Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫০৪ হাদিসসমূহ
বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ষোলটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। [মুসলিম ৩২/৪৯, হাঃ ১৮১৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة بن سعيد، عن مالك، عن عبد الله بن دينار، عن ابن عمر، قال بينما الناس في صلاة الصبح بقباء اذ جاءهم ات فقال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد انزل عليه الليلة، وقد امر ان يستقبل الكعبة، فاستقبلوها. وكانت وجوههم الى الشام فاستداروا الى القبلة
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآئِرِ اللهِ ج فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَّطَّوَّفَ بِهِمَا ط وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا لا فَإِنَّ اللهَ شَاكِرٌ عَلِيْمٌ (158)) (شَعَآئِرٌ) : عَلَامَاتٌ وَاحِدَتُهَا شَعِيْرَةٌ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الصَّفْوَانُ الْحَجَرُ وَيُقَالُ الْحِجَارَةُ الْمُلْسُ الَّتِيْ لَا تُنْبِتُ شَيْئًا وَالْوَاحِدَةُ صَفْوَانَةٌ بِمَعْنَى الصَّفَا وَالصَّفَا لِلْجَمِيْعِ. নিশ্চয় সাফা ও মারওয়াহ হল আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে কেউ কা‘বা ঘরে হাজ্জ বা ‘উমরাহ পালন করে তার পক্ষে এ দু‘টির মধ্যে প্রদক্ষিণ করাতে কোন পাপ নেই। আর কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোন নেক কাজ করলে আল্লাহ তার পুরস্কার দেবেন, তিনি সর্বজ্ঞ। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৫৮) شَعَائِرٌ হলো شَعِيْرَةٌ এর বহুবচন। নিদর্শন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, সাফওয়ান অর্থ পাথর; বলা হত এমন পাথর যা কিছু উৎপন্ন করে না। একবচনে صَفْوَانَةٌ হয়ে থাকে। الصَّفَا বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। ৪৪৯৫. ‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম- আর তখন আমি অল্প বয়সের ছিলাম। মহান আল্লাহর বাণীঃ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ এ আয়াত সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? ‘‘নিশ্চয় সাফা ও মারওয়াহ হল আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে কেউ কা‘বা ঘরে হাজ্জ বা ‘উমরাহ পালন করে তার পক্ষে এ দু‘টির মধ্যে প্রদক্ষিণ করাতে কোন পাপ নেই’’- (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৫৮)। আমি মনে করি উক্ত দুই পর্বত সায়ী না করলে কোন ব্যক্তির উপর গুনাহ বর্তাবে না। তখন ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, কক্ষনো তা নয়। তুমি যা বলছ যদি তাই হত তাহলে বলা হত এভাবে فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ ‘‘উভয় পর্বত তাওয়াফ না করাতে কোন গুনাহ বর্তাবে না। বস্তুতঃ এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে আনসারদের ব্যাপারে। তারা ‘মানাত’-এর পূজা করত। আর ‘মানাত’ ছিল কুদায়েদের পথে অবস্থিত। আনসারগণ সাফা এবং মারওয়াহর মধ্যে সায়ী করা খারাপ জানত। ইসলামের আগমনের পর তারা এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল। তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন- إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَآئِرِ اللهِ ج فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَّطَّوَّفَ بِهِمَا। [১৬৪৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، انه قال قلت لعايشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم وانا يوميذ حديث السن ارايت قول الله تبارك وتعالى {ان الصفا والمروة من شعاير الله فمن حج البيت او اعتمر فلا جناح عليه ان يطوف بهما} فما ارى على احد شييا ان لا يطوف بهما. فقالت عايشة كلا لو كانت كما تقول كانت فلا جناح عليه ان لا يطوف بهما، انما انزلت هذه الاية في الانصار، كانوا يهلون لمناة، وكانت مناة حذو قديد، وكانوا يتحرجون ان يطوفوا بين الصفا والمروة، فلما جاء الاسلام سالوا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك فانزل الله {ان الصفا والمروة من شعاير الله فمن حج البيت او اعتمر فلا جناح عليه ان يطوف بهما}
‘আসিম ইবনু সুলাইমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে সাফা ও মারওয়াহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমরা ঐ দু’টিকে জাহিলী যুগের কাজ বলে মনে করতাম। যখন ইসলাম আসল, তখন আমরা এ দু’টির মধ্যে সায়ী করা থেকে বিরত থাকি। তখন আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করেন- إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ থেকে أَنْ يَطَّوَّفَ পর্যন্ত। [১৬৪৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا سفيان، عن عاصم بن سليمان، قال سالت انس بن مالك رضى الله عنه عن الصفا، والمروة،. فقال كنا نرى انهما من امر الجاهلية، فلما كان الاسلام امسكنا عنهما، فانزل الله تعالى {ان الصفا والمروة } الى قوله {ان يطوف بهما}
(وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَّتَّخِذُ مِنْ دُوْنِ اللهِ أَنْدَادًا) أَنْدَادًا : وَاحِدُهَا نِدٌّ. ‘‘মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যে আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে তাঁর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৬৫) এখানে أَنْدَادًا অর্থ সমকক্ষ ও বরাবর। نِدٌّ এর একবচন। ৪৪৯৭. ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কথা বললেন, আর আমি একটি বললাম। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে তাঁর সমকক্ষ হিসেবে আহবান করা অবস্থায় মারা যায়, সে জাহান্নামে যাবে। আর আমি বললাম, যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে সমকক্ষ হিসেবে আহবান না করা অবস্থায় মারা যায়? (তিনি বললেন) সে জান্নাতে যাবে। [১২৩৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبدان، عن ابي حمزة، عن الاعمش، عن شقيق، عن عبد الله، قال قال النبي صلى الله عليه وسلم كلمة وقلت اخرى قال النبي صلى الله عليه وسلم " من مات وهو يدعو من دون الله ندا دخل النار ". وقلت انا من مات وهو لا يدعو لله ندا دخل الجنة
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনী ইসরাঈল সম্প্রদায়ের কিসাস প্রথা চালু ছিল কিন্তু দিয়াত তাদের মধ্যে চালু ছিল না। অনন্তর আল্লাহ তা‘আলা এ উম্মতের জন্য এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ হত্যার ক্ষেত্রে কিসাস বা খুনের বদলে খুন তোমাদের জন্য ফরয করা হয়েছে। স্বাধীন মানুষের বদলে স্বাধীন মানুষ, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাস এবং স্ত্রীলোকের বদলে স্ত্রীলোকের কিসাস নেয়া হবে। হাঁ, কোন হত্যাকারীর সঙ্গে তার কোন (মুসলিম) ভাই নম্রতা দেখাতে চাইলে। উল্লিখিত আয়াতে আলআফুব فَالْعَفْوُ -এর অর্থ ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে দিয়াত গ্রহণ করতঃ কিসাস ক্ষমা করে দেয়া।فَاتِّبَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ অর্থাৎ এ ব্যাপারে যথাযথ বিধি মেনে চলবে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দিয়াত আদায় করে দেবে। তোমাদের পূর্বের লোকেদের উপরে আরোপিত কিসাস হতে তোমাদের প্রতি দিয়াত ব্যবস্থা আল্লাহর পক্ষ হতে তোমাদের প্রতি শাস্তি হ্রাস ও বিশেষ অনুগ্রহ। দিয়াত কবূল করার পরও যদি হত্যা করে তাহলে তার জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে। [৬৮৮১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا الحميدي، حدثنا سفيان، حدثنا عمرو، قال سمعت مجاهدا، قال سمعت ابن عباس رضى الله عنهما يقول كان في بني اسراييل القصاص، ولم تكن فيهم الدية فقال الله تعالى لهذه الامة {كتب عليكم القصاص في القتلى الحر بالحر والعبد بالعبد والانثى بالانثى فمن عفي له من اخيه شىء} فالعفو ان يقبل الدية في العمد {فاتباع بالمعروف واداء اليه باحسان} يتبع بالمعروف ويودي باحسان، {ذلك تخفيف من ربكم} ورحمة مما كتب على من كان قبلكم. {فمن اعتدى بعد ذلك فله عذاب اليم} قتل بعد قبول الدية
আনাস (রাঃ) তাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহর কিতাবের নির্দেশ হল কিসাস। [২৭০৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن عبد الله الانصاري، حدثنا حميد، ان انسا، حدثهم عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " كتاب الله القصاص
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আনাসের ফুফু রুবাঈ এক বাঁদির সম্মুখ দাঁত ভেঙ্গে ফেলে। এরপর বাঁদির কাছে রুবাঈয়ের লোকজন ক্ষমা চাইলে বাঁদির লোকেরা অস্বীকার করে। তখন তাদের কাছে দিয়াত পেশ করা হল, তখন তা তারা গ্রহণ করল না। অগত্যা তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমীপে এসে ঘটনা জানাল। কিন্তু কিসাস ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করতে তারা অস্বীকার করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিসাসের নির্দেশ দিলেন। তখন আনাস ইবনু নযর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! রুবাঈদের সামনের দাঁত ভাঙ্গা হবে? না, যে সত্তা আপনাকে সত্য সহ পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ, তাঁর দাঁত ভাঙ্গা হবে না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আনাস! আল্লাহর কিতাব তো কিসাসের নির্দেশ দেয়। এরপর বাঁদির লোকেরা রাযী হয়ে যায় এবং রুবাঈ‘কে ক্ষমা করে দেয়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এমন মানুষও আছে যিনি আল্লাহর নামে শপথ করলে আল্লাহ তা পূরণ করেন। [২৭০৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني عبد الله بن منير، سمع عبد الله بن بكر السهمي، حدثنا حميد، عن انس، ان الربيع، عمته كسرت ثنية جارية، فطلبوا اليها العفو فابوا، فعرضوا الارش فابوا، فاتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم وابوا الا القصاص، فامر رسول الله صلى الله عليه وسلم بالقصاص، فقال انس بن النضر يا رسول الله، اتكسر ثنية الربيع لا والذي بعثك بالحق لا تكسر ثنيتها. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يا انس كتاب الله القصاص ". فرضي القوم فعفوا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان من عباد الله من لو اقسم على الله لابره
(يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ) ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর সওম ফারয করা হল যেরূপ ফারয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেদের উপর, যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পার।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৮৩) ৪৫০১. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলী যুগের লোকেরা আশুরার সওম পালন করত। এরপর যখন রমাযানের সওমের বিধান অবতীর্ণ হল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার ইচ্ছা সে আশুরার সওম পালন করবে আর যার ইচ্ছা সে তার সওম পালন করবে না। [১৮৯২; মুসলিম ১৩/১৯, হাঃ ১১২৬, আহমাদ ৬৩০০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن عبيد الله، قال اخبرني نافع، عن ابن عمر رضى الله عنهما قال كان عاشوراء يصومه اهل الجاهلية، فلما نزل رمضان قال " من شاء صامه، ومن شاء لم يصمه
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমাযানের সওমের (আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার) পূর্বে আশুরার সওম পালন করা হত। এরপর যখন রমাযানের (সম্পর্কিত বিধান) অবতীর্ণ হল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ইচ্ছা করে (আশুরার) সওম পালন করবে, আর যে চায় সে সওম পালন করবে না। [১৫৯২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا ابن عيينة، عن الزهري، عن عروة، عن عايشة رضى الله عنها كان عاشوراء يصام قبل رمضان، فلما نزل رمضان قال " من شاء صام، ومن شاء افطر
‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস‘ঊদ) (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁর নিকট ‘আশ‘আস (রাঃ) আসেন। এ সময় ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) পানাহার করছিলেন। তখন আশ‘আস (রাঃ) বললেন, আজ তো ‘আশুরা। তিনি বললেন, রমাযানের (এর সওমের বিধান) অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ‘আশুরার সওম পালন করা হত। যখন রমাযানের (এর সওমের বিধান) অবতীর্ণ হল তখন তা পরিত্যাগ করা হয়েছে। এসো, তুমিও খাও। [মুসলিম ১৩/১৯, হাঃ ১১২৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمود، اخبرنا عبيد الله، عن اسراييل، عن منصور، عن ابراهيم، عن علقمة، عن عبد الله، قال دخل عليه الاشعث وهو يطعم فقال اليوم عاشوراء. فقال كان يصام قبل ان ينزل رمضان، فلما نزل رمضان ترك، فادن فكل
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলী যুগে কুরাইশগণ আশুরার দিন সওম পালন করত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও সে সওম পালন করতেন। যখন তিনি মদিনায় হিজরাত করলেন তখনও তিনি সে সওম পালন করতেন এবং অন্যদের পালনের নির্দেশ দিতেন। এরপর যখন রমাযান (সম্পর্কিত আয়াত) অবতীর্ণ হলে রমাযানের সওম ফরয হল এবং আশুরার সওম বাদ গেল। এরপর যে চাইত সে উক্ত সওম পালন করত আর যে চাইত তা পালন করত না। [১৫৯২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني محمد بن المثنى، حدثنا يحيى، حدثنا هشام، قال اخبرني ابي، عن عايشة رضى الله عنها قالت كان يوم عاشوراء تصومه قريش في الجاهلية، وكان النبي صلى الله عليه وسلم يصومه، فلما قدم المدينة صامه وامر بصيامه، فلما نزل رمضان كان رمضان الفريضة، وترك عاشوراء، فكان من شاء صامه، ومن شاء لم يصمه
أَيَّامًا مَّعْدُوْدٰتٍ ط فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَّرِيْضًا أَوْ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ط وَعَلَى الَّذِيْنَ يُطِيْقُوْنَه” فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِيْنٍ ط فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّه”ط وَأَنْ تَصُوْمُوْا خَيْرٌ لَّكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ (184)) নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য। তবে তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে কিংবা সফরে থাকলে সে অন্য সময়ে সওমের সংখ্যা পূরণ করে নিবে। আর সওম যাদের জন্য অতিশয় কষ্টদায়ক, তারা এর পরিবর্তে ফিদয়া দিবে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করে। কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করলে তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। যদি তোমরা সওম কর; তবে তা হবে তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে। (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৮৪) وَقَالَ عَطَاءٌ يُفْطِرُ مِنَ الْمَرَضِ كُلِّهِ كَمَا قَالَ اللهُ تَعَالَى وَقَالَ الْحَسَنُ وَإِبْرَاهِيْمُ فِي الْمُرْضِعِ أَوِ الْحَامِلِ إِذَا خَافَتَا عَلَى أَنْفُسِهِمَا أَوْ وَلَدِهِمَا تُفْطِرَانِ ثُمَّ تَقْضِيَانِ وَأَمَّا الشَّيْخُ الْكَبِيْرُ إِذَا لَمْ يُطِقْ الصِّيَامَ فَقَدْ أَطْعَمَ أَنَسٌ بَعْدَ مَا كَبِرَ عَامًا أَوْ عَامَيْنِ كُلَّ يَوْمٍ مِسْكِيْنًا خُبْزًا وَلَحْمًا وَأَفْطَرَ قِرَاءَةُ الْعَامَّةِ يُطِيْقُوْنَهُ وَهْوَ أَكْثَرُ. ইমাম ‘আত্বা (রহ.) বলেন, সর্বপ্রকার রোগেই সওম ভাঙ্গা যাবে। যেমন আল্লাহ বলেছেন। পক্ষান্তরে ইমাম হাসান ও ইবরাহীম (রহ.) বলেন, স্তন্যদাত্রী এবং গর্ভবতী স্ত্রীলোক যখন নিজ প্রাণ অথবা তাদের সন্তানের জীবনের প্রতি হুমকির আশঙ্কা করে তখন তারা উভয়ে সওম ভঙ্গ করতে পারবে। পরে তা আদায় করে নিতে হবে। অতিবৃদ্ধ ব্যক্তি সওম পালনে অক্ষম হলে যেমন আনাস (রাঃ) বৃদ্ধ হওয়ার পর এক বছর অথবা দু’বছর প্রতিদিন এক দরিদ্র ব্যক্তিকে রুটি ও গোশ্ত খেতে দিতেন এবং সওম ত্যাগ করতেন। অধিকাংশ লোকের কিরাআত হলيُطِيْقُوْنَهُ অর্থাৎ যারা সওমের সামর্থ্য রাখে এবং এটাই সাধারণ্যে প্রচলিত। ৪৫০৫. আতা (রহঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে পড়তে শুনেছেন ...... অর্থাৎ যারা সওম পালনে সক্ষম নয়। তাদের জন্য একজন মিসকীনকে খানা খাওয়ানোই ফিদ্য়া। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ আয়াত রহিত হয়নি। এ হুকুম সেই অতিবৃদ্ধ পুরুষ ও স্ত্রীলোকের জন্য যারা সওম পালনে সমর্থ নয়। এরা প্রত্যেক দিনের সওমের পরিবর্তে একজন মিসকীনকে পেট পুরে আহার করাবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثني اسحاق، اخبرنا روح، حدثنا زكرياء بن اسحاق، حدثنا عمرو بن دينار، عن عطاء، سمع ابن عباس، يقرا {وعلى الذين يطوقونه فدية طعام مسكين }. قال ابن عباس ليست بمنسوخة، هو الشيخ الكبير والمراة الكبيرة لا يستطيعان ان يصوما، فليطعمان مكان كل يوم مسكينا
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি পাঠ করতেন فِدْيَةٌ طَعَامُ مَسَاكِيْنَ রাবী বলেন, এ আয়াত (فَمَنْ شَهِدَ الخ আয়াত দ্বারা) রহিত হয়ে গেছে। [১৯৪৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عياش بن الوليد، حدثنا عبد الاعلى، حدثنا عبيد الله، عن نافع، عن ابن عمر رضى الله عنهما انه قرا {فدية طعام مساكين} قال هي منسوخة
সালামাহ ইবনু আকওয়া' (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, وَعَلَى الَّذِيْنَ يُطَوَّقُوْنَه فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِيْنٍ এ আয়াত অবতীর্ণ হল এবং যারা সওম পালনের সামর্থ্য রাখে তারা একজন মিসকীনকে ফিদ্য়া স্বরূপ আহার্য দান করবে। তখন যে ইচ্ছা সওম ভঙ্গ করত এবং তার পরিবর্তে ফিদ্য়া প্রদান করত। এরপর পরবর্তী আয়াত অবতীর্ণ হয় এবং পূর্বোক্ত আয়াতের হুকুম রহিত করে দেয়। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, ইয়াযীদের পূর্বে বুকায়র মারা যান। [মুসলিম ১৩/২৫, হাঃ ১১৪৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة، حدثنا بكر بن مضر، عن عمرو بن الحارث، عن بكير بن عبد الله، عن يزيد، مولى سلمة بن الاكوع عن سلمة، قال لما نزلت {وعلى الذين يطيقونه فدية طعام مسكين} كان من اراد ان يفطر ويفتدي حتى نزلت الاية التي بعدها فنسختها. مات بكير قبل يزيد
(أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلٰى نِسَآئِكُمْ ط هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ ط عَلِمَ اللهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُوْنَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ ج فَالْئٰنَ بَاشِرُوْهُنَّ وَابْتَغُوْا مَا كَتَبَ اللهُ لَكُمْ) ‘‘তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে সিয়ামের রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করা। তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক। আল্লাহ জানতেন যে, তোমরা নিজেদের সঙ্গে প্রতারণা করছিলে। সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করলেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিলেন। অতএব, এখন থেকে তোমরা তাদের সঙ্গে সহবাস করতে পার এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু বিধিবদ্ধ করেছেন তা লাভ কর।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৮৭) ৪৫০৮. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রমাযানের সওমের হুকুম অবতীর্ণ হল তখন মুসলিমরা গোটা রমাযান মাস স্ত্রীদের নিকটবর্তী হতেন না আর কিছু সংখ্যক লোক এ ব্যাপারে নিজেদের উপর (স্ত্রী-সম্ভোগ করে) অবিচার করে বসে। তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন عَلِمَ اللهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُوْنَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ -‘‘আল্লাহ জানতেন যে, তোমরা নিজেদের সঙ্গে প্রতারণা করছিলে। সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করলেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিলেন। অতএব, এখন থেকে তোমরা তাদের সঙ্গে সহবাস করতে পার এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু বিধিবদ্ধ করেছেন তা লাভ কর’’- (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৮৭)। [১৯১৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبيد الله، عن اسراييل، عن ابي اسحاق، عن البراء، وحدثنا احمد بن عثمان، حدثنا شريح بن مسلمة، قال حدثني ابراهيم بن يوسف، عن ابيه، عن ابي اسحاق، قال سمعت البراء رضى الله عنه . لما نزل صوم رمضان كانوا لا يقربون النساء رمضان كله، وكان رجال يخونون انفسهم، فانزل الله {علم الله انكم كنتم تختانون انفسكم فتاب عليكم وعفا عنكم}
(وَكُلُوْا وَاشْرَبُوْا حَتّٰى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِص ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ ج وَلَا تُبَاشِرُوْهُنَّ وَأَنْتُمْ عٰكِفُوْنَ فِي الْمَسَاجِدِ) إِلَى قَوْلِهِ (يَتَّقُوْنَ) الْعَاكِفُ : الْمُقِيْمُ. ‘‘আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। তারপর সওম পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর তোমরা যখন মসজিদে ই‘তিকাফ করবে তখন স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করবে না। এগুলো আল্লাহর বেঁধে দেয়া সীমারেখা। সুতরাং এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে আল্লাহ তাঁর নিদর্শনাবলী মানুষের জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৮৭) আল ‘আকিফুالْعَاكِفُ الْمُقِيْمُ অবস্থানকারী। ৪৫০৯. আদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি (আদী) একটি সাদা ও একটি কালো সুতা সঙ্গে রাখলেন। কিন্তু রাত অতিবাহিত হলে খুলে দেখলেন কিন্তু তার কাছে সাদা কালোর কোন পার্থক্য নিরূপিত হল না। যখন সকাল হল তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার বালিশের নিচে (সাদা ও কালো রংয়ের দু’টি সুতা) রেখেছিলাম (এবং তিনি রাতের ঘটনাটি বললেন)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার বালিশ তো খুবই বড় দেখছি, যদি কালো ও সাদা সুতা (সুবহি কাযিব ও সুবহি সাদিক) তোমার বালিশের নিচে থেকে থাকে। (রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আদী (রা.)-এর বর্ণনা শুনে কৌতুক করে বলেছেন যে, গোটা পূর্বাকাশ যদি তোমার বালিশের নিচে রেখে থাক তাহলে সে বালিশ তো খুব বড়ই দেখছি) [১৯১৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا ابو عوانة، عن حصين، عن الشعبي، عن عدي، قال اخذ عدي عقالا ابيض وعقالا اسود حتى كان بعض الليل نظر فلم يستبينا، فلما اصبح قال يا رسول الله، جعلت تحت وسادتي. قال " ان وسادك اذا لعريض ان كان الخيط الابيض والاسود تحت وسادتك
আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! (আল্লাহর বাণীতে) الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ সাদা সুতা কালো সুতা থেকে বের হয়ে আসার অর্থ কী? আসলে কি ঐ দু’টি সুতা? তিনি উত্তর দিলেন, তুমি আজব লোক দেখছি যে, সূতা দু’টি তুমি দেখতে পেয়েছ। তারপর তিনি বললেন, তা নয় বরং এ হল রাতের কৃষ্ণতা ও দিনের শুভ্রতা। [১৯১৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا جرير، عن مطرف، عن الشعبي، عن عدي بن حاتم رضى الله عنه قال قلت يا رسول الله ما الخيط الابيض من الخيط الاسود اهما الخيطان قال " انك لعريض القفا ان ابصرت الخيطين ". ثم قال " لا بل هو سواد الليل وبياض النهار
সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, وَكُلُوْا وَاشْرَبُوْا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمْ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হয় তখন مِنَ الْفَجْرِ ‘ফজর হতে’ কথাটি অবতীর্ণ হয়নি। তাই লোকেরা সওম পালনের ইচ্ছা করলে তখন তাদের কেউ কেউ দুই পায়ে সাদা ও কালো রঙের সূতা বেঁধে রাখত। এরপর ঐ দু’টি সুতা পরিষ্কারভাবে দেখা না যাওয়া পর্যন্ত তারা পানাহার করত। তখন আল্লাহ তা‘আলা পরে مِنَ الْفَجْرِ শব্দটি অবতীর্ণ করেন। এতে লোকেরা জানতে পারেন যে, এ দ্বারা উদ্দেশ্য হল দিন হতে রাত্রির স্পষ্টতা। [১৯১৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابن ابي مريم، حدثنا ابو غسان، محمد بن مطرف حدثني ابو حازم، عن سهل بن سعد، قال وانزلت {وكلوا واشربوا حتى يتبين لكم الخيط الابيض من الخيط الاسود} ولم ينزل {من الفجر} وكان رجال اذا ارادوا الصوم ربط احدهم في رجليه الخيط الابيض والخيط الاسود، ولا يزال ياكل حتى يتبين له رويتهما، فانزل الله بعده {من الفجر} فعلموا انما يعني الليل من النهار
(وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَنْ تَأْتُوا الْبُيُوْتَ مِنْ ظُهُوْرِهَا وَلٰكِنَّ الْبِرَّ مَنِ اتَّقٰى ج وَأْتُوا الْبُيُوْتَ مِنْ أَبْوٰبِهَا ص وَاتَّقُوا اللهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ) ‘‘আর পেছনের দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করাতে কোন পুণ্য নেই, বরং পুণ্য আছে কেউ তাকওয়া অবলম্বন করলে। সুতরাং তোমরা দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা কৃতকার্য হতে পার।’’ (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৮৯) ৪৫১২. বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলী যুগে যখন লোকেরা ইহরাম বাঁধত, তারা পেছনের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করত। তখন আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন- ‘‘আর পেছনের দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করাতে কোন পুণ্য নেই, বরং পুণ্য আছে কেউ তাকওয়া অবলম্বন করলে। সুতরাং তোমরা দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ কর’’- (সূরাহ আল-বাকারাহ ২/১৮৯)। [১৮০৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبيد الله بن موسى، عن اسراييل، عن ابي اسحاق، عن البراء، قال كانوا اذا احرموا في الجاهلية اتوا البيت من ظهره، فانزل الله {وليس البر بان تاتوا البيوت من ظهورها ولكن البر من اتقى واتوا البيوت من ابوابها}
নাফি’ (রহ.) থেকে কিছু বাড়িয়ে বলেন যে, এক ব্যক্তি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! কী কারণে আপনি এক বছর হাজ্জ করেন এবং এক বছর ‘উমরাহ করেন অথচ আল্লাহর পথে জিহাদ ত্যাগ করেছেন? আপনি পরিজ্ঞাত আছেন যে, আল্লাহ এ বিষয়ে জিহাদ সম্পর্কে কীভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে ভাতিজা! ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে পাঁচটি বস্তুর উপরঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ঈমান আনা, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত প্রতিষ্ঠা, রমাযানের সওম পালন, যাকাত প্রদান এবং বাইতুল্লাহর হাজ্জ পালন। তখন সে ব্যক্তি বলল, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিতাবে কী বর্ণনা করেছেন তা কি আপনি শুনেননি? وَإِنْ طَآئِفَتٰنِ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ اقْتَتَلُوْا فَأَصْلِحُوْا بَيْنَهُمَا ج فَإِنْمبَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرٰى فَقَاتِلُوا الَّتِيْ تَبْغِيْ حَتّٰى تَفِيْٓءَ إِلٰٓى أَمْرِ اللهِ ‘‘আর যদি মু‘মিনদের দু’টি দল পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করে দিবে। অতঃপর যদি তাদের একদল অন্য দলের উপর বাড়াবাড়ি করে, তবে তোমরা যারা বাড়াবাড়ি করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর হুকুমের দিকে ফিরে আসে। যদি তারা ফিরে আসে, তবে তোমরা উভয় দলের মধ্যে ন্যায়ের সঙ্গে সন্ধি করে দিবে এবং ইনসাফ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফ কায়িমকারীদেরকে ভালবাসেন।’’ (সূরাহ আল-হুজরাত ৪৯/৯) قَاتِلُوْهُمْ حَتّٰى لَا تَكُوْنَ فِتْنَةٌ (এ আয়াতগুলো শ্রবণ করার পর) ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমরা এ কাজ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে করেছি এবং তখন ইসলামের অনুসারীর দল স্বল্প সংখ্যক ছিল। যদি কোন লোক দ্বীন সম্পর্কে ফিতনায় নিপতিত হত তখন হয় তাকে হত্যা করা হত অথবা শাস্তি প্রদান করা হত। এভাবে ইসলামের অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে গেল। তখন আর কোন ফিতনা রইল না। [৮, ৩১৩০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪১৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪১৫৮ শেষাংশ)
حدثنا محمد بن بشار، حدثنا عبد الوهاب، حدثنا عبيد الله، عن نافع، عن ابن عمر رضى الله عنهما اتاه رجلان في فتنة ابن الزبير فقالا ان الناس قد ضيعوا، وانت ابن عمر وصاحب النبي صلى الله عليه وسلم فما يمنعك ان تخرج فقال يمنعني ان الله حرم دم اخي. فقالا الم يقل الله {وقاتلوهم حتى لا تكون فتنة } فقال قاتلنا حتى لم تكن فتنة، وكان الدين لله، وانتم تريدون ان تقاتلوا حتى تكون فتنة، ويكون الدين لغير الله. وزاد عثمان بن صالح عن ابن وهب، قال اخبرني فلان، وحيوة بن شريح، عن بكر بن عمرو المعافري، ان بكير بن عبد الله، حدثه عن نافع، ان رجلا، اتى ابن عمر فقال يا ابا عبد الرحمن ما حملك على ان تحج عاما وتعتمر عاما، وتترك الجهاد في سبيل الله عز وجل، وقد علمت ما رغب الله فيه قال يا ابن اخي بني الاسلام على خمس ايمان بالله ورسوله، والصلاة الخمس، وصيام رمضان، واداء الزكاة، وحج البيت. قال يا ابا عبد الرحمن، الا تسمع ما ذكر الله في كتابه {وان طايفتان من المومنين اقتتلوا فاصلحوا بينهما} {الى امر الله} {قاتلوهم حتى لا تكون فتنة} قال فعلنا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان الاسلام قليلا، فكان الرجل يفتن في دينه اما قتلوه، واما يعذبوه، حتى كثر الاسلام فلم تكن فتنة. قال فما قولك في علي وعثمان قال اما عثمان فكان الله عفا عنه، واما انتم فكرهتم ان تعفوا عنه، واما علي فابن عم رسول الله صلى الله عليه وسلم وختنه. واشار بيده فقال هذا بيته حيث ترون