Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৫৮ হাদিসসমূহ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং আমার মা (লুবাবাহ্ বিনত হারিস) মুসতায‘আফীন (দুর্বল, অসহায়) এর অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমি ছিলাম না-বালিগ শিশুদের মধ্যে আর আমার মা ছিলেন মহিলাদের মধ্যে। (৪৫৮৭, ৪৫৮৮, ৪৫৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، قال قال عبيد الله سمعت ابن عباس رضى الله عنهما يقول كنت انا وامي، من المستضعفين انا من الولدان، وامي، من النساء
শু‘আইব (রহ.) হতে বর্ণিত যে, ইবনু শিহাব (রহ.) বলেছেন, নবজাত শিশু মারা গেলে তাদের প্রত্যেকের জানাযার সালাত আদায় করা হবে। যদিও সে কোন ভ্রষ্টা মায়ের সন্তানও হয়। এ কারণে যে, সে সন্তানটি ইসলামী ফিত্রাহর (তাওহীদ) এর উপর জন্মলাভ করেছে। তার পিতামাতা ইসলামের দাবীদার হোক বা বিশেষভাবে তার পিতা। যদিও তার মা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের অনুসারী হয়। নবজাত শিশু সরবে কেঁদে থাকলে তার জানাযার সালাত আদায় করা হবে। আর যে শিশু না কাঁদবে, তার জানাযার সালাত আদায় করা হবে না। কেননা, সে অপূর্ণাঙ্গ সন্তান। কারণ, আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করতেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ প্রতিটি নবজাতকই জন্ম লাভ করে ফিতরাতের (তাওহীদের) উপর। অতঃপর তার মা-বাপ তাকে ইয়াহূদী বা খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজারী রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু নিখুঁত বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাদের মধ্যে কোন কান কাটা দেখতে পাও? (বরং মানুষরাই তার নাক কান কেটে দিয়ে বা ছিদ্র করে তাকে বিকৃত করে থাকে। অনুরূপ ইসলামের ফিতরাহ্তে ভূমিষ্ট সন্তানকে মা-বাপ তাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও জীবন ধারায় প্রবাহিত করে ভ্রান্ত ধর্মী বানিয়ে ফেলে) পরে আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) তিলাওয়াত করলেনঃ (فِطْرَتَ اللهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا) ‘‘আল্লাহ্র দেয়া ফিতরাতের অনুসরণ কর যে ফিত্রাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন ..... (রূমঃ ৩০)। (১৩৫৯, ১৩৮৫, ৪৭৭৫, ৬৫৯৯, মুসলিম ৪৬/৬, হাঃ ২৬৫৮, আহমাদ ৮১৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، قال ابن شهاب يصلى على كل مولود متوفى وان كان لغية، من اجل انه ولد على فطرة الاسلام، يدعي ابواه الاسلام او ابوه خاصة، وان كانت امه على غير الاسلام، اذا استهل صارخا صلي عليه، ولا يصلى على من لا يستهل من اجل انه سقط، فان ابا هريرة رضى الله عنه كان يحدث قال النبي صلى الله عليه وسلم " ما من مولود الا يولد على الفطرة، فابواه يهودانه او ينصرانه او يمجسانه، كما تنتج البهيمة بهيمة جمعاء هل تحسون فيها من جدعاء ". ثم يقول ابو هريرة رضى الله عنه – {فطرة الله التي فطر الناس عليها} الاية
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ প্রত্যেক নবজাতকই ফিত্রাতের উপর জন্মলাভ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহূদী, নাসারা বা মাজূসী (অগ্নিপূজারী) রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাকে কোন (জন্মগত) কানকাটা দেখতে পাও? অতঃপর আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) তিলাওয়াত করলেনঃ (যার অর্থ) ‘‘আল্লাহ্র দেয়া ফিত্রাতের অনুসরণ কর, যে ফিত্রাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, এটাই সরল সুদৃঢ় দ্বীন’’- (রুমঃ ৩০)। (মুসলিম ৪৬/৬, হাঃ ২৬৫৮, আহমাদ ৮১৮৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبدان، اخبرنا عبد الله، اخبرنا يونس، عن الزهري، اخبرني ابو سلمة بن عبد الرحمن، ان ابا هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " ما من مولود الا يولد على الفطرة، فابواه يهودانه او ينصرانه او يمجسانه، كما تنتج البهيمة بهيمة جمعاء، هل تحسون فيها من جدعاء ". ثم يقول ابو هريرة رضى الله عنه {فطرة الله التي فطر الناس عليها لا تبديل لخلق الله ذلك الدين القيم}
সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তালিব এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট আসলেন। তিনি সেখানে আবূ জাহল ইবনু হিশাম ও ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ উমায়্যা ইবনু মুগীরাকে উপস্থিত দেখতে পেলেন। (রাবী বলেন) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ তালিবকে লক্ষ্য করে বললেনঃ চাচাজান! ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ কালিমা পাঠ করুন, তা হলে এর অসীলায় আমি আল্লাহ্র সমীপে আপনার জন্য সাক্ষ্য দিতে পারব। আবূ জাহল ও ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ উমায়্যা বলে উঠল, ওহে আবূ তালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম হতে বিমুখ হবে? অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট কালিমাহ পেশ করতে থাকেন, আর তারা দু’জনও তাদের উক্তি পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। অবশেষে আবূ তালিব তাদের সামনে শেষ কথাটি যা বলল, তা এই যে, সে আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর অবিচল রয়েছে, সে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলতে অস্বীকার করল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্র কসম! তবুও আমি আপনার জন্য মাগফিরাত কামনা করতে থাকব, যতক্ষণ না আমাকে তা হতে নিষেধ করা হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা নাযিল করেন : (مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ) الأية(নবীর জন্য সঙ্গত নয়....- (আত্-তওবাঃ ১১৩)। (৩৮৮৪, ৪৬৭৫, ৪৭৭২, ৬৬৮১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسحاق، اخبرنا يعقوب بن ابراهيم، قال حدثني ابي، عن صالح، عن ابن شهاب، قال اخبرني سعيد بن المسيب، عن ابيه، انه اخبره انه، لما حضرت ابا طالب الوفاة جاءه رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجد عنده ابا جهل بن هشام، وعبد الله بن ابي امية بن المغيرة، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لابي طالب " يا عم، قل لا اله الا الله، كلمة اشهد لك بها عند الله ". فقال ابو جهل وعبد الله بن ابي امية يا ابا طالب، اترغب عن ملة عبد المطلب فلم يزل رسول الله صلى الله عليه وسلم يعرضها عليه، ويعودان بتلك المقالة، حتى قال ابو طالب اخر ما كلمهم هو على ملة عبد المطلب، وابى ان يقول لا اله الا الله. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اما والله لاستغفرن لك، ما لم انه عنك ". فانزل الله تعالى فيه {ما كان للنبي} الاية
وَأَوْصَى بُرَيْدَةُ الأَسْلَمِيُّ أَنْ يُجْعَلَ فِي قَبْرِهِ جَرِيدَانِ وَرَأَى ابْنُ عُمَرَ فُسْطَاطًا عَلَى قَبْرِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ فَقَالَ انْزِعْهُ يَا غُلاَمُ فَإِنَّمَا يُظِلُّهُ عَمَلُهُ وَقَالَ خَارِجَةُ بْنُ زَيْدٍ رَأَيْتُنِي وَنَحْنُ شُبَّانٌ فِي زَمَنِ عُثْمَانَ tوَإِنَّ أَشَدَّنَا وَثْبَةً الَّذِي يَثِبُ قَبْرَ عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ حَتَّى يُجَاوِزَهُ وَقَالَ عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ أَخَذَ بِيَدِي خَارِجَةُ فَأَجْلَسَنِي عَلَى قَبْرٍ وَأَخْبَرَنِي عَنْ عَمِّهِ يَزِيدَ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ إِنَّمَا كُرِهَ ذَلِكَ لِمَنْ أَحْدَثَ عَلَيْهِ وَقَالَ نَافِعٌ كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَجْلِسُ عَلَى الْقُبُورِ বুরাইদাহ আসলামী (রাঃ) তাঁর কবরে দু’টি খেজুরের ডাল পুঁতে দেয়ার ওয়াসিয়াত করেছিলেন। ‘আবদুর রাহমান (ইবনু আবূ বাকর) (রাঃ)-এর কবরের উপরে একটি তাঁবু দেখতে পেয়ে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে বালক! ওটা অপসারিত কর, কেননা একমাত্র তার ‘আমলই তাকে ছায়া দিতে পারে। খারিজ ইবনু যায়দ (রহ.) বলেছেন, আমার মনে আছে, ‘উসমান (রাঃ)-এর খিলাফাতকালে যখন আমরা তরুণ ছিলাম তখন ‘উসমান ইবনু মাজ‘উন (রাঃ)-এর কবর লাফিয়ে অতিক্রমকারীকেই আমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ লম্ফবিদ মনে করা হত। আর ‘উসমান ইবনু হাকীম (রহ.) বলেছেন, খারিজাহ (রহ.) আমার হাত ধরে একটি কবরের উপরে বসিয়ে দিলেন এবং তার চাচা ইয়াযীদ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে আমাকে অবহিত করেন যে, তিনি বলেন, কবরের উপরে বসা মাকরূহ তা ঐ ব্যক্তির জন্য যে, যেখানে বসে পেশাব পায়খানা করে। আর নাফি‘ (রহ.) বলেছেন, ইবনু ‘উমর (রাঃ) কবরের উপরে বসতেন। ১৩৬১. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে কবর দু’টির বাসিন্দাদের আযাব দেয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বললেনঃ এদের দু’ জনকে আযাব দেয়া হচ্ছে অথচ তাদের এমন গুনাহর জন্য আযাব দেয়া হচ্ছে না (যা হতে বিরত থাকা) দুরূহ ছিল। তাদের একজন পেশাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না, আর অপরজন চোগলখুরী করে বেড়াত। অতঃপর তিনি খেজুরের একটি তাজা ডাল নিয়ে তা দু’ভাগে বিভক্ত করলেন, অতঃপর প্রতিটি কবরে একটি করে পুঁতে দিলেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কেন এরূপ করলেন? তিনি বললেনঃ ডাল দু’টি না শুকানো পর্যন্ত আশা করি তাদের আযাব হাল্কা করা হবে। (২১৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى، حدثنا ابو معاوية، عن الاعمش، عن مجاهد، عن طاوس، عن ابن عباس رضى الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم انه مر بقبرين يعذبان فقال " انهما ليعذبان وما يعذبان في كبير اما احدهما فكان لا يستتر من البول، واما الاخر فكان يمشي بالنميمة ". ثم اخذ جريدة رطبة فشقها بنصفين، ثم غرز في كل قبر واحدة. فقالوا يا رسول الله، لم صنعت هذا فقال " لعله ان يخفف عنهما ما لم ييبسا
(يَوْمَ يَخْرُجُونَ مِنْ الأَجْدَاثِ) الأَجْدَاثُ الْقُبُورُ(بُعْثِرَتْ) أُثِيرَتْ بَعْثَرْتُ حَوْضِي أَيْ جَعَلْتُ أَسْفَلَهُ أَعْلاَهُ الإِيفَاضُ الإِسْرَاعُ وَقَرَأَ الأَعْمَشُ (إِلَى نَصْبٍ) إِلَى شَيْءٍ مَنْصُوبٍ يَسْتَبِقُونَ إِلَيْهِ وَالنُّصْبُ وَاحِدٌ وَالنَّصْبُ مَصْدَرٌ (يَوْمُ الْخُرُوجِ) مِنْ الْقُبُورِ (يَنْسِلُونَ) يَخْرُجُونَ (মহান আল্লাহ্র বাণী) (يَوْمَ يَخْرُجُونَ مِنْ الأَجْدَاثِ) তারা কবর হতে বের হবে- (মা‘আরিজঃ ৪৩)। الأَجْدَاثُ অর্থ কবরসমূহ। (এবং সূরা ইন্ফিতারে)(بُعْثِرَتْ) অর্থ উন্মোচিত হবে بَعْثَرْتُ حَوْضِي -অর্থ আমি (হাওযের) নিচের অংশকে উপরে তুলে দিয়েছি। الإِيفَاضُ অর্থ দ্রুত গতিতে চলা। ‘আমাশ (রহ.)-এর কিরাআত হলো এর অর্থ (إِلَى نَصْبٍ) হলো তারা স্থাপিত কোন বস্তুর দিকে দ্রুত গতিতে চলে। আর النُّصْبُএকবচন আর النَّصْبُ মাস্দার- ক্রিয়া মূল। (সূরা কাফ এর ৪২ আয়াতে)(يَوْمُ الْخُرُوجِ) বেরিয়ে আসার দিন। অর্থাৎ কবর হতে। আর সূরা আম্বিযার ৯৬ আয়াতে (يَنْسِلُونَ) অর্থ ‘বের হয়ে ছুটে আসবে।’ ১৩৬২. ‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বাকী‘উল গারক্বাদ (কবরস্থানে) এক জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আগমন করলেন। তিনি উপবেশন করলে আমরাও তাঁর চারদিকে বসে পড়লাম। তাঁর হাতে একটি ছড়ি ছিল। তিনি নীচের দিকে তাকিয়ে তাঁর ছড়িটি দ্বারা মাটি খুঁড়তে লাগলেন। অতঃপর বললেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, অথবা বললেনঃ এমন কোন সৃষ্ট প্রাণী নেই, যার জন্য জান্নাত ও জাহান্নামে জায়গা নির্ধারিত করে দেয়া হয়নি আর এ কথা লিখে দেয়া হয়নি যে, সে দুর্ভাগা হবে কিংবা ভাগ্যবান। তখন এক ব্যক্তি আরয করল, হে আল্লাহ্র রাসূল! তা হলে কি আমরা আমাদের ভাগ্যলিপির উপর ভরসা করে ‘আমল করা ছেড়ে দিব না? কেননা, আমাদের মধ্যে যারা ভাগ্যবান তারা অচিরেই ভাগ্যবানদের ‘আমলের দিকে ধাবিত হবে। আর যারা দুর্ভাগ্য তারা অচিরেই দুর্ভাগাদের ‘আমলের দিকে ধাবিত হবে। তিনি বললেনঃ যারা ভাগ্যবান, তাদের জন্য সৌভাগ্যের ‘আমল সহজ করে দেয়া হয় আর ভাগ্যাহতদের জন্য দুর্ভাগ্যের ‘আমল সহজ করে দেয়া হয়। অতঃপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘কাজেই যে দান করে এবং তাক্ওয়া অবলম্বন করে আর ভাল কথাকে সত্য বলে বুঝেছে’’- (লাইলঃ ৫)। (৪৯৪৫, ৪৯৪৬, ৪৯৪৭, ৪৯৪৮, ৪৯৪৯, ৬২১৭, ৬৬০৫, ৭৫৫২, মুসলিম ৪৬/১, হাঃ ২৬৪৭, আহমাদ ৬২১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عثمان، قال حدثني جرير، عن منصور، عن سعد بن عبيدة، عن ابي عبد الرحمن، عن علي رضى الله عنه قال كنا في جنازة في بقيع الغرقد، فاتانا النبي صلى الله عليه وسلم فقعد وقعدنا حوله، ومعه مخصرة فنكس، فجعل ينكت بمخصرته ثم قال " ما منكم من احد، ما من نفس منفوسة الا كتب مكانها من الجنة والنار، والا قد كتب شقية او سعيدة ". فقال رجل يا رسول الله، افلا نتكل على كتابنا وندع العمل، فمن كان منا من اهل السعادة فسيصير الى عمل اهل السعادة، واما من كان منا من اهل الشقاوة فسيصير الى عمل اهل الشقاوة قال " اما اهل السعادة فييسرون لعمل السعادة، واما اهل الشقاوة فييسرون لعمل الشقاوة "، ثم قرا {فاما من اعطى واتقى} الاية
হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহ.) বলেন, জারীর ইবনু হাযিম (রহ.) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান (রহ.) হতে, তিনি বলেন, জুনদাব (রাঃ) এই মসজিদে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আর তা আমরা ভুলে যাইনি এবং আমরা এ আশঙ্কাও করিনি যে, জুনদাব (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নামে মিথ্যা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তির (দেহে) যখম ছিল, সে আত্মহত্যা করল। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা বললেন, আমার বান্দা তার প্রাণ নিয়ে আমার সাথে তাড়াহুড়া করল। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম। [1] (৩৪৬৩) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৮০ শেষাংশ)
حدثنا مسدد، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا خالد، عن ابي قلابة، عن ثابت بن الضحاك رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من حلف بملة غير الاسلام كاذبا متعمدا فهو كما قال، ومن قتل نفسه بحديدة عذب به في نار جهنم ". وقال حجاج بن منهال حدثنا جرير بن حازم، عن الحسن، حدثنا جندب رضى الله عنه في هذا المسجد فما نسينا، وما نخاف ان يكذب جندب عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " كان برجل جراح فقتل نفسه فقال الله بدرني عبدي بنفسه حرمت عليه الجنة
হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহ.) বলেন, জারীর ইবনু হাযিম (রহ.) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান (রহ.) হতে, তিনি বলেন, জুনদাব (রাঃ) এই মসজিদে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আর তা আমরা ভুলে যাইনি এবং আমরা এ আশঙ্কাও করিনি যে, জুনদাব (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নামে মিথ্যা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এক ব্যক্তির (দেহে) যখম ছিল, সে আত্মহত্যা করল। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা বললেন, আমার বান্দা তার প্রাণ নিয়ে আমার সাথে তাড়াহুড়া করল। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম। [1] (৩৪৬৩) (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৮০ শেষাংশ)
حدثنا مسدد، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا خالد، عن ابي قلابة، عن ثابت بن الضحاك رضى الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " من حلف بملة غير الاسلام كاذبا متعمدا فهو كما قال، ومن قتل نفسه بحديدة عذب به في نار جهنم ". وقال حجاج بن منهال حدثنا جرير بن حازم، عن الحسن، حدثنا جندب رضى الله عنه في هذا المسجد فما نسينا، وما نخاف ان يكذب جندب عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " كان برجل جراح فقتل نفسه فقال الله بدرني عبدي بنفسه حرمت عليه الجنة
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাব) নিজেকে ফাঁস লাগাতে থাকবে আর যে ব্যক্তি বর্শার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাবে) বর্শা বিদ্ধ হতে থাকবে। (৫৭৭৮, মুসলিম ১/৪৭, হাঃ ১১৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو اليمان، اخبرنا شعيب، حدثنا ابو الزناد، عن الاعرج، عن ابي هريرة رضى الله عنه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم " الذي يخنق نفسه يخنقها في النار، والذي يطعنها يطعنها في النار
رَوَاهُ ابْنُ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ (‘আবদুল্লাহ্) ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বিষয়টি রিওয়ায়াত করেছেন। ১৩৬৬. ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মুনাফিক সর্দার) ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উবাই ইবনু সালূল মারা গেলে তার জানাযার সালাতের জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আহবান করা হল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সালাত আদায়ের উদ্দেশে) দাঁড়ালে আমি দ্রুত তাঁর নিকট গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল্! আপনি ইবনু ‘উবাই’র জানাযার সালাত আদায় করতে যাচ্ছেন? অথচ সে অমুক অমুক দিন (আপনার শানে এবং ঈমানদারদের সম্পর্কে) এই এই কথা বলেছে। এ বলে আমি তার উক্তিগুলো গুণেগুণে পুনরাবৃত্তি করলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, ‘উমার, সরে যাও! আমি বারবার আপত্তি করলে তিনি বললেন, আমাকে (তার সালাত আদায় করার ব্যাপারে) ইখ্তিয়ার দেয়া হয়েছে। কাজেই আমি তা গ্রহণ করলাম। আমি যদি জানতাম যে, সত্তর বারের অধিক মাগফিরাত কামনা করলে তাকে মাফ করা হবে তা হলে আমি অবশ্যই তার চেয়ে অধিক বার মাফ চাইতাম। ‘উমার (রাঃ) বলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায় করেন এবং ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরেই সূরা বারাআতের এ দু’টি আয়াত নাযিল হল : (وَلا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَداً وَلا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ) (التوبة:৮৪) ‘‘তাদের কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার জানাযার সালাত আদায় করবেন না। এমতাবস্থায় যে তারা ফাসিক- [আত্তওবা ৯ : ৮৪]। রাবী বলেন, আল্লাহর রাসূল-এর সামনে আমার ঐ দিনের দুঃসাহসিক আচরণ করায় আমি বিস্মিত হয়েছি। আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলই সমধিক অবগত। (৪৬৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن بكير، حدثني الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله، عن ابن عباس، عن عمر بن الخطاب رضى الله عنهم انه قال لما مات عبد الله بن ابى ابن سلول دعي له رسول الله صلى الله عليه وسلم ليصلي عليه، فلما قام رسول الله صلى الله عليه وسلم وثبت اليه فقلت يا رسول الله، اتصلي على ابن ابى وقد قال يوم كذا وكذا كذا وكذا اعدد عليه قوله فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال " اخر عني يا عمر ". فلما اكثرت عليه قال " اني خيرت فاخترت، لو اعلم اني ان زدت على السبعين فغفر له لزدت عليها ". قال فصلى عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم انصرف، فلم يمكث الا يسيرا حتى نزلت الايتان من {براءة} {ولا تصل على احد منهم مات ابدا} الى {وهم فاسقون} قال فعجبت بعد من جراتي على رسول الله صلى الله عليه وسلم يوميذ، والله ورسوله اعلم
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক সাহাবী একটি জানাযার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তাঁরা তার প্রশংসা করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওয়াজিব হয়ে গেল। একটু পরে অপর একটি জানাযা অতিক্রম করলেন। তখন তাঁরা তার নিন্দাসূচক মন্তব্য করলেন। (এবারও) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওয়াজিব হয়ে গেলে। তখন ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) আরয করলেন, (হে আল্লাহর রাসূল!) কি ওয়াজিব হয়ে গেল? তিনি বললেনঃ এ (প্রথম) ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা উত্তম মন্তব্য করলে, তাই তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেল। আর এ (দ্বিতীয়) ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা নিন্দাসূচক মন্তব্য করায় তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেল। তোমরা তো পৃথিবীতে আল্লাহ্র সাক্ষী। (২৬৪২, মুসলিম ১১/১৯, হাঃ ৯৪৯, আহমাদ ১২৯৩৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ادم، حدثنا شعبة، حدثنا عبد العزيز بن صهيب، قال سمعت انس بن مالك رضى الله عنه يقول مروا بجنازة فاثنوا عليها خيرا، فقال النبي صلى الله عليه وسلم " وجبت ". ثم مروا باخرى فاثنوا عليها شرا فقال " وجبت ". فقال عمر بن الخطاب رضى الله عنه ما وجبت قال " هذا اثنيتم عليه خيرا فوجبت له الجنة، وهذا اثنيتم عليه شرا فوجبت له النار، انتم شهداء الله في الارض
আবুল আসওয়াদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাদ্বীনায় আসলাম, তখন সেখানে একটি রোগ (মহামারী আকারে) ছড়িয়ে পড়েছিল। আমি ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তাদের পাশ দিয়ে একটি জানাযা অতিক্রম করল। তখন জানাযার লোকটি সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করা হল। ‘উমার (রাঃ) বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেলে। অতঃপর অপর একটি (জানাযা) অতিক্রম করল, তখন সে লোকটি সম্পর্কেও প্রশংসাসূচক মন্তব্য করা হল। (এবারও) তিনি বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেল। অতঃপর তৃতীয় একটি (জানাযা) অতিক্রম করল, লোকটি সম্বন্ধে নিন্দাসূচক মন্তব্য করা হল। তিনি বললেন, ওয়াজিব হয়ে গেল। আবুল আসওয়াদ (রাঃ) বলেনঃ আমি বললাম, হে আমীরুল মু‘মিনীন! কি ওয়াজিব হয়ে গেল। তিনি বললেন, আমি তেমনই বলেছি, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যে কোন মুসলিম সম্পর্কে চার ব্যক্তি ভাল বলে সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন। ‘উমার (রাঃ) বলেনঃ তখন আমরা বলেছিলাম, তিনজন হলে? তিনি বললেন, তিনজন হলেও। আমরা বললাম, দু’জন হলে? তিনি বললেন, দু’জন হলেও। অতঃপর আমরা একজন সম্পর্কে আর তাঁকে জিজ্ঞেস করিনি। (২৬৪৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عفان بن مسلم، حدثنا داود بن ابي الفرات، عن عبد الله بن بريدة، عن ابي الاسود، قال قدمت المدينة وقد وقع بها مرض، فجلست الى عمر بن الخطاب رضى الله عنه فمرت بهم جنازة فاثني على صاحبها خيرا فقال عمر رضى الله عنه وجبت. ثم مر باخرى فاثني على صاحبها خيرا، فقال عمر رضى الله عنه وجبت. ثم مر بالثالثة، فاثني على صاحبها شرا فقال وجبت. فقال ابو الاسود فقلت وما وجبت يا امير المومنين قال قلت كما قال النبي صلى الله عليه وسلم " ايما مسلم شهد له اربعة بخير ادخله الله الجنة ". فقلنا وثلاثة قال " وثلاثة ". فقلنا واثنان قال " واثنان ". ثم لم نساله عن الواحد
وَقَوْلُهُ تَعَالَى (وَلَوْ تَرَى إِذْ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلاَئِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمْ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ) قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ الْهُونُ هُوَ الْهَوَانُ وَالْهَوْنُ الرِّفْقُ وَقَوْلُهُ جَلَّ ذِكْرُهُ (سَنُعَذِّبُهُمْ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ يُرَدُّونَ إِلَى عَذَابٍ عَظِيمٍ) وَقَوْلُهُ تَعَالَى (وَحَاقَ بِآلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ) আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ (যার অর্থ) ‘‘আর যদি আপনি দেখেন যখন জালিমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় পতিত হয়ে এবং ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে বলেঃ ‘‘বের কর তোমাদের প্রাণ!’’ আজ তোমাদেরকে অবমাননাকর আযাব প্রদান করা হবে’’ (আল-আন‘আম (৬) : ৯৩)। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ [ইমাম বুখারী (রহ.)] বলেন, الهون অর্থ الهون অর্থাৎ অবমাননা। (আর সূরা আল-ফুরকানের ৬৩ আয়াতে) الهون অর্থ الرفق অর্থাৎ নম্রতা। আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ (যার অর্থ) ‘‘অচিরেই আমি তাদেরকে দু’বার (বারবার) শাস্তি দিব। পরে তারা প্রত্যাবর্তিত হবে মহাশাস্তির দিকে’’ (আত্-তাওবা (৯) : ১০১)। এবং তাঁর বাণীঃ (যার অর্থ) ‘‘আর নিকৃষ্ট (কঠিন) শাস্তি ফির‘আউন জাতিকে ঘিরে ফেলল, সকাল সন্ধ্যায় তাদেরকে উপস্থিত করা হয় জাহান্নামের সামনে, আর যে দিন ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সংঘটিত হবে (সেদিন বলা হবে) ফির‘আউন গোষ্ঠীকে প্রবিষ্ট কর কঠিন শাস্তিতে।’’ (গাফিরঃ ৪৫-৪৬) ১৩৬৯. বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু’মিন ব্যক্তিকে যখন তার কবরে বসানো হয় তখন উপস্থিত করা হয় ফেরেশতাগণকে। অতঃপর (ফেরেশ্তাগণের প্রশ্নের উত্তরে) সে সাক্ষ্য প্রদান করে যে, ‘‘আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্র রাসূল।’’ এটা আল্লাহ্র কালামঃ (যার অর্থ) ‘‘আল্লাহ্ পার্থিব জীবনে ও আখিরাতে অবিচল রাখবেন সে সকল লোককে যারা ঈমান এনেছে, প্রতিষ্ঠিত বাণীতে’’- (ইব্রাহীম ২৭)। (৪৬৯৯, মুসলিম ৫১/১৭, হাঃ ২৮৭১) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৮৫) শু‘বাহ্ সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি অতিরিক্ত বলেছেন যে, (আল্লাহ্ অবিচল রাখবেন যারা ঈমান এনেছে (يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا) (ابراهيم: ২)এ আয়াত কবরের আযাব সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا حفص بن عمر، حدثنا شعبة، عن علقمة بن مرثد، عن سعد بن عبيدة، عن البراء بن عازب رضى الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال " اذا اقعد المومن في قبره اتي، ثم شهد ان لا اله الا الله، وان محمدا رسول الله، فذلك قوله {يثبت الله الذين امنوا بالقول الثابت} ". حدثنا محمد بن بشار حدثنا غندر حدثنا شعبة بهذا وزاد {يثبت الله الذين امنوا} نزلت في عذاب القبر
ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বদরে নিহত) গর্তবাসীদের দিকে ঝুঁকে দেখে বললেনঃ ‘‘তোমাদের সাথে তোমাদের রব যে ওয়াদা করেছিলেন, তা তোমরা বাস্তবে পেয়েছো তো?’’- (আল-আ‘রাফ (৭) : ৪৪)। তখন তাঁকে বলা হল, আপনি মৃতদের ডেকে কথা বলছেন? (ওরা কি শুনতে পায়?) তিনি বললেনঃ ‘‘তোমরা তাদের চেয়ে অধিক শুনতে পাও না, তবে তারা জবাব দিতে পারছে না’’। [1] (৩৯৮০, ৪০২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا يعقوب بن ابراهيم، حدثني ابي، عن صالح، حدثني نافع، ان ابن عمر رضى الله عنهما اخبره قال اطلع النبي صلى الله عليه وسلم على اهل القليب فقال " وجدتم ما وعد ربكم حقا ". فقيل له تدعو امواتا فقال " ما انتم باسمع منهم ولكن لا يجيبون
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, নিশ্চয়ই তারা এখন ভালভাবে জানতে (ও বুঝতে) পেরেছে যে, (কবর আযাব প্রসঙ্গে) আমি তাদের যা বলতাম তা বাস্তব। আল্লাহ্ তা‘আলা ঘোষণা করেছেনঃ ‘‘আপনি (হে নবী!) নিশ্চিতই মৃতদের (কোন কথা) শোনাতে পারেন না’’- (আন্-নামালঃ ৮০)। (৩৯৭৯, ৩৯৮১, মুসলিম ১১/৯, হাঃ ৯৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا سفيان، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة رضى الله عنها قالت انما قال النبي صلى الله عليه وسلم " انهم ليعلمون الان ان ما كنت اقول حق وقد قال الله تعالى {انك لا تسمع الموتى}
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, এক ইয়াহুদী স্ত্রীলোক ‘আয়িশাহ্ (রাযি.)-এর কাছে এসে কবর আযাব সম্পর্কে আলোচনা করে তাঁকে (দু‘আ করে) বলল, আল্লাহ্ আপনাকে কবর আযাব হতে রক্ষা করুন! পরে ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) কবর আযাব সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেনঃ হাঁ, কবর আযাব (সত্য)। ‘আয়িশাহ্ (রাযি.) বলেন, এরপর থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এমন কোন সালাত আদায় করতে আমি দেখিনি, যাতে তিনি কবর আযাব হতে আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেননি। [এ হাদীসের বর্ণনায়] গুণদার (রহ.) অধিক উল্লেখ করেছেন যে, ‘কবর ‘আযাব একেবারে বাস্তব’। (১০৩৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبدان، اخبرني ابي، عن شعبة، سمعت الاشعث، عن ابيه، عن مسروق، عن عايشة رضى الله عنها ان يهودية، دخلت عليها، فذكرت عذاب القبر، فقالت لها اعاذك الله من عذاب القبر. فسالت عايشة رسول الله صلى الله عليه وسلم عن عذاب القبر فقال " نعم عذاب القبر ". قالت عايشة رضى الله عنها فما رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد صلى صلاة الا تعوذ من عذاب القبر. زاد غندر " عذاب القبر حق
‘উরওয়া ইবনু যুবাইর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি আসমা বিনত আবূ বাকর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) দাঁড়িয়ে খুৎবাহ দিচ্ছিলেন তাতে তিনি কবরে মানুষ যে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে, তার বর্ণনা দিলে মুসলিমগণ ভয়ার্ত চিৎকার করতে লাগলেন। (৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا يحيى بن سليمان، حدثنا ابن وهب، قال اخبرني يونس، عن ابن شهاب، اخبرني عروة بن الزبير، انه سمع اسماء بنت ابي بكر رضى الله عنهما تقول قام رسول الله صلى الله عليه وسلم خطيبا فذكر فتنة القبر التي يفتتن فيها المرء، فلما ذكر ذلك ضج المسلمون ضجة
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সাথীরা এতটুকু মাত্র দূরে যায় যে, সে তখনও তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। [1] এ সময় দু’জন ফেরেশ্তা তার নিকট এসে তাকে বসান এবং তাঁরা বলেন, এ ব্যক্তি অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তুমি কী বলতে? তখন মু’মিন ব্যক্তি বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহ্র বান্দা এবং তাঁর রাসূল। তখন তাঁকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থান স্থলটির দিকে নযর কর, আল্লাহ্ তোমাকে তার বদলে জান্নাতের একটি অবস্থান স্থল দান করেছেন। তখন সে দু’টি স্থলের দিকেই দৃষ্টি করে দেখবে। কাতাদাহ (রহ.) বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, সে ব্যক্তির জন্য তাঁর কবর প্রশস্ত করে দেয়া হবে। অতঃপর তিনি (কাতাদাহ) পুনরায় আনাস (রাঃ)-এর হাদীসের বর্ণনায় ফিরে আসেন। তিনি [(আনাস) (রাঃ)] বলেন, আর মুনাফিক বা কাফির ব্যক্তিকেও প্রশ্ন করা হবে তুমি এ ব্যক্তি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কী বলতে? সে উত্তরে বলবে, আমি জানি না। লোকেরা যা বলত আমি তা-ই বললাম। তখন তাকে বলা হবে, তুমি না নিজে জেনেছ, না তিলাওয়াত করে শিখেছ। আর তাকে লোহার মুগুর দ্বারা এমনভাবে আঘাত করা হবে, যার ফলে সে এমন বিকট চিৎকার করে উঠবে যে, দু’ জাতি (মানুষ ও জ্বিন) ছাড়া তার আশপাশের সকলেই তা শুনতে পাবে। (১৩৩৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عياش بن الوليد، حدثنا عبد الاعلى، حدثنا سعيد، عن قتادة، عن انس بن مالك رضى الله عنه انه حدثهم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ان العبد اذا وضع في قبره، وتولى عنه اصحابه، وانه ليسمع قرع نعالهم، اتاه ملكان فيقعدانه فيقولان ما كنت تقول في الرجل لمحمد صلى الله عليه وسلم. فاما المومن فيقول اشهد انه عبد الله ورسوله. فيقال له انظر الى مقعدك من النار، قد ابدلك الله به مقعدا من الجنة، فيراهما جميعا ". قال قتادة وذكر لنا انه يفسح في قبره. ثم رجع الى حديث انس قال " واما المنافق والكافر فيقال له ما كنت تقول في هذا الرجل فيقول لا ادري، كنت اقول ما يقول الناس. فيقال لا دريت ولا تليت. ويضرب بمطارق من حديد ضربة، فيصيح صيحة يسمعها من يليه، غير الثقلين
আবূ আইয়ুব [আনসারী (রা.)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) সূর্য ডুবে যাওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন। তখন তিনি একটি আওয়াজ শুনতে পেয়ে বলেনঃ ইয়াহূদীদের কবরে আযাব দেয়া হচ্ছে। (এটা আযাব দেয়ার বা আযাবের ফেরেশ্তাগণের বা ইয়াহূদীদের আওয়ায।) [ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন] নযর (রহ.).....আবূ আইয়ুব (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে (অনুরূপ) বলেছেন। (মুসলিম ৫১/১৭, হাঃ ২৮৬৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا يحيى، حدثنا شعبة، قال حدثني عون بن ابي جحيفة، عن ابيه، عن البراء بن عازب، عن ابي ايوب رضى الله عنهم قال خرج النبي صلى الله عليه وسلم وقد وجبت الشمس، فسمع صوتا فقال " يهود تعذب في قبورها ". وقال النضر اخبرنا شعبة، حدثنا عون، سمعت ابي، سمعت البراء، عن ابي ايوب رضى الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم
খালিদ ইবনু সাঈদ ইবনু ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কবরের শাস্তি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছেন। (৬৩৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا معلى، حدثنا وهيب، عن موسى بن عقبة، قال حدثتني ابنة خالد بن سعيد بن العاص، انها سمعت النبي صلى الله عليه وسلم وهو يتعوذ من عذاب القبر