Loading...

Loading...
বইসমূহ
২৬০ হাদিসসমূহ
উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আমার অসুস্থতার কথা জানালে তিনি বললেনঃ তুমি সওয়ার হয়ে লোকেদের পিছন দিক দিয়ে তাওয়াফ করে নাও। তাই আমি তাওয়াফ করছিলাম এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘বার পাশে সালাত আদায় করছিলেন ও সূরা (الطُّورِ وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ) (الطور : 1-2ِ) (আত্-তূর) তিলাওয়াত করছিলেন। (৪৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن مسلمة، حدثنا مالك، عن محمد بن عبد الرحمن بن نوفل، عن عروة، عن زينب ابنة ام سلمة، عن ام سلمة رضى الله عنها قالت شكوت الى رسول الله صلى الله عليه وسلم اني اشتكي. فقال " طوفي من وراء الناس وانت راكبة ". فطفت ورسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي الى جنب البيت، وهو يقرا بالطور وكتاب مسطور
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট হাজীদের পানি পান করানোর উদ্দেশে মিনায় অবস্থানের রাতগুলো মক্কা্য় কাটানোর অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দেন। (১৬৪৩, ১৬৪৪, ১৬৪৫, মুসলিম ১৫/৬০, হাঃ ১৩১৫, আহমাদ ৬৭০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن ابي الاسود، حدثنا ابو ضمرة، حدثنا عبيد الله، عن نافع، عن ابن عمر رضى الله عنهما قال استاذن العباس بن عبد المطلب رضى الله عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يبيت بمكة ليالي منى من اجل سقايته، فاذن له
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি পান করার স্থানে এসে পানি চাইলেন, ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে ফায্ল! তোমার মার নিকট যাও। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জন্য তার নিকট হতে পানীয় নিয়ে এসো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এখান হতেই পান করান। ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! লোকেরা এই পানিতে হাত রাখে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এখান হতেই দিন এবং এই পানি হতেই পান করলেন। এরপর যমযম কূপের নিকট এলেন। লোকেরা পানি তুলে (হাজীদের) পান করাচ্ছিল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কাজ করে যাও। তোমরা নেক কাজে রত আছ। এরপর তিনি বললেনঃ তোমরা পরাভূত হয়ে যাবে এ আশঙ্কা না থাকলে আমি নিজেই নেমে (বালতির) রশি এখানে নিতাম; এ বলে তিনি আপন কাঁধের প্রতি ইঙ্গিত করেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسحاق، حدثنا خالد، عن خالد الحذاء، عن عكرمة، عن ابن عباس رضى الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم جاء الى السقاية، فاستسقى، فقال العباس يا فضل اذهب الى امك، فات رسول الله صلى الله عليه وسلم بشراب من عندها. فقال " اسقني ". قال يا رسول الله انهم يجعلون ايديهم فيه. قال " اسقني ". فشرب منه، ثم اتى زمزم، وهم يسقون ويعملون فيها، فقال " اعملوا، فانكم على عمل صالح ثم قال لولا ان تغلبوا لنزلت حتى اضع الحبل على هذه ". يعني عاتقه واشار الى عاتقه
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি মক্কায় অবস্থানকালে ঘরের ছাদ ফাঁক করা হল এবং জিবরাঈল (‘আ.) অবতরণ করলেন। এরপর তিনি আমার বক্ষ বিদারণ করলেন এবং তা যমযমের পানি দ্বারা ধুলেন, এরপর ঈমান ও হিকমতে পরিপূর্ণ একটি সোনার পেয়ালা নিয়ে এলেন এবং তা আমার বুকে ঢেলে দিয়ে জোড়া লাগিয়ে দিলেন। অতঃপর আমার হাত ধরে আমাকে নিয়ে দুনিয়ার আসমানে গেলেন এবং জিবরাঈল (‘আ.) এই আসমানের তত্ত্বাবধানকারী ফেরেশ্তাকে বললেন, (দরজা) খোল। তিনি বললেন কে? তিনি বললেন, আমি জিব্রাঈল। (৩৪৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ ৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)
وقال عبدان اخبرنا عبد الله، اخبرنا يونس، عن الزهري، قال انس بن مالك كان ابو ذر رضى الله عنه يحدث ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " فرج سقفي وانا بمكة، فنزل جبريل عليه السلام ففرج صدري، ثم غسله بماء زمزم، ثم جاء بطست من ذهب ممتلي حكمة وايمانا، فافرغها في صدري، ثم اطبقه، ثم اخذ بيدي فعرج الى السماء الدنيا. قال جبريل لخازن السماء الدنيا افتح. قال من هذا قال جبريل
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যমযমের পানি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট পেশ করলাম। তিনি তা দাঁড়িয়ে পান করলেন। (রাবী’) ‘আসিম বলেন, ‘ইকরিমা (রাঃ) হলফ করে বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উটের পিঠে আরোহী অবস্থায়ই ছিলেন। (৫৬১৭, মুসলিম ৩৬/১৫, হাঃ ২০২৭, আহমাদ ২৬০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد هو ابن سلام اخبرنا الفزاري، عن عاصم، عن الشعبي، ان ابن عباس رضى الله عنهما حدثه قال سقيت رسول الله صلى الله عليه وسلم من زمزم فشرب وهو قايم. قال عاصم فحلف عكرمة ما كان يوميذ الا على بعير
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বিদায় হাজ্জে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে বের হলাম এবং ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধলাম। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যার সাথে হাদী-এর জানোয়ার আছে সে যেন হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের ইহরাম বেঁধে নেয়। অতঃপর উভয় কাজ সমাপ্ত না করা পর্যন্ত সে হালাল হবে না। আমি মক্কা্য় উপনীত হয়ে ঋতুমতী হলাম। যখন আমরা হাজ্জ সমাপ্ত করলাম, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান (রাঃ)-এর সঙ্গে আমাকে তান‘ঈম প্রেরণ করলেন। এরপর আমি ‘উমরাহ পালন করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ হলো তোমার পূর্ববর্তী (অসমাপ্ত) ‘উমরাহ’র স্থলবর্তী। ঐ হাজ্জের সময় যাঁরা (কেবল) ‘উমরাহ’র নিয়্যাতে ইহরাম বেঁধে এসেছিলেন, তাঁরা তাওয়াফ করে হালাল হয়ে গেলেন। এরপর তাঁরা মিনা হতে প্রত্যাবর্তন করে দ্বিতীয়বার তাওয়াফ করেন। আর যাঁরা একসাথে ‘উমরাহ ও হাজ্জের নিয়্যাত করেছিলেন, তাঁরা একবার তাওয়াফ করলেন। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن ابن شهاب، عن عروة، عن عايشة رضى الله عنها خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع، فاهللنا بعمرة، ثم قال " من كان معه هدى فليهل بالحج والعمرة ثم لا يحل حتى يحل منهما ". فقدمت مكة، وانا حايض، فلما قضينا حجنا ارسلني مع عبد الرحمن الى التنعيم، فاعتمرت، فقال صلى الله عليه وسلم " هذه مكان عمرتك ". فطاف الذين اهلوا بالعمرة، ثم حلوا، ثم طافوا طوافا اخر، بعد ان رجعوا من منى، واما الذين جمعوا بين الحج والعمرة طافوا طوافا واحدا
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাঁর ছেলে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ-এর নিকট গেলেন, যখন তাঁর (হাজ্জ যাত্রার) বাহন প্রস্তুত, তখন তাঁর ছেলে বললেন, আমার আশঙ্কা হয় এ বছর মানুষের মধ্যে লড়াই হবে, তারা আপনাকে কা‘বায় যেতে বাধা দিবে। কাজেই এবার নিবৃত্ত হওয়াটাই উত্তম। তখন ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা রওনা হয়েছিলেন, কুরায়শ কাফিররা তাঁকে বাইতুল্লাহ যেতে বাধা দিয়েছিল। আমাকেও যদি বাইতুল্লাহ বাধা দেয়া হয়, তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছিলেন, আমিও তাই করব। ‘‘কেননা, নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’’- (আল-আহযাব ২১)। এরপর তিনি বললেন, তোমরা সাক্ষী থেকো, আমি ‘উমরাহ’র সাথে হাজ্জ-এর সংকল্প করছি। (রাবী) নাফি‘ (রহ.) বলেন, তিনি মক্কায় উপনীত হয়ে উভয়টির জন্য মাত্র একটি তাওয়াফ করলেন। (১৬৪০, ১৬৯৩, ১৭০৮, ১৭২৯, ১৮০৬, ১৮০৭, ১৮০৮, ১৮১০, ১৮১২, ১৮১৩, ৪১৮৩, ৪১৮৪, ৪১৮৫, মুসলিম ১৫/২৬, হাঃ ১২৩০, আহমাদ ১৮১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يعقوب بن ابراهيم، حدثنا ابن علية، عن ايوب، عن نافع، ان ابن عمر رضى الله عنهما دخل ابنه عبد الله بن عبد الله، وظهره في الدار، فقال اني لا امن ان يكون العام بين الناس قتال، فيصدوك عن البيت، فلو اقمت. فقال قد خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم فحال كفار قريش بينه وبين البيت، فان حيل بيني وبينه افعل كما فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم {لقد كان لكم في رسول الله اسوة حسنة} ثم قال اشهدكم اني قد اوجبت مع عمرتي حجا. قال ثم قدم فطاف لهما طوافا واحدا
নাফি‘ (রহ.) হতে বর্ণিত। যে বছর হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ)-এর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য মক্কা্য় আসেন, ঐ বছর ইবনু ‘উমার (রাঃ) হাজ্জের এরাদা করেন। তখন তাঁকে বলা হলো, (বিবদমান দু’ দল) মানুষের মধ্যে যুদ্ধ হতে পারে। আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে যে, আপনাকে তারা বাধা দিবে। তিনি বললেন, ‘‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে’’- (আহযাব : ২১)। কাজেই এমন কিছু হলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছিলেন আমিও তাই করব। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি ‘উমরাহ’র সঙ্কল্প করলাম। এরপর তিনি বের হলেন এবং বায়দার উঁচু অঞ্চলে পৌঁছার পর তিনি বললেন, হাজ্জ ও ‘উমরাহ’র বিধান একই, আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, আমি ‘উমরাহ’র সঙ্গে হাজ্জেরও নিয়্যাত করলাম এবং তিনি কুদায়দ হতে ক্রয় করা একটি হাদী পাঠালেন, এর অতিরিক্ত কিছু করেননি। এরপর তিনি কুরবানী করেননি এবং ইহরামও ত্যাগ করেন নি এবং মাথা মুন্ডন বা চুল ছাঁটা কোনটাই করেননি। অবশেষে কুরবানীর দিন এলে তিনি কুরবানী কররেন, মাথা মুন্ডালেন। তাঁর অভিমত হলো, প্রথম তাওয়াফ-এর মাধ্যমেই তিনি হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়ের তাওয়াফ সেরে নিয়েছেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনই করেছেন। (১৬৩৯, মুসলিম ১৫/২৬, হাঃ ১২৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة، حدثنا الليث، عن نافع، ان ابن عمر رضى الله عنهما اراد الحج عام نزل الحجاج بابن الزبير. فقيل له ان الناس كاين بينهم قتال، وانا نخاف ان يصدوك. فقال {لقد كان لكم في رسول الله اسوة حسنة} اذا اصنع كما صنع رسول الله صلى الله عليه وسلم، اني اشهدكم اني قد اوجبت عمرة. ثم خرج حتى اذا كان بظاهر البيداء قال ما شان الحج والعمرة الا واحد، اشهدكم اني قد اوجبت حجا مع عمرتي. واهدى هديا اشتراه بقديد ولم يزد على ذلك، فلم ينحر، ولم يحل من شىء حرم منه، ولم يحلق ولم يقصر حتى كان يوم النحر، فنحر وحلق، وراى ان قد قضى طواف الحج، والعمرة بطوافه الاول. وقال ابن عمر رضى الله عنهما كذلك فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم
মুহাম্মদ ইবনু ‘আবদুর রাহমান ইবনু নাওফাল কুরাশী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘উরওয়া ইবনু যুবাইর (রহ.)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাজ্জ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাজ্জ-এর বিষয়টি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আমাকে এরূপে বর্ণনা দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম উযূ করে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেন। তা ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। পরে আবূ বাকার (রাঃ) হাজ্জ করেছেন, তিনিও হাজ্জের প্রথম কাজ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতেন, তা ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। তাঁরপর ‘উমার (রাঃ)-ও অনুরূপ করতেন। এরপর ‘উসমান (রাঃ) হাজ্জ করেন। আমি তাঁকেও (হাজ্জের কাজ) বাইতুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতে দেখেছি, তাঁর এই তাওয়াফও ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। মু‘আবিয়া এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) (অনুরূপ করেন)। এরপর আমি আমার পিতা যুবাইর ইবনু ‘আওয়াম (রাঃ)-এর সঙ্গে হাজ্জ করলাম। তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ হতেই শুরু করেন, আর তাঁর এ তাওয়াফ ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ (রাঃ)-কে আমি এরূপ করতে দেখেছি। তাদের সে তাওয়াফও ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। সবশেষে আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কেও অনুরূপ করতে দেখেছি। তিনিও সে তাওয়াফ ‘উমরাহ’র তাওয়াফ হিসেবে করেননি। ইবনু ‘উমর (রাঃ) তো তাঁদের নিকটেই আছেন তাঁর কাছে জেনে নিন না কেন? সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা অতীত হয়ে গেছেন তাঁদের কেউই মসজিদে হারামে প্রবেশ করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সমাধান করার পূর্বে অন্য কোন কাজ করতেন না এবং তাওয়াফ করে ইহরাম ভঙ্গ করতেন না। আমার মা (আসমা) ও খালা (‘আয়িশাহ) (রাযি.)-কে দেখেছি, তাঁরা উভয়ে মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম তাওয়াফ সমাধা করেন, কিন্তু তাওয়াফ করে ইহরাম ভঙ্গ করেননি। (১৬১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن عيسى، حدثنا ابن وهب، قال اخبرني عمرو بن الحارث، عن محمد بن عبد الرحمن بن نوفل القرشي، انه سال عروة بن الزبير فقال قد حج النبي صلى الله عليه وسلم فاخبرتني عايشة رضى الله عنها انه اول شىء بدا به حين قدم انه توضا ثم طاف بالبيت ثم لم تكن عمرة، ثم حج ابو بكر رضى الله عنه فكان اول شىء بدا به الطواف بالبيت ثم لم تكن عمرة. ثم عمر رضى الله عنه مثل ذلك. ثم حج عثمان رضى الله عنه فرايته اول شىء بدا به الطواف بالبيت ثم لم تكن عمرة، ثم معاوية وعبد الله بن عمر، ثم حججت مع ابي الزبير بن العوام، فكان اول شىء بدا به الطواف بالبيت، ثم لم تكن عمرة، ثم رايت المهاجرين والانصار يفعلون ذلك، ثم لم تكن عمرة، ثم اخر من رايت فعل ذلك ابن عمر ثم لم ينقضها عمرة، وهذا ابن عمر عندهم فلا يسالونه، ولا احد ممن مضى، ما كانوا يبدءون بشىء حتى يضعوا اقدامهم من الطواف بالبيت، ثم لا يحلون، وقد رايت امي وخالتي، حين تقدمان لا تبتديان بشىء اول من البيت، تطوفان به، ثم لا تحلان. وقد اخبرتني امي، انها اهلت هي واختها والزبير وفلان وفلان بعمرة، فلما مسحوا الركن حلوا
মুহাম্মদ ইবনু ‘আবদুর রাহমান ইবনু নাওফাল কুরাশী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ‘উরওয়া ইবনু যুবাইর (রহ.)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাজ্জ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাজ্জ-এর বিষয়টি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) আমাকে এরূপে বর্ণনা দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম উযূ করে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেন। তা ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। পরে আবূ বাকার (রাঃ) হাজ্জ করেছেন, তিনিও হাজ্জের প্রথম কাজ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতেন, তা ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। তাঁরপর ‘উমার (রাঃ)-ও অনুরূপ করতেন। এরপর ‘উসমান (রাঃ) হাজ্জ করেন। আমি তাঁকেও (হাজ্জের কাজ) বাইতুল্লাহর তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতে দেখেছি, তাঁর এই তাওয়াফও ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। মু‘আবিয়া এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) (অনুরূপ করেন)। এরপর আমি আমার পিতা যুবাইর ইবনু ‘আওয়াম (রাঃ)-এর সঙ্গে হাজ্জ করলাম। তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ হতেই শুরু করেন, আর তাঁর এ তাওয়াফ ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ (রাঃ)-কে আমি এরূপ করতে দেখেছি। তাদের সে তাওয়াফও ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। সবশেষে আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কেও অনুরূপ করতে দেখেছি। তিনিও সে তাওয়াফ ‘উমরাহ’র তাওয়াফ হিসেবে করেননি। ইবনু ‘উমর (রাঃ) তো তাঁদের নিকটেই আছেন তাঁর কাছে জেনে নিন না কেন? সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা অতীত হয়ে গেছেন তাঁদের কেউই মসজিদে হারামে প্রবেশ করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সমাধান করার পূর্বে অন্য কোন কাজ করতেন না এবং তাওয়াফ করে ইহরাম ভঙ্গ করতেন না। আমার মা (আসমা) ও খালা (‘আয়িশাহ) (রাযি.)-কে দেখেছি, তাঁরা উভয়ে মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম তাওয়াফ সমাধা করেন, কিন্তু তাওয়াফ করে ইহরাম ভঙ্গ করেননি। (১৬১৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن عيسى، حدثنا ابن وهب، قال اخبرني عمرو بن الحارث، عن محمد بن عبد الرحمن بن نوفل القرشي، انه سال عروة بن الزبير فقال قد حج النبي صلى الله عليه وسلم فاخبرتني عايشة رضى الله عنها انه اول شىء بدا به حين قدم انه توضا ثم طاف بالبيت ثم لم تكن عمرة، ثم حج ابو بكر رضى الله عنه فكان اول شىء بدا به الطواف بالبيت ثم لم تكن عمرة. ثم عمر رضى الله عنه مثل ذلك. ثم حج عثمان رضى الله عنه فرايته اول شىء بدا به الطواف بالبيت ثم لم تكن عمرة، ثم معاوية وعبد الله بن عمر، ثم حججت مع ابي الزبير بن العوام، فكان اول شىء بدا به الطواف بالبيت، ثم لم تكن عمرة، ثم رايت المهاجرين والانصار يفعلون ذلك، ثم لم تكن عمرة، ثم اخر من رايت فعل ذلك ابن عمر ثم لم ينقضها عمرة، وهذا ابن عمر عندهم فلا يسالونه، ولا احد ممن مضى، ما كانوا يبدءون بشىء حتى يضعوا اقدامهم من الطواف بالبيت، ثم لا يحلون، وقد رايت امي وخالتي، حين تقدمان لا تبتديان بشىء اول من البيت، تطوفان به، ثم لا تحلان. وقد اخبرتني امي، انها اهلت هي واختها والزبير وفلان وفلان بعمرة، فلما مسحوا الركن حلوا
‘উরওয়াহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, মহান আল্লাহর এ বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? ‘‘সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। কাজেই যে কেউ কা‘বা ঘরে হাজ্জ বা ‘উমরাহ সম্পন্ন করে, এ দু’টির মাঝে যাতায়াত করলে তার কোন দোষ নেই’’- (আল-বাকারাঃ ১৫৮)। (আমার ধারণা যে,) সাফা-মারওয়ার মাঝে কেউ সা‘ঈ না করলে তার কোন দোষ নেই। তখন তিনি [‘আয়িশাহ (রাযি.)]বললেন, ওহে বোনপো! তুমি যা বললে, তা ঠিক নয়। কেননা, যা তুমি তাফসীর করলে, যদি আয়াতের মর্ম তা-ই হতো, তাহলে আয়াতের শব্দ বিন্যাস এভাবে হতো (لاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا ) -‘‘দু’টোর মাঝে সা‘ঈ না করায় কোন দোষ নেই।’’ কিন্তু আয়াতটি আনসারদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মুশাল্লাল নামক স্থানে স্থাপিত মানাত নামের মূর্তির পূজা করত, তার নামেই তারা ইহরাম বাঁধত। সে মূর্তির নামে যারা ইহরাম বাঁধত তারা সাফা-মারওয়া সা‘ঈ করাকে দোষাবহ মনে করত। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! পূর্বে আমরা সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করাকে দোষাবহ মনে করতাম (এখন কী করবো?) এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা‘আলা ( إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ ) অবতীর্ণ করেন। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, (সাফা ও মারওয়ার মাঝে) উভয় পাহাড়ের মাঝে সা‘ঈ করা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিধান দিয়েছেন। কাজেই কারো পক্ষে এ দু’য়ের সা‘ঈ পরিত্যাগ করা ঠিক নয়। (রাবী বলেন) এ বছর আবূ বাকার ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রাঃ)-কে ঘটনাটি জানালাম। তখন তিনি বললেন, আমি তো এ কথা শুনিনি, তবে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) ব্যতীত বহু ‘আলিমকে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, মানাতের নামে যারা ইহরাম বাঁধত তারা সকলেই সাফা ও মারওয়া সা‘য়ী করত, যখন আল্লাহ কুরআনে বাইতুল্লাহ তাওয়াফের কথা উল্লেখ করলেন, কিন্তু সাফা ও মারওয়ার আলোচনা তাতে হলো না, তখন সাহাবাগণ বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করতাম, এখন দেখি আল্লাহ কেবল বাইতুল্লাহ তাওয়াফের কথা অবতীর্ণ করেছেন, সাফার উল্লেখ করেননি। কাজেই সাফা ও মারওয়ার মাঝে সা‘য়ী করলে আমাদের দোষ হবে কি? এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেন- ( إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ ) আবূ বাকার (রাঃ) আরো বলেন, আমি শুনতে পেয়েছি, আয়াতটি দু’ প্রকার লোকদের উভয়ের প্রতি লক্ষ্য করেই অবতীর্ণ হয়েছে, অর্থাৎ যারা জাহিলী যুগে সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করা হতে বিরত থাকতেন, আর যারা তৎকালে সা‘য়ী করত বটে, কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর সা‘য়ী করার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাঁদের দ্বিধার কারণ ছিল আল্লাহ বাইতুল্লাহ তাওয়াফের নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু সাফা ও মারওয়ার কথা উল্লেখ করেননি? অবশেষে বাইতুল্লাহ তাওয়াফের কথা আলোচনা করার পর আল্লাহ সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করার কথা উল্লেখ করেন। (১৭৯০, ৪৪৯৫, ৪৭৬১, মুসলিম ১৫/৪৩, হাঃ ১২৭৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ السَّعْيُ مِنْ دَارِ بَنِي عَبَّادٍ إِلَى زُقَاقِ بَنِي أَبِي حُسَيْنٍ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, বনূ ‘আব্বাদ-এর বসতি হতে বনূ আবূ হুসাইন-এর গলি পর্যন্ত সা‘ঈ করবে। ১৬৪৪. ইবনে ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওয়াফ-ই-কুদূমের সময় প্রথম তিন চক্করে রামল করতেন ও পরবর্তী চার চক্কর স্বাভাবিক গতিতে হেঁটে চলতেন এবং সাফা ও মারওয়ার মাঝে সা‘ঈর সময় বাতনে মসীলে দ্রুত চলতেন। আমি (‘উবাইদুল্লাহ) নাফি‘কে বললাম, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) কি রুকন ইয়ামানীতে পৌঁছে হেঁটে চলতেন? তিনি বললেন, না। তবে হাজরে আসওয়াদের নিকট ভীড় হলে (একটুখানি মন্থর গতিতে চলতেন), কারণ তিনি তা চুম্বন না করে সরে যেতেন না। (১৬০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن عبيد بن ميمون، حدثنا عيسى بن يونس، عن عبيد الله بن عمر، عن نافع، عن ابن عمر رضى الله عنهما قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا طاف الطواف الاول خب ثلاثا ومشى اربعا، وكان يسعى بطن المسيل اذا طاف بين الصفا والمروة. فقلت لنافع اكان عبد الله يمشي اذا بلغ الركن اليماني قال لا. الا ان يزاحم على الركن فانه كان لا يدعه حتى يستلمه
‘আমর ইবনু দ্বীনার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, কোন ব্যক্তি ‘উমরাহ করতে গিয়ে শুধু বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করে, আর সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ না করে, তার পক্ষে কি স্ত্রী সহবাস বৈধ হবে? তখন তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা্য়) উপনীত হয়ে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সাত চক্করে সমাধা করে মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, এরপরে সাত চক্করে সাফা ও মারওয়া সা‘য়ী করলেন। [এতটুকু বলে ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন] ‘‘তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’’- (আল-আহযাবঃ ২১)। (৩৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، قال سالنا ابن عمر رضى الله عنه عن رجل، طاف بالبيت في عمرة، ولم يطف بين الصفا والمروة اياتي امراته فقال قدم النبي صلى الله عليه وسلم فطاف بالبيت سبعا، وصلى خلف المقام ركعتين، فطاف بين الصفا والمروة سبعا {لقد كان لكم في رسول الله اسوة حسنة}. وسالنا جابر بن عبد الله رضى الله عنهما فقال لا يقربنها حتى يطوف بين الصفا والمروة
‘আমর ইবনু দ্বীনার (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, কোন ব্যক্তি ‘উমরাহ করতে গিয়ে শুধু বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করে, আর সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ না করে, তার পক্ষে কি স্ত্রী সহবাস বৈধ হবে? তখন তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা্য়) উপনীত হয়ে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সাত চক্করে সমাধা করে মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, এরপরে সাত চক্করে সাফা ও মারওয়া সা‘য়ী করলেন। [এতটুকু বলে ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন] ‘‘তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’’- (আল-আহযাবঃ ২১)। (৩৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، قال سالنا ابن عمر رضى الله عنه عن رجل، طاف بالبيت في عمرة، ولم يطف بين الصفا والمروة اياتي امراته فقال قدم النبي صلى الله عليه وسلم فطاف بالبيت سبعا، وصلى خلف المقام ركعتين، فطاف بين الصفا والمروة سبعا {لقد كان لكم في رسول الله اسوة حسنة}. وسالنا جابر بن عبد الله رضى الله عنهما فقال لا يقربنها حتى يطوف بين الصفا والمروة
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা্য় উপনীত হয়ে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করলেন। এরপর দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। এরপর সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করলেন। এরপর তিনি (ইবনু ‘উমার) তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’’- (আল-আহযাবঃ ২১)। (৩৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا المكي بن ابراهيم، عن ابن جريج، قال اخبرني عمرو بن دينار، قال سمعت ابن عمر رضى الله عنهما قال قدم النبي صلى الله عليه وسلم مكة، فطاف بالبيت، ثم صلى ركعتين، ثم سعى بين الصفا والمروة، ثم تلا {لقد كان لكم في رسول الله اسوة حسنة}
‘আসিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বললাম, আপনারা কি সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করতে অপছন্দ করতেন? তিনি বললেন, হাঁ। কেননা তা ছিল জাহিলী যুগের নিদর্শন। অবশেষে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন। কাজেই হাজ্জ বা ‘উমরাহকারীদের জন্য এ দুইয়ের মধ্যে সা‘ঈ করায় কোন দোষ নেই’’- (আল-বাকারাঃ ১৫৮)। (৪৪৯৬, মুসলিম ১৫/৪৩, হাঃ ১২৭৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن محمد، اخبرنا عبد الله، اخبرنا عاصم، قال قلت لانس بن مالك رضى الله عنه اكنتم تكرهون السعى بين الصفا والمروة قال نعم. لانها كانت من شعاير الجاهلية، حتى انزل الله {ان الصفا والمروة من شعاير الله فمن حج البيت او اعتمر فلا جناح عليه ان يطوف بهما}
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদেরকে নিজ শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশে বাইতুল্লাহর তাওয়াফে ও সাফা ও মারওয়ার মধ্যেকার সা‘ঈতে দ্রুত চলেছিলেন। (৪২৫৭, মুসলিম ১৫/৩৯, হাঃ ১২৬৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، عن عمرو بن دينار، عن عطاء، عن ابن عباس رضى الله عنهما قال انما سعى رسول الله صلى الله عليه وسلم بالبيت وبين الصفا والمروة ليري المشركين قوته. زاد الحميدي حدثنا سفيان، حدثنا عمرو، سمعت عطاء، عن ابن عباس، مثله
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা্য় আসার পর ঋতুমতী হওয়ার কারণে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা ও মারওয়া সা‘ঈ করতে পারিনি। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এ অসুবিধার কথা জানালে তিনি বললেনঃ পবিত্র হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত অন্য সকল কাজ অপর হাজীদের ন্যায় সম্পন্ন করে নাও। (২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن يوسف، اخبرنا مالك، عن عبد الرحمن بن القاسم، عن ابيه، عن عايشة رضى الله عنها انها قالت قدمت مكة وانا حايض، ولم اطف بالبيت، ولا بين الصفا والمروة، قالت فشكوت ذلك الى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " افعلي كما يفعل الحاج غير ان لا تطوفي بالبيت حتى تطهري
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ হাজ্জ-এর ইহরাম বাঁধেন, তাঁদের মাঝে কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তালহা (রাঃ) ব্যতীত অন্য কারো সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল না। ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে আগমন করেন, তাঁর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। তিনি [‘আলী (রাঃ)] বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও সেরূপ ইহরাম বেঁধেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের মধ্যে যাদের নিকট কুরবানীর পশু ছিল না, তাদের ইহরামকে ‘উমরায় পরিণত করার নির্দেশ দিলেন, তারা যেন তাওয়াফ করে, চুল ছেঁটে অথবা মাথা মুন্ডিয়ে হালাল হয়ে যায়। তাঁরা বলাবলি করতে লাগলেন, (যদি হালাল হয়ে যাই তা হলে) স্ত্রীর সাথে মিলনের পরপরই আমাদের পক্ষে মিনায় যাওয়াটা কেমন হবে! তা অবগত হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি পরে যা জানতে পেরেছি তা যদি আগে জানতে পারতাম, তাহলে কুরবানীর পশু সাথে আনতাম না। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে অবশ্যই ইহরাম ভঙ্গ করতাম। (হাজ্জ-এর সফরে) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) ঋতুমতী হওয়ার কারণে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হাজ্জ-এর অন্য সকল কাজ সম্পন্ন করে নেন। পবিত্র হওয়ার পর তাওয়াফ আদায় করেন, (ফিরার পথে) ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সকলেই হাজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়টি আদায় করে ফিরছে, আর আমি কেবল হাজ্জ আদায় করে ফিরছি, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকার (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন, যেন ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-কে নিয়ে তান‘ঈমে চলে যান, (সেখানে গিয়ে ‘উমরাহ’র ইহরাম বাঁধবেন)। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হাজ্জের পর ‘উমরাহ আদায় করে নিলেন। (১৫৫৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا عبد الوهاب،. قال وقال لي خليفة حدثنا عبد الوهاب، حدثنا حبيب المعلم، عن عطاء، عن جابر بن عبد الله رضى الله عنهما قال اهل النبي صلى الله عليه وسلم هو واصحابه بالحج، وليس مع احد منهم هدى، غير النبي صلى الله عليه وسلم وطلحة، وقدم علي من اليمن، ومعه هدى فقال اهللت بما اهل به النبي صلى الله عليه وسلم. فامر النبي صلى الله عليه وسلم اصحابه ان يجعلوها عمرة، ويطوفوا، ثم يقصروا ويحلوا، الا من كان معه الهدى، فقالوا ننطلق الى منى، وذكر احدنا يقطر، فبلغ النبي صلى الله عليه وسلم فقال " لو استقبلت من امري ما استدبرت ما اهديت، ولولا ان معي الهدى لاحللت ". وحاضت عايشة رضى الله عنها فنسكت المناسك كلها، غير انها لم تطف بالبيت، فلما طهرت طافت بالبيت. قالت يا رسول الله تنطلقون بحجة وعمرة، وانطلق بحج فامر عبد الرحمن بن ابي بكر ان يخرج معها الى التنعيم، فاعتمرت بعد الحج
হাফসাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আমাদের যুবতীদেরকে বের হতে নিষেধ করতাম। এক মহিলা বনূ খালীফা-এর দূর্গে এলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, তাঁর বোন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এক সাহাবীর সহধর্মিণী ছিলেন। যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে বারোটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, (সেগুলোর মধ্যে) ছয়টি যুদ্ধে আমার বোনও স্বামীর সঙ্গে ছিলেন। তাঁর বোন বলেন, আমরা আহত যোদ্ধা ও অসুস্থ সৈনিকদের সেবা করতাম। আমার বোন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমাদের মধ্যে যার (শরীর উত্তমরূপে আবৃত করার মত) চাদর নেই, সে বের না হলে অন্যায় হবে কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের একজন অপরজনকে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাদরটি দিয়ে দেয়া উচিত এবং কল্যাণমূলক কাজে ও মু’মিনদের দু‘আয় বের হওয়া উচিত। উম্মু ‘আতিয়্যা (রাঃ) উপস্থিত হলে এ বিষয়ে তাঁর নিকট আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কথা ব্দপ্পব্দ‘‘ (আমার পিতা উৎসর্গ হোন) ব্যতীত কখনও উচ্চারণ করতেন না। আমি তাঁকে বললাম, আপনি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এরূপ বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, অবশ্যই। আমার পিতা উৎসর্গ হোন। তিনি বললেনঃ যুবতী ও পর্দাশীলা নারীদেরও বের হওয়া উচিত। অথবা বললেনঃ পর্দাশীলা যুবতী ও ঋতুমতীদেরও বের হওয়া উচিত। তারা কল্যাণমূলক কাজে এবং মুসলিমদের দু‘আয় যথাস্থানে উপস্থিত হবে। তবে ঋতুমতী মহিলাগণ সালাতের স্থানে উপস্থিত হবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঋতুমতী মহিলাও কি? তিনি বললেনঃ (কেন উপস্থিত হবে না?) তারা কি ‘আরাফার ময়দানে এবং অমুক অমুক স্থানে উপস্থিত হবে না? (৩২৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৫৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مومل بن هشام، حدثنا اسماعيل، عن ايوب، عن حفصة، قالت كنا نمنع عواتقنا ان يخرجن، فقدمت امراة فنزلت قصر بني خلف، فحدثت ان اختها كانت تحت رجل من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم قد غزا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ثنتى عشرة غزوة، وكانت اختي معه في ست غزوات، قالت كنا نداوي الكلمى ونقوم على المرضى. فسالت اختي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت هل على احدانا باس ان لم يكن لها جلباب ان لا تخرج قال " لتلبسها صاحبتها من جلبابها، ولتشهد الخير، ودعوة المومنين ". فلما قدمت ام عطية رضى الله عنها سالنها او قالت سالناها فقالت وكانت لا تذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الا قالت بابي. فقلنا اسمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول كذا وكذا قالت نعم بابي. فقال " لتخرج العواتق ذوات الخدور او العواتق وذوات الخدور والحيض، فيشهدن الخير، ودعوة المسلمين، ويعتزل الحيض المصلى ". فقلت الحايض. فقالت او ليس تشهد عرفة، وتشهد كذا وتشهد كذا
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، عن الزهري، قال عروة سالت عايشة رضى الله عنها فقلت لها ارايت قول الله تعالى {ان الصفا والمروة من شعاير الله فمن حج البيت او اعتمر فلا جناح عليه ان يطوف بهما} فوالله ما على احد جناح ان لا يطوف بالصفا والمروة. قالت بيس ما قلت يا ابن اختي ان هذه لو كانت كما اولتها عليه كانت لا جناح عليه ان لا يتطوف بهما، ولكنها انزلت في الانصار، كانوا قبل ان يسلموا يهلون لمناة الطاغية التي كانوا يعبدونها عند المشلل، فكان من اهل يتحرج ان يطوف بالصفا والمروة، فلما اسلموا سالوا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك قالوا يا رسول الله، انا كنا نتحرج ان نطوف بين الصفا والمروة، فانزل الله تعالى {ان الصفا والمروة من شعاير الله} الاية. قالت عايشة رضى الله عنها وقد سن رسول الله صلى الله عليه وسلم الطواف بينهما، فليس لاحد ان يترك الطواف بينهما. ثم اخبرت ابا بكر بن عبد الرحمن، فقال ان هذا لعلم ما كنت سمعته، ولقد سمعت رجالا من اهل العلم، يذكرون ان الناس الا من ذكرت عايشة ممن كان يهل بمناة، كانوا يطوفون كلهم بالصفا والمروة، فلما ذكر الله تعالى الطواف بالبيت، ولم يذكر الصفا والمروة في القران قالوا يا رسول الله كنا نطوف بالصفا والمروة، وان الله انزل الطواف بالبيت، فلم يذكر الصفا فهل علينا من حرج ان نطوف بالصفا والمروة فانزل الله تعالى {ان الصفا والمروة من شعاير الله} الاية. قال ابو بكر فاسمع هذه الاية نزلت في الفريقين كليهما في الذين كانوا يتحرجون ان يطوفوا بالجاهلية بالصفا والمروة، والذين يطوفون ثم تحرجوا ان يطوفوا بهما في الاسلام من اجل ان الله تعالى امر بالطواف بالبيت، ولم يذكر الصفا حتى ذكر ذلك بعد ما ذكر الطواف بالبيت