Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৬১ হাদিসসমূহ
। ইবনু আ‘বুদা (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে আমার ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমাহর পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনা করবো না? আমি বললাম, হ্যাঁ, বলুন। তিনি বললেন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ফাতিমাহ (রাঃ)-ই ছিলো তাঁর নিকট সর্বাপেক্ষা আদরের। (অথচ) যাঁতা ঘুরানোর কারণে ফাতিমার হাতে ফোসকা পড়ে গেছে এবং কলসে করে পানি টানার কারণে তার কাঁধে দাগ পড়ে এবং ঘরে ঝাড়ু দেয়ার কারণে তার পরনের কাপড় নোংরা হয়ে যেতো। এক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু সংখ্যক খাদেম আসলে আমি ফাতিমাহকে বলি, তুমি তোমার পিতার কাছে গিয়ে একটি খাদেম চেয়ে নাও! সেখানে গিয়ে তাঁর কাছে লোকেরা বসে কথা বলছে দেখে ফাতিমাহ ফিরে আসলো। পরদিন সকালে তিনি ফাতিমার ঘরে এসে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি আমার কাছে কি দরকারে গিয়েছিলে? ফাতিমাহ চুপ রইলো। আমি (আলী) বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি বলছি। যাঁতা পিষতে পিষতে তার হাতে ফোসকা পড়ে গেছে, এবং কলসে করে পানি টানার কারণে তার কাঁধে দাগ পড়ে গেছে। আপনার নিকট কিছু সংখ্য খাদেম আসলে আমি তাকে নির্দেশ করি যেন, আপনার কাছে গিয়ে খাদেম চেয়ে নেয়। যাতে তার কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ফাতিমাহ! আল্লাহকে ভয় করো, তোমার রবের নির্ধারিত ফরয আদায় করো এবং নিজের ঘরের কাজ নিজেই করো। আর যখন তুমি বিছানায় ঘুমাতে যাবে তখন ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদু লিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে। এভাবে একশো পূর্ণ হবে। এটা তোমার জন্য খাদেমের চেয়েও উত্তম। ফাতিমাহ (রাঃ) বললেন, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি সন্তুষ্ট।
حدثنا يحيى بن خلف، حدثنا عبد الاعلى، عن سعيد، - يعني الجريري - عن ابي الورد، عن ابن اعبد، قال قال لي علي رضى الله عنه الا احدثك عني وعن فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم وكانت من احب اهله اليه قلت بلى . قال انها جرت بالرحى حتى اثر في يدها واستقت بالقربة حتى اثر في نحرها وكنست البيت حتى اغبرت ثيابها فاتى النبي صلى الله عليه وسلم خدم فقلت لو اتيت اباك فسالتيه خادما فاتته فوجدت عنده حداثا فرجعت فاتاها من الغد فقال " ما كان حاجتك " . فسكتت فقلت انا احدثك يا رسول الله جرت بالرحى حتى اثرت في يدها وحملت بالقربة حتى اثرت في نحرها فلما ان جاءك الخدم امرتها ان تاتيك فتستخدمك خادما يقيها حر ما هي فيه . قال " اتقي الله يا فاطمة وادي فريضة ربك واعملي عمل اهلك فاذا اخذت مضجعك فسبحي ثلاثا وثلاثين واحمدي ثلاثا وثلاثين وكبري اربعا وثلاثين فتلك ماية فهي خير لك من خادم " . قالت رضيت عن الله عز وجل وعن رسوله صلى الله عليه وسلم
। ইমাম যুহরী (রহঃ) আলী ইবনু হুসাইনের কাছ থেকে উক্ত ঘটনা বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি ফাতিমাহকে খাদেম দেননি।
حدثنا احمد بن محمد المروزي، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن علي بن حسين، بهذه القصة قال ولم يخدمها
। মুজ্জা‘আহ সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তার ভাইয়ের রক্তমূল্য চাইতে আসেন। যাকে যুহল গোত্রের সাদূস উপগোত্রের লোকেরা হত্যা করেছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি কোনো মুশরিকের দিয়্যাত দিলে তোমার ভাইয়ের দিয়্যাত অবশ্যই দিতাম। তবে আমি তোমার জন্য এর বিনিময়ের ব্যবস্থা করছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য একশো উট দেয়ার একটা ফরমান লিখে দেন। যা থেকে সে কিছু উট গ্রহণ করে। পরবর্তীতে যুহল গোত্রের মুশরিকরা ইসলাম গ্রহণ করে। অতঃপর আবূ বাকর (রাঃ)-এর খিলাফাতকালে মুজ্জা‘আহ তার নিকট অবশিষ্ট উট দাবি করে এবং সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফরমানও নিয়ে আসে। আবূ বাকর (রাঃ) ইয়ামেন প্রদেশে ধার্যকৃত সাদাকাহ থেকে তার জন্য বার হাজার সা‘ খাদ্য শস্য প্রদানের নির্দেশ দেন। চার হাজার সা‘ আটা, চার হাজার সা‘ বার্লি এবং চার হাজার সা‘ খেজুর দিয়ে তা পরিশোধ করা হবে। মুজ্জা‘আহকে লিখিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফরমানের বিবরণ ছিলো এরূপঃ ‘‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। এ পত্র নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে বনূ সুলমাহ গোত্রের মুজ্জা‘আহ ইবনু মুরারাহর জন্য লিখিত। তার ভাইয়ের রক্তপণের বিনিময়ে আমি তাকে একশো উট দিবো। বনূ যুহলের মুশরিকদের কাছ থেকে যে গানীমাত পাওয়া যাবে তার এক-পঞ্চমাংশ থেকে সর্বপ্রথম এ দাবি পূরণ করবে।’’
حدثنا محمد بن عيسى، حدثنا عنبسة بن عبد الواحد القرشي، قال ابو جعفر - يعني ابن عيسى - كنا نقول انه من الابدال قبل ان نسمع ان الابدال من الموالي قال حدثني الدخيل بن اياس بن نوح بن مجاعة عن هلال بن سراج بن مجاعة عن ابيه عن جده مجاعة انه اتى النبي صلى الله عليه وسلم يطلب دية اخيه قتلته بنو سدوس من بني ذهل . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لو كنت جاعلا لمشرك دية جعلت لاخيك ولكن ساعطيك منه عقبى " . فكتب له النبي صلى الله عليه وسلم بماية من الابل من اول خمس يخرج من مشركي بني ذهل فاخذ طايفة منها واسلمت بنو ذهل فطلبها بعد مجاعة الى ابي بكر واتاه بكتاب النبي صلى الله عليه وسلم فكتب له ابو بكر باثنى عشر الف صاع من صدقة اليمامة اربعة الاف برا واربعة الاف شعيرا واربعة الاف تمرا وكان في كتاب النبي صلى الله عليه وسلم لمجاعة " بسم الله الرحمن الرحيم هذا كتاب من محمد النبي لمجاعة بن مرارة من بني سلمى اني اعطيته ماية من الابل من اول خمس يخرج من مشركي بني ذهل عقبة من اخيه
। ‘আমির আশ-শা‘বী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য (গানীমাতের) বিশেষ অংশ ছিলো। যা সাফী নামে আখ্যায়িত। তিনি ইচ্ছা করলে তা কৃতদাস, বাঁদী, ঘোড়া যাই হোক, গানীমাত থেকে এক-পঞ্চমাংশ পৃথক করার পূর্বেই নিতেন।
حدثنا محمد بن كثير، اخبرنا سفيان، عن مطرف، عن عامر الشعبي، قال كان للنبي صلى الله عليه وسلم سهم يدعى الصفي ان شاء عبدا وان شاء امة وان شاء فرسا يختاره قبل الخمس
। ইবনু ‘আওন (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাধারণ অংশ ও বিশেষ অংশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করলেও মুসলিমদের সাথে তাঁকেও একটি অংশ দেয়া হতো। তাঁর বিশেষ অংশ খুমুস বের করার পূর্বেই পৃথক করে রাখা হতো।
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا ابو عاصم، وازهر، قالا حدثنا ابن عون، قال سالت محمدا عن سهم النبي، صلى الله عليه وسلم والصفي قال كان يضرب له بسهم مع المسلمين وان لم يشهد والصفي يوخذ له راس من الخمس قبل كل شىء
। কাতাদাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলে তাঁর জন্য বিশেষ অংশ নির্ধারিত থাকতো। তিনি তাঁর পছন্দমত যেখান থেকে ইচ্ছা নিতেন। সাফিয়্যাহ (রাঃ) এরূপ অংশেই ছিলেন। আর তিনি সশরীরে যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলে তাঁর জন্য সাধারণ একটি অংশ থাকতো কিন্তু সেটা তাঁর পছন্দ নির্ভর অংশ ছিলো না।
حدثنا محمود بن خالد السلمي، حدثنا عمر، - يعني ابن عبد الواحد - عن سعيد، - يعني ابن بشير - عن قتادة، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا غزا كان له سهم صاف ياخذه من حيث شاءه فكانت صفية من ذلك السهم وكان اذا لم يغز بنفسه ضرب له بسهمه ولم يخير
। ‘আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাফিয়্যাহ (রাঃ) সাফীর (বিশেষ অংশের) অন্তর্ভুক্ত।
حدثنا نصر بن علي، حدثنا ابو احمد، اخبرنا سفيان، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة، قالت كانت صفية من الصفي
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা খায়বারে আক্রমণ করি। মহান আল্লাহ যখন এ দুর্গ জয় করালেন তখন হুয়াইয়ের কন্যা সফিয়্যাহর সৌন্দর্যের কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বর্ণনা করা হয়। তিনি সদ্য বিবাহিতা ছিলেন এবং তার স্বামী এ যুদ্ধে নিহত হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিজের জন্য পছন্দ করলেন। অতঃপর তাকে নিয়ে সেখান থেকে রওয়ানা হলেন। ‘আমরা সাদ্দুস-সাহবা নামক জায়গাতে পৌঁছলে তিনি মাসিক ঋতু থেকে পবিত্র হন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে নির্জনবাস করেন।
حدثنا سعيد بن منصور، حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن الزهري، عن عمرو بن ابي عمرو، عن انس بن مالك، قال قدمنا خيبر فلما فتح الله تعالى الحصن ذكر له جمال صفية بنت حيى وقد قتل زوجها وكانت عروسا فاصطفاها رسول الله صلى الله عليه وسلم لنفسه فخرج بها حتى بلغنا سد الصهباء حلت فبنى بها
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাফিয়্যাহ (রাঃ) প্রথমে দিহয়া আল-কালবীর (রাঃ) অংশে ছিলেন। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধীনে আসেন।
حدثنا مسدد، حدثنا حماد بن زيد، عن عبد العزيز بن صهيب، عن انس بن مالك، قال صارت صفية لدحية الكلبي ثم صارت لرسول الله صلى الله عليه وسلم
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনম দিহয়া আল-কালবী (রাঃ)-এর অংশে একটি সুন্দরী দাসী পড়ে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সাতটি গোলামের বিনিময়ে ক্রয় করেন। তিনি তাকে বধূবেশে সাজানোর জন্য উম্মু সুলাইম (রাঃ)-এর নিকট সোপর্দ করলেন। হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আমার মনে হয়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সাফিয়্যাহ বিনতু হুয়াই উম্মু সূলাইমের ঘরে অবস্থান করে ইদ্দাত পূর্ণ করবে।
حدثنا محمد بن خلاد الباهلي، حدثنا بهز بن اسد، حدثنا حماد، اخبرنا ثابت، عن انس، قال وقع في سهم دحية جارية جميلة فاشتراها رسول الله صلى الله عليه وسلم بسبعة اروس ثم دفعها الى ام سليم تصنعها وتهييها قال حماد واحسبه قال وتعتد في بيتها صفية بنت حيى
। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধ শেষে বন্দীদেরকে একত্র করা হলে দিহয়া আল-কালবী (রাঃ) এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে যুদ্ধ বন্দীদের মধ্য থেকে একটি বন্দিনী দিন। তিনি বললেনঃ যাও, একটি দাসী নিয়ে নাও। তিনি সাফিয়্যাহ বিনতু হুয়াইকে বেছে নিলেন। অপর এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সাফিয়্যাহ বিনতু হুয়াইকে দিহয়াকে দিলেন। অথচ তিনি কেবল আপনারই উপযুক্ত। কেননা হুয়াই কন্যা বনূ কুরাইযাহ ও বনূ নাযীর গোত্রের নেতার কন্যা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সাফিয়্যাহ সহ দিহয়াকে ডেকে আনো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়্যাহর দিকে তাকিয়ে দিহয়াকে বললেনঃ এর বদলে তুমি বন্দীদের মধ্য থেকে অন্য কোনো দাসী নাও। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আযাদ করে বিয়ে করেন।
حدثنا داود بن معاذ، حدثنا عبد الوارث، ح وحدثنا يعقوب بن ابراهيم، - المعنى - قال حدثنا ابن علية، عن عبد العزيز بن صهيب، عن انس، قال جمع السبى - يعني بخيبر - فجاء دحية فقال يا رسول الله اعطني جارية من السبى . قال " اذهب فخذ جارية " . فاخذ صفية بنت حيى فجاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا نبي الله اعطيت دحية - قال يعقوب - صفية بنت حيى سيدة قريظة والنضير - ثم اتفقا - ما تصلح الا لك . قال " ادعوه بها " . فلما نظر اليها النبي صلى الله عليه وسلم قال له " خذ جارية من السبى غيرها " . وان النبي صلى الله عليه وسلم اعتقها وتزوجها
। ইয়াযীদ ইবনু ‘আব্দুল্লাহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা আল-মিরবাদ নামক জায়গায় ছিলাম। তখন এলোমেলো চুলবিশিষ্ট এক ব্যক্তি এলো, তার হাতে এক টুকরা লাল রঙের চামড়া ছিলো। ‘আমরা বললাম, তুমি সম্ভবতঃ জঙ্গলের বাসিন্দা। লোকটি বললো, হ্যাঁ। ‘আমরা বললাম, তোমার হাতের লাল চামড়ার টুকরাটি আমাদেরকে দাও। সে আমাদের তা দিলে ‘আমরা সেটির উপরের লেখাগুলো পাঠ করি। তাতে লেখা ছিলোঃ ‘‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে বনূ যুহাইর ইবনু ‘উকাইস গোত্রের লোকদের প্রতি। তোমরা যদি এ সাক্ষ্য প্রদান করো, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়িম করো, যাকাত দাও এবং গানীমাতের সম্পদ থেকে এক-পঞ্চমাংশ দান করো, তা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অংশ এবং নেতার অংশ (সাফী) আদায় করো, তাহলে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা পাবে।’’ ‘আমরা জিজ্ঞেস করি, এ ফরমান তোমার কাছে কে লিখে পাঠিয়েছে? সে বললো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
حدثنا مسلم بن ابراهيم، حدثنا قرة، قال سمعت يزيد بن عبد الله، قال كنا بالمربد فجاء رجل اشعث الراس بيده قطعة اديم احمر فقلنا كانك من اهل البادية . فقال اجل . قلنا ناولنا هذه القطعة الاديم التي في يدك فناولناها فقراناها فاذا فيها " من محمد رسول الله الى بني زهير بن اقيش انكم ان شهدتم ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله واقمتم الصلاة واتيتم الزكاة واديتم الخمس من المغنم وسهم النبي صلى الله عليه وسلم وسهم الصفي انتم امنون بامان الله ورسوله " . فقلنا من كتب لك هذا الكتاب قال رسول الله صلى الله عليه وسلم
। ‘আব্দুর রাহমান ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) ছিলেন ঐ তিনজনের অন্যতম যাদের তওবা কবূল হয়। কা‘ব ইবনু আশরাফ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে কুরাইশ কাফিরদের উত্তেজিত করতো এবং উসকানি দিতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবার যখন হিজরাত করে মদীনায় আসেন, তখন সেখানে সব ধরণের লোকেরা বসবাস করতো। তাদের মধ্যে কিছু ছিলো মুসলিম, কিছু মূর্তিপূজারী মুশরিক এবং কিছু ইয়াহুদী সম্প্রদায়ভুক্ত। ইয়াহুদীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের কষ্ট দিতো। মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে ধৈর্য ধারণ ও উদারতা প্রদর্শনের নির্দেশ দেন। তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ ‘‘তোমরা আহলে কিতাব ও মুশরিকদের কাছ থেকে বহু কষ্টদায়ক কথা শুনতে পাবে।’’[সূরা আলে ইমরানঃ ১৮৬] কা‘ব ইবনু আশরাফ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কষ্ট দেয়া থেকে রিবত থাকতে অস্বীকার করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হত্যা করতে সা‘দ ইবনু মু‘আয (রাঃ)-কে একটি দল প্রেরণের নির্দেশ দেন। অতঃপর বর্ণনাকারী তার হত্যার ঘটনা বর্ণনা করেনঃ কা‘ব ইবনু আশরাফকে হত্যা করা হলে ইয়াহুদী ও মুশরিকরা ভীত হয়ে পড়লো। সকালবেলা তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, রাতের বেলা কিছু লোক আমাদের সাথীর কাছে এসে তাকে হত্যা করেছে। কা‘ব ইবনু আশরাফ যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতো তিনি তাদেরকে তা জানান। তারপর ইয়াহুদী ও মুশরিকদেরকে তাদের বিরোধী আচরণ বর্জনের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মধ্যে ও তাদের মধ্যে একটি চুক্তি করতে আহবান জানালেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের, তাদের ও সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে একটি চুক্তিপত্র সম্পাদন করেন।
حدثنا محمد بن يحيى بن فارس، ان الحكم بن نافع، حدثهم قال اخبرنا شعيب، عن الزهري، عن عبد الرحمن بن عبد الله بن كعب بن مالك، عن ابيه، - وكان احد الثلاثة الذين تيب عليهم - وكان كعب بن الاشرف يهجو النبي صلى الله عليه وسلم ويحرض عليه كفار قريش وكان النبي صلى الله عليه وسلم حين قدم المدينة واهلها اخلاط منهم المسلمون والمشركون يعبدون الاوثان واليهود وكانوا يوذون النبي صلى الله عليه وسلم واصحابه فامر الله عز وجل نبيه بالصبر والعفو ففيهم انزل الله { ولتسمعن من الذين اوتوا الكتاب من قبلكم } الاية فلما ابى كعب بن الاشرف ان ينزع عن اذى النبي صلى الله عليه وسلم امر النبي صلى الله عليه وسلم سعد بن معاذ ان يبعث رهطا يقتلونه فبعث محمد بن مسلمة وذكر قصة قتله فلما قتلوه فزعت اليهود والمشركون فغدوا على النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا طرق صاحبنا فقتل . فذكر لهم النبي صلى الله عليه وسلم الذي كان يقول ودعاهم النبي صلى الله عليه وسلم الى ان يكتب بينه وبينهم كتابا ينتهون الى ما فيه فكتب النبي صلى الله عليه وسلم بينه وبينهم وبين المسلمين عامة صحيفة
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর যুদ্ধে কুরাইশদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়ে মদীনায় প্রত্যাবর্তন করে বনূ কাইনুকা গোত্রের বাজারে ইয়াহুদীদের একত্র করে বললেনঃ হে ইয়াহুদীরা! কুরাইশদের অনুরূপ পরিণতির সম্মুখীন হওয়ার আগেই ইসলাম কবূল করো। তারা বললো, হে মুহাম্মাদ! আপনি নিজেই ধোঁকায় পড়বেন না। কারণ আপনি কুরাইশদের এমন এক দলের সাথে যুদ্ধ করেছেন যারা যুদ্ধ ও যুদ্ধকৌশল জানে না। আপনি আমাদের সাথে যুদ্ধ করলে টের পেতেন ‘আমরা কেমন যুদ্ধবাজ! আপনি তো আমাদের মতো লোকেরা মোকাবিলা করেননি। তখন মহান আল্লাহ এই আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ ‘‘(হে মুহাম্মাদ)! যারা আপনার দাওয়াত কবূল করতে অস্বীকার করেছে তাদেরকে বলে দিন, অচিরেই তোমরা পরাজিত হবে এবং জাহান্নামে একত্রিত হবে।’’ (সূরা আলে ইমরানঃ)
حدثنا مصرف بن عمرو الايامي، حدثنا يونس، - يعني ابن بكير - قال حدثنا محمد بن اسحاق، حدثني محمد بن ابي محمد، مولى زيد بن ثابت عن سعيد بن جبير، وعكرمة، عن ابن عباس، قال لما اصاب رسول الله صلى الله عليه وسلم قريشا يوم بدر وقدم المدينة جمع اليهود في سوق بني قينقاع فقال " يا معشر يهود اسلموا قبل ان يصيبكم مثل ما اصاب قريشا " . قالوا يا محمد لا يغرنك من نفسك انك قتلت نفرا من قريش كانوا اغمارا لا يعرفون القتال انك لو قاتلتنا لعرفت انا نحن الناس وانك لم تلق مثلنا . فانزل الله عز وجل في ذلك { قل للذين كفروا ستغلبون } قرا مصرف الى قوله { فية تقاتل في سبيل الله } ببدر { واخرى كافرة}
। মুহাইয়্যাসাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা কোনো ইয়াহুদী পুরুষকে নাগালের মধ্যে পেলেই হত্যা করবে। মুহাইয়্যাসাহ (রাঃ) ইয়াহুদী ব্যবসায়ী শুবাইবার উপর ঝাঁপিড়ে পড়ে তাকে হত্যা করেন। এ সময় মুহাইয়্যাসাহ (রাঃ) ইয়াহুদীদের সাথে একই এলাকায় বসবাস করতেন। তার বড় ভাই হুয়াইআসাহ তখনো মুসলিম হয়নি। তিনি শুবাইবাকে হত্যা করায় হুয়াইআসাহ তাকে প্রহার করতেন আর বলতেন, হে আল্লাহর দুশমন, আল্লাহর শপথ! তোর পেটের চর্বি তো আমার সম্পদে তৈরী হয়েছে।
حدثنا مصرف بن عمرو، حدثنا يونس، قال ابن اسحاق حدثني مولى، لزيد بن ثابت حدثتني ابنة محيصة، عن ابيها، محيصة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " من ظفرتم به من رجال يهود فاقتلوه " . فوثب محيصة على شبيبة رجل من تجار يهود كان يلابسهم فقتله وكان حويصة اذ ذاك لم يسلم وكان اسن من محيصة فلما قتله جعل حويصة يضربه ويقول يا عدو الله اما والله لرب شحم في بطنك من ماله
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা মসজিদে উপস্থিত ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বেরিয়ে এসে বললেনঃ ইয়াহুদীদের এলাকায় চলো। ‘আমরা তাঁর সাথে বের য়ে সেখানে গিয়ে পৌঁছলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তাদেরকে ডেকে বললেনঃ হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম কবূল করো শান্তিতে থাকবে। তারা বললো, হে আবুল কাসিম! আপনি পৌঁছে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আবার বললেনঃ তোমরা ইসলাম কবূল করো, নিরাপত্তা পাবে। তারা বললো, হে আবুল কাসিম! আপনি পৌঁছে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ এ দাওয়াত পৌঁছে দেয়াই আমার উদ্দেশ্য ছিলো। তৃতীয় বারও তিনি একই কথার পুনরাবৃত্তি করে বললেনঃ জেনে রাখো! এ ভুখন্ডের মালিকানা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের। আমি তোমাদের এ ভূখন্ড থেকে বিতাড়িত করতে চাই। সুতরাং তোমরা কোনো জিনিস বিক্রি করতে সক্ষম হলে বিক্রি করো। অন্যথায় জেনে রাখো! এ ভূখন্ডের মালিক আল্লাহ ও তাঁর রাসূল।
حدثنا قتيبة بن سعيد، اخبرنا الليث، عن سعيد بن ابي سعيد، عن ابيه، عن ابي هريرة، انه قال بينا نحن في المسجد اذ خرج الينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " انطلقوا الى يهود " . فخرجنا معه حتى جيناهم فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فناداهم فقال يا معشر يهود اسلموا تسلموا " . فقالوا قد بلغت يا ابا القاسم . فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم " اسلموا تسلموا " . فقالوا قد بلغت يا ابا القاسم . فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم " ذلك اريد " . ثم قالها الثالثة " اعلموا انما الارض لله ورسوله واني اريد ان اجليكم من هذه الارض فمن وجد منكم بماله شييا فليبعه والا فاعلموا انما الارض لله ورسوله صلى الله عليه وسلم
। ‘আব্দুর রাহমান ইবনু কা‘ব মালিক (রহঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জনৈক সাহাবী সূত্রে বর্ণনা করেন, কুরাইশ কাফিররা ‘আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই এবং তার মূর্তিপূজক সহযোগী আওস ও খাযরাজ গোত্রের লোকদের প্রতি পত্র প্রেরণ করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মদীনায় ছিলেন। এটি বদর যুদ্ধের পূর্বের ঘটনা। (চিঠিতে লিখা ছিলো) ‘‘আমাদের এক ব্যক্তিকে (নবী) তোমরা আশ্রয় দিয়েছো। ‘আমরা আল্লাহর শপথ করে বলছি, তোমরা অবশ্যই তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরো বা বহিস্কার করো। অন্যথায় ‘আমরা সম্মিলিতভাবে তোমাদেরকে আক্রমণ করবো, তোমাদের যুদ্ধবাজ লোকদের হত্যা করবো এবং তোমাদের নারীদেরকে বন্দী করবো।’’ চিঠিটি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই ও তার মূর্তিপূজক সঙ্গীদের নিকট পৌঁছলো তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ঐক্যবদ্ধ হলো। এ সংবাদ পেয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে বললেনঃ তোমাদের কাছে কুরাইশদের চরমপত্র এসেছে। আসলে তারা তোমাদের ততটা ক্ষতি করতে পারবে না যতটা ক্ষতি তোমরা নিজেরা নিজেদের জন্য ডেকে আনবে। কেননা তোমরা নিজেদের ভাই-বন্ধু ও সন্তানদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাইছো। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ কথা শুনে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লো। এ কথা কুরাইশ কাফিরদের নিকট পৌঁছলে বদর যুদ্ধের পর কুরাইশ কাফিররা ইয়াহুদীদের প্রতি লিখলোঃ তোমরা অস্ত্রে সসজ্জিত ও দুর্গের অধিকারী ব্যক্তি। তোমরা আমাদের সাথীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, নতুবা ‘আমরা এই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। তখন আমাদের ও তোমাদের নারীদের দাসী বানানোর মাঝে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। ইয়াহুদীদেরকে লেখা এ পত্রের কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবহিত হলেন। বনূ নাযীর গোত্রের লোকেরা বিশ্বাসঘাতকতা করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লোক পাঠিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললো, আপনি আপনার তিরিশজন সাহাবীকে সাথে নিয়ে বের হন এবং ‘আমরাও আমাদের তিরিশজন আলিম সাথে নিয়ে বের হই। ‘আমরা উভয়ের মধ্যবর্তী স্থানে মিলিত হবো। তারা আপনার (ধর্মের) কথা শুনবে। তারা আপনার কথা শুনে আপনার প্রতি ঈমান আনলে ‘আমরাও আপনার প্রতি ঈমান আনবো। তিনি সাহাবীদেরকে তাদের এ প্রস্তাবের কথা জানালেন। পরের দিন সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল সৈন্যসহ তাদের নিকট গিয়ে তাদেরকে অবরোধ করে বললেনঃ আল্লাহর শপথ! তোমরা আমার সাথে চুক্তিবদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি তোমাদের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হবো না। কিন্তু তারা চুক্তিবদ্ধ হতে রাজি না হওয়ায় সেদিনই তিনি তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেন। পরের দিন তিনি সৈন্যবাহিনী নিয়ে বনূ নাযীরকে ছেড়ে বনূ কুরাইয়াকে অবরোধ করে তাদেরকে সন্ধির জন্য আহবান করেন। তারা তাঁর সাথে চুক্তিবদ্ধ হলো। অতঃপর সেখান থেকে ফিরে পরের দিন তিনি সৈন্যবাহিনী নিয়ে বনূ নাযীরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরলেন। তারা দেশত্যাগ করতে সম্মত হয়ে দেশত্যাগ করে। তাদের উটের পিঠে ঘরের দরজা, চৌকাঠ ইত্যাটি যতটা মালামাল নেয়া সম্ভব নিলো। বনূ নাযীরের বাগান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মালিকানায় এলো। আল্লাহ তাঁকে বিশেষভাবে এ বাগানটি দান করলেন এবং শুধু তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট করলেন। মহান আল্লাহ তা‘আলাঃ ‘‘আল্লাহ যে সম্পদ তাদের দখল থেকে বের করে তাঁর রাসূলকে ফিরিয়ে দিয়েছেন, তার জন্য তোমরা ঘোড়া বা উট হাঁকাওনি।’’[সূরা আল-হাশরঃ ৬] এ সম্পদ বিনা যুদ্ধে অর্জিত হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পদের অধিকাংশই মুহাজিরদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। দু’জন অভাবী আনসারকেও তিনি এর অংশ দিলেন, তবে অন্য আনসারদের এর অংশ দেননি। সম্পত্তির বাকী অংশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাদাকাহর খাতে অন্তর্ভুক্ত করেন। এ অংশ ফাতিমাহ (রাঃ)-এর বংশধরদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো।
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। বনূ কুরাইযা ও বনূ নাযীর ইয়াহুদী গোত্রদ্বয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ নাযীরকে উচ্ছেদ করলেন এবং বনূ কুরাইযার প্রতি অনুগ্রহ করে তাদেরকে উচ্ছেদ করেননি। অতঃপর বনূ কুরাইযা সংঘর্ষে অবতীর্ণ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে হত্যা করলেন এবং তাদের স্ত্রী লোক, সন্তানাদি ও সম্পদ মুসলিমদের মাঝে বণ্টন করলেন। কিন্তু তাদের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মিলিত হলে তিনি তাদেরকে নিরাপত্তা দিলেন এবং তারা ইসলাম কবূল করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় বসবাসকারী সমস্ত ইয়াহুদী গোত্রকে উচ্ছেদ করলেন। যেমন মদীনায় বসবাসকারী অন্যান্য ইয়াহুদীদেরকে তিনি মদীনাহ্ থেকে বিতাড়িত করেন।
حدثنا محمد بن يحيى بن فارس، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا ابن جريج، عن موسى بن عقبة، عن نافع، عن ابن عمر، ان يهود بني النضير، وقريظة، حاربوا رسول الله صلى الله عليه وسلم فاجلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بني النضير واقر قريظة ومن عليهم حتى حاربت قريظة بعد ذلك فقتل رجالهم وقسم نساءهم واولادهم واموالهم بين المسلمين الا بعضهم لحقوا برسول الله صلى الله عليه وسلم فامنهم واسلموا واجلى رسول الله صلى الله عليه وسلم يهود المدينة كلهم بني قينقاع وهم قوم عبد الله بن سلام ويهود بني حارثة وكل يهودي كان بالمدينة
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার অধিবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের জমি ও খেজুর বাগান দখল করেন এবং তাদেরকে তাদের ঘরে অবরোধ করেন। তারা তাঁর সাথে এ শর্তে সন্ধি করলো যে, রূপা ও যুদ্ধের সরঞ্জামাদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাবেন। অপরদিকে তাদের প্রত্যেকের উট যতটা সম্পদ বহনে সক্ষম তারা তা নিতে পারবে, কোনো কিছু লুকাবে না এবং সরিয়ে রাখবে না। তারা এরূপ করলে তাদের জন্য কোনো নিরাপত্তা থাকবে না এবং কোনো চুক্তিও কার্যকর হবে না। তারা হুয়াই ইবনু আখতাবের স্বর্ণমুদ্রা বোঝাই করা চামড়ার থলে গোপন রাখলো। সে খায়বার যুদ্ধের আগে নিহত হয়েছিল। যখন বনূ নাযীরকে উচ্ছেদ করা হয় তখন সে এ থলেটিতে তাদের স্বর্ণমুদ্রা ভরে সাথে করে নিয়ে এসেছিল। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাই‘আহকে জিজ্ঞেস করলেনঃ হুয়াই ইবনু আখতাবের স্বর্ণমুদ্রার থলেটা কোথায়? সে বললো, যুদ্ধের সময় তা নষ্ট হয়ে যায় এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে খরচ হয়ে যায়। সাহাবীগণ তা খোঁজ করে পেয়ে গেলেন। তিনি ইবনু আবুল হাকীককে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন এবং তাদের নারী ও সন্তানদের বন্দী করলেন। তিনি তাদেরকে উচ্ছেদের ইচ্ছা করলেন। তারা বললো, হে মুহাম্মাদ! আমাদেরকে ছেড়ে দিন, ‘আমরা এখানকার জমি চাষাবাদ করবো। উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক আমাদের এবং অর্ধেক আপনাদের থাকবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের প্রত্যেককে আশি ওয়াসাক খেজুর এবং বিশ ওয়াসাক বার্লি দিতেন।
حدثنا هارون بن زيد بن ابي الزرقاء، حدثنا ابي، حدثنا حماد بن سلمة، عن عبيد الله بن عمر، قال - احسبه - عن نافع، عن ابن عمر، ان النبي صلى الله عليه وسلم قاتل اهل خيبر فغلب على النخل والارض والجاهم الى قصرهم فصالحوه على ان لرسول الله صلى الله عليه وسلم الصفراء والبيضاء والحلقة ولهم ما حملت ركابهم على ان لا يكتموا ولا يغيبوا شييا فان فعلوا فلا ذمة لهم ولا عهد فغيبوا مسكا لحيى بن اخطب وقد كان قتل قبل خيبر كان احتمله معه يوم بني النضير حين اجليت النضير فيه حليهم قال فقال النبي صلى الله عليه وسلم لسعية " اين مسك حيى بن اخطب " . قال اذهبته الحروب والنفقات . فوجدوا المسك فقتل ابن ابي الحقيق وسبى نساءهم وذراريهم واراد ان يجليهم فقالوا يا محمد دعنا نعمل في هذه الارض ولنا الشطر ما بدا لك ولكم الشطر . وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعطي كل امراة من نسايه ثمانين وسقا من تمر وعشرين وسقا من شعير
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা ‘উমার (রাঃ) বলেন, হে লোকসকল! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের ইয়াহুদীদের এ শর্তে সেখানকার কৃষি জমিতে নিয়োগ দেন যে, ‘‘আমার যখন ইচ্ছা হবে তাদেরকে সেখান থেকে বিতাড়িত করবো।’’ সুতরাং সেখানের ইয়াহুদীদের যার কাছে যে সম্পদ আছে সে যেন তা হস্তগত করে। কারণ ইয়াহুদীদের বিতাড়িত করবো। অতঃপর তিনি তাদেরকে বিতাড়িত করলেন।
حدثنا احمد بن حنبل، حدثنا يعقوب بن ابراهيم، حدثنا ابي، عن ابن اسحاق، حدثني نافع، مولى عبد الله بن عمر عن عبد الله بن عمر، ان عمر، قال ايها الناس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان عامل يهود خيبر على انا نخرجهم اذا شينا فمن كان له مال فليلحق به فاني مخرج يهود . فاخرجهم
حدثنا محمد بن داود بن سفيان، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن عبد الرحمن بن كعب بن مالك، عن رجل، من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ان كفار قريش كتبوا الى ابن ابى ومن كان يعبد معه الاوثان من الاوس والخزرج ورسول الله صلى الله عليه وسلم يوميذ بالمدينة قبل وقعة بدر انكم اويتم صاحبنا وانا نقسم بالله لتقاتلنه او لتخرجنه او لنسيرن اليكم باجمعنا حتى نقتل مقاتلتكم ونستبيح نساءكم . فلما بلغ ذلك عبد الله بن ابى ومن كان معه من عبدة الاوثان اجتمعوا لقتال النبي صلى الله عليه وسلم فلما بلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم لقيهم فقال " لقد بلغ وعيد قريش منكم المبالغ ما كانت تكيدكم باكثر مما تريدون ان تكيدوا به انفسكم تريدون ان تقاتلوا ابناءكم واخوانكم " . فلما سمعوا ذلك من النبي صلى الله عليه وسلم تفرقوا فبلغ ذلك كفار قريش فكتبت كفار قريش بعد وقعة بدر الى اليهود انكم اهل الحلقة والحصون وانكم لتقاتلن صاحبنا او لنفعلن كذا وكذا ولا يحول بيننا وبين خدم نسايكم شىء - وهي الخلاخيل - فلما بلغ كتابهم النبي صلى الله عليه وسلم اجمعت بنو النضير بالغدر فارسلوا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم اخرج الينا في ثلاثين رجلا من اصحابك وليخرج منا ثلاثون حبرا حتى نلتقي بمكان المنصف فيسمعوا منك . فان صدقوك وامنوا بك امنا بك فقص خبرهم فلما كان الغد غدا عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم بالكتايب فحصرهم فقال لهم " انكم والله لا تامنون عندي الا بعهد تعاهدوني عليه " . فابوا ان يعطوه عهدا فقاتلهم يومهم ذلك ثم غدا الغد على بني قريظة بالكتايب وترك بني النضير ودعاهم الى ان يعاهدوه فعاهدوه فانصرف عنهم وغدا على بني النضير بالكتايب فقاتلهم حتى نزلوا على الجلاء فجلت بنو النضير واحتملوا ما اقلت الابل من امتعتهم وابواب بيوتهم وخشبها فكان نخل بني النضير لرسول الله صلى الله عليه وسلم خاصة اعطاه الله اياها وخصه بها فقال { وما افاء الله على رسوله منهم فما اوجفتم عليه من خيل ولا ركاب } يقول بغير قتال فاعطى النبي صلى الله عليه وسلم اكثرها للمهاجرين وقسمها بينهم وقسم منها لرجلين من الانصار وكانا ذوي حاجة لم يقسم لاحد من الانصار غيرهما وبقي منها صدقة رسول الله صلى الله عليه وسلم التي في ايدي بني فاطمة رضي الله عنها