Loading...

Loading...
বইসমূহ
৬৫ হাদিসসমূহ
‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁকে মারওয়ান ইবনু হাকাম ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) রিওয়ায়াত করেছেন যে, যখন হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দল মুসলিম হয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল যে, তাদের মালামাল ও বন্দী উভয়ই ফেরত দেয়া হোক। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, আমার নিকট সত্য কথা অধিকতর প্রিয়। তোমরা দু’য়ের মধ্যে যে কোন একটি গ্রহণ কর। বন্দী, নয় মালামাল। আর আমি তো তাদের (হাওয়াযিন গোত্রের) প্রতীক্ষা করেছিলাম আর তায়েফ হতে ফেরার সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশ দিন থেকে অধিক সময় তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে যখন তাদের নিকট স্পষ্ট হলো যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দু’টোর মধ্যে যে কোন একটিই ফেরত দিবেন, তখন তারা বলল, আমরা আমাদের বন্দীদের ফেরত লাভই পছন্দ করি। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের সামনে দাঁড়ালেন। প্রথমে তিনি আল্লাহ তা‘আলার যথোপযুক্ত প্রশংসা করলেন। অতঃপর বললেন, তোমাদের এ সব ভাই তাওবা করে আমার নিকট এসেছে। আর আমি উচিত মনে করছি যে, তাদের বন্দীদের ফেরত দিব। যে ব্যক্তি সন্তুষ্টচিত্তে তা করতে চায়, সে যেন তা করে আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি চায় যে, তার অংশ বহাল থাকুক, সে যেন অপেক্ষা করে (কিংবা) আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে প্রথম যে গনীমতের মাল দান করেছেন, আমি তাকে তা হতে তা দিয়ে দিব, তাও করতে পারে। উপস্থিত লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সন্তুষ্টচিত্তে তা গ্রহণ করলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি সঠিক জানতে পারিনি, তোমাদের মধ্যে কে এতে সম্মতি দিয়েছে, আর কে দেয়নি। কাজেই, তোমরা ফিরে যাও এবং নিজ নিজ প্রতিনিধির মাধ্যমে আমাকে তোমাদের সিদ্ধান্ত জানাও। লোকেরা চলে গেল। আর তাদের প্রতিনিধিরা নিজেদের লোকের সঙ্গে আলোচনা করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফেরত এল এবং তাঁকে জানাল যে, তারা সন্তুষ্টচিত্তে সম্মতি দিয়েছে। হাওয়াযিনের বন্দীগণ সম্পর্কিত বিবরণ আমাদের নিকট এ রকমই পৌঁছেছে। (২৩০৭, ২৩০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سعيد بن عفير، قال حدثني الليث، قال حدثني عقيل، عن ابن شهاب، قال وزعم عروة ان مروان بن الحكم، ومسور بن مخرمة، اخبراه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال حين جاءه وفد هوازن مسلمين، فسالوه ان يرد اليهم اموالهم وسبيهم فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم " احب الحديث الى اصدقه، فاختاروا احدى الطايفتين اما السبى واما المال، وقد كنت استانيت بهم ". وقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم انتظر اخرهم بضع عشرة ليلة، حين قفل من الطايف، فلما تبين لهم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم غير راد اليهم الا احدى الطايفتين. قالوا فانا نختار سبينا، فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسلمين فاثنى على الله بما هو اهله ثم قال " اما بعد، فان اخوانكم هولاء قد جاءونا تايبين، واني قد رايت ان ارد اليهم سبيهم، من احب ان يطيب فليفعل، ومن احب منكم ان يكون على حظه حتى نعطيه اياه من اول ما يفيء الله علينا فليفعل ". فقال الناس قد طيبنا ذلك يا رسول الله لهم. فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم " انا لا ندري من اذن منكم في ذلك ممن لم ياذن، فارجعوا حتى يرفع الينا عرفاوكم امركم " فرجع الناس، فكلمهم عرفاوهم، ثم رجعوا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبروه انهم قد طيبوا فاذنوا. فهذا الذي بلغنا عن سبى هوازن
‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁকে মারওয়ান ইবনু হাকাম ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) রিওয়ায়াত করেছেন যে, যখন হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দল মুসলিম হয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল যে, তাদের মালামাল ও বন্দী উভয়ই ফেরত দেয়া হোক। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন, আমার নিকট সত্য কথা অধিকতর প্রিয়। তোমরা দু’য়ের মধ্যে যে কোন একটি গ্রহণ কর। বন্দী, নয় মালামাল। আর আমি তো তাদের (হাওয়াযিন গোত্রের) প্রতীক্ষা করেছিলাম আর তায়েফ হতে ফেরার সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশ দিন থেকে অধিক সময় তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে যখন তাদের নিকট স্পষ্ট হলো যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দু’টোর মধ্যে যে কোন একটিই ফেরত দিবেন, তখন তারা বলল, আমরা আমাদের বন্দীদের ফেরত লাভই পছন্দ করি। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের সামনে দাঁড়ালেন। প্রথমে তিনি আল্লাহ তা‘আলার যথোপযুক্ত প্রশংসা করলেন। অতঃপর বললেন, তোমাদের এ সব ভাই তাওবা করে আমার নিকট এসেছে। আর আমি উচিত মনে করছি যে, তাদের বন্দীদের ফেরত দিব। যে ব্যক্তি সন্তুষ্টচিত্তে তা করতে চায়, সে যেন তা করে আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি চায় যে, তার অংশ বহাল থাকুক, সে যেন অপেক্ষা করে (কিংবা) আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে প্রথম যে গনীমতের মাল দান করেছেন, আমি তাকে তা হতে তা দিয়ে দিব, তাও করতে পারে। উপস্থিত লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সন্তুষ্টচিত্তে তা গ্রহণ করলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি সঠিক জানতে পারিনি, তোমাদের মধ্যে কে এতে সম্মতি দিয়েছে, আর কে দেয়নি। কাজেই, তোমরা ফিরে যাও এবং নিজ নিজ প্রতিনিধির মাধ্যমে আমাকে তোমাদের সিদ্ধান্ত জানাও। লোকেরা চলে গেল। আর তাদের প্রতিনিধিরা নিজেদের লোকের সঙ্গে আলোচনা করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফেরত এল এবং তাঁকে জানাল যে, তারা সন্তুষ্টচিত্তে সম্মতি দিয়েছে। হাওয়াযিনের বন্দীগণ সম্পর্কিত বিবরণ আমাদের নিকট এ রকমই পৌঁছেছে। (২৩০৭, ২৩০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا سعيد بن عفير، قال حدثني الليث، قال حدثني عقيل، عن ابن شهاب، قال وزعم عروة ان مروان بن الحكم، ومسور بن مخرمة، اخبراه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال حين جاءه وفد هوازن مسلمين، فسالوه ان يرد اليهم اموالهم وسبيهم فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم " احب الحديث الى اصدقه، فاختاروا احدى الطايفتين اما السبى واما المال، وقد كنت استانيت بهم ". وقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم انتظر اخرهم بضع عشرة ليلة، حين قفل من الطايف، فلما تبين لهم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم غير راد اليهم الا احدى الطايفتين. قالوا فانا نختار سبينا، فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسلمين فاثنى على الله بما هو اهله ثم قال " اما بعد، فان اخوانكم هولاء قد جاءونا تايبين، واني قد رايت ان ارد اليهم سبيهم، من احب ان يطيب فليفعل، ومن احب منكم ان يكون على حظه حتى نعطيه اياه من اول ما يفيء الله علينا فليفعل ". فقال الناس قد طيبنا ذلك يا رسول الله لهم. فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم " انا لا ندري من اذن منكم في ذلك ممن لم ياذن، فارجعوا حتى يرفع الينا عرفاوكم امركم " فرجع الناس، فكلمهم عرفاوهم، ثم رجعوا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبروه انهم قد طيبوا فاذنوا. فهذا الذي بلغنا عن سبى هوازن
যাহদাম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবূ মূসা (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম, এ সময় মুরগীর (গোশত) সম্বন্ধে আলোচনা উঠল। তথায় তাইমুল্লাহ গোত্রের এমন লাল বর্ণের এক ব্যক্তিও উপস্থিত ছিল, যেন সে মাওয়ালী (রোমক ক্রীতদাস)-দের একজন। তাকে খাওযার জন্য ডাকলেন। তখন সে বলল, আমি মুরগীকে এমন বস্তু খেতে দেখেছি, যাতে আমার ঘৃণা জন্মেছে। তাই আমি শপথ করেছি যে, তা খাব না। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, আস, আমি তোমাকে এ সম্পর্কে হাদীস শুনাচ্ছি। আমি কয়েকজন আশ‘আরী ব্যক্তির পক্ষে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সাওয়ারী চাইতে যাই। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সাওয়ারী দিব না এবং আমার নিকট তোমাদের দেয়ার মত কোন সাওয়ারীও নেই। এ সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গনীমতের কয়েকটি উট আনা হলো। তখন তিনি আমাদের খোঁজ নিলেন এবং বললেন, সেই আশ‘আরী লোকেরা কোথায়? অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁচু সাদা চুলওয়ালা পাঁচটি উট আমাদের দিতে বললেন। যখন আমরা উট নিয়ে রওয়ানা দিলাম বললাম, আমরা কী করলাম? আমাদের কল্যাণ হবে না। আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে এলাম এবং বললাম, আমরা আপনার নিকট সাওয়ারীর জন্য আবেদন করেছিলাম, তখন আপনি শপথ করে বলেছিলেন, আমাদের সাওয়ারী দিবেন না। আপনি কি তা ভুলে গিয়েছেন? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাদের সাওয়ারী দেইনি বরং আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সাওয়ারী দান করেছেন। আর আল্লাহর কসম, আমার অবস্থা এই যে, ইন্শাআল্লাহ্ কোন বিষয়ে আমি কসম করি এবং তার বিপরীতটি কল্যাণকর মনে করি, তখন সেই কল্যাণকর কাজটি আমি করি এবং কাফ্ফারা দিয়ে শপথ হতে মুক্ত হই। (৪৩৮৫, ৪৪১৫, ৫৫১৭, ৫৫১৮, ৬৬২৩, ৬৬৪৯, ৬৬৭৮, ৬৬৮০, ৬৭১৮, ৬৭১৯, ৬৭২১, ৭৫৫৫) (মুসলিম ২৬/৩ হাঃ ১৬৩৯, আহমাদ ১৯৫৭৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن عبد الوهاب، حدثنا حماد، حدثنا ايوب، عن ابي قلابة، قال وحدثني القاسم بن عاصم الكليبي وانا لحديث القاسم، احفظ عن زهدم، قال كنا عند ابي موسى، فاتي ذكر دجاجة وعنده رجل من بني تيم الله احمر كانه من الموالي، فدعاه للطعام فقال اني رايته ياكل شييا، فقذرته، فحلفت لا اكل. فقال هلم فلاحدثكم عن ذاك، اني اتيت النبي صلى الله عليه وسلم في نفر من الاشعريين نستحمله فقال " والله لا احملكم، وما عندي ما احملكم ". واتي رسول الله صلى الله عليه وسلم بنهب ابل، فسال عنا فقال " اين النفر الاشعريون ". فامر لنا بخمس ذود غر الذرى، فلما انطلقنا قلنا ما صنعنا لا يبارك لنا، فرجعنا اليه فقلنا انا سالناك ان تحملنا، فحلفت ان لا تحملنا افنسيت قال " لست انا حملتكم، ولكن الله حملكم، واني والله ان شاء الله لا احلف على يمين فارى غيرها خيرا منها الا اتيت الذي هو خير وتحللتها
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজদের দিকে একটি সেনাদল পাঠালেন, যাদের মধ্যে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-ও ছিলেন। এ যুদ্ধে গনীমত হিসেবে তাঁরা বহু উট লাভ করেন। তাঁদের প্রত্যেকের ভাগে এগারোটি কিংবা বারটি করে উট পড়েছিল এবং তাঁদেরকে পুরস্কার হিসেবে আরো একটি করে উট দেয়া হয়। (৪৩৩৮) (মুসলিম ৩২/১২ হাঃ ১৭৪৯, আহমাদ ৪৫৭৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৮৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن نافع، عن ابن عمر رضى الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث سرية فيها عبد الله قبل نجد، فغنموا ابلا كثيرا، فكانت سهامهم اثنى عشر بعيرا او احد عشر بعيرا، ونفلوا بعيرا بعيرا
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত কোন কোন সেনা দলে কোন কোন ব্যক্তিকে সাধারণ সৈন্যদের প্রাপ্য অংশের চেয়ে অতিরিক্ত দান করতেন। (মুসলিম ৩২/১২ হাঃ ১৭৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن بكير، اخبرنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن سالم، عن ابن عمر رضى الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان ينفل بعض من يبعث من السرايا لانفسهم خاصة سوى قسم عامة الجيش
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইয়ামানে থাকতেই আমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরাত করার খবর পৌঁছে। তখন আমরাও তাঁর নিকট হিজরাত করার উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লাম। আমি এবং আমার আরো দু’ভাই এর মধ্যে ছিলাম। আমি ছিলাম সবচেয়ে ছোট। তাদের একজন হলেন আবূ বুরদাহ, অন্যজন আবূ রুহ্ম। রাবী হয়ত বলেছেন, আমার গোত্রের আরোও কতিপয় লোকের মধ্যে; কিংবা বলেছেন, আমার গোত্রের তিপ্পান্ন বা বায়ান্ন জন লোকের মধ্যে। অতঃপর আমরা একটি নৌযানে উঠলাম। ঘটনাক্রমে আমাদেরকে নৌযানটি হাবশার নাজ্জাশী বাদশাহর দিকে নিয়ে যায়। সেখানে আমরা জা‘ফর ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) ও তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে মিলিত হই। জা‘ফর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এখানে পাঠিয়েছেন এবং এখানে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আপনারাও আমাদের সঙ্গে এখানে থাকুন। তখন আমরা তাঁর সঙ্গে থেকে গেলাম। অবশেষে আমরা সকলে একত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলাম। এমন সময় আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছলাম, যখন তিনি খায়বার বিজয় করেছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য অংশ নির্ধারণ করলেন। (বর্ণণাকারী বলেন), কিংবা তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরও তা হতে দিয়েছেন। আমাদের ছাড়া খায়বার বিজয়ে অনুপস্থিত কাউকেই তা হতে অংশ দেননি, জা‘ফর (রাঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণের সঙ্গে আমাদের এ নৌযাত্রীদের মধ্যে বণ্টন করেছেন। (৩৮৭৬, ৪২৩০, ৪২৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن العلاء، حدثنا ابو اسامة، حدثنا بريد بن عبد الله، عن ابي بردة، عن ابي موسى رضى الله عنه قال بلغنا مخرج النبي صلى الله عليه وسلم ونحن باليمن فخرجنا مهاجرين اليه، انا واخوان لي، انا اصغرهم، احدهما ابو بردة والاخر ابو رهم، اما قال في بضع، واما قال في ثلاثة وخمسين او اثنين وخمسين رجلا من قومي فركبنا سفينة، فالقتنا سفينتنا الى النجاشي بالحبشة، ووافقنا جعفر بن ابي طالب واصحابه عنده فقال جعفر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم بعثنا ها هنا، وامرنا بالاقامة فاقيموا معنا. فاقمنا معه، حتى قدمنا جميعا، فوافقنا النبي صلى الله عليه وسلم حين افتتح خيبر، فاسهم لنا. او قال فاعطانا منها. وما قسم لاحد غاب عن فتح خيبر منها شييا، الا لمن شهد معه، الا اصحاب سفينتنا مع جعفر واصحابه، قسم لهم معهم
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি আমার নিকট বাহরাইনের মাল আসে, তবে আমি তোমাকে (দুইহাত মিলিয়ে) এ পরিমাণ ও এ পরিমাণ দান করব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যু অবধি তা এলো না। অতঃপর যখন বাহরাইনের মাল এল, তখন আবূ বাকর (রাঃ) ঘোষণাকারীকে এ ঘোষণা দেয়ার আদেশ করলেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যার কোন ঋণ বা ওয়াদা আছে, সে যেন আমার নিকট আসে। অতঃপর আমি তাঁর নিকট গিয়ে বললাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এত এত ও এত দেয়ার কথা বলেছেন। তখন আবূ বাকর (রাঃ) তিনবার আঁজলা ভরে দান করেন। সুফ্ইয়ান (রাঃ) তাঁর দুই হাত একত্র করে আঁজলা করে আমাদের বললেন, ইবনু মুনকাদির এরূপই বলেছেন। জাবির (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি (জাবির) আবূ বাকর (রাঃ)-এর নিকট এলাম এবং তাঁর নিকট চাইলাম। তিনি আমাকে দিলেন না। আবার আমি তাঁর নিকট এলাম। তখনও তিনি আমাকে দিলেন না আবার আমি তাঁর নিকট তৃতীয়বার এসে বললাম, আমি আপনার নিকট চেয়েছি, আপনি আমাকে দেননি। আবার আমি আপনার নিকট চেয়েছি, আপনি আমাকে দেননি। এখন আমাকে আপনি দেবেন, না হয় আমার সঙ্গে কৃপণতা করবেন। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, তুমি আমাকে বলছ, ‘কৃপণতা করবেন?’ আমি যতবারই তোমাকে দিতে অস্বীকার করি না কেন, আমার ইচ্ছা ছিল যে, আমি তোমাকে দেই। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেন, ‘আমর (রহ.) মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলী (রহ.) সূত্রে জাবির (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আবূ বাকর (রাঃ) আমাকে এক আঁজলা দিয়ে বললেন, এটা গুণে নাও। আমি গণনা করে দেখলাম, পাঁচ শত। তখন তিনি বললেন, এ রকম আরও দু’বার নিয়ে নাও। আর ইবনুল মুনকাদিরের বর্ণনায় আছে যে, [আবূ বাকর (রাঃ) বলেছেন], ‘কৃপণতার চেয়ে বড় রোগ কী হতে পারে?’ (২২৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي، حدثنا سفيان، حدثنا محمد بن المنكدر، سمع جابرا رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " لو قد جاءني مال البحرين لقد اعطيتك هكذا وهكذا وهكذا ". فلم يجي حتى قبض النبي صلى الله عليه وسلم، فلما جاء مال البحرين امر ابو بكر مناديا فنادى من كان له عند رسول الله صلى الله عليه وسلم دين او عدة فلياتنا. فاتيته فقلت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لي كذا وكذا. فحثا لي ثلاثا وجعل سفيان يحثو بكفيه جميعا، ثم قال لنا هكذا قال لنا ابن المنكدر وقال مرة فاتيت ابا بكر فسالت فلم يعطني، ثم اتيته فلم يعطني، ثم اتيته الثالثة فقلت سالتك فلم تعطني، ثم سالتك فلم تعطني، ثم سالتك فلم تعطني، فاما ان تعطيني، واما ان تبخل عني. قال قلت تبخل على ما منعتك من مرة الا وانا اريد ان اعطيك. قال سفيان وحدثنا عمرو عن محمد بن علي عن جابر فحثا لي حثية وقال عدها. فوجدتها خمسماية قال فخذ مثلها مرتين. وقال يعني ابن المنكدر واى داء ادوا من البخل
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জি‘য়রানা নামক জায়গায় গানীমাতের মাল বণ্টন করছিলেন, তখন এক ব্যক্তি বলল, ইন্সাফ করুন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমি যদি ইন্সাফ না করি, তবে তুমি হবে হতভাগা।’ (মুসলিম ১২/৪৭ হাঃ ১০৬৩, আহমাদ ১৪৮১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسلم بن ابراهيم، حدثنا قرة، حدثنا عمرو بن دينار، عن جابر بن عبد الله رضى الله عنهما قال بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم يقسم غنيمة بالجعرانة اذ قال له رجل اعدل. فقال له " شقيت ان لم اعدل
জুবাইর ইবনু মুতয়িম (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাদারের যুদ্ধ বন্দীদের ব্যাপারে বলেন, ‘যদি মুতয়িম ইবনু আদী (রাঃ) জীবিত থাকতেন আর আমার নিকট এ সকল নোংরা লোকের জন্যে সুপারিশ করতেন, তবে আমি তাঁর সম্মানার্থে এদের মুক্ত করে দিতাম।’ (৪০২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسحاق بن منصور، اخبرنا عبد الرزاق، اخبرنا معمر، عن الزهري، عن محمد بن جبير، عن ابيه رضى الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم قال في اسارى بدر " لو كان المطعم بن عدي حيا، ثم كلمني في هولاء النتنى، لتركتهم له
قَسَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِبَنِي الْمُطَّلِبِ وَبَنِيْ هَاشِمٍ مِنْ خُمُسِ خَيْبَرَ এর দলীল এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের খুমুস হতে বানূ হাশিম ও বানূ মুত্তালিবকেই দিয়েছেন। قَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيْزِ لَمْ يَعُمَّهُمْ بِذَلِكَ وَلَمْ يَخُصَّ قَرِيْبًا دُوْنَ مَنْ هُوَ أَحْوَجُ إِلَيْهِ وَإِنْ كَانَ الَّذِيْ أَعْطَى لِمَا يَشْكُوْ إِلَيْهِ مِنْ الْحَاجَةِ وَلِمَا مَسَّتْهُمْ فِيْ جَنْبِهِ مِنْ قَوْمِهِمْ وَحُلَفَائِهِمْ ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহ.) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণভাবে সকল কুরাইশকে দেননি এবং যে ব্যক্তি অধিকতর অভাবগ্রস্ত তার উপর কোন আত্মীয়কে অগ্রাধিকার দেননি। যদিও তিনি যাদের দিয়েছেন তা এ জন্যে যে, তারা তাঁর নিকট তার অভাবের কথা তাঁকে জানিয়েছে। আর এ জন্যে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ গ্রহণ করায় তারা নিজ গোত্র ও স্বজনদের দ্বারা অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। ৩১৪০. জুবাইর ইবনু মুতঈম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং ‘উসমান ইবনু ‘আফ্ফান (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বানূ মুত্তালিবকে দিয়েছেন, আর আমাদের বাদ দিয়েছেন। অথচ আমরা এবং তারা আপনার সঙ্গে একই স্তরে সম্পর্কিত। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বানূ মুত্তালিব ও বানূ হাশিম একই স্তরের। লায়স (রহ.) বলেন, ইউনুস (রহ.) আমাকে এ হাদীসটিতে আরো বেশি বলেছেন যে, জুবাইর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানূ আবদ শাম্স ও বানূ নাওফলকে অংশ দেননি। ইবনু ইসহাক (রহ.) বলেন, আবদ শামস্, হাশিম ও মুত্তালিব একই মায়ের গর্ভজাত সহোদর ভাই। তাঁদের মাতা হলেন আতিকা বিনতু মুররা আর নাওফল ছিলেন তাদের বৈমাত্রেয় ভাই। (৩৫০২, ৪২২৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن ابن المسيب، عن جبير بن مطعم، قال مشيت انا وعثمان بن عفان، الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلنا يا رسول الله، اعطيت بني المطلب وتركتنا، ونحن وهم منك بمنزلة واحدة. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " انما بنو المطلب وبنو هاشم شىء واحد ". قال الليث حدثني يونس وزاد قال جبير ولم يقسم النبي صلى الله عليه وسلم لبني عبد شمس ولا لبني نوفل. وقال ابن اسحاق عبد شمس وهاشم والمطلب اخوة لام، وامهم عاتكة بنت مرة، وكان نوفل اخاهم لابيهم
وَمَنْ قَتَلَ قَتِيْلًا فَلَهُ سَلَبُهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ يُخَمِّسَ وَحُكْمِ الْإِمَامِ فِيْهِ কেউ কাউকে হত্যা করল, অতঃপর নিহত ব্যক্তির নিকট থেকে প্রাপ্ত মালামালের খুমুস বের না করেই তা তারই প্রাপ্য আর ইমাম কর্তৃক এ রকম আদেশ দান করা। ৩১৪১. ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আউফ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমি বাদার যুদ্ধে সারিতে দাঁড়িয়ে আছি, আমি আমার ডানে বামে তাকিয়ে দেখলাম, অল্প বয়স্ক দু’জন আনসার যুবকের মাঝখানে আছি। আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল, তাদের চেয়ে শক্তিশালীদের মধ্যে থাকি। তখন তাদের একজন আমাকে খোঁচা দিয়ে জিজ্ঞেস করল, চাচা! আপনি কি আবূ জাহ্লকে চিনেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তবে ভাতিজা, তাতে তোমার দরকার কী? সে বলল, আমাকে জানানো হয়েছে যে, সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালাগালি করে। সে মহান সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ। আমি যদি তাকে দেখতে পাই, তবে আমার দেহ তার দেহ হতে বিচ্ছিন্ন হবে না যতক্ষণ না আমাদের মধ্যে যার মৃত্যু আগে নির্ধারিত, সে মারা যায়। আমি তার কথায় আশ্চর্য হলাম। তা শুনে দ্বিতীয়জন আমাকে খোঁচা দিয়ে ঐ রকমই বলল। তৎক্ষণাৎ আমি আবূ জাহলকে দেখলাম, সে লোকজনের মাঝে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তখন আমি বললাম, এই যে তোমাদের সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে তোমরা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলে। তারা তৎক্ষণাৎ নিজের তরবারী নিয়ে তার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাকে আঘাত করে হত্যা করল। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে ফিরে এসে তাঁকে জানালো। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের মধ্যে কে তাকে হত্যা করেছে? তারা উভয়ে দাবী করল, আমি তাকে হত্যা করেছি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের তরবারী তোমরা মুছে ফেলনি তো? তারা উভয়ে বলল, না। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়ের তরবারী দেখলেন এবং বললেন, তোমরা উভয়ে তাকে হত্যা করেছো। অবশ্য তার নিকট হতে প্রাপ্ত মালামাল মু‘আয ইবনু ‘আমর ইবনু জামূহের জন্য। তারা দু’জন হলো, মুআয ইবনু ‘আফরা ও মু‘আয ইবনু ‘আমর ইবনু জামূহ। মুহাম্মাদ (রহ.) বলেছেন, তিনি ইউসুফ ও তাঁর পিতা ইবরাহীম (রহ.)-কে সৎ ব্যক্তি হিসেবে শুনেছেন। (৩৯৬৪, ৩৯৮৮) (মুসলিম ৩২/১৩ হাঃ ১৭৫২, আহমাদ ১৬৭৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، حدثنا يوسف بن الماجشون، عن صالح بن ابراهيم بن عبد الرحمن بن عوف، عن ابيه، عن جده، قال بينا انا واقف، في الصف يوم بدر فنظرت عن يميني، وشمالي، فاذا انا بغلامين، من الانصار حديثة اسنانهما، تمنيت ان اكون بين اضلع منهما، فغمزني احدهما فقال يا عم، هل تعرف ابا جهل قلت نعم، ما حاجتك اليه يا ابن اخي قال اخبرت انه يسب رسول الله صلى الله عليه وسلم، والذي نفسي بيده لين رايته لا يفارق سوادي سواده حتى يموت الاعجل منا. فتعجبت لذلك، فغمزني الاخر فقال لي مثلها، فلم انشب ان نظرت الى ابي جهل يجول في الناس، قلت الا ان هذا صاحبكما الذي سالتماني. فابتدراه بسيفيهما فضرباه حتى قتلاه، ثم انصرفا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبراه فقال " ايكما قتله ". قال كل واحد منهما انا قتلته. فقال " هل مسحتما سيفيكما ". قالا لا. فنظر في السيفين فقال " كلاكما قتله ". سلبه لمعاذ بن عمرو بن الجموح. وكانا معاذ ابن عفراء ومعاذ بن عمرو بن الجموح. قال محمد سمع يوسف صالحا وابراهيم اباه (عبد الرحمن بن عوف)
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনাইনের বছর আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বের হলাম। আমরা যখন শত্রুর সম্মুখীন হলাম, তখন মুসলিম দলের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি শুরু হল। এমন সময় আমি মুশরিকদের এক ব্যক্তিকে দেখলাম, সে একজন মুসলিমের উপর চেপে বসেছে। আমি ঘুরে তার পেছনের দিক দিয়ে এসে তরবারী দ্বারা তার ঘাড়ের রগে আঘাত করলাম। তখন সে আমার দিকে এগিয়ে এল এবং আমাকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরল যে, আমি তাতে মৃত্যুর আশংকা করলাম। মৃত্যু তাকেই ধরল এবং আমাকে ছেড়ে দিল। অতঃপর আমি ‘উমার (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললাম, লোকদের কী হয়েছে? ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর হুকুম। অতঃপর লোকজন ফিরে এলো এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসলেন, তখন তিনি বললেন, যে ব্যক্তি কাউকে নিহত করেছে এবং তার নিকট এর সাক্ষ্য রয়েছে, তার নিকট হতে প্রাপ্ত মাল-সামান তারই প্রাপ্য। তখন আমি দাঁড়িয়ে বললাম, কে আছ যে আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে? অতঃপর আমি বসে পড়লাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেন, যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করেছে এবং তার নিকট এর সাক্ষ্য রয়েছে, তার নিকট হতে প্রাপ্ত মাল-সামান তারই প্রাপ্য। আমি দাঁড়িয়ে বললাম, কে আছ যে, আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে? অতঃপর আমি বসে পড়লাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৃতীয়বার ঐরূপ বললেন, আমি আবার দাঁড়ালাম, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবূ ক্বাতাদাহ! তোমার কী হয়েছে? আমি তখন পুরো ঘটনা বললাম। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) ঠিক বলেছে। সে ব্যক্তি হতে প্রাপ্ত মাল-সামান আমার নিকট আছে। আপনি আমার পক্ষ হতে একে সম্মত করিয়ে দিন। তখন আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) বললেন, কক্ষনো না, আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো এমন করবেন না যে, আল্লাহর সিংহদের মধ্যে হতে কোন সিংহ আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষে যুদ্ধ করবে আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিহত ব্যক্তির মাল-সামান তোমাকে দিবেন! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবূ বাকর (রাঃ) ঠিকই বলেছে। ফলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা আমাকে দিলেন। আমি তা হতে একটি বর্ম বিক্রয় করে বানূ সালমায় একটি বাগান কিনি। এটাই ইসলামে প্রবেশের পর আমার প্রথম সম্পত্তি, যা আমি পেয়েছিলাম। (২১০০) (মুসলিম ৩২/১৩ হাঃ ১৭৫১, আহমাদ ২২৬৭০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن ابن افلح، عن ابي محمد، مولى ابي قتادة عن ابي قتادة رضى الله عنه قال خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم عام حنين، فلما التقينا كانت للمسلمين جولة، فرايت رجلا من المشركين علا رجلا من المسلمين، فاستدرت حتى اتيته من ورايه حتى ضربته بالسيف على حبل عاتقه، فاقبل على فضمني ضمة وجدت منها ريح الموت، ثم ادركه الموت فارسلني، فلحقت عمر بن الخطاب فقلت ما بال الناس قال امر الله، ثم ان الناس رجعوا، وجلس النبي صلى الله عليه وسلم فقال " من قتل قتيلا له عليه بينة فله سلبه ". فقمت فقلت من يشهد لي ثم جلست ثم قال " من قتل قتيلا له عليه بينة فله سلبه " فقمت فقلت من يشهد لي ثم جلست، ثم قال الثالثة مثله فقال رجل صدق يا رسول الله، وسلبه عندي فارضه عني. فقال ابو بكر الصديق رضى الله عنه لاها الله اذا يعمد الى اسد من اسد الله يقاتل عن الله ورسوله صلى الله عليه وسلم يعطيك سلبه. فقال النبي صلى الله عليه وسلم " صدق ". فاعطاه فبعت الدرع، فابتعت به مخرفا في بني سلمة، فانه لاول مال تاثلته في الاسلام
رَوَاهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ زَيْدٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم এ বিষয়ে ‘আবদুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। ৩১৪৩. হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু চাইলাম। তখন তিনি আমাকে দিলেন। আমি আবার চাইলাম। তিনি আমাকে দিলেন। অতঃপর আমাকে বললেন, হে হাকীম, এ সকল মাল সবুজ শ্যামল ও সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা লোভহীন অন্তরে গ্রহণ করে, তার তাতে বরকত দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি তা লোভনীয় অন্তরে গ্রহণ করে তার জন্য তাতে বারকাত দেয়া হয় না। তার উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মত, যে আহার করে কিন্তু পেট পূর্ণ হয় না। আর উপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম। হাকীম (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সে মহান সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন আপনার পর আমি দুনিয়া হতে বিদায় নেয়া পর্যন্ত আর কারো মাল আকাঙ্ক্ষা করব না।’ পরে আবূ বাকর (রাঃ) হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ)-কে ভাতা নেয়ার জন্য ডাকতেন কিন্তু তিনি কোন কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করতেন। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) তাঁকে ভাতা দানের উদ্দেশে ডাকলেন কিন্তু তিনি তাঁর নিকট থেকেও কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, ‘হে মুসলিমগণ। আমি হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ)-কে তার জন্য সে প্রাপ্য দিতে চেয়েছি যা আল্লাহ্ তা‘আলা তার জন্য সম্পদ হতে অংশ রেখেছেন। আর সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। এভাবে হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে আর কারো কাছ হতে আমৃত্যু কিছুই গ্রহণ করেননি। (১৪৭২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن يوسف، حدثنا الاوزاعي، عن الزهري، عن سعيد بن المسيب، وعروة بن الزبير، ان حكيم بن حزام رضى الله عنه قال سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعطاني، ثم سالته فاعطاني، ثم قال لي " يا حكيم، ان هذا المال خضر حلو، فمن اخذه بسخاوة نفس بورك له فيه، ومن اخذه باشراف نفس لم يبارك له فيه، وكان كالذي ياكل ولا يشبع، واليد العليا خير من اليد السفلى ". قال حكيم فقلت يا رسول الله، والذي بعثك بالحق لا ارزا احدا بعدك شييا حتى افارق الدنيا. فكان ابو بكر يدعو حكيما ليعطيه العطاء، فيابى ان يقبل منه شييا، ثم ان عمر دعاه ليعطيه فابى ان يقبل فقال يا معشر المسلمين، اني اعرض عليه حقه الذي قسم الله له من هذا الفىء، فيابى ان ياخذه. فلم يرزا حكيم احدا من الناس بعد النبي صلى الله عليه وسلم حتى توفي
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! জাহিলী যুগে আমার উপর একদিনের ই‘তিকাফ (মানৎ) ছিল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তা পূরণ করার আদেশ করেন। নাফি‘ (রহ.) বলেন, ‘উমার (রাঃ) হুনাইনের যুদ্ধের বন্দীর নিকট হতে দু’টি দাসী লাভ করেন। তখন তিনি তাদেরকে মক্কায় একটি গৃহে রেখে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের বন্দীদেরকে সৌজন্যমূলক মুক্ত করার আদেশ করলেন। তারা মুক্ত হয়ে অলি-গলিতে ছুটতে লাগল। ‘উমার (রাঃ) ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বললেন, দেখ তো ব্যাপার কী? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বন্দীদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তবে তুমি গিয়ে সে দাসী দু’জনকে মুক্ত করে দাও। নাফি‘ (রহ.) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিয়েররানা হতে ‘উমরাহ করেন নি। যদি তিনি ‘উমরাহ করতেন তবে তা ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে লুকানো থাকতো না। আর জারীর ইবনু হাযিম (রহ.) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে অতিরিক্ত বর্ণনা করতেন যে, (উমর (রাঃ) দাসী দু’টি খুমুস হতে পেয়েছিলেন। মা‘আমার (রহ.)....ইবনু ‘উমার (রাঃ) নিকট হতে নযরের কথা উল্লেখ করেন, কিন্তু তিনি একদিনের কথা বলেননি। (২০৩২) (মুসলিম ২৭/৭ হাঃ ১৬৫৬, আহমাদ ৬৪২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو النعمان، حدثنا حماد بن زيد، عن ايوب، عن نافع، ان عمر بن الخطاب رضى الله عنه قال يا رسول الله انه كان على اعتكاف يوم في الجاهلية، فامره ان يفي به. قال واصاب عمر جاريتين من سبى حنين، فوضعهما في بعض بيوت مكة قال فمن رسول الله صلى الله عليه وسلم على سبى حنين، فجعلوا يسعون في السكك فقال عمر يا عبد الله، انظر ما هذا فقال من رسول الله صلى الله عليه وسلم على السبى. قال اذهب فارسل الجاريتين. قال نافع ولم يعتمر رسول الله صلى الله عليه وسلم من الجعرانة ولو اعتمر لم يخف على عبد الله. وزاد جرير بن حازم عن ايوب عن نافع عن ابن عمر قال من الخمس. ورواه معمر عن ايوب عن نافع عن ابن عمر في النذر ولم يقل يوم
‘আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দলকে দিলেন আর অন্য দলকে দিলেন না। তারা যেন এতে মনোক্ষুণ্ণ হলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি এমন লোকদের দেই, যাদের সম্পর্কে বিগড়ে যাওয়া কিংবা ধৈর্যচ্যুত হবার আশঙ্কা করি। আর অন্যদল যাদের অন্তরে আল্লাহ্ তা‘আলা যে কল্যাণ ও মুখাপেক্ষীহীনতা দান করেছেন, তার উপর ছেড়ে দেই। আর ‘আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) তাদের মধ্যে। ‘আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সম্পর্কে যা বলেছেন, তার স্থলে যদি আমাকে লাল বর্ণের উট দেয়া হত তাতে আমি এতখানি আনন্দিত হতাম না। আর আবূ আসিম (রহ.) জারীর (রহ.) হতে হাদীসটি এতটুকু বেশি বর্ণনা করেছেন যে, হাসান (রহ.) বলেন, আমাকে ‘আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু মালামাল অথবা বন্দী আনা হয়, তখন তিনি তা বণ্টন করেন। (৯২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا جرير بن حازم، حدثنا الحسن، قال حدثني عمرو بن تغلب رضى الله عنه قال اعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم قوما ومنع اخرين، فكانهم عتبوا عليه فقال " اني اعطي قوما اخاف ظلعهم وجزعهم، واكل اقواما الى ما جعل الله في قلوبهم من الخير والغنى، منهم عمرو بن تغلب ". فقال عمرو بن تغلب ما احب ان لي بكلمة رسول الله صلى الله عليه وسلم حمر النعم. وزاد ابو عاصم عن جرير قال سمعت الحسن يقول حدثنا عمرو بن تغلب ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اتي بمال او بسبى فقسمه. بهذا
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমি কুরায়শদের দেই তাদের মনোস্তুষ্টির জন্য। কেননা তারা জাহিলিয়্যাতের নিকটবর্তী।’ (৩১৪৭, ৩৫২৮, ৩৭৭৮, ৩৭৯৩, ৪৩৩১, ৪৩৩২, ৪৩৩৩, ৪৩৩৪, ৪৩৩৭, ৫৮৬০, ৬৭৬২, ৭৪৪১) (মুসলিম ১২/৪৬ হাঃ ১০৫৯, আহমাদ ১৩৯১০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو الوليد، حدثنا شعبة، عن قتادة، عن انس رضى الله عنه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " اني اعطي قريشا اتالفهم، لانهم حديث عهد بجاهلية
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন আল্লাহ্ তা‘আলা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাওয়াযিন গোত্রের মাল থেকে যা দান করার তা দান করলেন। আর তিনি কুরাইশ গোত্রের লোকদের একশ’ করে উট দিতে লাগলেন। তখন আনসারদের হতে কিছু সংখ্যক লোক বলতে লাগল, আল্লাহ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ক্ষমা করুন। তিনি কুরায়শদেরকে দিচ্ছেন, আমাদেরকে দিচ্ছে না। অথচ আমাদের তলোয়ার থেকে এখনও তাদের রক্ত ঝরছে। আনাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাদের কথা পৌঁছান হল। তখন তিনি আনসারদের ডেকে পাঠালেন এবং চর্ম নির্মিত একটি তাঁবুতে তাদের একত্রিত করলেন আর তাঁদের সঙ্গে তাঁদের ব্যতীত আর কাউকে ডাকলেন না। যখন তাঁরা সকলে একত্রিত হলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নিকট এলেন এবং বললেন, ‘আমার নিকট তোমাদের ব্যাপারে যে কথা পৌঁছেছে তা কী?’ তাঁদের মধ্যে বয়স্ক লোকেরা তাঁকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্য থেকে বয়স্করা কিছুই বলেননি। আমাদের কতিপয় তরুণরা বলেছেঃ আল্লাহ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ক্ষমা করুন। তিনি আনসারদের না দিয়ে কুরায়শদের দিচ্ছেন; অথচ আমাদের তরবারি হতে এখনও তাদের রক্ত ঝরছে।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমি এমন লোকদের দিচ্ছি, যাদের কুফরীর যুগ মাত্র শেষ হয়েছে। তোমরা কি এতে খুশী নও যে, লোকেরা দুনিয়াবী সম্পদ নিয়ে ফিরবে, আর তোমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে মনযিলে ফিরবে আর আল্লাহর কসম, তোমরা যা নিয়ে মনযিলে ফিরবে, তা তারা যা নিয়ে ফিরবে, তার চেয়ে উত্তম।’ তখন আনসারগণ বললেন, ‘হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এতেই সন্তুষ্ট।’ অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমার পরে তোমরা তোমাদের উপর অন্যদের খুব প্রাধান্য দেখতে পাবে। তখন তোমরা ধৈর্য অবলম্বন করবে, যে পর্যন্ত না তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হাউযে কাওসারে মিলিত হবে।’ আনাস (রাঃ) বলেন, কিন্তু আমরা ধৈর্যধারণ করতে পারিনি। (৩১৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، حدثنا الزهري، قال اخبرني انس بن مالك، ان ناسا، من الانصار قالوا لرسول الله صلى الله عليه وسلم حين افاء الله على رسوله صلى الله عليه وسلم من اموال هوازن ما افاء، فطفق يعطي رجالا من قريش الماية من الابل فقالوا يغفر الله لرسول الله صلى الله عليه وسلم يعطي قريشا ويدعنا، وسيوفنا تقطر من دمايهم قال انس فحدث رسول الله بمقالتهم، فارسل الى الانصار، فجمعهم في قبة من ادم، ولم يدع معهم احدا غيرهم، فلما اجتمعوا جاءهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " ما كان حديث بلغني عنكم ". قال له فقهاوهم اما ذوو اراينا يا رسول الله فلم يقولوا شييا، واما اناس منا حديثة اسنانهم فقالوا يغفر الله لرسول الله صلى الله عليه وسلم يعطي قريشا ويترك الانصار، وسيوفنا تقطر من دمايهم. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اني اعطي رجالا حديث عهدهم بكفر، اما ترضون ان يذهب الناس بالاموال وترجعون الى رحالكم برسول الله صلى الله عليه وسلم، فوالله ما تنقلبون به خير مما ينقلبون به ". قالوا بلى يا رسول الله قد رضينا. فقال لهم " انكم سترون بعدي اثرة شديدة، فاصبروا حتى تلقوا الله ورسوله صلى الله عليه وسلم على الحوض ". قال انس فلم نصبر
জুবাইর ইবনু মুত‘ঈম (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন, আর তখন তাঁর সাথে আরো লোক ছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়ন হতে আসছিলেন। বেদুঈন লোকেরা তাঁর নিকট গনীমতের মাল নেয়ার জন্য তাঁকে আঁকড়ে ধরল। এমনকি তারা তাঁকে একটি বাবলা গাছের সাথে ঠেকিয়ে দিল এবং কাঁটা তাঁর চাদর আটকে ধরল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থামলেন। অতঃপর বললেন, ‘আমার চাদরটি দাও। আমার নিকট যদি এ সকল কাঁটাদার বুনো গাছের পরিমাণ পশু থাকত, তবে সেগুলো তোমাদের মাঝে বণ্টন করে দিতাম। অতঃপরও আমাকে তোমরা কখনো কৃপণ, মিথ্যাচারী এবং কাপুরুষ পাবে না।’ (২৮২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد العزيز بن عبد الله الاويسي، حدثنا ابراهيم بن سعد، عن صالح، عن ابن شهاب، قال اخبرني عمر بن محمد بن جبير بن مطعم، ان محمد بن جبير، قال اخبرني جبير بن مطعم، انه بينا هو مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعه الناس مقبلا من حنين علقت رسول الله صلى الله عليه وسلم الاعراب يسالونه حتى اضطروه الى سمرة، فخطفت رداءه، فوقف رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " اعطوني ردايي، فلو كان عدد هذه العضاه نعما لقسمته بينكم، ثم لا تجدوني بخيلا ولا كذوبا ولا جبانا
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে পথে চলছিলাম। তখন তিনি নাজরানে প্রস্তুত মোটা পাড়ের চাদর পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। এক বেদুঈন তাঁকে পেয়ে খুব জোরে টেনে দিল। অবশেষে আমি দেখলাম, জোরে টানার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্কন্ধে চাদরের পাড়ের দাগ বসে গেছে। অতঃপর বেদুঈন বলল, ‘আল্লাহর যে সম্পদ আপনার নিকট আছে তা হতে আমাকে কিছু দেয়ার আদেশ দিন।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলেন, আর তাকে কিছু দেয়ার আদেশ দিলেন। (৫৮০৯, ৬০৮৮) (মুসলিম ১২/৪৪ হাঃ ১০৫৭, আহমাদ ১২৫৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا مالك، عن اسحاق بن عبد الله، عن انس بن مالك رضى الله عنه قال كنت امشي مع النبي صلى الله عليه وسلم وعليه برد نجراني غليظ الحاشية، فادركه اعرابي فجذبه جذبة شديدة، حتى نظرت الى صفحة عاتق النبي صلى الله عليه وسلم قد اثرت به حاشية الرداء من شدة جذبته، ثم قال مر لي من مال الله الذي عندك. فالتفت اليه، فضحك ثم امر له بعطاء
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনাইনের দিনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন লোককে বণ্টনে অন্যদের উপর অগ্রাধিকার দেন। তিনি আকরা‘ ইবনু হাবিছকে একশ’ উট দিলেন। উয়াইনাকেও এ পরিমাণ দেন। উচ্চবংশীয় আরব ব্যক্তিদের দিলেন এবং বণ্টনে তাদের অতিরিক্ত দিলেন। এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম! এতে সুবিচার করা হয়নি। অথবা সে বলল, এতে আল্লাহ্ তা‘আলার সন্তুষ্টির প্রতি খেয়াল রাখা হয়নি। (রাবী বলেন) তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবশ্যই এ কথা জানিয়ে দিব। তখন আমি তাঁর নিকট এলাম এবং তাঁকে একথা জানিয়ে দিলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি সুবিচার না করেন, তবে কে সুবিচার করবে? আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আঃ)-এর প্রতি রহম করুন, তাঁকে এর চেয়েও অধিক কষ্ট দেয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি সবর করেছেন।’ (৩৪০৫, ৪৩৩৫, ৪৩৩৬, ৬০৫৯, ৬১০০, ৬২৯১, ৬৩৩৬) (মুসলিম ১২/৩৯ হাঃ ১০৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯১৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عثمان بن ابي شيبة، حدثنا جرير، عن منصور، عن ابي وايل، عن عبد الله رضى الله عنه قال لما كان يوم حنين اثر النبي صلى الله عليه وسلم اناسا في القسمة، فاعطى الاقرع بن حابس ماية من الابل، واعطى عيينة مثل ذلك، واعطى اناسا من اشراف العرب، فاثرهم يوميذ في القسمة. قال رجل والله ان هذه القسمة ما عدل فيها، وما اريد بها وجه الله. فقلت والله لاخبرن النبي صلى الله عليه وسلم. فاتيته فاخبرته فقال " فمن يعدل اذا لم يعدل الله ورسوله رحم الله موسى قد اوذي باكثر من هذا فصبر