Loading...

Loading...
বইসমূহ
৬০ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ১৯. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে রোযাদারের চুমু খাওয়ার বিষয় প্রশ্ন করা হয়। তিনি বৃদ্ধের জন্য অনুমতি দেন। আর যুবকের জন্য মাকরূহ বলেন।
وحدثني عن مالك، عن زيد بن اسلم، عن عطاء بن يسار، ان عبد الله بن عباس، سيل عن القبلة، للصايم فارخص فيها للشيخ وكرهها للشاب
রেওয়ায়ত ২০. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) রোযাদারের জন্য চুমু খাওয়া এবং স্ত্রীর সহিত মিলিত হওয়াকে নিষেধ করিতেন।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان ينهى عن القبلة، والمباشرة، للصايم
রেওয়ায়ত ২১. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয় বৎসরে রমযান মাসে মক্কার দিকে সফরে বাহির হইলেন এবং রোযা রাখিলেন। কাদীদ নামক স্থানে পৌছিলে পর তিনি রোযা ভঙ্গ করিলেন এবং তাহার সাথে অন্যরাও রোযা ভঙ্গ করিলেন। আর তাহারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হুকুম হইতে যাহা সদ্য অতঃপর যাহা অতি সদ্য তাহা গ্রহণ করিতেন। (অর্থাৎ যে কোন নূতন হুকুম পাওয়া বা শোনামাত্রই গ্রহণ করিতেন)।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود، عن عبد الله بن عباس، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج الى مكة عام الفتح في رمضان فصام حتى بلغ الكديد ثم افطر فافطر الناس وكانوا ياخذون بالاحدث فالاحدث من امر رسول الله صلى الله عليه وسلم
রেওয়ায়ত ২২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সাহাবী হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিজয় বৎসর তাহার সফরে সাহাবীগণকে রোযা খুলিতে নির্দেশ দিলেন এবং বলিলেন, তোমরা তোমাদের শক্রদের জন্য শক্তি সঞ্চয় কর, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে রোযা রাখিলেন। আবু বকর ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন তিনি বলিয়াছেনঃ আমি আরজ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিজের মাথায় পানি ঢালিতে দেখিয়াছি, পিপাসায় অথবা প্রচণ্ড গরমের কারণে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলা হইল, আপনি রোযা রাখিয়াছেন বলিয়া একদল লোক (এখনও) রোযা রাখিয়াছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাদীদে পৌছিলেন, তখন তিনি পেয়ালা চাহিলেন এবং (পানি অথবা দুধ) পান করিলেন, তারপর সাহাবীগণ রোযা ভঙ্গ করিলেন।
وحدثني عن مالك، عن سمى، مولى ابي بكر بن عبد الرحمن عن ابي بكر بن عبد الرحمن، عن بعض، اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ان رسول الله صلى الله عليه وسلم امر الناس في سفره عام الفتح بالفطر وقال " تقووا لعدوكم " . وصام رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال ابو بكر قال الذي حدثني لقد رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم بالعرج يصب الماء على راسه من العطش او من الحر ثم قيل لرسول الله صلى الله عليه وسلم يا رسول الله ان طايفة من الناس قد صاموا حين صمت - قال - فلما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم بالكديد دعا بقدح فشرب فافطر الناس
রেওয়ায়ত ২৩. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেনঃ আমরা রমযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফর করিয়াছি। অতঃপর কোন রোযাদার রোযাভঙ্গকারীর উপর দোষারোপ করেন নাই এবং কোন রোযাভঙ্গকারীও কোন রোযাদারের উপর দোষারোপ করেন নাই।
وحدثني عن مالك، عن حميد الطويل، عن انس بن مالك، انه قال سافرنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان فلم يعب الصايم على المفطر ولا المفطر على الصايم
রেওয়ায়ত ২৪. হামযা ইবন আমর আসলামী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি প্রায়ই রোযা রাখি। আমি কি সফরে রোযা রাখিব? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁহাকে বলিলেনঃ তুমি ইচ্ছা করিলে রোযা রাখ, আর ইচ্ছা করিলে রোযা ছাড়।
وحدثني يحيى، عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، ان حمزة بن عمرو الاسلمي، قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم يا رسول الله اني رجل اصوم افاصوم في السفر فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " ان شيت فصم وان شيت فافطر
রেওয়ায়ত ২৫. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত- আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) রমযানে প্রবাসে রোযা রাখতেন না।
وحدثني عن مالك، عن نافع، ان عبد الله بن عمر، كان لا يصوم في السفر
রেওয়ায়ত ২৬. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) বলেনঃ উরওয়াহ (রহঃ) রমযানে সফর করিতেন, আমরাও তাহার সাথে সফর করিতাম। অতঃপর উরওয়াহ (রহঃ) রোযা রাখিতেন কিন্তু আমরা রোযা রাখিতাম না, তিনি আমাদিগকে রোযা রাখিতে বলিতেন না।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، انه كان يسافر في رمضان ونسافر معه فيصوم عروة ونفطر نحن فلا يامرنا بالصيام
রেওয়ায়ত ২৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) রমযানে যদি সফরে থাকিতেন, তবে তিনি যদি জানিতেন যে, তিনি মদীনায় দিনের প্রথম দিকে প্রবেশ করিবেন, তবে তিনি রোযা অবস্থায় (মদীনায়) প্রবেশ করিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি রমযানে সফরে থাকে অতঃপর জানিতে পারে যে, সে নিজের পরিজনের মধ্যে দিনের প্রথমদিকে প্রবেশ করিবে এবং প্রবেশ করার পূর্বে ফজর হয়, তবে সে রোযা অবস্থায় প্রবেশ করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আর যে ব্যক্তি রমযানে সফরে বাহির হইতে ইচ্ছা করে এবং স্বীয় (আবাস) ভূমিতে থাকিতেই ফজর হয়, তাহার বাহির হওয়ার পূর্বে সেই দিনের রোযা রাখিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি রোযা না রাখা অবস্থায় সফর হইতে ফিরিয়াছে, আর তাহার স্ত্রীও রোযা রাখে নাই (ঋতুমতী বলিয়া), এখন রমযানের মধ্যে ঋতু হইতে পাক হইয়াছে, তবে তাহার স্বামী ইচ্ছা করিলে (রোযার দিনে) তাহার সহিত সহবাস করিতে পারে (কারণ উভয়ে রোযা অবস্থায় নহে)।
حدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه ان عمر بن الخطاب، كان اذا كان في سفر في رمضان فعلم انه داخل المدينة من اول يومه دخل وهو صايم . قال يحيى قال مالك من كان في سفر فعلم انه داخل على اهله من اول يومه وطلع له الفجر قبل ان يدخل دخل وهو صايم . قال مالك واذا اراد ان يخرج في رمضان فطلع له الفجر وهو بارضه قبل ان يخرج فانه يصوم ذلك اليوم . قال مالك في الرجل يقدم من سفره وهو مفطر وامراته مفطرة حين طهرت من حيضها في رمضان ان لزوجها ان يصيبها ان شاء
রেওয়ায়ত ২৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- এক ব্যক্তি রমযানের রোযা ভঙ্গ করিয়াছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে একটি ক্রীতদাস আযাদ করার নির্দেশ দিলেন অথবা একনাগাড়ে দুই মাস রোযা রাখার অথবা ষাটজন মিসকিনকে আহার দেওয়ার জন্য বলিলেন। লোকটি বলিলঃ আমি সামর্থ রাখি না। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক টুকরি খেজুর আনা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন ইহা গ্রহণ কর এবং সদকা কর। লোকটি বলিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমা হইতে অধিক মুহতাজ আমি পাই না। (এই কথা শুনিয়া) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসিলেন, এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনের দন্ত মুবারক প্রকাশিত হইল। অতঃপর বলিলেনঃ ইহা তুমি খাও।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، عن حميد بن عبد الرحمن بن عوف، عن ابي هريرة، ان رجلا، افطر في رمضان فامره رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يكفر بعتق رقبة او صيام شهرين متتابعين او اطعام ستين مسكينا . فقال لا اجد . فاتي رسول الله صلى الله عليه وسلم بعرق تمر . فقال " خذ هذا فتصدق به " . فقال يا رسول الله ما احد احوج مني . فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى بدت انيابه ثم قال " كله
রেওয়ায়ত ২৯. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, জনৈক বেদুঈন বুক চাপড়াইতে চাপড়াইতে এবং চুল টানিতে টানিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসিল। সে বলিতেছিলঃ (পুণ্য হইতে) দূরবর্তী ধ্বংস হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ সে কি? সে বলিলঃ আমি স্ত্রীর সহিত রমযানে সহবাস করিয়াছি অথচ আমি রোযাদার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইহা শুনিয়া) বলিলেনঃ তুমি একটি গোলাম আযাদ করার শক্তি রাখ কি? সে বলিলঃ না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ একটি উট হাদয় স্বরূপ পাঠাইবার সামর্থ রাখ কি? সে বলিলঃ না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তুমি বস। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক টুকরি খেজুর আনা হইল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ ইহা লও এবং সদকা কর। লোকটি বলিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমা অপেক্ষা অধিক মুহতাজ কাহাকেও আমি পাই না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ ইহা তুমি খাও এবং স্ত্রী সহবাসের কাফফারাস্বরূপ একদিন রোযা রাখ। মালিক (রহঃ) বলেন, আতা খোরাসানী (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিলাম, সেই টুকরিতে কত খেজুর ছিল? তিনি বলিলেনঃ পনের ছা’ হইতে বিশ ছা’ পর্যন্ত।[1]ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি আহলে ইলমকে (বিজ্ঞ উলামা) বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি রমযানের কাযা (করিতে গিয়া) দিনে তাহার স্ত্রীর সহিত সহবাস অথবা অন্য কারণে রোযা ভঙ্গ করিয়া ফেলে, তাহার উপর কাফফারা (ওয়াজিব) হইবে না। যে কাফফারার কথা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে বর্ণিত হইয়াছে, উহা সেই ব্যক্তি সম্বন্ধে যে ব্যক্তি রমযান মাসে আপন স্ত্রীর সহিত দিনে সহবাস করিয়াছে। অবশ্য সেই ব্যক্তির উপর সেই দিনের কাযা (ওয়াজিব) হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহাই সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় যাহা আমি এই ব্যাপারে শুনিয়াছি।
وحدثني عن مالك، عن عطاء بن عبد الله الخراساني، عن سعيد بن المسيب، انه قال جاء اعرابي الى رسول الله صلى الله عليه وسلم يضرب نحره وينتف شعره ويقول هلك الابعد . فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " وما ذاك " . فقال اصبت اهلي وانا صايم في رمضان . فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم " هل تستطيع ان تعتق رقبة " . فقال لا . فقال " هل تستطيع ان تهدي بدنة " . قال لا . قال " فاجلس " . فاتي رسول الله صلى الله عليه وسلم بعرق تمر فقال " خذ هذا فتصدق به " . فقال ما احد احوج مني . فقال " كله وصم يوما مكان ما اصبت " . قال مالك قال عطاء فسالت سعيد بن المسيب كم في ذلك العرق من التمر فقال ما بين خمسة عشر صاعا الى عشرين
রেওয়ায়ত ৩০. নাফি' (রহঃ) বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) সিঙ্গি লাগাইতেন অথচ তিনি রোযাদার। তিনি বলেনঃ অতঃপর তিনি উহা ছাড়িয়া দেন। তৎপর তিনি যখন রোযা রাখিতেন, ইফতার না করা পর্যন্ত সিঙ্গি লাগাইতেন না।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، انه كان يحتجم وهو صايم - قال - ثم ترك ذلك بعد فكان اذا صام لم يحتجم حتى يفطر
রেওয়ায়ত ৩১. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস ও আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) উভয়ে সিঙ্গি লাগাইতেন অথচ তাহারা রোযাদার।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، ان سعد بن ابي وقاص، وعبد الله بن عمر، كانا يحتجمان وهما صايمان
রেওয়ায়ত ৩২. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি সিঙ্গি লাগাইতেন অথচ তিনি রোযাদার। অতঃপর এই কারণে রোযা ভঙ্গ করিতেন না। হিশাম বলেন, আমি তাহাকে রোযাদার অবস্থা ছাড়া কখনো সিঙ্গি লাগাইতে দেখি নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ রোযাদারের সিঙ্গি লাগান মাকরূহ নহে কিন্তু দুর্বল হইয়া পড়ার ভয় হইলে মাকরূহ, দুর্বল না হইলে ইহা মাকরূহ হইবে না। আর যদি কোন ব্যক্তি রমযানে সিঙ্গি লাগায়, অতঃপর রোযা ভঙ্গ করা হইতে বিরত থাকে, আমি তাহার জন্য কোন কিছু (লাগিবে বলিয়া) মনে করি না এবং যেদিন সিঙ্গি লাগাইয়াছে সেই দিনের রোযা কাযা করার হুকুমও করি না। কেননা রোযার ক্ষতির আশংকায় রোযাদারের জন্য সিঙ্গি লাগান মাকরূহ করা হইয়াছে। ফলে যে ব্যক্তি লাগাইয়াছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত রোযা ইফতার করা হইতে বিরত রহিয়াছে আমি তাহার জন্য কোন দোষ মনে করি না এবং তাহার উপর সেই দিনের (রোযার) কাযাও প্রয়োজন হইবে না।
وحدثني عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، انه كان يحتجم وهو صايم ثم لا يفطر . قال وما رايته احتجم قط الا وهو صايم . قال مالك لا تكره الحجامة للصايم الا خشية من ان يضعف ولولا ذلك لم تكره ولو ان رجلا احتجم في رمضان ثم سلم من ان يفطر لم ار عليه شييا ولم امره بالقضاء لذلك اليوم الذي احتجم فيه لان الحجامة انما تكره للصايم لموضع التغرير بالصيام فمن احتجم وسلم من ان يفطر حتى يمسي فلا ارى عليه شييا وليس عليه قضاء ذلك اليوم
রেওয়ায়ত ৩৩. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ আশুরা দিবস এমন একটি দিবস ছিল, যেই দিবসে জাহিলিয়া যুগে কুরাইশগণ রোযা রাখিত। জাহিলিয়া যুগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও সেই দিবসে রোযা রাখতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আসিলে পর তিনি সেই রোযা রাখলেন এবং লোকদিগকেও সেই দিনের রোযা রাখতে হুকুম করিলেন। অতঃপর যখন রমযানের রোযা ফরয হইল, উহাই ফরয হিসাবে রহিল। আশুরা দিবসের রোযা ছাড়িয়া দেওয়া হইল। অতঃপর যে ইচ্ছা করিত ঐ দিবসে রোযা রাখিত, আর যে ইচ্ছা করিত না সে উহা ছাড়িয়া দিত।
حدثني يحيى، عن مالك، عن هشام بن عروة، عن ابيه، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها قالت كان يوم عاشوراء يوما تصومه قريش في الجاهلية وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصومه في الجاهلية فلما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة صامه وامر بصيامه فلما فرض رمضان كان هو الفريضة وترك يوم عاشوراء فمن شاء صامه ومن شاء تركه
রেওয়ায়ত ৩৪. হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি হজ্জের সালে[1] আশুরা দিবসে মুয়াবিয়া ইবন আবু সুফইয়ান (রাঃ)-কে মিম্বরের উপর বলিতে শুনিয়াছেন, হে মদীনাবাসী! তোমাদের আলিমগণ কোথায়? আমি এই দিবস সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছি ইহা আশুরা দিবস; তোমাদের উপর এই (দিবসের) রোযা ফরয করা হয় নাই। আমি রোযা রাখিয়াছি, তোমরা যে ইচ্ছা কর রোযা রাখিতে পার, আর যাহার ইচ্ছা রোযা ছাড়িয়া দাও।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن حميد بن عبد الرحمن بن عوف، انه سمع معاوية بن ابي سفيان، يوم عاشوراء عام حج وهو على المنبر يقول يا اهل المدينة اين علماوكم سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لهذا اليوم " هذا يوم عاشوراء ولم يكتب عليكم صيامه وانا صايم فمن شاء فليصم ومن شاء فليفطر
রেওয়ায়ত ৩৫. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) হারিস ইবন হিশাম (রাঃ)-এর নিকট খবর পাঠাইয়াছেন, কাল আশুরা দিবস, তুমি নিজেও রোযা রাখ এবং পরিবার-পরিজনকেও রোযা রাখিতে বল।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان عمر بن الخطاب، ارسل الى الحارث بن هشام ان غدا، يوم عاشوراء فصم وامر اهلك ان يصوموا
রেওয়ায়ত ৩৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই দিবসে রোযা নিষেধ করিয়াছেন- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن محمد بن يحيى بن حبان، عن الاعرج، عن ابي هريرة، . ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن صيام يومين يوم الفطر ويوم الاضحى
রেওয়ায়ত ৩৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি আহলে ইলমকে (বিজ্ঞ উলামা) বলিতে শুনিয়াছেন, সর্বদা রোযা রাখতে কোন দোষ নাই, যদি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দিবসে রোযা রাখিতে নিষেধ করিয়াছেন সেই সব দিবসে রোযা রাখা হইতে বিরত থাকে। আর সেই সব দিবস হইল- মিনা-এর দিনগুলি, ফিতর ও আযহা দিবস। আমাদের নিকট এই বিষয়ে যাহা পৌছিয়াছে এবং এই ব্যাপারে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহা হইতেছে সর্বাপেক্ষা আমার পছন্দনীয়।
وحدثني عن مالك، انه سمع اهل العلم، يقولون لا باس بصيام الدهر اذا افطر الايام التي نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صيامها وهي ايام منى ويوم الاضحى ويوم الفطر فيما بلغنا . قال وذلك احب ما سمعت الى في ذلك
রেওয়ায়ত ৩৮. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনবরত রাত্রেও কিছু না খাইয়া রেযা রাখিতে নিষেধ করিয়াছেন। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি যে অনবরত রোযা রাখেন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আমি অবশ্য তোমাদের মত নহি। আমাকে আহার ও পানীয় দেওয়া হয়।
حدثني يحيى، عن مالك، عن نافع، عن عبد الله بن عمر، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الوصال فقالوا يا رسول الله فانك تواصل فقال " اني لست كهييتكم اني اطعم واسقى