Loading...

Loading...
বইসমূহ
৫২ হাদিসসমূহ
রেওয়ায়ত ২২. আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিতেনঃ যে সম্পদের যাকাত আদায় করা হয় নাই, কিয়ামতের দিন সেই সম্পদ এক সাদা বর্ণের মাথাওয়ালা সাপের রূপ ধারণ করবে। উহার চোখের উপর কাল দাগ হইবে এবং আপন মালিককে খুঁজিতে থাকিবে। শেষে তাহাকে তালাশ করিয়া বাহির করিবে এবং বলিবে, আমি তোমারই সম্পত্তি, যাহার যাকাত তুমি আদায় কর নাই।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن دينار، عن ابي صالح السمان، عن ابي هريرة، انه كان يقول من كان عنده مال لم يود زكاته مثل له يوم القيامة شجاعا اقرع له زبيبتان يطلبه حتى يمكنه يقول انا كنزك
রেওয়ায়ত ২৩. মালিক (রহঃ) উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর যাকাত সম্পৰ্কীয় পত্রটি পাঠ করিয়াছিলেন। ইহাতে নিম্নরূপ বিবরণ লিখিত ছিলঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। যাকাত সম্পর্কে এই পত্রটি লিখিত, (পাঁচ হইতে) চব্বিশ পর্যন্ত উটে প্রতি পাঁচটিতে একটি ছাগল ধার্য হইবে। চব্বিশ হইতে পয়ত্রিশ পর্যন্ত উটে একটি এক বৎসর বয়সী উষ্ট্রী ধার্য হইবে। এক বৎসর বয়সের উষ্ট্রী না থাকিলে দুই বৎসর বয়সের একটি উষ্ট্রী গ্রহণ করা যাইবে। পঁয়ত্রিশ হইতে পয়তাল্লিশটি পর্যন্ত দুই বৎসর বয়সের একটি উষ্ট্রী ধার্য হইবে। পঁয়তাল্লিশ হইতে ষাট পর্যন্ত তিন বৎসর বয়সের একটি উষ্ট্রী ধার্য হইবে। ষাট হইতে-পঁচাত্তর পর্যন্ত সংখ্যায় চার বৎসর বয়সের একটি উষ্ট্রী ধার্য হইবে। পঁচাত্তর হইতে নব্বই পর্যন্ত সংখ্যায় দুই বছর বয়সের দুইটি উষ্ট্রী ধার্য হইবে। নব্বই হইতে একশত বিশটি পর্যন্ত উটে তিন বৎসর বয়সের দুইটি উষ্ট্রী ধার্য হইবে। একশত বিশের উর্ধ্বে প্রতি চল্লিশটিতে দুই বৎসর বয়সের একটি উষ্ট্রী এবং প্রতি পঞ্চাশটিতে তিন বৎসর বয়সের একটি করিয়া উষ্ট্রী ধার্য হইবে। চারণভূমিতে বিচরণরত ছাগলের সংখ্যা চল্লিশটি হইলে চল্লিশ হইতে একশত বিশ পর্যন্ত একটি বকরী ধার্য হইবে। একশত বিশ হইতে দুইশত পর্যন্ত দুইটি বকরী এবং দুইশত হইতে তিনশত পর্যন্ত তিনটি বকরী ধার্য হইবে। পরে প্রতি শতে একটি করিয়া বকরী আদায় করিতে হইবে। যাকাতের ক্ষেত্রে ছাগল গ্রহণ করা হইবে না। এমনিভাবে দোষযুক্ত এবং বৃদ্ধ পশুও ইহাতে গ্রহণ করা হইবে না। যাকাত উসুলকারী ব্যক্তি যদি ভাল মনে করেন তবে তাহা লইতে পারেন। যাকাত ধার্য হওয়ার ভয়ে পশুর বিভিন্ন দলকে একত্র বা দলকে বিভক্ত যেন করা না হয়।[1] একদল পশুতে যাহারা শরীক আছেন তাহারা যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে বরাবর হিস্যার ভাগী হইবেন। রৌপ্য পাঁচ উকিয়া পরিমাণ হইলে ইহাতে এক-চত্তারিংশ যাকাত দিতে হইবে।
حدثني يحيى، عن مالك، انه قرا كتاب عمر بن الخطاب في الصدقة قال فوجدت فيه بسم الله الرحمن الرحيم كتاب الصدقة في اربع وعشرين من الابل فدونها الغنم في كل خمس شاة وفيما فوق ذلك الى خمس وثلاثين ابنة مخاض فان لم تكن ابنة مخاض فابن لبون ذكر وفيما فوق ذلك الى خمس واربعين بنت لبون وفيما فوق ذلك الى ستين حقة طروقة الفحل وفيما فوق ذلك الى خمس وسبعين جذعة وفيما فوق ذلك الى تسعين ابنتا لبون وفيما فوق ذلك الى عشرين وماية حقتان طروقتا الفحل فما زاد على ذلك من الابل ففي كل اربعين بنت لبون وفي كل خمسين حقة وفي سايمة الغنم اذا بلغت اربعين الى عشرين وماية شاة وفيما فوق ذلك الى مايتين شاتان وفيما فوق ذلك الى ثلاثماية ثلاث شياه فما زاد على ذلك ففي كل ماية شاة ولا يخرج في الصدقة تيس ولا هرمة ولا ذات عوار الا ما شاء المصدق ولا يجمع بين مفترق ولا يفرق بين مجتمع خشية الصدقة وما كان من خليطين فانهما يتراجعان بينهما بالسوية وفي الرقة اذا بلغت خمس اواق ربع العشر
রেওয়ায়ত ২৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ কাহারও নিকট একশত উট ছিল। যাকাত উসুলকারী তাহার নিকট আসিল না, এমনকি দ্বিতীয় বৎসরও অতিক্রান্ত হইয়া গেল। আর এই দিকে মাত্ৰ পাঁচটি উট ছাড়া তাহার বাকি সমস্ত উট মরিয়া গেল। এই অবস্থায় যাকাত উসুলকারী তাহার নিকট হইতে এই পাঁচটি উটের দুই বৎসরের যাকাত প্রতি বৎসরের একটি করিয়া বকরী দুই বৎসরের দুইটি বকরী আদায় করিবে। কারণ যাকাত আদায় করার দিন যে সম্পদ মালিকের নিকট অবশিষ্ট থাকে কেবল ইহারই যাকাত আদায় করিতে হয়। সুতরাং তাহার মালিকানাধীন পশু যদি মারা যায় বা তাহা বৃদ্ধি পায় তবে সেই অনুসারেই তাহাকে যাকাত প্রদান করিতে হইবে। যদি কয়েক বৎসরের যাকাত বকেয়া হইয়া যায় তবে যাকাত উসুলকারী ঐ ব্যক্তির নিকট মওজুদ পশুগুলির যাকাত উসুল করবে। যদি সমস্ত পশু বিনষ্ট হইয়া যায় বা বিনষ্ট হওয়ার পর যাহা অবশিষ্ট রহিল তাহা যদি নিসাব পরিমাণ না হয় তবে আর উহাতে যাকাত ধার্য হইবে না। এবং বিগত বৎসরগুলির বকেয়াও তাহাকে আদায় করিতে হইবে না।
حدثني يحيى، عن مالك، عن حميد بن قيس المكي، عن طاوس اليماني، ان معاذ بن جبل الانصاري، اخذ من ثلاثين بقرة تبيعا ومن اربعين بقرة مسنة واتي بما دون ذلك فابى ان ياخذ منه شييا وقال لم اسمع من رسول الله صلى الله عليه وسلم فيه شييا حتى القاه فاساله . فتوفي رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل ان يقدم معاذ بن جبل . قال يحيى قال مالك احسن ما سمعت فيمن كانت له غنم على راعيين مفترقين او على رعاء مفترقين في بلدان شتى ان ذلك يجمع كله على صاحبه فيودي منه صدقته ومثل ذلك الرجل يكون له الذهب او الورق متفرقة في ايدي ناس شتى انه ينبغي له ان يجمعها فيخرج منها ما وجب عليه في ذلك من زكاتها . وقال يحيى قال مالك في الرجل يكون له الضان والمعز انها تجمع عليه في الصدقة فان كان فيها ما تجب فيه الصدقة صدقت وقال انما هي غنم كلها وفي كتاب عمر بن الخطاب وفي سايمة الغنم اذا بلغت اربعين شاة شاة . قال مالك فان كانت الضان هي اكثر من المعز ولم يجب على ربها الا شاة واحدة اخذ المصدق تلك الشاة التي وجبت على رب المال من الضان وان كانت المعز اكثر من الضان اخذ منها فان استوى الضان والمعز اخذ الشاة من ايتهما شاء . قال يحيى قال مالك وكذلك الابل العراب والبخت يجمعان على ربهما في الصدقة . وقال انما هي ابل كلها فان كانت العراب هي اكثر من البخت ولم يجب على ربها الا بعير واحد فلياخذ من العراب صدقتها فان كانت البخت اكثر فلياخذ منها فان استوت فلياخذ من ايتهما شاء . قال مالك وكذلك البقر والجواميس تجمع في الصدقة على ربها . وقال انما هي بقر كلها فان كانت البقر هي اكثر من الجواميس ولا تجب على ربها الا بقرة واحدة فلياخذ من البقر صدقتهما وان كانت الجواميس اكثر فلياخذ منها فان استوت فلياخذ من ايتهما شاء فاذا وجبت في ذلك الصدقة صدق الصنفان جميعا . قال يحيى قال مالك من افاد ماشية من ابل او بقر او غنم فلا صدقة عليه فيها حتى يحول عليها الحول من يوم افادها الا ان يكون له قبلها نصاب ماشية والنصاب ما تجب فيه الصدقة اما خمس ذود من الابل واما ثلاثون بقرة واما اربعون شاة فاذا كان للرجل خمس ذود من الابل او ثلاثون بقرة او اربعون شاة ثم افاد اليها ابلا او بقرا او غنما باشتراء او هبة او ميراث فانه يصدقها مع ماشيته حين يصدقها وان لم يحل على الفايدة الحول وان كان ما افاد من الماشية الى ماشيته قد صدقت قبل ان يشتريها بيوم واحد او قبل ان يرثها بيوم واحد فانه يصدقها مع ماشيته حين يصدق ماشيته . قال يحيى قال مالك وانما مثل ذلك مثل الورق يزكيها الرجل ثم يشتري بها من رجل اخر عرضا وقد وجبت عليه في عرضه ذلك اذا باعه الصدقة فيخرج الرجل الاخر صدقتها هذا اليوم ويكون الاخر قد صدقها من الغد . قال مالك في رجل كانت له غنم لا تجب فيها الصدقة فاشترى اليها غنما كثيرة تجب في دونها الصدقة او ورثها انه لا تجب عليه في الغنم كلها الصدقة حتى يحول عليها الحول من يوم افادها باشتراء او ميراث وذلك ان كل ما كان عند الرجل من ماشية لا تجب فيها الصدقة من ابل او بقر او غنم فليس يعد ذلك نصاب مال حتى يكون في كل صنف منها ما تجب فيه الصدقة فذلك النصاب الذي يصدق معه ما افاد اليه صاحبه من قليل او كثير من الماشية . قال مالك ولو كانت لرجل ابل او بقر او غنم تجب في كل صنف منها الصدقة ثم افاد اليها بعيرا او بقرة او شاة صدقها مع ماشيته حين يصدقها . قال يحيى قال مالك وهذا احب ما سمعت الى في هذا . قال مالك في الفريضة تجب على الرجل فلا توجد عنده انها ان كانت ابنة مخاض فلم توجد اخذ مكانها ابن لبون ذكر وان كانت بنت لبون او حقة او جذعة ولم يكن عنده كان على رب الابل ان يبتاعها له حتى ياتيه بها ولا احب ان يعطيه قيمتها . وقال مالك في الابل النواضح والبقر السواني وبقر الحرث اني ارى ان يوخذ من ذلك كله اذا وجبت فيه الصدقة
রেওয়ায়ত ২৬. সুফইয়ান ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) যাকাত উসুলকারী হিসাবে নিযুক্ত করিয়া তাহাকে এক অঞ্চলে পাঠাইয়াছিলেন। বকরী গণনা করার সময় তিনি বাচ্চাগুলিকেও গণনায় শামিল করিয়া নিতেন। ইহাতে এলাকাবাসিগণ তাহাকে বলিলেনঃ বাচ্চাগুলিকে আপনি গণনায় শামিল করেন কিন্তু যাকাতের মধ্যে ইহাকে গ্রহণ করেন না কেন? যাহা হউক, যাকাত উসুল করিয়া ফিরিয়া আসার পর উমর (রাঃ)-এর নিকট এলাকাবাসীদের প্রশ্নের কথা উল্লেখ করিলে তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, বকরীর বাচ্চা এমনকি যে সমস্ত বাচ্চা রাখালগণকে কোলে তুলিয়া নিয়া যাইতে হয় সেই ধরনের বাচ্চাগুলিকে পর্যন্ত গণনায় শামিল করা হইবে। কিন্তু যাকাতের বেলায় এইগুলি আমরা গ্রহণ করি না। খাওয়ার উদ্দেশ্যে পালিত মোটাতাজা বকরী, বাচ্চারা যাহার দুধের উপর নির্ভরশীল তেমন বাচ্চাওয়ালা বকরী, ছাগ, গর্ভবতী বকরও আমরা যাকাতে গ্রহণ করি না। এক বৎসর দুই বৎসর বয়সের যাহা একেবারে বাচ্চা নহে বা একেবারে বৃদ্ধ নহে এমন ধরনের বকরীই আমরা ইহাতে গ্রহণ করিয়া থাকি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কাহারও নিকট যদি নিসাব পরিমাণ হইতে কম বকরী থাকে আর যাকাত উসুলকাবীর আগমনের একদিন পূর্বেও যদি এই বকরীগুলির বাচ্চা জন্মে এবং ইহাতে নিসাব পরিমাণ হইয়া যায় তবে তাহার উপর যাকাত ওয়াজিব হইবে। কারণ গণনার বেলায় বকরীর বাচ্চাও বকরীর মধ্যে শামিল হইয়া থাকে। পক্ষান্তরে কাহারও নিকট যদি নিসাব পরিমাণের কম বকরী হয়, পরে ক্রয় বা হেবা বা ওয়ারিস সূত্রে সে যদি আরও কিছু বকরীর মালিক হয় এবং ইহাতে তাহার নিকট নিসাব পরিমাণ বকরী হইয়া যায়, তবে তাহার উপর যাকাত ওয়াজিব হইবে না। প্রথমোল্লিখিত মাসআলাটির নজীর হইল- কাহারও নিকট যদি নিসাব পরিমাণ হইতে কম মূল্যের সম্পদ থাকে, আর সে যদি এমন লাভে ইহা বিক্রয় করে যাহাতে নিসাব পরিমাণ হইয়া যায়, তবে পুঁজির সহিত লাভের উপরও যাকাত ধার্য হইবে। কিন্তু ঐ লাভ যদি হেবা বা মিরাস আকারের হয় তবে হেবা বা ওয়ারিস সূত্রে প্রাপ্তির দিন হইতে পূর্ণ এক বৎসর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইহাতে যাকাত ওয়াজিব হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সুতরাং লাভ যেমন পুঁজি ও সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হইয়া থাকে তদ্রুপ বকরীর সঙ্গে শামিল বলিয়া গণ্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ অন্য একটি দিক হইতে এই পূর্বোল্লিখিত বিষয় দুইটির মধ্যে সামঞ্জস্যহীনতাও রহিয়াছে। তাহা হইল-কাহারও নিকট যদি এতটুকু পরিমাণ স্বর্ণ বা রৌপ্য থাকে যতটুকুর উপর যাকাত ওয়াজিব হয়, পরে যদি ঐ ব্যক্তি অন্য আরও কোন সম্পদ অর্জন করে তবে পূর্বস্থ নিসাবের সঙ্গে ইহা সম্পৃক্ত হইবে না এবং যেদিন হইতে ইহা অর্জিত হইয়াছে সেইদিন হইতে পূর্ণ এক বৎসর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত উহাতে যাকাত ধার্য হইবে না। পক্ষান্তরে কাহারও নিকট যদি উট, গাভী ও বকরী ইত্যাদি নিসাব পরিমাণ পশু থাকে এবং পরে যদি আরও কিছু পশু তাহার অধিকারে আসে তবে পূর্বস্থ নিসাবের সমজাতীয় পশুর সঙ্গে এইগুলির উপরও যাকাত আদায় করিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই মাসআলাটির বিষয়ে আমি যাহা শুনিয়াছি উক্ত ভাষাটিই তন্মধ্যে অধিক উত্তম।
রেওয়ায়ত ২৮. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন- উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর সম্মুখে একবার উসুলকৃত যাকাতের বকরী পেশ করা হইল। তিনি ইহার মধ্যে বড় স্তনওয়ালা একটি দুধাল বকরী দেখিতে পাইয়া বলিলেনঃ এইটি কোথা হইতে আসিল? জবাবে বলা হইল, এইটিও যাকাতের। উমর (রাঃ) বলিলেনঃ ইহার মালিক নিশ্চয়ই সস্তুষ্টচিত্তে ইহা দেয় নাই। মানুষকে তোমরা অসুবিধায় ফেলিবে না। সর্বোত্তম জিনিস কখনও যাকাতে উসুল করিবে না, আর মানুষের রিযিক ছিনাইয়া নেওয়া হইতে বিরত থাক। মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন হাব্বান (রহঃ) বলেনঃ আশজা কবীলার দুই ব্যক্তি আমাকে বলিয়াছেন- মুহাম্মদ ইবন মাসলামা আনসারী (রাঃ) তাহাদের কবীলায় যাকাত উসুল করিতে আসিতেন এবং যাহাদের উপর যাকাত ফরয তাহাদিগকে নিজ নিজ যাকাত হাজির করিতে বলিতেন। যাকাত আদায়ে উপযুক্ত কোন বকরী হইলে তাহাই তিনি গ্রহণ করিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট ইহাই সুন্নত। আমাদের মদীনার আলিমগণকে ইহার উপরই আমল করিতে দেখিয়াছি যে, যাকাত উসুলের বেলায় মানুষের উপর কোনরূপ অসুবিধার সৃষ্টি করা উচিত নহে, বরং যাকাত প্রদানকারিগণ যাহা পেশ করে তাহা যাকাতে লওয়ার মত হইলেই কবুল করিয়া নেওয়া উচিত।
حدثني يحيى، عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن محمد بن يحيى بن حبان، عن القاسم بن محمد، عن عايشة، زوج النبي صلى الله عليه وسلم انها قالت مر على عمر بن الخطاب بغنم من الصدقة فراى فيها شاة حافلا ذات ضرع عظيم فقال عمر ما هذه الشاة فقالوا شاة من الصدقة . فقال عمر ما اعطى هذه اهلها وهم طايعون لا تفتنوا الناس لا تاخذوا حزرات المسلمين نكبوا عن الطعام
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن محمد بن يحيى بن حبان، انه قال اخبرني رجلان، من اشجع ان محمد بن مسلمة الانصاري، كان ياتيهم مصدقا فيقول لرب المال اخرج الى صدقة مالك . فلا يقود اليه شاة فيها وفاء من حقه الا قبلها . قال مالك السنة عندنا - والذي ادركت عليه اهل العلم ببلدنا - انه لا يضيق على المسلمين في زكاتهم وان يقبل منهم ما دفعوا من اموالهم
وحدثني عن مالك، عن يحيى بن سعيد، عن محمد بن يحيى بن حبان، انه قال اخبرني رجلان، من اشجع ان محمد بن مسلمة الانصاري، كان ياتيهم مصدقا فيقول لرب المال اخرج الى صدقة مالك . فلا يقود اليه شاة فيها وفاء من حقه الا قبلها . قال مالك السنة عندنا - والذي ادركت عليه اهل العلم ببلدنا - انه لا يضيق على المسلمين في زكاتهم وان يقبل منهم ما دفعوا من اموالهم
রেওয়ায়ত ২৯. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পাঁচ ধরনের ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ করা হালাল নহে। উক্ত পাঁচ ব্যক্তি হইলেন (এক) আল্লাহর পথে যুদ্ধরত মুজাহিদ, (দুই) সরকার কর্তৃক নিযুক্ত যাকাত উসুলকারী কর্মচারী, (তিন) ঋণগ্রস্ত, (চার) যে ব্যক্তি ইহা দরিদ্র ব্যক্তি হইতে খরিদ করিয়া নেয়, (পাঁচ) প্রতিবেশী কোন দরিদ্র ব্যক্তি যদি তাহাকে ইহা হাদিয়া হিসাবে প্রদান করে তবে সেই ব্যক্তি ধনী হইলেও ইহা গ্রহণ করা তাহার জন্য যায়েয হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট যাকাতের মাল বণ্টনের বিষয়টি ইসলামী সরকারের বিবেচনার উপর নির্ভরশীল। যাহারা বেশি অভাবী বা সংখ্যায় বেশি– সরকার যতদিন প্রয়োজন মনে করিবেন তাহাদিগকে দিবেন। কিছুদিন পর অন্য কোন ধরনের লোক বেশি অভাবগ্রস্ত বা সংখ্যায় বেশি হইলে তাহাদিগকেও দিতে পারেন। মোট কথা, এই বিষয়টি হইতেছে অভাব ও সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। আস্থাভাজন আলিমগণের নিকট হইতে আমি উল্লিখিত বক্তব্যই শুনিতে পাইয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যাকাত উসুলকারী কর্মচারীর জন্য নির্দিষ্ট কোন অংশ যাকাতে নাই। ইহা ইসলামী শাসনকর্তার ইখতিয়ারাধীন। যতটুকু দেওয়া উপযুক্ত মনে করিবেন তাহাই দিবেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن زيد بن اسلم، عن عطاء بن يسار، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " لا تحل الصدقة لغني الا لخمسة لغاز في سبيل الله او لعامل عليها او لغارم او لرجل اشتراها بماله او لرجل له جار مسكين فتصدق على المسكين فاهدى المسكين للغني " . قال مالك الامر عندنا في قسم الصدقات ان ذلك لا يكون الا على وجه الاجتهاد من الوالي فاى الاصناف كانت فيه الحاجة والعدد اوثر ذلك الصنف بقدر ما يرى الوالي وعسى ان ينتقل ذلك الى الصنف الاخر بعد عام او عامين او اعوام فيوثر اهل الحاجة والعدد حيثما كان ذلك وعلى هذا ادركت من ارضى من اهل العلم . قال مالك وليس للعامل على الصدقات فريضة مسماة الا على قدر ما يرى الامام
রেওয়ায়ত ৩০. মালিক (রহঃ) বলেনঃ আবু বরক সিদ্দীক (রাঃ) বলিয়াছিলেনঃ যাকাতের বেলায় উট বাঁধার দড়িটি দিতেও যদি কেহ অস্বীকৃতি জানায় তবে তাহার সঙ্গে আমি লড়াই করিব।
حدثني يحيى، عن مالك، انه بلغه ان ابا بكر الصديق، قال لو منعوني عقالا لجاهدتهم عليه
রেওয়ায়ত ৩১. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) একবার কিছু দুগ্ধ পান করেন। ইহা তাহার নিকট অত্যন্ত সুস্বাদু এবং ভাল বলিয়া মনে হইল। তিনি তখন যে ব্যক্তি দুধ পান করাইয়াছিল তাহাকে বলিলেনঃ এই দুধ কোথা হইতে আনিয়াছ? সে বলিলঃ আমি একটি জলাশয়ে গিয়াছিলাম, সেখানে যাকাতের কিছু পশু পানি পান করিতেছিল। উপস্থিত লোকেরা উহাদিগকে দুগ্ধ দোহন করিয়া আমাকেও কিছু দিল। আমি আমার পানপাত্রে উহা সংরক্ষণ করিয়া রাখিয়া দিয়াছিলাম। আপনি যাহা পান করিলেন ইহা তাহাই। উমর (রাঃ) তখন গলদেশে আঙুল প্রবেশপূর্বক উহা বমি করিয়া ফেলিয়া দিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা কর্তৃক নির্ধারিত কোন একটি ফরযকে যদি কেউ অস্বীকার করে আর মুসলিমগণ যদি তাহার দ্বারা উহা আদায় করাইতে না পারে তবে আদায় না করা পর্যন্ত তাহার সঙ্গে জিহাদ করা কর্তব্য।
وحدثني عن مالك، عن زيد بن اسلم، انه قال شرب عمر بن الخطاب لبنا فاعجبه فسال الذي سقاه من اين هذا اللبن فاخبره انه ورد على ماء - قد سماه - فاذا نعم من نعم الصدقة وهم يسقون فحلبوا لي من البانها فجعلته في سقايي فهو هذا . فادخل عمر بن الخطاب يده فاستقاءه . قال مالك الامر عندنا ان كل من منع فريضة من فرايض الله عز وجل فلم يستطع المسلمون اخذها كان حقا عليهم جهاده حتى ياخذوها منه
রেওয়ায়ত ৩২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ)-এর জনৈক কর্মচারী তাহাকে লিখিয়া জানাইল যে, এক ব্যক্তি স্বীয় সম্পদের যাকাত আদায় করিতে অস্বীকার করে। উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) তখন তাহাকে বলিলেনঃ ছাড়িয়া দাও। অন্যান্য মুসলিম ব্যক্তির সহিত তাহার যাকাত লইও না। যাকাত প্রদানে অনিচ্ছুক এ ব্যক্তি ইহা জানিতে পারিয়া অত্যন্ত দুঃখিত হইল এবং তাহার সম্পদের যাকাত প্রদান করার জন্য ঐ কর্মচারীর নিকট লইয়া আসিল। তখন ঐ কর্মচারী এই বিষয়ে ফয়সালা জানিতে চাহিয়া পুনরায় উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ)-এর নিকট পত্র লিখিলে তিনি উত্তর দিলেনঃ তাহার যাকাত গ্রহণ করিয়া নাও।
وحدثني عن مالك، انه بلغه ان عاملا، لعمر بن عبد العزيز كتب اليه يذكر ان رجلا منع زكاة ماله فكتب اليه عمر ان دعه ولا تاخذ منه زكاة مع المسلمين قال فبلغ ذلك الرجل فاشتد عليه وادى بعد ذلك زكاة ماله فكتب عامل عمر اليه يذكر له ذلك فكتب اليه عمر ان خذها منه
রেওয়ায়ত ৩৩. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) এবং বুসর ইবন সাঈদ (রহঃ) বর্ণনা করেন-রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন যে সমস্ত যমীনে বৃষ্টি বা ঝর্ণার পানি সিঞ্চিত হয় বা মূলস্থ রসই যথেষ্ট হয়, সেচের প্রয়োজন পড়ে না, সেই সমস্ত যমীনে উৎপন্ন ফসলের উশর বা এক-দশমাংশ, আর সেচ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে সমস্ত যমীন চাষ করা হয়, সেই যমীনে উৎপন্ন ফসলের নিসফেউশর বা এক-বিংশতিতমাংশ (১/২০) হারে যাকাত দিতে হয়।
حدثني يحيى، عن مالك، عن الثقة، عنده عن سليمان بن يسار، وعن بسر بن سعيد، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " فيما سقت السماء والعيون والبعل العشر وفيما سقي بالنضح نصف العشر
রেওয়ায়ত ৩৪. ইবন শিহাব (রহঃ) বলেন, খেজুরের যাকাতে জো’রুর, মুসরানুলফার ও আজক ইবন খুবায়ক (এক ধরনের অতি নিকৃষ্ট খেজুর) গ্রহণ করা যাইবে না। তিনি বললেনঃ ইহা বকরীর যাকাতের মত। নিকৃষ্ট ধরনের বকরী গণনায় শামিল হয় বটে কিন্তু যাকাতে গ্রহণ করা যায় না। এই ক্ষেত্রেও নিকৃষ্ট ধরনের খেজুর পরিমাণের বেলায় শামিল করা হইবে বটে কিন্তু যাকাত গ্রহণ করা যাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা বকরীর যাকাত সদৃশ। বকরীর বাচ্চা গণনায় শামিল হয় কিন্তু যাকাতে গ্রহণ করা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে কোন দ্রব্য বেশি ভাল হওয়ার কারণেও যাকাতে গ্রহণ করা যায় না। যেমন বুরদী (উত্তম) জাতীয় খেজুর। মোট কথা, বেশি ভাল বা অতি নিকৃষ্ট উভয় ধরনের দ্রব্যই যাকাতে গ্রহণ করা যায় না, বরং মধ্যম ধরনের জিনিসই কেবল গ্রহণ করা যায়। মালিক (রহঃ) বলেন, খেজুর ও আঙ্গুর ব্যতীত অন্য কোন ফলের বেলায় খারস বা বৃক্ষস্থ ফলের পরিমাণ অনুমান করিয়া তদানুযায়ী যাকাতের পরিমাণ নির্ধারণ করা যাইবে না। খেজুর ও আঙ্গুর প্রায় পরিপক্ক হইয়া উঠিলে এবং বিক্রয় করা যায় এমন অবস্থায় পৌছিলে উহাতে অনুমান করা যায়, কারণ খেজুর ও আঙ্গুর উভয় ধরনের ফল কাঁচা অশুষ্ক অবস্থায়ও খাওয়া যায়। সুতরাং পাকা ও শুষ্ক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হইলে ইহাতে মানুষের অসুবিধার সৃষ্টি হইবে। অতএব সাধারণ মানুষের সুবিধার প্রতি লক্ষ করিয়া বৃক্ষস্থ খেজুর ও আঙ্গুরের পরিমাণ অনুমান করার পর মালিককে তাহার কলের অধিকার সহ ছাড়িয়া দেওয়া হইবে। যেভাবে মনে করে সে উহা ভোগ করবে এবং পরে পূর্বের অনুমানকৃত পরিমাণানুসারে যাকাত প্ৰদান করবে। মালিক (রহঃ) বলেন, যে সমস্ত ফল কাঁচা ভক্ষণ করা হয় না, বরং কর্তনের পর বিশেষ প্রক্রিয়ায় ভক্ষণ করা হয়, যেমন- ধান, গম ইত্যাদি যাবতীয় শস্যের বেলায় ক্ষেতে শস্য রাখিয়া ক্ষেত্রস্থ শস্যের পরিমাণ অনুমান করিয়া নির্ণয় করিবার পর যাকাত নির্ধারণ করা যাইবে না। শস্য কর্তনের পর মাড়ানো এবং পরিষ্কার করা হইলে উহাতে যাকাত আদায় করিতে হয়। যাকাত ধার্য করার মত না হওয়া পর্যন্ত উহা মালিকের হাতে আমানত হিসাবে থাকে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উক্ত বিষয়ে আমাদের মধ্যে কোন মতানৈক্য নাই। মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাস’আলা হইল, ফল প্রায় পরিপক্ক অবস্থায় যখন বিক্রয়ের উপযুক্ত হইবে তখন উহাতে অনুমান করিয়া বৃক্ষস্থ ফলের পরিমাণ নির্ণয় করা হইবে এবং কর্তনের পর উহার যাকাতের পরিমাণ অনুসারে বিশুদ্ধ খেজুর লওয়া হইবে। অনুমান করিয়া পরিমাণ নির্ধারণের পর কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের দরুন যদি বৃক্ষস্থ সমস্ত খেজুর বিনষ্ট হইয়া যায়, তবে আর উহাতে যাকাত ধার্য হইবে না। বিনষ্ট হওয়ার পরও যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম এর ব্যবহৃত হয়ে পাঁচ আছক (ষাট ছা’) পরিমাণ খেজুর অবশিষ্ট থাকে তবে ইহাতে যাকাত ধার্য হইবে, আর যতটুকু পরিমাণ বিনষ্ট হইয়া গিয়াছে উহাতে যাকাত ধার্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আজুরের বেলায়ও উক্ত হুকুম প্রযোজ্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ বিভিন্ন স্থানে যদি কাহারও জায়গীর বা অংশ থাকে আর সবগুলিকে একত্র করিলে যাকাত পরিমাণ হয় তবে আলাদা আলাদাভাবে যাকাত পরিমাণ না হইলেও উহাতে যাকাত ধার্য করা হইবে।
মালিক (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে আমাদের নিকট সর্বসম্মত সুন্নত এবং আহলে ইলমদের নিকট যাহা শুনিয়াছি তাহ এই ফল-ফলাড়ি যথা পীচ, ডুমুর অথবা অদ্রপ অন্যান্য ফল অথবা এইগুলির মত না হইলেও যাহা ফল বলিয়া গণ্য, ইহাদের উপর যাকাত ধার্য হয় না। একইভাবে শাক-সবজি, তরিতরকারি ইত্যাদির উপর যাকাত ধার্য হয় না এবং এইগুলির বিক্রয়লব্ধ অর্থের উপরও যাকাত নাই। তবে বিক্রয়লব্ধ অর্থ মালিকের হাতে আসার পর তাহার নিকট এক বৎসর থাকিলে উহার উপর যাকাত ধার্য হইবে।
حدثني يحيى، عن مالك، انه سال ابن شهاب عن الزيتون، فقال فيه العشر . قال مالك وانما يوخذ من الزيتون العشر بعد ان يعصر ويبلغ زيتونه خمسة اوسق فما لم يبلغ زيتونه خمسة اوسق فلا زكاة فيه والزيتون بمنزلة النخيل ما كان منه سقته السماء والعيون او كان بعلا ففيه العشر وما كان يسقى بالنضح ففيه نصف العشر ولا يخرص شىء من الزيتون في شجره . والسنة عندنا في الحبوب التي يدخرها الناس وياكلونها انه يوخذ مما سقته السماء من ذلك وما سقته العيون وما كان بعلا العشر وما سقي بالنضح نصف العشر اذا بلغ ذلك خمسة اوسق بالصاع الاول صاع النبي صلى الله عليه وسلم وما زاد على خمسة اوسق ففيه الزكاة بحساب ذلك . قال مالك والحبوب التي فيها الزكاة الحنطة والشعير والسلت والذرة والدخن والارز والعدس والجلبان واللوبيا والجلجلان وما اشبه ذلك من الحبوب التي تصير طعاما فالزكاة توخذ منها بعد ان تحصد وتصير حبا . قال والناس مصدقون في ذلك ويقبل منهم في ذلك ما دفعوا . وسيل مالك متى يخرج من الزيتون العشر او نصفه اقبل النفقة ام بعدها فقال لا ينظر الى النفقة ولكن يسال عنه اهله كما يسال اهل الطعام عن الطعام ويصدقون بما قالوا فمن رفع من زيتونه خمسة اوسق فصاعدا اخذ من زيته العشر بعد ان يعصر ومن لم يرفع من زيتونه خمسة اوسق لم تجب عليه في زيته الزكاة . قال مالك ومن باع زرعه وقد صلح ويبس في اكمامه فعليه زكاته وليس على الذي اشتراه زكاة ولا يصلح بيع الزرع حتى ييبس في اكمامه ويستغني عن الماء . قال مالك في قول الله تعالى {واتوا حقه يوم حصاده } ان ذلك الزكاة وقد سمعت من يقول ذلك . قال مالك ومن باع اصل حايطه او ارضه وفي ذلك زرع او ثمر لم يبد صلاحه فزكاة ذلك على المبتاع وان كان قد طاب وحل بيعه فزكاة ذلك على البايع الا ان يشترطها على المبتاع
রেওয়ায়ত ৩৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেনঃ মুসলিম ব্যক্তির দাস-দাসী এবং ঘোড়ার যাকাত ধার্য হয় না।
حدثني يحيى، عن مالك، عن عبد الله بن دينار، عن سليمان بن يسار، عن عراك بن مالك، عن ابي هريرة، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال " ليس على المسلم في عبده ولا في فرسه صدقة
রেওয়ায়ত ৩৮. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) বর্ণনা করেন- সিরিয়াবাসিগণ আবূ উবায়দা ইবন জাররাহ (রাঃ)-এর নিকট তাহাদের ঘোড়া বা দাস-দাসীদের যাকাত নেওয়ার কথা বলিলে তিনি তাহা গ্রহণ না করিয়া উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে জানাইলেন। উমর (রাঃ)-ও উহা গ্রহণ করিতে অস্বীকৃতি জানাইলেন। পরে তাহারা আবূ উবায়দা (রাঃ)-এর নিকট তাহাদের ঘোড়া ও দাস-দাসীদের যাকাত গ্রহণ করিতে পুনরায় অনুরোধ জানাইলে তিনি আবার উমর (রাঃ)-এর নিকট এই সম্পর্কে লিখিয়া জানাইলেন। উমর (রাঃ) তাহাকে উত্তরে লিখিলেনঃ স্বেচ্ছায় যদি তাহারা এইগুলির যাকাত দিতে চায় তবে উহা গ্রহণ করুন এবং উহা দরিদ্র ও দাস-দাসীদের মধ্যে বন্টন করিয়া দিন।
وحدثني عن مالك، عن ابن شهاب، عن سليمان بن يسار، ان اهل الشام، قالوا لابي عبيدة بن الجراح خذ من خيلنا ورقيقنا صدقة . فابى ثم كتب الى عمر بن الخطاب فابى عمر ثم كلموه ايضا فكتب الى عمر فكتب اليه عمر ان احبوا فخذها منهم وارددها عليهم وارزق رقيقهم . قال مالك معنى قوله رحمه الله وارددها عليهم يقول على فقرايهم
রেওয়ায়ত ৩৯. আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর ইবন হাযম (রহঃ) বলেনঃ মীনায় অবস্থানকালে আমার পিতা আবু বকর ইবন হাযমের নিকট উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ)-এর একটি পত্র আসিয়াছিল। ইহার মর্ম ছিলঃ মধু এবং ঘোড়ার যাকাত আপনি গ্রহণ করিবেন না।
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن ابي بكر بن عمرو بن حزم، انه قال جاء كتاب من عمر بن عبد العزيز الى ابي وهو بمنى ان لا ياخذ من العسل ولا من الخيل صدقة
রেওয়ায়ত ৪০. আবদুল্লাহ ইবন দীনার (রহঃ) বলেনঃ আমি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে তুর্কী ঘোড়ার যাকাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি বলিলেনঃ ঘোড়ায়ও আবার যাকাত হয় নাকি?
وحدثني عن مالك، عن عبد الله بن دينار، انه قال سالت سعيد بن المسيب عن صدقة البراذين، فقال وهل في الخيل من صدقة
রেওয়ায়ত ৪১. ইবন শিহাব (রহঃ) বলেনঃ আমি শুনিয়াছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহরাইনের অগ্নিপূজকদের উপর, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) পারস্যের অগ্নিপূজকদের উপর এবং উসমান ইবন আফফান (রাঃ) বর্বর মুশরিকদের উপর জিযয়া ধার্য করিয়াছিলেন।
حدثني يحيى، عن مالك، عن ابن شهاب، قال بلغني ان رسول الله صلى الله عليه وسلم اخذ الجزية من مجوس البحرين وان عمر بن الخطاب اخذها من مجوس فارس وان عثمان بن عفان اخذها من البربر
রেওয়ায়ত ৪২. মুহাম্মদ বাকির (রহঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) অগ্নি উপাসকদের জিযয়ার কথা আলোচনা করিতে গিয়া বলিলেনঃ বুঝিতে পারিতেছি না, ইহাদের ব্যাপারে কি করা যায়। এই সময় আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) বললেনঃ আমি সাক্ষ্য দিতেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে আমি বলিতে শুনিয়াছি যে, অগ্নি-উপাসকদের সহিত তোমরা কিতাবীদের মত ব্যবহার করিবে।
وحدثني عن مالك، عن جعفر بن محمد بن علي، عن ابيه، ان عمر بن الخطاب، ذكر المجوس فقال ما ادري كيف اصنع في امرهم فقال عبد الرحمن بن عوف اشهد لسمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول " سنوا بهم سنة اهل الكتاب
রেওয়ায়ত ৪৩. আসলাম (রাঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) অমুসলিম স্বর্ণ মালিকদের উপর বাৎসরিক চার দীনার এবং রৌপ্য-মালিকদের উপর বাৎসরিক দশ দিরহাম জিযয়া ধার্য করিয়াছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুধার্ত মুসলিমদের খাদ্য প্রদান এবং মুসাফিরদের তিনদিন পর্যন্ত মেহমানদারী করাও ইহার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
وحدثني عن مالك، عن نافع، عن اسلم، مولى عمر بن الخطاب ان عمر بن الخطاب، ضرب الجزية على اهل الذهب اربعة دنانير وعلى اهل الورق اربعين درهما مع ذلك ارزاق المسلمين وضيافة ثلاثة ايام
حدثني يحيى، عن مالك، عن ثور بن زيد الديلي، عن ابن لعبد الله بن سفيان الثقفي، عن جده، سفيان بن عبد الله ان عمر بن الخطاب، بعثه مصدقا فكان يعد على الناس بالسخل فقالوا اتعد علينا بالسخل ولا تاخذ منه شييا . فلما قدم على عمر بن الخطاب ذكر له ذلك فقال عمر نعم تعد عليهم بالسخلة يحملها الراعي ولا تاخذها ولا تاخذ الاكولة ولا الربى ولا الماخض ولا فحل الغنم وتاخذ الجذعة والثنية وذلك عدل بين غذاء الغنم وخياره . قال مالك والسخلة الصغيرة حين تنتج . والربى التي قد وضعت فهي تربي ولدها . والماخض هي الحامل . والاكولة هي شاة اللحم التي تسمن لتوكل . وقال مالك في الرجل تكون له الغنم لا تجب فيها الصدقة فتوالد قبل ان ياتيها المصدق بيوم واحد فتبلغ ما تجب فيه الصدقة بولادتها قال مالك اذا بلغت الغنم باولادها ما تجب فيه الصدقة فعليه فيها الصدقة وذلك ان ولادة الغنم منها وذلك مخالف لما افيد منها باشتراء او هبة او ميراث ومثل ذلك العرض لا يبلغ ثمنه ما تجب فيه الصدقة ثم يبيعه صاحبه فيبلغ بربحه ما تجب فيه الصدقة فيصدق ربحه مع راس المال ولو كان ربحه فايدة او ميراثا لم تجب فيه الصدقة حتى يحول عليه الحول من يوم افاده او ورثه . قال مالك فغذاء الغنم منها كما ربح المال منه غير ان ذلك يختلف في وجه اخر انه اذا كان للرجل من الذهب او الورق ما تجب فيه الزكاة ثم افاد اليه مالا ترك ماله الذي افاد فلم يزكه مع ماله الاول حين يزكيه حتى يحول على الفايدة الحول من يوم افادها ولو كانت لرجل غنم او بقر او ابل تجب في كل صنف منها الصدقة ثم افاد اليها بعيرا او بقرة او شاة صدقها مع صنف ما افاد من ذلك حين يصدقه اذا كان عنده من ذلك الصنف الذي افاد نصاب ماشية . قال مالك وهذا احسن ما سمعت في ذلك
وحدثني عن مالك، عن زياد بن سعد، عن ابن شهاب، انه قال لا يوخذ في صدقة النخل الجعرور ولا مصران الفارة ولا عذق ابن حبيق . قال وهو يعد على صاحب المال ولا يوخذ منه في الصدقة . قال مالك وانما مثل ذلك الغنم تعد على صاحبها بسخالها والسخل لا يوخذ منه في الصدقة وقد يكون في الاموال ثمار لا توخذ الصدقة منها من ذلك البردي وما اشبهه لا يوخذ من ادناه كما لا يوخذ من خياره . قال وانما توخذ الصدقة من اوساط المال . قال مالك الامر المجتمع عليه عندنا انه لا يخرص من الثمار الا النخيل والاعناب فان ذلك يخرص حين يبدو صلاحه ويحل بيعه وذلك ان ثمر النخيل والاعناب يوكل رطبا وعنبا فيخرص على اهله للتوسعة على الناس وليلا يكون على احد في ذلك ضيق فيخرص ذلك عليهم ثم يخلى بينهم وبينه ياكلونه كيف شاءوا ثم يودون منه الزكاة على ما خرص عليهم . قال مالك فاما ما لا يوكل رطبا وانما يوكل بعد حصاده من الحبوب كلها فانه لا يخرص وانما على اهلها فيها اذا حصدوها ودقوها وطيبوها وخلصت حبا فانما على اهلها فيها الامانة يودون زكاتها اذا بلغ ذلك ما تجب فيه الزكاة وهذا الامر الذي لا اختلاف فيه عندنا . قال مالك الامر المجتمع عليه عندنا ان النخل يخرص على اهلها وثمرها في رءوسها اذا طاب وحل بيعه ويوخذ منه صدقته تمرا عند الجداد فان اصابت الثمرة جايحة بعد ان تخرص على اهلها وقبل ان تجذ فاحاطت الجايحة بالثمر كله فليس عليهم صدقة فان بقي من الثمر شىء يبلغ خمسة اوسق فصاعدا بصاع النبي صلى الله عليه وسلم اخذ منهم زكاته وليس عليهم فيما اصابت الجايحة زكاة وكذلك العمل في الكرم ايضا واذا كان لرجل قطع اموال متفرقة او اشتراك في اموال متفرقة لا يبلغ مال كل شريك او قطعه ما تجب فيه الزكاة وكانت اذا جمع بعض ذلك الى بعض يبلغ ما تجب فيه الزكاة فانه يجمعها ويودي زكاتها