটিকে প্রকাশিত হতে দেখেছি এবং অপরটির অপেক্ষায় আছি। তিনি বলেনঃ নিশ্চয়ই মানুষের হৃদয়মূলে আমানাত অবতীর্ণ হয়। তারপর কুরআন অবতীর্ণ হয়। সুতরাং তারা কুরআনের শিক্ষা অর্জন করে এবং সুন্নাহ (হাদীস) সম্বন্ধেও শিক্ষা অর্জন করে। তারপর আমানাত তুলে নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ ঘুমিয়ে যাবে এবং এই অবস্থায় তার হৃদয় হতে আমানাত তুলে নেয়া হবে। আর এর চিহ্নটা হবে কালো বিন্দুর মতো। তারপর সে নিদ্রামগ্ন হবে এবং আমানাত তুলে নেয়া হবে। এতে ফোসকার ন্যায় চিহ্ন পড়বে, যেমন জ্বলন্ত অঙ্গার তোমার পায়ে রাখা হলে ফোসকা পড়ে। তুমি তা স্ফীত অবস্থায় দেখতে পাও কিন্তু তার ভিতরে কিছুই নেই। তারপর তিনি তার পায়ে একটি শিলাখণ্ড রেখে দেখান। তিনি আরো বলেন, মানুষেরা ব্যবসা-বাণিজ্য ও কেনা-বেচা করবে কিন্তু কেউই আমানাত রক্ষা করবে না। এমনকি বলা হবে অমুক গোত্রে একজন বিশ্বস্ত ও আমানতদার লোক আছে। এরকম পরিস্থিতি দাড়াবে যে, কারো প্রসঙ্গে বলা হবে, সে কত বড় জ্ঞানী, সে কত হুশিয়ার এবং সে কত সাহসী। অথচ তার অন্তরে সরিষা পরিমাণ ঈমানও থাকবে না। হুযাইফা (রাঃ) বলেন, আমার উপর দিয়ে এমন একটি সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন আমি তোমাদের কারো সাথে বেচা-কেনার চিন্তা করতাম না। কেননা, সে ব্যক্তি মুসলিম হলে তার দ্বীনদারিই তাকে আমার প্রাপ্য ফিরত দিতে বাধ্য করত। আর সে ইয়াহুদী বা খৃস্টান হলে তার শাসকই তাকে আমার প্রাপ্য আদায় করে দিত। কিন্তু এখন আমি অমুক অমুক লোক ব্যতীত তোমাদের কারো সাথে কেনা-বেচা ও ব্যবসা-বাণিজ্য করি না। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن زيد بن وهب، عن حذيفة بن اليمان، حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثين قد رايت احدهما وانا انتظر الاخر حدثنا " ان الامانة نزلت في جذر قلوب الرجال ثم نزل القران فعلموا من القران وعلموا من السنة " . ثم حدثنا عن رفع الامانة فقال " ينام الرجل النومة فتقبض الامانة من قلبه فيظل اثرها مثل الوكت ثم ينام نومة فتقبض الامانة من قلبه فيظل اثرها مثل المجل كجمر دحرجته على رجلك فنفطت فتراه منتبرا وليس فيه شيء " . ثم اخذ حصاة فدحرجها على رجله قال " فيصبح الناس يتبايعون لا يكاد احدهم يودي الامانة حتى يقال ان في بني فلان رجلا امينا وحتى يقال للرجل ما اجلده واظرفه واعقله وما في قلبه مثقال حبة من خردل من ايمان " . قال ولقد اتى على زمان وما ابالي ايكم بايعت فيه لين كان مسلما ليردنه على دينه ولين كان يهوديا او نصرانيا ليردنه على ساعيه فاما اليوم فما كنت لابايع منكم الا فلانا وفلانا . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ ওয়াকিদ আল-লাইসী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, হুনাইনের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাত্রা শুরু করলেন। তিনি মুশরিকদের একটি গাছের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই গাছটিকে যাতু আনওয়াত' বলা হতো। তারা এর মধ্যে তাদের অস্ত্রসমূহ লটকিয়ে রাখত। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তাদের যাতু আনওয়াতের মতো আমাদের জন্য একটা যাতু আনওয়াতের ব্যবস্থা করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! এটা তো মূসা (আঃ)-এর উন্মাতের কথার মতো হলো। তারা বলেছিল, কাফিরদের যেমন অনেক উপাস্য রয়েছে তদ্রুপ আমাদেরও উপাস্যের ব্যবস্থা করে দিন। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীগণের নীতি অবলম্বন করবে। সহীহ, যিলালুল জান্নাহ (৭৬), মিশকাত (৫৩৬৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্! আবূ ওয়াকিদ আল-লাইসীর নাম আল-হারিস ইবনু আওফ। আবূ সাঈদ ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا سعيد بن عبد الرحمن المخزومي، حدثنا سفيان، عن الزهري، عن سنان بن ابي سنان، عن ابي واقد الليثي، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لما خرج الى خيبر مر بشجرة للمشركين يقال لها ذات انواط يعلقون عليها اسلحتهم فقالوا يا رسول الله اجعل لنا ذات انواط كما لهم ذات انواط . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " سبحان الله هذا كما قال قوم موسى : (اجعل لنا الها كما لهم الهة ) والذي نفسي بيده لتركبن سنة من كان قبلكم " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وابو واقد الليثي اسمه الحارث بن عوف . وفي الباب عن ابي سعيد وابي هريرة
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত না হিংস্র প্রাণী মানুষের সাথে কথা বলবে, যে পর্যন্ত না কারো চাবুকের মাথা এবং জুতার ফিতা তার সাথে কথা বলবে এবং তার উরুদেশ বলে দিবে তার অনুপস্থিতিতে তার পরিবার কি করেছে। সহীহ, সহীহাহ (১২২), মিশকাত (৫৪৫৯)। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। কেননা, এ হাদীসটি আল-কাসিম ইবনুল ফাযলের রিওয়ায়াত ব্যতীত আমাদের জানা নেই। হাদীস বিশারদদের মতে আল-কাসিম ইবনুল ফাযল নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান ও আবদুর রাহমান ইবনু মাহদী তাকে সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) বর্ণনাকারী বলেছেন।
حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا ابي، عن القاسم بن الفضل، حدثنا ابو نضرة العبدي، عن ابي سعيد الخدري، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " والذي نفسي بيده لا تقوم الساعة حتى تكلم السباع الانس وحتى تكلم الرجل عذبة سوطه وشراك نعله وتخبره فخذه بما احدث اهله من بعده " . قال ابو عيسى وفي الباب عن ابي هريرة . وهذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث القاسم بن الفضل . والقاسم بن الفضل ثقة مامون عند اهل الحديث وثقه يحيى بن سعيد القطان وعبد الرحمن بن مهدي
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলে একদা চাঁদ বিদীর্ণ হলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা সাক্ষী থাকো। সহীহ, মুসলিম (৮/১৩৩)। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু মাসউদ, আনাস ও জুবাইর ইবনু মুতইম (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদিসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، عن شعبة، عن الاعمش، عن مجاهد، عن ابن عمر، قال انفلق القمر على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اشهدوا " . قال ابو عيسى وفي الباب عن ابن مسعود وانس وجبير بن مطعم . وهذا حديث حسن صحيح
। হুযাইফা ইবনু উসাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কোন একদিন কিয়ামত প্রসঙ্গে আমরা কথা-বার্তা বলছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরকম সময় তার ঘর হতে বেরিয়ে আমাদের সামনে এলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা দশটি নিদর্শন না দেখা পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে নাঃ (১) পশ্চিম প্রান্ত হতে সূর্য উঠবে, (২) ইয়াজুজ ও মাজুজের আত্মপ্রকাশ ঘটবে, (৩) দাব্বাতুল আরদ নামক প্রাণীর আত্মপ্রকাশ ঘটবে, তিনটি ভুমি ধস হবেঃ (৪) একটি প্রাচ্যে (৫) একটি পাশ্চাত্যে এবং (৬) একটি আরব উপদ্বীপে, (৭) ইয়ামানের অন্তর্গত আদন (এডেন)-এর একটি গভীর কূপ হতে অগ্লুৎপাত হবে, যা মানুষকে তাড়িয়ে নেবে বা একত্র করবে, তারা যেখানে রাত্রি যাপন করবে আগুনও সেখানে রাত্রি কাটাবে এবং তারা যেখানে দিনের বেলায় বিশ্রাম করবে, আগুনও সেখানেই বিশ্রাম করবে। সহীহ, মুসলিম (৮/১৭৮-১৭৯)। উপরোক্ত হাদীসের মতো হাদীস মাহমূদ ইবনু গাইলান-ওয়াকী হতে, তিনি সুফিয়ান (রাহঃ) হতে এই সনদসূত্রে বর্ণিত আছে। তাতে আছেঃ আদ-দুখান অর্থাৎ ধোয়া নির্গত হবে। এ বর্ণনাটিও সহীহ। হান্নাদ-আবূল আহওয়াস হতে, তিনি ফুরাত আল-কাযযায (রহঃ)-এর সূত্রেও সুফিয়ান হতে ওয়াকী (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের ন্যায় বর্ণিত আছে। মাহমূদ ইবনু গাইলান-আবূ দাউদ আত-তাইয়ালিসী হতে, তিনি শুবা ও মাসউদী-ফুরাত আল-কাযযায (রহঃ) হতে ফুরাতের সূত্রে সুফিয়ান বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদীসের মতো হাদীস বর্ণিত আছে। এই বর্ণনায় দাজ্জাল ও ধোয়ার উল্লেখ আছে। এ বর্ণনাটিও সহীহ। আবূ মূসা মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না-আবূন নুমান আল-হাকাম ইবনু আবদুল্লাহ আল-ইজলী হতে, তিনি শুবা হতে, তিনি ফুরাত (রাহঃ)-এর সূত্রে আবূ দাউদ-শুবা (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে আরো আছেঃ “কিয়ামতের দশম নিদর্শন হলো এমন প্রবল বাতাস যা তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে অথবা ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ)-এর অবতরণ"। সহীহ, প্রাগুক্ত। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আলী, আবূ হুরাইরা, উম্মু সালামা ও সাফিয়্যা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا بندار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا سفيان، عن فرات القزاز، عن ابي الطفيل، عن حذيفة بن اسيد، قال اشرف علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم من غرفة ونحن نتذاكر الساعة فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لا تقوم الساعة حتى تروا عشر ايات طلوع الشمس من مغربها وياجوج وماجوج والدابة وثلاثة خسوف خسف بالمشرق وخسف بالمغرب وخسف بجزيرة العرب ونار تخرج من قعر عدن تسوق الناس او تحشر الناس فتبيت معهم حيث باتوا وتقيل معهم حيث قالوا " . حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا وكيع، عن سفيان، عن فرات، نحوه وزاد فيه " الدخان " . حدثنا هناد، حدثنا ابو الاحوص، عن فرات القزاز، نحو حديث وكيع عن سفيان، . حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود الطيالسي، عن شعبة، والمسعودي، سمعا من، فرات القزاز نحو حديث عبد الرحمن عن سفيان عن فرات وزاد فيه " الدجال او الدخان " . حدثنا ابو موسى، محمد بن المثنى حدثنا ابو النعمان الحكم بن عبد الله العجلي، عن شعبة، عن فرات، نحو حديث ابي داود عن شعبة، وزاد، فيه قال " والعاشرة اما ريح تطرحهم في البحر واما نزول عيسى ابن مريم " . قال ابو عيسى وفي الباب عن علي وابي هريرة وام سلمة وصفية بنت حيى . وهذا حديث حسن صحيح
। সাফিয়্যা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলার এই ঘরের (কাবা) বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করা হতে মানুষ বিরত থাকবে না। অবশেষে একটি বাহিনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে যখন বাইদা নামক উপত্যকা অথবা উন্মুক্ত প্রান্তরে হাযির হবে তখন তাদের সম্মুখ-পিছনের সবাইকে নিয়ে যমীন ধসে যাবে। তাদের মধ্যভাগের মানুষও মুক্তি পাবে না। আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! তাদের মধ্যে যেসব ব্যক্তি জোর-জবরদস্তির ফলে বাধ্য হয়ে অংশগ্রহণ করবে তাদের কি হবে? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে তাদের অন্তরের নিয়্যাত অনুসারে পুনরুত্থান করবেন। সহীহ, তা’লীক আলা ইবনু মা-জাহ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو نعيم، حدثنا سفيان، عن سلمة بن كهيل، عن ابي ادريس المرهبي، عن مسلم بن صفوان، عن صفية، قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا ينتهي الناس عن غزو هذا البيت حتى يغزو جيش حتى اذا كانوا بالبيداء او ببيداء من الارض خسف باولهم واخرهم ولم ينج اوسطهم " . قلت يا رسول الله فمن كره منهم قال " يبعثهم الله على ما في انفسهم " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এই উম্মাতের শেষ পর্যায়ে ভূমিধস, শারীরিক অবয়ব বিকৃতি ও পাথর বর্ষণের শাস্তি নিপতিত হবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল আমাদের মাঝে সৎলোক বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কি আমাদের ধ্বংস করে দেয়া হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যখন ঘৃণ্য পাপাচারের প্রকাশ ও ব্যাপক প্রসার ঘটবে। সহীহ, সহীহাহ (৯৮৭), রাওযুল নামীর (২/৩৯৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি আইশা (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই জেনেছি। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমার আল-উমারীর স্মৃতিশক্তি দুর্বল বলে সমালোচনা করেছেন (অবশ্য তার ছোট ভাই উবাইদুল্লাহ একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী)।
حدثنا ابو كريب، حدثنا صيفي بن ربعي، عن عبد الله بن عمر، عن عبيد الله بن عمر، عن القاسم بن محمد، عن عايشة، قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يكون في اخر هذه الامة خسف ومسخ وقذف " . قالت قلت يا رسول الله انهلك وفينا الصالحون قال " نعم اذا ظهر الخبث " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب من حديث عايشة لا نعرفه الا من هذا الوجه . وعبد الله بن عمر تكلم فيه يحيى بن سعيد من قبل حفظه
। আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ কোন একদিন আমি সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় মসজিদে গেলাম। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে বসা অবস্থায় ছিলেন। তিনি বললেনঃ হে আবূ যার! তুমি কি জান এই সূর্য কোথায় যায়? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ সে (আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে) সাজদার অনুমতি প্রার্থনা করতে যায়। তারপর তাকে সম্মতি প্রদান করা হয় এবং তাকে যেন বলা হয়, তুমি যে প্রান্তে এসেছ সে প্রান্ত হতেই উদিত হও। সে তখন পশ্চিম প্রান্ত হতে উদিত হবে। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ “এবং এটাই তার নির্দিষ্ট গন্তব্য স্থল।" (সূরাঃ ইয়াসীন-৩৮)। তিনি (আবূ যার) বলেন, এটি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের কিরা'আত। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, সাফওয়ান ইবনু আসসাল, হুযাইফা ইবনু উসাইদ, আনাস ও আবূ মূসা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ابراهيم التيمي، عن ابيه، عن ابي ذر، قال دخلت المسجد حين غابت الشمس والنبي صلى الله عليه وسلم جالس فقال " يا ابا ذر اتدري اين تذهب هذه " . قال قلت الله ورسوله اعلم . قال " فانها تذهب تستاذن في السجود فيوذن لها وكانها قد قيل لها اطلعي من حيث جيت فتطلع من مغربها " . قال ثم قرا " وذلك مستقر لها " . قال وذلك قراءة عبد الله بن مسعود . قال ابو عيسى وفي الباب عن صفوان بن عسال وحذيفة بن اسيد وانس وابي موسى . وهذا حديث حسن صحيح
। যাইনাব বিনতু জাহশ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, কোন একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম হতে জাগ্রত হলেন, তখন তার মুখমণ্ডল রক্তিমবর্ণ ধারণ করেছিল। তিনি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে লাগলেন। তা তিনবার বলার পর তিনি বললেনঃ ঘনিয়ে আসা দুর্যোগে আরবদের দুর্ভাগ্য। আজ ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীর এতটুকু পরিমাণ ফাক হয়ে গেছে। এই বলে তিনি তর্জনী ও বৃদ্ধাঙ্গুলের সাহায্যে দশ সংখ্যার বৃত্ত করে ইঙ্গিত করেন। যাইনাব (রাঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমাদের মধ্যে সৎ লোক থাকাবস্থায়ও কি আমরা হবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যখন পাপাচারের বিস্তার ঘটবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯৫৩), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটিকে সুফিয়ান (রাহঃ) উত্তম বলে মন্তব্য করেছেন। হুমাইদী, আলী ইবনুল মাদীনী এবং আরোও অনেকে সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। হুমাইদী বলেন, সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা বলেছেন, আমি এ হাদীসের সনদে চারজন মহিলার নাম যুহরীর নিকট হতে মুখস্থ করেছি। যাইনাব বিনতু আবূ সালামা ও হাবীব দুজনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্নীকন্যা (তাদের পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত) ছিলেন। উম্মু হাবীবা ও যাইনাব বিনতি জাহশ (রাঃ) হতে বর্ণনা করা হয়েছে। তারা দুজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী ছিলেন। এ হাদীসটি যুহরীর সূত্রে মামার আরোও অনেকে বর্ণনা করেছেন কিন্তু তারা সনদে হাবীবার কথা উল্লেখ করেননি। এই হাদীসটি ইবনু উয়াইনার কোন কোন শিষ্য ইবনু উয়াইনার সূত্রে বর্ণনা করেছেন কিন্তু তারা সনদে উম্মু হাবীবা (রাঃ)-এর নাম উল্লেখ করেননি।
حدثنا سعيد بن عبد الرحمن المخزومي، وابو بكر بن نافع وغير واحد قالوا حدثنا سفيان بن عيينة، عن الزهري، عن عروة بن الزبير، عن زينب بنت ابي سلمة، عن حبيبة، عن ام حبيبة، عن زينب بنت جحش، قالت استيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم من نوم محمرا وجهه وهو يقول " لا اله الا الله يرددها ثلاث مرات ويل للعرب من شر قد اقترب فتح اليوم من ردم ياجوج وماجوج مثل هذه " وعقد عشرا . قالت زينب قلت يا رسول الله افنهلك وفينا الصالحون قال " نعم اذا كثر الخبث " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وقد جود سفيان هذا الحديث . هكذا روى الحميدي وعلي بن المديني وغير واحد من الحفاظ عن سفيان بن عيينة نحو هذا . وقال الحميدي قال سفيان بن عيينة حفظت من الزهري في هذا الحديث اربع نسوة زينب بنت ابي سلمة عن حبيبة وهما ربيبتا النبي صلى الله عليه وسلم عن ام حبيبة عن زينب بنت جحش زوجى النبي صلى الله عليه وسلم . وروى معمر وغيره هذا الحديث عن الزهري ولم يذكروا فيه عن حبيبة وقد روى بعض اصحاب ابن عيينة هذا الحديث عن ابن عيينة ولم يذكروا فيه عن ام حبيبة
। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শেষ যুগে আবির্ভাব ঘটবে এক সম্প্রদায়ের, যারা বয়সে হবে নবীন, বুদ্ধিতে অপরিপক্ক ও নির্বোধ হবে। তারা কুরআন তিলাওয়াত করবে কিন্তু তা তাদের গলার নীচের হাড়ও অতিক্রম করবে না। তারা সৃষ্টির সেরা মানুষের কথাই বলবে, কিন্তু তারা এমনভাবে ধর্ম হতে বেরিয়ে যাবে, যেমনভাবে তীর ধনুক হতে বেরিয়ে যায়। হাসান, সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৬৮), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আলী, আবূ সাঈদ ও আবূ যার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। উক্ত সম্প্রদায়ের ব্যাপারে এ হাদীস ব্যতীত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরো হাদীস রয়েছে, যাদের সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে, “তারা কুরআন তিলাওয়াত করবে, কিন্তু তা তাদের গলার হাড়ও অতিক্রম করবে না, যেমনিভাবে তীর ধনুক হতে বেরিয়ে যায় তেমনিভাবে তারাও ধর্ম হতে বেরিয়ে যাবে" তাদের প্রসঙ্গে উক্ত হাদীসসমূহে বলা হয়েছে যে, এরা হলো হারুরী প্রভৃতি খারিজী সম্প্রদায়।
حدثنا ابو كريب، محمد بن العلاء حدثنا ابو بكر بن عياش، عن عاصم، عن زر، عن عبد الله بن مسعود، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يخرج في اخر الزمان قوم احداث الاسنان سفهاء الاحلام يقرءون القران لا يجاوز تراقيهم يقولون من قول خير البرية يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية " . قال ابو عيسى وفي الباب عن علي وابي سعيد وابي ذر . وهذا حديث حسن صحيح . وقد روي في غير هذا الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم حيث وصف هولاء القوم الذين يقرءون القران لا يجاوز تراقيهم يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية انما هم الخوارج والحرورية وغيرهم من الخوارج
। উসাইদ ইবনু হুযাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কোন একদিন একজন আনসারী বলল, হে আল্লাহর রাসূল আপনি অমুক ব্যক্তিকে কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ করেছেন অথচ আমাকে নিয়োগ করেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা খুব শীঘ্রই আমার পরে স্বজনপ্রীতি (স্বার্থপরতা) দেখতে পাবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না হাউযে কাউসারে আমার সাথে তোমাদের দেখা হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা ধৈর্য ধারণ করতে থাক। সহীহ, আযযিলাল (৭৫২, ৭৫৩), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، حدثنا شعبة، عن قتادة، حدثنا انس بن مالك، عن اسيد بن حضير، ان رجلا، من الانصار قال يا رسول الله استعملت فلانا ولم تستعملني . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انكم سترون بعدي اثرة فاصبروا حتى تلقوني على الحوض " . قال ابو عيسى وهذا حديث حسن صحيح
। আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা খুব শীঘ্রই আমার পরে স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাতিত্ব ও তোমাদের অপছন্দনীয় অনেক বিষয় দেখতে পাবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঐ সময়ে কি করার জন্য আমাদেরকে নির্দেশ দেন? তিনি বললেনঃ তোমাদের উপর তাদের যে অধিকার রয়েছে তোমরা তা পূর্ণ করবে এবং তোমাদের অধিকার আল্লাহ্ তা'আলার নিকট প্রার্থনা করবে। সহীহ, বুখারী (৭০৫২, ৬/১৬-১৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، عن الاعمش، عن زيد بن وهب، عن عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " انكم سترون بعدي اثرة وامورا تنكرونها " . قالوا فما تامرنا يا رسول الله قال " ادوا اليهم حقهم وسلوا الله الذي لكم " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে একটু বেশী বেলা থাকতেই আসরের নামায আদায় করেন, তারপর ভাষণ দিতে দাঁড়ান। উক্ত ভাষণে কিয়ামত পর্যন্ত যেসব ঘটনা ঘটবে সেই প্রসঙ্গেই তিনি আমাদেরকে জানিয়েদেন। কেউ সেগুলো মনে রেখেছে এবং কেউ আবার তা ভুলে গেছে। তার ভাষণে তিনি যা বলেছিলেন তার মধ্যে ছিলঃ দুনিয়াটা সবুজ-শ্যামল ও সুমিষ্ট (আকর্ষণীয়), আর আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে এর উত্তোরাধিকার বানিয়েছেন। সুতরাং তোমরা কি করছ তা তিনি লক্ষ্য রাখছেন। শোন! দুনিয়া ও নারীদের ব্যাপারে সাবধান। তিনি আরো বলেনঃ সাবধান! কেউ যখন কোন সত্য কথা জানবে, তখন তাকে মানুষের ভয় যেন সেই সত্য বলা থেকে বিরত না রাখে। রাবী বলেন, এই কথা বলে আবূ সাঈদ (রাঃ) কেঁদে ফেলেন এবং বলেন, আল্লাহ তা'আলার কসম! আমরা এরকম কত কাজ হতে দেখেছি কিন্তু তা বলতে মানুষকে ভয় করেছি। তিনি আরো বলেনঃ জেনে রাখ! কিয়ামতের দিন প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য তার বিশ্বাসঘাতকতার পরিমাণ অনুযায়ী একটি করে পতাকা স্থাপন করা হবে। মুসলিম রাষ্ট্রনায়কের বিশ্বাসঘাতকতার চাইতে ভীষণ কোন বিশ্বাসঘাতকতা নেই। তার এই পতাকা তার নিতম্বের কাছে স্থাপন করা হবে। সেদিনের আরও যেসব কথা আমরা মনে রেখেছি তার মধ্যে ছিলঃ শুনে রাখ! আদম-সন্তানদেরকে বিভিন্ন শ্রেণীতে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের এক দল তো মু'মিন অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছে, মুমিন অবস্থায় জীবন যাপন করেছে এবং মু'মিন অবস্থাতেই মারা গেছে। তাদের অপর দল কাফির অবস্থায় জনগ্রহণ করেছেন, কাফির অবস্থায় জীবন কাটিয়েছে এবং কাফির অবস্থায়ই মারা গেছে। অপর দল মু'মিন অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছেন, মু'মিন অবস্থায় জীবন যাপন করেছে এবং কাফির অবস্থায় মারা গেছে। অপর দল আবার কাফির অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছে, কাফির অবস্থায় জীবন যাপন করেছে এবং মু’মিন অবস্থায় মারা গেছে। জেনে রাখ! মানুষের মধ্যে কারো রাগ আসে দেরিতে এবং চলে যায় খুব তাড়াতাড়ি। আবার কারো রাগ আসে তাড়াতাড়ি এবং চলেও যায় তাড়াতাড়ি। সুতরাং এর জন্য এই। জেনে রাখ! তাদের মধ্যে কারো রাগ আসে খুব তাড়াতাড়ি কিন্তু চলে যায় খুব দেরিতে। জেনে রাখ! তাদের মধ্যে উত্তম হল যাদের রাগ আসে দেরিতে এবং চলে যায় খুব তাড়াতাড়ি। আর তারাই খুব নিকৃষ্ট, যাদের রাগ আসে খুব তাড়াতাড়ি কিন্তু চলে যায় দেরিতে। জেনে রাখ! মানুষের মধ্যে কেউ পাওনা পরিশোধের বেলায়ও ভালো আবার পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রেও ভদ্র। আবার কেউ পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে নিকৃষ্ট কিন্তু পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে ভদ্র। আবার কেউ পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে ভদ্র কিন্তু আদায়ের ক্ষেত্রে অভদ্র। এক্ষেত্রে একটি অপরটির পরিপূরক হয়ে যায়। জেনে রাখ! তাদের মধ্যে কারো পাওনা পরিশোধ নিকৃষ্ট এবং সে তাগাদা প্রদানের ক্ষেত্রে অভদ্র। জেনে রেখ সেই সবচেয়ে ভাল, যে পাওনা পরিশোধের বেলায় ভাল এবং পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রেও ভদ্র। জেনে রাখ! তাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি খুবই খারাপ যার পাওনা পরিশোধও নিকৃষ্ট এবং যে তাগাদা প্রদানেও অভদ্র। জেনে রাখা রাগ মানুষের অন্তরের অগ্নিস্ফুলিংগর মত। তোমরা কি লক্ষ্য করনি যে, রাগাৱিত ব্যক্তির চক্ষুদ্বয় রক্তিম বর্ণ ধারণ করে এবং তার ঘাড়ের শিরাগুলো ফুলে উঠে। সুতরাং তোমাদের কেউ এরূপ অনুভব করলে সে যেন মাটিতে লুটিয়ে যায় (তাহলে রাগ কমে যাবে)। রাবী বলেন, আমরা সূর্যের দিকে তাকাতে লাগলাম যে, তা এখনো অবশিষ্ট আছে কি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জেনে রাখ! তোমাদের এই দুনিয়ার যতটুকু অতীত হয়ে গেছে, সেই হিসাবে এতটুকুও আর অবশিষ্ট নেই যতটুকু আজকে এই দিনের অতিবাহিত হয়েছে তার তুলনায় যতটুকু অবশিষ্ট আছে। যঈফ, রাদুন আল বালিক (৮৬), কিন্তু এই হাদীসের কিছু অংশ সহীহ দেখুন হাদীস নং(৪০০০), এবং মুসলিম (৮/১৭২-১৭৩) এ অনুচ্ছেদে হুযইফা, আবূ মারইয়াম (রাঃ) আবূ যাইদ ইবনু আখতাব, মুগীরা ইবনু শুবা, হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। তারা বর্ণনা করেন যে, কিয়ামোট পর্যন্ত যেসব ঘটনা সংঘটিত হবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলো তাদের নিকট বলেছেন। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ।
। মুআবিয়া ইবনু কুররা (রাহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন সিরিয়াবাসীরা খারাপ হয়ে যাবে তখন তোমাদের আর কোন কল্যাণ থাকবে না। তবে আমার উম্মাতের মধ্যে একটি দল সকল সময়েই সাহায্যপ্রাপ্ত (বিজয়ী) থাকবে। যেসব লোকেরা তাদেরকে অপমানিত করতে চায় তারা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৬)। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রাহঃ) বলেন, আলী ইবনুল মাদীনী বলেছেন, সাহায্যপ্রাপ্ত (বিজয়ী) সেই সম্প্রদায়টি হলো হাদীস বিশারদদের জামাআত (আহলুল হাদীস)। আবূ ঈসা বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু হাওয়ালা, ইবনু উমার, যাইদ ইবনু সাবিত ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটি হাসান সহীহ। আহমাদ ইবনু মানী’-ইয়াযীদ ইবনু হারূন হতে তিনি বাহয ইবনু হাকীম হতে তিনি তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে তিনি (বাহযের দাদা) বলেছেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল আপনি আমাকে কোথায় থাকতে নির্দেশ দেন? তিনি বললেন এখানে আর হাত দিয়ে সিরিয়ার দিকে ইঙ্গিত করলেন। বাহয ইবনু হাকীম (রাঃ) হতে তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, (উপরোক্ত হাদীসের বক্তব্য শুনে) আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমাকে কোন জায়গায় বসবাসের জন্য আপনি নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেনঃ এই দিকে। তিনি এই কথা বলে হাত দিয়ে সিরিয়ার দিকে ইশারা করেন। সহীহ, ফাযাইলুশশাম হাদীস নং ১৩। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، حدثنا شعبة، عن معاوية بن قرة، عن ابيه، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اذا فسد اهل الشام فلا خير فيكم لا تزال طايفة من امتي منصورين لا يضرهم من خذلهم حتى تقوم الساعة " . قال محمد بن اسماعيل قال علي بن المديني هم اصحاب الحديث . قال ابو عيسى وفي الباب عن عبد الله بن حوالة وابن عمر وزيد بن ثابت وعبد الله بن عمرو . وهذا حديث حسن صحيح . حدثنا احمد بن منيع، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا بهز بن حكيم، عن ابيه، عن جده، قال قلت يا رسول الله اين تامرني قال " ها هنا " . ونحا بيده نحو الشام . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরবর্তীতে তোমরা পরস্পর হানাহানি করে কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করো না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৯৪২-৩৯৪৩), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, জারীর, ইবনু উমার, কুরয ইবনু আলকামা ওয়াসিলা ইবনুল আসকা ও আস-সুনাবিহী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابو حفص، عمرو بن علي حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا فضيل بن غزوان، حدثنا عكرمة، عن ابن عباس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا ترجعوا بعدي كفارا يضرب بعضكم رقاب بعض " . قال ابو عيسى وفي الباب عن عبد الله بن مسعود وجرير وابن عمر وكرز بن علقمة وواثلة بن الاسقع والصنابحي . وهذا حديث حسن صحيح
। বুসর ইবনু সাঈদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, খালীফা উসমান ইবনু আফফান (রাঃ)-এর (রাজনৈতিক) বিপর্যয় ও বিদ্রোহকালে সাদ ইবনু আবী ওয়াককাস (রাঃ) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অনতিবিলম্বেই এমন এক বিপর্যয়ের আত্মপ্রকাশ ঘটবে যখন বসে থাকা ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির চেয়ে ভাল (নিরাপদ) থাকবে, দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি চলমান ব্যক্তির চেয়ে ভাল থাকবে, আর চলমান ব্যক্তি দ্রুতগামী ব্যক্তির চেয়ে ভাল থাকবে। সা'দ (রাঃ) বলেন, আপনি এ ব্যাপারে কি মনে করেন যদি ফিতনাবাজ কোন লোক আমার ঘরে প্রবেশ করে এবং আমাকে খুন করতে উদ্যত হয়? তিনি বললেনঃ তুমি আদমের ছেলের (হাবীলের) মতো হয়ে যাও। সহীহঃ ইরওয়া (৮/১০৪) আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা, খাব্বাব ইবনুল আরাত্তি, আবূ বাকরা, ইবনু মাসউদ, আবূ ওয়াকিদ, আবূ মূসা ও খারাশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীসটি লাইস ইবনু সাদের সূত্রে কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন এবং আরো একজন বর্ণনাকারীর কথা এই সনদে উল্লেখ রয়েছে। এ হাদীসটি অন্য সূত্রেও সাদ (রাঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আছে।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن عياش بن عباس، عن بكير بن عبد الله بن الاشج، عن بسر بن سعيد، ان سعد بن ابي وقاص، قال عند فتنة عثمان بن عفان اشهد ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " انها ستكون فتنة القاعد فيها خير من القايم والقايم خير من الماشي والماشي خير من الساعي " . قال افرايت ان دخل على بيتي وبسط يده الى ليقتلني . قال " كن كابن ادم " . قال ابو عيسى وفي الباب عن ابي هريرة وخباب بن الارت وابي بكرة وابن مسعود وابي واقد وابي موسى وخرشة . وهذا حديث حسن . وروى بعضهم هذا الحديث عن الليث بن سعد وزاد في الاسناد رجلا . قال ابو عيسى وقد روي هذا الحديث عن سعد عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير هذا الوجه
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অন্ধকার রাতের টুকরার ন্যায় বিপর্যয় আগমনের পূর্বেই তোমরা সৎকাজের প্রতি অগ্রসর হও। ঐ সময় যে ব্যক্তি সকাল বেলায় মু'মিন থাকবে সে সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে এবং যে ব্যক্তি সন্ধ্যা বেলায় মু'মিন থাকবে সে সকালে কাফির হয়ে যাবে। মানুষ দুনিয়াবী স্বার্থের বিনিময়ে তার ধর্ম বিক্রয় করে দিবে। সহীহ, সহীহাহ (৭৫৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " بادروا بالاعمال فتنا كقطع الليل المظلم يصبح الرجل مومنا ويمسي كافرا ويمسي مومنا ويصبح كافرا يبيع احدهم دينه بعرض من الدنيا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। উম্মু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একরাতে ঘুম হতে জাগ্রত হয়ে বললেনঃ সুবহানাল্লাহ। আজ রাতে কতই না বিপর্যয় নাযিল হয়েছে, কতই না অনুগ্রহের ভাণ্ডার অবতীর্ণ হয়েছে? এরূপ কে আছে যে এই গৃহবাসীদের জাগ্রত করবে? পৃথিবীতে অনেক পোশাক পরিহিতা, পরকালে থাকবে উলঙ্গ। সহীহ, বুখারী আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا سويد بن نصر، حدثنا عبد الله بن المبارك، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن هند بنت الحارث، عن ام سلمة، ان النبي صلى الله عليه وسلم استيقظ ليلة فقال " سبحان الله ماذا انزل الليلة من الفتنة ماذا انزل من الخزاين من يوقظ صواحب الحجرات يا رب كاسية في الدنيا عارية في الاخرة " . هذا حديث حسن صحيح
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের নিকটতম সময়ে অন্ধকার রাতের টুকরার মতো বিপর্যয়ের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। তখন যে লোক সকাল বেলায় মু'মিন থাকবে সে সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে। আর যে লোক সন্ধ্যা বেলায় মু'মিন থাকবে সকালে সে কাফির হয়ে যাবে। একদল লোক দুনিয়াবী স্বার্থের বিনিময়ে তাদের ধর্ম বিক্রয় করবে। হাসান সহীহ, সহীহাহ (৭৫৮, ৮১০)। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা, জুনদাব, নুমান ইবনু বাশীর ও আবূ মূসা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি উক্ত সূত্রে গারীব।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث بن سعد، عن يزيد بن ابي حبيب، عن سعد بن سنان، عن انس بن مالك، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " تكون بين يدى الساعة فتن كقطع الليل المظلم يصبح الرجل فيها مومنا ويمسي كافرا ويمسي مومنا ويصبح كافرا يبيع اقوام دينهم بعرض من الدنيا " . قال ابو عيسى وفي الباب عن ابي هريرة وجندب والنعمان بن بشير وابي موسى . وهذا حديث غريب من هذا الوجه
حدثنا عمران بن موسى القزاز البصري، حدثنا حماد بن زيد، حدثنا علي بن زيد بن جدعان القرشي، عن ابي نضرة، عن ابي سعيد الخدري، قال صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما صلاة العصر بنهار ثم قام خطيبا فلم يدع شييا يكون الى قيام الساعة الا اخبرنا به حفظه من حفظه ونسيه من نسيه وكان فيما قال " ان الدنيا حلوة خضرة وان الله مستخلفكم فيها فناظر كيف تعملون الا فاتقوا الدنيا واتقوا النساء " . وكان فيما قال " الا لا يمنعن رجلا هيبة الناس ان يقول بحق اذا علمه " . قال فبكى ابو سعيد فقال قد والله راينا اشياء فهبنا . وكان فيما قال " الا انه ينصب لكل غادر لواء يوم القيامة بقدر غدرته ولا غدرة اعظم من غدرة امام عامة يركز لواوه عند استه " . وكان فيما حفظنا يوميذ " الا ان بني ادم خلقوا على طبقات شتى فمنهم من يولد مومنا ويحيا مومنا ويموت مومنا ومنهم من يولد كافرا ويحيا كافرا ويموت كافرا ومنهم من يولد مومنا ويحيا مومنا ويموت كافرا ومنهم من يولد كافرا ويحيا كافرا ويموت مومنا الا وان منهم البطيء الغضب سريع الفىء ومنهم سريع الغضب سريع الفىء فتلك بتلك الا وان منهم سريع الغضب بطيء الفىء الا وخيرهم بطيء الغضب سريع الفىء الا وشرهم سريع الغضب بطيء الفىء الا وان منهم حسن القضاء حسن الطلب ومنهم سيي القضاء حسن الطلب ومنهم حسن القضاء سيي الطلب فتلك بتلك الا وان منهم السيي القضاء السيي الطلب الا وخيرهم الحسن القضاء الحسن الطلب الا وشرهم سيي القضاء سيي الطلب الا وان الغضب جمرة في قلب ابن ادم اما رايتم الى حمرة عينيه وانتفاخ اوداجه فمن احس بشيء من ذلك فليلصق بالارض " . قال وجعلنا نلتفت الى الشمس هل بقي منها شيء فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الا انه لم يبق من الدنيا فيما مضى منها الا كما بقي من يومكم هذا فيما مضى منه " . قال ابو عيسى وفي الباب عن حذيفة وابي مريم وابي زيد بن اخطب والمغيرة بن شعبة وذكروا ان النبي صلى الله عليه وسلم حدثهم بما هو كاين الى ان تقوم الساعة . وهذا حديث حسن