Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫৩ হাদিসসমূহ
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি কারো অথবা তার ভাইয়ের অর্থ আত্মসাতের মতলবে মিথ্যা হলফ করবে, সে (কিয়ামতে) মহান আল্লাহর দেখা পাবে এমন অবস্থায় যে, তিনি তার উপর অত্যন্ত রাগান্বিত থাকবেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা উক্ত হাদীসের সমর্থনে কুরআনে এই আয়াত নাযিল করলেনঃ যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথ তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে, আখিরাতে তাদের কোন অংশ নেই। আর আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি (করুণা ভরে) তাকাবেন না এবং তাদেরকে বিশুদ্ধও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব- (সূরা আলু ‘ইমরানঃ ৭৭)। পরে আশ‘আস (রাঃ) আমার সঙ্গে দেখা করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) আজ তোমাদের কী হাদীস শুনিয়েছেন? আমি বললাম, এই এই (হাদীস)। তিনি বললেন, আমার ব্যাপারেই আয়াতটি নাযিল হয়েছে। (২৩৫৬-২৩৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا بشر بن خالد، حدثنا محمد بن جعفر، عن شعبة، عن سليمان، عن ابي وايل، عن عبد الله رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من حلف على يمين كاذبا ليقتطع مال رجل او قال اخيه لقي الله وهو عليه غضبان ". وانزل الله تصديق ذلك في القران {ان الذين يشترون بعهد الله وايمانهم ثمنا قليلا} الاية. فلقيني الاشعث فقال ما حدثكم عبد الله اليوم، قلت كذا وكذا. قال في انزلت
(قَالَ تَعَالَى : )يَحْلِفُوْنَ بِاللهِ لَكُمْ لِيُرْضُوْكُمْ ( ( التوبة : 62 ) وَقَوْلِهُ عَزَّ وَجَلَّ )ثُمَّ جَآءُوْكَ يَحْلِفُوْنَ بِاللهِ إِنْ أَرَدْنَآ إِلَّآ إِحْسَانًا وَّتَوْفِيْقًا( ( النساء : 62) وَقَوْلِ اللّه )وَيَحْلِفُوْنَ بِاللهِ إِنَّهُمْ لَمِنْكُمْ( ( التوبة : 56) )يحْلِفُوْنَ بِاللهِ لَكُمْ لِيُرْضُوْكُمْ) (فَيُقْسِمَانِ بِاللهِ لَشَهَادَتُنَا أَحَقُّ مِنْ شَهَادَتِهِمَا( ( المائدة : 107 ) يُقَالُ بِاللهِ وَتَاللهِ وَ وَاللهِ. وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَرَجُلٌ حَلَفَ بِاللهِ كَاذِبًا بَعْدَ الْعَصْرِ وَلَا يُحْلَفُ بِغَيْرِ اللهِ. মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘তারা আল্লাহর নামে কসম করে বলবে’’ অতঃপর তারা আপনার নিকট এসে আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে আমরা কল্যাণ এবং সম্প্রীতি ব্যতীত অন্য কিছুই চাই না- (সূরা আন-নিসাঃ ৬২)। তারা আল্লাহর নামে শপথ করে যে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত- (সূরা আত্-তওবাঃ ৫৬)। তারা তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য তোমাদের নিকট আল্লাহর শপথ কওে- (সূরা আত্-তওবাঃ ৬২)। তারা উভয়ে আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, আমাদের সাক্ষ্য অবশ্যই তাদের সাক্ষ্য হতে অধিকতর সত্য- (সূরা আল-মায়িদাহঃ ১০৭)। কসম করার জন্য ব্যবহৃত হয় বিল্লাহে, তাল্লাহে, ওয়াল্লাহে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আর যে ব্যক্তি ‘আসরের পর আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করে। আল্লাহ ব্যতীত আর কারো নামে শপথ করা যাবে না। ২৬৭৮. ত্বলহা ইবনু উবায়দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একলোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে তাঁকে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লাগল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। সে বলল, আমার উপর আরও কিছু ওয়াজিব আছে? তিনি বললেন, না, নেই। তবে নফল হিসাবে পড়তে পার। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আর রমাযান মাসের সিয়াম। সে জিজ্ঞেস করল, আমার উপর এ ছাড়া আরও কিছু ওয়াজিব আছে? তিনি বললেন, না, নেই। তবে নফল হিসাবে পালন করতে পার। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে যাকাতের কথা বললেন; সে জানতে চাইল, আমার উপর এছাড়া আরও কিছু ওয়াজিব আছে? তিনি বললেন, না, নেই। তবে নফল হিসাবে করতে পার। অতঃপর সে ব্যক্তিটি এই বলে প্রস্থান করল, আল্লাহর কসম! এতে আমি কোন কম-বেশী করব না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সত্য বলে থাকলে সে সফল হয়ে গেল। (৪৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسماعيل بن عبد الله، قال حدثني مالك، عن عمه ابي سهيل، عن ابيه، انه سمع طلحة بن عبيد الله، يقول جاء رجل الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاذا هو يساله عن الاسلام، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " خمس صلوات في اليوم والليلة ". فقال هل على غيرها قال " لا، الا ان تطوع ". فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " وصيام رمضان ". قال هل على غيره قال " لا، الا ان تطوع ". قال وذكر له رسول الله صلى الله عليه وسلم الزكاة. قال هل على غيرها قال " لا، الا ان تطوع ". فادبر الرجل وهو يقول والله لا ازيد على هذا ولا انقص. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " افلح ان صدق
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কারও হলফ করতে হলে সে যেন আল্লাহর নামেই হলফ করে, নতুবা চুপ করে থাকে। (৩৮৩৬, ৬১০৮, ৬৬৪৬, ৬৬৪৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا موسى بن اسماعيل، حدثنا جويرية، قال ذكر نافع عن عبد الله رضى الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم قال " من كان حالفا فليحلف بالله او ليصمت
وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَلْحَنُ بِحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ وَقَالَ طَاوُسٌ وَإِبْرَاهِيْمُ وَشُرَيْحٌ الْبَيِّنَةُ الْعَادِلَةُ أَحَقُّ مِنْ الْيَمِيْنِ الْفَاجِرَةِْ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ত প্রমাণ উপস্থিত করার ব্যাপারে অপরের চেয়ে অধিক বাকপটু। তাউস, ইবরাহীম ও শুরাইহ (রহ.) বলেন, মিথ্যা হলফের চেয়ে সত্য সাক্ষ্য অগ্রাধিকারযোগ্য। ২৬৮০. উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমরা আমার নিকট মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে আস। আর তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ত প্রতিপক্ষের তুলনায় প্রমাণ সাক্ষী পেশ করার ব্যাপারে অধিক বাকপটু। তবে জেনে রেখ, বাকপটুতার কারণে যার পক্ষে আমি তার ভাইয়ের প্রাপ্য হক ফায়সালা করে দেই, তার জন্য আসলে আমি জাহান্নামের অংশ নির্ধারণ করে দেই। কাজেই, সে যেন তা গ্রহণ না করে। (২৪৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن زينب، عن ام سلمة رضى الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " انكم تختصمون الى، ولعل بعضكم الحن بحجته من بعض، فمن قضيت له بحق اخيه شييا بقوله، فانما اقطع له قطعة من النار فلا ياخذها
(وَفَعَلَهُ الْحَسَنُ )وَذَكَرَ إِسْمَاعِيْلَ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ( ( مريم : 54) وَقَضَى ابْنُ الأَشْوَعِ بِالْوَعْدِ وَذَكَرَ ذَلِكَ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ وَقَالَ الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَذَكَرَ صِهْرًا لَهُ قَالَ وَعَدَنِيْ فَوَفَى لِيْ قَالَ أَبُوْ عَبْد اللهِ وَرَأَيْتُ إِسْحَاقَ بْنَ إِبْرَاهِيْمَ يَحْتَجُّ بِحَدِيْثِ ابْنِ أَشْوَعَ হাসান বসরী (রহ.) এরূপ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা ইসমাঈল (আ)-এর উল্লেখ করে ইরশাদ করেছেন যে, তিনি ওয়াদা পূরণে একনিষ্ঠ ছিলেন। (কুফার কাযী) ইবনু আশওয়া‘ (রহ.) ওয়াদা পূরণের রায় ঘোষণা করেছেন। সামূরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) থেকেও এরূপ বর্ণিত আছে। মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রহ.) বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর এক জামাতা সম্পর্কে বলতে শুনেছি, ‘‘সে আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করেছে।’’ আবূ ‘আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহ.) বলেন, ইসহাক ইবনু ইবরাহীমকে আমি ইবনু আশওয়া (রহ.)-এর হাদীস প্রমাণরূপে পেশ করতে দেখেছি। ২৬৮১. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ সুফইয়ান (রাঃ) আমাকে খবর দিয়েছেন যে, হিরাক্লিয়াস তাকে বলেছিলেন, তোমাকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি [নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)] তোমাদের কী কী আদেশ করেন? তুমি বললে যে, তিনি তোমাদেরকে সালাতের, সত্যবাদিতার, পবিত্রতার, ওয়াদা পূরণের ও আমানত আদায়ের আদেশ দেন। হিরাক্লিয়াস বললেন, এটাই নবীগণের সিফাত। (৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابراهيم بن حمزة، حدثنا ابراهيم بن سعد، عن صالح، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله، ان عبد الله بن عباس رضى الله عنهما اخبره قال اخبرني ابو سفيان، ان هرقل، قال له سالتك ماذا يامركم فزعمت انه امركم بالصلاة والصدق والعفاف والوفاء بالعهد واداء الامانة. قال وهذه صفة نبي
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি- বলতে গেলে মিথ্যা বলে, আমানত রাখলে খিয়ানত করে, আর ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে। (৩৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا اسماعيل بن جعفر، عن ابي سهيل، نافع بن مالك بن ابي عامر عن ابيه، عن ابي هريرة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " اية المنافق ثلاث اذا حدث كذب، واذا اوتمن خان، واذا وعد اخلف
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের পর আবূ বাকর (রাঃ)-এর নিকট [রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিযুক্ত বাহরাইনের শাসক] ‘আলা ইবনু হাযরামীর পক্ষ হতে মালপত্র এসে পৌঁছল। তখন আবূ বাকর (রাঃ) ঘোষণা করলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট কারো কোন ঋণ থাকলে কিংবা তাঁর পক্ষ হতে কোন ওয়াদা থাকলে সে যেন আমাদের নিকট এসে তা নিয়ে যায়। জাবির (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে এমন এমন এবং এমন দান করার ওয়াদা করেছিলেন। জাবির (রাঃ) তার দু’হাত তিনবার ছড়িয়ে দেখালেন। জাবির (রাঃ) বলেন, তখন তিনি [আবূ বাকর] (রাঃ) আমার দু’হাতে গুণে গুণে পাঁচশ’ দিলেন, আবার পাঁচশ’ দিলেন, আবার পাঁচশ’ দিলেন। (২২৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابراهيم بن موسى، اخبرنا هشام، عن ابن جريج، قال اخبرني عمرو بن دينار، عن محمد بن علي، عن جابر بن عبد الله، رضى الله عنهم قال لما مات النبي صلى الله عليه وسلم جاء ابا بكر مال من قبل العلاء بن الحضرمي، فقال ابو بكر من كان له على النبي صلى الله عليه وسلم دين، او كانت له قبله عدة، فلياتنا. قال جابر فقلت وعدني رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يعطيني هكذا وهكذا وهكذا، فبسط يديه ثلاث مرات، قال جابر فعد في يدي خمسماية، ثم خمسماية، ثم خمسماية
সা‘ঈদ ইবনু জুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী আমাকে প্রশ্ন করল, দুই মুদ্দতের কোনটি মূসা (আ) পূর্ণ করেছিলেন? আমি বললাম, আরবের কোন জ্ঞানীর নিকট গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস না করে আমি বলতে পারব না। পরে ইবনু ‘আব্বাসের নিকট এসে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, মূসা (আ) অধিকতর ও উত্তম সময় সীমাই পূর্ণ করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা বলেন, তা করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن عبد الرحيم، اخبرنا سعيد بن سليمان، حدثنا مروان بن شجاع، عن سالم الافطس، عن سعيد بن جبير، قال سالني يهودي من اهل الحيرة اى الاجلين قضى موسى قلت لا ادري حتى اقدم على حبر العرب فاساله. فقدمت، فسالت ابن عباس فقال قضى اكثرهما واطيبهما، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا قال فعل
(وَقَالَ الشَّعْبِيُّ لَا تَجُوْزُ شَهَادَةُ أَهْلِ الْمِلَلِ بَعْضِهِمْ عَلَى بَعْضٍ لِقَوْلِهِ تَعَالَى )فَأَغْرَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ( ( المائدة : 14 ) وَقَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَا تُصَدِّقُوْا أَهْلَ الْكِتَابِ وَلَا تُكَذِّبُوْهُمْ )وَقُوْلُوْا آمَنَّا بِاللهِ وَمَآ أُنْزِلَ( الآيَةَ ( البقرة : 136 ) ইমাম শা‘বী (রহ.) বলেন, এক ধর্মাবলম্বীর সাক্ষ্য অন্য ধর্মাবলম্বীর বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, তাই আমি তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ জাগরুক করেছি- (সূরা আল-মায়িদাহঃ ১৪)। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমরা আহলে কিতাবদের সত্যবাদীও মনে কর না আবার মিথ্যাচারীও মনে কর না। আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ বরং তোমরা বলবে, আমরা আল্লাহতে ঈমান রাখি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। (সূরা আল-বাকারাহঃ ৩৬)। ২৬৮৫. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে মুসলিম সমাজ! কী করে তোমরা আহলে কিতাবদের নিকট জিজ্ঞেস কর? অথচ আল্লাহ তাঁর নবীর উপর যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, তা আল্লাহর সম্পর্কিত নবতর তথ্য সম্বলিত, যা তোমরা তিলাওয়াত করছ এবং যার মধ্যে মিথ্যার কোন সংমিশ্রণ নেই। তদুপরি আল্লাহ তোমাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, আহলে কিতাবরা আল্লাহ যা লিখে দিয়েছিলেন, তা পরিবর্তন করে ফেলেছে এবং নিজ হাতে সেই কিতাবের বিকৃতি সাধন করে তা দিয়ে তুচ্ছ মূল্যের উদ্দেশে প্রচার করেছে যে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ। তোমাদেরকে প্রদত্ত মহাজ্ঞান কি তাদের নিকট জিজ্ঞেস করা থেকে তোমাদের বাধা দিয়ে রাখতে পারে না? আল্লাহর কসম! তাদের একজনকেও আমি কখনো তোমাদের উপর যা নাযিল হয়েছে সে বিষয়ে তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করতে দেখিনি। (৭৩৬৩, ৭৫২২, ৭৫২৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن يونس، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عن ابن عباس رضى الله عنهما قال يا معشر المسلمين، كيف تسالون اهل الكتاب، وكتابكم الذي انزل على نبيه صلى الله عليه وسلم احدث الاخبار بالله، تقرءونه لم يشب، وقد حدثكم الله ان اهل الكتاب بدلوا ما كتب الله وغيروا بايديهم الكتاب، فقالوا هو من عند الله، ليشتروا به ثمنا قليلا افلا ينهاكم ما جاءكم من العلم عن مساءلتهم، ولا والله ما راينا منهم رجلا قط يسالكم عن الذي انزل عليكم
(وَقَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ )إِذْ يُلْقُوْنَ أَقْلَامَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ( ( آل عمران : 44) وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ اقْتَرَعُوْا فَجَرَتْ الأَقْلَامُ مَعَ الْجِرْيَةِ وَعَالَ قَلَمُ زَكَرِيَّاءَ الْجِرْيَةَ فَكَفَلَهَا زكَرِيَّاءُ وَقَوْلِهِ )فَسَاهَمَ( أَقْرَعَ )فَكَانَ مِنْ الْمُدْحَضِيْنَ( ( الصافات : 141) مِنْ الْمَسْهُومِيْنَ وَقَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ عَرَضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى قَوْمٍ الْيَمِيْنَ فَأَسْرَعُوْا فَأَمَرَ أَنْ يُسْهِمَ بَيْنَهُمْ أَيُّهُمْ يَحْلِفُ মহান আল্লাহর বাণীঃ যখন তারা তাদের কলম নিক্ষেপ করছিল মারয়ামের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব তাদের মধ্যে কে গ্রহণ করবে? (সূরা আলে-ইমরান ৪৪) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তারা (কলম নিক্ষেপের মাধ্যমে) কুর‘আর ব্যবস্থা করল, তখন তাদের সবার কলম স্রোতের সঙ্গে ভেসে গেল। শুধু যাকারিয়ার কলম স্রোতের মুখেও ভেসে রইল। তাই তাকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে রেখে দিলেন। [ইউনুস (আ) সম্পর্কে] আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ (فَسَاهَمَ ) এর অর্থ أقْرَعَ কুর‘আ নিক্ষেপ করল। فَكَانَ مِنْ الْمُدْحَضِيْنَ (لصافات : ১৪১) অতঃপর তিনি পরাভূত হলেন- (সূরা আস্-সফফাত ১৪১)। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদল লোককে হলফ করার নির্দেশ দিলেন। তারা কে আগে হলফ করবে তাই নিয়ে হুড়াহুড়ি শুরু করল। তখন কুর‘আর মাধ্যমে কে হলফ করবে তা নির্ধারণের নির্দেশ দিলেন। ২৬৮৬. নু‘মান ইবনু বশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখার ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শনকারী এবং তা লঙ্ঘনকারীর উপমা হল সেই যাত্রীদল, যারা কুর‘আর মাধ্যমে এক নৌযানে নিজেদের স্থান নির্ধারণ করে নিল। ফলে কারো স্থান হল এর নীচতলায় আর কারও হল উপর তলায়। যারা নীচতলায় ছিল তারা পানি নিয়ে উপর তলার লোকদের নিকট দিয়ে আসত। এতে তারা বিরক্তি প্রকাশ করল। তখন এক লোক কুড়াল নিয়ে নৌযানের নীচের অংশ ফুটো করতে লেগে গেল। এ দেখে উপর তলার লোকজন তাকে এসে জিজ্ঞেস করল তোমার হয়েছে কী? সে বলল, আমাদের কারণে তোমরা কষ্ট পেয়েছ। অথচ আমারও পানির প্রয়োজন আছে। এ মুহূর্তে তারা যদি এর দু’হাত চেপে ধরে তাহলে তাকে যেমন রক্ষা করা হল তেমনি নিজেদেরও রক্ষা হল। আর যদি তাকে ছেড়ে দেয় তবে তাকে ধ্বংস করা হল এবং নিজেদেরও ধ্বংস করা হল। (২৪৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عمر بن حفص بن غياث، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، قال حدثني الشعبي، انه سمع النعمان بن بشير رضى الله عنهما يقول قال النبي صلى الله عليه وسلم " مثل المدهن في حدود الله والواقع فيها مثل قوم استهموا سفينة، فصار بعضهم في اسفلها وصار بعضهم في اعلاها، فكان الذي في اسفلها يمرون بالماء على الذين في اعلاها، فتاذوا به، فاخذ فاسا، فجعل ينقر اسفل السفينة، فاتوه فقالوا ما لك قال تاذيتم بي، ولا بد لي من الماء، فان اخذوا على يديه انجوه ونجوا انفسهم، وان تركوه اهلكوه واهلكوا انفسهم
উম্মুল ‘আলা (রাঃ) নাম্নী একজন আনসারী মহিলা যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বায়‘আত হয়েছিলেন, তিনি বলেন, মুহাজিরদের বাসস্থান দানের জন্য আনসারগণ যখন কুর‘আ নিক্ষেপ করলেন, তখন তাদের ভাগে ‘উসমান ইবনু মাযউনের জন্য বাসস্থান দান নির্ধারিত হল। উম্মুল ‘আলা (রাঃ) বলেন, সেই হতে ‘উসমান ইবনু মাযউন (রাঃ) আমাদের এখানে বসবাস করতে থাকেন। অতঃপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তার সেবা-শুশ্রুষা করলাম। পরে তিনি যখন মারা গেলেন এবং আমরা তাকে কাফন পরালাম, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এখানে আসলেন। আমি (‘উসমান ইবনু মাযউনকে লক্ষ্য করে) বললাম, হে আবূ সায়িব! তোমার প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তোমার সম্পর্কে আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ তোমাকে অবশ্যই মর্যাদা দান করেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, তোমাকে কে জানাল যে, আল্লাহ তাকে মর্যাদা দান করেছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আমি জানি না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর কসম! ‘উসমানের নিকট তো মৃত্যু এসে গেছে, আমি তো তার জন্য কল্যাণের আশা করি। আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও জানি না তার সঙ্গে কী আচরণ করা হবে। তিনি (উম্মুল ‘আলা) বলেন, আল্লাহর কসম! এ কথার পরে কখনো আমি কাউকে পূত-পবিত্র বর্ণনা করি না। সে কথা আমাকে চিন্তায় ফেলে দিল। তিনি বলেন, পরে আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, ‘উসমান (রাঃ)-এর জন্য একটা ঝর্ণা প্রবাহিত হচ্ছে। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে সে খবর জানালাম। তিনি বলেন, সেটা হচ্ছে তার নেক আমল। (১২৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال حدثني خارجة بن زيد الانصاري، ان ام العلاء، امراة من نسايهم قد بايعت النبي صلى الله عليه وسلم اخبرته ان عثمان بن مظعون طار له سهمه في السكنى حين اقرعت الانصار سكنى المهاجرين. قالت ام العلاء فسكن عندنا عثمان بن مظعون، فاشتكى، فمرضناه حتى اذا توفي وجعلناه في ثيابه دخل علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت رحمة الله عليك ابا السايب، فشهادتي عليك لقد اكرمك الله. فقال لي النبي صلى الله عليه وسلم " وما يدريك ان الله اكرمه ". فقلت لا ادري بابي انت وامي يا رسول الله. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اما عثمان فقد جاءه والله اليقين واني لارجو له الخير، والله ما ادري وانا رسول الله ما يفعل بي ". قالت فوالله لا ازكي احدا بعده ابدا، واحزنني ذلك قالت فنمت فاريت لعثمان عينا تجري، فجيت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاخبرته فقال " ذلك عمله
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফরের ইচ্ছা পোষণ করলে তাঁর স্ত্রীদের মাঝে কুর‘আ নিক্ষেপ করতেন। যার নাম বের হত তাকে সঙ্গে নিয়েই তিনি সফরে বের হতেন। আর তিনি স্ত্রীদের প্রত্যেকের জন্যই দিন রাত বণ্টন করতেন। তবে সাওদা বিনতে যাম‘আহ (রাঃ) তাঁর অংশের দিন রাত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে দান করে দিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তা করেছিলেন। (২৫৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن مقاتل، اخبرنا عبد الله، اخبرنا يونس، عن الزهري، قال اخبرني عروة، عن عايشة رضى الله عنها قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا اراد سفرا اقرع بين نسايه، فايتهن خرج سهمها خرج بها معه، وكان يقسم لكل امراة منهن يومها وليلتها، غير ان سودة بنت زمعة وهبت يومها وليلتها لعايشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم، تبتغي بذلك رضا رسول الله صلى الله عليه وسلم
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আযান ও প্রথম কাতারের মর্যাদা মানুষ যদি জানত আর কুর‘আ নিক্ষেপ ব্যতীত সে সুযোগ তারা না পেত, তাহলে কুর‘আ নিক্ষেপ করত, তেমনি আগে ভাগে জামা‘আতে শরীক হবার মর্যাদা যদি তারা জানত তাহলে তারা সেদিকে ছুটে যেত। তেমনি ঈশা ও ফজরের জামা‘আতে হাযির হবার মর্যাদা যদি তারা জানত তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা তাতে হাযির হত। (৬১৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৪৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني مالك، عن سمى، مولى ابي بكر عن ابي صالح، عن ابي هريرة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لو يعلم الناس ما في النداء والصف الاول، ثم لم يجدوا الا ان يستهموا عليه لاستهموا، ولو يعلمون ما في التهجير لاستبقوا اليه، ولو يعلمون ما في العتمة والصبح لاتوهما ولو حبوا