Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫০৪ হাদিসসমূহ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, মদিনা্য় আবূ ত্বলহা (রাঃ)-ই অধিক সংখ্যক খেজুর গাছের মালিক ছিলেন। তাঁর নিকট সর্বাধিক প্রিয় সম্পদ ছিল ‘‘বাইরুহা’’ নামক বাগানটি। এটা ছিল মসজিদের সম্মুখে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে আসতেন এবং সেখানকার (কূপের) সুমিষ্ট পানি পান করতেন। যখন لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّٰى تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ আয়াতটি অবতীর্ণ হল, তখন আবূ ত্বলহা (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ বলছেন, ‘‘তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করবে না যে পর্যন্ত না নিজেদের প্রিয়বস্তু থেকে ব্যয় করবে’’- (সূরাহ আলে ইমরান ৩/৯২)। আমার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ বাইরুহা। এটা আল্লাহর রাস্তায় আমি দান করে দিলাম। আমি আল্লাহর নিকট পুণ্য ও তার ভান্ডার চাই। আল্লাহ আপনাকে যেভাবে নির্দেশ দেন সেভাবে তা ব্যয় করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বাহ! ওটি তো অস্থায়ী সম্পদ, ওটা তো অস্থায়ী সম্পদ, তুমি যা বলেছ আমি শুনেছি। তুমি তা তোমার নিকটাত্মীয়কে দিয়ে দাও, আমি এ সিদ্ধান্ত দিচ্ছি। আবূ ত্বলহা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তা করব। তারপর আবূ ত্বলহা (রাঃ) সেটা তাঁর চাচাত ভাই-বোন ও আত্মীয়দের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ ও ইবনু ‘উবাদাহ্ (রাঃ)-এর বর্ণনায় ‘‘ওটা তো লাভজনক সম্পত্তি’’ বলে উল্লেখিত হয়েছে। [১৪৬১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৯৪) ইয়াহ্ইয়া ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেন, আমি মালিক (রহ.)-এর নিকট مَالٌ رَابِحٌ এর অর্থ পড়েছি ‘অস্থায়ী সম্পদ’। [১৪৬১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني مالك، عن اسحاق بن عبد الله بن ابي طلحة، انه سمع انس بن مالك رضى الله عنه يقول كان ابو طلحة اكثر انصاري بالمدينة نخلا، وكان احب امواله اليه بيرحاء، وكانت مستقبلة المسجد، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يدخلها ويشرب من ماء فيها طيب، فلما انزلت {لن تنالوا البر حتى تنفقوا مما تحبون} قام ابو طلحة فقال يا رسول الله، ان الله يقول {لن تنالوا البر حتى تنفقوا مما تحبون} وان احب اموالي الى بيرحاء وانها صدقة لله، ارجو برها وذخرها عند الله، فضعها يا رسول الله حيث اراك الله. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " بخ، ذلك مال رايح، ذلك مال رايح، وقد سمعت ما قلت، واني ارى ان تجعلها في الاقربين ". قال ابو طلحة افعل يا رسول الله. فقسمها ابو طلحة في اقاربه وبني عمه. قال عبد الله بن يوسف وروح بن عبادة " ذلك مال رابح ". حدثني يحيى بن يحيى قال قرات على مالك " مال رايح
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এরপর আবূ ত্বলহা (রাঃ) হাস্সান ইবনু সাবিত এবং উবাই ইবনু কা‘বের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। আমি তাঁর নিকটাত্মীয় ছিলাম। কিন্তু আমাকে তা হতে কিছুই দেননি। [১৪৬১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن عبد الله الانصاري، قال حدثني ابي، عن ثمامة، عن انس رضى الله عنه قال فجعلها لحسان وابي، وانا اقرب اليه، ولم يجعل لي منها شييا
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। ব্যভিচার করেছে এমন এক পুরুষ ও এক মহিলা নিয়ে ইয়াহূদীগণ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে উপস্থিত হল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, তোমাদের ব্যভিচারীদেরকে তোমরা কীভাবে শাস্তি দাও? তারা বলল, আমরা তাদের দু’জনের চেহারা কালিমালিপ্ত করি এবং তাদের প্রহার করি। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাওরাতে কি প্রস্তর নিক্ষেপের বিধান পাও না? তারা বলল, আমরা তাতে এ ব্যাপারে কিছুই পাই না। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তাদের বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ, তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে তাওরাত আন এবং তা পাঠ কর। এরপর তাওরাত পাঠের সময় তাদের তাওরাত-শিক্ষক প্রস্তর নিক্ষেপ সম্পর্কিত আয়াতের উপর স্বীয় হস্ত রেখে তার উপর নীচের অংশ পড়তে লাগল। রজমের কথা লিখা আয়াতটি পড়ছিল না। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তার হাতটি রজমের আয়াতের উপর থেকে সরিয়ে দিয়ে বললেন, এটা কী? যখন তারা এ অবস্থা দেখল তখন বলল, এটি রজমের আয়াত। অনন্তর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে রজম করার নির্দেশ দিলেন এবং মসজিদের পার্শ্বে জানাযার স্থানের নিকটে উভয়কে ‘রজম’ করা হল। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি সেই পুরুষটিকে দেখলাম তার সঙ্গীনীর উপরে ঝুঁকে পড়ে তাকে প্রস্তরাঘাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। [১৩২৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني ابراهيم بن المنذر، حدثنا ابو ضمرة، حدثنا موسى بن عقبة، عن نافع، عن عبد الله بن عمر رضى الله عنهما ان اليهود، جاءوا الى النبي صلى الله عليه وسلم برجل منهم وامراة قد زنيا، فقال لهم " كيف تفعلون بمن زنى منكم ". قالوا نحممهما ونضربهما. فقال " لا تجدون في التوراة الرجم ". فقالوا لا نجد فيها شييا. فقال لهم عبد الله بن سلام كذبتم {فاتوا بالتوراة فاتلوها ان كنتم صادقين} فوضع مدراسها الذي يدرسها منهم كفه على اية الرجم، فطفق يقرا ما دون يده وما وراءها، ولا يقرا اية الرجم، فنزع يده عن اية الرجم فقال ما هذه فلما راوا ذلك قالوا هي اية الرجم. فامر بهما فرجما قريبا من حيث موضع الجنايز عند المسجد، فرايت صاحبها يجنا عليها يقيها الحجارة
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ আয়াত সম্পর্কে বলেন, মানুষের জন্য মানুষ কল্যাণকর তখনই হয় যখন তাদের গ্রীবাদেশে (আল্লাহর আনুগত্যের) শিকল লাগিয়ে নিয়ে আসে। অতঃপর তারা ইসলামে প্রবেশ করে। [৩০১০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن يوسف، عن سفيان، عن ميسرة، عن ابي حازم، عن ابي هريرة رضى الله عنه {كنتم خير امة اخرجت للناس} قال خير الناس للناس، تاتون بهم في السلاسل في اعناقهم حتى يدخلوا في الاسلام
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, إِذْ هَمَّتْ طَائِفَتَانِ مِنْكُمْ أَنْ تَفْشَلَا وَاللهُ وَلِيُّهُمَا আয়াতটি আমাদের ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা দু’দল বানী হারিসা আর বানী সালিমা। যেহেতু এ আয়াতে وَاللهُ وَلِيُّهُمَا -‘‘আল্লাহ উভয়ের অভিভাবক’’ উল্লেখ আছে, সেহেতু এটা অবতীর্ণ না হওয়া আমরা পছন্দ করতাম না। সুফ্ইয়ান (রহ.)-এর এক বর্ণনায় আছে وَمَا يَسُرُّنِيْ -‘আমাকে ভাল লাগেনি’। [৪০৫১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، قال قال عمرو سمعت جابر بن عبد الله رضى الله عنهما يقول فينا نزلت {اذ همت طايفتان منكم ان تفشلا والله وليهما} قال نحن الطايفتان بنو حارثة وبنو سلمة، وما نحب وقال سفيان مرة وما يسرني انها لم تنزل لقول الله {والله وليهما}
সালিম (রহ.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন যে, তিনি ফজরের সালাতের শেষ রাকআতে রুকূ‘ থেকে মাথা তুলে ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ্ (আল্লাহ তাঁর প্রশংসাকারীর প্রশংসা শোনেন। হে আমাদের প্রতিালক! তোমার জন্য সমস্ত প্রশংসা)’, ‘রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’ বলার পর এটা বলতেনঃ হে আল্লাহ! অমুক, অমুক এবং অমুককে লানত করুন। তখন আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ ..... فَإِنَّهُمْ ظَالِمُوْنَ ‘‘তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদের শাস্তি দিবেন, এ বিষয়ে তোমার করণীয় কিছুই নেই। কারণ তারা যালিম।’’ ইসহাক ইবনু রাশিদ (রহ.) ইমাম যুহরী (রহ.) থেকে এটা বর্ণনা করেছেন। [৪০৬৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا حبان بن موسى، اخبرنا عبد الله، اخبرنا معمر، عن الزهري، قال حدثني سالم، عن ابيه، انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا رفع راسه من الركوع في الركعة الاخرة من الفجر يقول " اللهم العن فلانا وفلانا وفلانا ". بعد ما يقول " سمع الله لمن حمده ربنا ولك الحمد ". فانزل الله {ليس لك من الامر شىء} الى قوله {فانهم ظالمون}. رواه اسحاق بن راشد عن الزهري
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারো জন্যে বদদু‘আ অথবা দু‘আ করার মনস্থ করতেন, তখন সালাতের রুকূর পরেই কুনূতে নাযিলা (বদ্দু‘আ ও হিফাযাতের জন্য অবতারিত দু‘আ) পড়তেন। কখনো কখনোسَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، اللهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ ’ বলার পর বলতেন, হে আল্লাহ! ওয়ালিদ ইবনু ওয়ালিদ, সালামাহ ইবনু হিশাম এবং আইয়াশ ইবনু আবূ রাবিয়াহকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! মুদার গোত্রের উপর শাস্তি কঠোর করুন। এ শাস্তিকে ইউসুফ (আঃ)-এর যুগের দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষে পরিণত করুন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাগুলোকে উচ্চস্বরে বলতেন। কখনো কখনো তিনি কয়েকটি গোত্রের ব্যাপারে ফজরের সালাতে বলতেন, হে আল্লাহ! অমুক এবং অমুককে লা‘নাত দিন। অবশেষে আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেনঃ لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ। [৭৯৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا ابراهيم بن سعد، حدثنا ابن شهاب، عن سعيد بن المسيب، وابي، سلمة بن عبد الرحمن عن ابي هريرة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا اراد ان يدعو على احد او يدعو لاحد قنت بعد الركوع، فربما قال اذا قال " سمع الله لمن حمده، اللهم ربنا لك الحمد، اللهم انج الوليد بن الوليد، وسلمة بن هشام، وعياش بن ابي ربيعة، اللهم اشدد وطاتك على مضر واجعلها سنين كسني يوسف ". يجهر بذلك وكان يقول في بعض صلاته في صلاة الفجر " اللهم العن فلانا وفلانا ". لاحياء من العرب، حتى انزل الله {ليس لك من الامر شىء} الاية
وَهْوَ تَأْنِيْثُ آخِرِكُمْ. وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : (إِحْدَى الْحُسْنَيَيْنِ): فَتْحًا أَوْ شَهَادَةً. آخِرِكُمْ -এর স্ত্রীলিঙ্গ أُخْرَاكُمْ। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, দু’ কল্যাণের একটি, এর অর্থ হল বিজয় অথবা শাহাদাত লাভ। ৪৫৬১. বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহূদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু পদাতিক সৈন্যের উপর ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করেন। এরপর তাদের কতক পরাজিত হলে পালাতে লাগল, এটাই হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তোমাদের পেছন দিক থেকে ডাকছিলেন। মাত্র বারোজন লোক ব্যতীত আর কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন না। [৩০৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عمرو بن خالد، حدثنا زهير، حدثنا ابو اسحاق، قال سمعت البراء بن عازب رضى الله عنهما قال جعل النبي صلى الله عليه وسلم على الرجالة يوم احد عبد الله بن جبير، واقبلوا منهزمين، فذاك اذ يدعوهم الرسول في اخراهم، ولم يبق مع النبي صلى الله عليه وسلم غير اثنى عشر رجلا
আবূ ত্বলহা (রাঃ) বলেন, আমরা উহূদ যুদ্ধের দিন সারিবদ্ধ অবস্থায় ছিলাম যখন তন্দ্রা আমাদের আচ্ছাদিত করে ফেলেছিল। তিনি বলেন, আমার তরবারি আমার হাত থেকে পড়ে যাচ্ছিল, আমি তা উঠাচ্ছিলাম, আবার পড়ে যাচ্ছিল, আবার তা উঠাচ্ছিলাম। [৪০৬৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسحاق بن ابراهيم بن عبد الرحمن ابو يعقوب، حدثنا حسين بن محمد، حدثنا شيبان، عن قتادة، حدثنا انس، ان ابا طلحة، قال غشينا النعاس ونحن في مصافنا يوم احد قال فجعل سيفي يسقط من يدي واخذه، ويسقط واخذه
بَاب قَوْلِهِ : ৬৫/৩/১২. অধ্যায়: আল্লাহর বাণীঃ (اَلَّذِيْنَ اسْتَجَابُوْا لِلهِ وَالرَّسُوْلِ مِنْمبَعْدِ مَآ أَصَابَهُمُ الْقَرْحُ ط لِلَّذِيْنَ أَحْسَنُوْا مِنْهُمْ وَاتَّقَوْا أَجْرٌ عَظِيْمٌ ج) (الْقَرْحُ) الْجِرَاحُ (اسْتَجَابُوْا) أَجَابُوْا : يَسْتَجِيْبُ يُجِيْبُ. আহত হওয়ার পরও যারা আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দেয়, তাদের মধ্যে যারা ভাল কাজ করে এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করে, তাদের জন্য রয়েছে বিরাট পুরস্কার- (সূরাহ আলু ‘ইমরান ৩/১৭২)। الْقَرْحُ -যখম, الْقَرْحُ -ডাকে সাড়া দিন, يَسْتَجِيْبُ -সাড়া দেয়। ৪৫৬৩. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيْلُ কথাটি ইবরাহীম (আঃ) বলেছিলেন, যখন তিনি আগুনে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন যখন লোকেরা বলল, ‘‘নিশ্চয় তোমাদের বিরুদ্ধে কাফিররা বিরাট সাজ-সরঞ্জামের সমাবেশ করেছে, সুতরাং তোমরা তাদের ভয় কর। এ কথা তাদের ঈমানের তেজ বাড়িয়ে দিল এবং তারা বললঃ আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম কার্যনির্বাহক’’- (সূরাহ আলে ইমরান ৩/১৭৩)। [৪৫৬৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن يونس اراه قال حدثنا ابو بكر، عن ابي حصين، عن ابي الضحى، عن ابن عباس، {حسبنا الله ونعم الوكيل} قالها ابراهيم عليه السلام حين القي في النار، وقالها محمد صلى الله عليه وسلم حين قالوا {ان الناس قد جمعوا لكم فاخشوهم فزادهم ايمانا وقالوا حسبنا الله ونعم الوكيل}
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, ইবরাহীম (আঃ) যখন আগুনে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন তখন তাঁর শেষ কথা ছিলঃ حَسْبِيَ اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيْلُ অর্থাৎ ‘‘আল্লাহ্ই যথেষ্ট’’ তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক! [৪৫৬৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مالك بن اسماعيل، حدثنا اسراييل، عن ابي حصين، عن ابي الضحى، عن ابن عباس، قال كان اخر قول ابراهيم حين القي في النار حسبي الله ونعم الوكيل
(وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِيْنَ يَبْخَلُوْنَ بِمَآ اٰتٰهُمُ اللهُ مِنْ فَضْلِهٰهُوَ خَيْرًا لَّهُمْ ط بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ ط سَيُطَوَّقُوْنَ مَا بَخِلُوْا بِهٰيَوْمَ الْقِيٰمَةِ ط وَلِلهِ مِيْرَاثُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ ط وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِيْرٌ) سَيُطَوَّقُوْنَ كَقَوْلِكَ طَوَّقْتُهُ بِطَوْقٍ. ‘‘যারা কৃপণতা করে তাতে যা আল্লাহ্ তাদের দিয়েছেন নিজ অনুগ্রহে, তারা যেন মনে না করে যে এ কৃপণতা তাদের জন্য মঙ্গলজনক; বরং তা তাদের জন্য অমঙ্গলজনক। ঐ মাল যাতে তারা কৃপণতা করেছিল, কিয়ামতের দিন তা দিয়ে বেড়ি বানিয়ে গলায় পরিয়ে দেয়া হবে। আসমান ও যমীনের মালিকানা স্বত্ব একমাত্র আল্লাহর। তোমরা যা কর আল্লাহ্ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত’’- (সূরাহ আলে ইমরান ৩/১৮০)। سَيُطَوَّقُوْنَ এটা আরবী বাক্য অর্থ ‘তাকে বেড়ি লাগিয়ে দিয়েছি’-এর মত। ৪৫৬৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যাকে আল্লাহ তা‘আলা ধন-সম্পদ দেন, তারপর সে তার যাকাত আদায় করে না- কিয়ামতের দিন তার ধন-সম্পদকে তার জন্যে লোমবিহীন কালো-চিহ্ন যুক্ত সর্পে রূপ দেয়া হবে এবং তার গলায় পরিয়ে দেয়া হবে। মুখের দু’দিক দিয়ে সে তাকে দংশন করতে থাকবে এবং বলবে, ‘আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চয়’। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ وَلَا يَحْسِبَنَّ الَّذِيْنَ يَبْخَلُوْنَ بِمَٓ اٰتَاهُمْ اللهُ مِنْ فَضْلِهٰ ‘‘এবং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদেরকে দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তাদের জন্য তা মঙ্গলজনক এটা যেন তারা কিছুতেই মনে না করে ......’’ আয়াতের শেষ অংশ। [১৪০৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني عبد الله بن منير، سمع ابا النضر، حدثنا عبد الرحمن هو ابن عبد الله بن دينار عن ابيه، عن ابي صالح، عن ابي هريرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من اتاه الله مالا فلم يود زكاته، مثل له ماله شجاعا اقرع، له زبيبتان يطوقه يوم القيامة، ياخذ بلهزمتيه يعني بشدقيه يقول انا مالك انا كنزك ". ثم تلا هذه الاية {ولا يحسبن الذين يبخلون بما اتاهم الله من فضله} الى اخر الاية
(وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِيْنَ أُوْتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَمِنَ الَّذِيْنَ أَشْرَكُوْآ أَذًى كَثِيْرًا). ‘‘আর অবশ্যই তোমরা শুনতে পাবে পূর্ববর্তী আহলে কিতাবের এবং মুশরিকদের নিকট হতে অনেক কষ্টদায়ক কথা। (সূরাহ আলে ইমরান ৩/১৮৬) ৪৫৬৬. উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাধার পিঠে আরোহণ করেছিলেন, একটি ফদকী চাদর তাঁর পরনে ছিল। উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)-কে তাঁর পেছনে বসিয়েছিলেন। তিনি বানী হারিস ইবনু খাযরায গোত্রে অসুস্থ সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ)-কে দেখতে যাচ্ছিলেন। এটা ছিল বাদর যুদ্ধের পূর্বেকার ঘটনা। বর্ণনাকারী বলেন যে, যেতে যেতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি মজলিসের কাছে পৌঁছলেন, যেখানে ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই বিন সালুলও ছিল-সে তখনও ইসলাম গ্রহণ করেনি। সে মজলিসে মুসলিম, মুশরিক, প্রতিমাপূজারী এবং ইয়াহূদী সকল প্রকারের লোক ছিল এবং তথায় ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ)-ও ছিলেন। জন্তুর পদধূলি যখন মজলিসকে আচ্ছন্ন করল, তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই আপন চাদরে নাক ঢেকে ফেলল। তারপর বলল, আমাদের এখানে ধূলো উড়িয়ো না। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদেরকে সালাম করলেন। তারপর বাহন থেকে অবতরণ করলেন এবং তাদেরকে আল্লাহর প্রতি দাওয়াত দিলেন এবং তাদের কাছে কুরআন মাজীদ পাঠ করলেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই বলল, এই লোকটি! তুমি যা বলছ তা যদি সত্য হয় তাহলে এর চেয়ে উত্তম কিছুই নেই। তবে আমাদের মজলিসে আমাদেরকে জ্বালাতন করবে না। তুমি তোমার তাঁবুতে যাও। যে তোমার কাছে যাবে যাকে তুমি তোমার কথা বলবে। অনন্তর ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের মজলিসে এগুলো আমাদের কাছে বলবেন, কারণ আমরা তা পছন্দ করি। এতে মুসলিম, মুশরিক এবং ইয়াহূদীরা পরস্পর গালাগালি শুরু করল। এমনকি তারা মারামারিতে লিপ্ত হওয়ার পর্যায়ে উপনীত হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে থামাচ্ছিলেন। অবশেষে তারা থামল। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পশুটির পিঠে চড়ে রওয়ানা দিলেন এবং সা‘দ ইবনু উবাদাহ (রাঃ)-এর কাছে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, হে সা‘দ! আবূ হুবাব অর্থাৎ ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই কী বলেছে, তুমি শুনেছ কি? সে এমন বলেছে। সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ্ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাকে ক্ষমা করে দিন। তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করবেন না। যিনি আপনার উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, তাঁর শপথ করে বলছি, আল্লাহ আপনার উপর যা অবতীর্ণ করেছেন তা সত্য। এতদঞ্চলের অধিবাসীগণ চুক্তি সম্পাদন করেছিল যে, তাকে শাহী টুপী পরাবে এবং নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করবে। যখন আল্লাহ তা‘আলা সত্য প্রদানের মাধ্যমে এ পরিকল্পনা অস্বীকার করলেন তখন সে ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং আপনার সঙ্গে যে ব্যবহার করেছে যা আপনি দেখেছেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ক্ষমা করে দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাঃ) মুশরিক এবং কিতাবীদেরকে ক্ষমা করে দিতেন এবং তাদের জ্বালাতনে ধৈর্য ধারণ করতেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘‘আর অবশ্যই তোমরা শুনতে পাবে পূর্ববর্তী আহলে কিতাবের এবং মুশরিকদের নিকট হতে অনেক কষ্টদায়ক কথা’’- (সূরাহ আলে ইমরান ৩/১৮৬)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন, ‘‘কিতাবীদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পরও তাদের অনেকেই ঈর্ষা বশতঃ তোমাদের ঈমান আনার পর আবার তোমাদের কাফিররূপে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে। যতক্ষণ না আল্লাহর কোন নির্দেশ আসে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা ক্ষমা কর ও উপেক্ষা কর। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান’’- (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১০৯)। আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশ মোতাবেক নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষমার দিকেই ফিরে যেতেন। শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা অনুমতি দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বদরের যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন এবং তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা কাফির কুরায়শ নেতাদেরকে হত্যা করলেন তখন ইবনু উবাই ইবনু সালূল তার সঙ্গী মুশরিক এবং প্রতীমা পূজারীরা বলল, এটাতো এমন একটি ব্যাপার যা বিজয় লাভ করেছে। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ইসলামের বাই‘আত করে প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করল। [২৯৮৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে তিনি যখন যুদ্ধে বের হতেন তখন কিছু সংখ্যক মুনাফিক ঘরে বসে থাকত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে যাওয়ার পর বসে থাকতে পারায় আনন্দ প্রকাশ করত। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসলে তাঁর কাছে শপথ করে ওজর পেশ করত এবং যে কাজ করেনি সে কাজের জন্য প্রশংসিত হতে পছন্দ করত। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল-لَا يَحْسِبَنَّ الَّذِيْنَ يَفْرَحُوْنَ ...... ‘‘তুমি কখনও মনে কর না যে, যারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য আনন্দিত হয় এবং নিজেরা যা করেনি তার জন্য প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা আযাব থেকে পরিত্রাণ পাবে। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি’’- (সূরাহ আলে ইমরান ৩/১৮৮)। [মুসলিম ৫০/হাঃ ২৭৭৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سعيد بن ابي مريم، اخبرنا محمد بن جعفر، قال حدثني زيد بن اسلم، عن عطاء بن يسار، عن ابي سعيد الخدري رضى الله عنه ان رجالا من المنافقين على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم كان اذا خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم الى الغزو تخلفوا عنه، وفرحوا بمقعدهم خلاف رسول الله صلى الله عليه وسلم فاذا قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم اعتذروا اليه وحلفوا، واحبوا ان يحمدوا بما لم يفعلوا، فنزلت {لا يحسبن الذين يفرحون} الاية
‘আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস অবহিত করেছেন যে, মারওয়ান (রহ.) তাঁর দারোয়ানকে বললেন, হে নাফি‘! তুমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে বল, যদি প্রাপ্ত বস্তুতে আনন্দিত এবং করেনি এমন কাজ সম্পর্কে প্রশংসিত হতে আশাবাদী প্রত্যেক ব্যক্তিরই শাস্তি প্রাপ্য হয় তাহলে সকল মানুষই শাস্তিপ্রাপ্ত হবে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, এটা তোমাদের মাথা ঘামানোর বিষয় নয়। একদা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহূদীদেরকে ডেকে একটা বিষয় জিজ্ঞেস করেছিলেন, তাতে তারা সত্য গোপন করে বিপরীত তথ্য দিয়েছিল। এতদসত্ত্বেও তারা তাদের দেয়া উত্তরের বিনিময়ে প্রশংসা অর্জনের আশা করেছিল এবং তাদের সত্য গোপনের জন্যে আনন্দিত হয়েছিল। তারপর ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) পাঠ করলেন- يَفْرَحُوْنَ بِمَآ أَتَوْا وَّيُحِبُّوْنَ أَنْ يُّحْمَدُوْا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوْا وَإِذْ أَخَذَ اللهُ مِيْثَاقَ الَّذِيْنَ أُوْتُوا الْكِتَابَ ‘‘স্মরণ কর, যখন আল্লাহ্ প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন আহলে কিতাবের, তোমরা মানুষের কাছে কিতাব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না। কিন্তু তারা সে প্রতিশ্রুতি নিজেদের পেছনে ফেলে রাখল এবং তার পরিবর্তে নগণ্য বিনিময় গ্রহণ করল। সুতরাং তারা যা বিনিময় গ্রহণ করল কত নিকৃষ্ট তা! তুমি কখনও মনে কর না যে, যারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য আনন্দিত হয় এবং নিজেরা যা করেনি তার জন্য প্রশংসিত হতে ভালবাসে, তারা আযাব থেকে পরিত্রাণ পাবে। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি’’- (সূরাহ আলে ইমরান ৩/১৮৭-১৮৮)। বর্ণনাকারী ‘আবদুর রায্যাক (রহ.) ইবনু জুরাইজ (রহ.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২০৯) ইবনু মুকাতিল (রহ.) ....... হুমায়দ ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) অবহিত করেছেন যে, মারওয়ান এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। [মুসলিম ৫০/হাঃ ২৭৭৮, আহমাদ ২৭১২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني ابراهيم بن موسى، اخبرنا هشام، ان ابن جريج، اخبرهم عن ابن ابي مليكة، ان علقمة بن وقاص، اخبره ان مروان قال لبوابه اذهب يا رافع الى ابن عباس فقل لين كان كل امري فرح بما اوتي، واحب ان يحمد بما لم يفعل، معذبا، لنعذبن اجمعون. فقال ابن عباس وما لكم ولهذه انما دعا النبي صلى الله عليه وسلم يهود فسالهم عن شىء، فكتموه اياه، واخبروه بغيره، فاروه ان قد استحمدوا اليه بما اخبروه عنه فيما سالهم، وفرحوا بما اوتوا من كتمانهم، ثم قرا ابن عباس {واذ اخذ الله ميثاق الذين اوتوا الكتاب} كذلك حتى قوله {يفرحون بما اتوا ويحبون ان يحمدوا بما لم يفعلوا}. تابعه عبد الرزاق عن ابن جريج. حدثنا ابن مقاتل، اخبرنا الحجاج، عن ابن جريج، اخبرني ابن ابي مليكة، عن حميد بن عبد الرحمن بن عوف، انه اخبره ان مروان بهذا
(إِنَّ فِيْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَاٰيَاتٍ لِأُوْلِي الْأَلْبَابِ)الآيَةَ নিশ্চয় আসমান ও যমীনের সৃজনে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে নিশ্চিত নিদর্শন রয়েছে জ্ঞানবানদের জন্য। (সূরাহ আলে ‘ইমরান ৩/১৯০) ৪৫৬৯. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আমার খালা মাইমূনাহ (রাঃ)-এর কাছে রাত কাটিয়েছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারবর্গের সঙ্গে কিছুক্ষণ আলাপ-আলোচনা করে শুয়ে পড়লেন। তারপর রাত্রির শেষ তৃতীয়াংশে তিনি উঠলেন এবং আসমানের দিকে তাকিয়ে পাঠ করলেন-إِنَّ فِيْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَاٰيَاتٍ لِأُوْلِي الْأَلْبَابِ। এরপর দাঁড়ালেন এবং উযূ করে মিসওয়াক করে এগার রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। এরপর বিলাল (রাঃ) আযান দিলে তিনি দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তারপর বের হলেন এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন। [১১৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سعيد بن ابي مريم، اخبرنا محمد بن جعفر، قال اخبرني شريك بن عبد الله بن ابي نمر، عن كريب، عن ابن عباس رضى الله عنهما قال بت عند خالتي ميمونة، فتحدث رسول الله صلى الله عليه وسلم مع اهله ساعة ثم رقد، فلما كان ثلث الليل الاخر قعد فنظر الى السماء فقال {ان في خلق السموات والارض واختلاف ��لليل والنهار لايات لاولي الالباب}، ثم قام فتوضا واستن، فصلى احدى عشرة ركعة، ثم اذن بلال فصلى ركعتين، ثم خرج فصلى الصبح
(الَّذِيْنَ يَذْكُرُوْنَ اللهَ قِيٰمًا وَّقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوْبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُوْنَ فِيْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ) ‘‘যারা আল্লাহকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে এবং চিন্তা করে আসমান ও যমীনের সৃজনের ব্যাপারে।’’ (সূরাহ আলে ‘ইমরান ৩/১৯১) ৪৫৭০. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মাইমূনাহ (রাঃ)-এর নিকট রাত কাটিয়েছিলাম। আমি স্থির করলাম যে, অবশ্যই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত আদায় করা দেখব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি বিছানা বিছানো হল। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটার লম্বালম্বি দিকে ঘুমালেন। এরপর জাগ্রত হয়ে মুখমন্ডল থেকে ঘুমের প্রভাব মুছতে লাগলেন এবং সূরাহ আলে ‘ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করে শেষ করলেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পুরাতন মশকের পানিপাত্রের নিকটে এসে তা ধরলেন এবং উযূ করে সালাতে দাঁড়ালেন, আমি দাঁড়িয়ে তিনি যা যা করছিলেন তা তা করলাম। তারপর আমি এসে তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ালাম। তিনি আমার মাথায় হাত রাখলেন, তারপর আমার কানে ধরে মলতে লাগলেন। তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর বিতরের সালাত আদায় করলেন। [১১৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا عبد الرحمن بن مهدي، عن مالك بن انس، عن مخرمة بن سليمان، عن كريب، عن ابن عباس رضى الله عنهما قال بت عند خالتي ميمونة فقلت لانظرن الى صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم فطرحت لرسول الله صلى الله عليه وسلم وسادة، فنام رسول الله صلى الله عليه وسلم في طولها، فجعل يمسح النوم عن وجهه، ثم قرا الايات العشر الاواخر من ال عمران حتى ختم، ثم اتى شنا معلقا، فاخذه فتوضا، ثم قام يصلي، فقمت فصنعت مثل ما صنع ثم جيت فقمت الى جنبه، فوضع يده على راسي، ثم اخذ باذني، فجعل يفتلها، ثم صلى ركعتين، ثم صلى ركعتين، ثم صلى ركعتين، ثم صلى ركعتين، ثم صلى ركعتين، ثم صلى ركعتين، ثم اوتر
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তিনি মাইমূনাহ (রাঃ)-এর নিকট রাত্রি যাপন করেন, তিনি হলেন তাঁর খালা। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি বিছানায় আড়াআড়িভাবে শুয়েছিলাম আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবারবর্গ লম্বালম্বির দিকে শুয়েছিলাম। অর্ধরাত্রি কিংবা এর সামান্য পূর্ব অথবা সামান্য পর পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমালেন। তারপর তিনি জাগ্রত হলেন। এরপর দু’হাত দিয়ে মুখ থেকে ঘুমের রেশ মুছতে লাগলেন। তারপর সূরাহ আলে ‘ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করলেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পুরাতন মশকের কাছে গেলেন এবং সুন্দরভাবে ‘উযু করলেন। এরপর সালাতে দন্ডায়মান হলেন। তিনি যা যা করেছিলেন আমিও ঠিক তা করলাম। তারপর গিয়ে তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাত আমার মাথায় রেখে আমার ডান কান ধরে মলতে লাগলেন। এরপর তিনি দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত, তারপর দু’রাক‘আত তারপর দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর বিতরের সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি একটু শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়াযযিন আসল, তিনি হালকাভাবে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বের হলেন এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন। [১১৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا معن بن عيسى، حدثنا مالك، عن مخرمة بن سليمان، عن كريب، مولى عبد الله بن عباس ان عبد الله بن عباس، اخبره انه، بات عند ميمونة زوج النبي صلى الله عليه وسلم وهى خالته قال فاضطجعت في عرض الوسادة، واضطجع رسول الله صلى الله عليه وسلم واهله في طولها، فنام رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى انتصف الليل، او قبله بقليل، او بعده بقليل، ثم استيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم فجعل يمسح النوم عن وجهه بيديه، ثم قرا العشر الايات الخواتم من سورة ال عمران، ثم قام الى شن معلقة فتوضا منها، فاحسن وضوءه، ثم قام يصلي، فصنعت مثل ما صنع، ثم ذهبت فقمت الى جنبه، فوضع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده اليمنى على راسي، واخذ باذني بيده اليمنى يفتلها، فصلى ركعتين، ثم ركعتين، ثم ركعتين، ثم ركعتين، ثم ركعتين، ثم ركعتين، ثم اوتر، ثم اضطجع حتى جاءه الموذن، فقام فصلى ركعتين خفيفتين، ثم خرج فصلى الصبح
কুরায়ব (রহ.) হতে বর্ণিত। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহধর্মিণী মাইমূনাহ (রাঃ)-এর নিকট রাত্রি যাপন করেছিলেন। মাইমূনাহ (রাঃ) হলেন তাঁর খালা। তিনি বলেন, আমি বিছানায় আড়াআড়ি শুয়ে পড়লাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবার লম্বা দিকে শয়ন করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদ্রামগ্ন হলেন। অর্ধরাত্রি কিংবা এর সামান্য আগে কিংবা সামান্য পরক্ষণে তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এবং মুখ থেকে ঘুমের ভাব মুছতে মুছতে বসলেন। তারপর সূরা আলে ‘ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করলেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পুরাতন মশকের নিকট গিয়ে তাত্থেকে উত্তমরূপে উযূ করলেন। এরপর সালাতে দন্ডায়মান হলেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমিও দাঁড়ালাম এবং তিনি যা করেছেন আমিও তা করলাম। তারপর আমি গিয়ে তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাত আমার মাথায় রেখে আমার ডান কান মলতে শুরু করলেন। তারপর তিনি দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর দু’রাক‘আত, অতঃপর তিনি বিতরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি শুয়ে পড়লেন। শেষে মুয়াযযিন ফজরের আযান দিলে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তারপর বের হলেন এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন। [১১৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة بن سعيد، عن مالك، عن مخرمة بن سليمان، عن كريب، مولى ابن عباس ان ابن عباس رضى الله عنهما اخبره انه، بات عند ميمونة زوج النبي صلى الله عليه وسلم وهى خالته قال فاضطجعت في عرض الوسادة، واضطجع رسول الله صلى الله عليه وسلم واهله في طولها، فنام رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى اذا انتصف الليل، او قبله بقليل، او بعده بقليل، استيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم فجلس يمسح النوم عن وجهه بيده، ثم قرا العشر الايات الخواتم من سورة ال عمران، ثم قام الى شن معلقة فتوضا منها، فاحسن وضوءه، ثم قام يصلي. قال ابن عباس فقمت فصنعت مثل ما صنع، ثم ذهبت فقمت الى جنبه، فوضع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده اليمنى على راسي، واخذ باذني اليمنى يفتلها، فصلى ركعتين، ثم ركعتين، ثم ركعتين، ثم ركعتين، ثم ركعتين، ثم ركعتين، ثم اوتر ثم، اضطجع حتى جاءه الموذن، فقام فصلى ركعتين خفيفتين، ثم خرج فصلى الصبح
سُوْرَةُ النِّسَاءِ সূরাহ (৪) : আন-নিসা قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ : (يَسْتَنْكِفُ) يَسْتَكْبِرُ. (قِوَامًا) : قِوَامُكُمْ مِنْ مَعَايِشِكُمْ. (لَهُنَّ سَبِيْلًا) يَعْنِي الرَّجْمَ لِلثَّيِّبِ، وَالْجَلْدَ لِلْبِكْرِ. وَقَالَ غَيْرُهُ : (مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاع) يَعْنِي اثْنَتَيْنِ وَثَلَاثًا وَأَرْبَعًا وَلَا تُجَاوِزُ الْعَرَبُ رُبَاعَ. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, يَسْتَنْكِفُ অহঙ্কার করে, قِوَامًا -তোমাদের জীবিকার্জনের মাধ্যম। لَهُنَّ سَبِيْلًا -সাইয়েবা বা বিবাহিতার জন্য প্রস্তর নিক্ষেপ (রজম) আর কুমারীর জন্য বেত্রাঘাত। তিনি ব্যতীত অন্যান্য তাফসীরকারক বলেন, مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاع অর্থাৎ দুই, তিন এবং চার; আরবগণ رُبَاعَ শব্দকে غير منصرف বা অপরিবর্তনশীল শব্দ মনে করে। ৪৫৭৩. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে একজন ইয়াতীম বালিকা ছিল। অতঃপর সে তাকে বিয়ে করল। সে বালিকার একটি বাগান ছিল। তার অন্তরে ঐ বালিকার প্রতি কোন আকর্ষণ না থাকা সত্ত্বেও বাগানের কারণে সে ঐ বালিকাটিকে বিবাহ করে রেখে দিতে চায়। এ সম্পর্কে আয়াত অবতীর্ণ হয়- আর যদি আশঙ্কা কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না। আমার ধারণা যে, ‘উরওয়াহ বলেন, ইয়াতীম বালিকাটি সে বাগান ও মালের অংশীদার ছিল। [২৪৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابراهيم بن موسى، اخبرنا هشام، عن ابن جريج، قال اخبرني هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة رضى الله عنها ان رجلا، كانت له يتيمة فنكحها، وكان لها عذق، وكان يمسكها عليه، ولم يكن لها من نفسه شىء فنزلت فيه {وان خفتم ان لا تقسطوا في اليتامى} احسبه قال كانت شريكته في ذلك العذق وفي ماله
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال اخبرني عروة بن الزبير، ان اسامة بن زيد رضى الله عنهما اخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم ركب على حمار على قطيفة فدكية، واردف اسامة بن زيد وراءه، يعود سعد بن عبادة في بني الحارث بن الخزرج قبل وقعة بدر قال حتى مر بمجلس فيه عبد الله بن ابى، ابن سلول، وذلك قبل ان يسلم عبد الله بن ابى فاذا في المجلس اخلاط من المسلمين والمشركين عبدة الاوثان واليهود والمسلمين، وفي المجلس عبد الله بن رواحة، فلما غشيت المجلس عجاجة الدابة خمر عبد الله بن ابى انفه بردايه، ثم قال لا تغبروا علينا. فسلم رسول الله صلى الله عليه وسلم عليهم ثم وقف فنزل فدعاهم الى الله، وقرا عليهم القران، فقال عبد الله بن ابى ابن سلول ايها المرء، انه لا احسن مما تقول، ان كان حقا، فلا توذينا به في مجلسنا، ارجع الى رحلك، فمن جاءك فاقصص عليه. فقال عبد الله بن رواحة بلى يا رسول الله، فاغشنا به في مجالسنا، فانا نحب ذلك. فاستب المسلمون والمشركون واليهود حتى كادوا يتثاورون، فلم يزل النبي صلى الله عليه وسلم يخفضهم حتى سكنوا، ثم ركب النبي صلى الله عليه وسلم دابته فسار حتى دخل على سعد بن عبادة، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم " يا سعد الم تسمع ما قال ابو حباب ". يريد عبد الله بن ابى " قال كذا وكذا ". قال سعد بن عبادة يا رسول الله، اعف عنه واصفح عنه، فوالذي انزل عليك الكتاب، لقد جاء الله بالحق الذي انزل عليك، لقد اصطلح اهل هذه البحيرة على ان يتوجوه فيعصبونه بالعصابة، فلما ابى الله ذلك بالحق الذي اعطاك الله شرق بذلك، فذلك فعل به ما رايت. فعفا عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان النبي صلى الله عليه وسلم واصحابه يعفون عن المشركين واهل الكتاب كما امرهم الله، ويصبرون على الاذى قال الله عز وجل {ولتسمعن من الذين اوتوا الكتاب من قبلكم ومن الذين اشركوا اذى كثيرا } الاية، وقال الله {ود كثير من اهل الكتاب لو يردونكم من بعد ايمانكم كفارا حسدا من عند انفسهم} الى اخر الاية، وكان النبي صلى الله عليه وسلم يتاول العفو ما امره الله به، حتى اذن الله فيهم، فلما غزا رسول الله صلى الله عليه وسلم بدرا، فقتل الله به صناديد كفار قريش قال ابن ابى ابن سلول، ومن معه من المشركين، وعبدة الاوثان هذا امر قد توجه. فبايعوا الرسول صلى الله عليه وسلم على الاسلام فاسلموا