Loading...

Loading...
বইসমূহ
৩৭ হাদিসসমূহ
। আবূ শুৱাইহ আল-কাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা মক্কাকে হারাম (সম্মানিত) করেছেন, কোন মানুষ একে হারাম ঘোষণা করেনি। আল্লাহ ও পরকালের উপর যে লোক ঈমান রাখে সে যেন এখানে রক্তপাত (হত্যা) না করে এবং এখানকার কোন গাছপালা না কাটে। এখানে যদি কোন লোক (রক্ত প্রবাহের উদ্দেশ্যে) এই বলে অজুহাত খোজ করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যও তো মক্কাকে হালাল করা হয়েছিল, তবে তার জেনে রাখা উচিত, আল্লাহ শুধু আমার জন্যই একে হালাল করেছিলেন, অন্য কারো জন্য হালাল করেননি। আমার জন্যও শুধু একটা দিনের কিছু সময় হালাল করা হয়েছিল। তারপর তা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত হারাম হয়ে গেছে। হে খুযাআ বংশের জনগণ! এরপরও হুযাইল গোত্রের এই লোককে তোমরা খুন করেছ। আমি তার রক্তপণ দিয়ে দিচ্ছি। আজকের পর হতে কোন লোকের কোন আপনজন নিহত হলে তার পরিবারের লোকজন দু'টি বিকল্পের মধ্যে যে কোন একটি গ্রহণ করবেঃ হয় তারা খুনীকে মেরে ফেলবে না হয় রক্তপণ গ্রহণ করবে। সহীহ, ইরওয়া (২২২০) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। শাইবানও ইয়াহইয়ার নিকট হতে একই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আৰূ শুরাইহ আল-খুযাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তির কোন আপনজন নিহত হল, সে চাইলে খুনীকে মেরে ফেলতে পারে অথবা ক্ষমা করতে পারে অথবা রক্তপণ নিতে পারে।” এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) নিজেদের মতের সমর্থনে দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا ابن ابي ذيب، حدثني سعيد بن ابي سعيد المقبري، عن ابي شريح الكعبي، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ان الله حرم مكة ولم يحرمها الناس من كان يومن بالله واليوم الاخر فلا يسفكن فيها دما ولا يعضدن فيها شجرا فان ترخص مترخص فقال احلت لرسول الله صلى الله عليه وسلم . فان الله احلها لي ولم يحلها للناس وانما احلت لي ساعة من نهار ثم هي حرام الى يوم القيامة ثم انكم معشر خزاعة قتلتم هذا الرجل من هذيل واني عاقله فمن قتل له قتيل بعد اليوم فاهله بين خيرتين اما ان يقتلوا او ياخذوا العقل " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وحديث ابي هريرة حديث حسن صحيح ورواه شيبان ايضا عن يحيى بن ابي كثير مثل هذا . - وروي عن ابي شريح الخزاعي عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من قتل له قتيل فله ان يقتل او يعفو او ياخذ الدية " . وذهب الى هذا بعض اهل العلم وهو قول احمد واسحاق
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলে এক লোক নিহত হল। তিনি খুনীকে মৃত ব্যক্তির অভিভাবকদের নিকট সোপর্দ করে দিলেন। খুনী ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল। আল্লাহর শপথ! তাকে মেরে ফেলার কোন ইচ্ছাই আমার ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মৃত ব্যক্তির অভিভাবকদের) বললেনঃ যদি সে সত্য কথা বলে থাকে এবং এ অবস্থায় তুমি তাকে হত্যা কর তবে তুমি জাহান্নামে যাবে। এ কথার ফলে সে খুনীকে মুক্ত করে দিল। সে চামড়ার রশি দ্বারা পিছন দিক থেকে বাধা ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, সে রশি হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে বেরিয়ে গেল। এরপর হতে তার ডাকনাম হয়ে যায় রশিওয়ালা। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৬৯০) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। নিসআতুনঃ রশি
حدثنا ابو كريب، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، قال قتل رجل على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فدفع القاتل الى وليه فقال القاتل يا رسول الله والله ما اردت قتله . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اما انه ان كان صادقا فقتلته دخلت النار " . فخلى عنه الرجل . قال وكان مكتوفا بنسعة . قال فخرج يجر نسعته . قال فكان يسمى ذا النسعة . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والنسعة حبل
। সুলাইমান ইবনু বুরাইদা (রাঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (বুরাইদা) বলেন, যখন কোন লোককে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বাহিনীর আমীর করে পাঠাতেন তখন তাকে বিশেষকরে আল্লাহভীতির উপদেশ দিতেন এবং তার সাথের মুসলিমদের সাথে সৎ ও কল্যাণময় আচরণের নির্দেশ দিতেন। তিনি বলতেনঃ তোমরা আল্লাহর নামে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ কর, আল্লাহ তা'আলার সাথে কুফরকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, খিয়ানাত ও প্রতারণা কর না, বিশ্বাসঘাতকতা কর না। মুসলা (নাক, কান ইত্যাদি কর্তন) কর না এবং শিশুদের হত্যা কর না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৫৮), মুসলিম এ হাদীসের সাথে একটি ঘটনা আছে। ইবনু মাসউদ, শাদ্দাদ ইবনু আওস, ইমরান ইবনু হুসাইন, আনাম, সামুরা, মুগীরা, ইয়ালা ইবনু মুররা ও আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। বন্দীদের বা নিহতের নাক, কান, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ইত্যাদি কাটতে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ নিষেধ করেছেন।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا سفيان، عن علقمة بن مرثد، عن سليمان بن بريدة، عن ابيه، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا بعث اميرا على جيش اوصاه في خاصة نفسه بتقوى الله ومن معه من المسلمين خيرا فقال " اغزوا بسم الله وفي سبيل الله قاتلوا من كفر بالله اغزوا ولا تغلوا ولا تغدروا ولا تمثلوا ولا تقتلوا وليدا " . وفي الحديث قصة . قال وفي الباب عن عبد الله بن مسعود وشداد بن اوس وعمران بن حصين وانس وسمرة والمغيرة ويعلى بن مرة وابي ايوب . قال ابو عيسى حديث بريدة حديث حسن صحيح . وكره اهل العلم المثلة
। শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা প্রতিটি জিনিসের প্রতি দয়া-অনুগ্রহ প্রদর্শনের আবশ্যকতা গণ্য করেছেন। অতএব তোমরা (কিসাসে অথবা জিহাদে) কোন লোককে হত্যা করলে উত্তম পন্থায় হত্যা করবে এবং কোন কিছু যবেহ করার সময় উত্তম পন্থায় যবেহ করবে। তোমাদের মধ্যে যে কেউ যেন তার ছুরি ভালভাবে ধারালো করে নেয় এবং যবেহ করার পশুটিকে আরাম দেয়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩১৭০), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবূল আশআস-এর নাম শারাহীল, বাবার নাম আ-দাহ্।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا هشيم، حدثنا خالد، عن ابي قلابة، عن ابي الاشعث الصنعاني، عن شداد بن اوس، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " ان الله كتب الاحسان على كل شيء فاذا قتلتم فاحسنوا القتلة واذا ذبحتم فاحسنوا الذبحة وليحد احدكم شفرته وليرح ذبيحته " . قال هذا حديث حسن صحيح . ابو الاشعث الصنعاني اسمه شرحبيل بن ادة
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ভ্রুণের (গর্ভস্থিত বাচ্চার) রক্তপণ হিসেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন যুবক গোলাম অথবা বাঁদী দেওয়ার ফায়সালা করেছেন। যে লোককে তিনি রক্তপণের নির্দেশ দিলেন সে বলল, আপনি এরূপ বাচ্চার রক্তপণ প্রদান করাবেন কি, যে পানও করেনি, খায়ওনি এবং চিৎকারও করেনি? এরূপ (খুনের কিসাস) তো বাতিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ লোক তো কবিদের মত (প্রমাণহীন) কথা বলছে। হ্যাঁ, অবশ্যই এর রক্তপণ হিসেবে একজন যুবক গোলাম অথবা বাঁদী ধার্য হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৬৩৯), নাসা-ঈ হামল ইবনু মালিক ইবনু নাবিগা এবং মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, এক ‘গুররা হল একজন গোলাম অথবা একজন ক্রীতদাসী অথবা পাঁচ শত দিরহাম। আবার কেউ বলেছেন, অথবা একটি ঘোড়া বা একটি খচ্চর।
حدثنا علي بن سعيد الكندي الكوفي، حدثنا ابن ابي زايدة، عن محمد بن عمرو، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم في الجنين بغرة عبد او امة . فقال الذي قضي عليه انعطي من لا شرب ولا اكل ولا صاح فاستهل فمثل ذلك يطل . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ان هذا ليقول بقول شاعر بل فيه غرة عبد او امة " . وفي الباب عن حمل بن مالك بن النابغة والمغيرة بن شعبة . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم . وقال بعضهم الغرة عبد او امة او خمسماية درهم . وقال بعضهم او فرس او بغل
। মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, দু’জন স্ত্রীলোক একে অপরের সতীন ছিল। তাদের মধ্যে একে অন্যের উপর পাথর অথবা তাবুর খুঁটি ছুড়ে মারে। ফলে তার গর্ভপাত হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ভ্রুণের রক্তপণ হিসেবে একটি যুবক অর্থাৎ গোলাম অথবা বাঁদী প্রদানের ফায়সালা দেন। তিনি ঐ মহিলাটির পিতার বংশের লোকদের উপর তা পরিশোধের দায় অর্পণ করেন। সহীহ, ইরওয়া (২৬০৬), নাসা-ঈ উপরোক্ত হাদীসের মত হাসান-যাইদ ইবনু হুবাব হতে, তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি মানসূর (রাহঃ)-এর সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا وهب بن جرير، حدثنا شعبة، عن منصور، عن ابراهيم، عن عبيد بن نضلة، عن المغيرة بن شعبة، ان امراتين، كانتا ضرتين فرمت احداهما الاخرى بحجر او عمود فسطاط فالقت جنينها فقضى رسول الله صلى الله عليه وسلم في الجنين غرة عبد او امة وجعله على عصبة المراة . قال الحسن واخبرنا زيد بن حباب، عن سفيان، عن منصور، بهذا الحديث نحوه . هذا حديث حسن صحيح
। আবূ জুহাইফা (রাহঃ) বলেন, আমি আলী (রাঃ)-কে বললাম, হে আমীরুল মু'মিনীন। আপনাদের নিকট সাদা কাগজে কালো কিছু লেখা (কোন বিষয়ের ব্যাখ্যা) আছে কি যা আল্লাহ্ তা'আলার গ্রন্থে নেই? তিনি উত্তরে বললেন, সেই মহান সত্তার শপথ, যিনি শস্য আবির্ভূত করেছেন এবং প্রাণের সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজীদ প্রসঙ্গে একজন মানুষকে যে বিশেষ জ্ঞান দিয়েছেন এবং এই সহীফার মধ্যে যা কিছু আছে তার বেশি কিছু আমি জানি না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, সহীফার মধ্যে কি আছে? তিনি বললেন, তাতে রক্তপণ এবং দাসমুক্তি সম্পর্কিত বিধান আছে। তাতে আরো আছে, কাফিরের পরিবর্তে কোন মুমিনকে (কিসাসস্বরূপ) হত্যা করা যাবে না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৬৫৮) আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস মোতাবিক একদল বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) বলেছেন, কাফিরকে খুনের অপরাধে মুসলিমকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা যাবে না। অন্য এক দল বলেছেন, চুক্তিবদ্ধ সম্প্রদায়ের কোন কাফিরকে খুন করার দায়ে মুসলিমকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা বৈধ। কিন্তু প্রথম মতই অনেক বেশি সহীহ।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا هشيم، انبانا مطرف، عن الشعبي، حدثنا ابو جحيفة، قال قلت لعلي يا امير المومنين هل عندكم سوداء في بيضاء ليس في كتاب الله قال لا والذي فلق الحبة وبرا النسمة ما علمته الا فهما يعطيه الله رجلا في القران وما في الصحيفة . قلت وما في الصحيفة قال فيها العقل وفكاك الاسير وان لا يقتل مومن بكافر . قال وفي الباب عن عبد الله بن عمرو . قال ابو عيسى حديث علي حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم وهو قول سفيان الثوري ومالك بن انس والشافعي واحمد واسحاق قالوا لا يقتل مومن بكافر . وقال بعض اهل العلم يقتل المسلم بالمعاهد . والقول الاول اصح
। আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কাফিরের পরিবর্তে কোন মুসলিম ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা যাবে না। হাসান সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৬৫৯) وَبِهَذَا الإِسْنَادِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " دِيَةُ عَقْلِ الْكَافِرِ نِصْفُ دِيَةِ عَقْلِ الْمُؤْمِنِ একই সনদসূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ “কাফিরের দিয়াত হচ্ছে মুসলিমের দিয়াতের অর্ধেক। হাসান, ইবনু মা-জাহ (২৬৪৪) এই অধ্যায়ে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। বিশেষজ্ঞ আলিমদের মধ্যে ইয়াহুদী ও নাসারাদের দিয়াত প্রসঙ্গে মতপার্থক্য আছে। এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে একদল আলিম সেটাই গ্রহণ করেছেন। উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) বলেছেন, ইয়াহুদী ও নাসারাদের দিয়াত মুসলিমদের দিয়াতের অর্ধেক হবে। একই কথা বলেছেন, আহমাদ ইবনু হাম্বল (রাহঃ)-ও। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, চার হাজার দিরহাম হচ্ছে ইয়াহুদী ও নাসারাদের দিয়াত এবং আটশত দিরহাম হচ্ছে মাজুসীদের দিয়াত। একই কথা বলেছেন, ইমাম মালিক, শাফিঈ ও ইসহাকও। অন্য একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, ইয়াহুদি নাসারাদের দিয়াত মুসলিমদের দিয়াতের সমান। সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসীদের এই মত।
حدثنا عيسى بن احمد، حدثنا ابن وهب، عن اسامة بن زيد، عن عمرو بن شعيب، عن ابيه، عن جده، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا يقتل مسلم بكافر " . وبهذا الاسناد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " دية عقل الكافر نصف دية عقل المومن " . قال ابو عيسى حديث عبد الله بن عمرو في هذا الباب حديث حسن . واختلف اهل العلم في دية اليهودي والنصراني فذهب بعض اهل العلم في دية اليهودي والنصراني الى ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم . وقال عمر بن عبد العزيز دية اليهودي والنصراني نصف دية المسلم . وبهذا يقول احمد بن حنبل وروي عن عمر بن الخطاب انه قال دية اليهودي والنصراني اربعة الاف درهم ودية المجوسي ثمانماية درهم . وبهذا يقول مالك بن انس والشافعي واسحاق . وقال بعض اهل العلم دية اليهودي والنصراني مثل دية المسلم . وهو قول سفيان الثوري واهل الكوفة
। সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার দাসকে হত্যা করবে আমরা (কিসাস স্বরূপ) তাকে হত্যা করব। আর যে ব্যক্তি তার দাসকে অঙ্গহানি করবে আমরা তাকে অঙ্গহানি করব। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২৬৬৩) আবূ ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান গারীব। তাবেঈদের কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম এ মত গ্রহণ করেছেন, ইব্রাহীম নাখঈ তাদেরই একজন। হাসান বাসরী আতা ইবনু আবী রাবাহ এবং কিছু বিদ্বানগণের মতে আযাদ ব্যক্তিকে দাসের বদলে কিসাস গ্রহণ করা যাবে না। তা হত্যার পরিবর্তেই হোক বা অঙ্গের পরিবর্তেই হোক। আহমাদ ও ইসহাকের অভিমত ইহাই। কেউ কেউ বলেছেন কোন ব্যক্তি যদি নিজস্ব গোলাম হত্যা করে তবে মালিককে হত্যা করা যাবে না। আর যদি অন্যের গোলাম হত্যা করে তবে তাকে হত্যা করা যাবে। সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসীদের ইহাই অভিমত।
حدثنا قتيبة، حدثنا ابو عوانة، عن قتادة، عن الحسن، عن سمرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من قتل عبده قتلناه ومن جدع عبده جدعناه " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب وقد ذهب بعض اهل العلم من التابعين منهم ابراهيم النخعي الى هذا وقال بعض اهل العلم منهم الحسن البصري وعطاء بن ابي رباح ليس بين الحر والعبد قصاص في النفس ولا فيما دون النفس . وهو قول احمد واسحاق . وقال بعضهم اذا قتل عبده لا يقتل به واذا قتل عبد غيره قتل به . وهو قول سفيان الثوري واهل الكوفة
। সাইদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, উমার (রাঃ) বলতেন, আকিলার (খুনীর পিতৃপক্ষীয় আত্মীয়) উপর দিয়াত ধার্য হয়ে থাকে এবং স্বামীর দিয়াতের ক্ষেত্রে স্ত্রী ওয়ারিস হয় না। এরপর তাকে যাহহাক ইবনু সুফিয়ান (রাঃ) জানান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লিখে পাঠানঃ আশইয়াম আয-যুবাবীর স্ত্রীকে তার স্বামীর দিয়াতের ওয়ারিস বানাও (তারপর তিনি পূর্বোক্ত অভিমত বাতিল করে দেন)। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৬৪২) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন।
حدثنا قتيبة، واحمد بن منيع، وابو عمار وغير واحد قالوا حدثنا سفيان بن عيينة، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب، ان عمر، كان يقول الدية على العاقلة ولا ترث المراة من دية زوجها شييا . حتى اخبره الضحاك بن سفيان الكلابي ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كتب اليه " ان ورث امراة اشيم الضبابي من دية زوجها " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একজন লোক তার দাঁত দিয়ে অন্য একজনের হাত কামড়ে ধরে। ঐ লোক তার হাতকে টেনে ছাড়িয়ে নেওয়ার ফলে প্রথম লোকটির সামনের দু'টি দাত উপড়ে যায়। তারা দু’জনেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অভিযোগ উত্থাপন করলে তিনি বললেনঃ তোমাদের কোন লোক কি উটের মত দাত দিয়ে তার ভাইকে কামড় দেয়? তোমার কোন দিয়াত প্রাপ্য নেই। অনন্তর মহান আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “জখমের জন্যও রয়েছে কিসাস" (সূরাঃ মাইদা— ৪৫)। সহীহ, নাসা-ঈ ইয়ালা ইবনু উমাইয়্যা ও সালামা ইবনু উমাইয়্যা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। তারা দু’জন সহোদর ভাই। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا علي بن خشرم، انبانا عيسى بن يونس، عن شعبة، عن قتادة، قال سمعت زرارة بن اوفى، يحدث عن عمران بن حصين، ان رجلا، عض يد رجل فنزع يده فوقعت ثنيتاه فاختصموا الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال " يعض احدكم اخاه كما يعض الفحل لا دية لك " . فانزل الله (والجروح قصاص ) . قال وفي الباب عن يعلى بن امية وسلمة بن امية وهما اخوان . قال ابو عيسى حديث عمران بن حصين حديث حسن صحيح
। বাহয ইবনু হাকীম (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন লোককে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানোর অভিযোগে বন্দী করেন, তারপর তাকে ছেড়ে দেন। হাসান, মিশকাত (৩৭৮৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বাহয ইবনু হাকীম (রাহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম বাহয ইবনু হাকীমের সূত্রে আরো দীর্ঘ ও পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন।
حدثنا علي بن سعيد الكندي، حدثنا ابن المبارك، عن معمر، عن بهز بن حكيم، عن ابيه، عن جده، ان النبي صلى الله عليه وسلم حبس رجلا في تهمة ثم خلى عنه . قال وفي الباب عن ابي هريرة . قال ابو عيسى حديث بهز عن ابيه عن جده حديث حسن . وقد روى اسماعيل بن ابراهيم عن بهز بن حكيم هذا الحديث اتم من هذا واطول
। সাঈদ ইবনু যাইদ ইবনু আমর ইবনু নুফাইল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক নিজের ধন-সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে গিয়ে মারা গেলে সে শহীদ। যে ব্যক্তি একবিঘত পরিমাণ জমি চুরি করবে কিয়ামত দিবসে তার গলায় সাত তবক জমি বুলিয়ে দেওয়া হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৪৫৮০), নাসা-ঈ হাতিম ইবনু সিয়াহ আল মারায়ী এই হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে বলেছেনঃ মামার বলেন, “যুহরী হতে আমার নিকট পৌছেছে, আমি তার নিকট সরাসরি শুনিনাই।” আর শুয়াইব ইবনু আবী হামযাহ বর্ণনা করেছেন যুহরী হতে, তিনি তালহা ইবনু আব্দুল্লাহ হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু আমর হতে, তিনি সাঈদ ইবনু যাইদ হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা বর্ণনা করেছেন যুহরী হতে, তিনি তালহা ইবনু আব্দুল্লাহ হতে, তিনি সাঈদ ইবনু যাইদ হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। সুফিয়ান আব্দুর রহমান ইবনু আমরের উল্লেখ করেননি। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
حدثنا سلمة بن شبيب، وحاتم بن سياه المروزي، وغير، واحد، قالوا حدثنا عبد الرزاق، عن معمر، عن الزهري، عن طلحة بن عبد الله بن عوف، عن عبد الرحمن بن عمرو بن سهل، عن سعيد بن زيد بن عمرو بن نفيل، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من قتل دون ماله فهو شهيد ومن سرق من الارض شبرا طوقه يوم القيامة من سبع ارضين " . وزاد حاتم بن سياه المروزي في هذا الحديث قال معمر بلغني عن الزهري ولم اسمع منه زاد في هذا الحديث " من قتل دون ماله فهو شهيد " . وهكذا روى شعيب بن ابي حمزة هذا الحديث عن الزهري عن طلحة بن عبد الله عن عبد الرحمن بن عمرو بن سهل عن سعيد بن زيد عن النبي صلى الله عليه وسلم . وروى سفيان بن عيينة عن الزهري عن طلحة بن عبد الله عن سعيد بن زيد عن النبي صلى الله عليه وسلم ولم يذكر فيه سفيان عن عبد الرحمن بن عمرو بن سهل . وهذا حديث حسن صحيح
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জোরপূর্বক কোন লোকের ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নিতে চাইলে সে যদি এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে মৃতুবরণ করে তবে শহীদ হিসাব গণ্য হবে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার আব্দুর রহমান হতে, তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান হতে, তিনি ইবারাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু তালহা হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابو عامر العقدي، حدثنا عبد العزيز بن المطلب، عن عبد الله بن الحسن، عن ابراهيم بن محمد بن طلحة، عن عبد الله بن عمرو، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من قتل دون ماله فهو شهيد " . قال وفي الباب عن علي وسعيد بن زيد وابي هريرة وابن عمر وابن عباس وجابر . قال ابو عيسى حديث عبد الله بن عمرو حديث حسن وقد روي عنه من غير وجه . وقد رخص بعض اهل العلم للرجل ان يقاتل عن نفسه وماله . وقال ابن المبارك يقاتل عن ماله ولو درهمين
। সাঈদ ইবনু যাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে লোক নিজের ধনমাল রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে শহীদ। যে লোক নিজের দীনকে হিফাযাত করতে গিয়ে মারা যায় সে শহীদ। যে লোক নিজের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে শহীদ। যে লোক তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে গিয়ে মারা যায় সেও শহীদ। সহীহ, আল-আহকাম (৪২) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। একাধিক বর্ণনাকারী ইবরাহীম ইবনু সা’দ-এর নিকট হতে একইরকম হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইয়াকুবের আব্বা ইবরাহীম দাদা সা’দ ইবন ইবরাহীম ইবনু আবদুর রাহমান ইবনু আওফ আয-যুহরী।
حدثنا عبد بن حميد، قال اخبرني يعقوب بن ابراهيم بن سعد، حدثنا ابي، عن ابيه، عن ابي عبيدة بن محمد بن عمار بن ياسر، عن طلحة بن عبد الله بن عوف، عن سعيد بن زيد، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " من قتل دون ماله فهو شهيد ومن قتل دون دينه فهو شهيد ومن قتل دون دمه فهو شهيد ومن قتل دون اهله فهو شهيد " . قال هذا حديث حسن . وهكذا روى غير واحد عن ابراهيم بن سعد نحو هذا . ويعقوب هو ابن ابراهيم بن سعد بن ابراهيم بن عبد الرحمن بن عوف الزهري
। সাহল ইবনু আবূ হাসমা ও রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তারা উভয়ে বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু সাহল ইবনু যাইদ এবং মুহাইয়্যিসা ইবনু মাসউদ ইবনু যাইদ (রাঃ) সফরের উদ্দেশ্যে বের হন। তারা দু’জনে খাইবার নামক জায়গায় এসে পরস্পর এদিক-সেদিক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরে আবদুল্লাহ ইবনু সাহলকে মুহাইয়্যিসা (রাঃ) মৃত অবস্থায় দেখতে পান এবং তাকে দাফন করেন। তারপর মুহাইয়্যিসা, (তার বড় ভাই) হুওয়াইয়্যিসা ইবনু মাসউদ ও (নিহতের ভাই) আবদুর রহমান ইবনু সাহল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসেন। দলের সবার মধ্যে আবদুর রহমান বয়সে ছোট ছিলেন। তিনি তার অপর দু’জন সঙ্গীর আগে কথা বলতে গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ বড়কে অগ্রাধিকার দাও। এতে তিনি চুপ থাকেন এবং তার অন্য দু'জন সঙ্গী কথা বলেন। অতঃপর তিনিও তাদের সাথে কথা বলেন, তারা আবদুল্লাহ ইবনু সাহলের মারা যাওয়ার কথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বললেন। তাদেরকে তিনি বলেনঃ তোমাদের পঞ্চাশজন লোক কি শপথ করবে? এতে তোমরা তোমাদের সঙ্গীর অথবা তোমাদের মৃতের দিয়াতের অধিকারী হবে। তারা বলেন, আমরা কিভাবে শপথ করি, আমরা তো প্রত্যক্ষদশী ছিলাম না? তিনি বললেনঃ তাহলে পঞ্চাশজন ইয়াহুদী শপথ করে তোমাদের (খুনের অভিযোগ) হতে মুক্ত হয়ে যাবে। তারা বলেন, আমরা কিভাবে কাফির সম্প্রদায়ের শপথ গ্রহন করতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিস্থিতি অনুধাবন করে নিজের (সরকারের) কাছ থেকেই তার দিয়াত আদায় করে দেন। সহীহ, ইবনু মা’জাহ (২৬৭৭), নাসা-ঈ উপরোক্ত হাদীসের মত একই অর্থবোধক হাদীস আল-হাসান ইবনু হতে, তিনি বুশাইর ইবনু ইয়াসার হতে, তিনি সাহল ইবনু আবূ হাসমা ও রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে এইসূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী কাসামার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। মাদীনার একদল আলিম অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, যদি খুনের অপরাধ কাসামার মাধ্যমে স্বীকার করা হয় তবে কিসাস কার্যকর হবে। কূফার একদল আলিম এবং অন্যরা বলেছেন, কাসামার মাধ্যমে কিসাস ওয়াজিব হয় না, কিন্তু দিয়াত ওয়াজিব হয়।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث بن سعد، عن يحيى بن سعيد، عن بشير بن يسار، عن سهل بن ابي حثمة، قال يحيى وحسبت عن رافع بن خديج، انهما قالا خرج عبد الله بن سهل بن زيد ومحيصة بن مسعود بن زيد حتى اذا كانا بخيبر تفرقا في بعض ما هناك ثم ان محيصة وجد عبد الله بن سهل قتيلا قد قتل فدفنه ثم اقبل الى رسول الله صلى الله عليه وسلم هو وحويصة بن مسعود وعبد الرحمن بن سهل وكان اصغر القوم ذهب عبد الرحمن ليتكلم قبل صاحبيه قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " كبر الكبر " . فصمت وتكلم صاحباه ثم تكلم معهما فذكروا لرسول الله صلى الله عليه وسلم مقتل عبد الله بن سهل فقال لهم " اتحلفون خمسين يمينا فتستحقون صاحبكم او قاتلكم " . قالوا وكيف نحلف ولم نشهد قال " فتبريكم يهود بخمسين يمينا " . قالوا وكيف نقبل ايمان قوم كفار فلما راى ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم اعطى عقله . حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا يحيى بن سعيد، عن بشير بن يسار، عن سهل بن ابي حثمة، ورافع بن خديج، نحو هذا الحديث بمعناه . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والعمل على هذا الحديث عند اهل العلم في القسامة وقد راى بعض فقهاء المدينة القود بالقسامة . وقال بعض اهل العلم من اهل الكوفة وغيرهم ان القسامة لا توجب القود وانما توجب الدية . اخر ابواب الديات والحمد لله