Loading...

Loading...
বইসমূহ
১৫৮ হাদিসসমূহ
উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যার ইন্তিকাল হলে তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা তাকে তিনবার, পাঁচবার অথবা তোমরা প্রয়োজনয় মনে করলে তার চেয়ে অধিকবার গোসল দাও। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাবে। আমরা শেষ করে তাঁকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানালাম। তখন তিনি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোমর হতে তাঁর চাদর খুলে দিয়ে বললেনঃ এটি তার ভিতরের কাপড় হিসেবে পরিয়ে দাও। (১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عبد الرحمن بن حماد، اخبرنا ابن عون، عن محمد، عن ام عطية، قالت توفيت بنت النبي صلى الله عليه وسلم فقال لنا " اغسلنها ثلاثا او خمسا او اكثر من ذلك ان رايتن، فاذا فرغتن فاذنني ". فلما فرغنا اذناه فنزع من حقوه ازاره وقال " اشعرنها اياه
উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) বলেছেন, তিনি ইরশাদ করেছিলেনঃ তাঁকে তিন, পাঁচ, সাত বা প্রয়োজনে তার চেয়ে অধিকবার গোসল দাও। হাফসাহ (রহ.) বলেন, উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) বলেন, আমরা তাঁর মাথার চুলে তিনটি গোছা (বেনী) [1] বানিয়ে দিলাম। (১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৭৭ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৮৫ শেষাংশ)
حدثنا حامد بن عمر، حدثنا حماد بن زيد، عن ايوب، عن محمد، عن ام عطية، قالت توفيت احدى بنات النبي صلى الله عليه وسلم فخرج، فقال " اغسلنها ثلاثا او خمسا او اكثر من ذلك ان رايتن بماء وسدر، واجعلن في الاخرة كافورا او شييا من كافور، فاذا فرغتن فاذنني ". قالت فلما فرغنا اذناه، فالقى الينا حقوه فقال " اشعرنها اياه ". وعن ايوب، عن حفصة، عن ام عطية رضى الله عنهما بنحوه وقالت انه قال " اغسلنها ثلاثا او خمسا او سبعا او اكثر من ذلك ان رايتن ". قالت حفصة قالت ام عطية رضى الله عنها وجعلنا راسها ثلاثة قرون
উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) বলেছেন, তিনি ইরশাদ করেছিলেনঃ তাঁকে তিন, পাঁচ, সাত বা প্রয়োজনে তার চেয়ে অধিকবার গোসল দাও। হাফসাহ (রহ.) বলেন, উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) বলেন, আমরা তাঁর মাথার চুলে তিনটি গোছা (বেনী) [1] বানিয়ে দিলাম। (১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৭৭ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৮৫ শেষাংশ)
حدثنا حامد بن عمر، حدثنا حماد بن زيد، عن ايوب، عن محمد، عن ام عطية، قالت توفيت احدى بنات النبي صلى الله عليه وسلم فخرج، فقال " اغسلنها ثلاثا او خمسا او اكثر من ذلك ان رايتن بماء وسدر، واجعلن في الاخرة كافورا او شييا من كافور، فاذا فرغتن فاذنني ". قالت فلما فرغنا اذناه، فالقى الينا حقوه فقال " اشعرنها اياه ". وعن ايوب، عن حفصة، عن ام عطية رضى الله عنهما بنحوه وقالت انه قال " اغسلنها ثلاثا او خمسا او سبعا او اكثر من ذلك ان رايتن ". قالت حفصة قالت ام عطية رضى الله عنها وجعلنا راسها ثلاثة قرون
وَقَالَ ابْنُ سِيرِينَ لاَ بَأْسَ أَنْ يُنْقَضَ شَعَرُ الْمَيِّتِ ইবনু সীরীন (রহ.) বলেছেন, মৃতের চুল খুলে দেয়ায় কোন দোষ নেই। ১২৬০. উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যার মাথার চুল তিনটি বেণী করেছেন। তাঁরা তা খুলেছেন, অতঃপর তা ধুয়ে তিনটি বেনী করেছেন। (১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد، حدثنا عبد الله بن وهب، اخبرنا ابن جريج، قال ايوب وسمعت حفصة بنت سيرين، قالت حدثتنا ام عطية رضى الله عنها انهن جعلن راس بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثة قرون نقضنه ثم غسلنه ثم جعلنه ثلاثة قرون
وَقَالَ الْحَسَنُ الْخِرْقَةُ الْخَامِسَةُ تَشُدُّ بِهَا الْفَخِذَيْنِ وَالْوَرِكَيْنِ تَحْتَ الدِّرْعِ হাসান (রহ.) বলেছেন, পঞ্চম বস্ত্রখন্ড [1] দ্বারা কামীসের নীচে উরুদ্বয় ও নিতম্বদ্বয় বেঁধে দিবে। ১২৬১. আইয়ূব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু সীরীন (রহ.)-কে বলতে শুনেছি যে, আনসারী মহিলা উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) আগমন করলেন, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট বাই‘আতকারীদের একজন। তিনি তাঁর এক ছেলেকে দেখার জন্য সাথে বাসরায় এসেছিলেন, কিন্তু তিনি তাকে পাননি। তখন তিনি আমাদের হাদীস শুনালেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন, তখন আমরা তাঁর কন্যাকে গোসল দিচ্ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা তাঁকে তিনবার, পাঁচবার অথবা প্রয়োজনে তার চেয়ে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও। আর শেষবারে কর্পুর দাও। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাবে। তিনি বলেন, আমরা যখন শেষ করলাম, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদর আমাদের দিকে নিক্ষেপ করে বললেনঃ এটা তাঁর শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে দাও। উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.)-এর অধিক বর্ণনা করেননি। [আইয়ূব (রহ.) বলেন] আমি জানি না, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কোন কন্যা ছিলেন? তিনি বলেন, أشعار অর্থ শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে দাও। ইবনু সীরীন (রহ.) মহিলা সম্পর্কে এভাবেই আদেশ করতেন যে, ভিতরের কাপড় শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে দিবে, ইজারের মত ব্যবহার করবে না। (১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد، حدثنا عبد الله بن وهب، اخبرنا ابن جريج، ان ايوب، اخبره قال سمعت ابن سيرين، يقول جاءت ام عطية رضى الله عنها امراة من الانصار من اللاتي بايعن، قدمت البصرة، تبادر ابنا لها فلم تدركه فحدثتنا قالت دخل علينا النبي صلى الله عليه وسلم ونحن نغسل ابنته فقال " اغسلنها ثلاثا او خمسا او اكثر من ذلك ان رايتن ذلك بماء وسدر، واجعلن في الاخرة كافورا، فاذا فرغتن فاذنني ". قالت فلما فرغنا القى الينا حقوه فقال " اشعرنها اياه ". ولم يزد على ذلك، ولا ادري اى بناته. وزعم ان الاشعار الففنها فيه، وكذلك كان ابن سيرين يامر بالمراة ان تشعر ولا توزر
উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যার মাথার চুল বেনী পাকিয়ে দিয়েছিলাম, অর্থাৎ তিনটি বেনী। ওয়াকী‘ (রহ.) বলেন, সুফিয়ান (রহ.) বলেছেন, মাথার সামনে একটি বেনী এবং দু’ পাশে দু’টি বেনী। (১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قبيصة، حدثنا سفيان، عن هشام، عن ام الهذيل، عن ام عطية رضى الله عنها قالت ضفرنا شعر بنت النبي صلى الله عليه وسلم. تعني ثلاثة قرون. وقال وكيع قال سفيان ناصيتها وقرنيها
উম্মু আতিয়্যাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কন্যাগণের একজনের ইন্তিকাল হলে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেনঃ তোমরা তাকে বরই পাতার পানি দিয়ে বিজোড় সংখ্যক তিনবার, পাঁচবার অথবা প্রয়োজনবোধ করলে আরও অধিকবার গোসল দাও। শেষবারে কর্পুর অথবা তিনি বলেছিলেন কিছু কর্পুর ব্যবহার করবে। তোমরা গোসল শেষ করে আমাকে জানাবে। আমরা শেষ করে তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদর আমাদের দিকে এগিয়ে দিলেন, আমরা তাঁর মাথার চুলগুলো তিনটি বেনী করে পিছনের দিকে ছেড়ে দিলাম। (১৬৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى بن سعيد، عن هشام بن حسان، قال حدثتنا حفصة، عن ام عطية رضى الله عنها قالت توفيت احدى بنات النبي صلى الله عليه وسلم فاتانا النبي صلى الله عليه وسلم فقال " اغسلنها بالسدر وترا ثلاثا او خمسا او اكثر من ذلك ان رايتن ذلك، واجعلن في الاخرة كافورا او شييا من كافور، فاذا فرغتن فاذنني ". فلما فرغنا اذناه، فالقى الينا حقوه، فضفرنا شعرها ثلاثة قرون والقيناها خلفها
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তিনটি ইয়ামানী সাহুলী সাদা সূতী বস্ত্র দ্বারা কাফন দেয়া হয়েছিল। তার মধ্যে কামীস এবং পাগড়ী ছিল না। (১২৭১, ১২৭২, ১২৭৩, ১২৮৭, মুসলিম ১১/১৩, হাঃ ৯৪১, আহমাদ ২৬০০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن مقاتل، اخبرنا عبد الله، اخبرنا هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة رضى الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كفن في ثلاثة اثواب يمانية بيض سحولية من كرسف، ليس فيهن قميص ولا عمامة
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আরাফাতে ওয়াকূফ অবস্থায় অকস্মাৎ তার উটনী হতে পড়ে যায়। এতে তাঁর ঘাড় মটকে গেল অথবা রাবী বলেছেন, তাঁর ঘাড় মটকে দিল। (যাতে সে মারা গেল)। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাঁকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু’ কাপড়ে তাঁকে কাফন দাও। তাঁকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তাঁর মস্তক আবৃত করবে না। কেননা, কিয়ামতের দিবসে সে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উত্থিত হবে। (১২৬৬, ১২৬৭, ১২৬৮, ১৮৩৯, ১৮৪৯, ১৮৫০, ১৮৫১, মুসলিম ১৫/১৪, হাঃ ১২০৬, আহমাদ ৩২৩০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو النعمان، حدثنا حماد بن زيد، عن ايوب، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس رضى الله عنهم قال بينما رجل واقف بعرفة اذ وقع عن راحلته فوقصته او قال فاوقصته قال النبي صلى الله عليه وسلم " اغسلوه بماء وسدر، وكفنوه في ثوبين، ولا تحنطوه ولا تخمروا راسه، فانه يبعث يوم القيامة ملبيا
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আরাফাতে ওয়াকূফ কালে অকস্মাৎ সে তার সওয়ারী হতে পড়ে যান। যার ফলে তাঁর ঘাড় মটকে গেল অথবা রাবী বলেন, ঘাড় মটকে দিল। (যাতে তিনি মারা গেলেন)। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাঁকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু’ কাপড়ে তাঁকে কাফন দাও; তাঁকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মস্তক আবৃত করবে না। কেননা, আল্লাহ্ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাঁকে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উত্থিত করবেন। (১২৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا قتيبة، حدثنا حماد، عن ايوب، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس رضى الله عنهما قال بينما رجل واقف مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بعرفة اذ وقع من راحلته فاقصعته او قال فاقعصته فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " اغسلوه بماء وسدر، وكفنوه في ثوبين، ولا تحنطوه ولا تخمروا راسه، فان الله يبعثه يوم القيامة ملبيا
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তির উট তার ঘাড় মটকে দিল। (ফলে সে মারা গেল)। সে সময় আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম। ঐ ব্যক্তি ছিল ইহরাম অবস্থায়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু’ কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মস্তক আবৃত করো না। কেননা, আল্লাহ্ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাকে মুলাবিব (অর্থাৎ ইহরামরত) অবস্থায় উত্থিত করবেন। (১২৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو النعمان، اخبرنا ابو عوانة، عن ابي بشر، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس رضى الله عنهم ان رجلا، وقصه بعيره، ونحن مع النبي صلى الله عليه وسلم وهو محرم فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اغسلوه بماء وسدر، وكفنوه في ثوبين، ولا تمسوه طيبا، ولا تخمروا راسه، فان الله يبعثه يوم القيامة ملبدا
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে আরাফাতে অবস্থান করছিলেন। সে তার সওয়ারী হতে পতিত হলেন। (পরবর্তী অংশের বর্ণনায়) আইয়ুব (রহ.) বলেন,فَوَقَصَتْهُ তার ঘাট মট্কে দিল। আর আমর (রহ.) বলেন,فَأَقْصَعَتْهُ তাকে দ্রুত মৃত্যুমুখে ঠেলে দিল। যার ফলে তিনি মারা গেলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাঁকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দু’ কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তাঁকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তাঁর মস্তকও আবৃত করবে না। কারণ, তাঁকে কিয়ামত দিবসে উত্থিত করা হবে এ অবস্থায় যে, আইয়ুব (রহ.) বলেছেন, ‘সে তালবিয়া পাঠ করছে’ আর ‘আমর (রহ.) বলেন, সে তালবিয়া পাঠরত। (১২৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، حدثنا حماد بن زيد، عن عمرو، وايوب، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس رضى الله عنهم قال كان رجل واقف مع النبي صلى الله عليه وسلم بعرفة فوقع عن راحلته قال ايوب فوقصته، وقال عمرو فاقصعته فمات فقال " اغسلوه بماء وسدر، وكفنوه في ثوبين، ولا تحنطوه ولا تخمروا راسه، فانه يبعث يوم القيامة قال ايوب يلبي، وقال عمرو ملبيا
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু উবাই (মুনাফিক সর্দার)-এর মৃত্যু হলে তার পুত্র (যিনি সাহাবী ছিলেন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললেন, আপনার জামাটি আমাকে দান করুন। আমি সেটা দিয়ে আমার পিতার কাফন পরাতে ইচ্ছা করি। আর আপনি তার জানাযা পড়বেন এবং তার জন্য মাগফিরাত কামনা করবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জামাটি তাঁকে দিয়ে দিলেন এবং বললেনঃ আমাকে খবর দিও, আমি তার জানাযা আদায় করব। তিনি তাঁকে খবর দিলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযা আদায়ের ইচ্ছা করলেন, তখন ‘উমার (রাঃ) তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, আল্লাহ্ কি আপনাকে মুনাফিকদের জানাযা আদায় করতে নিষেধ করেননি? তিনি বললেনঃ আমাকে তো দু’টির মধ্যে কোন একটি করার ইখ্তিয়ার দেয়া হয়েছে। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেনঃ (যার অর্থ) ‘‘আপনি তাদের (মুনাফিকদের) জন্য মাগফিরাত কামনা করুন বা মাগফিরাত কামনা না-ই করুন (একই কথা) আপনি যদি সত্তর বারও তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করেন; কখনো আল্লাহ্ তাদের ক্ষমা করবেন না-’’ (আত্তওবাঃ ৮০)। কাজেই তিনি তার জানাযা পড়লেন, অতঃপর নাযিল হলঃ (যার অর্থ) ‘‘তাদের কেউ মৃত্যুবরণ করলে আপনি তাদের জানাযা কক্ষণও আদায় করবেন না।’’(আত্তওবাঃ ৮৪) (৪৬৭০, ৪৬৭২, ৫৭৯৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، قال حدثنا يحيى بن سعيد، عن عبيد الله، قال حدثني نافع، عن ابن عمر رضى الله عنهما ان عبد، الله بن ابى لما توفي جاء ابنه الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله اعطني قميصك اكفنه فيه، وصل عليه واستغفر له، فاعطاه النبي صلى الله عليه وسلم قميصه فقال " اذني اصلي عليه ". فاذنه، فلما اراد ان يصلي عليه جذبه عمر رضى الله عنه فقال اليس الله نهاك ان تصلي على المنافقين فقال " انا بين خيرتين قال {استغفر لهم او لا تستغفر لهم ان تستغفر لهم سبعين مرة فلن يغفر الله لهم} ". فصلى عليه فنزلت {ولا تصل على احد منهم مات ابدا}
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মূতা যুদ্ধের অবস্থা বর্ণনায়) বললেনঃ যায়দ (রাঃ) পতাকা বহন করেছে অতঃপর শহীদ হয়েছে। অতঃপর জা’ফর (রাঃ) (পতাকা) হাতে নিয়েছে, সেও শহীদ হয়। অতঃপর ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) (পতাকা) ধারণ করে এবং সেও শহীদ হয়। এ খবর বলছিলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দু’ চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। অতঃপর খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ) পরামর্শ ছাড়াই (পতাকা) হাতে তুলে নেন এবং তাঁর দ্বারাই বিজয় লাভ হয়। (২৭৯৮, ৩০৬৩, ৩৬৩০, ৩৭৫৭, ৪২৬২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مالك بن اسماعيل، حدثنا ابن عيينة، عن عمرو، سمع جابرا رضى الله عنه قال اتى النبي صلى الله عليه وسلم عبد الله بن ابى بعد ما دفن فاخرجه، فنفث فيه من ريقه والبسه قميصه
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তিনখানা সুতী সাদা সাহুলী (ইয়ামানী) কাপড়ে কাফন দেয়া হয়েছিল, তার মধ্যে কামীস এবং পাগড়ী ছিল না। (১২৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا ابو نعيم، حدثنا سفيان، عن هشام، عن عروة، عن عايشة رضى الله عنها قالت كفن النبي صلى الله عليه وسلم في ثلاثة اثواب سحول كرسف، ليس فيها قميص ولا عمامة
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তিনখানা কাপড় দিয়ে কাফন দেয়া হয়েছিল, তাতে জামা ও পাগড়ী ছিল না। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (রহ.) বলেন, আবূ নু‘আইম (রহ.) ثَلاَثَةِ শব্দটি বলেননি। আর ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ওয়ালীদ (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায়ثَلاَثَةِ শব্দটি বলেছেন। (১২৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا مسدد، حدثنا يحيى، عن هشام، حدثني ابي، عن عايشة رضى الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كفن في ثلاثة اثواب، ليس فيها قميص ولا عمامة
‘আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তিনখানা সাদা সাহুলী কাপড় দিয়ে কাফন দেয়া হয়েছিল, যার মধ্যে কোন কামীস ও পাগড়ী ছিল না। (১২৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا اسماعيل، قال حدثني مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة رضى الله عنها ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كفن في ثلاثة اثواب بيض سحولية، ليس فيها قميص ولا عمامة
وَبِهِ قَالَ عَطَاءٌ وَالزُّهْرِيُّ وَعَمْرُو بْنُ دِينَارٍ وَقَتَادَةُ وَقَالَ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ الْحَنُوطُ مِنْ جَمِيعِ الْمَالِ وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ يُبْدَأُ بِالْكَفَنِ ثُمَّ بِالدَّيْنِ ثُمَّ بِالْوَصِيَّةِ وَقَالَ سُفْيَانُ أَجْرُ الْقَبْرِ وَالْغَسْلِ هُوَ مِنْ الْكَفَنِ আতা, যুহরী, ‘আমর ইবনু দ্বীনার এবং কাতাদাহ (রহ.) এ কথা বলেছেন। আমর ইবনু দ্বীনার (রহ.) আরও বলেছেন, সুগন্ধিও সমস্ত সম্পদ হতে দিতে হবে। ইব্রাহীম (রহ.) বলেছেন, (সম্পদ হতে) প্রথমে কাফন অতঃপর ঋণ পরিশোধ, অতঃপর ওয়াসিয়াত পূরণ করতে হবে। সুফ্ইয়ান (রহ.) বলেছেন, কবর ও গোসল দেয়ার খরচও কাফনের শামিল। ১২৭৪. সা‘দ (রহ.)-এর পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ)-কে খাবার দেয়া হল। তখন তিনি বললেন, মুস্‘আব ইবনু উমাইর (রাঃ) শহীদ হলেন আর তিনি আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন অথচ তাঁর কাফনের জন্য একটি চাদর ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। হামযাহ (রাঃ) বা অপর এক ব্যক্তি শহীদ হলেন, তিনিও ছিলেন আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, অথচ তাঁর কাফনের জন্যও একটি চাদর ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়নি। তাই আমার ভয় হয়, আমাদের নেক আমলের বিনিময় আমাদের এ পার্থিব জীবনে পূর্বেই দেয়া হল। অতঃপর তিনি কাঁদতে লাগলেন। (১২৭৫, ৪০৪৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا احمد بن محمد المكي، حدثنا ابراهيم بن سعد، عن سعد، عن ابيه، قال اتي عبد الرحمن بن عوف رضى الله عنه يوما بطعامه فقال قتل مصعب بن عمير وكان خيرا مني فلم يوجد له ما يكفن فيه الا بردة، وقتل حمزة او رجل اخر خير مني فلم يوجد له ما يكفن فيه الا بردة، لقد خشيت ان يكون قد عجلت لنا طيباتنا في حياتنا الدنيا، ثم جعل يبكي
ইব্রাহীম (রহ.) হতে বর্ণিত, একদা ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ)-কে খাদ্য পরিবেশন করা হল, তখন তিনি সিয়াম পালন করছিলেন। তিনি বললেন, মুস‘আব ইবনু উমাইর (রাঃ) শহীদ হলেন। তিনি ছিলেন, আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। (অথচ) তাঁকে এমন একটি চাদর দিয়ে কাফন দেয়া হল যে, তাঁর মাথা ঢাকলে তাঁর দু’ পা বাইরে থাকে আর দু’ পা ঢাকলে মাথা বাইরে থাকে। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে পড়ে, তিনি আরও বলেছিলেন, হামযাহ (রাঃ) শহীদ হলেন। তিনিও ছিলেন আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। অতঃপর আমাদের জন্য পৃথিবীতে অত্যধিক প্রাচুর্য দেয়া হয়েছে। আশঙ্কা হয় যে, আমাদের নেক ‘আমলগুলো (এর বিনিময়) আমাদের পূর্বেই দিয়ে দেয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি ক্রন্দন করতে লাগলেন, এমনকি খাদ্যও বর্জন করলেন। (১২৭৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا محمد بن مقاتل، اخبرنا عبد الله، اخبرنا شعبة، عن سعد بن ابراهيم، عن ابيه، ابراهيم ان عبد الرحمن بن عوف رضى الله عنه اتي بطعام وكان صايما فقال قتل مصعب بن عمير وهو خير مني، كفن في بردة، ان غطي راسه بدت رجلاه، وان غطي رجلاه بدا راسه واراه قال وقتل حمزة وهو خير مني، ثم بسط لنا من الدنيا ما بسط او قال اعطينا من الدنيا ما اعطينا وقد خشينا ان تكون حسناتنا عجلت لنا، ثم جعل يبكي حتى ترك الطعام
খাব্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে মাদ্বীনায় হিজরত করেছিলাম, এতে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি কামনা করেছিলাম। আমাদের প্রতিদান আল্লাহ্র নিকটে নির্ধারিত হয়ে আছে। অতঃপর আমাদের মধ্যে অনেকে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা তাঁদের বিনিময়ের কিছুই ভোগ করে যাননি। তাঁদেরই একজন মুস‘আব ইবনু উমাইর (রাঃ) আর আমাদের মধ্যে অনেকে এমনও আছেন যাঁদের প্রতিদানের ফল পরিপক্ক হয়েছে। আর তাঁরা তা ভোগ করছেন। মুস‘আব (রাঃ) উহুদের দিন শহীদ হয়েছিলেন। আমরা তাঁকে কাফন দেয়ার জন্য এমন একটি চাদর ব্যতীত আর কিছুই পেলাম না; যা দিয়ে তাঁর মস্তক আবৃত করলে তাঁর দু’ পা বাইরে থাকে আর তাঁর দু’ পা আবৃত করলে তাঁর মস্তক বাইরে থাকে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মস্তক আবৃত করতে এবং তাঁর দু’খানা পায়ের উপর ইয্খির (ঘাস) দিয়ে দিতে আমাদের নির্দেশ দিলেন। (৩৮৯৭, ৩৯১৩, ৩৯১৪, ৪০৪৭, ৪০৮২, ৬৪৩২, ৬৪৪৮, মুসলিম ১১/১৩, হাঃ ৯৪০, আহমাদ ২১১৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حدثنا عمر بن حفص بن غياث، حدثنا ابي، حدثنا الاعمش، حدثنا شقيق، حدثنا خباب رضى الله عنه قال هاجرنا مع النبي صلى الله عليه وسلم نلتمس وجه الله، فوقع اجرنا على الله، فمنا من مات لم ياكل من اجره شييا منهم مصعب بن عمير، ومنا من اينعت له ثمرته فهو يهدبها. قتل يوم احد، فلم نجد ما نكفنه الا بردة اذا غطينا بها راسه خرجت رجلاه، واذا غطينا رجليه خرج راسه، فامرنا النبي صلى الله عليه وسلم ان نغطي راسه، وان نجعل على رجليه من الاذخر