Loading...

Loading...
বইসমূহ
১১৭ হাদিসসমূহ
। আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, আবৃ আইয়্যাশ যাইদ (রাহঃ) বার্লির বিনিময়ে গম বিক্রয় করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি সা'দ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলেনঃ তখন তিনি (সাদ) বললেন, এ দুটির মধ্যে কোনটি অপেক্ষাকৃত উত্তমঃ তিনি (যাইদ) বললেন, গম। তারপর তিনি (সা’দ) এ ধরণের বিক্রয় করা নিষেধ করলেন তিনি আরও বললেন, আমি তাজা খেজুরকে শুকনো খেজুরের বিনিময়ে বিক্রয় করা যায় কি-না সেই প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রশ্ন করতে শুনেছি। তিনি তার পাশের লোকদের প্রশ্ন করলেন যে, খেজুর শুকালে কি (ওজনে) কমে যায়? তারা বললেন, হ্যাঁ। তারপর এ ধরণের বিক্রয়কে তিনি নিষিদ্ধ করে দিলেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২৬৪) হান্নাদ বর্ণনা করেছেন ওয়াকী হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু ইয়ামীদ হতে, তিনি যাইদ আবু আইয়্যাশ (রাহঃ) হতে, তিনি বলেন, সা’দ (রাঃ)-কে আমরা প্রশ্ন করলাম....উপরের হাদীসের মত। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন। এই মত দিয়েছেন ইমাম শাফিঈ এবং আমাদের সাথীরাও।
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, খেজুরের লাল বা হলুদ বর্ণ না আসা পর্যন্ত তা বিক্রয় করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারণ করেছেন। - সহীহ, বেচা-কেনার হাদীস।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا اسماعيل بن ابراهيم، عن ايوب، عن نافع، عن ابن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن بيع النخل حتى يزهو
। একই সনদ সূত্রে আরো বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শীষ জাতীয় ফসল (ধান, গম ইত্যাদি) বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন যতক্ষণ তা পেকে সাদা না হয়। — সহীহ, প্রাগুক্ত আনাস, আইশা, আবু হুরাইরা, ইবনু আব্বাস, জাবির, আবু সাঈদ ও যাইদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, ইবনু উমার (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয আল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিম অমল করেছেন। ফল পক্ক হওয়ার আগেই বিক্রয় করা তাদের মতে মাকরূহ। এই মত পোষণ করেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও।
وبهذا الاسناد ان النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن بيع السنبل حتى يبيض ويامن العاهة نهى البايع والمشتري . قال وفي الباب عن انس وعايشة وابي هريرة وابن عباس وجابر وابي سعيد وزيد بن ثابت . قال ابو عيسى حديث ابن عمر حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم كرهوا بيع الثمار قبل ان يبدو صلاحها . وهو قول الشافعي واحمد واسحاق
। আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, কাল রং ধারণ না করা পর্যন্ত আঙ্গুরকে এবং হৃষ্টপুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত শস্যকে বিক্রয় করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। — সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২১৭) আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা এটাকে শুধু হাম্মাদ ইবনু সালামার সূত্রেই মারফু হিসেবে জেনেছি।
حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا ابو الوليد، وعفان، وسليمان بن حرب، قالوا حدثنا حماد بن سلمة، عن حميد، عن انس، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن بيع العنب حتى يسود وعن بيع الحب حتى يشتد . قال ابو عيسى هذا حديث حسن غريب لا نعرفه مرفوعا الا من حديث حماد بن سلمة
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, (পশুর) গর্ভস্থিত বাচ্চার বাচ্চা বিক্রি করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২১৯৭), মুসলিম, বুখারী আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস ও আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবিক অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। 'হাবলুল হাবল’ বলতে বাচ্চার বাচ্চা বুঝায়। এভাবে বিক্রয় করাটা আলিমদের মতে বাতিল বলে গণ্য হবে। এটা ক্রয়-বিক্রয়ে এক প্রকারের প্রতারণা। শুবা-আইয়ুব হতে তিনি সাঈদ ইবনু জুবাইর হতে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবনু উমারের এ হাদীসটি আবূল ওয়াহহাব আস-সাকাফী এবং তিনি ইবনু উমার হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন এবং এ সূত্রটি অনেক বেশি সহীহ।
حدثنا قتيبة، حدثنا حماد بن زيد، عن ايوب، عن نافع، عن ابن عمر، ان النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن بيع حبل الحبلة . قال وفي الباب عن عبد الله بن عباس وابي سعيد الخدري . قال ابو عيسى حديث ابن عمر حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم وحبل الحبلة نتاج النتاج وهو بيع مفسوخ عند اهل العلم وهو من بيوع الغرر . وقد روى شعبة هذا الحديث عن ايوب عن سعيد بن جبير عن ابن عباس . وروى عبد الوهاب الثقفي وغيره عن ايوب عن سعيد بن جبير ونافع عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم . وهذا اصح
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, প্রতারণামূলক ক্রয়-বিক্রয় করতে এবং কাকর নিক্ষেপে ক্রয়-বিক্রয় নির্ধারিত করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২১৯৪), মুসলিম ইবনু উমার, ইবনু আব্বাস, আবূ সাঈদ ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। তারা প্রতারণামূলক ক্রয়-বিক্রয় করাকে নিষিদ্ধ বলেছেন। ইমাম শাফিঈ বলেছেন, প্রতারণামূলক ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে রয়েছে পানির মধ্যের মাছ, পলাতক গোলাম, শূন্যে উড়ন্ত পাখি বা অনুরূপ পর্যায়ের কোন কিছুর ক্রয়-বিক্রয়। কাকর নিক্ষেপে বিক্রয়ের ধরণ হলঃ যদি বিক্রেতা ক্রেতাকে বলে, তোমার দিকে আমি যখন কোন কাঁকর ছুঁড়ে মারবো তখন তোমার ও আমার মাঝে বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে ক্রয়-বিক্রয় করাটা। এটা মুনাবাযা ধরণের ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এটাও জাহিলী যুগের প্রথা।
حدثنا ابو كريب، انبانا ابو اسامة، عن عبيد الله بن عمر، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بيع الغرر وبيع الحصاة . قال وفي الباب عن ابن عمر وابن عباس وابي سعيد وانس . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . والعمل على هذا الحديث عند اهل العلم كرهوا بيع الغرر . قال الشافعي ومن بيوع الغرر بيع السمك في الماء وبيع العبد الابق وبيع الطير في السماء ونحو ذلك من البيوع . ومعنى بيع الحصاة ان يقول البايع للمشتري اذا نبذت اليك بالحصاة فقد وجب البيع فيما بيني وبينك . وهذا شبيه ببيع المنابذة وكان هذا من بيوع اهل الجاهلية
। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, দুই ধরণের বিক্রয় ব্যবস্থার মাধ্যমে (দুই ধরনের শর্তে) একই জিনিসের বিক্রয় করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। --- সহীহ, মিশকাত (২৮৬৮), ইরওয়া (৫/১৪৯) আবদুল্লাহ ইবনু আমর, ইবনু উমার ও ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেন। “বাইআতাইনে ফী বাইআতিন”-এর ব্যাখ্যায় একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেনঃ ক্রেতাকে বিক্রেতা বলল, এই কাপড়টি দশ টাকায় যদি নগদ মূল্যে ক্রয় করা হয়, তবে বাকীতে ক্রয় করলে বিশ টাকা। এই দুটি বিক্রয় প্রস্তাবের মধ্যে কোন একটিকে কোন পক্ষই নাকচ করল না। কিন্তু কোন একটি প্রস্তাব যদি গ্রহণ করে নেয় এবং সে অনুযায়ী চুক্তি হয় তবে তাতে কোন সমস্যা নেই। ইমাম শাফঈ বলেছেন, একই বিক্রয়ে দুই ধরনের বিক্রয় অন্তর্ভুক্ত করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম,নিষেধ করেছেন। তার দৃষ্টান্ত হলঃ কোন লোক বলল, আমি তোমার নিকট এত টাকায় আমার এই ঘর বিক্রয় করব এই শর্তে যে, আমার নিকট তোমার গোলামটিও এত টাকায় বিক্রয় করতে হবে। তোমার গোলাম যখন আমার অধীনে আসবে আমার ঘরও তখন তোমার অধীনে চলে যাবে। এই প্রকারের ক্রয়-বিক্রয় ঐ ক্রয়-বিক্রয় হতে ভিন্ন যেখানে পণ্যের মধ্যে কোনটিরই মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি বিধায় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে বিক্রিত দ্রব্যের মূল্য সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে।
حدثنا هناد، حدثنا عبدة بن سليمان، عن محمد بن عمرو، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بيعتين في بيعة . وفي الباب عن عبد الله بن عمرو وابن عمر وابن مسعود . قال ابو عيسى حديث ابي هريرة حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم وقد فسر بعض اهل العلم قالوا بيعتين في بيعة . ان يقول ابيعك هذا الثوب بنقد بعشرة وبنسيية بعشرين ولا يفارقه على احد البيعين فاذا فارقه على احدهما فلا باس اذا كانت العقدة على واحد منهما . قال الشافعي ومن معنى نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن بيعتين في بيعة ان يقول ابيعك داري هذه بكذا على ان تبيعني غلامك بكذا فاذا وجب لي غلامك وجب لك داري . وهذا يفارق عن بيع بغير ثمن معلوم ولا يدري كل واحد منهما على ما وقعت عليه صفقته
। হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, বললাম, আমার নিকট এসে কোন লোক এমন জিনিস কিনতে চায় যা আমার নিকট নেই। আমি এভাবে বিক্রয় করতে পারি কি যে, তা বাজার হতে ক্রয় করে এনে তাকে দিব? তিনি বলেনঃ যা তোমার অধিকারে নেই তা তুমি বিক্রয় কর না। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২১৮৭)। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
حدثنا قتيبة، حدثنا هشيم، عن ابي بشر، عن يوسف بن ماهك، عن حكيم بن حزام، قال اتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت ياتيني الرجل يسالني من البيع ما ليس عندي ابتاع له من السوق ثم ابيعه قال " لا تبع ما ليس عندك " . قال وفي الباب عن عبد الله بن عمر
। হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার হাতে নেই এমনসব বস্তু বিক্রয় করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিষেধ করেছেন। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। ইসহাক ইবনু মানসূর বলেন, ইমাম আহমাদকে আমি প্রশ্ন করলাম, “ঋণ ও বিক্রয় একত্রে জায়িয নয়” এ কথার অর্থ কি? তিনি বললেন, কোন লোককে ঋণও প্রদান করলে এবং এর সাথে সাথে তার নিকট তোমার পণ্যও চড়া দামে বিক্রয় করলে। অথবা এরূপও হতে পারে যে, কোন জিনিস (বন্ধক রেখে) তাকে ঋণ দিয়ে বললে, তোমার এটা (বন্ধক) এতো দামে বিক্রীত বলে গণ্য হবে যদি ঐটা পরিশোধ করতে না পার। ইসহাক আরও বলেন, আমি ইমাম আহমাদকে পুনরায় বললাম, “লোকসানের দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিক্রয় হয় না” কথার অর্থ কি? তিনি বললেন, আমার মতে শুধু খাদ্যদ্রব্যের বেলায় এটা প্রযোজ্য হবে অর্থাৎ যতক্ষণ এটা তোমার হস্তগত না হবে ততক্ষণ তা বিক্রয় করতে পারবে না। ইসহাক বলেন, পরিমাপ যন্ত্র বা পাত্র দিয়ে যা মাপা হয় সেই সব ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযোজ্য। ইমাম আহমাদ বলেন, যদি এভাবে বলা হয়ঃ আমি এ কাপড় তোমার নিকট বিক্রয় করলাম এবং এর সেলাই ও ধোয়ার কাজ আমার দায়িত্বে, তবে একই বিক্রয়ের মধ্যে এটাও দুটি শর্তারোপের একটি উদাহরণ। সে যদি এরূপ বলেঃ এটা তোমার নিকট বিক্রয় করলাম এবং আমিই এটা ধুয়েও দিব, তবে এতে কোন সমস্যা নেই। কেননা, একটি শর্ত করা হয়েছে (দুটি নয়)।
حدثنا قتيبة، حدثنا حماد بن زيد، عن ايوب، عن يوسف بن ماهك، عن حكيم بن حزام، قال نهاني رسول الله صلى الله عليه وسلم ان ابيع ما ليس عندي . قال ابو عيسى وهذا حديث حسن . قال اسحاق بن منصور قلت لاحمد ما معنى نهى عن سلف وبيع قال ان يكون يقرضه قرضا ثم يبايعه عليه بيعا يزداد عليه ويحتمل ان يكون يسلف اليه في شيء فيقول ان لم يتهيا عندك فهو بيع عليك . قال اسحاق يعني ابن راهويه كما قال قلت لاحمد وعن بيع ما لم تضمن قال لا يكون عندي الا في الطعام ما لم تقبض . قال اسحاق كما قال في كل ما يكال او يوزن . قال احمد اذا قال ابيعك هذا الثوب وعلى خياطته وقصارته فهذا من نحو شرطين في بيع واذا قال ابيعكه وعلى خياطته فلا باس به او قال ابيعكه وعلى قصارته فلا باس به انما هو شرط واحد . قال اسحاق كما قال
। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঋণ ও বিক্রয় একত্রে জায়িয নয় এবং দুই প্রকারের শর্তও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে জুড়ে দেয়া জায়িয নয়, মুনাফা গ্রহণও জায়িয নয় যতক্ষণনা লোকসানের দায়িত্ব না নেয়া হয়, তোমার আয়ত্তে নেই এমন বস্তু বিক্রয় করাও জায়িয নয়। হাসান সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২১৮৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। একাধিক সূত্রে হাকীম (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটি বর্ণিত আছে। আইয়ুব সাখতিয়ানী ও আবূ বিশর বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ ইবনু মাহিক হতে, তিনি হাকীম ইবনু হিযাম হতে। আউফ এবং হিশাম ইবনু হাসসান বর্ণনা করেছেন, ইবনু সীরীন হতে, তিনি হাকীম ইবনু হিযাম হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। এর পরবর্তী বর্ণনাটি মুরসাল। প্রকৃত পক্ষে ইবনু সীরীন বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব সাখতিয়ানী হতে, তিনি ইউসুফ ইবনু মাহাক হতে, তিনি হাকীম ইবনু হিযাম হতে।
حدثنا احمد بن منيع، حدثنا اسماعيل بن ابراهيم، حدثنا ايوب، حدثنا عمرو بن شعيب، قال حدثني ابي، عن ابيه، حتى ذكر عبد الله بن عمرو ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا يحل سلف وبيع ولا شرطان في بيع ولا ربح ما لم يضمن ولا بيع ما ليس عندك " . قال ابو عيسى وهذا حديث حسن صحيح . قال ابو عيسى حديث حكيم بن حزام حديث حسن قد روي عنه من غير وجه . روى ايوب السختياني وابو بشر عن يوسف بن ماهك عن حكيم بن حزام . قال ابو عيسى وروى هذا الحديث عوف وهشام بن حسان عن ابن سيرين عن حكيم بن حزام عن النبي صلى الله عليه وسلم . وهذا حديث مرسل انما رواه ابن سيرين عن ايوب السختياني عن يوسف بن ماهك عن حكيم بن حزام
। হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিষেধ করেছেন আমার কাছে নেই এমন জিনিস বিক্রয় করতে। সহীহ, দেখুন হাদীস নং (১২৩২, ১২৩৩) আবূ ঈসা বলেন, ওয়াকী এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবনু ইব্রাহীম হতে, তিনি ইবনু সীরিন হতে, তিনি আইয়ুব হতে তিনি হাকীম ইবনু হিযাম হতে। এতে ওয়াকী ইউসুফ ইবনু মাহাকের উল্লেখ করেননি। আব্দুস সামাদের সনদ সূত্রটি অনেক বেশি সহীহ। ইয়াহইয়া ইবনু কাসীর এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইয়া'লা ইবনু হাকীম হতে, হাকীম ইবনু হিযাম হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেন। তারা হস্তগতহীন জিনিসের ক্রয়-বিক্রয়কে মাকরূহ বলেছেন।
حدثنا الحسن بن علي الخلال، وعبدة بن عبد الله الخزاعي البصري ابو سهل، وغير، واحد، قالوا حدثنا عبد الصمد بن عبد الوارث، عن يزيد بن ابراهيم، عن ابن سيرين، عن ايوب، عن يوسف بن ماهك، عن حكيم بن حزام، قال نهاني رسول الله صلى الله عليه وسلم ان ابيع ما ليس عندي . قال ابو عيسى وروى وكيع هذا الحديث عن يزيد بن ابراهيم عن ابن سيرين عن ايوب عن حكيم بن حزام . ولم يذكر فيه عن يوسف بن ماهك ورواية عبد الصمد اصح . وقد روى يحيى بن ابي كثير هذا الحديث عن يعلى بن حكيم عن يوسف بن ماهك عن عبد الله بن عصمة عن حكيم بن حزام عن النبي صلى الله عليه وسلم . والعمل على هذا الحديث عند اكثر اهل العلم كرهوا ان يبيع الرجل ما ليس عنده
। ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, ‘ওয়ালা স্বত্ব বিক্রয় করতে অথবা তা দান করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৪৭, ২৭৪৮) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আমরা এ হাদীসটি শুধু আব্দুল্লাহ ইবনু দীনারের সূত্রেই ইবনু উমার হতে জেনেছি। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন। উপরোক্ত হাদীসটি ইবনু উমার (রাঃ) হতে অন্য একটি সূত্রেও বর্ণিত আছে, কিন্তু তার সনদে বিপত্তি আছে [উবাইদুল্লাহ ও আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর মাঝে নাফি (রাহঃ)-এর নাম যোগ করার]। ইয়াহইয়া ইবনু সুলাইম এই ভুল করেছেন। আবদুল ওয়াহহাব আস-সাকাকী, আবদুল্লাহ ইবনু নুমাইর এবং আরও অনেকে উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার হতে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু দীনার হতে, তিনি ইবনু উমার হতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সনদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই সনদসূত্রটি ইয়াহইয়া ইবনু সুলাইমের সনদের চেয়ে অনেক বেশি সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، قال حدثنا سفيان، وشعبة، عن عبد الله بن دينار، عن ابن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن بيع الولاء وهبته . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح لا نعرفه الا من حديث عبد الله بن دينار عن ابن عمر . والعمل على هذا الحديث عند اهل العلم . وقد روى يحيى بن سليم هذا الحديث عن عبيد الله بن عمر عن نافع عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم انه نهى عن بيع الولاء وهبته . وهو وهم وهم فيه يحيى بن سليم . وروى عبد الوهاب الثقفي وعبد الله بن نمير وغير واحد عن عبيد الله بن عمر عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم . وهذا اصح من حديث يحيى بن سليم
। সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, পশুর বিনিময়ে পশু ধারে (করজে) বিক্রয় করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২৭০) ইবনু আব্বাস, জাবির ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। আলী ইবনুল মাদীনী ও অন্যান্যের মতে সামুরা (রাঃ)-এর নিকট হাসান (রাহঃ) সরাসরি হাদীস শ্রবণ করেছেন। এ হাদীস মোতাবিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগন আমল করেছেন। তাদের মতে, পশুর বিনিময়ে পশু ধারে বিক্রয় করা জায়িয নয়। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণ। ইমাম আহমাদও একই রকম মত দিয়েছেন। পশুর বিনিময়ে পশু ধারে বিক্রয় করার পক্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপর একদল সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগন সন্মতি দিয়েছেন। এই মত ইমাম শাফিঈ ও ইসহাকের।
حدثنا ابو موسى، محمد بن مثنى حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، عن حماد بن سلمة، عن قتادة، عن الحسن، عن سمرة، ان النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن بيع الحيوان بالحيوان نسيية . قال وفي الباب عن ابن عباس وجابر وابن عمر . قال ابو عيسى حديث سمرة حديث حسن صحيح . وسماع الحسن من سمرة صحيح هكذا قال علي بن المديني وغيره . والعمل على هذا عند اكثر اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم في بيع الحيوان بالحيوان نسيية وهو قول سفيان الثوري واهل الكوفة وبه يقول احمد . وقد رخص بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم في بيع الحيوان بالحيوان نسيية وهو قول الشافعي واسحاق
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু'টি পশুর বদলে একটি পশু ধারে (করজে) বিক্রয় করা জায়িয নয়, কিন্তু উপস্থিত (নগদ) লেনদেন হলে কোন সমস্যা নেই। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২৭১) এ হাদিসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
حدثنا ابو عمار الحسين بن حريث، حدثنا عبد الله بن نمير، عن الحجاج، وهو ابن ارطاة عن ابي الزبير، عن جابر، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الحيوان اثنان بواحد لا يصلح نسييا ولا باس به يدا بيد " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح
। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একজন ক্রিতদাস এসে হিজরাতের উদ্দেশ্যে তার নিকট শপথ করে। সে যে ক্রীতদাস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটা জানতেন না। তার মালিক এসে উপস্থিত হল তাকে ফেরত নেয়ার জন্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি একে আমার নিকট বিক্রয় করে দাও। তিনি তাকে কিনলেন দুইটি হাবশী গোলামের বিনিময়ে। এরপর হতে কারো বাইআত গ্রহণের পূর্বে তিনি প্রশ্ন করে নিতেন, সে ক্রীতদাস কি না। সহীহ, বেচা-কেনার হাদীস, মুসলিম আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা ৰলেন, জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। আলিমগণ এ হাদীস মোতাবিক আমল করেন। তাদের মতে দুটো গোলামের বিনিময়ে একটি গোলাম কেনাতে কোন সমস্যা নেই, তবে নগদ লেন-দেন হতে হবে। বাকীর মাধ্যমে এ জাতীয় লেনদেন সম্পাদন প্রসঙ্গে তাদের মধ্যে মতের অমিল আছে।
حدثنا قتيبة، اخبرنا الليث، عن ابي الزبير، عن جابر، قال جاء عبد فبايع النبي صلى الله عليه وسلم على الهجرة ولا يشعر النبي صلى الله عليه وسلم انه عبد فجاء سيده يريده فقال النبي صلى الله عليه وسلم " بعنيه " . فاشتراه بعبدين اسودين ثم لم يبايع احدا بعد حتى يساله اعبد هو قال وفي الباب عن انس . قال ابو عيسى حديث جابر حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم انه لا باس بعبد بعبدين يدا بيد . واختلفوا فيه اذا كان نسييا
। উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সমপরিমাণ স্বণের পরিবর্তে সমপরিমাণ স্বর্ণ হতে হবে; সমপরিমাণ রূপার পরিবর্তে সমপরিমাণ রূপা হতে হবে; সমপরিমাণ খেজুরের পরিবর্তে সমপরিমাণ খেজুর হতে হবে; সমপরিমাণ গমের পরিবর্তে সমপরিমাণ গম হতে হবে; সমপরিমাণ লবণের পরিবর্তে সমপরিমাণ লবণ হতে হবে এবং সমপরিমাণ যবের পরিবর্তে সমপরিমাণ যব হতে হবে। যে লোক এ সবের লেনদেনে বেশি পরিমাণ দিবে অথবা নিবে সে সূদে লেনদেনকারী বলে বিবেচিত হবে। তোমাদের ইচ্ছানুযায়ী রূপার পরিমাণের পরিবর্তে স্বর্ণের পরিমাণ নির্ধারণ করে নগদ বিক্রয় করতে পার। তোমাদের ইচ্ছানুযায়ী খেজুরের পরিমাণের পরিবর্তে গমের পরিমাণ নির্ধারণ করে নগদ বিক্রয় করতে পার। তোমাদের ইচ্ছানুযায়ী খেজুরের পরিমাণের পরিবর্তে যবের পরিমাণ ঠিক করে নগদ বিক্রয় করতে পার। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২৫৪), মুসলিম আবূ সাঈদ, আবূ হুরাইরা, বিলাল ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উবাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উল্লেখিত হাদীসের অপর এক বর্ণনায় আছেঃ “তোমাদের ইচ্ছানুযায়ী গমের পরিমাণের পরিবর্তে যবের পরিমাণ নির্ধারণ করে নগদ বিক্রয় করতে পার”। আর এক বর্ণনায় আছেঃ “তোমাদের ইচ্ছানুযায়ী বার্লির পরিমাণের পরিবর্তে গমের পরিমাণ নির্ধারণ করে (পরিমাণে কম-বেশি করে) নগদ বিক্রয় করতে পার।" এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। তাদের মতে, সমপরিমাণ গমের পরিবর্তে সমপরিমাণ গম এবং সমপরিমাণ যবের পরিবর্তে সম-পরিমাণ যব বিক্রয় করতে কোন সমস্যা নেই। বিনিময়ের বস্তু দুটি যদি একই প্রজাতির না হয় তাহলে পরিমাণে কম-বেশি হলে কোন সমস্যা নেই, কিন্তু সেই ক্ষেত্রে নগদ আদান-প্রদান হতে হবে। এই মত প্রকাশ করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তাবিঈ। সুফিয়ান সাওরী, আহমাদ ও ইসহাকেরও এই মত। শাফিঈ বলেন, এ কথার দলীল হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীঃ “তোমাদের ইচ্ছানুযায়ী গমের পরিমাণের পরিবর্তে যবের পরিমাণ ঠিক করে নগদ বিক্রয় করতে পার।” একদল আলিমের মতে যবের পরিবর্তে গমের পরিমাণ বেশি নির্ধারণ করে বিক্রয় করা মাকরূহ, উভয়ের পরিমাণ সমান থাকতে হবে। ইমাম মালিক এই মত পোষণ করেন। কিন্তু প্রথম মতই অনেক বেশি সহীহ।
حدثنا سويد بن نصر، حدثنا عبد الله بن المبارك، اخبرنا سفيان، عن خالد الحذاء، عن ابي قلابة، عن ابي الاشعث، عن عبادة بن الصامت، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " الذهب بالذهب مثلا بمثل والفضة بالفضة مثلا بمثل والتمر بالتمر مثلا بمثل والبر بالبر مثلا بمثل والملح بالملح مثلا بمثل والشعير بالشعير مثلا بمثل فمن زاد او ازداد فقد اربى بيعوا الذهب بالفضة كيف شيتم يدا بيد وبيعوا البر بالتمر كيف شيتم يدا بيد وبيعوا الشعير بالتمر كيف شيتم يدا بيد " . قال وفي الباب عن ابي سعيد وابي هريرة وبلال وانس . قال ابو عيسى حديث عبادة حديث حسن صحيح . وقد روى بعضهم هذا الحديث عن خالد بهذا الاسناد وقال " بيعوا البر بالشعير كيف شيتم يدا بيد " . وروى بعضهم هذا الحديث عن خالد عن ابي قلابة عن ابي الاشعث عن عبادة عن النبي صلى الله عليه وسلم الحديث وزاد فيه قال خالد قال ابو قلابة " بيعوا البر بالشعير كيف شيتم " فذكر الحديث . والعمل على هذا عند اهل العلم لا يرون ان يباع البر بالبر الا مثلا بمثل والشعير بالشعير الا مثلا بمثل فاذا اختلف الاصناف فلا باس ان يباع متفاضلا اذا كان يدا بيد . وهذا قول اكثر اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم وهو قول سفيان الثوري والشافعي واحمد واسحاق . قال الشافعي والحجة في ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم " بيعوا الشعير بالبر كيف شيتم يدا بيد " . قال ابو عيسى وقد كره قوم من اهل العلم ان تباع الحنطة بالشعير الا مثلا بمثل . وهو قول مالك بن انس والقول الاول اصح
। নাফি (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবূ সাঈদ (রাঃ)-এর নিকট আমি ও ইবনু উমার (রাঃ) গেলাম। তিনি আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, আমার দুটাে কানই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেঃ তোমরা স্বর্ণের পরিবর্তে স্বর্ণ বিক্রয় কর না পরিমাণে সমান না রেখে। একইভাবে তোমরা রূপার পরিবর্তে রূপা বিক্রয় কর না পরিমাণে সমান সমান না রেখে। একটি অন্যটি হতে পরিমাণে কম-বেশি করা যাবে না। উপস্থিত বস্তুর পরিবর্তে অনুপস্থিত বস্তু বিক্রয় কর না। সহীহ, ইরওয়া (৫/১৮৯) বেচা-কেনার হাদীস, নাসা-ঈ আবূ বাকার, উমার, উসমান, আবূ হুরায়রা, হিশাম ইবনু আমির, বারাআ, জাইদ ইবনু আরকাম, ফাজালা ইবনু উবাইদা, আবূ বাকরা, ইবনু উমার, আবূ দারদা ও বিলাল (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, সূদের অনুচ্ছেদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আবূ সাঈদ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তাবিঈগণ আমল করেছেন। তবে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছেঃ “স্বর্ণের পরিবর্তে স্বর্ণ এবং রূপার পরিবর্তে রূপা নগদ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে পরিমাণে কম-বেশি করাতে তিনি কোন সমস্যা মনে করেন না। তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র ধার-কর্জের ক্ষেত্রেই (কম-বেশি করলে) সূদ হয়।” অন্য কতিপয় সাহাবী হতেও একইরকম বর্ণিত আছে। কিন্তু এও বর্ণিত আছে যে, তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীসটি আবূ সাঈদ (রাঃ) শুনানের পর তিনি (ইবনু আব্বাস) তার উপরোক্ত বক্তব্য বাতিল করেন। (আবূ ঈসা বলেন), উল্লেখিত দুটি মতের মধ্যে প্রথম মতই অনেক বেশি সহীহ। আবূ সাঈদের হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন। এই মত সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকেরও। ইবনুল মুবারাক বলেন, মুদ্রার বিনিময় জায়িয হওয়া প্রসঙ্গে কোন দ্বিমত নেই।
حدثنا احمد بن منيع، اخبرنا حسين بن محمد، اخبرنا شيبان، عن يحيى بن ابي كثير، عن نافع، قال انطلقت انا وابن، عمر الى ابي سعيد فحدثنا ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال سمعته اذناى هاتان يقول " لا تبيعوا الذهب بالذهب الا مثلا بمثل والفضة بالفضة الا مثلا بمثل لا يشف بعضه على بعض ولا تبيعوا منه غايبا بناجز " . قال ابو عيسى وفي الباب عن ابي بكر وعمر وعثمان وابي هريرة وهشام بن عامر والبراء وزيد بن ارقم وفضالة بن عبيد وابي بكرة وابن عمر وابي الدرداء وبلال . قال وحديث ابي سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم في الربا حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم الا ما روي عن ابن عباس انه كان لا يرى باسا ان يباع الذهب بالذهب متفاضلا والفضة بالفضة متفاضلا اذا كان يدا بيد . وقال انما الربا في النسيية . وكذلك روي عن بعض اصحابه شيء من هذا وقد روي عن ابن عباس انه رجع عن قوله حين حدثه ابو سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم . والقول الاول اصح . والعمل على هذا عند اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم وهو قول سفيان الثوري وابن المبارك والشافعي واحمد واسحاق . وروي عن ابن المبارك انه قال ليس في الصرف اختلاف
। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বাকী নামক বাজারে উটের ব্যবসা করতাম। আমি কখনও স্বর্ণ মুদ্রার বদলে উট বিক্রয় করতাম কিন্তু দাম নেয়ার সময় রৌপ্যমুদ্রা নিতাম। আবার কখনও রৌপ্য মুদ্রার বদলে তা বিক্রয় করতাম এবং দাম নেয়ার সময় স্বর্ণমুদ্রা নিতাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে তাকে হাফসা (রাঃ)-এর ঘর হতে বেরিয়ে আসতে দেখলাম। আমি এ সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ এরূপ দাম গ্রহণ করায় কোন সমস্যা নেই। যঈফ, ইবনু মাজাহ (২২৬২) আবূ ঈসা বলেন, সিমাক ইবনু হারবের সূত্রেই আমরা এ হাদীসটি মারফু হিসাবে জেনেছি। কিন্তু দাউদ ইবনু আবূ হিন্দ সাঈদ ইবনু জুবাইরের সূত্রে ইবনু উমারের এ হাদীসটি মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম এই হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তাদের মতে স্বর্ণ মুদ্রার পরিবর্তে রৌপ্য মুদ্রা অথবা রৌপ্য মুদ্রার পরিবর্তে স্বর্ণ মুদ্রা নিতে কোন সমস্যা নেই। ইমাম আহমাদ ও ইসহাকের এই মত। একদল সাহাবী ও তাবিঈর মতে এরূপ করা মাকরূহ।
حدثنا الحسن بن علي الخلال، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا حماد بن سلمة، عن سماك بن حرب، عن سعيد بن جبير، عن ابن عمر، قال كنت ابيع الابل بالبقيع فابيع بالدنانير فاخذ مكانها الورق وابيع بالورق فاخذ مكانها الدنانير فاتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجدته خارجا من بيت حفصة فسالته عن ذلك فقال " لا باس به بالقيمة " . قال ابو عيسى هذا حديث لا نعرفه مرفوعا الا من حديث سماك بن حرب عن سعيد بن جبير عن ابن عمر . وروى داود بن ابي هند هذا الحديث عن سعيد بن جبير عن ابن عمر موقوفا . والعمل على هذا عند بعض اهل العلم ان لا باس ان يقتضي الذهب من الورق والورق من الذهب . وهو قول احمد واسحاق . وقد كره بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم ذلك
। মালিক ইবনু আওস ইবনু হাদসান (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি এই বলতে বলতে সামনে এগিয়ে গেলাম, কে রূপার মুদ্রা পরিবর্তন করবে? তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ এ সময়ে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট ছিলেন। তিনি বললেন, তোমার স্বর্ণ আমাদেরকে দেখাও এবং (কিছুক্ষণ) পরে আমাদের কাছে আস। আমাদের খাদিম আসার পরই তোমাকে রূপার মুদ্রা প্রদান করব। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! তা কখনও হতে পারে না। হয় এখনই তাকে রূপার মুদ্রা প্রদান কর না হয় তাকে তার স্বর্ণ ফেরত দাও। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ স্বর্ণের পরিবর্তে রূপার মুদ্রা নগদ আদান-প্রদান না হলে তা গ্রহণ করা সূদের অন্তর্ভুক্ত। গমের পরিবর্তে গম নগদ আদান-প্রদান না হলে তা সূদের অন্তর্ভুক্ত; যবের পরিবর্তে যবের নগদ বিনিময় না হলে তা সূদের অন্তর্ভুক্ত এবং খেজুরের পরিবর্তে খেজুরের নগদ বিনিময় না হলে সূদ হবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২৫৩), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন। "হাআ ওয়া হাআ”-এর অর্থ ‘নগদ ও উপস্থিত বিনিময়’।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن ابن شهاب، عن مالك بن اوس بن الحدثان، انه قال اقبلت اقول من يصطرف الدراهم فقال طلحة بن عبيد الله وهو عند عمر بن الخطاب ارنا ذهبك ثم ايتنا اذا جاء خادمنا نعطك ورقك . فقال عمر كلا والله لتعطينه ورقه او لتردن اليه ذهبه فان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " الورق بالذهب ربا الا هاء وهاء والبر بالبر ربا الا هاء وهاء والشعير بالشعير ربا الا هاء وهاء والتمر بالتمر ربا الا هاء وهاء " . قال ابو عيسى هذا حديث حسن صحيح . والعمل على هذا عند اهل العلم . ومعنى قوله " الا هاء وهاء " يقول يدا بيد
সালিম (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (পিতা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ তাবীরের পর কোন লোক খেজুর বাগান কিনলে এর ফলের মালিক হবে বিক্রেতা, যদি ক্রয়কারীর জন্য (মালিকানা) শর্ত করা না হয়। যদি কোন লোক সম্পদশালী গোলাম কিনে তবে ঐ সম্পদের অধিকারী হবে বিক্রেতা, ক্রেতার জন্য ঐ সম্পদের যদি কোনরূপ শর্ত করা না হয়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২১০, ২২১২), নাসা-ঈ জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। একইভাবে একাধিক সূত্রে যুহরী হতে, তিনি সালিমের সূত্রে, তিনি ইবনু উমারের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ কোন লোক তাবীরের পর খেজুর গাছ কিনলে বিক্রেতাই তার ফল ভোগ করবে, যদি ক্রয়কারী এর মালিকানার কোন শর্ত না করে থাকে। একইভাবে কোন লোক যদি সম্পদশালী গোলাম কিনে তবে বিক্রেতা তার সম্পদের অধিকারী হবে, যদি ক্রেতার জন্য কোন শর্ত নির্ধারণ করা না হয়। ইবনু উমার (রাঃ)-এর সূত্রে নাফি (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাবীরের কাজ পূর্ণ হওয়ার পর কোন শর্ত করা হলে তা সে পাবে। নাফি হতে ইবনু উমারের সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি উমার হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, যদি কোন লোক সম্পদশালী গোলাম কিনে তবে বিক্রেতাই এই সম্পদের মালিক হবে, কিন্তু ক্রেতার জন্য শর্ত করা হলে তা সে পাবে। একইরকম হাদীস আরো কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত আছে। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। একই কথা বলেছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও। ইমাম বুখারী বলেছেন, সালিমের সূত্রে যুহরী হতে বর্ণিত ইবনু উমারের হাদীসটি এ অনুচ্ছেদে সর্বাধিক সহীহ।
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن ابن شهاب، عن سالم، عن ابيه، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " من ابتاع نخلا بعد ان توبر فثمرتها للذي باعها الا ان يشترط المبتاع ومن ابتاع عبدا وله مال فماله للذي باعه الا ان يشترط المبتاع " . قال وفي الباب عن جابر . وحديث ابن عمر حديث حسن صحيح . هكذا روي من غير وجه عن الزهري عن سالم عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " من ابتاع نخلا بعد ان توبر فثمرتها للبايع الا ان يشترط المبتاع ومن باع عبدا وله مال فماله للبايع الا ان يشترط المبتاع " . وقد روي عن نافع عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من ابتاع نخلا قد ابرت فثمرتها للبايع الا ان يشترط المبتاع " . وقد روي عن نافع عن ابن عمر عن عمر انه قال من باع عبدا وله مال فماله للبايع الا ان يشترط المبتاع . هكذا روى عبيد الله بن عمر وغيره عن نافع الحديثين . وقد روى بعضهم هذا الحديث عن نافع عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم ايضا . وروى عكرمة بن خالد عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو حديث سالم . والعمل على هذا الحديث عند بعض اهل العلم وهو قول الشافعي واحمد واسحاق . قال محمد بن اسماعيل حديث الزهري عن سالم عن ابيه عن النبي صلى الله عليه وسلم اصح ما جاء في هذا الباب