Loading...

Loading...
বইসমূহ
৭১ হাদিসসমূহ
। বাজালা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, অগ্নিপূজকদের হতে উমার (রাঃ) কর সংগ্রহ করতেন না যে পর্যন্ত না তাকে আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) জানান যে, হাজার এলাকার অগ্নিপূজকদের নিকট হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর সংগ্রহ করেছেন। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস এ হাদীসে আরো অনেক কথা আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا ابن ابي عمر، حدثنا سفيان بن عيينة، عن عمرو بن دينار، عن بجالة، ان عمر، كان لا ياخذ الجزية من المجوس حتى اخبره عبد الرحمن بن عوف ان النبي صلى الله عليه وسلم اخذ الجزية من مجوس هجر . وفي الحديث كلام اكثر من هذا . هذا حديث حسن صحيح
। সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহরাইনের মাজুসীদের নিকট হতে জিযইয়া গ্রহণ করেন। উমার (রাঃ) পারস্যের মাজুসীদের নিকট হতে এবং উসমান (রাঃ) ফুরস-এর মাজুসীদের নিকট হতে তা আদায় করেন। ইমাম তিরমিয়ী বলেনঃ আমি মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে এই হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় তিনি বলেনঃ মালিক জুহরীর সুত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। অতএব হাদীসটি মুরসাল, ইরওয়া
حدثنا الحسين بن ابي كبشة البصري، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، عن مالك، عن الزهري، عن السايب بن يزيد، قال اخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم الجزية من مجوس البحرين واخذها عمر من فارس واخذها عثمان من الفرس . وسالت محمدا عن هذا فقال هو مالك عن الزهري عن النبي صلى الله عليه وسلم
। উকবা ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এমন একটি সম্প্রদায়ের এলাকা দিয়ে আমরা চলাচল করি যারা আমাদের মেহমানদারীও করে না এবং তাদের উপর আমাদের প্রাপ্য অধিকারও আদায় করে না। আমরাও তাদের নিকট হতে জোরপূর্বক আমাদের প্রাপ্য অধিকার আদায় করি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা তোমাদের বল প্রয়োগ ব্যতীত মেহমানদারী করতে না চাইলে তোমরা জোরপূর্বকই তা আদায় কর। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৬৭৬), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। এটিকে ইয়াযীদ ইবনু হাবীবের সূত্রেও লাইস ইবনু সা’দ বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের তাৎপর্য হল, মুসলিম যোদ্ধারা অভিযানে গমন করত। তখন এমন সব যিমীদের লোকালয় পেরিয়ে যেতে হত যেখানে ইচ্ছা করলেও খাবার-দাবার কিনতে পাওয়া যেত না। এরূপ ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ ছিলঃ তারা খাবার বিক্রয় করতে অস্বীকার করলে এবং জোরখাটিয়ে আদায় করা ছাড়া আর কোন উপায় না থাকলে তবে তাদের নিকট হতে শক্তি খাটিয়েই তা কিনে নাও। কয়েকটি হাদীসে এরূপ ব্যাখ্যার উল্লেখ আছে। এরকম পরিস্থিতিতে উমার (রাঃ)-ও এরূপ নির্দেশই দিতেন।
حدثنا قتيبة، حدثنا ابن لهيعة، عن يزيد بن ابي حبيب، عن ابي الخير، عن عقبة بن عامر، قال قلت يا رسول الله انا نمر بقوم فلا هم يضيفونا ولا هم يودون ما لنا عليهم من الحق ولا نحن ناخذ منهم . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان ابوا الا ان تاخذوا كرها فخذوا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن . وقد رواه الليث بن سعد عن يزيد بن ابي حبيب ايضا . وانما معنى هذا الحديث انهم كانوا يخرجون في الغزو فيمرون بقوم ولا يجدون من الطعام ما يشترون بالثمن فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ان ابوا ان يبيعوا الا ان تاخذوا كرها فخذوا " . هكذا روي في بعض الحديث مفسرا وقد روي عن عمر بن الخطاب رضى الله عنه انه كان يامر بنحو هذا
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই বিজয়ের পর আর হিজরাত নেই। হ্যাঁ জিহাদ ও (তার) সংকল্প বজায় থাকবে। অতএব যখন জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য তোমাদেরকে ডাকা হবে তখন তোমরা তার জন্যে বেরিয়ে পড়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৭৩), নাসা-ঈ আবূ সাঈদ, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবদুল্লাহ ইবনু হুবশী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি সুফিয়ান সাওরীও মানসূরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا احمد بن عبدة الضبي، حدثنا زياد بن عبد الله، حدثنا منصور بن المعتمر، عن مجاهد، عن طاوس، عن ابن عباس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم فتح مكة " لا هجرة بعد الفتح ولكن جهاد ونية واذا استنفرتم فانفروا " . قال وفي الباب عن ابي سعيد وعبد الله بن عمرو وعبد الله بن حبشي . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد رواه سفيان الثوري عن منصور بن المعتمر نحو هذا
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে আল্লাহ তা'আলার এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণিত আছেঃ “আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই মু'মিন লোকদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন গাছের নীচে তোমার নিকট তারা শপথ করছিল। তাদের অন্তরের অবস্থা তার জানা ছিল। এজন্যই তাদের উপর তিনি প্রশান্তি অবতীর্ণ করেন এবং তাদেরকে নিকটবর্তী বিজয় দান করেন” (সূরাঃ ফাত্হ- ১৮)। জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমরা শপথ করলাম (প্রতিজ্ঞা করলাম) যে, আমরা যুদ্ধক্ষেত্র হতে পালাবো না। কিন্তু আমরা তার নিকট মৃত্যুর বাই’আত করিনি। - সহীহ, মুসলিম আয়াতের উল্লেখ ব্যতীত সালামা ইবনুল আকওয়া, ইবনু উমার, উবাদা ও জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি অন্য একটি সূত্রেও বর্ণিত আছে। কিন্তু আবূ সালামার নাম তাতে উল্লেখ নেই।
حدثنا سعيد بن يحيى بن سعيد الاموي، حدثنا عيسى بن يونس، عن الاوزاعي، عن يحيى بن ابي كثير، عن ابي سلمة، عن جابر بن عبد الله، في قوله تعالى: (لقد رضي الله عن المومنين اذ يبايعونك تحت الشجرة ) قال جابر بايعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم على ان لا نفر ولم نبايعه على الموت . قال وفي الباب عن سلمة بن الاكوع وابن عمر وعبادة وجرير بن عبد الله . قال ابو عيسى وقد روي هذا الحديث عن عيسى بن يونس عن الاوزاعي عن يحيى بن ابي كثير قال قال جابر بن عبد الله ولم يذكر فيه ابو سلمة
। ইয়াযীদ ইবনু আবূ উবাইদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলামঃ হুদাইবিয়ার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আপনারা কি বিষয়ে শপথ করেছিলেন তিনি বললেন, মৃত্যুর শপথ করেছিলাম (যে পর্যন্ত জীবন থাকবে যুদ্ধ করতে থাকব, পালিয়ে যাবো না )। সহীহ, নাসা-ঈ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا قتيبة، حدثنا حاتم بن اسماعيل، عن يزيد بن ابي عبيد، قال قلت لسلمة بن الاكوع على اى شيء بايعتم رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم الحديبية قال على الموت . هذا حديث حسن صحيح
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট (নির্দেশ) শুনার ও সে মোতাবিক আনুগত্যের শপথ নিতাম। তিনি আমাদের বলতেনঃ তোমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ, নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উভয় হাদীসের অর্থই সঠিক। কেননা তার নিকট প্রয়োজনবোধে মৃত্যুবরণের জন্য তার একদল সাহাবী শপথ (বাই’আত) করেছেন। তারা বলেছেন, “আমরা মৃত্যুবরণ করার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত আপনার আগে আগে প্রতিরক্ষা রচনা করে চলব’৷ সাহাবীদের অন্য দল তার নিকট প্রাণভয়ে যুদ্ধক্ষেত্র হতে না পালানোর শপথ করেছেন।
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا اسماعيل بن جعفر، عن عبد الله بن دينار، عن ابن عمر، قال كنا نبايع رسول الله صلى الله عليه وسلم على السمع والطاعة فيقول لنا " فيما استطعتم " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح كلاهما
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমরা কোন সময়ই মৃত্যুর শপথ করিনি, বরং আমরা তার নিকট যুদ্ধক্ষেত্র হতে পালিয়ে না যাওয়ার শপথ করেছি। সহীহ, মুসলিম ১৫৯১ নং হাদীসটি উল্লেখ হয়েছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا سفيان بن عيينة، عن ابي الزبير، عن جابر بن عبد الله، قال لم نبايع رسول الله صلى الله عليه وسلم على الموت انما بايعناه على ان لا نفر . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . ومعنى كلا الحديثين صحيح قد بايعه قوم من اصحابه على الموت وانما قالوا لا نزال بين يديك حتى نقتل وبايعه اخرون فقالوا لا نفر
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন প্রকার লোকের সাথে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামত দিবসে কথা বলবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে খুবই বেদনাদায়ক শাস্তি। এদের মধ্যকার একজন হলঃ ইমামের নিকট যে লোক আনুগত্যের শপথ করেছে। ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) তাকে কোন সুযোগ-সুবিধা দিলে তবে সে শপথ ঠিক রাখে। তিনি তাকে কোন সুযোগ-সুবিধা না দিলে তবে সে শপথ পূর্ণ করে না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২০৭), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীসের বক্তব্য সম্পর্কে কোন মতবিরোধ নেই।
حدثنا ابو عمار، حدثنا وكيع، عن الاعمش، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ثلاثة لا يكلمهم الله يوم القيامة ولا يزكيهم ولهم عذاب اليم رجل بايع اماما فان اعطاه وفى له وان لم يعطه لم يف له " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح وعلى ذلك الامر بلا اختلاف
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একজন গোলাম এসে হিজরাতের শপথ নিল। সে যে গোলাম তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন না। তার মনিব এসে উপস্থিত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ আমার নিকট একে বিক্রয় করে দাও। তিনি দু'টি কালো গোলামের বিনিময়ে তাকে কিনলেন। এরপর হতে তিনি কোন লোককে শপথ করাতেন না সে গোলাম কি-না তা প্রশ্ন না করা পর্যন্ত। সহীহ, মুসলিম ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব সহীহ বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র আবূয যুবাইরের সূত্রে জেনেছি।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث بن سعد، عن ابي الزبير، عن جابر، انه قال جاء عبد فبايع رسول الله صلى الله عليه وسلم على الهجرة ولا يشعر النبي صلى الله عليه وسلم انه عبد فجاء سيده فقال النبي صلى الله عليه وسلم " بعنيه " . فاشتراه بعبدين اسودين ولم يبايع احدا بعد حتى يساله اعبد هو . قال وفي الباب عن ابن عباس . قال ابو عيسى حديث جابر حديث حسن غريب صحيح لا نعرفه الا من حديث ابي الزبير
। মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রুকাইকার মেয়ে উমাইমা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কয়েকজন মহিলার সাথে শপথ গ্রহণ করি। তিনি আমাদেরকে বললেনঃ তোমাদের যোগ্যতা ও শক্তি মোতাবিক (দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পাদন করবে)। আমি বললাম, আমাদের নিজেদের চাইতে আল্লাহ ও তার রাসূল আমাদের উপর অনেক বেশি অনুগ্রহশীল। আমি আরো বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে শপথ করান। সুফিয়ান বলেন, তার কথার অর্থ ছিল, আমাদের হাত স্পর্শ করুন (যেভাবে পুরুষদের হাত স্পর্শ করে শপথ করা হয়)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার বক্তব্য একজন মহিলার প্রতি যেমন এক শতজন মহিলার উপরেও ঠিক তেমনই। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৭৪) আইশা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আমরা এ হাদীস প্রসঙ্গে শুধুমাত্র মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদিরের সূত্রেই জেনেছি। সুফিয়ান সাওরী, মালিক ও অন্যান্যরা মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদিরের সূত্রে এ হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। আমি এ হাদীস বিষয়ে মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, উমাইমা বিনতু রুকাইকা (রাঃ) হতে বর্ণিত এটি ব্যতীত আর কোন হাদীস আছে কি-না তা আমার জানা নেই। উমাইমা (রাঃ) নামক আরো একজন মহিলা আছেন যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
حدثنا قتيبة، حدثنا سفيان بن عيينة، عن ابن المنكدر، سمع اميمة بنت رقيقة، تقول بايعت رسول الله صلى الله عليه وسلم في نسوة فقال لنا " فيما استطعتن واطقتن " . قلت الله ورسوله ارحم بنا منا بانفسنا . قلت يا رسول الله بايعنا . قال سفيان تعني صافحنا . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انما قولي لماية امراة كقولي لامراة واحدة " . قال وفي الباب عن عايشة وعبد الله بن عمر واسماء بنت يزيد . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح لا نعرفه الا من حديث محمد بن المنكدر . وروى سفيان الثوري ومالك بن انس وغير واحد هذا الحديث عن محمد بن المنكدر نحوه . قال وسالت محمدا عن هذا الحديث فقال لا اعرف لاميمة بنت رقيقة غير هذا الحديث . واميمة امراة اخرى لها حديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
। বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, বলেন, আমরা একে অপরের সাথে বলাবলি করতাম যে, বদরের যুদ্ধে বাদরী বাহিনীতে সাহাবীগণের পরিমাণ ছিল তালুত বাহিনীর মত তিন শত তেরজন। সহীহ, বুখারী ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি আবূ ইসহাকের সূত্রে সুফিয়ান সাওর এবং অন্যান্যরাও বর্ণনা করেছেন।
حدثنا واصل بن عبد الاعلى الكوفي، حدثنا ابو بكر بن عياش، عن ابي اسحاق، عن البراء، قال كنا نتحدث ان اصحاب، بدر يوم بدر كعدة اصحاب طالوت ثلاثماية وثلاثة عشر رجلا . قال وفي الباب عن ابن عباس . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وقد رواه الثوري وغيره عن ابي اسحاق
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, আবদুল কাইস বংশের প্রতিনিধি দলকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছি, তোমরা গানীমাতের যে সম্পদ লাভ করবে তার মধ্য হতে এক-পঞ্চমাংশ (বাইতুল মালে) দিয়ে দেবে। সহীহ্, সংক্ষিপ্ত বুখারী (৪০), আল ঈমান, আবৃউবাইদ(৫৯/১),নাসা-ঈ এ হাদীসের সাথে একটি ঘটনা আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উপরোক্ত হাদীসের মত অন্য একটি সূত্রেও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে।
। রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক (যুদ্ধের) ভ্রমণে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। কয়েকটি দ্রুতগামী লোক আগে চলে গেল। তারা দ্রুততার সাথে গানীমাতের সম্পদ হতে কিছু নিয়ে তা রান্না করা শুরু করে দিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছনের দলের সাথে ছিলেন। এই হাড়িগুলোর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি নির্দেশ দিলেন এবং সে অনুযায়ী সেগুলো উলটিয়ে দেওয়া হল। তারপর তিনি গানীমাতের সম্পদ বণ্টন করলেন এবং দশ দশটি বকরীর সমান ধরলেন এক একটি উটকে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১৩৭), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, সুফিয়ান সাওরী-তার পিতা হতে, তিনি আবাইয়া হতে, তিনি তার দাদা রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ)-এর সূত্রে উল্লেখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন, এতে আবাইয়ার পরে তার পিতা রিফাআর কোন উল্লেখ নেই। মাহমূদ ইবনু গাইলান-ওয়াকী হতে, তিনি সুফিয়ানের সূত্রে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি অনেক বেশি সহীহ। সালাবা ইবনুল হাকাম, আনাস, আবূ রাইহানা, আবূদ দারদা, আবদুর রাহমান ইবনু সামুরা, যাইদ ইবনু খালিদ, জাবির, আবূ হুরাইরা ও আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা এ হাদীসটিকে অধিক সহীহ বলেছেন। আর আবাইয়া ইবনু রিফাআ সরাসরিভাবে তার দাদা রাফি (রাঃ) হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন।
حدثنا هناد، حدثنا ابو الاحوص، عن سعيد بن مسروق، عن عباية بن رفاعة، عن ابيه، عن جده، رافع بن خديج قال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر فتقدم سرعان الناس فتعجلوا من الغنايم فاطبخوا ورسول الله صلى الله عليه وسلم في اخرى الناس فمر بالقدور فامر بها فاكفيت ثم قسم بينهم فعدل بعيرا بعشر شياه . قال ابو عيسى وروى سفيان الثوري، عن ابيه، عن عباية، عن جده، رافع بن خديج ولم يذكر فيه ابيه . حدثنا بذلك، محمود بن غيلان حدثنا وكيع، عن سفيان، . وهذا اصح وعباية بن رفاعة سمع من، جده رافع بن خديج . قال وفي الباب عن ثعلبة بن الحكم، وانس، وابي، ريحانة وابي الدرداء وعبد الرحمن بن سمرة وزيد بن خالد وجابر وابي هريرة وابي ايوب
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বন্টনের পূর্বে যে ব্যক্তি গানীমাতের সম্পদ হতে কিছু গ্রহণ করে সে আমাদের দল ভুক্ত নয়। সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (২৯৪৭) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ এবং আনাস (রাঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব বলেছেন।
حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا عبد الرزاق، عن معمر، عن ثابت، عن انس، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من انتهب فليس منا " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح غريب من حديث انس
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ইয়াহুদী-নাসারাদের প্রথমে সালাম প্রদান করো না। তোমরা রাস্তায় চলাচলের সময় তাদের কারো সাথে দেখা হলে তাকে রাস্তার কিনারায় ঠেলে দিও। সহীহ, সহীহা (৭০৪), ইরওয়া (১২৭১), মুসলিম, বুখারী আদাবুল মুফরাদ, ২৮৫৫ নং হাদীসটির আলোচনা আসবে। ইবনু উমার, আনাস ও আবূ বাসরা আল-গিফারী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا قتيبة، حدثنا عبد العزيز بن محمد، عن سهيل بن ابي صالح، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا تبدءوا اليهود والنصارى بالسلام واذا لقيتم احدهم في الطريق فاضطروهم الى اضيقه " . قال وفي الباب عن ابن عمر وانس وابي بصرة الغفاري صاحب النبي صلى الله عليه وسلم . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . ومعنى هذا الحديث " لا تبدءوا اليهود والنصارى " . قال بعض اهل العلم انما معنى الكراهية لانه يكون تعظيما له وانما امر المسلمون بتذليلهم وكذلك اذا لقي احدهم في الطريق فلا يترك الطريق عليه لان فيه تعظيما لهم
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদেরকে কোন ইয়াহুদী সালাম করে তখন বলে, 'আসসামু আলাইকুম’ (তোমার মৃত্যু হোক)। তুমি উত্তরে বল, 'আলাইকা' (তোমার হোক)। সহীহ, ইরওয়া (৫/১১২), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا اسماعيل بن جعفر، عن عبد الله بن دينار، عن ابن عمر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان اليهود اذا سلم عليكم احدهم فانما يقول السام عليكم فقل عليك " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, খাসআমদের অঞ্চলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছোট বাহিনী প্রেরণ করেন। সিজদার মাধ্যমে সেখানকার জনগণ আত্মরক্ষা করতে চাইল। কিন্তু দ্রুততার সাথে তাদেরকে মেরে ফেলা হয়। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলে তিনি তাদের অর্ধেক দিয়াত (রক্তপণ) দেওয়ার জন্য হুকুম দেন। তিনি আরো বলেন, মুশরিকদের সাথে যে সকল মুসলিম বসবাস করে আমি তাদের দায়িত্ব হতে মুক্ত। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তা কেন? তিনি বললেনঃ এইটুকু দূরে থাকবে যেন উভয়ের আগুন না দেখা যায়। “অর্ধেক দিয়াত দেওয়ার হুকুম দেন” এই অংশ ব্যতীত হাদীসটি সহীহ, ইরওয়া (১২০৭), সহীহ আবূ দাউদ
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن اسماعيل بن ابي خالد، عن قيس بن ابي حازم، عن جرير بن عبد الله، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث سرية الى خثعم فاعتصم ناس بالسجود فاسرع فيهم القتل فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فامر لهم بنصف العقل وقال " انا بريء من كل مسلم يقيم بين اظهر المشركين " . قالوا يا رسول الله ولم قال " لا ترايا ناراهما
। আবূ মুআবিয়ার হাদীসের মত হাদীস হান্নাদ-আবদাহ হতে, তিনি ইসমাঈল ইবনু আবৃ খালিদ হতে, তিনি কাইস ইবনু আবূ হাযিম (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে। তবে এই সূত্রে জারীর (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই এবং এটিই অনেক বেশি সহীহ। সামুরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইসমাঈলের বেশিরভাগ সঙ্গী তার হতে, তিনি কাইস ইবনু আবূ হাযিমের সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছোট বাহিনী পাঠান। এ সূত্রেও জারীরের উল্লেখ নেই। আবূ মুআবিয়ার হাদীসের মত হাদীস হাম্মাদ ইবনু সালামা-হাজ্জাজ ইবনু আরতাত হতে, তিনি ইসমাঈল ইবনু আবূ খালিদ হতে, তিনি কাইস হতে, তিনি জারীর (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমি ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি, সঠিক কথা হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কাইসের বর্ণনাটি মুরসাল। সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মুশরিকদের সাথে তোমরা একত্রে বসবাস কর না, তাদের সংসর্গেও যেও না। যে মানুষ তাদের সাথে বসবাস করবে অথবা তাদের সংসর্গে থাকবে সে তাদের অনুরূপ বলে বিবেচিত হবে।”
حدثنا هناد، حدثنا عبدة، عن اسماعيل بن ابي خالد، عن قيس بن ابي حازم، مثل حديث ابي معاوية ولم يذكر فيه عن جرير، . وهذا اصح . وفي الباب عن سمرة، . قال ابو عيسى واكثر اصحاب اسماعيل قالوا عن قيس بن ابي حازم، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث سرية ولم يذكروا فيه عن جرير. ورواه حماد بن سلمة عن الحجاج بن ارطاة عن اسمعيل بن ابي خالد عن قيس عن جرير مثل حديث ابي معاوية قال وسمعت محمدا يقول الصحيح حديث قيس عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسل وروى سمرة بن جندب عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لا تساكنوا المشركين ولا تجامعوهم فمن ساكنهم او جامعهم فهو مثلهم
। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইনশাআল্লাহ আমি জীবিত থাকলে ইয়াহুদী-নাসারাদের অবশ্যই আরব উপদ্বীপ হতে বের করে দিব। সহীহ দেখুন পূর্বের হাদীস
حدثنا موسى بن عبد الرحمن الكندي، حدثنا زيد بن الحباب، اخبرنا سفيان الثوري، عن ابي الزبير، عن جابر، عن عمر بن الخطاب، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لين عشت ان شاء الله لاخرجن اليهود والنصارى من جزيرة العرب