Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৩৯ হাদিসসমূহ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি দশবছর যাবতকাল ধরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেবা-যত্ন করেছি। তিনি আমার প্রতি কখনো উহ’ শব্দটিও উচ্চারণ করেননি (অসন্তোষ প্রকাশ করেননি)। তিনি আমার কোন কাজে কখনো অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেননি যে, এটা তুমি করলে কেন অথবা কোন কাজ ছুটে যাওয়ার কারণেও তিনি বলেননি যে, এটা তুমি কেন করলে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সবচাইতে উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মানুষ। আমি রেশম এবং পশম মিশিয়ে বানানো কাপড়ও নিজ হাতে ছুয়ে দেখেছি এবং খাটি রেশমী কাপড়ও ছুয়েছি কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতের চেয়ে অধিক নরম ও মসৃন কোন কিছু স্পর্শ করিনি। আমি মৃগনভির গন্ধও গ্রহণ করেছি এবং আতরের গন্ধও গ্রহণ করেছি কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীরের ঘামের চেয়ে অধিক সুগন্ধ কোন কিছুতেই পাইনি। সহীহ, মুখতাসার শামা-ইল (২৯৬), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আইশা ও বারাআ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا قتيبة، حدثنا جعفر بن سليمان الضبعي، عن ثابت، عن انس، قال خدمت النبي صلى الله عليه وسلم عشر سنين فما قال لي اف قط وما قال لشيء صنعته لم صنعته ولا لشيء تركته لم تركته وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم من احسن الناس خلقا ولا مسست خزا قط ولا حريرا ولا شييا كان الين من كف رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا شممت مسكا قط ولا عطرا كان اطيب من عرق النبي صلى الله عليه وسلم . قال ابو عيسى وفي الباب عن عايشة والبراء . وهذا حديث حسن صحيح
। আবূ আবদুল্লাহ আল-জাদালী (রাহঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র-মাধুর্য সম্বন্ধে আইশা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো অশ্লীল ও কটুভাষী ছিলেন না, অশ্লীল ব্যবহারও করেননি। তিনি কখনো বাজারে গিয়ে হউগোল করতেন না এবং অন্যায়ের দ্বারা অন্যায়ের প্রতিশোধ নেননি। বরং তিনি উদার মন নিয়ে ক্ষমা করে দিতেন। সহীহ, মুখতাসার শামা-ইল (২৯৮), মিশকাত (৫৮২০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ আবদুল্লাহ আবদ।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا ابو داود، قال انبانا شعبة، عن ابي اسحاق، قال سمعت ابا عبد الله الجدلي، يقول سالت عايشة عن خلق، رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت لم يكن فاحشا ولا متفحشا ولا صخابا في الاسواق ولا يجزي بالسيية السيية ولكن يعفو ويصفح . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وابو عبد الله الجدلي اسمه عبد بن عبد ويقال عبد الرحمن بن عبد
। আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার খাদীজা (রাঃ)-এর উপর যতটুকু ঈর্ষা হয়েছিল, এতটুকু পরিমাণ ঈর্ষা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আর কোন স্ত্রীর উপর হয়নি। অথচ আমি তাকে পাইনি। আমার ঈর্ষার কারণ ছিল, তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি বেশি স্মরণ করতেন। তিনি কখনো ছাগল যবেহ করলে খাদীজা (রাঃ)-এর বান্ধবীদের খুঁজে খুঁজে তার গোশত উপহার স্বরূপ প্রদান করতেন। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব সহীহ।
حدثنا ابو هشام الرفاعي، حدثنا حفص بن غياث، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة، قالت ما غرت على احد من ازواج النبي صلى الله عليه وسلم ما غرت على خديجة وما بي ان اكون ادركتها وما ذاك الا لكثرة ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم لها وان كان ليذبح الشاة فيتتبع بها صدايق خديجة فيهديها لهن . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب صحيح
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের যে ব্যক্তির চরিত্র ও আচরণ সর্বোত্তম তোমাদের মধ্যে সে-ই আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় এবং কিয়ামত দিবসেও আমার খুবই নিকটে থাকবে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার নিকট সবচেয়ে বেশি ঘৃণ্য সে ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে আমার নিকট হতে অনেক দূরে থাকবে তারা হলোঃ বাচাল, ধৃষ্ট-নির্লজ্জ এবং অহংকারে মত্ত ব্যক্তিরা। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। বাচাল ও ধৃষ্ট-দাম্ভিকদের তো আমরা জানি কিন্তু মুতাফাইহিকূন কারা? তিনি বললেনঃ অহংকারীরা। সহীহ, সহীহাহ (৭৯১)। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান ও উপরোক্ত সূত্রে গারীব। একদল বর্ণনাকারী তাদের বর্ণনায় আবদু রব্বিহি ইবনু সাঈদের নাম উল্লেখ করেননি। তারা সরাসরি মুবারাক ইবনু ফাযালার মাধ্যমে মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির হতে জাবির (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। এই সূত্রটিই অনেক বেশি সহীহ। ‘আস-সারসার যে লোক বেশি কথা বলে (বাচাল)। আল-মুতাশাদিক' , মানুষের সামনে যে লোক লম্বা লম্বা কথা বলে বেড়ায়, ধৃষ্টতাপূর্ণ ও অশালীন উক্তি করে, নির্লজ্জ ও দাম্ভিকতাপূর্ণ কথা বলে।
حدثنا احمد بن الحسن بن خراش البغدادي، حدثنا حبان بن هلال، حدثنا مبارك بن فضالة، حدثني عبد ربه بن سعيد، عن محمد بن المنكدر، عن جابر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ان من احبكم الى واقربكم مني مجلسا يوم القيامة احاسنكم اخلاقا وان ابغضكم الى وابعدكم مني مجلسا يوم القيامة الثرثارون والمتشدقون والمتفيهقون " . قالوا يا رسول الله قد علمنا الثرثارون والمتشدقون فما المتفيهقون قال " المتكبرون " . قال ابو عيسى وفي الباب عن ابي هريرة . وهذا حديث حسن غريب من هذا الوجه . وروى بعضهم هذا الحديث عن المبارك بن فضالة عن محمد بن المنكدر عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم ولم يذكر فيه عن عبد ربه بن سعيد وهذا اصح . والثرثار هو الكثير الكلام والمتشدق الذي يتطاول على الناس في الكلام ويبذو عليهم
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু'মিন ব্যক্তি কখনো অভিশাপকারী হতে পারে না। সহীহ, মিশকাত তাহকীক সানী (৪৮৪৮), জিলালুল জান্নাত (১০১৪)। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটিকে অন্য একদল বর্ণনাকারী উল্লেখিত সনদসূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ “মুমিনের জন্য অভিশাপকারী হওয়া শোভনীয় নয়” এ হাদীসটি পূর্বের হাদীসের ব্যাখ্যা।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابو عامر، عن كثير بن زيد، عن سالم، عن ابن عمر، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " لا يكون المومن لعانا " . قال ابو عيسى وفي الباب عن عبد الله بن مسعود . وهذا حديث حسن غريب . وروى بعضهم بهذا الاسناد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لا ينبغي للمومن ان يكون لعانا " . وهذا الحديث مفسر
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একজন লোক এসে বলল, আমাকে কিছু শিখিয়ে দিন, তবে আমাকে বেশি বলবেন না, যাতে আমি তা মুখস্থ করতে পারি। তিনি বললেনঃ ক্রোধ প্রকাশ করো না, উত্তেজিত হয়ে না। লোকটি তার কথার পুনরাবৃত্তি করলে প্রতিবারই তিনি বললেনঃ ক্রোধ প্রকাশ করো না, উত্তেজিত হয়ো না। সহীহ বুখারী। আবূ ঈসা বলেন, আবূ সাইদ ও সুলাইমান ইবনু সারদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং উল্লেখিত সনদসূত্রে গারীব। আবূ হাসীনের নাম উসমান, পিতা আসিম আল-আসাদী।
حدثنا ابو كريب، حدثنا ابو بكر بن عياش، عن ابي حصين، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، قال جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم قال علمني شييا ولا تكثر على لعلي اعيه . قال " لا تغضب " . فردد ذلك مرارا كل ذلك يقول " لا تغضب " . قال ابو عيسى وفي الباب عن ابي سعيد وسليمان بن صرد . وهذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه . وابو حصين اسمه عثمان بن عاصم الاسدي
। সাহল ইবনু মুআয ইবনু আনাস আল-জুহানী (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক তার ক্রোধকে বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা রেখেও তা নিয়ন্ত্রণ করে- আল্লাহ তা'আলা কিয়ামত দিবসে তাকে সমগ্র সৃষ্টির সামনে ডেকে এনে জান্নাতের যে কোন হুর নিজের ইচ্ছামতো বেছে নেয়ার অধিকার দিবেন। সহীহ, সহীহাহ (১৭৫০)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গরীব।
حدثنا عباس الدوري، وغير، واحد، قالوا حدثنا عبد الله بن يزيد المقري، حدثنا سعيد بن ابي ايوب، حدثني ابو مرحوم عبد الرحيم بن ميمون، عن سهل بن معاذ بن انس الجهني، عن ابيه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من كظم غيظا وهو يستطيع ان ينفذه دعاه الله يوم القيامة على رءوس الخلايق حتى يخيره في اى الحور شاء " . قال هذا حديث حسن غريب
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে যুবক প্রবীণ ব্যাক্তিকে সম্মান করবে, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য এক ব্যাক্তি নিযুক্ত করবেন যে তাকে তার প্রবীণ বয়সে সম্মান করবে। যঈফ, যঈফা (৩০৪), মিশকাত (৪৯৭১) আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র এই শাইখ অর্থাৎ ইয়াযীদ ইবনু বাইয়ানের সূত্রেই এই হাদীস জেনেছি। সনদে আবূর রিজাল আনসারী নামক আরও একজন রাবী আছেন।
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا يزيد بن بيان العقيلي، حدثنا ابو الرحال الانصاري، عن انس بن مالك، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما اكرم شاب شيخا لسنه الا قيض الله له من يكرمه عند سنه " . قال ابو عيسى هذا حديث غريب لا نعرفه الا من حديث هذا الشيخ يزيد بن بيان وابو الرجال الانصاري اخر
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতের দরজাগুলো সোমবার ও বৃহস্পতিবার খুলে দেয়া হয়। যেসব পাপী আল্লাহ তা'আলার সাথে অংশীদারিত্ব স্থাপন করেনি তাদেরকে মাফ করে দেয়া হয়। কিন্তু পরস্পর সম্পর্ক ছিন্নকারীর ব্যাপারে (আল্লাহ তা'আলা বলেন)- এদেরকে ফিরিয়ে দাও যে পর্যন্ত না এরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা স্থাপন করে। সহীহ, ইরওয়া (৩/১০৫), গাইয়াতুল মারাম (৪১২), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। কোন কোন হাদীসে এভাবে বর্ণিত হয়েছেঃ “এদের উভয়ের বিষয়টি মুলতবি রাখ যে পর্যন্ত না নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করে নেয়।” “আল-মুহতাজিরাইনি" বলতে এমন দুইজনকে বুঝানো হয়েছে, যারা পরস্পর সম্পর্ক ছিন্ন করে একজন অন্যজনের প্রতি শক্রতা পোষণ করে। এটি ঐ হাদীসের মতো যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম ব্যাক্তির পক্ষে তিনদিনের বেশী সময় তার ভাইকে ছেড়ে থাকা বৈধ নয়”।
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن سهيل بن ابي صالح، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " تفتح ابواب الجنة يوم الاثنين والخميس فيغفر فيهما لمن لا يشرك بالله شييا الا المهتجرين يقال ردوا هذين حتى يصطلحا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . ويروى في بعض الحديث " ذروا هذين حتى يصطلحا " . قال ومعنى قوله " المهتجرين " . يعني المتصارمين . - وهذا مثل ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " لا يحل لمسلم ان يهجر اخاه فوق ثلاثة ايام
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আনসারদের কয়েকজন লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে যৎসামান্য সাহায্য প্রার্থনা করল। তাদেরকে তিনি তা দিলেন। তারা আরো চাইলে তিনি তাদেরকে তা দিলেন। তারপর তিনি বললেনঃ আমার নিকট যে সম্পদই আছে তোমাদের তা না দিয়ে কখনো জমা করে রাখি না। যে স্বনির্ভর হতে চায় আল্লাহ তা'আলা তাকে স্বনির্ভর করেন। যে (অপরের নিকট চাওয়া হতে) সংযমী হতে চায় আল্লাহ তা'আলা তাকে সংযমী করেন। যে ধৈর্যশীল হতে চায়, আল্লাহ তা'আলা তাকে ধৈর্যের তাওফীক দেন। ধৈর্যের চেয়ে বেশি কল্যাণকর প্রাচুর্যপুর্ণ কোন সম্পদ কাউকে দেয়া হয়নি। সহীহ, তা’লীকুর রাগীব (২/১১), সহীহ আবূ দাউদ (১৪৫১), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম মালিকের বর্ণনায় আছে “ফালান আযখারাহু আনকুম", অর্থ একই (তোমাদেরকে না দিয়ে আমি তা জমা করে রাখি না)।
حدثنا الانصاري، حدثنا معن، حدثنا مالك بن انس، عن الزهري، عن عطاء بن يزيد، عن ابي سعيد، ان ناسا، من الانصار سالوا النبي صلى الله عليه وسلم فاعطاهم ثم سالوه فاعطاهم ثم قال " ما يكون عندي من خير فلن ادخره عنكم ومن يستغن يغنه الله ومن يستعفف يعفه الله ومن يتصبر يصبره الله وما اعطي احد شييا هو خير واوسع من الصبر " . قال ابو عيسى وفي الباب عن انس . وهذا حديث حسن صحيح . وقد روي عن مالك هذا الحديث " فلن اذخره عنكم " . والمعنى فيه واحد يقول لن احبسه عنكم
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে দ্বিমুখী স্বভাবের মানুষেরা আল্লাহ্ তা'আলার নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট বলে গণ্য হবে। সহীহ, সহীহুল জামি' (২২২৬), সহীহুল আদাবিল মুফরাদ (৯৮৭), বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আমার ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان من شر الناس عند الله يوم القيامة ذا الوجهين " . قال ابو عيسى وفي الباب عن انس وعمار . وهذا حديث حسن صحيح
। হাম্মাম ইবনুল হারিস (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ)-কে একজন লোক অতিক্রম করে যাচ্ছিল। তাকে বলা হলো, এই লোক জনসাধারণের কথা প্রশাসকদের কানে পৌছিয়ে দেয়। (একথা শুনে) হুযাইফা (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ চোগলখোর জান্নাতে যেতে পারবে না। সহীহ, সহীহাহ (১০৩৪), গাইয়াতুল মারাম (৪৩৩), বুখারী, মুসলিম। সুফিয়ান বলেন, “আল-কাত্তাত” অর্থ চোগলখোর। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن منصور، عن ابراهيم، عن همام بن الحارث، قال مر رجل على حذيفة بن اليمان فقيل له ان هذا يبلغ الامراء الحديث عن الناس . فقال حذيفة سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " لا يدخل الجنة قتات " . قال سفيان والقتات النمام . وهذا حديث حسن صحيح
। আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লজ্জা-সন্ত্রম ও অল্প কথা বলা ঈমানের দুইটি শাখা। অশ্লীলতা ও বাকপটুতা (বাচালতা) নিফাকের (মুনাফিকীর) দুইটি শাখা। সহীহ, ঈমান ইবনে আবী শাইবা(১১৮), মিশকাত তাহকীক ছানী(৪৭৯৬) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এটিকে আবূ গাসান মুহাম্মাদ ইবনু মুতারিরকের হাদীস হিসেবে জেনেছি। বর্ণনাকারী বলেন, “আল-আয়্যু অর্থ স্বল্পবাক 'আল-বাযা-য়ু অর্থ অশ্লীল ও নির্লজ্জবাক, আল-বায়ান অর্থ বাকপটু, বাক্যবাগীশ। যেমন পেশাধারী বক্তারা লম্বা লম্বা বক্তৃতা দিয়ে বেড়ায়, কথার বন্যা ছুটিয়ে দেয় এবং বাকপটুতার আশ্রয় নিয়ে মানুষের এমন সব প্রশংসা করতে থাকে, যা আল্লাহ তা'আলা মোটেই পছন্দ করেন না।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا يزيد بن هارون، عن ابي غسان، محمد بن مطرف عن حسان بن عطية، عن ابي امامة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الحياء والعي شعبتان من الايمان والبذاء والبيان شعبتان من النفاق " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب انما نعرفه من حديث ابي غسان محمد بن مطرف . قال والعي قلة الكلام والبذاء هو الفحش في الكلام والبيان هو كثرة الكلام مثل هولاء الخطباء الذين يخطبون فيوسعون في الكلام ويتفصحون فيه من مدح الناس فيما لا يرضي الله
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলে দুইজন লোক এসে উপস্থিত হয়। তারা দুজনে এরকম জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিল যে, জনগণ আশ্চর্য হয়ে গেল। তখন আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন কোন বক্তৃতায় যাদু রয়েছে অথবা কোন কোন ভাষণে রয়েছে যাদুকরী প্রভাব। সহীহঃ বুখারী আবূ ঈসা বলেন, আম্মার, ইবনু মাসউদ ও আবদুল্লাহ ইবনুশ শিখখীর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن زيد بن اسلم، عن ابن عمر، ان رجلين، قدما في زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم فخطبا فعجب الناس من كلامهما فالتفت الينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " ان من البيان سحرا " او " ان بعض البيان سحر " . قال ابو عيسى وفي الباب عن عمار وابن مسعود وعبد الله بن الشخير . وهذا حديث حسن صحيح
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকাত বা দানের কারণে কখনো সম্পদের কমতি হয় না। অবশ্যই ক্ষমা ও উদারতার দ্বারা আল্লাহ তা'আলা মান-সন্মান বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টি হাসিলের উদ্দেশ্যে যে লোক বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করে আল্লাহ তা'আলা তাকে অতি মর্যাদা সম্পন্ন করেন। সহীহ, ইরওয়া (২২০০), সহীহাহ (২৩২৮), মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আবদুর রাহমান ইবনু আওফ, ইবনু আব্বাস ও আবূ কাবশা আমর ইবনু সা’দ আল-আনসা-র (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ما نقصت صدقة من مال وما زاد الله رجلا بعفو الا عزا وما تواضع احد لله الا رفعه الله " . قال ابو عيسى وفي الباب عن عبد الرحمن بن عوف وابن عباس وابي كبشة الانماري واسمه عمر بن سعد . وهذا حديث حسن صحيح
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে যুলুম-অত্যাচার অন্ধকারের মতো আবির্ভূত হবে। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আইশ, আবূ মূসা, আবূ হুরাইরা ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমারের হাদীস হিসেবে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
حدثنا عباس العنبري، حدثنا ابو داود الطيالسي، عن عبد العزيز بن عبد الله بن ابي سلمة، عن عبد الله بن دينار، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الظلم ظلمات يوم القيامة " . قال ابو عيسى وفي الباب عن عبد الله بن عمرو وعايشة وابي موسى وابي هريرة وجابر . وهذا حديث حسن غريب من حديث ابن عمر
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন খাদ্যের উপর কখনো দোষারোপ করতেন না। রুচি হলে খেতেন আর না হয় পরিত্যাগ করতেন। সহীহ, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ হাযিম হলেন আল আশজাঈ আল কুফী, তার নাম সালমান, আযযা আল আশযাঈইয়ার মুক্তদাস।
حدثنا احمد بن محمد، اخبرنا عبد الله بن المبارك، عن سفيان، عن الاعمش، عن ابي حازم، عن ابي هريرة، قال ما عاب رسول الله صلى الله عليه وسلم طعاما قط كان اذا اشتهاه اكله والا تركه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وابو حازم هو الاشجعي الكوفي واسمه سلمان مولى عزة الاشجعية
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠে চিৎকার দিয়ে বললেনঃ হে ঐ জামাআত, যারা মুখে ইসলাম কুবুল করেছ কিন্তু অন্তরে এখনো ঈমান মাজবুত হয়নি। তোমরা মুসলিমদের কষ্ট দিবে না, তাদের লজ্জা দিবে না এবং তাদের গোপন দোষ অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হবে না। কেননা, যে লোক তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ অনুসন্ধানে নিয়োজিত হবে আল্লাহ তা'আলা তার গোপন দোষ প্রকাশ করে দিবেন। আর যে ব্যক্তির দোষ আল্লাহ তা'আলা প্রকাশ করে দিবেন তাকে অপমান করে ছাড়বেন, সে তার উটের হাওদার ভিতরে অবস্থান করে থাকলেও। বর্ণনাকারী (নাফি) বলেন, একদিন ইবনু উমার (রাঃ) বাইতুল্লাহ বা কা'বার দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি কতই না ব্যাপক ও বিরাট! তুমি কতইনা সম্মানিত কিন্তু তোমার চেয়েও মুমিনের সম্মান ও মর্যাদা আল্লাহ তা'আলার নিকটে অনেক বেশি। হাসান, মিশকাত (৫০৪৪), তা’লীকুর রাগীব (৩/২৭৭)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা এ হাদীসটি শুধু হুসাইন ইবনু ওয়াকিদের সূত্রেই জেনেছি। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আস-সামারকান্দী-হুসাইন ইবনু ওয়াকিদ হতে একইরকম বর্ণনা করেছেন। আবূ বারযা আল-আসলামী (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হতে একইরকম বর্ণিত আছে।
حدثنا يحيى بن اكثم، والجارود بن معاذ، قالا حدثنا الفضل بن موسى، حدثنا الحسين بن واقد، عن اوفى بن دلهم، عن نافع، عن ابن عمر، قال صعد رسول الله صلى الله عليه وسلم المنبر فنادى بصوت رفيع فقال " يا معشر من قد اسلم بلسانه ولم يفض الايمان الى قلبه لا توذوا المسلمين ولا تعيروهم ولا تتبعوا عوراتهم فانه من تتبع عورة اخيه المسلم تتبع الله عورته ومن تتبع الله عورته يفضحه ولو في جوف رحله " قال ونظر ابن عمر يوما الى البيت او الى الكعبة فقال ما اعظمك واعظم حرمتك والمومن اعظم حرمة عند الله منك . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من حديث الحسين بن واقد . وروى اسحاق بن ابراهيم السمرقندي عن حسين بن واقد نحوه وروي عن ابي برزة الاسلمي عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو هذا
। আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পদে পদে বাধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিই সহনশীল ও ধৈর্যশীল হয় এবং অভিজ্ঞতা ছাড়া বিচক্ষণ ও প্রজ্ঞাবান হওয়া যায় না। যঈফ, মিশকাত (৫০৫৬) আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উল্লেখিত সনদসূত্রেই এ হাদীসটি জেনেছি।
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد الله بن وهب، عن عمرو بن الحارث، عن دراج، عن ابي الهيثم، عن ابي سعيد، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لا حليم الا ذو عثرة ولا حكيم الا ذو تجربة " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه الا من هذا الوجه
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কাউকে কিছু দান করা হলে পরে তার (দান গ্রহীতার) সংগতি হলে সে যেন এর প্রতিদান দেয়। সংগতি না হলে সে যেন তার প্রশংসা করে। কেননা, যে লোক প্রশংসা করল সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল। আর যে তা গোপন রাখল সে অকৃতজ্ঞ হলো। যে লোক এমন কিছু পাওয়ার ভান করল যা তাকে দান করা হয়নি, সে যেন ধোকাবাজি ও প্রতারণার দুটি পোশাক পরল। হাসান, সহীহাহ (২৬১৭), তা’লীকুর রাগীব (২/৫৫)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আসমা বিনতু আবী বাকর ও আইশা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। “মান কাতামা ফাকাদ কাফারা”-এর অর্থ “যে অনুগ্রহ গোপন করল সে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল"।
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا اسماعيل بن عياش، عن عمارة بن غزية، عن ابي الزبير، عن جابر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من اعطي عطاء فوجد فليجز به ومن لم يجد فليثن فان من اثنى فقد شكر ومن كتم فقد كفر ومن تحلى بما لم يعطه كان كلابس ثوبى زور " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب وفي الباب عن اسماء بنت ابي بكر وعايشة . ومعنى قوله " ومن كتم فقد كفر " . يقول قد كفر تلك النعمة