Loading...

Loading...
বইসমূহ
৩৯০ হাদিসসমূহ
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আরয করলেন যে, তিনি রাতে (প্রায়ই) অপবিত্র হন (এরূপ অবস্থায় করণীয় কি?) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অযু কর এবং লজ্জাস্থান ধুয়ে নাও, তারপর ঘুমাও।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن عبد الله بن دينار، عن عبد الله بن عمر، انه قال ذكر عمر بن الخطاب لرسول الله صلى الله عليه وسلم انه تصيبه الجنابة من الليل فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " توضا واغسل ذكرك ثم نم
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাক অবস্থায় ঘুমানোর ইচ্ছা করলে সালাতের অযুর ন্যায় অযু করে নিতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
حدثنا مسدد، وقتيبة بن سعيد، قالا حدثنا سفيان، عن الزهري، عن ابي سلمة، عن عايشة، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا اراد ان ينام وهو جنب توضا وضوءه للصلاة
। ইউনুস হতে যুহরী সূত্রে একই সানাদে সমার্থবোধক হাদীস বর্ণিত আছে। তাতে একথাও রয়েছেঃ নাপাক অবস্থায় তিনি খাওয়ার ইচ্ছা করলে তাঁর উভয় হাত ধুয়ে নিতেন। [1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইউনুস থেকে ইবনু ওয়াহ্ব এ হাদীসটিই বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি খাওয়ার কথাটা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর বক্তব্য বলে উল্লেখ করেছেন।
حدثنا محمد بن الصباح البزاز، حدثنا ابن المبارك، عن يونس، عن الزهري، باسناده ومعناه زاد " واذا اراد ان ياكل وهو جنب غسل يديه " . قال ابو داود ورواه ابن وهب عن يونس فجعل قصة الاكل قول عايشة مقصورا ورواه صالح بن ابي الاخضر عن الزهري كما قال ابن المبارك الا انه قال عن عروة او ابي سلمة ورواه الاوزاعي عن يونس عن الزهري عن النبي صلى الله عليه وسلم كما قال ابن المبارك
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাক অবস্থায় খাওয়ার অথবা ঘুমাবার ইচ্ছা করলে অযু করে নিতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، حدثنا شعبة، عن الحكم، عن ابراهيم، عن الاسود، عن عايشة، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان اذا اراد ان ياكل او ينام توضا . تعني وهو جنب
। ‘আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাপাক ব্যক্তিকে অযু করে পানাহার করার অথবা ঘুমাবার অনুমতি প্রদান করেছেন। ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ), ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার এবং ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) বলেছেন, নাপাক ব্যক্তি খাওয়ার ইচ্ছা করলে অযু করে নিবে।[1] দুর্বল।
حدثنا موسى، - يعني ابن اسماعيل - حدثنا حماد، - يعني ابن سلمة - اخبرنا عطاء الخراساني، عن يحيى بن يعمر، عن عمار بن ياسر، ان النبي صلى الله عليه وسلم رخص للجنب اذا اكل او شرب او نام ان يتوضا . قال ابو داود بين يحيى بن يعمر وعمار بن ياسر في هذا الحديث رجل وقال علي بن ابي طالب وابن عمر وعبد الله بن عمرو الجنب اذا اراد ان ياكل توضا
। গুদায়িফ ইবনুল হারিস সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানাবাতের গোসল কখন করতে দেখেছেন, রাতের প্রথমভাগে না শেষভাগে? ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, তিনি কখনো রাতের প্রথম ভাগে গোসল করতেন আবার কখনো রাতের শেষ ভাগে। আমি বললাম, আল্লাহু আকবার! সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যই যিনি এ ব্যাপারে প্রশস্ততা ও সহজতা দান করেছেন। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর (সালাত) রাতের প্রথম দিকে আদায় করতেন, না শেষদিকে? তিনি বললেন, কখনো রাতের প্রথমদিকে বিতর আদায় করতেন আবার কখনো শেষ রাতে। আমি বললাম, আল্লাহু আকবার! সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যই যিনি এ ব্যাপারে প্রশস্ততা ও সহজতা দান করেছেন। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন তিলাওয়াত উচ্চস্বরে করতেন না নিম্নস্বরে? তিনি বললেন, তিনি কখনো উচ্চস্বরে এবং কখনো নিম্নস্বরে তিলাওয়াত করতেন। আমি বললাম, আল্লাহু আকবার! সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যই, যিনি এ ব্যাপারে প্রশস্ততা ও সহজতা দান করেছেন। [1] সহীহঃ মুসলিমে এর প্রথমাংশ রয়েছে।
حدثنا مسدد، حدثنا المعتمر، ح حدثنا احمد بن حنبل، حدثنا اسماعيل بن ابراهيم، قالا حدثنا برد بن سنان، عن عبادة بن نسى، عن غضيف بن الحارث، قال قلت لعايشة ارايت رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يغتسل من الجنابة في اول الليل او في اخره قالت ربما اغتسل في اول الليل وربما اغتسل في اخره . قلت الله اكبر الحمد لله الذي جعل في الامر سعة . قلت ارايت رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يوتر اول الليل ام في اخره قالت ربما اوتر في اول الليل وربما اوتر في اخره . قلت الله اكبر الحمد لله الذي جعل في الامر سعة . قلت ارايت رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يجهر بالقران ام يخفت به قالت ربما جهر به وربما خفت . قلت الله اكبر الحمد لله الذي جعل في الامر سعة
। ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ঘরে মূর্তি, কুকুর অথবা নাপাক ব্যক্তি রয়েছে সেখানে মালায়িকাহ (ফিরিশতা) প্রবেশ করে না।[1] দুর্বল : যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর ৬২০৩।
حدثنا حفص بن عمر النمري، حدثنا شعبة، عن علي بن مدرك، عن ابي زرعة بن عمرو بن جرير، عن عبد الله بن نجى، عن ابيه، عن علي بن ابي طالب، - رضى الله عنه - عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لا تدخل الملايكة بيتا فيه صورة ولا كلب ولا جنب
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ কোনরূপ পানি স্পর্শ না করেই নাপাক অবস্থায় ঘুমাতেন। [1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইয়াযীদ ইবনু হারুন বলতেন, এ হাদীসটি (অর্থাৎ আবূ ইসহাক্বের হাদীস) অনুমান নির্ভর।
حدثنا محمد بن كثير، اخبرنا سفيان، عن ابي اسحاق، عن الاسود، عن عايشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ينام وهو جنب من غير ان يمس ماء . قال ابو داود حدثنا الحسن بن علي الواسطي قال سمعت يزيد بن هارون يقول هذا الحديث وهم . يعني حديث ابي اسحاق
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালামাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আমার সাথে আরো দু’জন লোক ‘আলী (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তাদের একজন আমাদের গোত্রের আর অন্যজন সম্ভবত বানু আসাদ গোত্রের। ‘আলী (রাঃ) তাদের দু’জনকে কোন কাজে পাঠালেন এবং প্রেরণের সময় বললেন, তোমরা দু’জনই শক্তিশালী। কাজেই তোমরা তোমাদের শক্তি দীনের ক্ষেত্রে ব্যয় করবে। অতঃপর তিনি পায়খানায় গেলেন এবং সেখান থেকে বের হয়ে পানি চাইলেন। তিনি এক অঞ্জলি পানি হাতে নিয়ে (মুখ) মুছে কুরআন তিলাওয়াত করতে লাগলেন। লোকেরা বিষয়টি আপত্তিকর মনে করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের কুরআন পড়াতেন এবং আমাদের সঙ্গে গোশতও খেতেন। একমাত্র জানাবাত (গোসল ফরয হওয়ার নাপাকি) ব্যাতীত কোন কিছুই তাঁকে কুরআন থেকে বিরত রাখতে পারতো না।[1] দুর্বল : মিশকাত ৪৬০। [1] তিরমিযী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ অপবিত্র না হলে যে কোনো অবস্থায় কুরআন পাঠ বৈধ, হাঃ ১৪৬, ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ), নাসায়ী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, হাঃ ৫৯৪), আহমাদ (১/৮৪, ১০৭, ১২৪), সকলেই একাধিক সনদে ‘আমর ইবনু মুররাহ থেকে ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালামাহ সূত্রে। এর দোষ হচ্ছেঃ এ হাদীস বর্ণনায় ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালামাহ একক হয়ে গেছেন। বৃদ্ধ বয়সে তার স্মরণশক্তি উলট পালট হয়ে যায়। আর এ হাদীসটি তিনি বৃদ্ধ বয়সে বর্ণনা করেন। অনুরূপ বলেন, শু‘বাহ, ‘মুখতাসার সুনানুল কুবরা’ (১/১৫৬), ইমাম খাত্তাবী ‘মা‘আলিমুম সুনান; (১/৬৬) গ্রন্থে বলেন, ইমাম আহমাদ ‘আলীর এ হাদীসটিকে সন্দেহ করতেন এবং ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালামাহকে দুর্বল বলেছেন। হাদীস থেকে শিক্ষাঃ ১। কেউ কোনো সুন্নাত বিরোধী কাজ হতে দেখলে তার উচিত ঐ কর্ম সম্পাদনকারীকে নিষেধ করা। ২। ছোট অপবিত্র অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত জায়িয। মাসআলাহঃ হায়িয, নিফাস ও জুনুবী অবস্থায় কুরআন পাঠ প্রসঙ্গেঃ (১) ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসঃ حديث علي رضي الله عنه ان رسول الله صلي الله عليه وسلم كان يخرج من الخلاء فيقرئنا القران ويأكل معنا اللحم ولم يكن يحجبه او قال يحجزه عن القران شئ ليس الجنابة (ক) আলী (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের কুরআন পড়াতেন এবং আমাদের সঙ্গে গোশতও খেতেন। একমাত্র জানাবাত (গোসল ফারয হওয়ার নাপাকি) ব্যতীত কোনো কিছুই তাঁকে কুরআন থেকে বিরত রাখতে পারতো না। হাদীসটি দুর্বলঃ এটি বর্ণনা করেছেন আবূ দাঊদ (২২৯), নাসায়ী (১/৫২), তিরমিযী (১/২৭৩-২৭৪), ইবনু মাজাহ (৫৯৪), আহমাদ (১/৮৪, ১২৪), ত্বায়ালিসি (১০১), ত্বাহাবী (১/৫২), ইবনুল জারুদ ‘মুনতাক্বা’ (৫২-৫৩), দারাকুতনী (৪৪ পৃঃ), ইবনু আবূ শায়বাহ (১/৩৬/১), হাকিম (১/৫২, ৪/১০৭), ইবনু ‘আদী ‘কামিল’ (ক্বাফ ২১৪/২) এবং বায়হাক্বী (১/৮৮-৮৯), প্রত্যেকেই ‘আমর ইবনু মুররাহ থেকে ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালামাহ সূত্রে, তিনি বলেনঃ ‘‘আমি এবং আরো দু’ ব্যক্তি আলী (রাঃ)-এর নিকট আসলাম, তখন তিনি বললেন... (হাদীস)।’’ হাদীসটি তিরমিযীতে সংক্ষেপে এ শব্দে বর্ণিত হয়েছেঃ كان رسول الله صلي الله عليه وسلم كان يقرئنا القران علي كل حال ما لم يكن جنبا ‘‘শরীর অপবিত্র না হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সর্বাবস্থায় কুরআন পড়াতেন।’’ এটি ইবনু আবূ শায়বাহ ও অন্যদেরও বর্ণনা। তবে ইবনুল জারুদ বৃদ্ধি করেছেনঃ ‘‘শু‘বাহ এ হাদীস সম্পর্কে বলতেনঃ আমরা হাদীসটি জানি এবং তা প্রত্যাখ্যান করি। অর্থাৎ ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালামাহকে ‘আমর বৃদ্ধ বয়সে পেয়েছেন।’’ এ উদ্ধৃতিতে এ ইঙ্গিতই রয়েছে যে, শেষ বয়সে ইবনু ‘আব্দুল্লাহর স্মরণশক্তি বিকৃত হয়ে যায়। আর ‘আমর ইবনু মুররাহ হাদীসটি তার কাছ থেকে ঐ অবস্থায়ই বর্ণনা করেন। এ তথ্য হাদীসটির ব্যাপারে সন্দেহ জাগায় এবং হাদীসটিকে দুর্বল করে দেয়। হাদীস বিশারদ ইমামগণের একদল বিষয়টি স্পষ্টও করেছেন। আল্লামা মুনযিরী ‘মুখতাসার সুনান’ (১/১৫৬) গ্রন্থে বলেনঃ ‘‘আবূ বাকর আল বাযযার উল্লেখ করেন যে, ‘আলীর হাদীসটি কেবল ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালামাহ থেকে ‘আমর ইবনু মুররাহ সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে। ইমাম বুখারী (রহঃ) ‘আমর ইবনু মুররাহ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালামাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করতেন, আমরা তা চিনতাম এবং প্রত্যাখ্যান করতাম। তিনি বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন, তার হাদীস অনুসরণ করা হতো না। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) এ হাদীস সম্পর্কে বলেনঃ হাদীস বিশারদ ইমামগণ হাদীসটিকে প্রমাণযোগ্য বলেননি। ইমাম বায়হাক্বী বলেনঃ ‘ইমা শাফিঈ এ হাদীসটির প্রামাণ্যতার ব্যাপারে থেমে গেছেন, কেননা এর মূল বিষয় বর্তায় ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালামাহ আল-কূফীর উপর। তিনি বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। কতিপয় প্রত্যাখ্যানকারী তার হাদীস ও ‘আক্বলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর তিনি এ হাদীসটি বৃদ্ধ হওয়ার পরই বর্ণনা করেছেন। যা শু‘বাহ বলেছেন।’ ইমাম খাত্তাবী উল্লেখ করেন, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) ‘আলীর এ হাদীসটিকে সন্দেহ করতেন এবং ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালামাহর কারণে দুর্বল বলতেন।’’ কিন্তু এসব ইমামগণের বিপরীত করেছেন অন্যান্য ইমাম। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। হাকিম ও যাহাবী এর সানাদকে সহীহ বলেছেন। অনুরূপভাবে সহীহ বলেছেন ইবনুস সুকূন, ‘আব্দুল হাক্ব ও বাগাভী ‘শারহু সুন্নাহ’ গ্রন্থে, যেমন রয়েছে হাফিযের ‘আত-তালখীস’ গ্রন্থে। তবে হাফিয মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে ‘ফাতহুল বারী’ (১/৩৪৮) গ্রন্থে বলেনঃ ‘‘হাদীসটির সুনান প্রণেতারা বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী ও ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলেছেন এবং কতিপয় ইমাম একে দুর্বল বলেছেন। সঠিক হচ্ছে, এটি হাসান পর্যায়ের, যা দলীলের উপযোগী।’’ হাদীসটির ব্যাপারে এটা হচ্ছে হাফিযের রায়। কিন্তু আমরা তার সাথে একমত নই। কেননা হাফিয নিজেই ‘আত-তাক্বরীব’ গ্রন্থে বর্ণনাকারী ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালামাহর জীবনীতে ইবনু সালামাহ সম্পর্কে বলেনঃ ‘‘তিনি সত্যবাদী, কিন্তু তার স্মরণশক্তি বিকৃত হয়ে যায়।’’ ইতিপূর্বে বলা হয়েছে যে, হাদীসটি তিনি স্মরণশক্তি বিকৃত অবস্থায় বর্ণনা করেছেন। সুতরাং স্পষ্ট যে, হাফিয হাদীসটিকে হাসান বলে হুকুম দেয়ার সময় নাববী (রহঃ) আল-মাজমু’ (২/১৫৯) গ্রন্থে বলেনঃ ‘‘ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলে অন্যান্য মুহাদ্দিসগণের পরিপন্থি কাজ করেছেন। কেননা মুহাক্কিকীন হাফিযগণ হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।’’ অতঃপর তিনি ইমাম শাফিঈ ও ইমাম বায়হাক্বীর উদ্ধৃতি দেন যা মুনযিরী তাদের সূত্রে উল্লেখ করেছেন। অতএব এ সমস্ত মুহাক্কিক ইমামগণ যা বলেছেন সেটাই আমাদের নিকট অগ্রাধিকারযোগ্য। কেননা হাদীসটি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালামাহর একক বর্ণনা, এবং বিশেষ করে তার স্মরণশক্তি বিকৃত অবস্থায় এটি বর্ণিত। [পরের অংশ নোট দ্রষ্টব্য]
। হুযাইফাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তার সাক্ষাত ঘটলে তিনি হুযাইফাহর দিকে (মুসাফাহ করতে) এগিয়ে আসলেন। তখন হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, আমি তো নাপাক অবস্থায় আছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুসলিম (কখনো) অপবিত্র হয় না বা অপবিত্র নয়।[1] সহীহ : মুসলিম।
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن مسعر، عن واصل، عن ابي وايل، عن حذيفة، ان النبي صلى الله عليه وسلم لقيه فاهوى اليه فقال اني جنب . فقال " ان المسلم لا ينجس
। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনার এক রাস্তায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমার সাক্ষাত হয়। আমি তখন নাপাক অবস্থায় ছিলাম। তাই আমি পিছনে হটে গিয়ে গোসল করে আসলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবূ হুরাইরাহ্! তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে? আমি বললাম, আমি নাপাক ছিলাম বিধায় অপবিত্র অবস্থায় আপনার সাথে বসা অপছন্দ করলাম। তিনি বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! মুসলিম (কখনো) অপবিত্র হয় না।[1] সহীহ।
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، وبشر، عن حميد، عن بكر، عن ابي رافع، عن ابي هريرة، قال لقيني رسول الله صلى الله عليه وسلم في طريق من طرق المدينة وانا جنب فاختنست فذهبت فاغتسلت ثم جيت فقال " اين كنت يا ابا هريرة " . قال قلت اني كنت جنبا فكرهت ان اجالسك على غير طهارة . فقال " سبحان الله ان المسلم لا ينجس " . وقال في حديث بشر حدثنا حميد حدثني بكر
। জাসরাহ বিনতু দিজাজাহ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে দেখলেন, সহাবাদের ঘরের দরজা মসজিদের দিকে ফেরানো। (কেননা তারা মসজিদের ভিতর দিয়েই যাতায়াত করতেন)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এসব ঘরের দরজা মাসজিদ হতে অন্যদিকে ফিরিয়ে নাও। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় এসে দেখলেন, লোকেরা কিছুই করেননি, এ প্রত্যাশায় যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ব্যাপারে কোন অনুমতি নাযিল হয় কিনা। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে তাদের আবারো বললেনঃ এসব ঘরের দরজা মাসজিদ হতে অন্যদিকে ফিরিয়ে নাও। কারণ ঋতুবতী মহিলা ও নাপাক ব্যক্তির জন্য মসজিদে যাতায়াত আমি হালাল মনে করি না।[1] দুর্বল : যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর ৬১১৭, ইরওয়া ১৯৩।
حدثنا مسدد، حدثنا عبد الواحد بن زياد، حدثنا الافلت بن خليفة، قال حدثتني جسرة بنت دجاجة، قالت سمعت عايشة، رضى الله عنها تقول جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم ووجوه بيوت اصحابه شارعة في المسجد فقال " وجهوا هذه البيوت عن المسجد " . ثم دخل النبي صلى الله عليه وسلم ولم يصنع القوم شييا رجاء ان تنزل فيهم رخصة فخرج اليهم بعد فقال " وجهوا هذه البيوت عن المسجد فاني لا احل المسجد لحايض ولا جنب " . قال ابو داود وهو فليت العامري
। আবূ বাকরা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত শুরু করে (হঠাৎ তা ছেড়ে দিলেন) আর লোকদেরকে হাতে ইশারা করলেন যে, তোমরা সবাই নিজ নিজ জায়গায় অবস্থান কর। কিছুক্ষণ পর (ফরয গোসল করে) তিনি ফিরে এলেন। তখন তাঁর মাথা থেকে পানি ঝরে পড়ছিল। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করালেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا حماد، عن زياد الاعلم، عن الحسن، عن ابي بكرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل في صلاة الفجر فاوما بيده ان مكانكم ثم جاء وراسه يقطر فصلى بهم
। হাম্মাদ ইবনু সালামাহ হতে উক্ত হাদীস একই সানাদ এবং একই অর্থে বর্ণিত হয়েছে। তবে তার বর্ণিত হাদীসের প্রথমাংশে রয়েছেঃ ‘তিনি তাকবীরে তাহরীমা বললেন।’ আর শেষাংশে রয়েছেঃ ‘তিনি সালাত আদায় শেষে বললেন, ‘আমিও মানুষ এবং আমি অপবিত্র ছিলাম।’ আবূ হুরাইরার বর্ণনায় রয়েছেঃ ‘যখন তিনি সালাতের স্থানে দাঁড়ালেন এবং আমরা তাঁর তাকবীর ধ্বনি শুনার অপেক্ষা করছিলাম, তখন তিনি ওখান থেকে চলে গেলেন এবং যাওয়ার সময় বলে গেলেন, তোমরা নিজ নিজ জায়গায় অবস্থান কর।’ মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে মুরসালভাবে বর্ণনা করেন যে, ‘তিনি তাকবীরে তাহরীমা দিলেন, অতঃপর লোকদেরকে বসার জন্য ইশারা করে চলে গিয়ে গোসল করলেন। এরূপই বর্ণনা করেছেন মালিক, ইসমাঈল ইবনু আবূ হাকীম হতে, তিনি ‘আত্বা ইবনু ইয়াসীর হতে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সালাতের তাকবীর দিলেন। রাবী‘ ইবনু মুহাম্মাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে বর্ণনা করেন, ‘তিনি তাকবীর বললেন।’[1] সহীহ।
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا حماد بن سلمة، باسناده ومعناه قال في اوله فكبر . وقال في اخره فلما قضى الصلاة قال " انما انا بشر واني كنت جنبا " . قال ابو داود رواه الزهري عن ابي سلمة بن عبد الرحمن عن ابي هريرة قال فلما قام في مصلاه وانتظرنا ان يكبر انصرف ثم قال " كما انتم " . قال ابو داود ورواه ايوب وابن عون وهشام عن محمد مرسلا عن النبي صلى الله عليه وسلم قال فكبر ثم اوما بيده الى القوم ان اجلسوا فذهب فاغتسل . وكذلك رواه مالك عن اسماعيل بن ابي حكيم عن عطاء بن يسار ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كبر في صلاة . قال ابو داود وكذلك حدثناه مسلم بن ابراهيم حدثنا ابان عن يحيى عن الربيع بن محمد عن النبي صلى الله عليه وسلم انه كبر
। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সালাতের জন্য ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দেয়া হলে লোকজন কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তাঁর নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়ালেন। এমন সময় তাঁর স্মরণ হলো, তিনি গোসল করেননি। তিনি লোকদের বললেন, ‘তোমরা যথাস্থানে অবস্থান কর’। এই বলে তিনি ঘরে গিয়ে গোসল করে আমাদের নিকট ফিরে আসলেন, তখন তাঁর মাথা থেকে পানি ঝরে পড়ছিল। আমরা তখনও কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এটা ইবনু হারবের বর্ণনা। ‘আইয়াশের বর্ণনায় আছেঃ তিনি গোসল করে আমাদের নিকট ফিরে আসা পর্যন্ত আমরা ঐভাবেই দাঁড়িয়ে থেকে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। [1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।।
حدثنا عمرو بن عثمان، حدثنا محمد بن حرب، حدثنا الزبيدي، ح وحدثنا عياش بن الازرق، اخبرنا ابن وهب، عن يونس، ح وحدثنا مخلد بن خالد، حدثنا ابراهيم بن خالد، - امام مسجد صنعاء - حدثنا رباح، عن معمر، ح وحدثنا مومل بن الفضل، حدثنا الوليد، عن الاوزاعي، كلهم عن الزهري، عن ابي سلمة، عن ابي هريرة، قال اقيمت الصلاة وصف الناس صفوفهم فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اذا قام في مقامه ذكر انه لم يغتسل فقال للناس " مكانكم " . ثم رجع الى بيته فخرج علينا ينطف راسه وقد اغتسل ونحن صفوف . وهذا لفظ ابن حرب وقال عياش في حديثه فلم نزل قياما ننتظره حتى خرج علينا وقد اغتسل
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, যে ঘুম থেকে জেগে (বীর্যপাতে দরুণ কাপড়) ভিজা দেখতে পায় অথচ স্বপ্নদোষের কথা তার স্মরণ হচ্ছে না। তিনি বললেন, তাকে গোসল করতে হবে। এটাও জিজ্ঞাসা করা হল যে, এক ব্যক্তির তার স্বপ্নদোষ হয়েছে বলে মনে পড়ছে, অথচ কাপড়ে কোন ভিজা দেখতে পেল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে গোসল করতে হবে না। উম্মু সুলাইম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! নারীরাও (পুরুষের) অনুরূপ কিছু দেখতে পেলে তাদেরও কি গোসল করতে হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, নারীরা তো পুরুষের মতই।[1] হাসান : তবে উম্মু সুলাইম (রাঃ)-এর এ কথাটি বাদেঃ ‘নারীরাও (পুরুষের) অনুরূপ কিছু দেখতে পেলে...।’
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا حماد بن خالد الخياط، حدثنا عبد الله العمري، عن عبيد الله، عن القاسم، عن عايشة، قالت سيل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الرجل يجد البلل ولا يذكر احتلاما قال " يغتسل " . وعن الرجل يرى انه قد احتلم ولا يجد البلل قال " لا غسل عليه " . فقالت ام سليم المراة ترى ذلك اعليها غسل قال " نعم انما النساء شقايق الرجال
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আনাস ইবনু মালিকের মা উম্মু সুলাইম আল-আনসারিয়্যাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ সত্যের ক্ষেত্রে লজ্জা করেন না! আচ্ছা, পুরুষের ন্যায় নারীরাও যদি ঘুমে ঐরূপ কিছু দেখে, তাহলে তাকে গোসল করতে হবে কিনা? ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, পানি দেখতে পেলে তাকেও গোসল করতে হবে। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি উম্মু সুলাইম (রাঃ)-কে বললাম, তোমার জন্য দুঃখ হচ্ছে! পুরুষের ন্যায় নারীদের আবার স্বপ্নদোষ হয় নাকি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে এসে বললেন, হে ‘আয়িশাহ্! তোমার ডান হাত ধুলিমলিন হোক। যদি এরূপই না হবে, তাহলে সন্তান মায়ের আকৃতির হয় কি করে?[1] সহীহ : মুসলিম।
حدثنا احمد بن صالح، حدثنا عنبسة، حدثنا يونس، عن ابن شهاب، قال قال عروة عن عايشة، ان ام سليم الانصارية، - وهي ام انس بن مالك - قالت يا رسول الله ان الله عز وجل لا يستحيي من الحق ارايت المراة اذا رات في النوم ما يرى الرجل اتغتسل ام لا قالت عايشة فقال النبي صلى الله عليه وسلم " نعم فلتغتسل اذا وجدت الماء " . قالت عايشة فاقبلت عليها فقلت اف لك وهل ترى ذلك المراة فاقبل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " تربت يمينك يا عايشة ومن اين يكون الشبه " . قال ابو داود وكذلك روى عقيل والزبيدي ويونس وابن اخي الزهري عن الزهري وابراهيم بن ابي الوزير عن مالك عن الزهري ووافق الزهري مسافع الحجبي قال عن عروة عن عايشة . واما هشام بن عروة فقال عن عروة عن زينب بنت ابي سلمة عن ام سلمة ان ام سليم جاءت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ফারাক পরিমান পানি সংকুলান হয় এমন একটি পাত্র থেকে পানি নিয়ে জানাবাতের গোসল করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ فِيهِ قَدْرُ الْفَرَقِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى ابْنُ عُيَيْنَةَ نَحْوَ حَدِيثِ مَالِكٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ الْفَرَقُ سِتَّةَ عَشَرَ رِطْلاً . وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ صَاعُ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ خَمْسَةُ أَرْطَالٍ وَثُلُثٌ . قَالَ فَمَنْ قَالَ ثَمَانِيَةُ أَرْطَالٍ قَالَ لَيْسَ ذَلِكَ بِمَحْفُوظٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَسَمِعْتُ أَحْمَدَ يَقُولُ مَنْ أَعْطَى فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ بِرَطْلِنَا هَذَا خَمْسَةَ أَرْطَالٍ وَثُلُثًا فَقَدْ أَوْفَى . قِيلَ الصَّيْحَانِيُّ ثَقِيلٌ قَالَ الصَّيْحَانِيُّ أَطْيَبُ . قَالَ لَا أَدْرِي . - صحيح ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, যুহরী থেকে মা‘মার এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছেঃ ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’জনে একই পাত্র হতে পানি নিয়ে গোসল করতাম। ঐ পাত্রে এক ফারাক পানি ধরত। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘এক ফারাক হলো, ষোল রতল।’ আমি তাকে এটাও বলতে শুনেছি, ‘ইবনু আবূ যি’ব এর মতেঃ এক সা’ হচ্ছে পাঁচ রতল এবং এক রতলের এক তৃতীয়াংশ।’ আর যিনি আট রতল বলেছেন তা সুরক্ষিত (মাহফূয) নয়। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইমাম আহমাদকে আমি বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আমাদের রতলের পাঁচ রতল এবং এক তৃতীয়াংশ দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করল, সে পূর্ণ ফিতরা দিল। লোকজন বলল, সায়হানী (মদীনার এক প্রকার খেজুর) তো (ওজনে) ভারী হয়। তিনি বললেন, সায়হানী কি উৎকৃষ্ট? তিনি বললেন, আমার তা জানা নেই। সহীহ।
حدثنا عبد الله بن مسلمة القعنبي، عن مالك، عن ابن شهاب، عن عروة، عن عايشة، رضى الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يغتسل من اناء - هو الفرق - من الجنابة . قال ابو داود قال معمر عن الزهري في هذا الحديث قالت كنت اغتسل انا ورسول الله صلى الله عليه وسلم من اناء واحد فيه قدر الفرق . قال ابو داود وروى ابن عيينة نحو حديث مالك . قال ابو داود سمعت احمد بن حنبل يقول الفرق ستة عشر رطلا . وسمعته يقول صاع ابن ابي ذيب خمسة ارطال وثلث . قال فمن قال ثمانية ارطال قال ليس ذلك بمحفوظ . قال ابو داود وسمعت احمد يقول من اعطى في صدقة الفطر برطلنا هذا خمسة ارطال وثلثا فقد اوفى . قيل الصيحاني ثقيل قال الصيحاني اطيب . قال لا ادري
। জুবাইর ইবনু মুত্ব‘ইম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জানাবাতের গোসল সম্পর্কে উল্লেখ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি আমার মাথার উপর তিনবার পানি ঢেলে থাকি। এই বলে তিনি তাঁর দু’ হাতের দ্বারা ইশারা করে দেখিয়ে দিলেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
حدثنا عبد الله بن محمد النفيلي، حدثنا زهير، حدثنا ابو اسحاق، اخبرني سليمان بن صرد، عن جبير بن مطعم، انهم ذكروا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم الغسل من الجنابة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اما انا فافيض على راسي ثلاثا " . واشار بيديه كلتيهما
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাবাতের গোসল করার সময় ‘হিলাব’ তথা উটের দুধ দোহনের পাত্রের ন্যায় একটি পাত্র আনাতেন। অতঃপর উভয় হাতে পানি নিয়ে প্রথমে মাথার ডান দিকে ঢালতেন, তারপর বামদিকে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর উভয় হাতে পানি নিয়ে মাথার তালুতে ঢালতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا ابو عاصم، عن حنظلة، عن القاسم، عن عايشة، قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اغتسل من الجنابة دعا بشىء نحو الحلاب فاخذ بكفه فبدا بشق راسه الايمن ثم الايسر ثم اخذ بكفيه فقال بهما على راسه
حدثنا حفص بن عمر، حدثنا شعبة، عن عمرو بن مرة، عن عبد الله بن سلمة، قال دخلت على علي - رضى الله عنه - انا ورجلان رجل منا ورجل من بني اسد - احسب فبعثهما علي - رضى الله عنه - وجها وقال انكما علجان فعالجا عن دينكما . ثم قام فدخل المخرج ثم خرج فدعا بماء فاخذ منه حفنة فتمسح بها ثم جعل يقرا القران فانكروا ذلك فقال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يخرج من الخلاء فيقرينا القران وياكل معنا اللحم ولم يكن يحجبه - او قال يحجزه - عن القران شىء ليس الجنابة