Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫০৪ হাদিসসমূহ
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে فَهَلْ مِنْ مُّدَّكِرٍ পড়ার পর তিনি বললেনঃ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ। [৩৩৪১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى، حدثنا وكيع، عن اسراييل، عن ابي اسحاق، عن الاسود بن يزيد، عن عبد الله، قال قرات على النبي صلى الله عليه وسلم فهل من مذكر فقال النبي صلى الله عليه وسلم {فهل من مدكر}
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাদর যুদ্ধের দিন একটি ছোট্ট তাঁবুতে অবস্থান করে এ দু‘আ করেছিলেন- হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট তোমার ওয়াদা ও অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কামনা করছি! হে আল্লাহ্! তুমি যদি চাও, আজকের দিনের পর তোমার ‘ইবাদাত না কর হোক....ঠিক এ সময়ই আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) তাঁর হস্ত ধারণ পূর্বক বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যথেষ্ট হয়েছে। আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট অনুনয়-বিনয়ের সঙ্গে বহু দু‘আ করেছেন। এ সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ম পরিহিত অবস্থায় উঠে দাঁড়ালেন। তাই তিনি আয়াত দু’টো পড়তে পড়তে তাঁবু থেকে বেরিয়ে এলেন, ‘‘এ দল তো শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠ পৃদর্শন করবে’’- (সূরাহ আল-কামার ৫৪ঃ৪৫-৪৬)।[২৯১৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن عبد الله بن حوشب، حدثنا عبد الوهاب، حدثنا خالد، عن عكرمة، عن ابن عباس،. وحدثني محمد، حدثنا عفان بن مسلم، عن وهيب، حدثنا خالد، عن عكرمة، عن ابن عباس رضى الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال وهو في قبة يوم بدر " اللهم اني انشدك عهدك ووعدك، اللهم ان تشا لا تعبد بعد اليوم ". فاخذ ابو بكر بيده فقال حسبك يا رسول الله، الححت على ربك. وهو يثب في الدرع، فخرج وهو يقول " {سيهزم الجمع ويولون الدبر}
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهٰى وَأَمَرُّ আয়াতটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মক্কা্য় অবতীর্ণ হয়েছে। আমি তখন কিশোরী ছিলাম, খেলাধূলা করতাম। [৪৯৯৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابراهيم بن موسى، حدثنا هشام بن يوسف، ان ابن جريج، اخبرهم قال اخبرني يوسف بن ماهك، قال اني عند عايشة ام المومنين قالت لقد انزل على محمد صلى الله عليه وسلم بمكة، واني لجارية العب {بل الساعة موعدهم والساعة ادهى وامر}
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাদর যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট্ট একটি তাঁবুতে অবস্থান করে এ দু‘আ করছিলেন, আয় আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে তোমার ওয়াদা ও অঙ্গীকার পূরণ কামনা করছি। হে আল্লাহ্! যদি তুমি চাও, আজকের পর আর কখনো তোমার ‘ইবাদাত না করা হোক.....। ঠিক এ সময় আবূ বাকর (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত ধরে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যথেষ্ট হয়েছে। আপনি আপনার প্রতিপালকের কাছে অনুনয়-বিনয়ের সঙ্গে বহু দু‘আ করেছেন। এ সময় তিনি লৌহবর্ম পরে ছিলেন। এরপর তিনি এ আয়াত পড়তে পড়তে তাঁবু থেকে বের হয়ে এলেনঃ একদল তো শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে। অধিকন্তু ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) তাদের শাস্তির নির্ধারিত কাল এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) হবে কঠিনতর ও তিক্ততর’’। (সূরাহ আল-কামার ৫৪/৪৫-৪৬) [২৯১৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني اسحاق، حدثنا خالد، عن خالد، عن عكرمة، عن ابن عباس، ان النبي صلى الله عليه وسلم قال وهو في قبة له يوم بدر " انشدك عهدك ووعدك، اللهم ان شيت لم تعبد بعد اليوم ابدا ". فاخذ ابو بكر بيده وقال حسبك يا رسول الله فقد الححت على ربك. وهو في الدرع فخرج وهو يقول " {سيهزم الجمع ويولون الدبر * بل الساعة موعدهم والساعة ادهى وامر}
سُوْرَةُ الرَّحْمٰنِ সূরাহ (৫৫) : আর্-রহমান وَقَالَ مُجَاهِدٌ (بِحُسْبَانٍ) كَحُسْبَانِ الرَّحَى وَقَالَ غَيْرُهُ (وَأَقِيْمُوا الْوَزْنَ) يُرِيْدُ لِسَانَ الْمِيْزَانِ وَالْعَصْفُ بَقْلُ الزَّرْعِ إِذَا قُطِعَ مِنْهُ شَيْءٌ قَبْلَ أَنْ يُدْرِكَ فَذَلِكَ الْعَصْفُ (وَالرَّيْحَانُ) رِزْقُهُ (وَالْحَبُّ) الَّذِيْ يُؤْكَلُ مِنْهُ وَالرَّيْحَانُ فِيْ كَلَامِ الْعَرَبِ الرِّزْقُ وَقَالَ بَعْضُهُمْ وَالْعَصْفُ يُرِيْدُ الْمَأْكُوْلَ مِنَ الْحَبِّ وَالرَّيْحَانُ النَّضِيْجُ الَّذِيْ لَمْ يُؤْكَلْ وَقَالَ غَيْرُهُ الْعَصْفُ وَرَقُ الْحِنْطَةِ وَقَالَ الضَّحَّاكُ الْعَصْفُ التِّبْنُ وَقَالَ أَبُوْ مَالِكٍ الْعَصْفُ أَوَّلُ مَا يَنْبُتُ تُسَمِّيْهِ النَّبَطُ هَبُوْرًا وَقَالَ مُجَاهِدٌ الْعَصْفُ وَرَقُ الْحِنْطَةِ وَالرَّيْحَانُ الرِّزْقُ (وَالْمَارِجُ) اللهَبُ الْأَصْفَرُ وَالأَخْضَرُ الَّذِيْ يَعْلُو النَّارَ إِذَا أُوْقِدَتْ وَقَالَ بَعْضُهُمْ عَنْ مُجَاهِدٍ (رَبُّ الْمَشْرِقَيْنِ) لِلشَّمْسِ فِي الشِّتَاءِ مَشْرِقٌ وَمَشْرِقٌ فِي الصَّيْفِ وَرَبُّ الْمَغْرِبَيْنِ مَغْرِبُهَا فِي الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ (لَا يَبْغِيَانِ) لَا يَخْتَلِطَانِ (الْمُنْشَاٰتُ) مَا رُفِعَ قِلْعُهُ مِنْ السُّفُنِ فَأَمَّا مَا لَمْ يُرْفَعْ قَلْعُهُ فَلَيْسَ بِمُنْشَأَةٍ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (كَالْفَخَّارِ) كَمَا يُصْنَعُ الْفَخَّارُ (الشُّوَاظُ) لَهَبٌ مِنْ نَارٍ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (نُحَاسٌ)النُّحَاسُ الصُّفْرُ يُصَبُّ عَلَى رُءُوْسِهِمْ فَيُعَذَّبُوْنَ بِهِ (خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ) يَهُمُّ بِالْمَعْصِيَةِ فَيَذْكُرُ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ فَيَتْرُكُهَا (مُدْهَآمَّتَانِ) سَوْدَاوَانِ مِنْ الرِّيِّ صَلْصَالٍ طِيْنٌ خُلِطَ بِرَمْلٍ فَصَلْصَلَ كَمَا يُصَلْصِلُ الْفَخَّارُ وَيُقَالُ مُنْتِنٌ يُرِيْدُوْنَ بِهِ صَلَّ يُقَالُ صَلْصَالٌ كَمَا يُقَالُ صَرَّ الْبَابُ عِنْدَ الإِغْلَاقِ وَصَرْصَرَ مِثْلُ كَبْكَبْتُهُ يَعْنِيْ كَبَبْتُهُ (فَاكِهَةٌ وَّنَخْلٌ وَّرُمَّانٌ)وَقَالَ بَعْضُهُمْ لَيْسَ الرُّمَّانُ وَالنَّخْلُ بِالْفَاكِهَةِ وَأَمَّا الْعَرَبُ فَإِنَّهَا تَعُدُّهَا فَاكِهَةً كَقَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ (حَافِظُوْا عَلَى الصَّلَوٰتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطٰى) فَأَمَرَهُمْ بِالْمُحَافَظَةِ عَلَى كُلِّ الصَّلَوَاتِ ثُمَّ أَعَادَ الْعَصْرَ تَشْدِيْدًا لَهَا كَمَا أُعِيْدَ النَّخْلُ وَالرُّمَّانُ وَمِثْلُهَا(أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللهَ يَسْجُدُ لَه” مَنْ فِي السَّمَوٰتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ) ثُمَّ قَالَ وَكَثِيْرٌ مِنْ النَّاسِ (وَكَثِيْرٌ حَقَّ عَلَيْهِ الْعَذَابُ) وَقَدْ ذَكَرَهُمْ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فِيْ أَوَّلِ قَوْلِهِ (مَنْ فِي السَّمَوٰتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ) وَقَالَ غَيْرُهُ (أَفْنَانٍ) أَغْصَانٍ (وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ) مَا يُجْتَنَى قَرِيْبٌ وَقَالَ الْحَسَنُ (فَبِأَيِّ اٰلَآءِ) نِعَمِهِ وَقَالَ قَتَادَةُ (رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ) يَعْنِي الْجِنَّ وَالإِنْسَ وَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ (كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِيْ شَأْنٍ) يَغْفِرُ ذَنْبًا وَيَكْشِفُ كَرْبًا وَيَرْفَعُ قَوْمًا وَيَضَعُ آخَرِيْنَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (بَرْزَخٌ)حَاجِزٌ (الْأَنَامُ) الْخَلْقُ [أشار به إلى قوله تعالى : (وَالْأرْضَ وَضَعَهَا لِلْأَنَامِ) وعن ابن عباس والشعبي : الْأنام. كل ذي روح، وقيل : الإنس ةالجن]. (نَضَّاخَتَانِ) فَيَّاضَتَانِ (ذُو الْجَلَالِ) ذُو الْعَظَمَةِ وَقَالَ غَيْرُهُ (مَارِجٌ) خَالِصٌ مِنْ النَّارِ يُقَالُ مَرَجَ الْأَمِيْرُ رَعِيَّتَهُ إِذَا خَلَّاهُمْ يَعْدُوْ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَيُقَالُ مَرَجَ أَمْرُ النَّاسِ (مَرِيْجٍ) مُلْتَبِسٌ (مَرَجَ) الْبَحْرَيْنِ اخْتَلَطَ الْبَحْرَانِ مِنْ مَرَجْتَ دَابَّتَكَ تَرَكْتَهَا (سَنَفْرُغُ لَكُمْ) سَنُحَاسِبُكُمْ لَا يَشْغَلُهُ شَيْءٌ عَنْ شَيْءٍ وَهُوَ مَعْرُوْفٌ فِيْ كَلَامِ الْعَرَبِ يُقَالُ لَأَتَفَرَّغَنَّ لَكَ وَمَا بِهِ شُغْلٌ يَقُوْلُ لَآخُذَنَّكَ عَلَى غِرَّتِكَ. وَأَقِيْمُوا الْوَزْنَ এর মাঝে বর্ণিত الْوَزْنَ হচ্ছে পাল্লার ডান্ডি। وَالْعَصْفُ ঘাস, ফসল পাকার পূর্বে যে চারাগুলোকে কেটে ফেলা হয় তাদেরকেই اَلْعَصْفُ বলা হয়। الرَّيْحَانُ শস্যের পাতা এবং যমীন থেকে উৎপাদিত দানা যা ভক্ষণ করা হয় আরবী ভাষায় রিযকের অর্থে ব্যবহৃত হয়। কারো মতে, الْعَصْفُ খাওয়ার উপযোগী দানা এবং الرَّيْحَانُ খাওয়ার অনুপযোগী পাকা দানা। মুজাহিদ ব্যতীত অন্যান্য মুফাস্সির বলেছেন, اَلْعَصْفُ গমের পাতা। দাহ্হাক (রহ.) বলেন, اَلْعَصْفُ মানে ভূষি। আবূ মালিক (রহ.) বলেন, সর্বপ্রথম যা উৎপন্ন হয় তাকে اَلْعَصْفُ বলা হয়। হাবশী ভাষায় তাকে هَبُوْرًا হাবুর বলা হয়। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, اَلْعَصْفُ গমের পাতা। الرَّيْحَانُ খাদ্য। الْمَارِجُহলুদ এবং সবুজ বর্ণের অগ্নিশিখা যা আগুনের উপরে দেখা যায় যখন তা জ্বালানো হয়। মুজাহিদ (রহ.) থেকে কোন কোন মুফাসসির বলেন, رَبُّ الْمَشْرِقَيْنِ সূর্যের শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন উদয়স্থান। তেমনি رَبُّ الْمَغْرِبَيْنِ শীত ও গ্রীস্মকালে সূর্যের দুই অস্তস্থল। لَا يَبْغِيَانِ তারা মিলিত হয় না। الْمُنْشَاٰتُ নদীতে পাল তোলা নৌকা। আর যে নৌকার পাল তোলা হয়নি তাকে الْمُنْشَاٰتُ বলা হয় না। মুজাহিদ বলেন, نُحَاسٌপিতল, যা তাদের মাথার উপর ঢালা হবে এবং এর দ্বারা তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে। خَافَ مَقَامَ رَبِّهٰ সে গুনাহ্ করার ইচ্ছে করে; কিন্তু তার আল্লাহর কথা মনে পড়ে যায়। অবশেষে সে গুনাহ্ করার ইচ্ছা ত্যাগ করে। الشُّوَاظُ অগ্নি শিখা। مُدْهَآمَّتَانِ দেখতে কালো হবে সজীবতার কারণে। صَلْصَالٍ মাটি বালির সঙ্গে মিশে পোড়া মাটির মত ঝনঝন করে। বলা হয় صَلْصَالٍ দুর্গন্ধময়। শব্দটির মূল ছিল صَلَّ صَلْصَالٍবলা হয় যেমন صَرَّالْبَابُ বলা হয় এবং صَرَّصَرَّ الْبَابُ ও বলা হয়। (অর্থাৎ مضاعف رباعى থেকে مضاعفثلاثى এর উৎপত্তি)। যেমন كَبْكَبْتُه ব্যবহার করা হয়। যার মূল فَاكِهَةٌ وَّنَخْلٌ وَّرُمَّانٌ ফলমূল, খেজুর ও আনার। কারো মতে খেজুর ও আনার ফল নয়; কিন্তু আরবীয় লোকেরা এগুলোকেও ফল বলে গণ্য করে। খেজুর ও আনার ফলমূলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও উপরোক্ত আয়াতে ফলমূলের কথা উল্লেখ করে এরপর খেজুর ও আনারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন حَافِظُوْا عَلَى الصَّلَوٰتِএর মাঝে সকল সালাতের প্রতি যত্নবান হবার নির্দেশ প্রদান করতঃ পরে আবার বিশেষভাবে আসরের সালাতের প্রতি বিশেষ যত্নবান হবার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যেমনভাবে أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللهَ يَسْجُدُ لَه مَنْ فِي السَّمَوٰتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ ‘‘তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহকে সিজদা করে যা কিছু আছে আকাশমন্ডলীতে ও পৃথিবীতে....। (সূরাহ হাজ্জ ২২/২৮)-এর মধ্যে সকল মানুষ অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও وَكَثِيْرٌ مِّنَ النَّاسِ وَكَثِيْرٌ حَقَّ عَلَيْهِ الْعَذَابُআয়াতাংশটি পরে উল্লেখ করা হয়েছে (সুতরাং খেজুর ও আনারকে ফলমূল বহির্ভূত বলা ঠিক নয়)। মুজাহিদ (রহ.) ছাড়া অন্যান্য মুফাস্সির বলেন, أَفْنَانٍ ডালাসমূহ। وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ দুই উদ্যানের ফল হবে তাদের নিকটবর্তী- (সূরাহ আর্ রহমান ৫৫/৫৪)। উভয় উদ্যানের ফল যা পাড়া হবে তা খুবই নিকটবর্তী হবে। হাসান (রহ.) বলেন, فَبِأَيِّاٰلَآءِ আল্লাহর কোন অনুগ্রহকে? ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, মানব এবং দানব জাতিকে বোঝাবার জন্য رَبِّكُمَا দ্বি-বচনের صيغه ব্যবহার করা হয়েছে। আবুদ্ দারদা (রাঃ) বলেন, كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِيْ شَأْنٍ (তিনি প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ কার্যে রত)-এর ভাবার্থ হচ্ছে, প্রত্যহ তিনি মানুষের গুনাহ ক্ষমা করেন, বিপদ বিদূরিত করেন, এক সম্প্রদায়কে সুউচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন এবং অপর সম্প্রদায়ের অবনতি ঘটান। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, بَرْزَخٌ অন্তরাল। الْأَنَامُ সৃষ্ট জীব। نَضَّاخَتَانِ খায়ের ও বারাকাতে উচ্ছলিত। ذُو الْجَلَالِ মহিমাময়। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) ব্যতীত অন্যান্য মুফাসসির বলেছেন, مَارِجُ নির্ধূম অগ্নিশিখা। রাজা প্রজাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দেয়ার পর তারা যখন পরস্পর পরস্পরের প্রতি অবাধে অত্যাচার করতে আরম্ভ করে তখন বলা হয়, اَلَامِيْرُمَرَجَالَامِيْرُرِعَيَّتَهمَرَجَاَمْرُالنَّاسِ মানুষের বিষয়টি গোলমেলে হয়ে পড়েছে। مَرِيْجٍ দোদুল্যমান। مَرَجَ الْبَحْرَيْنٍ দুই সমুদ্র পরস্পর মিলিত হয়ে গিয়েছে। مَرَجْتَ دَابَّتَكَ এর উৎপত্তি অর্থাৎ তুমি ছেড়ে দিয়েছ। سَنَفْرُغُ لَكُمْ অচিরেই আমি তোমাদের হিসাব গ্রহণ করব কারণ কোন অবস্থা আল্লাহ্ তা‘আলাকে অন্য অবস্থা হতে গাফিল করতে পারে না। এ ধরনের ব্যবহার-বিধি আরবী ভাষায় সুপ্রসিদ্ধ। যেমন বলা হয়, لَا تَفَرَّ غَنَّ لَكَ অথচ তার কোন ব্যস্ততা নেই (বরং এ ধরনের কথা ধমক-স্বরূপ বলা হয়ে থাকে)। এ বাক্যের মাধ্যমে বক্তা শ্রোতাকে এ কথাই বোঝাতে চায় যে, অবশ্যই আমি তোমাকে তোমার এ গাফলতের মজা আস্বাদন করাব। ৪৮৭৮. ‘আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (জান্নাতের মধ্যে) দু’টি বাগান থাকবে। এ দু’টির সকল পাত্র এবং এর ভিতরে সকল বস্তু রৌপ্য নির্মিত হবে এবং (জান্নাতে) আরো দু’টি উদ্যান থাকবে। এ দু’টির সকল পাত্র এবং ভিতরের সকল বস্তু সোনার তৈরী হবে। জান্নাতে আদনের মধ্যে জান্নাতী লোকেরা তাদের প্রতিপালকের দর্শন লাভ করবে। এ জান্নাতবাসী এবং তাদের প্রতিপালকের এ দর্শনের মাঝে আল্লাহর সত্তার ওপর জড়ানো তাঁর বিরাটত্বের চাদর ছাড়া আর কোন জিনিস থাকবে না। [৪৮৮০, ৭৪৪৪; মুসলিম ১/৮০, হাঃ ১৮০, আহমাদ ৮৪২৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الْحُوْرُ السُّوْدُ الْحَدَقِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ مَقْصُوْرَاتٌ مَحْبُوْسَاتٌ قُصِرَ طَرْفُهُنَّ وَأَنْفُسُهُنَّ عَلَى أَزْوَاجِهِنَّ قَاصِرَاتٌ لَا يَبْغِيْنَ غَيْرَ أَزْوَاجِهِنَّ. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন,حُوْرٌ কালো মনি যুক্ত চক্ষু। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مَقْصُوْرٰتٌ তাদের দৃষ্টি এবং তাদের সত্তা তাদের স্বামীদের জন্য সুরক্ষিত থাকবে।قَاصِرَاتٌ তারা তাদের জন্যই নির্দিষ্ট থাকবে। তারা তাদের ছাড়া অন্য কাউকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করার আকাঙ্ক্ষাও পোষণ করবে না। ৪৮৭৯. ‘আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতের মধ্যে ফাঁপা মোতির একটি তাঁবু থাকবে। এর প্রশস্ততা হবে ষাট মাইল। এর প্রতি কোণে থাকবে হুর-বালা। এদের এক কোণের জন অপর কোণের জনকে দেখতে পাবে না। ঈমানদার লোকেরা তাদের কাছে যাবে। এতে থাকবে দু’টি বাগান, যার সকল পাত্র এবং ভেতরের সকল বস্তু হবে রূপার তৈরী। [৩২৪৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن المثنى، قال حدثني عبد العزيز بن عبد الصمد، حدثنا ابو عمران الجوني، عن ابي بكر بن عبد الله بن قيس، عن ابيه، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ان في الجنة خيمة من لولوة مجوفة، عرضها ستون ميلا، في كل زاوية منها اهل، ما يرون الاخرين يطوف عليهم المومنون ". " وجنتان من فضة، انيتهما وما فيهما، وجنتان من كذا انيتهما، وما فيهما، وما بين القوم وبين ان ينظروا الى ربهم الا رداء الكبر على وجهه في جنة عدن
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الْحُوْرُ السُّوْدُ الْحَدَقِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ مَقْصُوْرَاتٌ مَحْبُوْسَاتٌ قُصِرَ طَرْفُهُنَّ وَأَنْفُسُهُنَّ عَلَى أَزْوَاجِهِنَّ قَاصِرَاتٌ لَا يَبْغِيْنَ غَيْرَ أَزْوَاجِهِنَّ. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন,حُوْرٌ কালো মনি যুক্ত চক্ষু। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مَقْصُوْرٰتٌ তাদের দৃষ্টি এবং তাদের সত্তা তাদের স্বামীদের জন্য সুরক্ষিত থাকবে।قَاصِرَاتٌ তারা তাদের জন্যই নির্দিষ্ট থাকবে। তারা তাদের ছাড়া অন্য কাউকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করার আকাঙ্ক্ষাও পোষণ করবে না। ৪৮৭৯. ‘আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতের মধ্যে ফাঁপা মোতির একটি তাঁবু থাকবে। এর প্রশস্ততা হবে ষাট মাইল। এর প্রতি কোণে থাকবে হুর-বালা। এদের এক কোণের জন অপর কোণের জনকে দেখতে পাবে না। ঈমানদার লোকেরা তাদের কাছে যাবে। এতে থাকবে দু’টি বাগান, যার সকল পাত্র এবং ভেতরের সকল বস্তু হবে রূপার তৈরী। [৩২৪৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن المثنى، قال حدثني عبد العزيز بن عبد الصمد، حدثنا ابو عمران الجوني، عن ابي بكر بن عبد الله بن قيس، عن ابيه، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ان في الجنة خيمة من لولوة مجوفة، عرضها ستون ميلا، في كل زاوية منها اهل، ما يرون الاخرين يطوف عليهم المومنون ". " وجنتان من فضة، انيتهما وما فيهما، وجنتان من كذا انيتهما، وما فيهما، وما بين القوم وبين ان ينظروا الى ربهم الا رداء الكبر على وجهه في جنة عدن
سُوْرَةُ الْوَاقِعَةِ সূরাহ (৫৬) : ওয়াকি‘আহ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (رُجَّتْ) زُلْزِلَتْ (بُسَّتْ) فُتَّتْ لُتَّتْ كَمَا يُلَتُّ السَّوِيْقُ (الْمَخْضُوْدُ) الْمُوْقَرُ حَمْلًا وَيُقَالُ أَيْضًا لَا شَوْكَ لَهُ (مَنْضُوْدٍ) الْمَوْزُ (وَالْعُرُبُ) الْمُحَبَّبَاتُ إِلَى أَزْوَاجِهِنَّ (ثُلَّةٌ) أُمَّةٌ (يَحْمُوْمٍ) دُخَانٌ أَسْوَدُ (يُصِرُّوْنَ) يُدِيْمُوْنَ (الْهِيْمُ) الإِبِلُ الظِّمَاءُ (لَمُغْرَمُوْنَ) لَمَلُوْمُوْنَ (مَدِيْنِيْنَ) مُحَاسَبِيْنَ رَوْحٌ جَنَّةٌ وَرَخَاءٌ (وَرَيْحَانٌ) الرِّزْقُ (وَنُنْشِئَكُمْفِي) أَيِّ خَلْقٍ نَشَاءُ وَقَالَ غَيْرُهُ (تَفَكَّهُوْنَ) تَعْجَبُوْنَ عُرُبًا مُثَقَّلَةً وَاحِدُهَا عَرُوْبٌ مِثْلُ صَبُوْرٍ وَصُبُرٍ يُسَمِّيْهَا أَهْلُ مَكَّةَ الْعَرِبَةَ وَأَهْلُ الْمَدِيْنَةِ الْغَنِجَةَ وَأَهْلُ الْعِرَاقِ الشَّكِلَةَ. وَقَالَ فِيْ (خَافِضَةٌ) لِقَوْمٍ إِلَى النَّارِ (وَرَافِعَةٌ) إِلَى الْجَنَّةِ (مَوْضُوْنَةٍ) مَنْسُوْجَةٍ وَمِنْهُ وَضِيْنُ النَّاقَةِ وَالْكُوْبُ لَا آذَانَ لَهُ وَلَا عُرْوَةَ (وَالْأَبَارِيْقُ) ذَوَاتُ الْآذَانِ وَالْعُرَى (مَسْكُوْبٍ) جَارٍ (وَفُرُشٍ مَّرْفُوْعَةٍ) بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ (مُتْرَفِيْنَ) مُمَتَّعِيْنَ (مَا تُمْنُوْنَ) مِنْ النُّطَفِ يَعْنِيْ هِيَ النُّطْفَةُ فِيْ أَرْحَامِ النِّسَاءِ (لِلْمُقْوِيْنَ) لِلْمُسَافِرِيْنَ وَالْقِيُّ الْقَفْرُ(بِمَوَاقِعِ النُّجُوْمِ) بِمُحْكَمِ الْقُرْآنِ وَيُقَالُ بِمَسْقِطِ النُّجُوْمِ إِذَا سَقَطْنَ وَمَوَاقِعُ وَمَوْقِعٌ وَاحِدٌ (مُدْهِنُوْنَ) مُكَذِّبُوْنَ مِثْلُ (لَوْ تُدْهِنُ فَيُدْهِنُوْنَ فَسَلَامٌ لَّكَ) أَيْ مُسَلَّمٌ لَكَ إِنَّكَ (مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِيْنِ) وَأُلْغِيَتْ إِنَّ وَهُوَ مَعْنَاهَا كَمَا تَقُوْلُ أَنْتَ مُصَدَّقٌ مُسَافِرٌ عَنْ قَلِيْلٍ إِذَا كَانَ قَدْ قَالَ إِنِّيْ مُسَافِرٌ عَنْ قَلِيْلٍ وَقَدْ يَكُوْنُ كَالدُّعَاءِ لَهُ كَقَوْلِكَ فَسَقْيًا مِنْ الرِّجَالِ إِنْ رَفَعْتَ السَّلَامَ فَهُوَ مِنْ الدُّعَاءِ (تُوْرُوْنَ) تَسْتَخْرِجُوْنَ أَوْرَيْتُ أَوْقَدْتُ (لَغْوًا) بَاطِلًا (تَأْثِيْمًا) كَذِبًا. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, رُجَّتْ প্রকম্পিত হবে। بُسَّتْ চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়া, ছাতু যেমন চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হয় তেমিনভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হবে। الْمَخْضُوْدُ বোঝার কারণে চরম ভারাক্রান্ত। কণ্টকহীন বৃক্ষকেও مَخْضُوْدُ বলা হয়। مَنْضُوْدٍ কলা। الْعُرُبُ স্বামীর কাছে প্রিয়তমা স্ত্রীগণ। ثُلَّةٌ উম্মত। يَحْمُوْمٍ কালো ধোঁয়া। يُصِرُّوْنَ তারা অবিরাম করতে থাকবে। الْهِيْمُ পিপাসিত উট। لَمُغْرَمُوْنَ যাদের উপর ঋণ পরিশোধ করা অপরিহার্য করে দেয়া হয়েছে। رَوْحُ উদ্যান ও কোমলতা। اَلرَيْحَانُ জীবনোপকরণ। نَنْشَأَكُمْ যে কোন আকৃতিতে আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করব। মুজাহিদ ব্যতীত অন্যান্য মুফাস্সির বলেন, تَفَكَّهُوْنَ তোমরা বিস্মিত হয়ে যাবে। عُرُبًا বহুবচন। একবচনে عَرُوْبٌ যেমন, صُبُرٌ বহুবচন। একবচনে صَبُوْرٍ মক্কাবাসী লোকেরা তাকে الْعَرِبَةَ মদিনা্বাসী লোকেরা الْغَنِجَةَ এবং ইরাকী লোকেরা তাকে الشَّكِلَةَ বলে। خَافِضَةٌ তা একদল লোককে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। رَافِعَةٌ তা একদল লোককে জান্নাতে নিয়ে যাবে। مَوْضُوْنَةٍ مَّنْسُوْجَةٍ গ্রথিত। এর থেকেই وَضَيْنُ النَّاقِةٍ শব্দটির উৎপত্তি (অর্থ উটের পালানের রশি) الكُوْبُ নল ও হাতলবিহীন পানপাত্র। الْأَبَارِيْقُ নল ও হাতল সম্পন্ন লোটা। مَسْكُوْبٍ প্রবহমান। وَفُرُشٍ مَّرْفُوْعَةٍ একটির উপর আরেকটি বিছানো শয্যাসমূহ। مُتْرَفِيْنَ ভোগ বিলাসী লোকজন। مَا تُمْنُوْنَ মহিলাদের গর্ভাশয়ে নিক্ষিপ্ত বীর্য। لِلْمُقْوِيْنَ মুসাফিরদের জন্য। الْقِيُّ ঘাস, পানি এবং জন-মানবহীন ভূমি। بِمَوَاقِعِ النُّجُوْمِ কুরআনের মুহ্কাম আয়াতসমূহ। بِمَسْقِطِ النُّجُوْمِ নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের স্থান। مَوَاقِعٌ এবং مَوْقِعٌ শব্দ দু’টো একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। مُدْهِنُوْنَ তুচ্ছকারী লোকজন। যেমন অন্যত্র আছে, لَوْ تُدْهِنُ فَيُدْهِنُوْنَ যদি তুমি তুচ্ছ কর, তবে তারাও তুচ্ছ করবে। فَسَلَامٌ لَكَ তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। কেননা, তুমি দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত। এখানে إِنَّশব্দটি উহ্য আছে। যেমন, اِنِّىْ مُسَافِرٌ عَنْ قَلِيْلٍ এর উত্তরে কথিত أَنْتَ مُصَدَّقٌ مُّسَافِرٌ عَنْ قَلِيْلٍ বাক্যের মাঝে إِنَّ শব্দটি উহ্য আছে। মূলে ছিল إِنَّكَ مُسَافِرٌ শ্রোতার প্রতি দু‘আ হিসেবেও سَلَامَ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন فَسَقْيًا مِّنْ الرِّجَالِ (পরিতৃপ্ত লোকজন) বাক্যটিও দু‘আ হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। سَلَامٌ শব্দটিকে مَرْفُوْعٌ পড়া হলে তা দু‘আ হিসেবেই গণ্য হবে। تُوْرُوْنَ তোমরা বের কর, প্রজ্জ্বলিত কর। পক্ষান্তরে أَوْرَيْتُ بِمَعْزٍ اَوْ فَدْتُ থেকে تُوْرُوْنَ শব্দটির উৎপত্তি। لَغْوًا অসার। تَأْثِيْمًا মিথ্যা বাক্য। ৪৮৮১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, জান্নাতের মধ্যে এমন একটি বৃক্ষ আছে, যার ছায়ায় একজন সওয়ারী একশত বছর চলতে থাকবে, তবুও সে এ ছায়া অতিক্রম করতে পারবে না। তোমার ইচ্ছে হলে তুমি (সম্প্রসারিত ছায়া) পাঠ কর। [৩২৫২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
سُوْرَةُ الْحَدِيْدِ সূরাহ (৫৭) : আল-হাদীদ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (جَعَلَكُمْ مُّسْتَخْلَفِيْنَ) مُعَمَّرِيْنَ فِيْهِ (مِنَ الظُّلُمٰتِ إِلَى النُّوْرِ) مِنْ الضَّلَالَةِ إِلَى الْهُدَى (فِيْهِ بَأْسٌ شَدِيْدٌ وَّمَنَافِعُ لِلنَّاسِ) جُنَّةٌ وَسِلَاحٌ (مَوْلَاكُمْ) أَوْلَى بِكُمْ (لِئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ) لِيَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ يُقَالُ (الظَّاهِرُ) عَلَى كُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا (وَالْبَاطِنُ) عَلَى كُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا (أَنْظِرُوْنَا) انْتَظِرُوْنَا. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, جَعَلَكُمْ مُّسْتَخْلَفِيْنَ আমি তোমাদেরকে তাতে আবাদকারী বানিয়েছি। مِنْ الظُّلُمٰتِ إِلَى النُّوْرِ ভ্রান্তি থেকে হিদায়াতের দিকে। وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ ঢাল ও অস্ত্রশস্ত্র। مَوْلَاكُمْ তিনিই তোমাদের জন্য যোগ্য। لِئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ যাতে কিতাবী লোকেরা জানতে পারে। বলা হয়, বস্তুর বাহ্যিক বিষয়ের উপরও عِلْمٍ ব্যবহৃত হয়। এমনিভাবে বস্তুর অভ্যন্তরীণ বিষয়ের উপরও عِلْم ব্যবহৃত হয়। أَنْظِرُوْنَا তোমরা আমাদের জন্য একটু অপেক্ষা কর। (58) سُوْرَةُ الْمُجَادَلَةِ সূরাহ (৫৮) : মুজাদালাহ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (يُحَادُّوْنَ) يُشَاقُّوْنَ اللهَ (كُبِتُوْا) أُخْزُوْا مِنَ الْخِزْيِ (اسْتَحْوَذَ) غَلَبَ. سُوْرَةُ الْحَشْرِ. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, يُحَادُّوْنَ তারা (আল্লাহর) বিরোধিতা করছে। كُبِتُوْا তাদেরকে অপদস্থ করা হবে। الْخِزْيِ ধাতু হতে উক্ত শব্দটির উৎপত্তি। اسْتَحْوَذَ সে প্রাধান্য বিস্তার করেছে। (59) سُوْرَةُ الْحَشْرِ সূরাহ (৫৯) : আল-হাশর (الْجَلَآءَ) الإِخْرَاجُ مِنْ أَرْضٍ إِلَى أَرْضٍ. الْجَلَاءَ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নির্বাসিত করা। ৪৮৮২. সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে সূরাহ তওবা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এ তো লাঞ্ছনাকারী সূরা। وَمِنْهُمْ وَمِنْهُمْ অর্থাৎ তাদের একদল এই করেছে, আরেক দল ওই করেছে, এ বলে একাধারে এ সূরাহ অবতীর্ণ হতে থাকলে লোকেরা ধারণা করতে লাগলো যে, এ সূরায় উল্লেখ করা হবে না, এমন কেউ আর তাদের মধ্যে বাকী থাকবে না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে সূরাহ আনফাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এ সূরাটি বাদর যুদ্ধের সময় অবতীর্ণ হয়েছে। আমি তাকে সূরাহ হাশর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এটি বানু নযীর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। [৪০২৯; মুসলিম ৫৪/৬, হাঃ ৩০৩১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن عبد الرحيم، حدثنا سعيد بن سليمان، حدثنا هشيم، اخبرنا ابو بشر، عن سعيد بن جبير، قال قلت لابن عباس سورة التوبة قال التوبة هي الفاضحة، ما زالت تنزل ومنهم ومنهم، حتى ظنوا انها لم تبق احدا منهم الا ذكر فيها. قال قلت سورة الانفال. قال نزلت في بدر. قال قلت سورة الحشر. قال نزلت في بني النضير
সা‘ঈদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে ‘সূরাহ হাশর’ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এ সুরাকে ‘সূরাহ বানী নাযীর’ বল। [৪০২৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا الحسن بن مدرك، حدثنا يحيى بن حماد، اخبرنا ابو عوانة، عن ابي بشر، عن سعيد، قال قلت لابن عباس رضى الله عنهما سورة الحشر قال قل سورة النضير
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী নযীর গোত্রের খেজুর গাছ জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এবং কেটে ফেলেছিলেন। এ গাছগুলো ছিল ‘বুয়াইরা’ নামক জায়গায়। এরপর অবতীর্ণ করেছেন আল্লাহ্ তা‘আলাঃ তোমরা যে খর্জুর বৃক্ষগুলো কর্তন করেছ বা যেগুলোকে কান্ডের উপর স্থির রেখে দিয়েছ তা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে; এ এজন্য যে, আল্লাহ্ পাপাচারীদেরকে লাঞ্ছিত করবেন। [২৩২৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة، حدثنا ليث، عن نافع، عن ابن عمر رضى الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم حرق نخل بني النضير وقطع، وهى البويرة، فانزل الله تعالى {ما قطعتم من لينة او تركتموها قايمة على اصولها فباذن الله وليخزي الفاسقين}
‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনু নযীরের বিষয়-সম্পত্তি ঐ সমস্ত বস্তুর অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে ‘ফাই’ হিসেবে দিয়েছেন এ জন্য যে মুসলিমরা অশ্বে কিংবা উষ্ট্রে অরোহণ করে যুদ্ধ করেনি। সুতরাং এটা খাস ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য। এর থেকে তিনি তাঁর পরিবারের জন্য এক বছরের খরচ দান করতেন। এরপর বাকিটা তিনি অস্ত্রশস্ত্র এবং ঘোড়া সংগ্রহের পিছনে ব্যয় করতেন আল্লাহর পথে জিহাদের প্রস্তুতি হিসেবে। [২৯০৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان غير مرة عن عمرو، عن الزهري، عن مالك بن اوس بن الحدثان، عن عمر رضى الله عنه قال كانت اموال بني النضير مما افاء الله على رسوله صلى الله عليه وسلم مما لم يوجف المسلمون عليه بخيل ولا ركاب، فكانت لرسول الله صلى الله عليه وسلم خاصة، ينفق على اهله منها نفقة سنته، ثم يجعل ما بقي في السلاح والكراع، عدة في سبيل الله
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ লা’নাত করেছেন ঐ সমস্ত নারীর প্রতি যারা অন্যের শরীরে উল্কি অংকণ করে, নিজ শরীরে উল্কি অংকণ করায়, যারা সৌন্দর্যের জন্য ভূরু-চুল উপড়িয়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে। সে সব নারী আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি আনয়ন করে। এরপর বানী আসাদ গোত্রের উম্মু ইয়াকূব নামের এক মহিলার কাছে এ সংবাদ পৌঁছলে সে এসে বলল, আমি জানতে পারলাম, আপনি এ ধরনের মহিলাদের প্রতি লা‘নত করেছেন। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার প্রতি লা‘নাত করেছেন, আল্লাহর কিতাবে যার প্রতি লা‘নাত করা হয়েছে, আমি তার প্রতি লা‘নাত করব না কেন? তখন মহিলা বলল, আমি দুই ফলকের মাঝে যা আছে তা (পূর্ণ কুরআন) পড়েছি। কিন্তু আপনি যা বলেছেন, তা তো এতে পাইনি। ‘আবদুল্লাহ্ বললেন, যদি তুমি কুরআন পড়তে তাহলে অবশ্যই তা পেতে, তুমি কি পড়নি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদেরকে যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাক। মহিলাটি বলল, হাঁ নিশ্চয়ই পড়েছি। ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কাজ করতে নিষেধ করেছেন। তখন মহিলা বলল, আমার মনে হয় আপনার পরিবারও এ কাজ করে তিনি বললেন, তুমি যাও এবং ভালমত দেখে এসো। এরপর মহিলা গেল এবং ভালভাবে দেখে এলো। কিন্তু তার দেখার কিছুই দেখতে পেলো না। তখন ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বললেন, যদি আমার স্ত্রী এমন করত, তবে সে আমার সঙ্গে একত্র থাকতে পারত না। [৪৮৮৭, ৫৯৩১, ৫৯৩৯, ৫৯৪৩, ৫৯৪৮; মুসলিম ৩৭/৩৩, হাঃ ২১২৫, আহমাদ ৪৩৪৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا سفيان، عن منصور، عن ابراهيم، عن علقمة، عن عبد الله، قال لعن الله الواشمات والموتشمات والمتنمصات والمتفلجات للحسن المغيرات خلق الله. فبلغ ذلك امراة من بني اسد يقال لها ام يعقوب، فجاءت فقالت انه بلغني انك لعنت كيت وكيت. فقال وما لي لا العن من لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم ومن هو في كتاب الله فقالت لقد قرات ما بين اللوحين فما وجدت فيه ما تقول. قال لين كنت قراتيه لقد وجدتيه، اما قرات {وما اتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا}. قالت بلى. قال فانه قد نهى عنه. قالت فاني ارى اهلك يفعلونه. قال فاذهبي فانظري. فذهبت فنظرت فلم تر من حاجتها شييا، فقال لو كانت كذلك ما جامعتها
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে নারী নকল চুল লাগায়, তার প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা‘নাত করেছেন। রাবী (রহ.) বলেন, আমি উম্মু ইয়াকূব নামক মহিলার নিকট হতে হাদীসটি শুনেছি, তিনি ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, মানসূরের হাদীসের মতই। [৪৮৮৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي، حدثنا عبد الرحمن، عن سفيان، قال ذكرت لعبد الرحمن بن عابس حديث منصور عن ابراهيم، عن علقمة، عن عبد الله رضى الله عنه قال لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم الواصلة فقال سمعته من امراة يقال لها ام يعقوب عن عبد الله مثل حديث منصور
‘আমর ইবনু মায়মূন (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, আমি আমার পরবর্তী খালীফাকে ওসীয়াত করেছি, প্রথম যুগের মুহাজিরদের হাক আদায় করার জন্য এবং আমি পরবর্তী খালীফাকে আনসারদের ব্যাপারে ওসীয়াত করছি, যারা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামএর হিজরাতের পূর্বে এ নগরীতে বসবাস করতেন এবং ঈমান এনেছিলেন যেন তিনি তাদের পুণ্যবানদের সৎকর্মকে গ্রহণ করেন এবং দোষ-ত্রুটিকে ক্ষমা করে দেন। [১৩৯২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن يونس، حدثنا ابو بكر، عن حصين، عن عمرو بن ميمون، قال قال عمر رضى الله عنه اوصي الخليفة بالمهاجرين الاولين ان يعرف لهم حقهم، واوصي الخليفة بالانصار الذين تبوءوا الدار والايمان من قبل ان يهاجر النبي صلى الله عليه وسلم ان يقبل من محسنهم ويعفو عن مسييهم
الْخَصَاصَةُ الْفَاقَةُ الْمُفْلِحُوْنَ الْفَائِزُوْنَ بِالْخُلُوْدِ وَالْفَلَاحُ الْبَقَاءُ حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ عَجِّلْ وَقَالَ الْحَسَنُ حَاجَةً حَسَدًا. الْخَصَاصَةُ ক্ষুধা। الْمُفْلِحُوْنَ যারা (জান্নাতে) চিরকাল থাকার সফলতা অর্জন করেছেন। الْفَلَاحِ স্থায়িত্ব। حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ সফলতা ও চিরস্থায়ী জীবনের দিকে তাড়াতাড়ি আস। হাসান (রহ.) বলেন, حَاجَةٌ হিংসা। ৪৮৮৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, আমি খুব ক্ষুধার্ত। তখন তিনি তাঁর সহধর্মিণীদের নিকট পাঠালেন; কিন্তু তিনি তাদের কাছে কিছুই পেলেন না। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমন কেউ আছে কি, যে আজ রাতে এ লোকটিকে মেহমানদারী করতে পারে? আল্লাহ্ তাঁর প্রতি রহমত করবেন। তখন আনসারদের এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, আমি আছি, হে আল্লাহর রাসূল! এরপর তিনি তাঁকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে গেলেন এবং নিজ স্ত্রীকে বললেন, ইনি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেহমান। কোন জিনিস জমা করে রাখবে না। মহিলা বলল, আল্লাহর কসম! আমার কাছে ছেলে-মেয়েদের খাবার ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি বললেন, ছেলেমেয়েরা রাতের খাবার চাইলে তুমি তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দিও, (খাবার নিয়ে) আমার কাছে আসিও, অতঃপর বাতিটি নিভিয়ে দিও। আজ রাতে আমরা ভুখা থাকব। সুতরাং মহিলা তা-ই করল। পরদিন সকালে আনসারী সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে আসলেন। তিনি বললেন, অমুক ব্যক্তি ও তার স্ত্রীর প্রতি আল্লাহ্ সন্তুষ্ট হয়েছেন অথবা অমুক অমুকের কাজে আল্লাহ্ হেসেছেন। এরপর আল্লাহ্ অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘এবং তাঁরা তাদের নিজেদের উপর অন্যদের প্রাধান্য দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও।’’ [৩৭৯৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني يعقوب بن ابراهيم بن كثير، حدثنا ابو اسامة، حدثنا فضيل بن غزوان، حدثنا ابو حازم الاشجعي، عن ابي هريرة رضى الله عنه قال اتى رجل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله اصابني الجهد فارسل الى نسايه فلم يجد عندهن شييا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الا رجل يضيف هذه الليلة يرحمه الله ". فقام رجل من الانصار فقال انا يا رسول الله. فذهب الى اهله فقال لامراته ضيف رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تدخريه شييا. قالت والله ما عندي الا قوت الصبية. قال فاذا اراد الصبية العشاء فنوميهم، وتعالى فاطفيي السراج ونطوي بطوننا الليلة. ففعلت ثم غدا الرجل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " لقد عجب الله عز وجل او ضحك من فلان وفلانة ". فانزل الله عز وجل {ويوثرون على انفسهم ولو كان بهم خصاصة}
سُوْرَةُ الْمُمْتَحِنَةِ সূরাহ (৬০) : আল-মুমতাহিনাহ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (لَا تَجْعَلْنَا) فِتْنَةً لَا تُعَذِّبْنَا بِأَيْدِيْهِمْ فَيَقُوْلُوْنَ لَوْ كَانَ هَؤُلَاءِ عَلَى الْحَقِّ مَا أَصَابَهُمْ هَذَا (بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ) أُمِرَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِفِرَاقِ نِسَائِهِمْ كُنَّ كَوَافِرَ بِمَكَّةَ. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, لَا تَجْعَلْنَا আমাদেরকে কাফিরদের হাতে শাস্তি দিও না। তাহলে তারা বলবে, যদি মুসলিমরা হাকের ওপর থাকত, তাহলে তাদের ওপর এ মুসীবত আসত না। بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাঁরা যেন তাদের ঐ স্ত্রীদের বর্জন করে, যারা মক্কাতে কাফির অবস্থায় বিদ্যমান আছে। ৪৮৯০. ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়র (রাঃ), মিকদাদ (রাঃ) ও আমাকে পাঠালেন এবং বললেন, তোমরা ‘রওযা খাখ’ নামক স্থানে যাও। সেখানে এক উষ্ট্রারোহিণী মহিলা পাবে। তার সঙ্গে একখানা পত্র আছে, তোমরা তার থেকে সে পত্রখানা নিয়ে নিবে। এরপর আমরা রওয়ানা হলাম। আমাদের ঘোড়া আমাদেরকে নিয়ে ছুটে চলল। যেতে যেতে আমরা রওযায় গিয়ে পৌঁছলাম। সেখানে পৌঁছেই আমরা উষ্ট্রারোহিণীকে পেয়ে গেলাম। আমরা বললাম, পত্রখানা বের কর সে বলল, আমার সঙ্গে কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, অবশ্যই তুমি পত্রখানা বের করবে, অন্যথায় তোমাকে বিবস্ত্র করে ফেলা হবে। এরপর সে তার চুলের বেনী থেকে পত্রখানা বের করল। আমরা পত্রখানা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম। দেখা গেল, পত্রখানা হাতিব ইবনু আবূ বালতাআহ্ (রাঃ)-এর পক্ষ হতে মক্কার কতিপয় মুশরিকের কাছে লেখা যাতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিষয় তাদের কাছে ব্যক্ত করে দিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, হাতিব কী ব্যাপার? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ব্যাপারে ত্বড়িৎ কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না। আমি কুরাইশ বংশীয় লোকদের সঙ্গে বসবাসকারী এক ব্যক্তি; কিন্তু তাদের সঙ্গে আমার কোন বংশগত সম্পর্ক নেই। আপনার সঙ্গে যত মুহাজির আছেন, তাদের সবারই সেখানে আত্মীয়-স্বজন আছে। এসব আত্মীয়-স্বজনের কারণে মক্কা্য় তাদের পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদ রক্ষা পাচ্ছে। আমি চেয়েছিলাম, যেহেতু তাদের সঙ্গে আমার বংশীয় কোন সম্পর্ক নেই,তাই এবার যদি আমি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করি, তাহলে হয়তো তারাও আমার আত্মীয়-স্বজনের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়াবে। কুফর ও স্বীয় ধর্ম ত্যাগ করার মনোভাব নিয়ে আমি এ কাজ করিনি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে তোমাদের কাছে সত্য কথাই বলেছে। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন এক্ষুণি আমি তাঁর গর্দান উড়িয়ে দেই। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে বাদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমি কি জান না, আল্লাহ্ অবশ্যই বদরে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেছেনঃ ‘‘তোমরা যা চাও কর, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি।’’ আমর বলেন, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছেঃ ‘‘হে ঈমানদারগণ! আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না।’’ সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, আয়াতটি হাদীসের অংশ না আমর (রাঃ)-এর কথা, তা আমি জানি না। [৩০০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫২৫) ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, সুফ্ইয়ান ইবনু ‘উয়াইনাহ (রহ.)-কে ‘‘হে মু’মিনগণ! আমার শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিও না’’ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে সুফ্ইয়ান বলেন, মানুষের বর্ণনার মাঝে তো এ রকমই পাওয়া যায়। আমি এ হাদীসটি আমর ইবনু দ্বীনার (রহ.) থেকে মুখস্থ করেছি। এর থেকে একটি অক্ষরও আমি বাদ দেইনি। আমার ধারণা, আমর ইবনু দ্বীনার (রহ.) থেকে আমি ছাড়া আর কেউ এ হাদীস মুখস্থ করেনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) তাকে বলেছেন, কোন মু’মিন মহিলা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হিজরাত করে এলে, তিনি তাকে আল্লাহর এই আয়াতের ভিত্তিতে পরীক্ষা করতেন- অর্থঃ ‘‘হে নবী! মু’মিন নারীগণ যখন তোমার কাছে এ মর্মে বায়‘আত করতে আসে যে, তারা আল্লাহর সঙ্গে কোন শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, তারা সজ্ঞানে কোন অপবাদ রচনা করে রটাবে না, এবং সৎকার্যে তোমাকে অমান্য করবে না, তখন তাদের বায়‘আত গ্রহণ করবে এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।) আল্লাহ্ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’’- (সূরাহ আল-মুমতাহিনাহ ৬০/১২)। ‘উরওয়াহ (রহ.) বলেন, ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন, যে মু’মিন মহিলা এসব শর্ত মেনে নিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলতেন, আমি কথার মাধ্যমে তোমাকে বায়‘আত করে নিলাম। আল্লাহর কসম! বায়‘আত কালে কোন নারীর হাত নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতকে স্পর্শ করেনি। নারীদেরকে তিনি শুধু এ কথার দ্বারাই বায়‘আত করতেন قَدْ بَايَعْتُكِ عَلٰى ذَلِكِ অর্থাৎ আমি তোমাকে এ কথার ওপর বায়‘আত করলাম। ইউনুস, মা‘মার ও ‘আবদুর রহমান ইবনু ইসহাক (রহ.) যুহরীর মাধ্যমে উক্ত বর্ণনার সমর্থন করেছেন। ইসহাক ইবনু রাশিদ, যুহরী থেকে এবং যুহরী ‘উরওয়াহ ও ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। [২৭১৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسحاق، حدثنا يعقوب بن ابراهيم، حدثنا ابن اخي ابن شهاب، عن عمه، اخبرني عروة، ان عايشة رضى الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم اخبرته ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يمتحن من هاجر اليه من المومنات بهذه الاية، بقول الله {يا ايها النبي اذا جاءك المومنات يبايعنك} الى قوله {غفور رحيم}. قال عروة قالت عايشة فمن اقر بهذا الشرط من المومنات قال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم " قد بايعتك ". كلاما ولا والله ما مست يده يد امراة قط في المبايعة، ما يبايعهن الا بقوله " قد بايعتك على ذلك ". تابعه يونس ومعمر وعبد الرحمن بن اسحاق عن الزهري. وقال اسحاق بن راشد عن الزهري عن عروة وعمرة
উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বায়‘আত গ্রহণ করেছি। এরপর তিনি আমাদের সামনে পাঠ করলেন, ‘‘তারা আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক স্থির করবে না।’’ এরপর তিনি আমাদেরকে মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কাঁদতে নিষেধ করলেন। এ সময় এক মহিলা তার হাত টেনে নিয়ে বলল, অমুক মহিলা আমাকে বিলাপে সহযোগিতা করেছে, আমি তাকে এর বিনিময় দিতে ইচ্ছা করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কিছুই বলেননি। এরপর মহিলাটি উঠে চলে গেল এবং আবার ফিরে আসলো, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বায়‘আত করলেন। [১৩০৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو معمر، حدثنا عبد الوارث، حدثنا ايوب، عن حفصة بنت سيرين، عن ام عطية رضى الله عنها قالت بايعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقرا علينا {ان لا يشركن بالله شييا} ونهانا عن النياحة، فقبضت امراة يدها فقالت اسعدتني فلانة اريد ان اجزيها. فما قال لها النبي صلى الله عليه وسلم شييا فانطلقت ورجعت فبايعها
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বাণী, وَلَا يَعْصِيْنَكَ فِيْ مَعْرُوْفٍ -এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, এটা একটা শর্ত, যা আল্লাহ্ তা‘আলা নারীদের প্রতি আরোপ করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৫২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا وهب بن جرير، قال حدثنا ابي قال، سمعت الزبير، عن عكرمة، عن ابن عباس، في قوله تعالى {ولا يعصينك في معروف} قال انما هو شرط شرطه الله للنساء
حدثنا عبد الله بن ابي الاسود، حدثنا عبد العزيز بن عبد الصمد العمي، حدثنا ابو عمران الجوني، عن ابي بكر بن عبد الله بن قيس، عن ابيه، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " جنتان من فضة، انيتهما وما فيهما وجنتان من ذهب انيتهما وما فيهما، وما بين القوم وبين ان ينظروا الى ربهم الا رداء الكبر على وجهه في جنة عدن
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، عن ابي الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة رضى الله عنه يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم قال " ان في الجنة شجرة يسير الراكب في ظلها ماية عام لا يقطعها، واقرءوا ان شيتم {وظل ممدود}
حدثنا الحميدي، حدثنا سفيان، حدثنا عمرو بن دينار، قال حدثني الحسن بن محمد بن علي، انه سمع عبيد الله بن ابي رافع، كاتب علي يقول سمعت عليا رضى الله عنه يقول بعثني رسول الله صلى الله عليه وسلم انا والزبير والمقداد فقال " انطلقوا حتى تاتوا روضة خاخ فان بها ظعينة معها كتاب فخذوه منها ". فذهبنا تعادى بنا خيلنا حتى اتينا الروضة فاذا نحن بالظعينة فقلنا اخرجي الكتاب فقالت ما معي من كتاب. فقلنا لتخرجن الكتاب او لنلقين الثياب. فاخرجته من عقاصها فاتينا به النبي صلى الله عليه وسلم فاذا فيه من حاطب بن ابي بلتعة الى اناس من المشركين ممن بمكة يخبرهم ببعض امر النبي صلى الله عليه وسلم فقال النبي صلى الله عليه وسلم " ما هذا يا حاطب ". قال لا تعجل على يا رسول الله اني كنت امرا من قريش ولم اكن من انفسهم وكان من معك من المهاجرين لهم قرابات يحمون بها اهليهم واموالهم بمكة فاحببت اذ فاتني من النسب فيهم ان اصطنع اليهم يدا يحمون قرابتي وما فعلت ذلك كفرا ولا ارتدادا عن ديني. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " انه قد صدقكم ". فقال عمر دعني يا رسول الله فاضرب عنقه. فقال " انه شهد بدرا وما يدريك لعل الله عز وجل اطلع على اهل بدر فقال اعملوا ما شيتم فقد غفرت لكم ". قال عمرو ونزلت فيه {يا ايها الذين امنوا لا تتخذوا عدوي وعدوكم} قال لا ادري الاية في الحديث او قول عمرو. حدثنا علي قيل لسفيان في هذا فنزلت {لا تتخذوا عدوي} قال سفيان هذا في حديث الناس حفظته من عمرو وما تركت منه حرفا وما ارى احدا حفظه غيري