Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৮৮ হাদিসসমূহ
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহ্ তা‘আলার আত্মমর্যাদাবোধ আছে এবং আল্লাহর আত্মমর্যাদাবোধ এই যে, যেন কোন মু’মিন বান্দা হারাম কাজে লিপ্ত হয়ে না পড়ে। [মুসলিম ৪৯/৬, হাঃ ২৭৬২, আহমাদ ৯০৩৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وعن يحيى، ان ابا سلمة، حدثه ان ابا هريرة حدثه انه، سمع النبي صلى الله عليه وسلم. حدثنا ابو نعيم، حدثنا شيبان، عن يحيى، عن ابي سلمة، انه سمع ابا هريرة رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال " ان الله يغار وغيرة الله ان ياتي المومن ما حرم الله
আসমা বিনতে আবূ বাকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন যুবায়র (রাঃ) আমাকে বিয়ে করলেন, তখন তার কাছে কোন ধন-সম্পদ ছিল না, এমন কি কোন স্থাবর জমি-জমা, দাস-দাসীও ছিল না; শুধুমাত্র কুয়ো থেকে পানি উত্তোলনকারী একটি উট ও একটি ঘোড়া ছিল। আমি তাঁর উট ও ঘোড়া চরাতাম, পানি পান করাতাম এবং পানি উত্তোলনকারী মশক ছিঁড়ে গেলে সেলাই করতাম, আটা পিষতাম; কিন্তু ভালো রুটি তৈরি করতে পারতাম না। তাই আনসারী প্রতিবেশী মহিলারা আমার রুটি তৈরিতে সাহায্য করত। আর তারা ছিল খুবই উত্তম নারী। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়র (রাঃ)-কে একখন্ড জমি দিয়েছিলেন। আমি সেখান থেকে মাথায় করে খেজুরের আঁটির বোঝা বহন করে আনতাম। ঐ জমির দূরত্ব ছিল প্রায় দু’মাইল। একদিন আমি মাথায় করে খেজুরের আঁটি বহন করে নিয়ে আসছিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষাৎ হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কয়েকজন আনসারও ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকলেন এবং আমাকে তাঁর উটের পিঠে বসার জন্য তাঁর উটকে আখ্! আখ্! বললেন, যাতে উটটি বসে এবং আমি তাঁর পিঠে আরোহণ করতে পারি। আমি পরপুরুষের সঙ্গে একত্রে যাওয়ার ব্যাপারে লজ্জাবোধ করতে লাগলাম এবং যুবায়র (রাঃ)-এর আত্মসম্মানবোধের কথা আমার মনে পড়ল। কেননা, সে ছিল খুব আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝতে পারলেন, আমি খুব লজ্জাবোধ করছি। সুতরাং তিনি এগিয়ে চললেন। আমি যুবায়র (রাঃ)-এর কাছে পৌঁছলাম এবং বললাম, আমি খেজুরের আঁটির বোঝা মাথায় নিয়ে আসার সময় পথিমধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আমার দেখা হয় এবং তাঁর সঙ্গে কিছু সংখ্যক সাহাবী ছিলেন। তিনি তাঁর উটকে হাঁটু গেড়ে বসালেন, যেন আমি তাতে সওয়ার হতে পারি। কিন্তু আমি তোমার আত্মসম্মানের কথা চিন্তা করে লজ্জা অনুভব করলাম। এ কথা শুনে যুবায়র (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! খেজুরের আঁটির বোঝা মাথায় বহন করা তাঁর সঙ্গে উটে চড়ার চেয়ে আমার কাছে অধিক লজ্জাজনক। এরপর আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) ঘোড়ার দেখাশুনার জন্য আমার সাহায্যের নিমিত্ত একজন খাদিম পাঠিয়ে দিলেন। এরপরই আমি যেন মুক্ত হলাম। [৩১৫১; মুসলিম ৩৯/১৪, হাঃ ২১৮২, আহমাদ ২৭০০৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا محمود، حدثنا ابو اسامة، حدثنا هشام، قال اخبرني ابي، عن اسماء بنت ابي بكر رضى الله عنهما قالت تزوجني الزبير، وما له في الارض من مال، ولا مملوك، ولا شىء غير ناضح، وغير فرسه، فكنت اعلف فرسه، واستقي الماء، واخرز غربه واعجن، ولم اكن احسن اخبز، وكان يخبز جارات لي من الانصار وكن نسوة صدق، وكنت انقل النوى من ارض الزبير التي اقطعه رسول الله صلى الله عليه وسلم على راسي، وهى مني على ثلثى فرسخ، فجيت يوما والنوى على راسي فلقيت رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعه نفر من الانصار فدعاني ثم قال " اخ اخ ". ليحملني خلفه، فاستحييت ان اسير مع الرجال، وذكرت الزبير وغيرته، وكان اغير الناس، فعرف رسول الله صلى الله عليه وسلم اني قد استحييت فمضى، فجيت الزبير فقلت لقيني رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى راسي النوى، ومعه نفر من اصحابه، فاناخ لاركب، فاستحييت منه وعرفت غيرتك. فقال والله لحملك النوى كان اشد على من ركوبك معه. قالت حتى ارسل الى ابو بكر بعد ذلك بخادم يكفيني سياسة الفرس، فكانما اعتقني
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার একজন স্ত্রীর কাছে ছিলেন। ঐ সময় উম্মুহাতুল মু’মিনীনের আর একজন একটি পাত্রে কিছু খাদ্য পাঠালেন। যে স্ত্রীর ঘরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবস্থান করছিলেন সে স্ত্রী খাদিমের হাতে আঘাত করলেন। ফলে খাদ্যের পাত্রটি পড়ে ভেঙ্গে গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রের ভাঙ্গা টুকরোগুলো কুড়িয়ে একত্রিত করলেন, তারপর খাদ্যগুলো কুড়িয়ে তাতে রাখলেন এবং বললেন, তোমাদের আম্মাজীর আত্মর্যাদাবোধে আঘাত লেগেছে। তারপর তিনি খাদিমকে অপেক্ষা করতে বললেন এবং যে স্ত্রীর কাছে ছিলেন তাঁর নিকট হতে একটি পাত্র নিয়ে যার পাত্র ভেঙ্গেছিল, তার কাছে পাঠালেন এবং ভাঙ্গা পাত্রটি যে ভেঙ্গেছিল তার ঘরেই রাখলেন। [২৪৮১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا علي، حدثنا ابن علية، عن حميد، عن انس، قال كان النبي صلى الله عليه وسلم عند بعض نسايه فارسلت احدى امهات المومنين بصحفة فيها طعام، فضربت التي النبي صلى الله عليه وسلم في بيتها يد الخادم فسقطت الصحفة فانفلقت، فجمع النبي صلى الله عليه وسلم فلق الصحفة، ثم جعل يجمع فيها الطعام الذي كان في الصحفة ويقول " غارت امكم "، ثم حبس الخادم حتى اتي بصحفة من عند التي هو في بيتها، فدفع الصحفة الصحيحة الى التي كسرت صحفتها، وامسك المكسورة في بيت التي كسرت فيه
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি জান্নাতে প্রবেশ করে একটি প্রাসাদ দেখতে পেলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, এটি কার প্রাসাদ? তাঁরা (ফেরেশতাগণ) বললেন, এ প্রাসাদটি ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ)-এর। আমি তার মধ্যে প্রবেশ করতে চাইলাম; কিন্তু [তিনি সেখানে উপস্থিত ‘উমার (রাঃ)-এর উদ্দেশে বললেন] তোমার আত্মমর্যাদাবোধ আমাকে সেখানে প্রবেশে বাধা দিল। এ কথা শুনে ‘উমার (রাঃ) বললেন, হেআল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনার কাছেও আমি (‘উমার) আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ করব? [৩৬৭৯](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا محمد بن ابي بكر المقدمي، حدثنا معتمر، عن عبيد الله، عن محمد بن المنكدر، عن جابر بن عبد الله رضى الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " دخلت الجنة او اتيت الجنة فابصرت قصرا فقلت لمن هذا قالوا لعمر بن الخطاب. فاردت ان ادخله فلم يمنعني الا علمي بغيرتك ". قال عمر بن الخطاب يا رسول الله بابي انت وامي يا نبي الله اوعليك اغار
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বসা ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি একদিন ঘুমন্ত অবস্থায় জান্নাতে একটি প্রাসাদের প্রার্শ্বে একজন মহিলাকে ওযু করতে দেখলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এই প্রাসাদটি কার? আমাকে বলা হলো, এটা ‘উমার (রাঃ)-এর। তখন আমি ‘উমারের আত্মমর্যাদার কথা স্মরণ করে পিছন ফিরে চলে এলাম। এ কথা শুনে ‘উমার (রাঃ) সেই মজলিসেই কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছেও কি আত্মসম্মানবোধ প্রকাশ করব। [৩২৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عبدان، اخبرنا عبد الله، عن يونس، عن الزهري، قال اخبرني ابن المسيب، عن ابي هريرة، قال بينما نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم جلوس، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " بينما انا نايم رايتني في الجنة، فاذا امراة تتوضا الى جانب قصر، فقلت لمن هذا قال هذا لعمر. فذكرت غيرته فوليت مدبرا ". فبكى عمر وهو في المجلس ثم قال اوعليك يا رسول الله اغار
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘‘আমি জানি কখন তুমি আমার প্রতি খুশী থাক এবং কখন রাগান্বিত হও।’’ আমি বললাম, কী করে আপনি তা বুঝতে সক্ষম হন? তিনি বললেন, তুমি প্রসন্ন থাকলে বল, না! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রব-এর কসম! কিন্তু তুমি আমার প্রতি নারাজ থাকলে বল, না! ইব্রাহীম (‘আ.)-এর রব-এর কসম! শুনে আমি বললাম, আপনি ঠিকই বলেছেন। আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! সে ক্ষেত্রে শুধু আপনার নাম উচ্চারণ করা থেকেই বিরত থাকি। [৬০৭৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عبيد بن اسماعيل، حدثنا ابو اسامة، عن هشام، عن ابيه، عن عايشة رضى الله عنها قالت قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم " اني لاعلم اذا كنت عني راضية، واذا كنت على غضبى ". قالت فقلت من اين تعرف ذلك فقال " اما اذا كنت عني راضية فانك تقولين لا ورب محمد، واذا كنت غضبى قلت لا ورب ابراهيم ". قالت قلت اجل والله يا رسول الله، ما اهجر الا اسمك
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণের মধ্য থেকে খাদীজাহ (রাঃ)-এর চেয়ে অন্য কোন স্ত্রীর প্রতি অধিক হিংসা করিনি। কারণ, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় তাঁর কথা স্মরণ করতেন এবং তাঁর প্রশংসা করতেন। তাছাড়াও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওয়াহীর মাধ্যমে তাঁকে [খাদীজাহ (রাঃ)]-কে জান্নাতের মধ্যে একটি মতির প্রাসাদের সুসংবাদ দেবার জন্য জ্ঞাত করানো হয়েছিল। [২৬৪৪, ৩৮১৬; মুসলিম ৪৪/১৩, হাঃ ২৪৩৯, আহমাদ ২৪৩৭২](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثني احمد بن ابي رجاء، حدثنا النضر، عن هشام، قال اخبرني ابي، عن عايشة، انها قالت ما غرت على امراة لرسول الله صلى الله عليه وسلم كما غرت على خديجة، لكثرة ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم اياها وثنايه عليها، وقد اوحي الى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يبشرها ببيت لها في الجنة من قصب
মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বরে বসে বলতে শুনেছি যে, বনি হিশাম ইবনু মুগীরাহ, ‘আলী ইবনু আবূ তালিবের কাছে তাদের মেয়ে বিয়ে দেবার জন্য আমার কাছে অনুমতি চেয়েছে; কিন্তু আমি অনুমতি দেব না, আমি অনুমতি দেব না, আমি অনুমতি দেব না, যতক্ষণ পর্যন্ত না ‘আলী ইব্নু আবূ তালিব আমার কন্যাকে তালাক দেয় এবং এর পরেই সে তাদের মেয়েকে বিয়ে করতে পারে। কেননা, ফাতিমা হচ্ছে আমার কলিজার টুকরা এবং সে যা ঘৃণা করে, আমিও তা ঘৃণা করি এবং তাকে যা কষ্ট দেয়, তা আমাকেও কষ্ট দেয়। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن ابن ابي مليكة، عن المسور بن مخرمة، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول وهو على المنبر " ان بني هشام بن المغيرة استاذنوا في ان ينكحوا ابنتهم علي بن ابي طالب فلا اذن، ثم لا اذن، ثم لا اذن، الا ان يريد ابن ابي طالب ان يطلق ابنتي وينكح ابنتهم، فانما هي بضعة مني، يريبني ما ارابها ويوذيني ما اذاها ". هكذا قال
وَقَالَ أَبُو مُوسٰى عَنْ النَّبِيِّ صَلّٰى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَرَى الرَّجُلَ الْوَاحِدَ يَتْبَعُه“ أَرْبَعُونَ امْرَأَةً يَلُذْنَ بِه„ مِنْ قِلَّةِ الرِّجَالِ وَكَثْرَةِ النِّسَاءِ. আবূ মূসা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (এমন একটা সময় আসবে যখন) একজন পুরুষকে দেখতে পাবে তার পেছনে চল্লিশজন নারী অনুসরণ করছে আশ্রয়ের জন্য। কেননা, তখন পুরুষের সংখ্যা অনেক কমে যাবে আর নারীর সংখ্যা বর্ধিত হবে। ৫২৩১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তোমাদের কাছে একটি হাদীস বর্ণনা করব, যা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে শুনেছি এবং আমি ব্যতীত আর কেউ সে হাদীস বলতে পারবে না। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের আলামতের মধ্যে রয়েছে ইল্ম ওঠে যাবে, অজ্ঞতা বেড়ে যাবে, ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবে, মদ্য পানের মাত্রা বেড়ে যাবে, পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে এবং নারীদের সংখ্যা বেড়ে যাবে যে, একজন পুরুষকে পঞ্চাশজন নারীর দেখাশুনা করতে হবে। [৮০](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا حفص بن عمر الحوضي، حدثنا هشام، عن قتادة، عن انس رضى الله عنه قال لاحدثنكم حديثا سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يحدثكم به احد غيري، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " ان من اشراط الساعة ان يرفع العلم، ويكثر الجهل ويكثر الزنا، ويكثر شرب الخمر، ويقل الرجال، ويكثر النساء حتى يكون لخمسين امراة القيم الواحد
‘উকবাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহিলাদের নিকট একাকী যাওয়া থেকে বিরত থাক। এক আনসার জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! দেবরের ব্যাপারে কী হুকুম? তিনি উত্তর দিলেন, দেবর হচ্ছে মৃত্যুতুল্য।[1] [মুসলিম ৩৯/৮, হাঃ ২১৭২, আহমাদ ১৭৩৫২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا ليث، عن يزيد بن ابي حبيب، عن ابي الخير، عن عقبة بن عامر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اياكم والدخول على النساء ". فقال رجل من الانصار يا رسول الله افرايت الحمو. قال " الحمو الموت
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মাহরামের বিনা উপস্থিতিতে কোন পুরুষ কোন নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে না। এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্ত্রী হাজ্জ করার জন্য বেরিয়ে গেছে এবং অমুক অমুক জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য আমার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ফিরে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হাজ্জ সম্পন্ন কর। [১৮৬২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، حدثنا عمرو، عن ابي معبد، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " لا يخلون رجل بامراة الا مع ذي محرم ". فقام رجل فقال يا رسول الله امراتي خرجت حاجة واكتتبت في غزوة كذا وكذا. قال " ارجع فحج مع امراتك
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক আনসারী মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলে, তিনি তাকে একান্তে বললেন, আল্লাহর কসম! তোমরা (আনসাররা) আমার কাছে সকল লোকের চেয়ে অধিক প্রিয়। [৩৭৮৬](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، عن هشام، قال سمعت انس بن مالك رضى الله عنه قال جاءت امراة من الانصار الى النبي صلى الله عليه وسلم فخلا بها فقال " والله انكن لاحب الناس الى
উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে থাকাকালে সেখানে একজন মেয়েলী পুরুষ ছিল। ঐ মেয়েলী পুরুষটি উম্মু সালামাহর ভাই ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ উমাইয়াকে বলল, যদি আগামীকাল আপনাদেরকে আল্লাহ্ তায়েফ বিজয় দান করেন, তবে আমি আপনাকে গায়লানের মেয়েকে গ্রহণ করার পরামর্শ দিচ্ছি। কেননা, সে এত মেদবহুল যে, সে সম্মুখ দিকে আগমন করলে তার পেটে চার ভাঁজ পড়ে আর পিছু ফিরে যাবার সময় আট ভাঁজ পড়ে। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে যেন কখনো তোমাদের কাছে আর না আসে। [৪৩২৪](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا عبدة، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن زينب ابنة ام سلمة، عن ام سلمة، ان النبي صلى الله عليه وسلم كان عندها وفي البيت مخنث، فقال المخنث لاخي ام سلمة عبد الله بن ابي امية ان فتح الله عليكم الطايف غدا ادلك على ابنة غيلان، فانها تقبل باربع وتدبر بثمان. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " لا يدخلن هذا عليكن
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদিন হাবশীদের খেলা দেখছিলাম। তারা মসজিদের আঙ্গিনায় খেলা খেলছিল। আমি খেলা দেখে ক্লান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেখছিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদর দিয়ে আমাকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তোমরা অনুমান কর যে, অল্পবয়স্কা মেয়েরা খেলাধূলা দেখতে কী পরিমাণ আগ্রহী! [৪৫৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا اسحاق بن ابراهيم الحنظلي، عن عيسى، عن الاوزاعي، عن الزهري، عن عروة، عن عايشة رضى الله عنها قالت رايت النبي صلى الله عليه وسلم يسترني بردايه، وانا انظر الى الحبشة يلعبون في المسجد، حتى اكون انا الذي اسام، فاقدروا قدر الجارية الحديثة السن الحريصة على اللهو
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে উম্মুহাতুল মু’মিনীন সওদা বিনত জাম‘আ (রাঃ) কোন কারণে বাইরে গেলেন। ‘উমার (রাঃ) তাঁকে দেখে চিনে ফেললেন। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! হে সাওদা! তুমি নিজেকে আমাদের নিকট হতে লুকাতে পারনি। এতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে গেলেন এবং উক্ত ঘটনা তাঁর কাছে বললেন। তিনি তখন আমার ঘরে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন এবং তাঁর হাতে গোশতওয়ালা একখানা হাড় ছিল। এমন সময় তাঁর কাছে ওয়াহী অবতীর্ণ হল। ওয়াহী শেষ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা প্রয়োজনে তোমাদেরকে বাইরে যাবার অনুমতি দিয়েছেন। [১৪৬](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا فروة بن ابي المغراء، حدثنا علي بن مسهر، عن هشام، عن ابيه، عن عايشة، قالت خرجت سودة بنت زمعة ليلا فراها عمر فعرفها فقال انك والله يا سودة ما تخفين علينا، فرجعت الى النبي صلى الله عليه وسلم فذكرت ذلك له، وهو في حجرتي يتعشى، وان في يده لعرقا، فانزل عليه فرفع عنه وهو يقول " قد اذن لكن ان تخرجن لحوايجكن
সালিমের পিতা [ইবনু ‘উমার (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কারো স্ত্রী মসজিদে যাবার অনুমতি চাইলে তাকে নিষেধ করো না। [৮৬৫](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، حدثنا الزهري، عن سالم، عن ابيه، عن النبي صلى الله عليه وسلم " اذا استاذنت امراة احدكم الى المسجد فلا يمنعها
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার দুধ সম্পর্কের চাচা এলেন এবং আমার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন; কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুমতি নেয়া ব্যতীত তাকে প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকার করলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসার পর তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তিনি হচ্ছেন তোমার চাচা। কাজেই তাকে ভিতরে আসার অনুমতি দাও। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে মহিলা দুধ পান করিয়েছেন, কোন পুরুষ আমাকে দুধ পান করায়নি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে তোমার চাচা, কাজেই তাঁকে তোমার কাছে আসার অনুমতি দাও। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এটা পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হবার পরের ঘটনা। তিনি আরও বলেন, জন্মসূত্রে যারা হারাম, দুধ সম্পর্কেও তারা হারাম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة رضى الله عنها انها قالت جاء عمي من الرضاعة فاستاذن على فابيت ان اذن له حتى اسال رسول الله صلى الله عليه وسلم فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فسالته عن ذلك فقال " انه عمك فاذني له " قالت فقلت يا رسول الله انما ارضعتني المراة ولم يرضعني الرجل. قالت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انه عمك فليلج عليك ". قالت عايشة وذلك بعد ان ضرب علينا الحجاب. قالت عايشة يحرم من الرضاعة ما يحرم من الولادة
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন নারী যেন তার দেখা অন্য নারীর দেহের বর্ণনা নিজ স্বামীর নিকট এমনভাবে না দেয়, যেন সে তাকে (ঐ নারীকে) চাক্ষুস দেখতে পাচ্ছে। [৫২৪১](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا سفيان، عن منصور، عن ابي وايل، عن عبد الله بن مسعود رضى الله عنه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " لا تباشر المراة المراة فتنعتها لزوجها، كانه ينظر اليها
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন নারী যেন তার দেখা অন্য নারীর দেহের বর্ণনা নিজ স্বামীর নিকট এমনভাবে না দেয়, যেন সে তাকে (ঐ নারীকে) দেখতে পাচ্ছে। [৫২৪০](আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حدثنا عمر بن حفص بن غياث، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، قال حدثني شقيق، قال سمعت عبد الله، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " لا تباشر المراة المراة فتنعتها لزوجها كانه ينظر اليها
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দাউদ আঃ)-এর পুত্র সুলায়মান আঃ) একদা বলেছিলেন, নিশ্চয়ই আজ রাতে আমি আমার একশ’ স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হব এবং তাদের প্রত্যেকেই একটি করে পুত্র সন্তান প্রসব করবে, যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এ কথা শুনে একজন ফিরিশিতা বলেছিলেন, আপনি ‘ইনশাআল্লাহ’ বলুন; কিন্তু তিনি এ কথা ভুলক্রমে বলেননি। এরপর তিনি তার স্ত্রীগণের সঙ্গে মিলিত হলেন; কিন্তু তাদের কেউ কোন সন্তান প্রসব করল না। কেবল এক স্ত্রী একটি অপূর্ণাঙ্গ সন্তান প্রসব করল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি সুলায়মান আঃ) ‘ইনশাআল্লাহ্’ বলতেন, তাহলে তাঁর শপথ ভঙ্গ হত না। আর তাতেই ভালভাবে তার আশা মিটত। আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৪৮৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
حدثني محمود، حدثنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن ابن طاوس، عن ابيه، عن ابي هريرة، قال " قال سليمان بن داود عليهما السلام لاطوفن الليلة بماية امراة، تلد كل امراة غلاما، يقاتل في سبيل الله، فقال له الملك قل ان شاء الله. فلم يقل ونسي، فاطاف بهن، ولم تلد منهن الا امراة نصف انسان ". قال النبي صلى الله عليه وسلم " لو قال ان شاء الله لم يحنث، وكان ارجى لحاجته