Loading...

Loading...
বইসমূহ
১২১ হাদিসসমূহ
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে উপরোক্ত ঘটনা অনুরূপ বর্ণিত। তবে তাতে এটা উল্লেখ নেইঃ ‘‘তিনি আবূ বাকর (রাঃ)-কে বলেনঃ তুমি একটু উচ্চস্বরে পড়বে এবং ‘উমার (রাঃ)-কে বলেন তুমি একটু নিচু স্বরে পড়বে।’’ এ বর্ণনায় রয়েছেঃ হে বিলাল! আমি তোমার আওয়াজ শুনেছি, তুমি এই এই সূরাহ হতে তিলাওয়াত করেছিলে। বিলাল বললেন, খুবই উত্তম বাক্য, আল্লাহ একটিকে অন্যটির সাথে সুন্দরভাবে সুজজ্জিত করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা সবাই সঠিক কাজ করেছো।[1] হাসান।
حدثنا ابو حصين بن يحيى الرازي، حدثنا اسباط بن محمد، عن محمد بن عمرو، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم بهذه القصة لم يذكر فقال لابي بكر : " ارفع من صوتك شييا " . ولعمر : " اخفض شييا " . زاد : " وقد سمعتك يا بلال وانت تقرا من هذه السورة ومن هذه السورة " . قال : كلام طيب يجمع الله تعالى بعضه الى بعض . فقال النبي صلى الله عليه وسلم : " كلكم قد اصاب
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক রাতে জনৈক ব্যক্তি সালাতে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে ক্বিরাআত পাঠ করেন। অতঃপর ভোর হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ অমুকের প্রতি দয়া করুন। আজ রাতে সে আমাকে কতিপয় আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা আমি বাদ দিয়েছিলাম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হারূন আন-নাহবী হাম্মাদ ইবনু সালামাহ হতে বর্ণনা করেন যে, তা ছিলো সূরাহ আল ‘ইমরানের এ আয়াতটিঃ ‘‘ওয়াকাআইয়্যিম মিন নাবিয়্যীন।’’[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا حماد، عن هشام بن عروة، عن عروة، عن عايشة، رضى الله عنها : ان رجلا، قام من الليل فقرا فرفع صوته بالقران، فلما اصبح قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : " يرحم الله فلانا، كاين من اية اذكرنيها الليلة كنت قد اسقطتها " . قال ابو داود : رواه هارون النحوي عن حماد بن سلمة في سورة ال عمران في الحروف { وكاين من نبي}
। আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ই‘তিকাফ কালে সাহাবীদেরকে উচ্চস্বরে ক্বিরাআত পড়তে শুনে পর্দা সরিয়ে বললেনঃ জেনে রাখো! তোমাদের প্রত্যেকেই স্বীয় রব্বের সাথে চুপিসারে আলাপে রত আছো। কাজেই তোমরা পরস্পরকে কষ্ট দিও না এবং পরস্পরের সামনে ক্বিরাআতে বা সালাতে আওয়ায উঁচু করো না।[1] সহীহ।
حدثنا الحسن بن علي، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن اسماعيل بن امية، عن ابي سلمة، عن ابي سعيد، قال : اعتكف رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد فسمعهم يجهرون بالقراءة، فكشف الستر وقال : " الا ان كلكم مناج ربه فلا يوذين بعضكم بعضا، ولا يرفع بعضكم على بعض في القراءة " . او قال : " في الصلاة
। ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির আল-জুহানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উচ্চস্বরে কুরআন পাঠকারী প্রকাশ্যে দানকারীর মতো এবং নিঃশব্দে কুরআন পাঠকারী গোপনে দানকারীর মতো।[1] সহীহ।
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا اسماعيل بن عياش، عن بحير بن سعد، عن خالد بن معدان، عن كثير بن مرة الحضرمي، عن عقبة بن عامر الجهني، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : " الجاهر بالقران كالجاهر بالصدقة، والمسر بالقران كالمسر بالصدقة
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে দশ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন এবং বিতর পড়তেন এক রাক‘আত। অতঃপর ফজরের দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) সালাত আদায় করতেন, এ নিয়ে সর্বমোট তের রাক‘আত হতো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
حدثنا ابن المثنى، حدثنا ابن ابي عدي، عن حنظلة، عن القاسم بن محمد، عن عايشة، قالت : كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي من الليل عشر ركعات، ويوتر بسجدة، ويسجد سجدتى الفجر، فذلك ثلاث عشرة ركعة
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে এগার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। তন্মধ্যে বিতর হতো এক রাক‘আত। অতঃপর সালাত শেষে তিনি ডান কাতে শুয়ে বিশ্রাম নিতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
حدثنا القعنبي، عن مالك، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم : ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي من الليل احدى عشرة ركعة، يوتر منها بواحدة، فاذا فرغ منها اضطجع على شقه الايمن
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার সালাতের পর থেকে সুবহি সাদিক পর্যন্ত এর মধ্যবর্তী সময়ে এগার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, প্রত্যেক দু’ রাক‘আতে সালাম ফিরাতেন এবং এক রাক‘আত দ্বারা বিতর করতেন। তিনি এতো দীর্ঘক্ষণ সিজদায় অবস্থান করতেন যে, তাঁর মাথা উঠানোর পূর্বে তোমাদের কেউ আনুমানিক পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারতে। মুয়াযযিন ফজরের (প্রথম) আযান শেষ করলে তিনি উঠে সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর মুয়াযযিন (জামা‘আতের সংবাদ দেয়ার জন্য) পুনরায় আসা পর্যন্ত তিনি ডান পাশের পাজরের উপর ভর করে শুয়ে বিশ্রাম নিতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
حدثنا عبد الرحمن بن ابراهيم، ونصر بن عاصم، - وهذا لفظه - قالا حدثنا الوليد، حدثنا الاوزاعي، - وقال نصر : عن ابن ابي ذيب، والاوزاعي، - عن الزهري، عن عروة، عن عايشة، - رضى الله عنها - قالت : كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي فيما بين ان يفرغ من صلاة العشاء الى ان ينصدع الفجر احدى عشرة ركعة، يسلم من كل ثنتين ويوتر بواحدة، ويمكث في سجوده قدر ما يقرا احدكم خمسين اية قبل ان يرفع راسه، فاذا سكت الموذن بالاولى من صلاة الفجر قام فركع ركعتين خفيفتين، ثم اضطجع على شقه الايمن حتى ياتيه الموذن
। ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ সানাদ ও অর্থের হাদীস বর্ণিত। সুলায়মান ইবনু দাউদ বলেন, তিনি বিতর করতেন এক রাক‘আত। তিনি এতো দীর্ঘক্ষণ সিজদায় অবস্থান করতেন যে, তার মাথা উঠানোর পূর্বে তোমাদের কেউ পঞ্চাশ আয়াত পরিমান তিলাওয়াত করতে পারতে। যখন মুয়াযযিন ফজরের আযান শেষ করতো এবং সুবহি সাদিক উদ্ভাসিত হতো, ... অতঃপর উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ। সুলায়মান বলেন, তাদের একজনের বর্ণনায় অন্যজন হতে কিছু কম-বেশি আছে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
حدثنا سليمان بن داود المهري، حدثنا ابن وهب، اخبرني ابن ابي ذيب، وعمرو بن الحارث، ويونس بن يزيد، ان ابن شهاب، اخبرهم باسناده، ومعناه،، قال : ويوتر بواحدة، ويسجد سجدة قدر ما يقرا احدكم خمسين اية قبل ان يرفع راسه، فاذا سكت الموذن من صلاة الفجر وتبين له الفجر . وساق معناه . قال : وبعضهم يزيد على بعض
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। তন্মধ্যে তিনি পাঁচ রাক‘আত বিতর আদায় করতেন, এ পাঁচ রাক‘আতে কেবল শেষ বৈঠক ছাড়া মাঝখানে বসতেন না, অতঃপর সালাম ফিরাতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا وهيب، حدثنا هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة، قالت : كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي من الليل ثلاث عشرة ركعة يوتر منها بخمس، لا يجلس في شىء من الخمس حتى يجلس في الاخرة فيسلم . قال ابو داود : رواه ابن نمير عن هشام، نحوه
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর ফজর সালাতের আযান শুনতে পেলে সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) আদায় করতেন।[1] সহীহ।
حدثنا القعنبي، عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة، قالت : كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي بالليل ثلاث عشرة ركعة، ثم يصلي اذا سمع النداء بالصبح ركعتين خفيفتين
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তের রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, তন্মধ্যে আট রাক‘আত (তাহাজ্জুদ), অতঃপর বিতর সালাত পড়তেন। এরপর তিনি আবার সালাত আদায় করতেন। বর্ণনাকারী মুসলিম ইবনু ইবরাহীম বলেন, বিতর সালাতের পর তিনি বসাবস্থায় দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। তবে রুকূ‘র ইচ্ছা করলে দাঁড়িয়ে রুকূ‘ করতেন এবং ফজরের আযান ও ইক্বামাত(ইকামত/একামত)ের মাঝখানে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
حدثنا موسى بن اسماعيل، ومسلم بن ابراهيم، قالا حدثنا ابان، عن يحيى، عن ابي سلمة، عن عايشة، : ان نبي الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي من الليل ثلاث عشرة ركعة، وكان يصلي ثماني ركعات، ويوتر بركعة، ثم يصلي - قال مسلم : بعد الوتر، ثم اتفقا - ركعتين وهو قاعد، فاذا اراد ان يركع قام فركع، ويصلي بين اذان الفجر والاقامة ركعتين
। আবূ সালামাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, রমাযান ও রমাযান ছাড়া অন্য সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত কিরূপ ছিল? তিনি বলেন, রমাযান ও রমাযান ছাড়া অন্য সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগার রাক‘আতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। তিনি প্রথমে চার রাক‘আত আদায় করতেন, খুবই সুন্দর ও দীর্ঘায়িত করে। অতঃপর চার রাক‘আত, তাও এতো সুন্দর ও দীর্ঘায়িত হতো যে, তা আর জিজ্ঞেস করো না। সর্বশেষে (বিতর আদায় করতেন) তিন রাক‘আত। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি বিতর সালাতের পূর্বে ঘুমান? তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ্! আমার দু’ চোখ ঘুমায় কিন্তু আমার অন্তর জাগ্রত থাকে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
حدثنا القعنبي، عن مالك، عن سعيد بن ابي سعيد المقبري، عن ابي سلمة بن عبد الرحمن، انه اخبره : انه، سال عايشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم كيف كانت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان فقالت : ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يزيد في رمضان ولا في غيره على احدى عشرة ركعة : يصلي اربعا فلا تسال عن حسنهن وطولهن، ثم يصلي اربعا فلا تسال عن حسنهن وطولهن، ثم يصلي ثلاثا، قالت عايشة - رضى الله عنها - فقلت : يا رسول الله اتنام قبل ان توتر قال : " يا عايشة ان عينى تنامان ولا ينام قلبي
। সা‘দ ইবনু হিশাম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যুদ্ধে যাওয়ার উদ্দেশে আমার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে মাদীনায় আমার যে ভূমি রয়েছে তা বিক্রি করে যুদ্ধাস্ত্র ক্রয় করার জন্য (বাসরাহ থেকে) মাদীনায় আসলাম। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একদল সাহাবীর সঙ্গে আমার সাক্ষাত হলে তারা বললেন, আমাদের মধ্যকার ছয় ব্যক্তির একটি দল এরূপ ইচ্ছা করেছিল। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করে বলেনঃ ‘‘তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মাঝেই উত্তম আদর্শ নিহিত আছে’’। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-এর নিকট গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাত সম্পর্কে যিনি অধিক অভিজ্ঞ আমি তোমাকে তার সন্ধান দিচ্ছি। তুমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট যাও। কাজেই আমি তার নিকট যাই এবং হাকীম ইবনু আফলাহকেও যাবার জন্য অনুরোধ করি, কিন্তু তিনি অস্বীকার করায় আমি তাকে শপথ দিয়ে অনুরোধ করলে তিনি আমার সঙ্গে রওয়ানা হন। আমরা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চাইলে তিনি জিজ্ঞেস করেন, কে? তিনি বলেন, হাকীম ইবনু আফলাহ। তিনি বলেন, তোমার সাথে কে? তিনি বললেন, সা‘দ ইবনু হিশাম। তিনি বললেন, উহুদের যুদ্ধে শহীদ হওয়া হিশাম ইবনু ‘আমির? হাকীম ইবনু আফলাহ বলেন, আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, ‘আমির তো অত্যন্ত ভাল লোক ছিলেন। তিনি বলেন, হে উম্মুল মু‘মিনীন! আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র সম্বন্ধে বলুন। তিনি বললেন, তুমি কি কুরআন পড়ো না? গোটা কুরআনই হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র। তিনি বলেন, আমি বললাম, আমাকে রাতের ক্বিয়াম সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, তুমি কি কুরআনের ‘‘ইয়াআইয়্যুহাল মুযযাম্মিল’’ সূরাহ পাঠ করনি? তিনি বলেন, আমি বললাম, হাঁ, পাঠ করেছি। তিনি বললেন, এ সূরাহর প্রথমাংশ অবতীর্ণ হবার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ এতো বেশি ‘ক্বিয়ামুল লাইল’ করতেন যে, তাদের পা ফুলে যেতো। অতঃপর এ সূরাহর শেষাংশ অবতীর্ণ হলে ‘কিয়ামুল লাইল’ ফারয হতে নফল হিসেবে পরিবর্তন হয়। তিনি বলেন, আমি বললাম, আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিতর সালাত সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, তিনি আট রাক‘আত বিতর করতেন এবং তাতে কেবল অষ্টম রাক‘আতেই বসতেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে আরো এক রাক‘আত পড়তেন এবং এই অষ্টম ও নবম রাক‘আত ছাড়া কোথাও বসতেন না। তিনি নবম রাক‘আতে সালাম ফিরাতেন। অতঃপর বসে বসে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। হে আমার বৎস! এ এগার রাক‘আতই ছিল তাঁর রাতের সালাত। অতঃপর বার্ধক্যের কারণে তাঁর শরীর ভারী হয়ে গেলে তিনি সাত রাক‘আত বিতর করতেন এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম রাক‘আত ছাড়া বসতেন না, আর সালাম ফিরাতেন সপ্তম রাক‘আতে। অতঃপর বসে বসে দু’ রাক‘আত নফল সালাত আদায় করতেন। হে বৎস! এ নয় রাক‘আতই ছিল রাতের সালাত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো সারারাত ভোর পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন না, এক রাতে গোটা কুরআন খতম করতেন না এবং রমাযান মাস ছাড়া পুরো এক মাস সওম পালন করতেন না। তিনি কোনো সালাত আরম্ভ করলে তা নিয়মিত আদায় করতেন। ঘুমের কারণে রাতে জাগ্রত হতে না পারলে তিনি দিনের বেলা বারো রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-এর কাছে এসে এগুলো বর্ণনা করলে তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! এটাই হচ্ছে প্রকৃত হাদীস। আমি যদি ‘আয়িশাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতাম তাহলে আমি এসে এ হাদীস আলোচনা করতাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আমি যদি জানতাম যে, আপনি তাঁর সাথে কথাবার্তা বলেন না, তাহলে আমি হাদীসটি আপনার কাছে বর্ণনা করতাম না।[1] সহীহ : মুসলিম।
। ক্বাতাদাহ (রহঃ) হতে উপরোক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আট রাক‘আত সালাত আদায় করতেন এবং তাতে কেবল অষ্টম রাক‘আতেই বসতেন। তিনি বসে আল্লাহর জিকির করতেন, দু‘আ করতেন, অতঃপর এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যে, আমরা শুনতে পেতাম। অতঃপর বসাবস্থায় দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন, অতঃপর এক রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। হে বৎস! এটাই তাঁর আদায়কৃত মোট এগার রাক‘আত সালাত। অবশ্য বয়োবৃদ্ধির কারণে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীর ভারী হয়ে যায় তখন তিনি সাত রাক‘আত বিতর আদায় করতেন। অতঃপর সালামের পর বসাবস্থায় দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا يحيى بن سعيد، عن سعيد، عن قتادة، باسناده نحوه قال : يصلي ثمان ركعات لا يجلس فيهن الا عند الثامنة، فيجلس فيذكر الله عز وجل، ثم يدعو، ثم يسلم تسليما يسمعنا، ثم يصلي ركعتين وهو جالس بعد ما يسلم، ثم يصلي ركعة، فتلك احدى عشرة ركعة يا بنى، فلما اسن رسول الله صلى الله عليه وسلم واخذ اللحم اوتر بسبع، وصلى ركعتين وهو جالس بعد ما يسلم، بمعناه الى مشافهة
। সাঈদ (রহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, তিনি এমনভাবে সালাম ফিরাতেন যে, আমরা শুনতে পেতাম। যেমনটি রয়েছে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ এর বর্ণনায়।[1] সহীহ।
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا محمد بن بشر، حدثنا سعيد، بهذا الحديث قال : يسلم تسليما يسمعنا كما قال يحيى بن سعيد
। সাঈদ (রহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। ইবনু বাশশারও ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদের অনুরূপ বলেছেন। তিনি আরো বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে শুনিয়ে সালাম ফিরাতেন।[1] সহীহ।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابن ابي عدي، عن سعيد، بهذا الحديث قال ابن بشار بنحو حديث يحيى بن سعيد الا انه قال : ويسلم تسليمة يسمعنا
। যুরারাহ ইবনু আওফা (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্য রাতের সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তিনি ‘ইশার সালাত জামা‘আতে আদায় করে নিজ পরিজনের কাছে ফিরে এসে চার রাক‘আত সালাত আদায় করে স্বীয় বিছানায় ঘুমিয়ে পড়তেন। এ সময় অযুর পানি ও মিসওয়াক তাঁর কাছেই থাকতো। অতঃপর মহান আল্লাহ রাতে যখন সজাগ করার তাঁকে সজাগ করতেন। তিনি মিসওয়াক ও উত্তমরূপে অযু করে তাঁর মুসল্লায় দাঁড়িয়ে আট রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। তাতে সূরাহ ফাতিহা, কুরআনের অন্য সূরাহ এবং আল্লাহ যা চাইতেন তা পাঠ করতেন। তিনি এতে মাঝখানে না বসে কেবলমাত্র অষ্টম রাক‘আতেই বসতেন এবং সালাম না ফিরিয়ে নবম রাক‘আতে দাঁড়িয়ে ক্বিরাআত পড়তেন। অতঃপর (শেষ বৈঠকে) বসে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী দু‘আ করতেন, তাঁর কাছে প্রার্থনা করতেন এবং তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হতেন। সবশেষে তিনি এতো জোরে সালাম ফিরাতেন যে, সালামের আওয়াজে ঘরের লোকেরা জাগ্রত হবার উপক্রম হতো। অতঃপর তিনি (বসে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন এবং তাতে) বসেই সূরাহ ফাতিহা পাঠ ও রুকূ‘ করতেন। অনুরূপভাবে দ্বিতীয় রাক‘আতেও বসাবস্থায় রুকূ‘ ও সিজদা্ করতেন। অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী দু‘আ করে সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শরীর ভারী হওয়া পর্যন্ত এভাবেই সালাত আদায় করতেন। অতঃপর (শরীর ভারী হয়ে গলে) তিনি নয় রাক‘আত থেকে দুই কমিয়ে ছয় রাক‘আত (এবং এক যোগ করে) সাত রাক‘আত আদায় করেন এবং দু’ রাক‘আত বসাবস্থায় আদায় করতেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এভাবেই সালাত আদায় করেছেন।[1] সহীহ, চার রাক‘আত কথাটি বাদে। সংরক্ষিত হচ্ছে ‘আয়িশাহ সূত্রে দু’ রাকআত।
حدثنا علي بن حسين الدرهمي، حدثنا ابن ابي عدي، عن بهز بن حكيم، حدثنا زرارة بن اوفى، : ان عايشة، - رضى الله عنها - سيلت عن صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم في جوف الليل، فقالت : كان يصلي صلاة العشاء في جماعة، ثم يرجع الى اهله فيركع اربع ركعات، ثم ياوي الى فراشه وينام وطهوره مغطى عند راسه، وسواكه موضوع حتى يبعثه الله ساعته التي يبعثه من الليل، فيتسوك ويسبغ الوضوء، ثم يقوم الى مصلاه فيصلي ثمان ركعات يقرا فيهن بام الكتاب وسورة من القران وما شاء الله، ولا يقعد في شىء منها حتى يقعد في الثامنة، ولا يسلم، ويقرا في التاسعة، ثم يقعد فيدعو بما شاء الله ان يدعوه، ويساله ويرغب اليه ويسلم تسليمة واحدة شديدة، يكاد يوقظ اهل البيت من شدة تسليمه، ثم يقرا وهو قاعد بام الكتاب، ويركع وهو قاعد، ثم يقرا الثانية فيركع ويسجد وهو قاعد، ثم يدعو ما شاء الله ان يدعو، ثم يسلم وينصرف، فلم تزل تلك صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى بدن فنقص من التسع ثنتين، فجعلها الى الست والسبع وركعتيه وهو قاعد حتى قبض على ذلك صلى الله عليه وسلم
। বাহয ইবনু হাকীম (রাঃ) হতে উপরোক্ত সানাদে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি ‘ইশার সালাত আদায়ের পর স্বীয় বিছানায় বিশ্রাম নিতেন। এতে চার রাক‘আতের কথা উল্লেখ নেই। অতঃপর পুরো হাদীস বর্ণনা করেন। এতে রয়েছে, অতঃপর তিনি আট রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। ক্বিরাআত, রুকূ‘ ও সিজদা্ এগুলো পরস্পরের মধ্যে ব্যবধান ছিলো সমপরিমাণ এবং তিনি এ সালাতে কেবলমাত্র অষ্টম রাক‘আতেই বসতেন। অতঃপর উঠে দাঁড়িয়ে এক রাক‘আত দ্বারা বিতর করতেন। সবশেষে এমনভাবে উচ্চস্বরে সালাম বলতেন যে, আওয়াজ আমাদের নিদ্রা ভঙ্গ করে দিতো। এরপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ।[1] সহীহ।
حدثنا هارون بن عبد الله، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا بهز بن حكيم، فذكر هذا الحديث باسناده قال : يصلي العشاء ثم ياوي الى فراشه، لم يذكر الاربع ركعات، وساق الحديث قال فيه : فيصلي ثماني ركعات يسوي بينهن في القراءة والركوع والسجود، ولا يجلس في شىء منهن الا في الثامنة، فانه كان يجلس ثم يقوم ولا يسلم، فيصلي ركعة يوتر بها، ثم يسلم تسليمة يرفع بها صوته حتى يوقظنا، ثم ساق معناه
। উম্মুল মু‘মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলে বলেন, তিনি লোকদেরকে নিয়ে ‘ইশার সালাত আদায় শেষে ঘরে ফিরে এসে চার রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। এরপর ঘুমের জন্য স্বীয় বিছানায় চলে যেতেন। অতঃপর পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। তবে ‘‘ক্বিরাআত, রুকূ‘ ও সিজদাতে সমতা রক্ষা করা এবং তাঁর উচ্চস্বরে সালাম উচ্চারণ আমাদেরকে ঘুম থেকে সজাগ করতো’’ এ বাক্য উল্লেখ নেই।[1] সহীহ, চার রাক‘আত কথাটি বাদে। মাহফূয হচ্ছে দু’ রাক‘আত।
حدثنا عمر بن عثمان، حدثنا مروان، - يعني ابن معاوية - عن بهز، حدثنا زرارة بن اوفى، عن عايشة ام المومنين، : انها سيلت عن صلاة، رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت : كان يصلي بالناس العشاء، ثم يرجع الى اهله فيصلي اربعا، ثم ياوي الى فراشه، ثم ساق الحديث بطوله ولم يذكر : يسوي بينهن في القراءة والركوع والسجود . ولم يذكر في التسليم : حتى يوقظنا
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে এ সানাদে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত।[1] সহীহ।
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا حماد، - يعني ابن سلمة - عن بهز بن حكيم، عن زرارة بن اوفى، عن سعد بن هشام، عن عايشة، - رضى الله عنها - بهذا الحديث وليس في تمام حديثهم
حدثنا حفص بن عمر، حدثنا همام، حدثنا قتادة، عن زرارة بن اوفى، عن سعد بن هشام، قال : طلقت امراتي فاتيت المدينة لابيع عقارا كان لي بها، فاشتري به السلاح واغزو، فلقيت نفرا من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا : قد اراد نفر منا ستة ان يفعلوا ذلك فنهاهم النبي صلى الله عليه وسلم وقال : " لقد كان لكم في رسول الله اسوة حسنة " . فاتيت ابن عباس فسالته عن وتر النبي صلى الله عليه وسلم فقال : ادلك على اعلم الناس بوتر رسول الله صلى الله عليه وسلم فات عايشة رضى الله عنها . فاتيتها فاستتبعت حكيم بن افلح فابى فناشدته فانطلق معي، فاستاذنا على عايشة، فقالت : من هذا قال : حكيم بن افلح . قالت : ومن معك قال : سعد بن هشام . قالت : هشام بن عامر الذي قتل يوم احد قال قلت : نعم . قالت : نعم المرء كان عامرا . قال قلت : يا ام المومنين حدثيني عن خلق رسول الله صلى الله عليه وسلم . قالت : الست تقرا القران فان خلق رسول الله صلى الله عليه وسلم كان القران . قال قلت : حدثيني عن قيام الليل قالت : الست تقرا { يا ايها المزمل } قال قلت : بلى . قالت : فان اول هذه السورة نزلت، فقام اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى انتفخت اقدامهم، وحبس خاتمتها في السماء اثنى عشر شهرا، ثم نزل اخرها فصار قيام الليل تطوعا بعد فريضة . قال قلت : حدثيني عن وتر النبي صلى الله عليه وسلم . قالت : كان يوتر بثمان ركعات لا يجلس الا في الثامنة، ثم يقوم فيصلي ركعة اخرى، لا يجلس الا في الثامنة والتاسعة، ولا يسلم الا في التاسعة، ثم يصلي ركعتين وهو جالس فتلك احدى عشرة ركعة يا بنى، فلما اسن واخذ اللحم اوتر بسبع ركعات لم يجلس الا في السادسة والسابعة، ولم يسلم الا في السابعة، ثم يصلي ركعتين وهو جالس، فتلك هي تسع ركعات يا بنى، ولم يقم رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة يتمها الى الصباح، ولم يقرا القران في ليلة قط، ولم يصم شهرا يتمه غير رمضان، وكان اذا صلى صلاة داوم عليها، وكان اذا غلبته عيناه من الليل بنوم صلى من النهار ثنتى عشرة ركعة . قال : فاتيت ابن عباس فحدثته . فقال : هذا والله هو الحديث، ولو كنت اكلمها لاتيتها حتى اشافهها به مشافهة . قال قلت : لو علمت انك لا تكلمها ما حدثتك