Loading...

Loading...
বইসমূহ
১১৭ হাদিসসমূহ
। সুয়াইদ ইবনু কাইস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হাজার নামক জায়গা হতে আমি ও মাখরাফা আল-আবদী (রাঃ) কিছু কাপড় আমদানি করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এলেন। তিনি আমাদের নিকট হতে একটি পায়জামা কেনার জন্য দামাদামি করলেন। আমাদের নিকটই একজন কয়াল (পরিমাপক) উপস্থিত ছিল। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সে ওজন করে দিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দ্রব্যের মূল্য পরিশোধকালে) কয়ালকে বলেনঃ ওজন কর এবং কিছুটা বেশি দাও। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২২০) জাবির ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। সুয়াইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ওজনের সময় একটু বেশি দেওয়াকে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ উত্তম বলেছেন। সিমাকের সূত্রে শুবা উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং সনদে আবূ সাফওয়ানকে সিমাকের পরে যোগ করেছেন।
حدثنا هناد، ومحمود بن غيلان، قالا حدثنا وكيع، عن سفيان، عن سماك بن حرب، عن سويد بن قيس، قال جلبت انا ومخرفة العبدي، بزا من هجر فجاءنا النبي صلى الله عليه وسلم فساومنا بسراويل وعندي وزان يزن بالاجر فقال النبي صلى الله عليه وسلم للوزان " زن وارجح " . قال وفي الباب عن جابر وابي هريرة . قال ابو عيسى حديث سويد حديث حسن صحيح . واهل العلم يستحبون الرجحان في الوزن . وروى شعبة هذا الحديث عن سماك فقال عن ابي صفوان وذكر الحديث
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক অভাবী ঋণগ্রস্তকে সুযোগ প্রদান করে অথবা ঋণ মাফ করে দেয়, কিয়ামতের দিবসে আল্লাহ্ তায়ালা তাকে নিজ আরশের ছায়ায় আশ্রয় প্রদান করবেন, যেদিন তার আরশের ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না। সহীহ তা’লীকুর রাগীব (২/৩৭), বেচা-কেনার হাদীস আবূল ইয়াসার, আবূ কাতাদা, হুযাইফা, ইবনু মাসউদ ও উবাদা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদসূত্রে হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।
حدثنا ابو كريب، حدثنا اسحاق بن سليمان الرازي، عن داود بن قيس، عن زيد بن اسلم، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من انظر معسرا او وضع له اظله الله يوم القيامة تحت ظل عرشه يوم لا ظل الا ظله " . قال وفي الباب عن ابي اليسر وابي قتادة وحذيفة وابن مسعود وعبادة وجابر . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه
। আবূ মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী জাতির মধ্যে কোন এক লোকের হিসাব নেওয়া হলে তার কোন ভাল কাজ পাওয়া গেল না। সে ছিল ধনীলোক। সে যখন লোকদের সাথে লেন-দেন করত তখন নিজ গোলামদের হুকুম প্রদান করতঃ অভাবী ঋণগ্রস্তদের সাথে সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ কর। এতে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমি ক্ষমা ও সহানুভূতির ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি উপযোগী। অতএব, (হে ফেরেশতাগণ!) তাকে মুক্তি প্রদান কর। সহীহ, বেচা-কেনার হাদিস, মুসলিম। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবূল ইয়াসাবের নাম কাব, পিতা আমর।
حدثنا هناد، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن شقيق، عن ابي مسعود، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " حوسب رجل ممن كان قبلكم فلم يوجد له من الخير شيء الا انه كان رجلا موسرا وكان يخالط الناس وكان يامر غلمانه ان يتجاوزوا عن المعسر فقال الله عز وجل نحن احق بذلك منه تجاوزوا عنه " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . وابو اليسر كعب بن عمرو
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঋণ পরিশোধ করার ক্ষেত্রে সক্ষম ব্যক্তির টালবাহানা করা অন্যায়। তোমাদের কারো পাওনা পরিশোধ করার জন্য ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কোন সক্ষম ব্যক্তির উপর দায়িত্ব দিলে তা অনুমোদন করা উচিত। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৪০৩), নাসা-ঈ ইবনু উমার ও আশ-শারীদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، حدثنا سفيان، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " مطل الغني ظلم واذا اتبع احدكم على ملي فليتبع " . قال وفي الباب عن ابن عمر والشريد بن سويد الثقفي
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বচ্ছল অবস্থা সম্পন্ন লোকদের (ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে) টালবাহানা করা যুলুম। তোমাকে অবস্থা সম্পন্ন ব্যক্তির উপর সোপর্দ করা হলে তুমি তা অনুমোদন করবে এবং এক বিক্রয় চুক্তির মধ্যে দুই বিক্রয় (শর্ত) অন্তর্ভুক্ত করবে না। সহীহ, বেচা-কেনার হাদীস আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসের তাৎপর্য হলঃ কোন লোক তার (ঋণ ইত্যাদির) দায় স্বচ্ছল লোকের উপর অর্পণ (হাওয়ালা) করলে সে যেন তা অনুমোদন করে। কিছু আলিম বলেছেন, সক্ষম ব্যক্তির উপর ঋণ অর্পণ করা হলে এবং পাওনাদার তা অনুমোদন করলে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি দায়মুক্ত হয়ে যাবে। ঋণদানকারী আর তাকে তাগাদা দিতে পারবে না। এই মত দিয়েছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। অন্য একদল আলিম বলেছেন, সক্ষম অবস্থাসম্পন্ন লোকের উপর যে লোকের ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল সে যদি দেউলিয়া হয়ে যায়, তবে ঋণদানকারী তার আসল ঋণীকে তাগাদা দেয়ার অধিকারী হবে। তারা নিজেদের দলীল হিসাবে উসমান (রাঃ) ও অন্যান্য সাহাবীর একটি বক্তব্যকে গ্রহণ করেছেনঃ “মুসলিমের মাল বিলীন হতে পারে না”। ইসহাক বলেন, মুসলিমের মাল বিলীন হতে পারে না কথার তাৎপর্য এই যে, ঋণগ্রহীতা ঋণদাতাকে অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হতে তাকে স্বচ্ছল ভেবে তার ঋণ আদায় করে নেওয়ার কথা বলে। কিন্তু দেখা গেল যে, সে আসলে দেউলিয়া। এই অবস্থায় মুসলিমের মাল বিনষ্ট হতে পারে না (হাওয়ালাকারীকেই তা পরিশোধ করতে হবে)।
حدثنا ابراهيم بن عبد الله الهروي، قال حدثنا هشيم، قال حدثنا يونس بن عبيد، عن نافع، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " مطل الغني ظلم واذا احلت على مليء فاتبعه ولا تبع بيعتين في بيعة " . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . ومعناه انه اذا احيل احدكم على ملي فليتبع . فقال بعض اهل العلم اذا احيل الرجل على ملي فاحتاله فقد بري المحيل وليس له ان يرجع على المحيل . وهو قول الشافعي واحمد واسحاق . وقال بعض اهل العلم اذا توي مال هذا بافلاس المحال عليه فله ان يرجع على الاول . واحتجوا بقول عثمان وغيره حين قالوا ليس على مال مسلم توى . قال اسحاق معنى هذا الحديث " ليس على مال مسلم توى " . هذا اذا احيل الرجل على اخر وهو يرى انه ملي فاذا هو معدم فليس على مال مسلم توى
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মুনাবাযা ও মুলামাসা প্রকারের বেচা-কেনাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষিদ্ধ করেছেন। সহীহ, বেচা-কেনার হাদীস, নাসা-ঈ আবূ সাঈদ ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসের তাৎপর্য এই যে, বিক্রেতা বললঃ আমি যখন তোমার দিকে কিছু নিক্ষেপ করব তখন তোমার ও আমার মাঝে বেচা-কেনা বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে। একে বলে মুনাবাযা। মুলামাসার অর্থ হলঃ বিক্রেতা ক্রেতাকে বলল, অমুক জিনিসটি তুমি স্পর্শ করলে বেচা-কেনা করাটা বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে, ক্রেতা যদি পণ্যটি না দেখে থাকে তারপরেও, যেমন মোড়কের মধ্যের জিনিস, খাপের মধ্যের তরবারি ইত্যাদি। এটা এক প্রকার বিক্রয় পদ্ধতি যা জাহিলী যুগে করা হতো। এ উভয় প্রকার বিক্রয় করতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।
حدثنا ابو كريب، ومحمود بن غيلان، قالا حدثنا وكيع، عن سفيان، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بيع المنابذة والملامسة . قال وفي الباب عن ابي سعيد وابن عمر . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . ومعنى هذا الحديث ان يقول اذا نبذت اليك الشىء فقد وجب البيع بيني وبينك . والملامسة ان يقول اذا لمست الشىء فقد وجب البيع وان كان لا يرى منه شييا مثل ما يكون في الجراب او غير ذلك وانما كان هذا من بيوع اهل الجاهلية فنهى عن ذلك
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সময় মাদীনায় আসেন সে সময় বিভিন্ন ধরণের ফলমূল অগ্রিম বেচা-কেনায় এখানকার লোকজন অভ্যস্ত ছিল। তিনি বললেনঃ যে লোক অগ্রিম বেচা-কেনা করতে চায় সে যেন পরিমাপ, ওজন ও মেয়াদ নির্দিষ্ট করে নেয়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২৮০), নাসা-ঈ ইবনু আবী আওফা ও আবদুর রাহমান ইবনু আব্যা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী সাহাবী ও তাবিঈগণ আমল করেছেন। তাদের মতে অগ্রিম বেচা-কেনা জায়িয হবে খাদ্যশস্য, কাপড়-চোপড় এবং যেসব বস্তুর পরিমাণ, বৈশিষ্ট্য, অবস্থা ও ধরণ নির্ধারণ করা যায় এমন পণ্যের ক্ষেত্রে। পশু অগ্রিম বেচা-কেনা করা যায় কিনা এ ব্যাপারে মতের অমিল আছে। পশুর অগ্রিম বেচা-কেনা করাটা একদল সাহাবী ও তাবিঈর মতে জায়িয। এই মত দিয়েছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। এটাকে আরেক দল আলিম নাজায়িয বলেছেন। সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণ এই শেষোক্ত মত গ্রহণ করেছেন। আবূল মিনহালের নাম আব্দুর রহমান, পিতা মুতঈম।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا سفيان، عن ابن ابي نجيح، عن عبد الله بن كثير، عن ابي المنهال، عن ابن عباس، قال قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة وهم يسلفون في الثمر فقال " من اسلف فليسلف في كيل معلوم ووزن معلوم الى اجل معلوم " . قال وفي الباب عن ابن ابي اوفى وعبد الرحمن بن ابزى . قال ابو عيسى حديث ابن عباس حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم اجازوا السلف في الطعام والثياب وغير ذلك مما يعرف حده وصفته واختلفوا في السلم في الحيوان فراى بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم السلم في الحيوان جايزا . وهو قول الشافعي واحمد واسحاق . وكره بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم السلم في الحيوان . وهو قول سفيان الثوري واهل الكوفة . ابو المنهال اسمه عبد الرحمن بن مطعم
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বাগানের মালিকানায় কোন ব্যক্তির সাথে তার আরো শরীক থাকলে, সে তার অংশ বিক্রয়ের জন্য শরীকদেরকে ক্রয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পূর্বে যেন সেটা অন্যের নিকট বিক্রয় না করে। সহীহ, ইরওয়া (৫/৩৭৩), বেচা-কেনার হাদীস, মুসলিম অনুরূপ। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদ পরস্পর সংযুক্ত (মুত্তাসিল) নয়। আমি ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছিঃ সুলাইমান ইয়াশকুরী প্রসঙ্গে কথিত আছে যে, জাবির (রাঃ)-এর জীবদ্দশাতেই তিনি মৃত্যু বরণ করেন। আর তার নিকট হতে বিশর ও কাতাদা (রাহঃ) কখনও কিছু শুনেননি। বুখারী আরো বলেন, সুলাইমান ইয়াশকুরীর কাছে আমর ইবনু দীনার ব্যতীত আর কেউ শুনেছেন বলে আমার জানা নেই। জাবির (রাঃ)-এর জীবদ্দশায় হয়ত আমর তার নিকট হাদীস শুনেছেন। কাতাদা (রাহঃ) সুলাইমান ইয়াশকুরীর পাণ্ডুলিপি হতেই হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি এটা জাবির (রাঃ)-এর নিকট হতে অর্জন করেছিলেন। সুলাইমান আত-তাইনী বলেছেন, তারা হাসান বাসরীর নিকট জাবির (রাঃ)-এর পাণ্ডুলিপিটি নিয়ে গেলেন। তিনি এটাকে গ্রহণ করলেন বা তা হতে রিওয়ায়াত করেন। অতঃপর তারা এটাকে কাতাদার নিকট নিয়ে গেলে তিনিও তা হতে রিওয়ায়াত করেন। তারপর এটাকে তারা আমার কাছে নিয়ে এলে আমি তা হতে রিওয়ায়াত করিনি এবং তা ফিরত দেই।
حدثنا علي بن خشرم، حدثنا عيسى بن يونس، عن سعيد، عن قتادة، عن سليمان اليشكري، عن جابر بن عبد الله، ان نبي الله صلى الله عليه وسلم قال " من كان له شريك في حايط فلا يبيع نصيبه من ذلك حتى يعرضه على شريكه " . قال ابو عيسى هذا حديث اسناده ليس بمتصل . سمعت محمدا يقول سليمان اليشكري يقال انه مات في حياة جابر بن عبد الله . قال ولم يسمع منه قتادة ولا ابو بشر . قال محمد ولا نعرف لاحد منهم سماعا من سليمان اليشكري الا ان يكون عمرو بن دينار فلعله سمع منه في حياة جابر بن عبد الله . قال وانما يحدث قتادة عن صحيفة سليمان اليشكري وكان له كتاب عن جابر بن عبد الله . حدثنا ابو بكر العطار عبد القدوس قال قال علي بن المديني قال يحيى بن سعيد قال سليمان التيمي ذهبوا بصحيفة جابر بن عبد الله الى الحسن البصري فاخذها او قال فرواها وذهبوا بها الى قتادة فرواها واتوني بها فلم اروها . يقول رددتها
। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাকালা ‘মুযাবানা', মুখাবারা ও মুআওয়ামা’* করতে নিষেধ করেছেন, কিন্তু আরাইয়ার অনুমতি প্রদান করেছেন।* সহীহ, বেচা-কেনার হাদিস, মুসলিম। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الوهاب الثقفي، حدثنا ايوب، عن ابي الزبير، عن جابر، ان النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن المحاقلة والمزابنة والمخابرة والمعاومة ورخص في العرايا . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একবার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে লোকেরা বলতে লাগল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য দ্রব্যমূল্য বেঁধে দিন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলাই মূল্য নির্ধারণ করে থাকেন, তিনিই নিয়ন্ত্রণকারী, অপ্রশস্তকারী, প্রশস্তকারী ও রিযিক দানকারী। আমি আমার প্রতিপালকের সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হতে চাই যে, তোমাদের কোন লোক যেন এ দাবি করতে না পারে (আমার বিরুদ্ধে) যে, তার জান-মালের উপর আমি হস্তক্ষেপ করেছি। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২০০) আবূ ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا الحجاج بن منهال، حدثنا حماد بن سلمة، عن قتادة، وثابت، وحميد، عن انس، قال غلا السعر على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا يا رسول الله سعر لنا . فقال " ان الله هو المسعر القابض الباسط الرزاق واني لارجو ان القى ربي وليس احد منكم يطلبني بمظلمة في دم ولا مال " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কোন একসময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম (বাজারে) একটি খাদ্যশস্যের স্তূপ অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। তিনি নিজের হাতকে স্তূপের মধ্যে প্রবেশ করালেন। তিনি তার হাতে ভিজা অনুভব করেন। স্তূপের মালিককে তিনি প্রশ্ন করেনঃ এ কি? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এটা বৃষ্টির পানিতে ভিজে গিয়েছিল। তিনি বললেনঃ ভিজাগুলো স্তুপের উপরে রাখলে না কেন, যাতে লোকেরা দেখতে পেত? অতঃপর তিনি বললেনঃ প্রতারণাকারী ও ধোকাবাজকারীদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২২৪) ইবনু নিয়ার ও হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ মত দিয়েছেন। প্রতারণা ও ধোকাবাজিকে তারা খুবই জঘন্য অপরাধ হিসাবে উল্লেখ করেছেন এবং এটাকে হারাম বলেছেন।
حدثنا علي بن حجر، اخبرنا اسماعيل بن جعفر، عن العلاء بن عبد الرحمن، عن ابيه، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم مر على صبرة من طعام فادخل يده فيها فنالت اصابعه بللا فقال " يا صاحب الطعام ما هذا " . قال اصابته السماء يا رسول الله . قال " افلا جعلته فوق الطعام حتى يراه الناس " . ثم قال " من غش فليس منا " . قال وفي الباب عن ابن عمر وابي الحمراء وابن عباس وبريدة وابي بردة بن نيار وحذيفة بن اليمان . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم كرهوا الغش وقالوا الغش حرام
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি নিজের পাওনা আদায়ের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কঠোর তাগাদা দিল। এর ফলে লোকটির উপর সাহাবীগণ রেগে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে উপেক্ষা কর, কেননা, পাওনাদারের অধিকার আছে কথা বলার। তিনি আরো বললেনঃ একটি উট কিনে তোমরা তাকে প্রদান কর। তারা উটের তালাশ করলেন। কিন্তু তার পাওনা উট হতে অধিক ভালটি ছাড়া অন্য কোন উট পেলেননা। তিনি বললেনঃ তাকে সেটাই কিনে দাও। কেননা, তোমাদের মধ্যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধকারী লোকই উত্তম। সহীহ, বেচা-কেনার হাদীস, নাসা-ঈ এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার মুহাম্মাদ ইবনু জাফার হতে, তিনি শুবা হতে, তিনি সালামা ইবনু কুহাইল হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا ابو كريب، حدثنا وكيع، عن علي بن صالح، عن سلمة بن كهيل، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال استقرض رسول الله صلى الله عليه وسلم سنا فاعطاه سنا خيرا من سنه وقال " خياركم احاسنكم قضاء " . قال وفي الباب عن ابي رافع . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . وقد رواه شعبة وسفيان عن سلمة . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم لم يروا باستقراض السن باسا من الابل . وهو قول الشافعي واحمد واسحاق . وكره بعضهم ذلك
। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আযাদকৃত গোলাম আবূ রাফি (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উঠতি বয়সের একটি উট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধার হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তারপর (বাইতুল মালে) যাকাতের উট আসে। আবূ রাফি (রাঃ) বলেন, ঐ লোকের উঠতি বয়সের উটটি পরিশোধের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দিলেন। আমি বললাম, (বাইতুল মালে) ছয় বছর বয়সের উটের চেয়ে ছোট উট পাচ্ছি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে ঐটিই প্রদান কর। কেননা, উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধকারী ব্যক্তিই লোকদের মধ্যে বেশি উত্তম। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২৮৫), মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا عبد بن حميد، حدثنا روح بن عبادة، حدثنا مالك بن انس، عن زيد بن اسلم، عن عطاء بن يسار، عن ابي رافع، مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال استسلف رسول الله صلى الله عليه وسلم بكرا فجاءته ابل من الصدقة . قال ابو رافع فامرني رسول الله صلى الله عليه وسلم ان اقضي الرجل بكره . فقلت لا اجد في الابل الا جملا خيارا رباعيا . فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اعطه اياه فان خيار الناس احسنهم قضاء " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্রয়-বিক্রয় ও তাগাদার ক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলা নমতা পছন্দ করেন। সহীহ, সহীহ (৮৯০৯) জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা গারীব বলেছেন। উপরোক্ত হাদীসটি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে সাঈদ আল-মাকবুরীর বরাতে ইবনুস এর সূত্রেও বর্ণিত আছে।
حدثنا ابو كريب، حدثنا اسحاق بن سليمان الرازي، عن مغيرة بن مسلم، عن يونس، عن الحسن، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ان الله يحب سمح البيع سمح الشراء سمح القضاء " . قال وفي الباب عن جابر . قال ابو عيسى هذا حديث غريب . وقد روى بعضهم هذا الحديث عن يونس عن سعيد المقبري عن ابي هريرة
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা তোমাদের পূর্বকালের এক লোককে ক্ষমা করে দিয়েছেন। সে যখন বিক্রয় করত নম্রতা দেখাতো, যখন ক্রয় করত বিনয় প্রদর্শন করতো এবং যখন ঋণের তাগাদা প্রদান করত তখনও নম্রতা ও ভদ্রতা প্রদর্শন করত। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২০৩), বুখারী অনুরূপ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা উল্লেখিত সনদসূত্রে সহীহ্ হাসান গারীব বলেছেন।
حدثنا عباس بن محمد الدوري، حدثنا عبد الوهاب بن عطاء، اخبرنا اسراييل، عن زيد بن عطاء بن السايب، عن محمد بن المنكدر، عن جابر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " غفر الله لرجل كان قبلكم كان سهلا اذا باع سهلا اذا اشترى سهلا اذا اقتضى " . قال هذا حديث صحيح حسن غريب من هذا الوجه
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বলেছেনঃ মসজিদের ভিতরে তোমরা কোন লোককে বেচা-কেনা করতে দেখলে বলবে, আল্লাহ তা'আলা যেন তোমার ব্যবসায়ে কোন লাভ প্রদান না করেন। মসজিদের মধ্যে তোমরা কোন লোককে হারানো জিনিসের ঘোষণা দিতে দেখলে বলবে, তোমার হারানো জিনিসকে যেন আল্লাহ্ তা'আলা ফিরিয়ে না দেন। সহীহ, মিশকাত (৭৩৩), ইরওয়া (১৪৯৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করার কথা বলেছেন। তাদের মতে মসজিদের ভিতরে বেচা-কেনা করা নিষেধ। এই মত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)। মসজিদের ভিতরে বেচা-কেনা করাটা অন্য একদল বিশেষজ্ঞ আলিমের মতে জায়িয।
حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا عارم، حدثنا عبد العزيز بن محمد، اخبرنا يزيد بن خصيفة، عن محمد بن عبد الرحمن بن ثوبان، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اذا رايتم من يبيع او يبتاع في المسجد فقولوا لا اربح الله تجارتك واذا رايتم من ينشد فيه ضالة فقولوا لا رد الله عليك " . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن غريب . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم كرهوا البيع والشراء في المسجد . وهو قول احمد واسحاق . وقد رخص بعض اهل العلم في البيع والشراء في المسجد