Loading...

Loading...
বইসমূহ
৮৯ হাদিসসমূহ
‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, মারওয়ান ইবনু হাকাম ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হাওয়াযেনের বন্দীদেরকে মুক্ত করার ব্যাপারে মুসলিমরা যখন এসে সর্বসম্মতভাবে অনুমতি দিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে অনুমতি দিয়েছ, আর কে দাওনি, তা আমি বুঝতে পারিনি। কাজেই তোমরা ফিরে যাও, তোমাদের প্রতিনিধিরা তোমাদের মতামত জেনে আমার নিকট আসবে। লোকেরা ফিরে গেল এবং তাদের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে এ সম্পর্কে আলোচনা করল। পরে তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে সংবাদ দিল যে, লোকেরা সন্তোষ সহকারে অনুমতি দিয়েছে।[1] [২৩০৭, ২৩০৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا اسماعيل بن ابي اويس، حدثني اسماعيل بن ابراهيم، عن عمه، موسى بن عقبة قال ابن شهاب حدثني عروة بن الزبير، ان مروان بن الحكم، والمسور بن مخرمة، اخبراه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال حين اذن لهم المسلمون في عتق سبى هوازن " اني لا ادري من اذن منكم ممن لم ياذن، فارجعوا حتى يرفع الينا عرفاوكم امركم ". فرجع الناس فكلمهم عرفاوهم، فرجعوا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبروه ان الناس قد طيبوا واذنوا
মুহাম্মাদ ইবনু যায়দ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার তার পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কয়েকজন লোক ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে বলল, আমরা আমাদের শাসকের কাছে গিয়ে তার এমন কথা বলি, তার নিকট থেকে বাইরে আসার পর সে কথার উল্টো বলি। তিনি বললেন, আমরা এটাকেই নিফাক বলে গণ্য করতাম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا عاصم بن محمد بن زيد بن عبد الله بن عمر، عن ابيه، قال اناس لابن عمر انا ندخل على سلطاننا فنقول لهم خلاف ما نتكلم اذا خرجنا من عندهم قال كنا نعدها نفاقا
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন- দু'মুখো লোকেরা সবচেয়ে খারাপ যারা এদের কাছে এক চেহারা নিয়ে আসে আবার ওদের কাছে আর এক চেহারা নিয়ে আসে। [৩৪৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن يزيد بن ابي حبيب، عن عراك، عن ابي هريرة، انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " ان شر الناس ذو الوجهين، الذي ياتي هولاء بوجه وهولاء بوجه
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, হিন্দা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) বড় কৃপণ লোক। কাজেই তার সম্পদ থেকে কিছু নিতে আমি বাধ্য হয়ে পড়ি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার ও সন্তানের জন্য যতটা প্রয়োজন ন্যায়সঙ্গতভাবে ততটা নিতে পার। [২২১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا محمد بن كثير، اخبرنا سفيان، عن هشام، عن ابيه، عن عايشة رضى الله عنها ان هند، قالت للنبي صلى الله عليه وسلم ان ابا سفيان رجل شحيح، فاحتاج ان اخذ من ماله. قال " خذي ما يكفيك وولدك بالمعروف
যাইনাব বিন্ত আবূ সালামাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, একবার তিনি তাঁর কক্ষের দরজায় ঝগড়া বিবাদের শব্দ শুনতে পেলেন। এরপর তিনি তাদের কাছে এসে বললেন, আমি তো একজন মানুষ। আমার নিকট বাদী-বিবাদীরা আসে। হয়ত তোমাদের মাঝে কেউ অন্যের তুলনায় কথায় পটু। আমি মনে করি যে সে সত্যবাদী। ফলে আমি তার পক্ষে ফায়সালা করি। কিন্তু আমি যদি কোন মুসলিমের হক অন্য কারো জন্য ফায়সালা করি, তাহলে সেটা এক খন্ড আগুন ব্যতীত আর কিছু নয়। কাজেই সে চাইলে তা গ্রহণ করুক অথবা তা ত্যাগ করুক। [২৪৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله، حدثنا ابراهيم بن سعد، عن صالح، عن ابن شهاب، قال اخبرني عروة بن الزبير، ان زينب ابنة ابي سلمة، اخبرته ان ام سلمة زوج النبي صلى الله عليه وسلم اخبرتها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه سمع خصومة بباب حجرته فخرج اليهم فقال " انما انا بشر، وانه ياتيني الخصم، فلعل بعضكم ان يكون ابلغ من بعض، فاحسب انه صادق فاقضي له بذلك، فمن قضيت له بحق مسلم، فانما هي قطعة من النار، فلياخذها او ليتركها
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উতবাহ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস তাঁর ভাই সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস-কে ওসিয়ত করেন যে, যাম্আ-এর বাঁদীর গর্ভজাত সন্তানটি আমরের ঔরস থেকে জন্মেছে। কাজেই তাকে তুমি তোমার হেফাজতে নিয়ে এসো। মক্কা বিজয়ের বছর সা‘দ (রাঃ) তাকে ধরলেন এবং বললেন, আমার ভাই এ ছেলের সম্পর্কে আমাকে ওসিয়ত করেছিলেন। তখন আবদ ইবনু যাম‘আহ দাঁড়াল এবং বলল, এ আমার ভাই, আমার পিতার বাঁদীর পেটের সন্তান। আমার পিতার ঔরসে তার জন্ম। তারপর তারা দু’জনেই বিষয়টি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বিচার প্রার্থী হলেন। সা‘দ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ আমার ভাইয়ের ছেলে। আমার ভাই এর ব্যাপারে আমাকে ওসিয়ত করে গেছেন। আবদ ইবনু যাম‘আহ বলল, এ হচ্ছে আমার ভাই, আমার পিতার বাঁদীর পেটের সন্তান। আমার পিতার ঔরসেই তার জন্ম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আব্দ ইবনু যাম‘আহ! সে তোমারই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সন্তান হল বিছানার মালিকেরই আর ব্যভিচারীর জন্য পাথর। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্বাহর সঙ্গে এ ছেলেটির চেহারার মিল দেখে, সাওদা বিনত যাম‘আহ (রাঃ)-কে বললেনঃ এর থেকে পর্দা কর। সে জন্য মুত্যুর আগে পর্যন্ত ছেলেটি সাওদা (রাঃ)-কে দেখতে পাইনি। [২০৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني مالك، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها قالت كان عتبة بن ابي وقاص عهد الى اخيه سعد بن ابي وقاص ان ابن وليدة زمعة مني فاقبضه اليك. فلما كان عام الفتح اخذه سعد فقال ابن اخي، قد كان عهد الى فيه، فقام اليه عبد بن زمعة فقال اخي وابن وليدة ابي، ولد على فراشه. فتساوقا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال سعد يا رسول الله ابن اخي، كان عهد الى فيه. وقال عبد بن زمعة اخي وابن وليدة ابي، ولد على فراشه. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " هو لك يا عبد بن زمعة ". ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الولد للفراش، وللعاهر الحجر ". ثم قال لسودة بنت زمعة " احتجبي منه "، لما راى من شبهه بعتبة، فما راها حتى لقي الله تعالى
যখন ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) তাদেরকে হাদীস বর্ণনা করছিলেন, তখন আশ‘আস ইবনু কায়স (রাঃ) এলেন এবং বললেন যে এ আয়াতটি আমি ও অন্য একটি লোক সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। একটি কূয়া নিয়ে যার সাথে আমি বিবাদ করেছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার কাছে প্রমাণ আছে কি? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তাহলে সে কসম করুক। আমি বললাম, সে কসম করবেই। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়: ‘‘যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথকে নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করে.....’’- (সূরাহ আলে ‘ইমরান ৩/৭৭)। [২৩৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮১ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا اسحاق بن نصر، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا سفيان، عن منصور، والاعمش، عن ابي وايل، قال قال عبد الله قال النبي صلى الله عليه وسلم " لا يحلف على يمين صبر، يقتطع مالا وهو فيها فاجر، الا لقي الله وهو عليه غضبان ". فانزل الله {ان الذين يشترون بعهد الله} الاية. فجاء الاشعث وعبد الله يحدثهم فقال في نزلت وفي رجل خاصمته في بير فقال النبي صلى الله عليه وسلم " الك بينة ". قلت لا. قال " فليحلف ". قلت اذا يحلف. فنزلت {ان الذين يشترون بعهد الله} الاية
যখন ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) তাদেরকে হাদীস বর্ণনা করছিলেন, তখন আশ‘আস ইবনু কায়স (রাঃ) এলেন এবং বললেন যে এ আয়াতটি আমি ও অন্য একটি লোক সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। একটি কূয়া নিয়ে যার সাথে আমি বিবাদ করেছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার কাছে প্রমাণ আছে কি? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তাহলে সে কসম করুক। আমি বললাম, সে কসম করবেই। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়: ‘‘যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথকে নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করে.....’’- (সূরাহ আলে ‘ইমরান ৩/৭৭)। [২৩৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮১ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا اسحاق بن نصر، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا سفيان، عن منصور، والاعمش، عن ابي وايل، قال قال عبد الله قال النبي صلى الله عليه وسلم " لا يحلف على يمين صبر، يقتطع مالا وهو فيها فاجر، الا لقي الله وهو عليه غضبان ". فانزل الله {ان الذين يشترون بعهد الله} الاية. فجاء الاشعث وعبد الله يحدثهم فقال في نزلت وفي رجل خاصمته في بير فقال النبي صلى الله عليه وسلم " الك بينة ". قلت لا. قال " فليحلف ". قلت اذا يحلف. فنزلت {ان الذين يشترون بعهد الله} الاية
وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ ابْنِ شُبْرُمَةَ الْقَضَاءُ فِي قَلِيلِ الْمَالِ وَكَثِيرِهِ سَوَاءٌ ইবনু ‘উয়াইনাহ ইবনু শুবরুমা-এর সূত্রে বলেন যে, অল্প মাল আর বেশি মালের বিচারের বিধান একই রকম। ৭১৮৫. উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দরজার পাশে ঝগড়া বিবাদের আওয়াজ শুনতে পেলেন। তাই তিনি তাদের কাছে বেরিয়ে গেলেন এবং বললেনঃ আমি একজন মানুষ মাত্র। ঝগড়া বিবাদ আমার কাছে নিয়ে আসা হয়। হয়ত তাদের কেউ অন্যের চেয়ে পটুভাষী। আমি তার ভিত্তিতে ফায়সালা করি এবং আমি মনে করি সে সত্যবাদী। সুতরাং আমি যদি কাউকে অন্য মুসলিমের হক দেয়ার ফায়সালা করি তাহলে তা (তার জন্য) এক টুকরা আগুন ছাড়া কিছু নয়। কাজেই সে তা গ্রহণ করুক কিংবা ছেড়ে দিক। [২৪৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، اخبرني عروة بن الزبير، ان زينب بنت ابي سلمة، اخبرته عن امها ام سلمة، قالت سمع النبي صلى الله عليه وسلم جلبة خصام عند بابه فخرج عليهم فقال " انما انا بشر، وانه ياتيني الخصم، فلعل بعضا ان يكون ابلغ من بعض، اقضي له بذلك واحسب انه صادق، فمن قضيت له بحق مسلم فانما هي قطعة من النار، فلياخذها او ليدعها
وَقَدْ بَاعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُدَبَّرًا مِنْ نُعَيْمِ بْنِ النَّحَّامِ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু নাহ্হামের পক্ষে বিক্রি করেছেন। ৭১৮৬. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে খবর পৌঁছল যে, তাঁর সাহাবীদের একজন তার গোলামকে এই শর্তে আযাদ করলেন যে মৃত্যুর পর তা কার্যকর হবে। অথচ তাঁর এছাড়া আর কোন সম্পদ ছিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোলামটিকে আটশ‘ দিরহামে বিক্রি করলেন এবং তার মূল্য তার কাছে পাঠিয়ে দিলেন। [২১৪১; মুসলিম ১২/১৩, হাঃ ৯৯৭, আহমাদ ১৪২৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا ابن نمير، حدثنا محمد بن بشر، حدثنا اسماعيل، حدثنا سلمة بن كهيل، عن عطاء، عن جابر، قال بلغ النبي صلى الله عليه وسلم ان رجلا من اصحابه اعتق غلاما عن دبر، لم يكن له مال غيره، فباعه بثمانماية درهم، ثم ارسل بثمنه اليه
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেনাদল পাঠালেন এবং উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)-কে তাঁদের আমীর নিয়োগ করলেন। কিন্তু তার আমীর নিযুক্তির সমালোচনা করা হল। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা যদি তার আমীর নিযুক্তির সমালোচনা কর, তোমরা এর আগে তার পিতার আমীর নিযুক্তিরও সমালোচনা করেছিলে। আল্লাহর কসম! সে ইমারাতের যোগ্য ছিল। আর সে ছিল আমার কাছে মানুষদের মাঝে সবচেয়ে প্রিয়। আর তারপরে এ হল আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয়।[1] [৩৭৩০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا عبد العزيز بن مسلم، حدثنا عبد الله بن دينار، قال سمعت ابن عمر رضى الله عنهما يقول بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم بعثا وامر عليهم اسامة بن زيد، فطعن في امارته، وقال " ان تطعنوا في امارته فقد كنتم تطعنون في امارة ابيه من قبله، وايم الله ان كان لخليقا للامرة، وان كان لمن احب الناس الى، وان هذا لمن احب الناس الى بعده
لُدًّا عُوجًا অর্থ বক্রতা ৭১৮৮. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে সর্বাধিক ঘৃণ্য ঐ ব্যক্তি, যে সব সময় ঝগড়ায় লিপ্ত থাকে। [২৪৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى بن سعيد، عن ابن جريج، سمعت ابن ابي مليكة، عن عايشة رضى الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ابغض الرجال الى الله الالد الخصم
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদ ইবনু ওয়ালীদকে জাযীমা গোত্রের প্রতি পাঠালেন। কিন্তু ‘আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি’ কথাটি তারা উত্তমরূপে বলতে পারল না। বরং বলল, ‘সাবানা’ ‘সাবানা’ (আমরা পুরাতন ধর্ম ত্যাগ করে নতুন ধর্ম গ্রহণ করেছি)। এরপর খালিদ তাদেরকে হত্যা ও বন্দী করতে শুরু করলেন। আর আমাদের প্রত্যেকের কাছে বন্দী হাওয়ালা করলেন এবং প্রত্যেককে নিজ বন্দীকে হত্যা করার আদেশ দিলেন। আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি আমার বন্দীকে হত্যা করব না এবং আমার সাথীদের কেউ তার বন্দীকে হত্যা করবে না। অতঃপর এ ব্যাপারটি আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্! খালিদ ইবনু ওয়ালীদ যা করেছে তাত্থেকে আমি আপনার কাছে অব্যাহতি চাচ্ছি। এ কথাটি তিনি দু’বার বললেন। [৪৩৩৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا محمود، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن سالم، عن ابن عمر، بعث النبي صلى الله عليه وسلم خالدا ح وحدثني نعيم اخبرنا عبد الله اخبرنا معمر عن الزهري عن سالم عن ابيه قال بعث النبي صلى الله عليه وسلم خالد بن الوليد الى بني جذيمة فلم يحسنوا ان يقولوا اسلمنا. فقالوا صبانا صبانا، فجعل خالد يقتل وياسر، ودفع الى كل رجل منا اسيره، فامر كل رجل منا ان يقتل اسيره، فقلت والله لا اقتل اسيري ولا يقتل رجل من اصحابي اسيره. فذكرنا ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال " اللهم اني ابرا اليك مما صنع خالد بن الوليد "، مرتين
সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বানী আমের গোত্রে সংঘর্ষ বিরাজিত ছিল। এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছল। যুহরের সালাত আদায় করে তিনি তাদের মাঝে মীমাংসা করার উদ্দেশে আসলেন। (আসার সময়) তিনি বিলালকে বললেনঃ যদি সালাতের সময় হয়ে যায় আর আমি না আসি, তাহলে আবূ বকরকে বলবে, লোকদের নিয়ে সে যেন সালাত আদায় করে। যখন ‘আসরের সময় উপস্থিত হল, বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিলেন। অতঃপর আবূ বকরকে সালাত আদায় করতে বললেন। আবূ বকর (রাঃ) সামনে এগোলেন। আবূ বকর (রাঃ)-এর সালাতের মাঝেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং মানুষকে ফাঁক করে আবূ বকরের পশ্চাতে দাঁড়ালেন। অর্থাৎ আবূ বকরের লাগোয়া কাতার পর্যন্ত এগোলেন। রাবী বলেন, লোকেরা হাততালি দিল। তিনি আরও বলেন যে, আবূ বকর (রাঃ) সালাত শুরু করলে, সালাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এদিক-ওদিক তাকাতেন না। তিনি যখন দেখলেন হাততালি দেয়া বন্ধ হচ্ছে না তখন তিনি তাকালেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর পশ্চাতে দেখতে পেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইঈিতে তাকে সালাত পুরা করতে বললেন এবং যেভাবে আছেন সে ভাবেই থাকতে বললেন। আবূ বকর (রাঃ) কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশের কারণে আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অতঃপর পশ্চাতে সরে আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এটা দেখলেন তখন এগিয়ে গেলেন এবং লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। যখন তাঁর সালাত শেষ হল, তখন তিনি আবূ বকরকে বললেনঃ আমি যখন তোমাকে ইঙ্গিত দিলাম, তখন তোমায় কিসে বাধা দিল যে, তুমি সালাত পূর্ণ করলে না? তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইমামত করার সাহস ইবনু আবূ কুহাফার কক্ষনো নেই। অতঃপর তিনি লোকদের বললেনঃ সালাতে তোমাদের কোন বিঘ্ন সৃষ্টি হলে পুরুষরা ‘সুবহানাল্লাহ্’ বলবে আর নারীরা হাতের উপর হাত মারবে। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (বুখারী) (রহ.) বলেন, يَا بِلالٌ مَرَّاَبَابكْرٍ কথাটি হাম্মাদ ছাড়া অন্য কোন রাবী বলেনি। [৬৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا ابو النعمان، حدثنا حماد، حدثنا ابو حازم المديني، عن سهل بن سعد الساعدي، قال كان قتال بين بني عمرو، فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فصلى الظهر، ثم اتاهم يصلح بينهم، فلما حضرت صلاة العصر فاذن بلال واقام وامر ابا بكر فتقدم، وجاء النبي صلى الله عليه وسلم وابو بكر في الصلاة، فشق الناس حتى قام خلف ابي بكر، فتقدم في الصف الذي يليه. قال وصفح القوم، وكان ابو بكر اذا دخل في الصلاة لم يلتفت حتى يفرغ، فلما راى التصفيح لا يمسك عليه التفت فراى النبي صلى الله عليه وسلم خلفه، فاوما اليه النبي صلى الله عليه وسلم ان امضه واوما بيده هكذا، ولبث ابو بكر هنية يحمد الله على قول النبي صلى الله عليه وسلم ثم مشى القهقرى، فلما راى النبي صلى الله عليه وسلم ذلك تقدم فصلى النبي صلى الله عليه وسلم بالناس، فلما قضى صلاته قال " يا ابا بكر ما منعك اذ اومات اليك ان لا تكون مضيت ". قال لم يكن لابن ابي قحافة ان يوم النبي صلى الله عليه وسلم. وقال للقوم " اذا نابكم امر، فليسبح الرجال، وليصفح النساء
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদদের কারণে আবূ বকর (রাঃ) আমার নিকট লোক পাঠালেন তখন তাঁর কাছে ‘উমার (রাঃ)-ও উপস্থিত ছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ‘উমার (রাঃ) আমার কাছে এসে বলেছেন যে, কুরআনের বহু হাফিয ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। এজন্য আমার ভয় হচ্ছে যে, আরো অনেক জায়গায় যদি কুরআনের হাফিযগণ এমন ব্যাপক হারে শহীদ হন তাহলে কুরআনের বহু অংশ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সুতরাং আমি মনে করি যে, আপনি কুরআন সংকলনের আদেশ দিন। আমি বললাম, কী করে আমি এমন কাজ করব যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেন নি। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! এটা একটা উত্তম কাজ। ‘উমার (রাঃ) আমাকে এ বিষয়ে বারবার বলছিলেন। এক পর্যায়ে আল্লাহ্ তা‘আলা আমার অন্তর খুলে দিলেন। যে বিষয়ে তিনি ‘উমার (রাঃ)-এর অন্তর খুলে দিয়েছিলেন এবং আমিও এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করলাম যা ‘উমার (রাঃ) পোষণ করেছিলেন। যায়দ (রাঃ) বলেন যে, এরপর আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তুমি একজন বুদ্ধিমান যুবক, তোমার সম্পর্কে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। তুমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়াহী লিখতে। কাজেই তুমি কুরআন খোঁজ কর এবং তা একত্রিত কর। যায়দ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! কুরআন খোঁজ করে একত্রিত করার নির্দেশ না দিয়ে যদি আমাকে পাহাড়গুলোর একটিকে স্থানান্তর করার দায়িত্ব অর্পণ করতো, তাও আমার জন্য ভারী মনে হত না। আমি বললাম, কী করে আপনারা দু’জন এমন একটি কাজ করবেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেন নি। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! এটি একটি উত্তম কাজ। আমি আমার কথা বার বার বলতে থাকলাম। এক পর্যায়ে আল্লাহ্ তা‘আলা আমার অন্তর খুলে দিলেন, যে বিষয়ে আবূ বকর (রাঃ) ও ‘উমার (রাঃ)-এর অন্তর খুলে দিয়েছিলেন। এবং তাঁরা দু’জন যা ভাল মনে করলেন আমিও তা ভাল মনে করলাম। কাজেই আমি কুরআন খোঁজ করতে শুরু করলাম। খেজুরের ডাল, পাতলা চামড়ার টুকরা, সাদা পাথর ও মানুষের অন্তর থেকে আমি কুরআনকে জমা করলাম। সূরা তাওবার শেষ অংশ لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছেন.....(সূরাহ আত্-তওবা ৯/১২৮) থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত এ অংশটুকু খুযাইমাহ কিংবা আবূ খুযাইমাহর কাছে পেলাম। আমি তা সূরার সঙ্গে জুড়ে দিলাম। কুরআনের এ সংকলিত সহীফাগুলো আবূ বকরের জীবনকাল পর্যন্ত তাঁর কাছে ছিল। অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে ওফাত দিলেন। পরে ‘উমারের জীবনকাল পর্যন্ত তাঁর নিকট ছিল। অতঃপর আল্লাহ তার ওফাত দিলেন, অতঃপর হাফসাহ বিন্ত ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে ছিল। মুহাম্মাদ ইবনু ‘উবাইদুল্লাহ্ বলেন, হাদীসে ব্যবহৃত اللِّخَفُ অর্থ হল চাড়ি (মাটির বড় গামলা)। [২৮০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا محمد بن عبيد الله ابو ثابت، حدثنا ابراهيم بن سعد، عن ابن شهاب، عن عبيد بن السباق، عن زيد بن ثابت، قال بعث الى ابو بكر لمقتل اهل اليمامة وعنده عمر فقال ابو بكر ان عمر اتاني فقال ان القتل قد استحر يوم اليمامة بقراء القران، واني اخشى ان يستحر القتل بقراء القران في المواطن كلها، فيذهب قران كثير، واني ارى ان تامر بجمع القران. قلت كيف افعل شييا لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال عمر هو والله خير. فلم يزل عمر يراجعني في ذلك حتى شرح الله صدري للذي شرح له صدر عمر، ورايت في ذلك الذي راى عمر. قال زيد قال ابو بكر وانك رجل شاب عاقل لا نتهمك، قد كنت تكتب الوحى لرسول الله صلى الله عليه وسلم فتتبع القران فاجمعه. قال زيد فوالله لو كلفني نقل جبل من الجبال ما كان باثقل على مما كلفني من جمع القران. قلت كيف تفعلان شييا لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ابو بكر هو والله خير. فلم يزل يحث مراجعتي حتى شرح الله صدري للذي شرح الله له صدر ابي بكر وعمر، ورايت في ذلك الذي رايا، فتتبعت القران اجمعه من العسب والرقاع واللخاف وصدور الرجال، فوجدت اخر سورة التوبة {لقد جاءكم رسول من انفسكم} الى اخرها مع خزيمة او ابي خزيمة فالحقتها في سورتها، وكانت الصحف عند ابي بكر حياته حتى توفاه الله عز وجل، ثم عند عمر حياته حتى توفاه الله، ثم عند حفصة بنت عمر. قال محمد بن عبيد الله اللخاف يعني الخزف
সাহল ইবনু হাসমা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ও তাঁর কওমের কতক বড় বড় ব্যক্তি বর্ণনা করেন যে, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু সাহল ও মুহাইয়াসা ক্ষুধার্ত হয়ে খায়বারে আসেন। একদা মুহাইয়াসা জানতে পারেন যে, ‘আবদুল্লাহ্ নিহত হয়েছে এবং তার লাশ একটা গর্তে অথবা কূপে ফেলে দেয়া হয়েছে। তখন তিনি ইয়াহূদীদের কাছে এসে বললেন, আল্লাহর শপথ! নিঃসন্দেহে তোমরাই তাকে মেরে ফেলেছ। তারা বলল, আল্লাহর কসম করে বলছি, আমরা তাকে হত্যা করিনি। তারপর তিনি তার কওমের কাছে এসে এ ঘটনা বর্ণনা করলেন। পরে তিনি, তার বড় ভাই হওয়াইয়াসা এবং ‘আবদুর রহমান ইবনু সাহল আসলেন। মুহাইয়াসা যিনি খায়বারে ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ ঘটনা বলার জন্য এগিয়ে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ঃ বড়কে কথা বলতে দাও, বড়কে কথা বলতে দাও। এ দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য করলেন বয়সে বড়কে। তখন হুওয়াইয়াসা প্রথমে ঘটনা বর্ণনা করলেন। এরপর কথা বললেন, মুহাইয়াসা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হয় তারা তোমাদের মৃত সাথীর রক্তপণ আদায় করবে, না হয় তাদের সঙ্গে যুদ্ধের ঘোষণা দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে এ ব্যাপারে পত্র লিখলেন। জবাবে লেখা হল যে, আমরা তাকে হত্যা করিনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুওয়াইয়াসা, মুহাইয়াসা ও ‘আবদুর রহমানকে বললেন, তোমরা কি কসম করে বলতে পারবে? তাহলে তোমরা তোমাদের সঙ্গীর রক্তপণের অধিকারী হবে। তারা বলল, না। তিনি বললেন, তাহলে ইয়াহূদীরা কি তোমাদের সামনে কসম করবে? তাঁরা বলল, এরা তো মুসলিম না। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ হতে একশ’ উট রক্তপণ বাবদ আদায় করে দিলেন। অবশেষে উটগুলোকে ঘরে ঢুকানো হল। সাহল বলেন, ওগুলো থেকে একটা উট আমাকে লাথি মেরেছিল। [২৭০২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن ابي ليلى، ح حدثنا اسماعيل، حدثني مالك، عن ابي ليلى بن عبد الله بن عبد الرحمن بن سهل، عن سهل بن ابي حثمة، انه اخبره هو، ورجال، من كبراء قومه ان عبد الله بن سهل ومحيصة خرجا الى خيبر من جهد اصابهم، فاخبر محيصة ان عبد الله قتل وطرح في فقير او عين، فاتى يهود فقال انتم والله قتلتموه. قالوا ما قتلناه والله. ثم اقبل حتى قدم على قومه فذكر لهم، واقبل هو واخوه حويصة وهو اكبر منه وعبد الرحمن بن سهل، فذهب ليتكلم وهو الذي كان بخيبر فقال النبي صلى الله عليه وسلم لمحيصة " كبر كبر ". يريد السن، فتكلم حويصة ثم تكلم محيصة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اما ان يدوا صاحبكم، واما ان يوذنوا بحرب ". فكتب رسول الله صلى الله عليه وسلم اليهم به، فكتب ما قتلناه. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لحويصة ومحيصة وعبد الرحمن " اتحلفون وتستحقون دم صاحبكم ". قالوا لا. قال " افتحلف لكم يهود ". قالوا ليسوا بمسلمين. فوداه رسول الله صلى الله عليه وسلم من عنده ماية ناقة حتى ادخلت الدار. قال سهل فركضتني منها ناقة
আবূ হুরাইরাহ ও যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বর্ণনা করেন যে, এক বেদুঈন এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব মোতাবেক ফায়সালা করুন। তখন তার বিবাদী পক্ষ দাঁড়াল এবং বলল, সে ঠিকই বলছে। আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব মোতাবেক ফায়সালা করুন। তারপর বেদুঈন বলল যে, আমার ছেলে এ লোকের মজুর হিসেবে কাজ করত। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করে ফেলেছে। লোকেরা আমাকে বলল, তোমার ছেলেকে রজম করা হবে। আমি একশ’ বকরী ও একটি দাসী দিয়ে আমার ছেলেকে তার থেকে মুক্ত করেছি। পরে আমি এ বিষয়ে আলেমদের জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বললেন, তোমার পুত্রকে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশ থেকে বহিস্কারের শাস্তি ভোগ করতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি অবশ্য অবশ্যই আল্লাহর কিতাব মোতাবেক তোমাদের মাঝে ফায়সালা করব। দাসী ও বকরীগুলো তোমার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে। আর তোমার ছেলেকে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশ থেকে বহিস্কারের শাস্তি ভোগ করতে হবে। হে উনায়স! তুমি কাল এ লোকের স্ত্রীর নিকট যাও অতঃপর তাকে রজম কর। অতঃপর উনায়স পর দিবস সেই স্ত্রী লোকের কাছে গিয়ে তাকে রজম করল। [২৩১৪, ২৩১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا ادم، حدثنا ابن ابي ذيب، حدثنا الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله، عن ابي هريرة، وزيد بن خالد الجهني، قالا جاء اعرابي فقال يا رسول الله اقض بيننا بكتاب الله فقام خصمه فقال صدق فاقض بيننا بكتاب الله. فقال الاعرابي ان ابني كان عسيفا على هذا فزنى بامراته، فقالوا لي على ابنك الرجم. ففديت ابني منه بماية من الغنم ووليدة، ثم سالت اهل العلم فقالوا انما على ابنك جلد ماية وتغريب عام. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لاقضين بينكما بكتاب الله، اما الوليدة والغنم فرد عليك، وعلى ابنك جلد ماية وتغريب عام، واما انت يا انيس لرجل فاغد على امراة هذا فارجمها ". فغدا عليها انيس فرجمها
আবূ হুরাইরাহ ও যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বর্ণনা করেন যে, এক বেদুঈন এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব মোতাবেক ফায়সালা করুন। তখন তার বিবাদী পক্ষ দাঁড়াল এবং বলল, সে ঠিকই বলছে। আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব মোতাবেক ফায়সালা করুন। তারপর বেদুঈন বলল যে, আমার ছেলে এ লোকের মজুর হিসেবে কাজ করত। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করে ফেলেছে। লোকেরা আমাকে বলল, তোমার ছেলেকে রজম করা হবে। আমি একশ’ বকরী ও একটি দাসী দিয়ে আমার ছেলেকে তার থেকে মুক্ত করেছি। পরে আমি এ বিষয়ে আলেমদের জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বললেন, তোমার পুত্রকে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশ থেকে বহিস্কারের শাস্তি ভোগ করতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি অবশ্য অবশ্যই আল্লাহর কিতাব মোতাবেক তোমাদের মাঝে ফায়সালা করব। দাসী ও বকরীগুলো তোমার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে। আর তোমার ছেলেকে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশ থেকে বহিস্কারের শাস্তি ভোগ করতে হবে। হে উনায়স! তুমি কাল এ লোকের স্ত্রীর নিকট যাও অতঃপর তাকে রজম কর। অতঃপর উনায়স পর দিবস সেই স্ত্রী লোকের কাছে গিয়ে তাকে রজম করল। [২৩১৪, ২৩১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا ادم، حدثنا ابن ابي ذيب، حدثنا الزهري، عن عبيد الله بن عبد الله، عن ابي هريرة، وزيد بن خالد الجهني، قالا جاء اعرابي فقال يا رسول الله اقض بيننا بكتاب الله فقام خصمه فقال صدق فاقض بيننا بكتاب الله. فقال الاعرابي ان ابني كان عسيفا على هذا فزنى بامراته، فقالوا لي على ابنك الرجم. ففديت ابني منه بماية من الغنم ووليدة، ثم سالت اهل العلم فقالوا انما على ابنك جلد ماية وتغريب عام. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لاقضين بينكما بكتاب الله، اما الوليدة والغنم فرد عليك، وعلى ابنك جلد ماية وتغريب عام، واما انت يا انيس لرجل فاغد على امراة هذا فارجمها ". فغدا عليها انيس فرجمها
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়াহূদীদের লিখন পদ্ধতি শিক্ষা করার জন্য আদেশ করেছিলেন। তিনি বলেন, যার ফলে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে তাঁর চিঠিপত্র লিখতাম এবং তারা কোন চিঠিপত্র তাঁর কাছে লিখলে তা তাঁকে পড়ে শোনাতাম। ‘উমার (রাঃ) বললেন- তখন তাঁর কাছে হাজির ছিলেন ‘আলী, ‘আবদুর রহমান ও ‘উসমান (রাঃ) এ স্ত্রীলোকটি কী বলছে? ‘আবদুর রহমান ইবনু হাতিব বলেন, আমি বললাম, স্ত্রীলোকটি তার এক সঙ্গীর ব্যাপারে আপনার নিকট অভিযোগ করছে যে, সে তার সঙ্গে কুকাজ করেছে। আবূ জামরাহ বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) ও লোকেদের মাঝে দোভাষীর কাজ করতাম। আর কেউ কেউ বলেছেন, প্রত্যেক শাসনকর্তার জন্য দু’জন করে দোভাষী অত্যাবশ্যকীয়। (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)
وقال خارجة بن زيد بن ثابت عن زيد بن ثابت، ان النبي صلى الله عليه وسلم امره ان يتعلم كتاب اليهود، حتى كتبت للنبي صلى الله عليه وسلم كتبه، واقراته كتبهم اذا كتبوا اليه، وقال عمر وعنده علي وعبد الرحمن وعثمان ماذا تقول هذه قال عبد الرحمن بن حاطب فقلت تخبرك بصاحبهما الذي صنع بهما. وقال ابو جمرة كنت اترجم بين ابن عباس وبين الناس. وقال بعض الناس لا بد للحاكم من مترجمين
আবূ সুফ্ইয়ান হারব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, কুরাইশদের কাফেলাসহ অবস্থান করার সময় সম্রাট হিরাক্লিয়াস তাকে ডেকে পাঠালেন। এরপর সম্রাট তার দোভাষীকে বললেন, তাদেরকে বল যে, আমি এ লোকটিকে কিছু প্রশ্ন করব। যদি সে আমার কাছে মিথ্যা বরেল তাহলে তারা যেন তাকে মিথ্যাচারী বলে। তারপর দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন। পরে হিরাক্লিয়াস তার দোভাষীকে বললেন, ওকে বলে দাও যে, সে যা বলেছে তা যদি সত্য হয়, তাহলে তিনি (অর্থাৎ মুহাম্মাদ শীঘ্রই আমার পায়ের তলার জায়গারও মালিক হবেন। [৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، اخبرني عبيد الله بن عبد الله، ان عبد الله بن عباس، اخبره ان ابا سفيان بن حرب اخبره ان هرقل ارسل اليه في ركب من قريش، ثم قال لترجمانه قل لهم اني سايل هذا، فان كذبني فكذبوه. فذكر الحديث فقال للترجمان قل له ان كان ما تقول حقا فسيملك موضع قدمى هاتين