Loading...

Loading...
বইসমূহ
২৭০ হাদিসসমূহ
আবূ তাহির (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ‘মারযুয যাহরান' নামক জায়গায় কাবাস (পিলু ফল) সংগ্রহ করেছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাথেকে শুধু কালোগুলো সংগ্রহ। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা সে সময় বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি সম্ভবত বকরী চরিয়েছেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। সকল নবীই বকরী চরিয়েছেন (বর্ণনাকারী বলেন) কিংবা তিনি শুধু এ ধরনের কোন কথা বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৭৬, ইসলামিক সেন্টার)
حدثني ابو الطاهر، اخبرنا عبد الله بن وهب، عن يونس، عن ابن شهاب، عن ابي سلمة بن عبد الرحمن، عن جابر بن عبد الله، قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم بمر الظهران ونحن نجني الكباث فقال النبي صلى الله عليه وسلم " عليكم بالاسود منه " . قال فقلنا يا رسول الله كانك رعيت الغنم قال " نعم وهل من نبي الا وقد رعاها " . او نحو هذا من القول
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান দারিমী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিরকা তো খুব মজাদার সালুন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৭৭, ইসলামিক সেন্টার)
حدثني عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، اخبرنا يحيى بن حسان، اخبرنا سليمان، بن بلال عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " نعم الادم - او الادام - الخل
মূসা ইবনু কুরায়শ ইবনু নাফি তামীমী (রহঃ) ..... সুলাইমান ইবনু বিলাল (রহঃ) হতে উল্লেখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত রয়েছে। তবে তিনি نِعْمَ الأُدُمُ বলেছেন نِعْمَ الأُدُمُ أَوِ الإِدَامُ বলে শব্দের মাঝে কোন সংশয় প্রকাশ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৭৮, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثناه موسى بن قريش بن نافع التميمي، حدثنا يحيى بن صالح الوحاظي، حدثنا سليمان بن بلال، بهذا الاسناد وقال " نعم الادم " . ولم يشك
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গৃহের লোকদের নিকট সালুন চাইলে তারা বললো, সিরকা ব্যতীত আমাদের নিকট ভিন্ন কিছু নেই। সে সময় তিনি তাই নিয়ে আসতে বললেন এবং খাওয়ার সময় বললেন, সিরকা কত ভাল তরকারি, সিরকা কত চমৎকার তরকারি! (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৭৯, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا يحيى بن يحيى، اخبرنا ابو عوانة، عن ابي بشر، عن ابي سفيان، عن جابر بن عبد الله، ان النبي صلى الله عليه وسلم سال اهله الادم فقالوا ما عندنا الا خل . فدعا به فجعل ياكل به ويقول " نعم الادم الخل نعم الادم الخل
(…) ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম দাওরাকী (রহঃ) ..... নাফি হতে বর্ণিত। তিনি জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে স্বীয় ঘরে গেলেন। (খাদেম) এক খণ্ড রুটি তার সম্মুখে পেশ করলে তিনি বললেনঃ কোন তরকারি কি নেই? তারা বলল, না। তবে অল্প কিছু সিরকা রয়েছে। তিনি বললেন, সিরকা তো ভাল তরকারি। জাবির (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ কথা শুনার পর আমি সিরকা পছন্দ করতে থাকি। তালহাহ্ (রহঃ) বলেন, আমিও জাবির (রাযিঃ) এর কাছে এ কথা শুনার পর হতে সিরকা পছন্দ করতে লাগলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৮০, ইসলামিক সেন্টার)
حدثني يعقوب بن ابراهيم الدورقي، حدثنا اسماعيل، - يعني ابن علية - عن المثنى بن سعيد، حدثني طلحة بن نافع، انه سمع جابر بن عبد الله، يقول اخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم بيدي ذات يوم الى منزله فاخرج اليه فلقا من خبز فقال " ما من ادم " . فقالوا لا الا شىء من خل . قال " فان الخل نعم الادم " . قال جابر فما زلت احب الخل منذ سمعتها من نبي الله صلى الله عليه وسلم . وقال طلحة ما زلت احب الخل منذ سمعتها من جابر
(…) নাসর ইবনু আলী জাহযামী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা) তার হাত ধরে স্বীয় ঘরে গেলেন। অতঃপর রাবী সিরকা কত উত্তম তরকারি- পর্যন্ত ইবনু উলাইয়্যাহ্ (রহঃ) এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এর পরবর্তী অংশ উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৮১, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا نصر بن علي الجهضمي، حدثني ابي، حدثنا المثنى بن سعيد، عن طلحة، بن نافع حدثنا جابر بن عبد الله، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اخذ بيده الى منزله . بمثل حديث ابن علية الى قوله " فنعم الادم الخل " . ولم يذكر ما بعده
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার গৃহে বসা ছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আমাকে ইঙ্গিত করলে আমি তার নিকট উঠে গেলাম। তিনি আমার হাত ধরলেন। অতঃপর আমরা চললাম। পরিশেষে তিনি তার কোন এক সহধর্মিণীর ঘরে এসে ঢুকলেন। অতঃপর তিনি আমাকে প্রবেশাধিকার দিলে আমি পর্দার ভিতরে ঢুকলাম। তিনি বললেনঃ কিছু খাবার আছে কি? তারা বললেন, হ্যাঁ। পরে তিন টুকরো রুটি আনা হলো এবং তা দস্তরখানে রাখা হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি টুকরো নিয়ে তার সম্মুখে রাখলেন। অপর একটি নিয়ে আমার সম্মুখে রাখলেন। অতঃপর তৃতীয় টুকরোটি দুখণ্ড করলেন এবং এটির অর্ধেক তার সামনে অবশিষ্ট অর্ধেক আমার সামনে রাখলেন। এরপর বললেনঃ কোন সালুন আছে কি? তারা বললেনঃ সামান্য পরিমাণ সিরকা আছে। তিনি বললেন, তাই নিয়ে আসো। সেটা তো খুব ভালো তরকারি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৮২, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا يزيد بن هارون، اخبرنا حجاج بن ابي، زينب حدثني ابو سفيان، طلحة بن نافع قال سمعت جابر بن عبد الله، قال كنت جالسا في داري فمر بي رسول الله صلى الله عليه وسلم فاشار الى فقمت اليه فاخذ بيدي فانطلقنا حتى اتى بعض حجر نسايه فدخل ثم اذن لي فدخلت الحجاب عليها فقال " هل من غداء " . فقالوا نعم . فاتي بثلاثة اقرصة فوضعن على نبي فاخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم قرصا فوضعه بين يديه واخذ قرصا اخر فوضعه بين يدى ثم اخذ الثالث فكسره باثنين فجعل نصفه بين يديه ونصفه بين يدى ثم قال " هل من ادم " . قالوا لا . الا شىء من خل . قال " هاتوه فنعم الادم هو
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ আইয়্যুব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কোন খাদ্য নিয়ে আসলে তিনি সামান্য খেতেন আর বাকীটুকু আমার নিকট প্রেরণ করতেন। একদা তিনি এমন কিছু খাবার প্রেরণ করলেন যা হতে তিনি কিছুই আহার করেনি। কেননা তাতে রসুন ছিল। আমি তার কাছে জানতে চাইলাম, এটা কি নিষিদ্ধ? তিনি বললেন, না। তবে গন্ধের কারণে ওটা আমার কাছে অপছন্দনীয়। তিনি বললেন, তাহলে আমিও তা পছন্দ করবো না, যা আপনি পছন্দ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৮৩, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا محمد بن المثنى، وابن، بشار - واللفظ لابن المثنى - قالا حدثنا محمد، بن جعفر حدثنا شعبة، عن سماك بن حرب، عن جابر بن سمرة، عن ابي ايوب الانصاري، قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اتي بطعام اكل منه وبعث بفضله الى وانه بعث الى يوما بفضلة لم ياكل منها لان فيها ثوما فسالته احرام هو قال " لا ولكني اكرهه من اجل ريحه " . قال فاني اكره ما كرهت
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... শুবাহ্ (রহঃ) হতে উল্লেখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেন; (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৮৪, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا محمد بن المثنى، حدثنا يحيى بن سعيد، عن شعبة، في هذا الاسناد
হাজ্জাজ ইবনু শাইর ও আহমাদ ইবনু সাঈদ ইবনু সাখ্র (রহঃ) ..... আবূ আইয়্যুব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, (হিজরাতের সময়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গৃহে মেহমান হলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবস্থান করতেন নীচ তলায় এবং আবূ আইয়্যুব (রাযিঃ) অবস্থান করতেন উপর তলায়। একদা রাত্রে আবূ আইয়্যুব (রাযিঃ) জাগ্রত হয়ে বললেন, আমরা তো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথার উপর চলাফেরা করি। তখন তিনি সে স্থান হতে দূরে গিয়ে এক কোণে রাত্রি যাপন করলেন। অতঃপর (সকালে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তিনি ব্যাপারটি জানালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নীচ তলায়ই অনেক সুবিধা। তখন তিনি বললেন, আপনি নীচে থাকবেন এমন ছাদে আমি উঠবো না। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপর তলায় এবং আবূ আইয়্যুব (রাযিঃ) নীচ তলায় জায়গা পরিবর্তন করলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য খাদ্য প্রস্তুত করতেন যখন (অবশিষ্ট) খাদ্য ফেরত আনা হতো, তখন তিনি জানতে চাইতেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন জায়গায় তার আঙ্গুল স্পর্শ করেছেন। অতঃপর তার আঙ্গুলের স্থান অনুসরণ করে সেখান থেকে খেতেন। একবার তিনি তার জন্য খানা প্রস্তুত করলেন, যার মধ্যে রসুন ছিল। তার নিকট ফেরত নিয়ে আসলে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আঙ্গুল স্পর্শের স্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। তাকে বলা হলো, তিনি এগুলো খাননি। তিনি হতভম্ব হয়ে গেলেন এবং তার কাছে গেলেন। অতঃপর জানতে চাইলেন, ওটা কি নিষিদ্ধ? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না। তবে আমি ওটা পছন্দ করি না। তিনি বললেন, তাহলে আপনি যা পছন্দ করেন না, আমিও তা পছন্দ করি না। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সে সময় ওয়াহী আসত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৮৫, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثني حجاج بن الشاعر، واحمد بن سعيد بن صخر، - واللفظ منهما قريب - قالا حدثنا ابو النعمان، حدثنا ثابت، - في رواية حجاج بن يزيد ابو زيد الاحول - حدثنا عاصم، عن عبد الله بن الحارث، عن افلح، مولى ابي ايوب عن ابي ايوب، ان النبي صلى الله عليه وسلم نزل عليه فنزل النبي صلى الله عليه وسلم في السفل وابو ايوب في العلو - قال - فانتبه ابو ايوب ليلة فقال نمشي فوق راس رسول الله صلى الله عليه وسلم . فتنحوا فباتوا في جانب ثم قال للنبي صلى الله عليه وسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم " السفل ارفق " . فقال لا اعلو سقيفة انت تحتها . فتحول النبي صلى الله عليه وسلم في العلو وابو ايوب في السفل فكان يصنع للنبي صلى الله عليه وسلم طعاما فاذا جيء به اليه سال عن موضع اصابعه فيتتبع موضع اصابعه فصنع له طعاما فيه ثوم فلما رد اليه سال عن موضع اصابع النبي صلى الله عليه وسلم فقيل له لم ياكل . ففزع وصعد اليه فقال احرام هو فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لا ولكني اكرهه " . قال فاني اكره ما تكره او ما كرهت . قال وكان النبي صلى الله عليه وسلم يوتى
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, আমি চরম অনাহারে ভুগছি। তিনি তার কোন এক সহধর্মিণীর নিকট লোক প্রেরণ করলে তিনি বললেন, যে স্রষ্টা আপনাকে সঠিক দীনসহ পাঠিয়েছেন তার কসম! আমার নিকট পানি ব্যতীত আর কিছু নেই। তিনি অপর এক স্ত্রীর নিকট লোক প্রেরণ করলে তিনিও অনুরূপ কথা বললেন। এভাবে তারা সবাই একই কথা বললেন যে, সে সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন, আমার কাছে পানি ব্যতীত আর কিছু নেই। তখন তিনি বললেন, আজ রাত্রে লোকটির কে অতিথিপরায়ণ হবে? আল্লাহ তার উপর দয়া করুন! তখন এক আনুসারী লোক উঠে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি। অতঃপর লোকটিকে নিয়ে আনুসারী নিজ বাড়িতে গেলেন এবং তার সহধর্মিণীকে বললেন, তোমার নিকট কিছু আছে কি? সে বলল, না। তবে সন্তানদের জন্য অল্প কিছু খাবার আছে। তিনি বললেন, তুমি তাদের কিছু একটা দিয়ে ব্যস্ত রাখো। আর যখন অতিথি ঘরে ঢুকবে, তখন তুমি আলোটা নিভিয়ে দেবে। আর তাকে বুঝাবো যে, আমরাও খাবার খাচ্ছি। সে (মেহমান) যখন খাওয়া আরম্ভ করবে তখন তুমি আলোর পাশে যেয়ে সেটা নিভিয়ে দেবে। রাবী বলেন, অতঃপর তারা বসে থাকলেন এবং অতিথি খেতে শুরু করলো। সকালে তিনি (আনসারী) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলে, তিনি বললেনঃ আজ রাত্রে অতিথির সঙ্গে তোমাদের উভয়ের ব্যবহারে আল্লাহ খুশী হয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৮৬, ইসলামিক সেন্টার)
حدثني زهير بن حرب، حدثنا جرير بن عبد الحميد، عن فضيل بن غزوان، عن ابي حازم الاشجعي، عن ابي هريرة، قال جاء رجل الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال اني مجهود . فارسل الى بعض نسايه فقالت والذي بعثك بالحق ما عندي الا ماء . ثم ارسل الى اخرى فقالت مثل ذلك حتى قلن كلهن مثل ذلك لا والذي بعثك بالحق ما عندي الا ماء . فقال " من يضيف هذا الليلة رحمه الله " . فقام رجل من الانصار فقال انا يا رسول الله . فانطلق به الى رحله فقال لامراته هل عندك شىء . قالت لا الا قوت صبياني . قال فعلليهم بشىء فاذا دخل ضيفنا فاطفيي السراج واريه انا ناكل فاذا اهوى لياكل فقومي الى السراج حتى تطفييه . قال فقعدوا واكل الضيف . فلما اصبح غدا على النبي صلى الله عليه وسلم فقال " قد عجب الله من صنيعكما بضيفكما الليلة
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, এক আনসারী লোকের বাড়িতে এক অতিথি রাত কাটালেন। তার কাছে তার ও সন্তানদের জন্য অল্প কিছু খাদ্য ব্যতীত আর কিছু ছিল না। তিনি তার স্ত্রীকে বললেন, বাচ্চাদের ঘুমিয়ে দাও, আলোটা বন্ধ করে দাও এবং তোমার নিকট যা কিছু আছে তাই অতিথির জন্য পেশ করো। রাবী বলেন, এরপর এ আয়াতটি নাযিল হয়ঃ "তারা তাদের উপর অপরকে প্রাধান্য দেয়, যদিও তারা অনাহারে থাকে”— (সূরা আল হাশর ৫৯ঃ ৯)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৮৭, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا ابو كريب، محمد بن العلاء حدثنا وكيع، عن فضيل بن غزوان، عن ابي، حازم عن ابي هريرة، . ان رجلا، من الانصار بات به ضيف فلم يكن عنده الا قوته وقوت صبيانه فقال لامراته نومي الصبية واطفيي السراج وقربي للضيف ما عندك - قال - فنزلت هذه الاية { ويوثرون على انفسهم ولو كان بهم خصاصة}
(…/...) আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মেহমান হয়ে এক লোক তার নিকট এলেন। কিন্তু তার কাছে এমন কিছু ছিল না যা দিয়ে তিনি সে ব্যক্তির আপ্যায়ন করবেন। তখন তিনি বললেন, এর মেহমানদারী করার মতো কেউ কি আছে? আল্লাহ তার উপর দয়া করুক। এ সময় আবূ তালহাহ নামক এক আনসারী লোক দাঁড়ালেন এবং লোকটিকে আপন গৃহে নিয়ে গেলেন। অতঃপর রাবী শেষ পর্যন্ত হাদীসটি জারীর (রহঃ) এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। আর তিনি ওয়াকী' (রহঃ) এর মতো আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কথাও বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৮৮, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثناه ابو كريب، حدثنا ابن فضيل، عن ابيه، عن ابي حازم، عن ابي هريرة، قال جاء رجل الى رسول الله صلى الله عليه وسلم ليضيفه فلم يكن عنده ما يضيفه فقال " الا رجل يضيف هذا رحمه الله " . فقام رجل من الانصار يقال له ابو طلحة فانطلق به الى رحله . وساق الحديث بنحو حديث جرير وذكر فيه نزول الاية كما ذكره وكيع
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... মিকদাদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রচুর খাদ্য সংকটে আমার ও আমার দু'সাথীর দৃষ্টিশক্তি ও শ্রুতিশক্তি কমে যায়। অতঃপর আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের নিকটে নিজেদের উত্থাপন করতে লাগলাম। কিন্তু তাদের কেউ আমাদের কথা শুনলেন না। সবশেষে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগমন করলে তিনি আমাদের সাথে নিয়ে তার পরিবারের নিকটে গেলেন। সেখানে তিনটি বকরী ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা দুধ দোহন করবে। এ দুধ আমরা বণ্টন করে পান করবো। তিনি বলেন, এরপর থেকে আমরা দুধ দোহন করতাম। আমাদের সবাই যার যার অংশ পান করতো। আর আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য তার অংশ উঠিয়ে রাখতাম। মিকদাদ (রাযিঃ) বলেন, তিনি রাত্রে এসে এমনভাবে সালাম দিতেন যাতে নিদ্রারত লোক উঠে না যায় এবং জাগ্রত লোক শুনতে পায়। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি মসজিদে এসে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতেন। প্রত্যাবর্তন করে দুধ পান করতেন। একদা রাতে আমার নিকটে শাইতান আগমন করলো। আমি তো আমার অংশ পান করে ফেলেছিলাম। সে বলল, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারীদের নিকটে গেলে তারা তাকে উপঢৌকন দিবে এবং তাদের নিকটে তার এ অল্প দুধের প্রয়োজনীয়তাও ফুরিয়ে যাবে। অতঃপর আমি এসে সেটুকুও পান করে ফেললাম। দুধ যখন উত্তমভাবে আমার পেটে ঢুকে গেলে আমি বুঝলাম, এ দুধ বের করার আর কোন উপায় নেই তখন শইতান আমার থেকে দূরে সরে গিয়ে বলল, তোমার ধ্বংস হোক, তুমি একি করলে তুমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুধ পান করে ফেলেছ? তিনি জাগ্রত হয়ে যখন তা পাবেন না, তখন তোমার উপর বদ-দু'আ করবেন এতে তুমি সর্বনাশ হয়ে যাবে এবং তোমার ইহকাল ও পরকাল নিঃশেষ হয়ে যাবে। আমার শরীরে একটা চাদর ছিল। আমি যদি তা আমার পাদ্বয়ের উপর রাখি তাহলে আমার মাথা বের হয়ে পড়ে, আর যদি আমি তা আমার মাথার উপর রাখি তাহলে আমার পদদ্বয় বেরিয়ে পড়ে। কিছুতেই আমার ঘুম আসছিল না। আমার সাথীদ্বয় তো নিদ্রাচ্ছন্ন ছিল। তারা তো আমার মতো কাজ করেনি। তিনি বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করে যেভাবে সালাম করতেন সেভাবেই সালাম করলেন। অতঃপর তিনি মসজিদে এসে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। অতঃপর দুধের নিকটে এসে ঢাকনা খুলে সেখানে কিছুই পেলেন না। এরপর তিনি নিজ মাথা আকাশের দিকে তুললেন। আমি তখন (মনে মনে) বললাম, এখনই হয়তো আমার উপর তিনি বদদুআ করবেন, আর আমি নিঃশেষ হয়ে যাবো। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! যে লোক আমার খাবারের ব্যবস্থা করে তুমি তার খাদ্যের ব্যবস্থা কর। আর যে আমাকে পান করায় তাকে তুমি পান করাও। মিকদাদ (রাযিঃ) বলেন, তখন আমি চাদরটি নিয়ে গায়ে বাঁধলাম এবং একটি ছুরি নিলাম, অতঃপর (এ ভেবে) বকরীগুলোর কাছে গেলাম যে, এদের মধ্যে যেটি সবচেয়ে বেশি মোটাতাজা আমি সেটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য যাবাহ করবো। সেখানে গিয়ে দেখলাম, সেটি দুধে পরিপূর্ণ এবং অন্যান্য সব বকরীও দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অতঃপর আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারের একটি বাসন নিয়ে এলাম যার মধ্যে তারা দুধ দোহাতেন না। তিনি [মিকদাদ (রাযিঃ)] বলেন, আমি তার মধ্যেই দুধ দোহন করলাম, এমনকি বাসনের উপরের অংশ ফেনা ভেসে উঠলো। অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগমন করলাম। তিনি বললেন, তোমরা কি রাত্রের দুধ পান করেছো? তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি পান করুন। তিনি পান করে আমাকে দিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি পান করুন। তিনি পান করে আমাকে দিলেন। আমি যখন বুঝতে পারলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিতৃপ্ত হয়ে গেছেন এবং আমি তার নেক দু’আ পেয়ে গেছি, তখন আমি খুশীতে হাসতে হাসতে মাটিতে নুয়ে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে মিকদাদ এটা তোমার এক মন্দকাজ? তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার এ ঘটনা ঘটে গেছে। কিংবা তিনি বলেছেন, আমার দ্বারা এরূপ কাজ হয়ে গেছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা একমাত্র আল্লাহর মেহেরবানী! তুমি কেন আমাকে জানালে না? আমরা আমাদের সঙ্গীদ্বয়কে জাগাতাম, তাহলে তারাও এর অংশ পেত। তিনি বলেন, আমি তখন বললাম, যে মহান স্রষ্টা আপনাকে সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন তার কসম! আপনি যখন পেয়েছেন এবং আমি যখন আপনার সঙ্গে ভাগ পেয়েছি, তখন ভিন্ন কোন ব্যক্তি পাওয়া না পাওয়ার আমি তোয়াক্কা করি না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৮৯, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ..... সুলাইমান ইবনু মুগীরাহ (রহঃ) হতে উল্লেখিত সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৯০, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا اسحاق بن ابراهيم، اخبرنا النضر بن شميل، حدثنا سليمان بن المغيرة، بهذا الاسناد
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয আম্বারী, হামিদ ইবনু উমার বাকরাবী ও মুহাম্মাদ ইবনু 'আবদুল আ'লা (রহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একশ' তিরিশ জন ব্যক্তি (এক সফরে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মাঝে কারো নিকট খাবার আছে কি? দেখা গেল, এক লোকের নিকটে এক সা’ বা সমপরিমাণ খাদ্য রয়েছে। তা (মিশিয়ে) খামীর করা হলো। অতঃপর এলোমেলো চুলে দীর্ঘাঙ্গ এক মুশরিক লোক কিছু ছাগল হাকিয়ে নিয়ে আসলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এগুলো বিক্রি করে দিবে না উপটৌকন হিসেবে দিবে? কিংবা উপঢৌকন শব্দের স্থলে তিনি দান করবে বলেছিলেন। লোকটি স্বলল, না; আমি বরং বিক্রি করবো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট থেকে একটি বকরী ক্রয় করলেন। বকরীটা যাবাহ করা হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কলিজা ভূনা করতে নির্দেশ দিলেন। বর্ণনাকারী আব্দুর রহমান (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! একশ' ত্রিশজনের মাঝে একজনও এমন ছিল না যাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক টুকরা কলিজা দেননি। যারা সমবেত ছিল তাদেরকে তো তখনই দিয়েছেন। আর যারা উপস্থিত ছিল না তাদের জন্য পৃথকভাবে তুলে রেখেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, গোশত দুটি বাসনে বন্টন করে রাখলেন। আমরা সবাই তৃপ্তি সহকারে খেলাম। তারপরও বাসন দুটিতে গোশত অতিরিক্ত থাকলো। আমি তা উটের উপর বহন করে নিয়ে গেলাম। কিংবা তিনি (রাবী) যেভাবে রিওয়ায়াত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৯১, ইসলামিক সেন্টার)
وحدثنا عبيد الله بن معاذ العنبري، وحامد بن عمر البكراوي، ومحمد بن عبد، الاعلى جميعا عن المعتمر بن سليمان، - واللفظ لابن معاذ - حدثنا المعتمر، حدثنا ابي، عن ابي عثمان، - وحدث ايضا، - عن عبد الرحمن بن ابي بكر، قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم ثلاثين وماية فقال النبي صلى الله عليه وسلم " هل مع احد منكم طعام " . فاذا مع رجل صاع من طعام او نحوه فعجن ثم جاء رجل مشرك مشعان طويل بغنم يسوقها فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ابيع ام عطية - او قال - ام هبة " . فقال لا بل بيع . فاشترى منه شاة فصنعت وامر رسول الله صلى الله عليه وسلم بسواد البطن ان يشوى . قال وايم الله ما من الثلاثين وماية الا حز له رسول الله صلى الله عليه وسلم حزة حزة من سواد بطنها ان كان شاهدا اعطاه وان كان غايبا خبا له - قال - وجعل قصعتين فاكلنا منهما اجمعون وشبعنا وفضل في القصعتين فحملته على البعير . او كما قال
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয আম্বারী, হামিদ ইবনু উমার বাকরাবী ও মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল আ'লা কাইসী (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, আসহাবে সুফফার মানুষজন দরিদ্র ছিলেন। তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বললেনঃ যার কাছে দু'জনের খাদ্য আছে সে যেন তৃতীয় এক জনকে নিয়ে যায়। আর যার নিকটে চার জনের খাদ্য রয়েছে, সে যেন পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ ব্যক্তিকে নিয়ে যায়। কিংবা রাবী যেভাবে বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, আবূ বাকর (রাযিঃ) তিনজনকে সাথে নিয়ে আগমন করলেন। আর আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশজনকে নিয়ে রওনা হলেন। আমার পরিবারে আমরা ছিলাম তিনজন আমি, আমার আব্বা ও আমার আম্মা। রাবী বলেন, আমি জানি না, তিনি বলেছেন কি-না যে, আমার সহধর্মিণী আমাদের ও আবূ বাকরের গৃহে শারীক খাদিম। বর্ণনাকারী বলেন, আবূ বকর (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাড়িতে রাতের খাবার খেলেন। অতঃপর তিনি প্রতীক্ষা করলেন। পরিশেষে ইশার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করা হলো। সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) শেষে ফিরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিদ্রাচ্ছন্ন হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রতীক্ষা করলেন। অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছায় রাত্রির কিছু অংশ পার হলে তিনি (বাড়িতে) প্রত্যাবর্তন করলেন। তার স্ত্রী তাকে বললেন, অতিথি রেখে দেরী করলেন কেন? তিনি বললেন, কেন? তুমি কি তাদের রাত্রের খাবার খাওয়াওনি? তার সহধর্মিণী বললেন, আপনি না ফেরা পর্যন্ত তারা খাবার খেতে নারাজ। কয়েক বারই খাবার দেয়া হয়েছে কিন্তু মেহমানরা তাদের কথা হতে ফিরে আসেনি। 'আবদুর রহমান (রাযিঃ) বলেন, আমি যেয়ে পালিয়ে রইলাম। তিনি বললেন, হে নির্বোধ! অতঃপর তিনি আমাকে বকাঝকা করলেন। আর (মেহমানদের) বললেন, ভাল হলো না। আপনারা খাবার গ্রহণ করুন। তিনি আরও বললেন, আল্লাহর শপথ আমি এ খাবার গ্রহণ করবো না। আবদুর রহমান (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা যে লোকমাই মুখে দিচ্ছিলাম তার নীচে এর থেকে বহু পরিমাণে বৃদ্ধি পেত। এমনকি আমরা পেটপুরে খেয়েও আমাদের খাওয়ার আগে যা ছিল তার তুলনায় প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পেলে আবূ বাকর (রাযিঃ) খাবারের প্রতি খেয়াল করে দেখলেন, তা যেমন ছিল তেমনি আছে বা তার চেয়েও বেশী হয়েছে। তিনি তার স্ত্রীকে বললেন, হে উখত (বোন) বানী ফিরাস! একি অবস্থা, তিনি বললেন, কিছু না। আমার চোখের প্রশান্তি এগুলো যা আগে ছিল তার থেকে তিন গুণ বর্ধিত হয়েছে। আবদুর রহমান বলেন, অতঃপর আবূ বাকর (রাযিঃ) কিছু খেয়ে বললেন, ওটা অর্থাৎ- শপথটা ছিল শাইতানের নিকট থেকে, তারপর আরও এক লোকমা খেলেন। অতঃপর সেগুলো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে নিয়ে চললেন। আমিও তার নিকটে সকাল পর্যন্ত ছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের এবং কোন এক গোত্রের মধ্যে একটি অঙ্গীকারনামা ছিল। যার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আমরা (বারটি দল করে) বার জন ব্যক্তি নিযুক্ত করলাম। প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গে অনেক ব্যক্তি ছিল। আল্লাহই ভাল জানেন, প্রত্যেক লোকের সাথে কতজন ব্যক্তি ছিল। তাদের প্রত্যেকের কাছে এ খাদ্য প্রেরণ করা হলো এবং তারা সকলেই সে খাবার খেলেন। কিংবা রাবী যেভাবে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৯২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার কিছু অতিথি আমাদের গৃহে আসলেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার আব্বা রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কথোপকথন করতেন। তাই তিনি যাওয়ার সময় বললেন, হে আবদুর রহমান! মেহমানদারীর সব কাজ সুন্দরভাবে শেষ করবে। আবদুর রহমান বলেন, রাত হলে আমি অতিথিদের আহার নিয়ে আসলাম। কিন্তু তারা খেতে সম্মত হলেন না। তারা বললেন, যতক্ষণ গৃহের মালিক এসে আমাদের সঙ্গে না খাবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা খাবো না। আমি তাদের বললাম, তিনি অত্যন্ত ক্ষিপ্ত লোক। আপনারা যদি খাওয়া দাওয়া না করেন তাহলে আমার শঙ্কা হচ্ছে তার পক্ষ হতে আমাকে হয়তো বকাঝকা শুনতে হবে। তিনি বলেন, তারা কেউ সম্মত হলোই না। আমার আব্বা এসে শুরুতেই তাদের সংবাদ নিলেন। তিনি বললেন, তোমরা কি অতিথিপরায়ণের কাজ শেষ করেছো? তারা বললো, না। আল্লাহর শপথ আমরা সমাপ্ত করিনি। তিনি বললেন, আমি কি আবদুর রহমানকে আদেশ দিয়ে যাইনি? আবদুর রহমান বলেন, আমি তার চোখের পলক হতে আড়ালে গিয়েছিলাম। তিনি বললেন, হে আব্দুর রহমান! আমি আরও সরে গেলাম। তিনি আবার বললেন, ওরে নির্বোধ! আমি শপথ করে তোমাকে বলছি যদি তুমি আমার শব্দ শুনে থাকো তাহলে উপস্থিত হও। তিনি বলেন, তখন আমি উপস্থিত হয়ে বললাম, আল্লাহর শপথ আমার কোন দোষ নেই। আপনার অতিথিদের প্রশ্ন করে দেখুন। আমি তাদের আহার নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু আপনি না ফেরা পর্যন্ত তারা খেতে রাযী হলেন না। তখন তিনি (অতিথিদের) বললেন, আপনাদের কি হয়েছে? আপনারা কেন আমাদের পরিবেশন কবুল করেননি। 'আবদুর রহমান বলেন, তখন আবূ বাকর (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ আজ রাতে খাবো না। অতিথিরাও শপথ করে বলল, যতক্ষণ আপনি না খাবেন ততক্ষণ আমরাও খাব না। তখন আবূ বকর (রাযিঃ) বললেন, আজকের রাত্রের মতো এতো মন্দ রাত আমি আর দেখিনি। আফসোস, তোমরা কেন আমাদের আপ্যায়ন কবুল করবে না? তিনি বললেন, প্রথমে যা হয়েছে তা শাইতানের তরফ হতে হয়েছে। তোমরা খাবার নিয়ে আসো। রাবী বলেন, অতঃপর খাবার নিয়ে আসলে তিনি বিসমিল্লাহ্ পড়ে খাওয়া শুরু করলেন। তারাও খাওয়া শুরু করলো। 'আব্দুর রহমান (রাযিঃ) বলেন, পরদিন সকালে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যেয়ে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! তারা তো শপথ পূর্ণ করেছে। কিন্তু আমি শপথ ভেঙ্গে ফেলেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বরং তুমি সবচেয়ে বেশী সৎকর্মশীল এবং উত্তম ব্যক্তি। ‘আব্দুর রহমান বলেন, কাফফারার কথা আমার নিকটে পৌঁছেনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৯৩, ইসলামিক সেন্টার)
حدثني محمد بن المثنى، حدثنا سالم بن نوح العطار، عن الجريري، عن ابي عثمان، عن عبد الرحمن بن ابي بكر، قال نزل علينا اضياف لنا - قال - وكان ابي يتحدث الى رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل - قال - فانطلق وقال يا عبد الرحمن افرغ من اضيافك . قال فلما امسيت جينا بقراهم - قال - فابوا فقالوا حتى يجيء ابو منزلنا فيطعم معنا - قال - فقلت لهم انه رجل حديد وانكم ان لم تفعلوا خفت ان يصيبني منه اذى - قال - فابوا فلما جاء لم يبدا بشىء اول منهم فقال افرغتم من اضيافكم قال قالوا لا والله ما فرغنا . قال الم امر عبد الرحمن قال وتنحيت عنه فقال يا عبد الرحمن . قال فتنحيت - قال - فقال يا غنثر اقسمت عليك ان كنت تسمع صوتي الا جيت - قال - فجيت فقلت والله ما لي ذنب هولاء اضيافك فسلهم قد اتيتهم بقراهم فابوا ان يطعموا حتى تجيء - قال - فقال ما لكم الا تقبلوا عنا قراكم - قال - فقال ابو بكر فوالله لا اطعمه الليلة - قال - فقالوا فوالله لا نطعمه حتى تطعمه . قال فما رايت كالشر كالليلة قط ويلكم ما لكم ان لا تقبلوا عنا قراكم قال ثم قال اما الاولى فمن الشيطان هلموا قراكم - قال - فجيء بالطعام فسمى فاكل واكلوا - قال - فلما اصبح غدا على النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله بروا وحنثت - قال - فاخبره فقال " بل انت ابرهم واخيرهم " . قال ولم تبلغني كفارة
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু'জনের খাদ্য তিনজনের জন্য এবং তিনজনের খাদ্য চারজনের জন্য যথেষ্ট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৯৪, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا يحيى بن يحيى، قال قرات على مالك عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة، انه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " طعام الاثنين كافي الثلاثة وطعام الثلاثة كافي الاربعة
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, একজনের খাদ্য দু'জনের জন্য পর্যাপ্ত এবং দু'জনের খাদ্য চারজনের জন্য যথেষ্ট, এমনিভাবে চারজনের খাবার আটজনের জন্য যথেষ্ট। ইসহাক (রহঃ) এর বর্ণনায় রয়েছে, "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনি “আমি শুনেছি” কথাটি বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫১৯৫, ইসলামিক সেন্টার)
حدثنا اسحاق بن ابراهيم، اخبرنا روح بن عبادة، ح وحدثني يحيى بن حبيب، حدثنا روح، حدثنا ابن جريج، اخبرني ابو الزبير، انه سمع جابر بن عبد الله، يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " طعام الواحد يكفي الاثنين وطعام الاثنين يكفي الاربعة وطعام الاربعة يكفي الثمانية " . وفي رواية اسحاق قال رسول الله صلى الله عليه وسلم . لم يذكر سمعت
حدثنا ابو بكر بن ابي شيبة، حدثنا شبابة بن سوار، حدثنا سليمان بن المغيرة، عن ثابت، عن عبد الرحمن بن ابي ليلى، عن المقداد، قال اقبلت انا وصاحبان، لي وقد ذهبت اسماعنا وابصارنا من الجهد فجعلنا نعرض انفسنا على اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فليس احد منهم يقبلنا فاتينا النبي صلى الله عليه وسلم فانطلق بنا الى اهله فاذا ثلاثة اعنز فقال النبي صلى الله عليه وسلم " احتلبوا هذا اللبن بيننا " . قال فكنا نحتلب فيشرب كل انسان منا نصيبه ونرفع للنبي صلى الله عليه وسلم نصيبه - قال - فيجيء من الليل فيسلم تسليما لا يوقظ نايما ويسمع اليقظان - قال - ثم ياتي المسجد فيصلي ثم ياتي شرابه فيشرب فاتاني الشيطان ذات ليلة وقد شربت نصيبي فقال محمد ياتي الانصار فيتحفونه ويصيب عندهم ما به حاجة الى هذه الجرعة فاتيتها فشربتها فلما ان وغلت في بطني وعلمت انه ليس اليها سبيل - قال - ندمني الشيطان فقال ويحك ما صنعت اشربت شراب محمد فيجيء فلا يجده فيدعو عليك فتهلك فتذهب دنياك واخرتك . وعلى شملة اذا وضعتها على قدمى خرج راسي واذا وضعتها على راسي خرج قدماى وجعل لا يجييني النوم واما صاحباى فناما ولم يصنعا ما صنعت - قال - فجاء النبي صلى الله عليه وسلم فسلم كما كان يسلم ثم اتى المسجد فصلى ثم اتى شرابه فكشف عنه فلم يجد فيه شييا فرفع راسه الى السماء فقلت الان يدعو على فاهلك . فقال " اللهم اطعم من اطعمني واسق من اسقاني " . قال فعمدت الى الشملة فشددتها على واخذت الشفرة فانطلقت الى الاعنز ايها اسمن فاذبحها لرسول الله صلى الله عليه وسلم فاذا هي حافلة واذا هن حفل كلهن فعمدت الى اناء لال محمد صلى الله عليه وسلم ما كانوا يطمعون ان يحتلبوا فيه - قال - فحلبت فيه حتى علته رغوة فجيت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " اشربتم شرابكم الليلة " . قال قلت يا رسول الله اشرب . فشرب ثم ناولني فقلت يا رسول الله اشرب . فشرب ثم ناولني فلما عرفت ان النبي صلى الله عليه وسلم قد روي واصبت دعوته ضحكت حتى القيت الى الارض - قال - فقال النبي صلى الله عليه وسلم " احدى سواتك يا مقداد " . فقلت يا رسول الله كان من امري كذا وكذا وفعلت كذا . فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ما هذه الا رحمة من الله افلا كنت اذنتني فنوقظ صاحبينا فيصيبان منها " . قال فقلت والذي بعثك بالحق ما ابالي اذا اصبتها واصبتها معك من اصابها من الناس
حدثنا عبيد الله بن معاذ العنبري، وحامد بن عمر البكراوي، ومحمد بن عبد الاعلى، القيسي كلهم عن المعتمر، - واللفظ لابن معاذ - حدثنا المعتمر بن سليمان، قال قال ابي حدثنا ابو عثمان، انه حدثه عبد الرحمن بن ابي بكر، ان اصحاب الصفة، كانوا ناسا فقراء وان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال مرة " من كان عنده طعام اثنين فليذهب بثلاثة ومن كان عنده طعام اربعة فليذهب بخامس بسادس " . او كما قال . وان ابا بكر جاء بثلاثة وانطلق نبي الله صلى الله عليه وسلم بعشرة وابو بكر بثلاثة - قال - فهو وانا وابي وامي - ولا ادري هل قال وامراتي وخادم بين بيتنا وبيت ابي بكر - قال وان ابا بكر تعشى عند النبي صلى الله عليه وسلم . ثم لبث حتى صليت العشاء ثم رجع فلبث حتى نعس رسول الله صلى الله عليه وسلم فجاء بعد ما مضى من الليل ما شاء الله قالت له امراته ما حبسك عن اضيافك - او قالت - ضيفك قال اوما عشيتهم قالت ابوا حتى تجيء قد عرضوا عليهم فغلبوهم - قال - فذهبت انا فاختبات وقال يا غنثر . فجدع وسب وقال كلوا لا هنييا . وقال والله لا اطعمه ابدا - قال - فايم الله ما كنا ناخذ من لقمة الا ربا من اسفلها اكثر منها - قال - حتى شبعنا وصارت اكثر مما كانت قبل ذلك فنظر اليها ابو بكر فاذا هي كما هي او اكثر . قال لامراته يا اخت بني فراس ما هذا قالت لا وقرة عيني لهي الان اكثر منها قبل ذلك بثلاث مرار - قال - فاكل منها ابو بكر وقال انما كان ذلك من الشيطان - يعني يمينه - ثم اكل منها لقمة ثم حملها الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاصبحت عنده - قال - وكان بيننا وبين قوم عقد فمضى الاجل فعرفنا اثنا عشر رجلا مع كل رجل منهم اناس الله اعلم كم مع كل رجل الا انه بعث معهم فاكلوا منها اجمعون . او كما قال